📘 রুকইয়াহ > 📄 জাদু প্রসঙ্গে আল-কুরআন

📄 জাদু প্রসঙ্গে আল-কুরআন


“এমনিভাবেই তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোনো রাসূল এসেছে, তারা বলেছে, জাদুকর, না হয় উন্মাদ।” ১

দ্বিতীয় আয়াত: وَلَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِم بَابًا مِنَ السَّمَاءِ فَظَلُّوا فِيهِ يَعْرُجُونَ لَقَالُوا إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصَارُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَّسْحُورُونَ
"যদি আমি ওদের সামনে আকাশের কোনো দরজা খুলে দিই, আর তাতে ওরা দিনভর আরোহণও করতে থাকে, তবুও ওরা একথাই বলবে যে, আমাদের চোখ তো ভুল দেখছে। বরং আমরা জাদুগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।” ২

এই আয়াত দ্বারা বোঝা গেল, জাদু দ্বারা এমন অস্বাভাবিক কাজ করা যায়, যা বাহ্যদৃষ্টে অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়। এছাড়া মুসা আলাইহিস সালাম-এর ঘটনা বিভিন্ন সূরায় এসেছে, সেখানেও চোখে ধাঁধা লাগানো জাদুর কথা বলা হয়েছে। যেমন: সূরা আরাফ, সূরা ইউনুস, সূরা ত্বহা ইত্যাদি। সূরা আরাফের কিছু আয়াত দেখা যাক-

তৃতীয় আয়াত: يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ
“তোমার কাছে নিয়ে আসুক সব বিজ্ঞ জাদুকরদের...।” ৩

এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, জাদুবিদ্যা কল্পকাহিনী জাতীয় কিছু নয়; বরং জাদু একটি বিশেষ জ্ঞান যা শেখা যায়, যাতে পারদর্শিতা অর্জন করা যায়।

চতুর্থ আয়াত: قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَن تُلْقِيَ وَإِمَّا أَن تَكُونَ نَحْنُ الْمُلْقِينَ (١١٥) قَالَ أَلْقُوا فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءُوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ ﴿١١٦) وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ (۱۱۷)
"তারা বলল, হে মুসা, তুমি আগে নিক্ষেপ করবে নাকি আমরা নিক্ষেপ করব? তিনি বললেন, তোমরাই নিক্ষেপ করো। তখন তারা লোকদের চোখে জাদু ছুড়ল, যা তাদের ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলল, আর তারা বিরাট জাদু প্রদর্শন করল। এরপর আমি মুসাকে ওহি পাঠালাম, এবার তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো। অতএব (তিনি নিক্ষেপ করলেন।) সঙ্গে সঙ্গে তা সে সব কিছুকে গিলতে লাগল, যা তারা বানিয়েছিল।” ৪

এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপরও জাদু করা হয়েছিল। তখন আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুআ শিখিয়ে দিলেন-

পঞ্চম আয়াত: قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ (1) مِن شَرِّ مَا خَلَقَ (۲) وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ (۳) وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ (٤)
“বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার—তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, আর অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে, যখন তা গভীর হয় এবং গেরোয় ফুঁ দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে...।” ৫

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর জাদু করার কারণে তিনি অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কাজেই বোঝা গেল জাদু দ্বারা মানুষের ক্ষতি করা সম্ভব। অন্য কিছু আয়াতেও আমরা এর প্রমাণ পাই-

ষষ্ঠ আয়াত: وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرُ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُم بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ (۱۰۲)
“তারা ওই শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলাইমানের রাজত্বকালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলাইমান কুফরী করেনি; শয়তানরাই কুফরী করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা দুজন এ কথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, নিশ্চয়ই আমরা পরীক্ষাস্বরূপ। সুতরাং তুমি কাফের হয়ে যেয়ো না। এরপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখে নিত, যার দ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাত। আর তারা জাদু দিয়ে আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কারও ক্ষতি করতে পারত না। এবং তারা তা-ই শিখত, যা তাদের ক্ষতি করে; উপকার করে না। তারা ভালোভাবে জানে, যে জাদু চর্চা করে, পরকালে তার জন্য কোনো অংশ নেই, যার বিনিময়ে তারা তাদের নিজেদের বিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ; যদি তারা জানত...।” ৬

প্রায় সকল মুফাসসির এই আয়াত প্রসঙ্গে দীর্ঘ এবং তথ্যবহুল আলোচনা করেছেন। আগ্রহীরা তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন (পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ) এবং তাফসীরে ইবনু কাসীর থেকে সংশ্লিষ্ট আলোচনা দেখে নিতে পারেন। আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য তাফসীরে কাবীর দেখা যেতে পারে।

টিকাঃ
১. সূরা যারিয়াত, আয়াত: ৫২
২. সূরা হিজর: ১৫
৩. সূরা আরাফ: ১১২
৪. সূরা আরাফ: ১১৫-১১৭
৫. সূরা ফালাক, আয়াত: ১-৪
৬. সূরা বাকারা, আয়াত: ১০২

📘 রুকইয়াহ > 📄 জাদু প্রসঙ্গে হাদীস

📄 জাদু প্রসঙ্গে হাদীস


কুরআনুল কারীমে জাদু নিয়ে এত বেশি আলোচনা হয়েছে যে, জাদুর অস্তিত্বের ব্যাপারে ইসলামী আকীদা প্রমাণের জন্য অন্য কোনো দলিলের প্রয়োজন হয় না। তারপরও আমরা কিছু হাদীস দেখে নিই—

১. প্রথম হাদীস: হযরত আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত—
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا هُنَّ قَالَ الشَّرْكُ بِاللَّهِ وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَكْلُ الرِّبَا وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلَاتِ
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সাতটি ধ্বংসাত্মক জিনিস থেকে দূরে থাকো। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, সে জিনিসগুলো কী? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরিক করা, জাদুবিদ্যা শেখা ও তার চর্চা করা, যে জীবকে হত্যা করা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন—অবৈধভাবে তা হত্যা করা, সুদি লেনদেন করা, এতিমের ধনসম্পদ আত্মসাৎ করা, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া, পবিত্র চরিত্রের অধিকারিনী মুমিন নারীর ওপর অপবাদ দেওয়া।” ১

২. দ্বিতীয় হাদীস: সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত—
سَعْدًا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَصَبَّحَ سَبْعَ تَمَرَاتٍ عَجْوَةً لَمْ يَضُرَّهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ سُمٌ وَلَا سِحْرٌ
“তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি করে আজওয়া খেজুর আহার করে, সেদিন তাকে কোনো বিষ বা জাদু ক্ষতি করতে পারে না।” ২

৩. তৃতীয় হাদীস: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জাদু করার ব্যপারে দীর্ঘ হাদীসটি তো প্রসিদ্ধ।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ سَحَرَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي زُرَيْقٍ يُقَالُ لَهُ لَبِيدُ بْنُ الْأَعْصَمِ حَتَّى كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهُ كَانَ يَفْعَلُ الشَّيْءَ وَمَا فَعَلَهُ حَتَّى إِذَا كَانَ ذَاتَ يَوْمٍ أَوْ ذَاتَ لَيْلَةٍ وَهُوَ عِنْدِي لَكِنَّهُ دَعَا وَدَعَا ثُمَّ قَالَ يَا عَائِشَةُ أَشَعَرْتِ أَنَّ اللَّهَ أَفْتَانِي فِيمَا اسْتَفْتَيْتُهُ فِيهِ أَتَانِي رَجُلَانِ فَقَعَدَ أَحَدُهُمَا عِنْدَ رَأْسِي وَالْآخَرُ عِنْدَ رِجْلَيَّ فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ مَا وَجَعُ الرَّجُلِ فَقَالَ مَطْبُوبٌ قَالَ مَنْ طَبَّهُ قَالَ لَبِيدُ بْنُ الْأَعْصَمِ قَالَ فِي أَيِّ شَيْءٍ قَالَ فِي مُشْطٍ وَمُشَاطَةٍ وَجُفٌ طَلْعِ نَخْلَةٍ ذَكَرٍ قَالَ وَأَيْنَ هُوَ قَالَ فِي بِثْرِ ذَرْوَانَ فَأَتَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَجَاءَ فَقَالَ يَا عَائِشَةُ كَأَنَّ مَاءَهَا نُقَاعَةُ الْحِنَّاءِ أَوْ كَأَنَّ رُءُوسَ نَخْلِهَا رُءُوسُ الشَّيَاطِينِ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا اسْتَخْرَجْتَهُ قَالَ قَدْ عَافَانِي اللَّهُ فَكَرِهْتُ أَنْ أُثَوِّرَ عَلَى النَّاسِ فِيهِ شَرًّا فَأَمَرَ بِهَا فَدُفِنَتْ
“আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনু যুরাইক গোত্রের লাবিদ ইবনুল আসাম নামক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জাদু করে। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মনে হতো, তিনি কোনো কাজ করছেন, অথচ বাস্তবে সেটা তিনি করেননি। এক দিন বা এক রাতে তিনি আমার কাছে ছিলেন। তিনি অনেক অনেক দুআ করলেন। তারপর তিনি বললেন, আয়িশা, তুমি কি টের পেয়েছ, আমি আল্লাহর কাছে যা জানতে চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। আমার নিকট দুজন (ফেরেশতা) আসে, তাদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অপরজন দু পায়ের কাছে বসে।
তাদের একজন তাঁর সঙ্গীকে বলল, এ লোকটির কীসের কষ্ট? সে বলল, তাকে জাদু করা হয়েছে।
প্রথম জন, কে জাদু করেছে?
দ্বিতীয় জন, লাবিদ ইবনুল আসাম।
প্রথম জন, কিসের ওপর জাদুর করা হয়েছে?
দ্বিতীয় জন, চিরুনী, মাথা আঁচড়ানোর সময় পড়ে যাওয়া চুল এবং একটি পুরুষ খেজুর গাছের মাথার খোসার ওপর।
প্রথম জন, সেটা কোথায় আছে?
দ্বিতীয় জন, জারওয়ান কুপের মধ্যে।
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। ফিরে এসে বলেন, হে আয়িশা, সে কুপের পানি মেহেদীর পানির মতো এবং তার পাড়ের খেজুর গাছের মাথাগুলো শয়তানের মাথার মতো।
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি সেগুলো বের করবেন না? (অন্য বর্ণনায় আছে, আপনি কি সেগুলো পুড়িয়ে ফেলবেন না?) তিনি বললেন, আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করেছেন, আমি মানুষকে এমন ব্যাপারে প্ররোচিত করতে পছন্দ করি না, যাতে অকল্যাণ রয়েছে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলে সেগুলো মাটি চাপা দিয়ে দেওয়া হয়।” ৩

৪. চতুর্থ হাদীস: আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত-
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اقْتَبَسَ عِلْمًا مِنْ النُّجُومِ اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِنْ السِّحْرِ زَادَ مَا زَادَ
“তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জ্যোতিষবিদ্যার কিছু শিক্ষা করল, সে যেন জাদুবিদ্যার একটি শাখা আয়ত্ত করল। এখন তা যত বাড়বে, জাদুবিদ্যায়ও তত প্রবৃদ্ধি ঘটবে।” ৪

৫. পঞ্চম হাদীস: ইমরান বিন হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - : لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَطَيَّرَ أَوْ تُطْيِّرَ لَهُ ، أَوْ تَكَهَّنَ أَوْ تُكُهُنَ لَهُ ، أَوْ سَحَرَ أَوْ سُحِرَ لَهُ ، وَمَنْ عَقَدَ عُقْدَةً - أَوْ قَالَ : عُقِدَ عُقْدَةٌ لَهُ - وَمَنْ أَتَى كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا قَالَ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ - عَلَى مُحَمَّدٍ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
“যে কুলক্ষণ নির্ণয় করে এবং যার জন্য নির্ণয় করা হয়, যে জাদু করে এবং যার জন্য জাদু করা হয়, আর যে বান মারে, এরা কেউ আমাদের (মুসলমানদের) অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যে গণকের নিকট গেল এবং তার কথা বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যা নাজিল হয়েছে, তার সাথে কুফরী করল।” ৫

এই হাদীস অনুযায়ী জাদুকর, গণক, ট্যারো কার্ড কিংবা টিয়া পাখি দিয়ে ভালো-মন্দ যাচাইকারী- এরা সবাই কাফির। এবং যারা তাদের কাছে যাচ্ছে, তাদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে বা তাদের কথা বিশ্বাস করছে, তারাও কুফরী করছে! সুতরাং আমরা যেন সতর্ক হই, অন্যদেরও সতর্ক করি। কবিরাজ-বৈদ্য-খোনার ইত্যাদি নামধারী কাফির জাদুকরদের কাছে গিয়ে নিজের ঈমানকে যেন ধ্বংস না করি।

জাদুর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে এরকম অনেক অনেক হাদীস এবং কুরআনের আয়াত আছে, সব উল্লেখ করে অহেতুক কলেবর বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই। তবে বাস্তবেই জাদুর অস্তিত্ব আছে কি না, জাদু দ্বারা মানুষ আক্রান্ত হয় কি না, ইসলাম এ ব্যাপারে কি বলে – উপরের আলোচনার পর আশাকরছি এ ব্যাপারে কারও কোনো সংশয় নেই।

টিকাঃ
১. বুখারী: ২৬১৫
২. বুখারী: ৫৪৩৬
৩. বুখারী: ৫৪৩০
৪. আবূ দাউদ: ৩৯০৫
৫. মাজমাউয যাওয়াইদ: ৮৪৮০। সনদ সহীহ, কারও মতে হাসান।

📘 রুকইয়াহ > 📄 সালাফদের মতামত

📄 সালাফদের মতামত


এবার আমরা কয়েকজন সালাফে সালেহীনদের মতামত দেখি।

১. ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন, সমগ্র আহলুস সুন্নাত এ ব্যাপারে একমত যে, জাদু সত্য এবং এর প্রভাব রয়েছে। কিছু মুতাযিলা এটি অস্বীকার করে এবং তারা বলে, এটা শুধুই চোখের ভ্রম। এরপর ইমাম কুরতুবী রহ. মুতাযিলা ফিরকার আকীদা খণ্ডন করেছেন। ১

২. ইমাম নববী রহ. বলেন, বিশুদ্ধমত হচ্ছে জাদুর অস্তিত্ব রয়েছে, অধিকাংশ আলিমের মত এটাই। আর এ ব্যাপারে কুরআন-হাদীসেও সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ইবনু হাজার আসকালানি রহ. উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন এবং নিজেও বেশ কিছু স্থানে জাদুর চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ২

৩. ইবনু কুদামাহ রহ. বলেন, জাদুর দ্বারা মানুষকে হত্যা করা হয়। জাদুর প্রভাবে মানুষ মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। জাদুর প্রভাবে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ইবনু কুদামাহ রহ. তাঁর কথার স্বপক্ষে কুরআন-হাদীস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। ৩

৪. ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, সূরা ফালাকের 'ওয়া মিন শাররিন নাফফাসাতি' আয়াত এবং আয়িশা রা.-এর হাদীস দ্বারা প্রমাণ হয়, জাদু নিঃসন্দেহে সত্য। ৪

৫. ইমাম রাযী রহ. জাদুর ৭ ভাগ উল্লেখ করে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ইবনু কাসীর রহ. সেটা উদ্ধৃত করে পর্যালোচনা করেছেন। ৫ এছাড়া উল্লিখিত ১০২ নম্বর আয়াতের আলোচনায় তাফসীরে কাবীরে ইমাম রাজি রহ. জাদু বিষয়ে সুদীর্ঘ আলোচনা করেছেন। আগ্রহীরা সেটি অধ্যয়ন করতে পারেন।

৬. ইমাম রাগেব ইস্পাহানী রহ. জadুকে ৪ ভাগে ভাগ করে ব্যাখ্যা করেছেন। ৬

৭. ইমাম খাত্তাবী রহ. জাদুর পক্ষে কিছু দলিল-প্রমাণ উল্লেখ করার পর বলেন, 'জাদু বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এমন আরও অনেক বর্ণনা এসেছে, যা একমাত্র বাস্তবতা অস্বীকারকারী ব্যতীত কেউ অস্বীকার করে না। আর ইসলামী ফিকাহবিদগণও জাদুকরের শাস্তির ব্যাপারে আলোকপাত করেছেন। যে বিধানের ভিত্তি নেই, তা এরূপ চর্চিত হওয়া এবং তা এতটা প্রসিদ্ধ হওয়ার কথা নয়। সুতরাং জাদুর অস্তিত্বকে অস্বীকার করা একটি অজ্ঞতা, আর জাদু অস্বীকারকারীদের আপত্তি একটি অনর্থক বিষয়। ৭

টিকাঃ
১. তাফসীরে কুরতুবী: ২/৪৭ দ্রষ্টব্য
২. ফাতহুল বারী: ১০/২২২
৩. আল-মুগনী: ১০/১০৬
৪. বাদাইউল ফাওয়ায়েদ: ২/২২৭
৫. তাফসীরে ইবনু কাসীর, সূরা বাকারা: ১০২-৩ নম্বর আয়াতের আলোচনা দ্রষ্টব্য।
৬. আল-মুফরাদাত, 'সিহর' মাদ্দাহ দ্রষ্টব্য।
৭. শারহুস সুন্নাহ: ১২/১৮৮

📘 রুকইয়াহ > 📄 জাদুর প্রকারভেদ

📄 জাদুর প্রকারভেদ


নানা ধরনের জাদু রয়েছে। সালাফে সালেহীনের মাঝে অনেকে জাদুর প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। সালাফের অনেক মুহাদ্দিস এবং মুফাসসির বিভিন্ন প্রকার জাদুর স্বরূপ বর্ণনা করে সাথে চিকিৎসাও বাতলে দিয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে আলোচনার আগে একটি সতর্কবার্তা দিতে চাই, জাদু কীভাবে করা হয়, জাদুর রকমফের ইত্যাদি এখানে আলোচনা করা হচ্ছে—শুধুই জাদু থেকে বাঁচার জন্য, মানুষের চিকিৎসার জন্য, সমাজকে কুফরের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নেওয়ার জন্য। কেউ যদি এর অপব্যবহার করেন, তবে এর দায় সম্পূর্ণ তার নিজের।

প্রাথমিকভাবে সমাজে প্রচলিত জাদুকে আমরা তিনভাগে ভাগ করব-

১. যেসব জাদুতে পরোক্ষভাবে শয়তানের সহায়তা নেওয়া হয়।
এসব জাদু মূলত আল্লাহর সৃষ্টির কিছু গোপন রহস্যের অপব্যবহার। অন্য কথায় প্রকৃতির নিয়মের মাঝে ওলটপালট করে এই জাদু করা হয়। মানুষেরা এসবের অধিকাংশই শিখেছে শয়তানদের থেকে। আর কিছু পেয়েছে বিভিন্ন যুগের মানুষদের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা থেকে। এই জাদুগুলোতে সাধারণত সরাসরি জিনের সহায়তা নেওয়া আবশ্যক হয় না।
উদাহরস্বরুপ, জাদুর পানীয় বা Magical Potion এর কথা বলা যায়। বিভিন্ন অদ্ভুত বস্তুর সমন্বয়ে এসব পানীয় তৈরি করা হয় (যেমন: ইঁদুরের পা, দাঁড়কাকের পাখা, বাচ্চা শিশুর কবরের মাটি, বজ্রের আঘাতে নিহত ব্যক্তির হাড্ডি, বিশেষ কোনো গাছের শেকড় ইত্যাদি)। কখনো এগুলোর সাথে বিশেষ মন্ত্রও পড়া হয়।

২. যেসব জাদুর সাথে জিন-শয়তান সরাসরি জড়িত থাকে।
এক্ষেত্রে কখনো জিনের ওপর জাদু করে তাকে ভিকটিমের মাঝে বন্দি করে দেওয়া হয়। আবার কখনও জিনকে হত্যা করার ভয় দেখিয়ে বা জিনের পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে জাদুকরের নির্দেশ মানতে বাধ্য করা হয়।
সাধারণত জাদুকররা কোনো শক্তিশালী জিন বা শয়তানের পূজা করে। তার সন্তুষ্টির জন্য বড় বড় গুনাহ করে। যেমন: কুরআন অবমাননা করা, কোনো মাহরামের সাথে যিনা করা, বিশেষ কোনো প্রাণীর রক্ত পান করা, নিজের মলমূত্র ভক্ষণ করা ইত্যাদি। তারা শয়তানের নামে কোরবানি করে, শয়তানকে সেজদা করে, দীর্ঘদিন ময়লা আবর্জনার মধ্যে বাস করে, গোসল করা থেকে বিরত থাকে। এভাবে শয়তানকে সন্তুষ্ট করে জাদুকরের খাতায় নাম লেখায়, যাকে বাংলা সাহিত্যে 'মন্ত্রসাধন করা' বলা হতো। এরপর যখন প্রয়োজনে জাদুকর সাহায্য প্রার্থনা করে তখন শয়তান তার কোনো সঙ্গী বা দুর্বল কোনো জিনকে পাঠায় জাদুকরের কাজ করতে। এক্ষেত্রে কিছু জিনকে পরিবারের ক্ষতি করার ব্যাপারে ভয় দেখানো হয়, কাউকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে কাজ করানো হয়।
এ কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যদি জিনের মাধ্যমে জাদু করা হয় তখন জিন সহজে যেতে চায় না। সে ভয় পায় যে, রোগীকে ছেড়ে দিলে জাদুকর বা বড় শয়তান তার ক্ষতি করবে। এসব ক্ষেত্রে তাকে অভয় দিতে হয়। মুসলিম জিন হলে আয়াতুল কুরসী অথবা সূরা ইখলাস, ফালাক, নাসের ফজিলত সম্পর্কে জানাতে হয়।

৩. হাতের কারসাজি, কোনো যন্ত্র বা রাসায়নিক পদার্থের সাহায্যে ভেল্কি দেখানো।
এগুলো আক্ষরিক অর্থে জাদু। যদিও-বা এসব আসল জাদু নয়; তবুও এটা অবৈধ। এর কারণ হচ্ছে—প্রথমত: এটা ধোঁকাবাজি হেতু হারাম। দ্বিতীয়ত: যারা এগুলোর চর্চা করে, তাদের অধিকাংশই আস্তে আস্তে শয়তানী জাদুচর্চায় জড়িয়ে যায়। আর আল্লাহ বলেছেন— 'হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।' ১ এজন্য সবধরনের জাদু থেকে দূরে থাকতে হবে—আসল হোক বা নকল।

কর্মপদ্ধতির দিক থেকে জাদুকে ৭ ভাগে ভাগ করা যায়:

১. যাকে জাদু করা হবে, তার ব্যবহৃত কোনো কাপড় অথবা শরীরের কোনো অংশ (যেমন: চুল, নখ ইত্যাদি) কোনো গাছের ডাল, পুতুল বা এরকম কিছুতে রেখে জাদু করা হয়।
২. কখনো শুধু মন্ত্র পড়ে বা বিশেষ পদ্ধতিতে ধ্যান করে জাদু করা হয়।
৩. কখনো খাদ্যদ্রব্য অথবা পানীয়তে মন্ত্র পড়ে ফুঁ দেওয়া হয় কিংবা বিশেষ পদ্ধতিতে জাদুর পানীয় তৈরি করা হয়। সেটা কেউ খেলে বা পান করলে জাদু-আক্রান্ত হয়ে যায়।
৪. কোনো ব্যবহারের জিনিস না পেলে বা কিছু খাওয়ানো সম্ভব না হলে, মন্ত্র পড়া পানি বাড়ির সামনে ফেলে যায়। যাকে উদ্দেশ্য করে জাদু করা হয়েছে, সে ওই পানির ওপর দিয়ে হেঁটে গেলে জাদুতে আক্রান্ত হয়ে যায়।
৫. কখনো জাদুকর নিজে পারে না, এজন্য জিন-শয়তানের সাহায্য চায়, তখন শয়তান জাদু করে। আবার অনেক সময় জিনের মাধ্যমে ভিকটিমের কাপড় বা ব্যবহারের কিছু চুরি করিয়ে জাদু করা হয়।
৬. মানুষ এবং জিনের ওপর জাদু করা হয়, এরপর জাদুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে জিনকে বন্দি করে দেওয়া হয়। জাদু নষ্ট হওয়া পর্যন্ত জিন চাইলেও বের হতে পারে না।
৭. কখনো একজন ব্যক্তিকে উল্লিখিত একাধিক পদ্ধতিতে একাধিক জাদু করা হয়।

প্রসঙ্গক্রমে একটা বিষয় উল্লেখ করা যায়, জাদু করার পর জাদুর জিনিসগুলো লুকিয়ে রাখা হয়, যেন সহজে খুঁজে না পাওয়া যায় আর ধ্বংস করা না যায়। এক্ষেত্রে জাদুকররা সাধারণত যাকে জাদু করা হবে, তার নাম এবং তার মায়ের নাম জেনে নেয়। এরপর এই নামকে বিশেষ পদ্ধতিতে নকশায় লিখে নামের সাথে বাতাস, মাটি, পানি, আগুন— এসবের মাঝে যেটার মিল পায়, সেটার মধ্যে জাদুর জিনিস লুকিয়ে বা ঝুলিয়ে রাখে। (আগুনের ক্ষেত্রে কখনো কখনো জাদুর জিনিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়)।
যেমন: আমাদের নবীজির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাম মুহাম্মাদ। তাঁর মাতার নাম আমীনা। এটার সাথে পানি (৪০)-এর মিল রয়েছে। তাই ইহুদি লাবিদ ইবনুল আসাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জাদু করার পর ওই জিনিসগুলো কূপের পানিতে ফেলেছিল। অনুরূভাবে কারও নামের সাথে হাওয়া বা বাতাসের মিল পেলে জাদুর তাবীজ পাখির সাথে বা কোনো গাছের উঁচু ডালে বেঁধে রাখে। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।

তবে জাদু সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা হচ্ছে, এটা আলাদিনের চেরাগের মতো কিছু; ঘষা দিলেই যা খুশি পাওয়া যায়। বিভিন্ন সিনেমা, নাটক আর মিথ্যা গল্পের পিঠে চড়ে সমাজে এই ধারণা বিস্তার লাভ করেছে। এজন্য বস্তুবাদী সমাজের অনেক বাসিন্দা জাদুর অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে বসে। এই ধারণা অনেক বড় ভুল।
বাস্তবতা হচ্ছে, জাদুর জন্য কাফির জাদুকরকে অনেক চেষ্টা-সাধনা করতে হয়, অনেক নোংরা এবং জঘন্য কাজ করতে হয়। গল্পের মতো চাইলেই পাওয়া যায়—বিষয়টা মোটেই এমন নয়। জাদুর অনেক সীমাবদ্ধতাও আছে। সব মিলিয়ে জাদু করার বিষয়টা এতটা সহজও নয়, নিরাপদও নয়। জাদুকর চাইলেই যে-কাউকে জাদু করতে পারে না। যাকে জাদু করা হবে, তার শরীরের অংশ লাগবে, মন্ত্রপড়া কিছু খাইয়ে দিতে হবে। এরপর জাদু কাজ করবে। সাথে সাথে জাদুকরকে শয়তানের কথামতো বলিদান বা অন্য কোনো উৎসর্গমূলক কাজ করতে হবে। বড় কাউকে জাদু করতে চাইলে তখন শয়তানের দাবিও থাকে অনেক বড়। এরপর শয়তান সন্তুষ্ট হলে কিছু কাজ করবে, না হলে করবে না। অথবা শয়তান ধোঁকাও দিতে পারে, এমন হলো যে, তখন সে কোনো কাজই আর করে দিলো না।
হ্যাঁ, কোনো বস্তু বা সিম্বল না নিয়ে, জিনের সাহায্য ছাড়া শুধু মন্ত্র পড়েও জাদু করা যায়। তবে সাধারণত সেগুলো তেমন শক্তিশালী হয় না।

টিকাঃ
১. সূরা নুর, আয়াত: ২১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00