📄 সহবাসে অক্ষম করার জাদু
সহবাসে অক্ষম বলতে স্বামী অথবা স্ত্রীর যৌন মিলনে অক্ষমতা বোঝায়। তবে এরকম হলেই যে ধরে নিতে হবে, জাদু করা হয়েছে—বিষয়টা এমন নয়। বিশেষ কোনো রোগ বা শারীরিক সমস্যা ছাড়াই সহবাসে অপারগ হলে তখন এতে জাদুর আশঙ্কা করা যেতে পারে। আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।
প্রথমে পুরুষের অক্ষমতা নিয়ে কথা বলা যাক।
এই জাদুর সমস্যা সাধারণ পুরুষত্বহীনতা থেকে আলাদা। ছেলেরা এই জাদু দ্বারা আক্রান্ত হলে পুরুষের যৌনাঙ্গ অন্য সময় স্বাভাবিক থাকে; কিন্তু যখন সে স্ত্রীর কাছে আসে এবং সঙ্গম করতে চায় তখনই সে অক্ষম হয়ে পড়ে। অথবা এমন হয় যে, একাধিক স্ত্রী থাকলে অন্য স্ত্রীদের সাথে সঙ্গমে সফল হলেও নির্দিষ্ট কোনো স্ত্রীর সাথে অক্ষম হয়ে যায়। জাদুর কাজে নিয়োজিত শয়তান মস্তিষ্কে প্রভাব বিস্তার করে পুরুষকে অক্ষম করে দেয়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি অন্য কোনো সমস্যা না থাকলেও স্ত্রী সহবাসের সময় অপারগ হয়ে যায়।
মেয়েরা যদি আক্রান্ত হয় তাহলে শয়তান তার মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করে সেখান থেকে যৌন অনুভূতি ধ্বংস করে দেয়। ফলে সহবাসের সময় সে অনুভূতিহীন জড় পদার্থের মতো হয়ে যায়।
ক. সহবাসে অক্ষমের জাদুতে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ
- পুরুষের ক্ষেত্রে
১. বিয়ের পূর্বে সুস্থ থাকলেও বিয়ের পর ক্রমশ যৌন মিলনের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
২. সম্পূর্ণ শারীরিক সুস্থতা থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীর সাথে সহবাসে হঠাৎ অক্ষম হয়ে পড়ে।
৩. মিলনপূর্ব সময়ে স্বাভাবিক থাকলেও মিলনের সময় পুরুষাঙ্গ দুর্বল, নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
৪. সহবাসের সময় বা এর কিছুক্ষণ পূর্বেই যৌন অনুভূতি হারিয়ে ফেলে।
- নারীদের ক্ষেত্রে
১. কুমারী মেয়েকে বিয়ের পর অকুমারী মনে হয়। এতে স্বামীর মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই জাদুর চিকিৎসা করে জাদু নষ্ট হওয়ার পর আর এমন মনে হয়না।
২. স্ত্রী তার স্বামীকে কাছে আসতে অনিচ্ছা নিয়ে বাধা দেয়।
৩. সহবাসের সময় বা এর কিছুক্ষণ পূর্বেই যৌন অনুভূতি হারিয়ে ফেলে।
৪. স্বামী কাছে আসতে চাইলে অনিচ্ছায় দুই উরু একত্রিত করে ফেলে।
৫. কেবল সহবাসের সময় জরায়ু থেকে রক্ত বের হয়। (এমনিতে জরায়ু থেকে রক্তক্ষরণ জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার একটি লক্ষণ।)
৬. সহবাসের সময় তার স্বামী যৌনাঙ্গের মধ্যে মাংসের প্রতিবন্ধকতা পায়, ফলে সহবাস সফল হয়না।
এ ছাড়া উভয়ের ক্ষেত্রেই জিন-আক্রান্ত হওয়ার কিছু লক্ষণ মিলে যেতে পারে।
খ. সহবাসে অক্ষম করার জাদুর জন্য রুকইয়াহ
সাধারণ নিয়মে রুকইয়াহ করুন চাইলে সাথে সূরা ফুরকানের ২৩নং আয়াত কয়েকবার পড়তে পারেন। আয়াতটি অন্যান্য জাদুর রুকইয়াহতেও বেশ উপকারী। এরপর নিচের প্রেসক্রিপশন নিজে অনুসরণ করুন অথবা রোগীকে অনুসরণ করতে বলুন। এক মাস পর অবস্থার আপডেট জানাতে বলুন, তখন আবার রুকইয়াহ করে দেখুন। যদি বোঝা যায় এখনো সমস্যা আছে তাহলে প্রেসক্রিপশনের সেগাদ বাড়িয়ে নিন।
গ. প্রেসক্রিপশন
সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা আরাফ: ১১৭-১২২, সূরা ইউনুস: ৮১-৮২, সূরা ত্বহা: ৬৯ এবং
وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَّنثُورًا
আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করব, এরপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধুলিকণায় পরিণত করব। (সূরা ফুরকান, আয়াত: ২৩)
-এসব তিনবার করে পড়ুন।
এরপর সূরা আলাম নাশরাহ, সূরা ইখলাস, ফালাক এবং নাস-সাত বার করে পড়ুন। পড়া চলাকালে মাঝেমধ্যে পানিতে ফুঁ দিন।
১. দুই সপ্তাহ প্রতিদিন দুইবেলা এই পানি খাবেন। আর গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করবেন।
২. এর পাশাপাশি সূরা ইখলাস, ফালাক এবং নাস-এর রুকইয়াহ আধঘণ্টা, যে কোনো ক্বারীর সাধারণ রুকইয়াহ এবং সূরা ত্বরিক অন্তত একবার করে শুনবেন।
৩. এছাড়া সিহরের কমন রুকইয়ার বাকি সব পরামর্শ অনুসরণ করবেন।
এভাবে এক সপ্তাহ রুকইয়াহ করলে ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবে, তবে সরাসরি জিনের সমস্যা থাকলে একটু দেরি লাগতে পারে। যাহোক, সুস্থ হওয়ার পরও প্রতিদিনের মাসনূন জিকির এবং ফরয-ওয়াজিব আমল যেন গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়-এটা খেয়াল রাখতে হবে।
ঘ. লক্ষণীয় বিষয়
ক. চাইলে শুরুতে তিনদিন বরই পাতার গোসল অথবা সাত দিনের ডিটক্স রুকইয়াহ করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ অনেক উপকার হবে। তবে পাশাপাশি রুকইয়াহ শোনা এবং বাকি পরামর্শগুলো যথাযথভাবে পালন করবেন।
খ. এই জাদুর প্রভাবে অনেক সময় পুরুষের স্বাভাবিক যৌনক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। তাই প্রয়োজনে রুকইয়ার পাশাপাশি দ্বীনদার ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। আর যৌন দুর্বলতা সাধারণ শারীরিক সমস্যার জন্য হওয়াও স্বাভাবিক, যেখানে জাদু বা জিনের কোনো হাত নেই। এক্ষেত্রেও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
গ. শারীরিকভাবে যৌন দুর্বলতার চিকিৎসায় নিচের পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন—
এক কেজি খাঁটি মধু এবং ২০০ গ্রাম দেশীয় রাণী মৌমাছির খাদ্য (রয়েল জেলি নামে প্রসিদ্ধ) নিন। তার ওপর সূরা ফাতিহা, সূরা আলাম-নাশরাহ, সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস সাত বার করে পড়ুন। এরপর এটা প্রতিদিন সকালে খালি পেটে তিন চামচ, দুপুরে ও রাতে খাবার পরে এক চামচ করে খেতে হবে। সুস্থতার নিয়তে এ পদ্ধতি এক বা দুই মাস চালিয়ে যেতে হবে। আর আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দুআ করতে হবে। আল্লাহ চাইলে এতেই যৌন দুর্বলতা থেকে আরোগ্য লাভ করবে।
পরামর্শ: প্রয়োজনে মিশ্রণটি ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
ঙ. সহবাসের জাদু-বিষয়ক কিছু ঘটনা
ঘটনা-১: এটা গত সেপ্টেম্বর মাসের কথা। তখনও ফেসবুকে আমাদের রুকইয়াহ সাপোর্ট গ্রুপ তৈরি হয় নি। এক ভাই ইনবক্সে নক করলেন। কিছু বলতে চান, কিন্তু লজ্জা পাচ্ছিলেন।
পরে জানালেন, তিনি তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারেন না। বিয়ের পর ধীরে ধীরে তিনি সক্ষমতা হারিয়েছেন। আগে এই সমস্যা ছিল না। তাকে এই বিষয়ের ওপর লেখাটা দিলাম। তিন দিন বরই পাতার গোসল করা আর পানি খাওয়ার পর আপডেট জানাতে বললাম। তিনদিন পর জানালেন, আল্লাহর রহমতে তিনি এখন সুস্থ। আর স্ত্রী সহবাসেও স্বাভাবিক হয়েছেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
ঘটনা-২: পরের ঘটনা শাইখ ওয়াহিদের। এক লোক তার ভাইকে শায়খের কাছে নিয়ে আসে। এরপর জানায়, তার ভাই নতুন বিয়ে করেছে। সে স্ত্রী সহবাসে অক্ষম হয়ে পড়েছে, অথচ ক্লিনিক্যালি কোনো সমস্যা ধরা পড়ছে না। অনেক কবিরাজকে দেখানো হয়েছে। তাদের তদবীরে কোনো ফায়দা হচ্ছে না। শাইখ ওয়াহিদ তাকে প্রথমে কবিরাজদের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে তাওবাহ করান, যেন রুকইয়াহ করে উপকার হয়। এরপর তাকে বরই পাতা সংগ্রহ করতে বলেন, বরই পাতা না পাওয়ার কারণে কর্পূরের পাতা বেটে আয়াতুল কুরসী এবং তিনকুল পড়ে ফুঁ দিয়ে তাকে দেওয়া হয়। বলা হয় পানিতে গুলিয়ে সেটা পান করবে আর গোসল করবে। আল্লাহর অনুগ্রহে সে এভাবে পানি খাওয়া এবং গোসল করার সাথে সাথেই সুস্থ হয়ে যায়।
📄 গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জাদু
এটি আমাদের সমাজে প্রচলিত আরেকটি শয়তানি জাদু। কারও বাচ্চা যেন না হয় কিংবা বাচ্চা গর্ভে আসলেও যেন দুনিয়ার আলো না দেখে— সেজন্য স্বামী-স্ত্রীর একজনকে অথবা উভয়কেই পাপিষ্ঠরা এই জাদু করে থাকে। এই জাদুতে পুরুষ আক্রান্ত হলে বীর্যের গুনাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে স্ত্রী গর্ভধারণ করতে পারে না। আবার যদি স্ত্রী এই জাদুতে আক্রান্ত হয় তাহলে গর্ভে সন্তান আসলেও অসময়ে গর্ভপাত হয়ে যায়।
যদি দেখা যায়, বারবার গর্ভপাত হচ্ছে; কিন্তু ডাক্তাররা এর সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না, অথবা স্বামী-স্ত্রী কারও কোনো সমস্যা নেই, অথচ বাচ্চা আসছে না তাহলে এ ক্ষেত্রে যাচাই করা উচিত জাদু বা জিনের কোনো সমস্যা আছে কি না।
একটি বিষয় লক্ষণীয়, এই জাদুর চিকিৎসায় একটু সময় লাগতে পারে। তাই মানসিক সাপোর্ট দেওয়ার মতো কেউ পাশে থাকা জরুরি। সমস্যা যেহেতু বাচ্চা হওয়া নিয়েই, তাই এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সবধরনের সহায়তা করা উচিত।
ক. এই জাদুতে আক্রান্ত হবার কিছু লক্ষণ
১. মানসিক অশান্তিতে থাকা। বিশেষত বিকেল থেকে মধ্যরাত।
২. বুকের মধ্যে শক্ত বা ভারি অনুভব হওয়া।
৩. সহজেই সবকিছু ভুলে যাওয়া। মন ভুলার সমস্যা বেড়ে যাওয়া।
৪. মেরুদণ্ডের নিচের দিকে ব্যথা।
৫. ঘুমের মধ্যে অস্থিরতা থাকা, ঠিকভাবে ঘুমাতে না পারা।
৬. ঘুমালেও ভয়ংকর সব স্বপ্ন দেখা।
৭. হ্যালুসিনেশন বেড়ে যাওয়া।
এসবের পাশাপাশি জিন-আক্রান্ত হওয়ার কিছু লক্ষণ এবং জাদুর সাধারণ লক্ষণগুলোর সাথেও মিল পাওয়া যেতে পারে।
খ. বাচ্চা নষ্ট করার জাদুর জন্য রুকইয়াহ
সাধারণ নিয়মে রুকইয়াহ করুন। চাইলে সাথে সূরা শুরার ৪৯ এবং ৫০ আয়াত পড়তে পারেন। আয়াতগুলো একটু পরেই বলা হয়েছে।
এরপর নিচের প্রেসক্রিপশন নিজে অনুসরণ করুন অথবা রোগীকে অনুসরণ করতে বলুন। এক মাস পর অবস্থার আপডেট জানাতে বলুন, প্রয়োজনে আবার রুকইয়াহ করে একই সাজেশন পুনরায় দিয়ে দিন অথবা কমবেশি করুন।
গ. প্রেসক্রিপশন
১. সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, বাকারার শেষ রুকু, আলে-ইমরানের শেষ রুকূ, ফালাক (৩বার), নাস (৩বার) পড়ে অলিভ অয়েল অথবা কালোজিরার তেলে ফুঁ দিন। এই তেল প্রতিদিন ঘুমানোর আগে বুকে, কপালে এবং মেরুদণ্ডে মালিশ করবেন।
২. উল্লিখিত আয়াতগুলো পড়ে খাঁটি মধুতে ফুঁ দিন। এই মধু এক চামচ করে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে।
৩. প্রতিদিন সকালে সূরা সফফাত পড়বেন, নইলে অন্তত শুনবেন। প্রতিদিন রাতে সূরা মূলক এবং মাআরিজ পড়বেন, নইলে শুনবেন।
৪. কোনো ক্বারীর সাধারণ রুকইয়াহ প্রতিদিন অন্তত দুই-আড়াই ঘণ্টা এবং সূরা মারইয়াম একবার শুনবেন। শরীরের ব্যাথা বেশি হলে সাথে ৮ সূরার রুকইয়াহ শুনতে পারেন।
৫. আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফু দিয়ে প্রতিদিন খেতে এবং গোসল করতে পারেন। তবে গর্ভে সন্তান থাকাবস্থায় রুকইয়াহ শোনা, পানি খাওয়া, গোসল করা এসব কিছুটা ঝুকিপূর্ণ কাজ। তাই সেসময় এগুলো না করাই ভাল।
৬. প্রতিদিন অন্তত ৭০ বার ইস্তিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ) পড়বেন। এরচেয়ে বেশি পড়লে আরও ভালো।
৭. সহবাসের পূর্বে দুআ পড়বেন- بِسْمِ اللهِ ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا উচ্চারণ: বিসমিল্লাহ, আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ শাইতা-না, ওয়া জান্নিবিশ-শাইতানা মা রাযাকতানা।
৮. এছাড়া সিহরের কমন রুকইয়ার অনুসরণ করবেন।
ঘ. লক্ষণীয় বিষয়
১। সমস্যা ভালো হতে ৩-৪ মাস কিংবা আরও বেশি সময় লাগতে পারে। ধৈর্য ধরে রুকইয়াহ করে যেতে হবে। রুকইয়ার সময় কষ্ট হলেও একদম বাদ দিয়ে দেবেন না। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলানোর পরামর্শগুলো দ্রষ্টব্য।
২। কয়েকদিন রুকইয়াহ করেই যদি ভালো বোধ হয় তখন রুকইয়াহ করা বাদ দিয়ে দেবেন না। সমস্যা চলে যাওয়ার পরে কমপক্ষে এক মাস পর্যন্ত রুকইয়াহ চালিয়ে যান।
৩। এই সমস্যায় রুকইয়াহ তো করবেনই, কিন্তু মেডিকেল টেস্টে যদি এ-সংক্রান্ত কোনো অসুখ ধরা পড়ে তাহলে পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাবেন।
৪। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, জিন-জাদু বা কোনো শারীরিক সমস্যার কারণ ছাড়াও বাচ্চা না হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন -
لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ يَهَبُ لِمَن يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَاءُ الذُّكُورَ ﴿٤٩﴾ أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا وَيَجْعَلُ مَن يَشَاءُ عَقِيمًا ﴿٥٠﴾ إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ
“নভোমণ্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান দেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দেন। অথবা তাদের পুত্র ও কন্যা দুটোই দান করেন। আর তিনি যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল।” ১
এ ক্ষেত্রে কর্তব্য হচ্ছে, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থেকে সবর করা এবং নেক সন্তান চাইতে থাকা। আর অবশ্যই অনর্থক মানত করা থেকে বিরত থাকা উচিত। স্মর্তব্য, মানত কখনো ভাগ্য পরিবর্তন করে না।
ঙ. বাচ্চা নষ্টের জাদু বিষয়ে কিছু ঘটনা
১. আমার তিন তিনবার গর্ভপাত হয়েছিল, ডাক্তার কোন কারণ খুঁজে পায়নি। কোনভাবে রুকইয়ার বিষয়ে জেনে রুকইয়াহ শুনছিলাম। একদিন আমার স্বামী আব্দুল্লাহ ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করেন। উনার পরামর্শে আমরা দুজন তিনদিন বদনজরের রুকইয়াহ করি, এরপর প্রায় ৬ মাস সুস্থ ছিলাম। তারপর আবার অসুস্থতা বোধ করলে আবার বদনজরের রুকইয়াহ করি। কিন্তু শরীরে বিভিন্ন যায়গায় ব্যথা হচ্ছিল। এবার আমাকে ডিটক্স করার পরামর্শ দেয়। অনেকটা সুস্থ অনুভব করলেও কিছু সমস্যা ছিল, এরপর দুই মাস জাদুর সাধারণ রুকইয়াহ করি, সাথে দৈনিক এক থেকে দেড় ঘণ্টা কুরআন তিলাওয়াত। শয়তান নানারকম ওয়াসওয়াসা দিলেও আমি তিলাওয়াত চালু রেখেছিলাম, এতে অনেক শান্তি পেতাম। ওই সময় ঘুমের জন্য চোখ বন্ধ করলেই বিভিন্ন হিংস্র প্রাণী দেখতাম। এমনকি চোখ খুলে ফেললেও দেখতাম। পুরো শরীরেই ব্যথা হত, ঘুম থেকে উঠে মাটিতে পা ফেলতে পারতাম না। দুই হাত প্রায়ই অবশ হয়ে থাকতো। প্রতিটা দিন প্রচণ্ড কষ্টের মাঝে কাটছিল! এর মধ্যে ব্যথার তীব্রতায় কয়েকবার ডাক্তার দেখাই, টেস্ট করাই। রিপোর্ট সব ভাল আসে। পেইন কিলার খাই, কিন্তু ব্যথা কমে না। আমার আর সহ্য হচ্ছিল না।
বিয়ের আগে আমার তেমন কোন সমস্যা ছিল না। সম্পূর্ণ সুস্থ আর কর্মঠ ছিলাম। যেদিন শ্বশুর বাড়িতে যাই, সেখানে ঢোকা মাত্রই আমার ব্যথা শুরু হয়। কিছুতেই কমছিল না এসব, বরং দিনদিন বাড়ছিল। অসুস্থতার কারণে মানুষ নানা কথা বলত। আমারও জেদ চেপে গেল। এর শেষ দেখেই ছাড়ব ইনশাআল্লাহ! সেই জেদ থেকে ২০১৬ শেষের দিকে সম্ভাব্য সকল ধরনের টেস্ট করাই। কোন সমস্যা পেলাম না। আব্দুল্লাহ ভাই জাদুর সাধারণ রুকইয়ার সাথে বরই পাতার গোসলের পরামর্শ দিলেন। এরই মধ্যে কালো সুতা ও পেরেক পেয়ে নষ্ট করি। হঠাৎ বিশ্রী গন্ধ পেতাম। স্বপ্নে মূর্তি দেখতাম। ব্যথা তো আছেই। সাথে শুরু হয়েছিল সারা গা চুলকানো।
একসময় আমরা বুঝতে পারলাম শ্বশুরবাড়িতে থাকলেই সমস্যা হচ্ছে। কয়েকবার খেয়াল করলাম। এখান থেকে বের হলে সুস্থ, আবার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ির কাছাকাছি আসতেই ঝামেলা শুরু। আমার স্বামী এবং আব্দুল্লাহ ভাই দুজনেই বলেছিলেন বাবার বাড়িতে থাকতে। কিন্তু আমি রাজী হইনি, কারণ শ্বশুরবাড়িই তো আমার ঠিকানা। এখানে থেকেই আমাকে রোগমুক্ত হতে হবে। একদিন স্বপ্নে দেখি কে যেন বাড়ি থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। আবার জিনও দেখি। তখন আব্দুল্লাহ ভাইয়ের পরামর্শে বাড়ির গেট ও চারদিকে রুকইয়াহ পানি ছিটালাম, পর পর তিনদিন সুরা বাকারা তিলাওয়াত করলাম। এরপর বাচ্চা নষ্টের জাদুর রুকইয়াহ ও রাতে সূরা মূলক তেলাওয়াতের পরামর্শ পাই। সকাল সন্ধ্যা এবং ঘুমের আগের মাসনুন আমল তো আছেই।
এর মধ্যে আল্লাহর রহমতে আবার কন্সিভ করি। তখন আমরা জানতামও না। ইস্তিখারা করে সিদ্ধান্ত নেই কাউকে জানাবো না। এমনকি সাড়ে তিনমাস পর্যন্ত ডাক্তারও দেখাই নি। কারণ এব্যাপারে পূর্বের অভিজ্ঞতা ভাল ছিল না। অনেক ওষুধ দিত যার সব শতভাগ প্রমাণিত না, সাথে আবার ইনজেকশন! এসবের সাইড ইফেক্ট তো আছেই পাশাপাশি খরচা। আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে সব কাজকর্ম চালিয়ে যাই। বিভিন্ন মাধ্যমে জেনে আপডেট রাখতাম। এবার সম্ভাব্য টেস্ট করে রিপোর্ট নিয়ে তারপর ডাক্তারের কাছে গেলাম, এবারও আগের মতই প্রেস্ক্রাইব করলেন। বললেন বাচ্চার ওজন দুই কেজি না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত ইনজেকশন নিতে হবে। কিন্তু সব বিবেচনায় না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেই, ঔষধও অল্প কটা ছাড়া বাকিগুলো খাইনি। প্রতিদিন ফজরের পর জমজমের পানি পান করতাম। তখনও স্বপ্নে বাঘ, সাপ দেখা কিন্তু বন্ধ হয় নি; ব্যথাও আছে, গন্ধও পাই।
আবার আব্দুল্লাহ ভাইয়ের সাথে পরামর্শ করি, এই অবস্থায় রুকইয়াহ করা যাবে কিনা। তিনি কারও সাথে পরামর্শ করে জানান, যেন রুকইয়াহ না করে প্রতিদিন সকালে সুরা ইয়াসিন, রাতে সুরা মূলক তিলাওয়াত করি, আর সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আমলের সাথে ১০০ বার "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু .... কাদীর” পড়ি। তখন থেকে এই রুটিন ফলো করা শুরু করলাম।
পুরো প্রেগন্যান্সির সময় আমি ফিট ছিলাম। বাচ্চা হওয়ার এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত নিয়মিত চাকুরী, ক্লাস, রিকশায় চলাচল করেছি। খাবার খেতে পারতাম না তেমন, অনিয়ম হত। তবুও আল্লাহর কাছে দুআ' করতাম এর মধ্যে যা কল্যাণ আছে তা যেন মা ও বাচ্চাকে দান করেন, ক্ষতি থেকে হেফাজত করেন। হাটতে, ফিরতে, আযানের সময়, সর্ব অবস্থায় দুআ করতাম। কেউ খারাপ ব্যবহার করলে, কষ্ট দিলে সবর করতাম; সবকিছুর বিনিময়ে আল্লাহর কাছে শুধু সুস্থ-সবল বাচ্চা চাইতাম। দুআ করতাম আমার সিদ্ধান্ত যেন সঠিক হয়।
৫ মাসের সময় যখন ডাক্তারকে রিপোর্ট দেখাতে যাই, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করেন, ওষুধ খাচ্ছি কিনা, ইনজেকশন নিচ্ছি কিনা। আমি পুরো ব্যাপারটা গুছিয়ে বলি। আলহামদুলিল্লাহ, ডাক্তার সাহেবা প্রতিক্রিয়া দেখাননি। ৮ মাসের সময় যখন আবার যাই তখন ডাক্তারকে রুকইয়াহ বইটা গিফট করি। অবশেষে ৪০ সপ্তাহ ১দিন পর আমাদের বাচ্চাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার পাই।
সিজারের পর শ্বশুরবাড়িতে ছিলাম। সেখানে আবার বিশ্রী গন্ধ পাওয়া শুরু করি। প্রেগন্যান্সির সময়ও তো সমস্যা হয়েছিল, কিন্তু তখন রুকইয়াহ করতে পারিনি। বাচ্চা হওয়ার পর আবার রুকইয়াহ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু বাচ্চা নিয়ে ঠিক কুলিয়ে উঠতে পারছি না। একটু গুছিয়েই আবার শুরু করব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা যেন আব্দুল্লাহ ভাইকে উত্তম প্রতিদান দেন। আমাদের জন্যেও দোয়া করবেন।
টিকাঃ
১. সূরা শুরা, আয়াত : ৪৯-৫০
📄 মাসনূন আমল
যারা পূর্বে আক্রান্ত হয়েছেন তারা তো বটেই, এছাড়াও আমাদের সবার জাদু এবং জিন-শয়তানের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিখিয়ে দেওয়া আমলগুলো যত্নসহকারে করা উচিত। এগুলোকে মাসনূন আমল অর্থাৎ সুন্নাহ থেকে নেওয়া আমল বলা হয়। এসবের অসাধারণ সব উপকারিতার পাশাপাশি কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমন: আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার অভ্যাস গড়ে উঠবে, সুন্নাহ অনুসরণের ফযীলত পাওয়া যাবে, আর প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ সওয়াব আপনার আমলনামায় অবশ্যই জমা হবে।
সারা দিনের, বিশেষত সকাল-সন্ধ্যার ফযীলতপূর্ণ অনেক দুআ ও যিকির হাদীসে আছে, সবকিছু তো এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়; তা প্রাসঙ্গিকও নয়। আমরা এখানে বিভিন্ন ক্ষতি থেকে হেফাজতের কিছু মাসনূন আমল এবং দুআ নিয়ে আলোচনা করব। আল্লাহ চাইলে এগুলো আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে। এসবের পাশাপাশি পূর্বে আলোচিত বদনজর থেকে বাঁচার উপায় এবং জিনের ক্ষতি বাঁচার উপায়গুলো দেখা যেতে পারে।
এ ছাড়া অন্যান্য মাসনূন আমলের জন্য নির্ভরযোগ্য কোনো গ্রন্থের (যেমন: হিসনে হাসীন, হিসনুল মুসলিম, সিলাহুল মুমিন, আযকারে মাসনূনাহ, নবীজির দুআ ইত্যাদির) সহায়তা নিতে পারেন।
আর খেয়াল রাখার বিষয় হচ্ছে, নিজে আমল করলে যত বেশি সম্ভব করবেন। তবে জিন বা জাদুর রোগীকে প্রেসক্রিপশন দেওয়ার সময় অনেক অনেক আমল চাপিয়ে দেওয়ার দরকার নাই। অল্প কিছু করুক। (যেমন: শুধু তিন কুল এবং আয়াতুল কুরসীর আমল) তবে ধারাবাহিকতা যেন ধরে রাখে এবং সবসময় যেন করে।
এখানে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার-
১. আল্লাহর ওপর নিখাদ ভরসা এবং বিশ্বাস রাখা। এটা মাসনূন আযকারের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ বলেছেন-
الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُم بِظُلْمٍ أُولَٰئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُونَ
"যারা ঈমান আনে এবং ঈমানের সাথে শিরক মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।” ১
২. অদ্ভুত এবং আজব সব ওযীফা থেকে দূরে থাকা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রচুর দুআ এবং যিকির বর্ণিত হয়েছে। আপনি যদি শুধু মাসনূন দুআ এবং যিকিরগুলো করা শুরু করেন, আমার মনে হয় না, প্রতিদিন সবগুলো আপনি শেষ করতে পারবেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত ছোট-ছোট দুআর ফযীলত তো অন্য কিছুর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়; বরং এগুলোর লাভ আরও বেশি। তাহলে বিরাট বিরাট আজগুবি ওযীফা পড়ার দরকারটা কী!
৩. সকাল-সন্ধ্যা এবং ঘুমের আগের আমলগুলো পারতপক্ষে যেন বাদ না যায়—এর প্রতি সচেষ্ট থাকবেন। আর মেয়েদের পিরিয়ডের সময় কুরআন তিলাওয়াত বাদে অন্যান্য দুআ পড়তে তো কোনো সমস্যা নেই।
একটা কাজ করা যেতে পারে, কুরআনের আয়াত পড়তে হয় এমন মাসনূন আমলগুলো পূর্বেই ফোনে রেকর্ড করে রাখুন, পরে বিশেষ সময়গুলোতে রেকর্ডটা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। শাইখ ওয়াহিদ আব্দুস সালাম এমন পরামর্শ দিয়েছিলেন।
যদি কখনো ভুলেও মাসনূন আমল বাদ পড়ে তাহলে মনে পড়ার সাথে সাথেই আদায় করে নেবেন। সেটা এক ঘণ্টা পরে মনে পড়ুক, অথবা মাঝরাতেই মনে পড়ুক। আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضُ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ
“যে ব্যক্তি দয়াময়ের যিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিযুক্ত করে দিই। এরপর সেই হয় তার সঙ্গী।” ২
সুতরাং শয়তানের আক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রতিদিনের যিকরগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া খুব জরুরি।
টিকাঃ
১. সূরা আনআম: ৮২
২. সূরা যুখরুফ: ৩৬
📄 সকাল-সন্ধ্যার আমল
১. বিষ, জাদু এবং অন্যান্য বিষাক্ত প্রাণীর ক্ষতি থেকে বাঁচতে সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়ুন—
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ الله التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: আ'উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মা-তি, মিং-শাররি মা-খালাকা। অর্থ : আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের দ্বারা যাবতীয় সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। ১
২. সব ধরনের ক্ষতি এবং বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকতে সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়া-
"উসমান ইবনু আফফান রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনের মধ্যে সকালবেলা এবং রাতের মধ্যে সন্ধ্যাবেলা তিনবার বলবে-
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হিল্লাযি লা-ইয়াদুররু মা'আসমিহি শাইউং ফিলআরদি ওয়ালা- ফিসসামাই, ওয়াহুওয়াস সামি'উল 'আলীম। অর্থ: 'আল্লাহ্র নামে, যার নামের সাথে আসমান ও জমিনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।' কোনো কিছু তার ক্ষতি করবে না।” ২
৩. সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তিন বার করে পড়া।
“আব্দুল্লাহ ইবনু খুবাইব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক বর্ষণমুখর অন্ধকার রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুঁজতে বের হলাম, যেন তিনি আমাদের নিয়ে সালাত পড়েন। তার সাথে যখন সাক্ষাৎ হলো, তিনি বললেন, 'কুল' (বলো)। আমি নিশ্চুপ থাকলাম। তিনি আবার বললেন, 'কুল'। আমি নিশ্চুপ থাকলাম। তিনি আবার বললেন, 'কুল'। আমি তখন বললাম, আল্লাহর রাসূল, কী বলব? তিনি বললেন, 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' এবং 'মুয়াওয়াযাতাইন' (অর্থাৎ সূরা ফালাক ও নাস) সকালে ও সন্ধ্যায়-তিনবার। এটা সব কিছু থেকে তোমার হেফাজতের জন্য যথেষ্ট হবে।” ৩
৪. এই আয়াতটি সকাল-সন্ধ্যায় সাত বার পড়া। “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় সাতবার পাঠ করবে-
حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ: হাসবিইয়াল্লহু লা ইলাহা ইল্লা-হু; আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়াহুওয়া রব্বুল আরশিল আযীম। ৪ অর্থ; 'আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁর ওপরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি।' আল্লাহ তাআলা তার প্রয়োজনে যথেষ্ট হয়ে যাবেন।” ৫
৫. জিন-শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচতে প্রতিদিন একশ বার; কোনো দিন সম্ভব না হলে অন্তত সকাল-সন্ধ্যায় দশ বার পড়ুন-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ ، وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদ, ওয়াহুওয়া 'আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি দিনে একশ বার এ দুআটি পড়ে-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ ، وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদ, ওয়াহুওয়া 'আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
অর্থ: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি এক, তার কোনো শরীক নেই। তাঁরই রাজত্ব, প্রশংসা তারই, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাশালী।'
তাহলে তার দশটি গোলাম আযাদ করার সমান সওয়াব হবে। তার জন্য একশটি সওয়াব লেখা হবে এবং একশটি গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। সেই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান হতে হেফাজতে থাকবে। আর কোনো লোক তার চেয়ে উত্তম সওয়াব অর্জনকারী হবে না। তবে কেউ যদি তার চেয়েও বেশি পড়ে, সে ব্যতীত।” ৬
"আবু আইয়ুব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে সকালে এটি দশবার বলে, এর বিনিময়ে তার আমলনামায় একশত নেকি লিখে দেওয়া হয় এবং একশ গুনাহ মুছে দেওয়া হয়। আর এই বাক্যগুলো একটি গোলাম আযাদ করার সমতুল্য এবং এর দ্বারা ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে হেফাজত করা হয়। আর সন্ধ্যায় যে এই বাক্যগুলো বলে, তারও অনুরূপ প্রাপ্য হয়।” ৭
নোট: হাদীসের উভয়টির কথাই এসেছে, তবে দিনে ১০০ বার পড়ার কথা এবং এর ফযীলত অনেক বেশি বর্ণিত। তাই আপনি চেষ্টা করবেন একশবার পড়তে। যদি কোনো দিন না পারেন, তবে সকাল-সন্ধ্যায় ১০ বার করে হলেও পড়বেন। আপনি চাইলে সারা দিন মিলিয়ে ১০০ বার পড়তে পারেন, অথবা এক সাথে পড়ে ফেলতে পারেন। তবে ইমাম নববী রহ.-সহ অনেকের মত হচ্ছে, এটা সকালেই একশ বার পড়ে ফেলা উচিত তাহলে এটা সারাদিন হেফাজতের জন্য ঢাল হবে। ৮ বিশেষত কেউ জিন বা জাদুতে আক্রান্ত হলে তাকে ফজর বা মাগরিব পর ১০০ বার করে পড়তে বলা হয়।
টিকাঃ
১. মুসলিম: ৪৮৮৩
২. তিরমিযী: ৩৩৮৮
৩. তিরমিযী: ৩৫৭৫
৪. সূরা তাওবাহ ১২৯ নম্বর আয়াতের অংশ
৫. আবূ দাউদ: ৫০৮১
৬. বুখারী: ৩১১৯, মুসলিম: ৪৮৫৭
৭. মুসনাদে আহমাদ: ২৩০০৭
৮. শরহুন নববী আলা মুসলিম : ১৭/১৭