📄 রুকইয়াহ করার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলানো
অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে রুকইয়াহ করলে তেমন কোনো কষ্ট হয় না। রুকইয়াহ চলাকালীন কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অথবা অল্প স্বল্প কষ্ট হলেও রুকইয়াহ শেষে দ্রুতই সামলে নেওয়া যায়। তবে অনেকের আবার বেশ ধকল যায়। কেউ এতটা ক্লান্ত হয়ে পড়েন যে, তখন আর রুকইয়াহ সেন্টার বা রাক্বীর বাসা থেকে নিজের ঘরে ফিরে যাওয়ার মতো অবস্থা থাকে না। নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় এমন হয় যে, তারা সেলফ রুকইয়াহ করে এতটাই ক্লান্ত হয়ে যান যে, পরিবারের জন্য রান্নাবান্না পর্যন্ত আর করতে পারেন না।
এরকম সবসময়ই যে হয়, তা নয়। তবে কখনো কখনো এমন হয়ে থাকে। আর যদি আপনার ক্ষেত্রে বিষয়টা এভাবে ঘটে থাকে, প্রথমে তিন-চারদিন খুব কষ্ট হল, এরপর ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে তাহলে এতে ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু যদি দেড়-দুই সপ্তাহ পরেও সমস্যা নিজ অবস্থায়ই বহাল থাকে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আগের মতই প্রকাশ পেতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে, আপনার নিজের অথবা আপনার রুকইয়াহ করার পদ্ধতিতে বোধ হয় কোনো সমস্যা রয়েছে। তাই এ ধরণের পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ কারও সাথে কথা বলুন।
রুকইয়াহ করার পর প্রতিক্রিয়া সামলে নিতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা উচিত:
১. সময় দেওয়া। আপনি যদি রাক্কী হন তবে রুকইয়াহ করার পর রোগীকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে দিন। অবস্থা বিবেচনায় এটা ১০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।
২. রুকইয়ার পর ওযু করতে বা হাত-মুখ ধুয়ে আসতে বলুন। এতে অনেক হালকা বোধ হয়।
৩. প্রস্রাব-পায়খানা করা। অনেক সময় শরীরের ভেতরের খারাপ বস্তু রুকইয়ার পর টয়লেটে গেলে বের হয়ে যায়।
৪. আরেকটি কাজ করা যেতে পারে, তাৎক্ষণিক সুস্থতার নিয়তে সূরা ফাতিহা এবং আয়াতে শিফা তিনবার করে পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে খেয়ে নেওয়া। ইনশাআল্লাহ এতে অনেকটা ভালো লাগবে। প্রসিদ্ধ আয়াতে শিফাগুলো গ্রন্থের শেষে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
৫. রুকইয়ার গোসল করা। এটা খুব উপকারি। বলা যায়, এক্ষেত্রে সেরা সমাধান এটাই। বিশেষত রুকইয়াহ করতে গিয়ে অনেকের মাথাব্যথা, হাত-পা ব্যথা কিংবা পুরো শরীর ব্যথা হয়। কেউ কেউ অনেক দূর্বল হয়ে যান। এক্ষেত্রে রুকইয়াহ শেষে (সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, ইখলাস, ফালাক, নাস-৩ বার করে পড়ে পানিতে ফু দিয়ে অথবা অন্য যেকোন পদ্ধতিতে) রুকইয়ার গোসল করে নেওয়া উচিত। আল্লাহ চাইলে এতে যথেষ্ট আরাম পাওয়া যাবে।
জিনের রোগীর ক্ষেত্রে যদি কখনো কয়েকদিন রুকইয়াহ করা লাগে তাহলে প্রতিদিনের রুকইয়াহ শেষে রুকইয়ার গোসল করানো উচিত।
রোগের কারণে দূর্বলতা তো আছেই, এরপর আবার রুকইয়াহ করার ধকল, সব মিলিয়ে লাগাতার অনেকদিন রুকইয়াহ করলে সবারই শরীর দূর্বল হয়ে যায়। তাই এই দিনগুলোতে নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। তবে খাবার সময় অবশ্যই বিসমিল্লাহ বলবেন।
স্মতব্য যে, রুকইয়ার কারণে যদি শরীরে বা মাথায় ব্যথা হয়, তাহলে এজন্য ব্যথার ওষুধ খাবেন না। এর মন্দ প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
যদি বমি বমি ভাব আসে তাহলে আটকানোর চেষ্টা না করে বমি করার চেষ্টা করুন, পেটের মধ্যে খারাপ কিছু থাকলে যদি বমির সাথে বেরিয়ে আসে তাহলে আপনারই ভালো। মোট কথা, রুকইয়ার ইফেক্টের সাথে শরীরের খারাপ বিষয়গুলো বের হয়ে যায়, তাই এগুলোকে যেতে দিন। আর প্রয়োজনে ওপরে বলা কোন পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
তবে হ্যাঁ, সমস্যার মাত্রা বেশি মনে হলে তখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন। যেমন: জিনের রোগীর ওপর রুকইয়াহ করা হলো, এরপর রোগী ১০-১৫ মিনিট বেহুঁশ ছিল, তারপর জ্ঞান ফিরেছে। ঘটনা এ পর্যন্তই। এক্ষেত্রে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু যদি দেখেন কয়েক ঘন্টা হয়ে গেছে, মুখে অনেকব দেয়া হয়েছে, তবুও জ্ঞান ফিরছে না, তখন ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অনুরূপভাবে বমি হওয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা। এক-দুইবার রক্ত বমি হয়েছে অথবা রুকইয়াহ চলাকালীন বমি বমি লেগেছে। এরপর ঠাণ্ডা। তাহলে ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু যদি দেখেন ৫-৭ ঘণ্টা হয়ে গেছে, ১০-১২ বার রক্ত বমি হয়েছে, তবুও থামছে না, এমতাবস্থায় দ্রুত ডাক্তারের সহায়তা নিন।
কারও কারও ক্ষেত্রে শরীর থেকে একাধিক শয়তান বের হয়ে যাওয়ার সময় একটা একটা করে যেতে চায়, তাই এমন ক্ষেত্রে ধাক্কা সামলে নিতে কিছুটা দেরি লাগতে পারে। অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত。