📄 মানসিক সমস্যার জন্য রুকইয়াহ
মানসিক সমস্যার জন্য কুরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর নামের যিকির খুব উপকারি। সেটা যে ধরনের মানসিক সমস্যাই হোক না কেন। আল্লাহ বলেছেন—
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
“জেনে রাখো, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তরগুলো প্রশান্ত হয়।” ১
মানসিক চাপ, হতাশা (Depression)-জাতীয় সমস্যায় বিশেষভাবে সূরা ইউসুফ এবং সূরা আর-রাহমান তিলাওয়াত করা বেশ ফলদায়ক। এছাড়া বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় সূরা ইয়াসিন, সফফাত, দুখান এবং জিনের সম্মিলিত রুকইয়াহ বেশ উপকারি।
হয়তো বলবেন কুরআন তিলাওয়াত তো আগেও অনেক করেছি বা শুনেছি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এমনি তিলাওয়াত করা আর রুকইয়াহ বা চিকিৎসার নিয়ত করে তিলাওয়াত করার মাঝে বিস্তর ফারাক আছে।
নিজের সমস্যায় নিজে তিলাওয়াত করলে সবচেয়ে ভালো, বিকল্প হিসেবে কারও তিলাওয়াত শোনা যেতে পারে। এর পাশাপাশি একটু পরে উল্লিখিত পদ্ধতিতে রুকইয়ার পানি খাওয়া, গোসল করা যেতে পারে। আর ঘুমের আগে রোগীর মাথায় রুকইয়ার তেল ব্যবহার করা অনেক উপকারি হবে ইনশাআল্লাহ।
টিকাঃ
১. সূরা রা'দ, আয়াত: ২৮
📄 অনিদ্রা (insomnia)
অনিদ্রা (insomnia) সমস্যার চিকিৎসাতেও সূরা ইয়াসীন, সফফাত, দুখান এবং জিনের রুকইয়াহ শোনা আলহামদুলিল্লাহ খুব বেশি উপকারি (যা ৮ সূরার রুকইয়াহ বলে প্রসিদ্ধ)। অনিদ্রা থেকে মুক্তির জন্য পাশাপাশি এই দুআটি পড়া যেতে পারে-
اللَّهُمَّ غَارَتِ النُّجُومُ ، وَهَدَأَتِ الْعُيُونُ ، وَأَنْتَ حَيُّ قَيُّومٌ ، لَا تَأْخُذُكَ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ ، أَهْدِئْ لِيَلِي ، وَأَنِمْ عَيْنِي
“হে আল্লাহ, আকাশের তারাগুলো নিভে যাচ্ছে; কিন্তু আমার চোখ এখনও জাগ্রত। আর আপনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী, ঘুম বা তন্দ্রা আপনাকে পরাভূত করতে পারে না। হে চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী, আমার রাতকে প্রশান্তিময় করুন এবং আমার চোখে ঘুম এনে দিন।”
যায়দ ইবনু সাবিত রাযিয়াল্লাহু আনহু অনিদ্রা সমস্যার কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালে তিনি এটা পড়তে বলেন। যায়দ রা. এটা পড়লে তাঁর সমস্যা ভালো হয়ে যায়। ১
মোট কথা, ওযু করে বিছানায় যাওয়া, ঘুমের আগের অন্যান্য মাসনূন আমল করা, দুআ পড়া, আর ৮ সূরার রুকইয়াহ শোনা-এগুলো ঠিকমত করলে ইনশাআল্লাহ অনিদ্রার সমস্যা দূর হয়ে যাবে। তবে যদি জিনের সমস্যার কারণে এটা হয়, তবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে বা রুকইয়াহ করতে হবে।
টিকাঃ
১. তাবারানী। বর্ণনাটির সনদ যয়ীফ। তবে দুয়াটা চিকিৎসা হিসেবে আমল করা যেতেই পারে।
📄 তোতলামির সমস্যায় করণীয়
তোতলামি সমস্যাটাকে আমরা দুইভাগে ভাগ করব-
প্রথমত: জন্মগত বা কোনো রোগের কারণে সৃষ্ট সমস্যা। এক্ষেত্রে পরামর্শ হচ্ছে-
১. দিনে কয়েকবার (সম্ভব হলে প্রতি ওয়াক্তের সালাতের পরেই) হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এর দুআটা পড়া।
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِى وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
“হে আমার রব, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কর্ম সহজ করে দিন, আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।” ১
২. সামনের 'অন্যান্য সাধারণ অসুস্থতার জন্য রুকইয়াহ' অংশে বলা দুআ এবং আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন পান করা।
দ্বিতীয়ত: বদনজরের কারণে সমস্যা। হয়তো কেউ অনেক সুন্দর করে কথা বলত। এরপর দেখা গেল, হঠাৎ সে তোতলামি শুরু করেছে অথবা কথা একদম বন্ধ হয়ে গেছে। বাচ্চা অথবা প্রাপ্তবয়স্ক-উভয়ের ক্ষেত্রেই এমনটা হতে পারে। এরকম অবস্থায় সমস্যা শুরু হওয়ার পর যত দ্রুত রুকইয়াহ করা যাবে, ততই ভালো। আর এ ক্ষেত্রে পরামর্শ হচ্ছে, কিছুদিন বদনজরের জন্য রুকইয়াহ করা, পাশাপাশি পূর্বের দুটি পরামর্শও অনুসরণ করা।
টিকাঃ
১. সূরা ত্বহা: ২৫-২৮
📄 চোখের সমস্যার জন্য রুকইয়াহ
চোখের বিভিন্ন সমস্যার জন্য সূরা কাফ-এর ২২ নম্বর আয়াতের শেষাংশ এবং সাথে সূরা ফাতিহা বেশ উপকারি। সূরা কাফ-এর আয়াতটি হচ্ছে-
فَكَشَفْنَا عَنْكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ
“আমি তোমার থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছি। তাই আজ তোমার দৃষ্টি প্রখর।” ১
সালাত শেষে সূরা ফাতিহা এক বার এবং এই আয়াতটি ৩ বার পড়ুন। এরপর মুখের কাছে হাত নিয়ে ফুঁ দিন, যেন চোখে বাতাস লাগে। অথবা হাতে ফুঁ দিয়ে চোখ মুছে নিন। এভাবে প্রতি সালাতের পরেই করুন। ২
টিকাঃ
১. সূরা কাফ: ২২
২. আমলটি সালাতের পরে করতে বলার কারণ হচ্ছে, ওই সময় দুআ কবুল হয়। রুকইয়াহ যেহেতু এক প্রকার দুআ, তাই সালাত শেষে রুকইয়াহ করলে উপকার বেশি পাওয়া যায়। এ ছাড়া অন্য যেকোনো সময়ও আপনি এটা করতে পারেন।