📘 রুকইয়াহ > 📄 ঘুমানোর সময়ের আমল

📄 ঘুমানোর সময়ের আমল


১. ওযু করে ঘুমানো। তাহলে ফিরিশতারা হেফাজতের জন্য দুআ করতে থাকে। ডান কাত হয়ে ঘুমানো। এমনিতেও সর্বদা ওযু অবস্থায় থাকা সুন্নাত। ১

২. শোয়ার পূর্বে কোনো কাপড় বা ঝাড়ু দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া। এবং বিছানায় শোয়ার পর দুআ পড়া
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি তার বিছানা ত্যাগ করল, আবার ঘুমাতে ফিরে এল, সে যেন তার চাদর, লুঙ্গি বা আঁচল দিয়ে তিনবার বিছানাটি ঝেড়ে নেয়। আর যেন সে বিসমিল্লাহ পড়ে, (আল্লাহর নাম নেয়)। কারণ, সে জানে না, তার চলে যাবার পর এতে কী পতিত হয়েছে। তারপর সে যখন শোয়, তখন যেন বলে—
بِسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي ، وَبِكَ أَرْفَعُهُ ، فَإِن أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا ، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا ، بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ
উচ্চারণ: বিসমিকা রব্বি ওয়াদা'তু জাম্বি, ওয়াবিকা আরফা'উহু। ফাইন্ আস্সাকতা নাক্সি ফারহামহা, ওয়া ইন আরসালতাহা ফাহফাযহা বিমা-তাহফাযু বিহি 'ইবা-দাকাস সা-লিহীন।
অর্থ: আমার রব, আপনার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশ (বিছানায়) রেখেছি এবং আপনারই নাম নিয়ে আমি তা ওঠাব। যদি আপনি (ঘুমন্ত অবস্থায়) আমার প্রাণ আটকে রাখেন, তবে আপনি তাকে দয়া করুন। আর যদি আপনি তা ফেরত পাঠিয়ে দেন তাহলে আপনি তার হেফাজত করুন, যেভাবে আপনি আপনার সৎকর্মশীল বান্দাদের হেফাজত করে থাকেন।” ২

নোট: মজার ব্যাপার হচ্ছে, দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার ইচ্ছা থাকলে তখন এই দুআ পড়লে সহজেই ঘুম চলে আসে।

৩. আয়াতুল কুরসী পড়া।
“আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত হয়। ফলে সকাল পর্যন্ত শয়তান কাছে আসতে পারে না।” ৩

৪. সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া।
“আবূ মাসউদ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য তা যথেষ্ট হবে।” ৪

৫. সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে এরপর পুরা শরীরে হাত বুলিয়ে নিন। এটা তিন বার করুন।
“আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিদিন রাতে যখন বিছানায় আসতেন তখন দুই হাত একত্র করতেন এবং সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিতেন, এরপর যতদূর হাত যায় শরীরে বুলিয়ে নিতেন। এভাবে তিনবার করতেন।” ৫

টিকাঃ
১. আল-মুজামুল আওসাত। সনদ: জায়্যিদ।
২. আবূ দাউদ: ৫০৫০
৩. বুখারী: সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়
৪. বুখারী: ৪৭২৩
৫. তিরমিযী: ৩৪০২, বুখারী: ৫০৫৬

📘 রুকইয়াহ > 📄 হিফাজতের জন্য আরও কিছু আমল

📄 হিফাজতের জন্য আরও কিছু আমল


দ্রষ্টব্য: উল্লেখিত যিকিরগুলো শেষে কেউ যদি হিফাজতের জন্য আরও আমল করতে চান, তবে সকাল-সন্ধ্যায় এগুলো পড়তে পারেন।
১. সূরা বাকারার ১-৫ আয়াত।
২. আয়াতুল কুরসী এবং পরের আয়াত।
৩. সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত।
৪. এছাড়া গ্রন্থের শেষে উল্লেখিত রুকইয়ার দোয়াগুলোর প্রথম দুইটি তিনবার করে এবং ১৩ থেকে ১৭নং দুআগুলো একবার করে পড়তে পারেন।
৫. ঘুমের সময় উল্লেখিত আমলগুলোর সাথে চাইলে এই দুআটি পড়তে পারেন-
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبَّ الأَرْضِ ، وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ ، ، وَالْفُرْقَانِ ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا
হে আল্লাহ! হে সাত আসমানের রব, জমিনের রব, মহান আরশের রব, আমাদের রব ও প্রত্যেক বস্তুর রব, হে শস্যবীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইনজিল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যাদের আপনি নিয়ন্ত্রণ করছেন। ১

অন্যান্য সময়ের আমল

১. সম্ভব হলে মদীনার আজওয়া খেজুরের ব্যবস্থা করা, না পেলে যেকোনো আজওয়া খেজুর খাওয়া।
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সাতটি আজওয়া খেজুর সকাল বেলায় আহার করবে, সেদিন তাকে কোনো বিষ ও জাদু ক্ষতি করতে পারবে না।” ২

২. টয়লেটে প্রবেশের পূর্বে দুআ পড়া-
"আনাস ইবনু মালিক রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শৌচাগারে প্রবেশের কালে এই দুআটি বলতেন।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ'উযুবিকামিনাল খুবসি ওয়াল খাবা-ইছ।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি খারাপ পুরুষ ও মহিলা জিন থেকে।” ৩

৩. বিয়ের পর স্ত্রীর কাছে গিয়ে দুআ পড়া-
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ কোনো নারীকে বিয়ে করে অথবা কোনো দাসী ক্রয় করে তখন যেন সে বলে,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা-জাবালতাহা- 'আলাইহি, ওয়া 'আউজুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা-জাবালতাহা- 'আলাইহি।
অর্থ: 'হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এর মধ্যকার কল্যাণ এবং এর মাধ্যমে কল্যাণ চাই এবং তার মধ্যে নিহিত অকল্যাণ ও তার মাধ্যমে অকল্যাণ থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাই।' হাদীসটি বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ রা. এর সাথে আরও উল্লেখ করেছেন, এরপর সে যেন স্ত্রীর কপালের চুল স্পর্শ করে তার জন্য বরকতের দুআ করে।” ৪

৪. স্ত্রী সহবাসের পূর্বে দুআ পড়া।
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে মিলনের পূর্বে বলে-
بِسْمِ اللهِ ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ ، وَجَيِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ শাইতা-না, ওয়া জান্নিবিশ-শাইতানা মা রাযাকতানা।
অর্থ: 'আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ, আমাদের শয়তান থেকে রক্ষা করো, আর আমাদেরকে যা দান করবে, তাকেও শয়তান দেখে দূরে রাখো।' এরপর এই মিলনের দ্বারা যদি তাদের ভাগ্যে সন্তান থাকে তাহলে শয়তান কখনো তার ক্ষতি করবে না।” ৫

৫. মসজিদে প্রবেশের দুআ পড়া-
أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ
উচ্চারণ: আ'ঊযুবিল্লাহিল আযীম ওয়াবি ওয়াজহিহিল কারীম ওয়া সুলতানিহিল ক্বদীম মিনাশ শাইত্বনির-রাজীম।
"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মসজিদে প্রবেশের সময় কেউ এটা পড়লে শয়তান বলে, এই ব্যক্তি আজ সারাদিনের জন্য আমার থেকে রক্ষা পেয়ে গেল।” ৬

৬. নতুন কোনো জায়গায় বা বাড়িতে গেলে অথবা কোনো গা ছমছমে জায়গায় হাঁটলে দুআ পড়া-
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো জায়গায় অবতরণ করার পর বলবে,
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: আ'উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মা-তি, মিং-শাররি মা-খালাক।
'আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের দ্বারা যাবতীয় সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।' এই জায়গা ত্যাগ করা পর্যন্ত কোনো কিছু তার ক্ষতি করবে না।” ৭

৭. বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় দুআ পড়া-
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বলবে,
بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু 'আলাল্লাহি লা-হাওলা ওয়ালা-কুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লা-হ।
অর্থ: 'আল্লাহ তাআলার নামে। আমি আল্লাহ তাআলার ওপরই ভরসা করলাম। আল্লাহর ব্যতীত কারও সাধ্য বা শক্তি নেই।' তবে তাকে বলা হয় (আল্লাহ তাআলাই) তোমার জন্য যথেষ্ট। তুমি (অনিষ্ট থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত হয়েছ। আর শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়।” ৮

টিকাঃ
১. মুসলিম: ২৭১৩
২. বুখারী: ৫৪৩৬
৩. তিরমিযী: ৫
৪. আবূ দাউদ: ২১৬০
৫. বুখারী: ৪৮৭০, আবূ দাউদ: ২১৬১
৬. আবূ দাউদ: ৩৯৩
৭. মুসলিম: ৪৮৮৮
৮. তিরমিযি: ২৪২৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00