📘 রুকইয়াহ > 📄 ব্যথার জন্য রুকইয়াহ

📄 ব্যথার জন্য রুকইয়াহ


ব্যথা বিবিধ রকমের হতে পারে, তবে এক্ষেত্রে হাদীসে বর্ণিত এই রুকইয়াটি করলে ইনশাআল্লাহ উপকার পাওয়া যাবে।

উসমান ইবনু আবিল আস রা. থেকে বর্ণিত, একবার আমার শরীরে ব্যথা অনুভব করছিলাম, তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ ব্যাপারে অনুযোগ করলাম।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার হাতটি ব্যথার জায়গায় রাখো। এরপর তিন বার বলো- "بِاسْمِ الله"
তারপর ৭ বার বলো-
أَعُوْذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
আ'উযু বি'ইযযাতিল্লা-হি ওয়াকুদরাতিহি, মিন শাররি মা-আজিদু ওয়া উহা-যির।
অর্থ: আমি আল্লাহর সম্মান এবং তার ক্ষমতার আশ্রয় নিচ্ছি, যা আমি অনুভব করি এবং যা আশঙ্কা করি—তার অকল্যাণ থেকে।
বর্ণনাকারী সাহাবী বলেন, আমি এমনটাই করলাম, এতে আমার ব্যথা ভালো হয়ে গেল। ১

উল্লেখ্য, এই দুআটি অনেকগুলো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হচ্ছে উল্লিখিত রূপটি।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আপনি চাইলে একই নিয়মে কয়েকবার রুকইয়াহ করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত: যদি এমন কারও ওপর এই রুকইয়াহ করেন, যাকে স্পর্শ করা হারাম। এক্ষেত্রে এগুলো পড়বেন এবং পড়া শেষে ফুঁ দেবেন। ইনশাআল্লাহ এতটুকুই যথেষ্ট হবে।

একটি অভিজ্ঞতা: প্রসঙ্গক্রমে এক ভাইয়ের ঘটনা উল্লেখ করা যায়। তার ঘাড়ে বেশ ব্যথা ছিল। কদিন পরপরই এটা হতো। আমরা এই হাদীসটা নিয়ে একদিন রুকইয়াহ সাপোর্ট গ্রুপে আলোচনা করি। সেটা দেখে তিনি এভাবে রুকইয়াহ করার পর মন্তব্য করলেন, ভাই আমি রুকইয়াহ করলাম। ভালো হলো নাতো। আমার ব্যথা তো আছেই। একজন উত্তর দিয়েছিলো, আল্লাহ চায়নি তাই ভালো হয় নি। সবর করেন আর আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকেন।
এর কয়েকদিন পর তিনি জানালেন, তখন সাথেসাথে ব্যথা যায়নি বটে; কিন্তু ওইদিন ঘুমানোর পর যে ব্যথা ভালো হয়েছে এরপর আর সমস্যা হয়নি।
আলহামদুলিল্লাহ, এজন্য দুআ বা রুকইয়াহ করে তৎক্ষণাৎ ফলাফল দেখতে না পেলে হতাশ হওয়া উচিত নয়। আল্লাহ এর বদলায় হয়তো আরও ভালো কিছু প্রস্তুত রেখেছেন, যা এখন আমাদের কল্পনাতেও নেই।

টিকাঃ
১. মুসলিম: ৪০৮৯, তিরমিযী: ২০০৬

📘 রুকইয়াহ > 📄 মানসিক সমস্যার জন্য রুকইয়াহ

📄 মানসিক সমস্যার জন্য রুকইয়াহ


মানসিক সমস্যার জন্য কুরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর নামের যিকির খুব উপকারি। সেটা যে ধরনের মানসিক সমস্যাই হোক না কেন। আল্লাহ বলেছেন—
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
“জেনে রাখো, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তরগুলো প্রশান্ত হয়।” ১

মানসিক চাপ, হতাশা (Depression)-জাতীয় সমস্যায় বিশেষভাবে সূরা ইউসুফ এবং সূরা আর-রাহমান তিলাওয়াত করা বেশ ফলদায়ক। এছাড়া বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় সূরা ইয়াসিন, সফফাত, দুখান এবং জিনের সম্মিলিত রুকইয়াহ বেশ উপকারি।
হয়তো বলবেন কুরআন তিলাওয়াত তো আগেও অনেক করেছি বা শুনেছি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এমনি তিলাওয়াত করা আর রুকইয়াহ বা চিকিৎসার নিয়ত করে তিলাওয়াত করার মাঝে বিস্তর ফারাক আছে।
নিজের সমস্যায় নিজে তিলাওয়াত করলে সবচেয়ে ভালো, বিকল্প হিসেবে কারও তিলাওয়াত শোনা যেতে পারে। এর পাশাপাশি একটু পরে উল্লিখিত পদ্ধতিতে রুকইয়ার পানি খাওয়া, গোসল করা যেতে পারে। আর ঘুমের আগে রোগীর মাথায় রুকইয়ার তেল ব্যবহার করা অনেক উপকারি হবে ইনশাআল্লাহ।

টিকাঃ
১. সূরা রা'দ, আয়াত: ২৮

📘 রুকইয়াহ > 📄 অনিদ্রা (insomnia)

📄 অনিদ্রা (insomnia)


অনিদ্রা (insomnia) সমস্যার চিকিৎসাতেও সূরা ইয়াসীন, সফফাত, দুখান এবং জিনের রুকইয়াহ শোনা আলহামদুলিল্লাহ খুব বেশি উপকারি (যা ৮ সূরার রুকইয়াহ বলে প্রসিদ্ধ)। অনিদ্রা থেকে মুক্তির জন্য পাশাপাশি এই দুআটি পড়া যেতে পারে-
اللَّهُمَّ غَارَتِ النُّجُومُ ، وَهَدَأَتِ الْعُيُونُ ، وَأَنْتَ حَيُّ قَيُّومٌ ، لَا تَأْخُذُكَ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ ، أَهْدِئْ لِيَلِي ، وَأَنِمْ عَيْنِي
“হে আল্লাহ, আকাশের তারাগুলো নিভে যাচ্ছে; কিন্তু আমার চোখ এখনও জাগ্রত। আর আপনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী, ঘুম বা তন্দ্রা আপনাকে পরাভূত করতে পারে না। হে চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী, আমার রাতকে প্রশান্তিময় করুন এবং আমার চোখে ঘুম এনে দিন।”

যায়দ ইবনু সাবিত রাযিয়াল্লাহু আনহু অনিদ্রা সমস্যার কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালে তিনি এটা পড়তে বলেন। যায়দ রা. এটা পড়লে তাঁর সমস্যা ভালো হয়ে যায়। ১
মোট কথা, ওযু করে বিছানায় যাওয়া, ঘুমের আগের অন্যান্য মাসনূন আমল করা, দুআ পড়া, আর ৮ সূরার রুকইয়াহ শোনা-এগুলো ঠিকমত করলে ইনশাআল্লাহ অনিদ্রার সমস্যা দূর হয়ে যাবে। তবে যদি জিনের সমস্যার কারণে এটা হয়, তবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে বা রুকইয়াহ করতে হবে।

টিকাঃ
১. তাবারানী। বর্ণনাটির সনদ যয়ীফ। তবে দুয়াটা চিকিৎসা হিসেবে আমল করা যেতেই পারে।

📘 রুকইয়াহ > 📄 তোতলামির সমস্যায় করণীয়

📄 তোতলামির সমস্যায় করণীয়


তোতলামি সমস্যাটাকে আমরা দুইভাগে ভাগ করব-
প্রথমত: জন্মগত বা কোনো রোগের কারণে সৃষ্ট সমস্যা। এক্ষেত্রে পরামর্শ হচ্ছে-
১. দিনে কয়েকবার (সম্ভব হলে প্রতি ওয়াক্তের সালাতের পরেই) হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এর দুআটা পড়া।
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِى وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
“হে আমার রব, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কর্ম সহজ করে দিন, আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।” ১
২. সামনের 'অন্যান্য সাধারণ অসুস্থতার জন্য রুকইয়াহ' অংশে বলা দুআ এবং আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন পান করা।

দ্বিতীয়ত: বদনজরের কারণে সমস্যা। হয়তো কেউ অনেক সুন্দর করে কথা বলত। এরপর দেখা গেল, হঠাৎ সে তোতলামি শুরু করেছে অথবা কথা একদম বন্ধ হয়ে গেছে। বাচ্চা অথবা প্রাপ্তবয়স্ক-উভয়ের ক্ষেত্রেই এমনটা হতে পারে। এরকম অবস্থায় সমস্যা শুরু হওয়ার পর যত দ্রুত রুকইয়াহ করা যাবে, ততই ভালো। আর এ ক্ষেত্রে পরামর্শ হচ্ছে, কিছুদিন বদনজরের জন্য রুকইয়াহ করা, পাশাপাশি পূর্বের দুটি পরামর্শও অনুসরণ করা।

টিকাঃ
১. সূরা ত্বহা: ২৫-২৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00