📘 রূহের রহস্য > 📄 মৃত্যুর পর রূহের পরস্পর সাক্ষাৎ ও আলাপ আলোচনা হয় কিনা

📄 মৃত্যুর পর রূহের পরস্পর সাক্ষাৎ ও আলাপ আলোচনা হয় কিনা


এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, রূহ দু'প্রকারের- সিজ্জীনবাসী ও ইল্লিয়্যীনবাসী। সিজ্জীনবাসী রূহ শাস্তি পায়। এদের পরস্পরে দেখা সাক্ষাতের সুযোগ কোথায়? কিন্তু যেসব রূহ শান্তি লাভ করেছে ও স্বাধীন, তারা পরস্পর মেলামেশা করে। আর দুনিয়ায় থাকাবস্থায় যেসব ঘটনা ঘটেছিলো, তারা সেগুলোও স্মরণ করে। এছাড়া ঐসব ঘটনাবলী নিয়েও তাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হয়, যেসব ঘটনা দুনিয়াবাসীদের সম্মুখে ঘটে থাকে। রূহ সম্পর্কে এটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রত্যেক রূহ নিজের সঙ্গী-সাথী ও বিশেষ আমলকারী রূহের সাথে মেলামেশা করে থাকে। এই কারণেই হুযুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহ মুবারক 'রফীকে 'আলার' মধ্যে অবস্থান করছে। আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও আল্লাহর রাসূলের অনুসরণ করবে, সে ব্যক্তি তাঁদের সঙ্গে থাকবে যাঁদেরকে আল্লাহ্ (তা'আলা) নি'আমত দান করেছেন। আর তাঁরা হলেন- নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও নেককার বান্দাগণ, এঁরা কতোই না উত্তম সাথী। আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা এক বিশেষ অনুগ্রহ এবং সর্বজ্ঞ হিসেবে আল্লাহ যথেষ্ট।” (সূরা নিসা, আয়াত: ৬৯-৭০)

দুনিয়া, বরযখ ও আলমে আখিরাত- এই তিনটি স্থানে মানুষ আপনজন ও বন্ধু বান্ধবদের সাথে মিলেমিশে অবস্থান করে। এই প্রসঙ্গে হযরত মাসরূক (র) থেকে বর্ণিত: সাহাবাগণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরয করলেন, দুনিয়ায় এক মুহূর্তও আপনার নিকট থেকে দূরে থাকা আমাদের সহনীয় নয়। কিন্তু দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার পর আপনার অবস্থান হবে অনেক ঊর্ধ্বে আর আমরা আপনার দীদারের জন্য লালায়িত থাকবো। উপরোক্ত আয়াতটি সেই প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছিলো।

হযরত শা'বী (র) বলেন, একদিন একজন আনসার কাঁদতে কাঁদতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে হাযির হন। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কাঁদছো কেন?” তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যিনি ছাড়া আর কেউ ইবাদতের যোগ্য নন তাঁর কসম, আপনি আমার পরিবার পরিজন ও ধন সম্পদ থেকেও প্রিয়। যখন আপনার কথা ঘরে থাকাকালীন সময়ে মনে পড়ে, তখন আপনাকে না দেখে আমার শান্তি হয় না। তারপর আমার ও আপনার ইনতেকালের কথা স্মরণ হয়, তখন আমি চিন্তা করি, দুনিয়াতে তো আপনার সাহচর্য লাভ করে থাকি, কিন্তু আপনার ইনতেকালের পর আপনি তো নবীদের সাহচর্যে চলে যাবেন, আর আমি যদি জান্নাতবাসীও হই, তবুও আপনার চেয়ে নীচে থাকবে আমার স্থান। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথার কোন উত্তর দিলেন না। পরক্ষণেই পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটি নাযিল হলো, "আর যে কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের হুকুম মান্য করবে, সে তাঁদের সঙ্গে থাকবে, যাদেরকে আল্লাহ নি'আমত দান করেছেন। আর তাঁরা হলেন- নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও নেককার বান্দাগণ এবং এরা কতোই না উত্তম সঙ্গী। এটা আল্লাহর মহা অনুগ্রহ। আর সর্বজ্ঞ হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।” (সূরা নিসা, আয়াত: ৬৯-৭০)

আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্র কুরআনে আরো ইরশাদ করেছেন, "হে পরিতৃপ্ত চিত্ত, তুমি তোমার রবের নিকট ফিরে এসো, সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। আমার বান্দদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।" (সূরা আল ফাজর, আয়াত: ২৭-৩০)

অর্থাৎ আমার পরিতৃপ্ত বান্দদের সাথে তুমি মিলিত হও এবং তাদের সাথে অবস্থান করো। এই একই কথা মৃত্যুর সময়েও রূহকে বলা হয়।

মি'রাজ শরীফের ঘটনায় উল্লেখ আছে, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ইবরাহীম (আ), হযরত মূসা (আ) ও হযরত ঈসা (আ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং কিছুক্ষণ তাঁদের মধ্যে আলাপ-আলোচনাও হয়েছিলো। প্রথমে তিনি হযরত ইবরাহিম (আ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কিয়ামত কবে হবে? কিন্তু এ বিষয়ে তিনি কোন কিছু বলতে পারেননি। তারপর হযরত মূসা (আ)-কেও এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনিও এ সম্বন্ধে কোন কিছু বলতে পারেননি। তারপর হযরত ঈসা (আ)-কেও একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন, আল্লাহ তা'আলা আমার সঙ্গে একটি ওয়াদা করেছেন- কিয়ামতের আগে দাজ্জাল বের হবে আর আল্লাহ তা'আলা আমাকে আবার দুনিয়াতে পাঠাবেন। আমি আসমান থেকে অবতরণ করবো, দাজ্জাল আমার হাতে নিহত হবে। জনগণ আবার তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে। কিন্তু এর পর ইয়াজুজ-মাজুজের দল পাহাড় থেকে নেমে আসবে, এরা সাগরের পানি পান করে নিঃশেষ করে দেবে। সেই অবস্থায় জনগণ আমার নিকট এসে অভিযোগ করবে ও সাহায্যপ্রার্থী হবে। সে সময় আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট এদেরকে ধ্বংস করার জন্য প্রার্থনা করবো। আল্লাহ পাক এদেরকে মেরে ফেলবেন। যমীন এদের মৃতদেহের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে আবেদন করবে। অবশেষে আমি আল্লাহর কাছে দু'আ করবো। এরপর আল্লাহ তা'আলা প্রবল বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। এতে এদের মৃতদেহ সমুদ্রে ভেসে যাবে। তারপর পর্বতমালাকে উড়িয়ে দেয়া হবে আর যমীনকে চামড়ার মতো গুটিয়ে ফেলা হবে। আল্লাহ তা'আলা আমার সাথে এই ওয়াদাই করেছেন। যখন এরূপ অবস্থা সৃষ্টি হবে তখন কিয়ামত এতোই নিকটবর্তী হবে যে, তখনকার অবস্থাকে একজন পূর্ণ গর্ভবতী মহিলার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ যে কোন মুহূর্তে সে মহিলা সন্তান প্রসব করতে পারে। উক্ত হাদীস শরীফটি রূহের একত্রিত হওয়ার এবং তাদের মধ্যে জ্ঞানগর্ভ আলোচনার একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।

আল্লাহ তা'আলা শহীদদের সম্পর্কে বলেছেন: “যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে কখনো মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত এবং তাদের রবের নিকট থেকে তারা জীবিকা প্রাপ্ত। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তাতে তারা আনন্দিত এবং তাদের পিছনে যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি তাদের জন্য তারা আনন্দ প্রকাশ করে এজন্য যে, তাদের কোন ভয় নেই, তারা দুঃখিত হবে না। আল্লাহর অবদান ও অনুগ্রহের জন্য তারা আনন্দ প্রকাশ করে এবং এটা এ কারণে যে, আল্লাহ মুমিনদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৯-১৭১)

উপরোক্ত আলোচনা থেকে রূহের পরস্পর মেলামেশার তিন প্রকারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এক- যেহেতু রূহকে রিযক দেয়া হয় এবং এঁরা জীবিত, তাই তাঁরা পরস্পর মেলামেশা করে। দুই- আপন ভাইদের আগমন ও সাক্ষাতের দরুন তারা আনন্দিত হয়। অর্থাৎ একে অপরকে শুভ সংবাদ দান করাকে বুঝায়। বহু লোকের পারস্পরিক স্বপ্ন দ্বারাও এ বিষয়টি প্রমাণিত আছে।

এ প্রসঙ্গে হযরত আতা সালামী (র) এর ঘটনাটি উল্লেখ করা যেতে পারে। হযরত সালিহ ইবনে বশীর বসরী (র) থেকে বর্ণিত, আমি হযরত আতা সালামী (রা)-কে স্বপ্নে দেখে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "আল্লাহ তা'আলা আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি দুনিয়াতে অত্যন্ত চিন্তিত অবস্থায় থাকতেন। তিনি উত্তর দিলেন, "আল্লাহর শপথ, এখন আমি অশেষ আনন্দ ও তৃপ্তির মধ্যে আছি। আল্লাহ তা'আলা সেই চিন্তা ও পেরেশানী থেকে মুক্ত করেছেন।” আমি আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার অবস্থান এখন কোথায়? তিনি বললেন, "আমি আম্বিয়া, সিদ্দীকীন, শুহাদা আর সালিহীনদের সঙ্গে আছি।"

হযরত সুফাইয়ান সওরী (রা)-এর স্বপ্নের একটি ঘটনা নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

একদিন হযরত ইবনুল মুবারক (রা) হযরত সুফাইয়ান সওরী (রা)-কে স্বপ্নে দেখে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ তা'আলা আপনার সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন? তিনি উত্তরে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর মহান সঙ্গী সাথীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আমার সৌভাগ্য হয়েছে। হযরত ইবনুল মুবারক (রা)-এর ইনতেকালের পর হযরত সাখার ইবনে রাশিদ (রা) একদিন তাঁকে স্বপ্নে দেখলেন। তিনি ইবনুল মুবারক (রা)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কি ইনতেকাল হয়নি? তিনি বললেন, কেন নয়? অবশ্যই। আমি আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ তা'আলা আপনার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেছেন? তিনি বললেন, তিনি আমাকে বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন এবং আমার সকল গুনাহ মাফ হয়ে গেছে। তাঁকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ তা'আলা হযরত সুফাইয়ান সওরী (রা)-এর সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, মারহাবা! তিনি তো আম্বিয়া, সিদ্দীকীন, শুহাদা ও সালিহীনদের সাথে আছেন।

ইবনে আবিদ্দুনিয়ার আসল নাম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ। তিনি ২৮১ হিজরীতে ইনতেকাল করেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, একবার ইয়াকযা বিনতে রাশিদা (রা), হযরত মারওয়ান মাহমিলী (রা)-কে স্বপ্নে দেখলেন। এই মহিলা তাঁর একজন প্রতিবেশিনী ছিলেন। মারওয়ান মাহমিলী (রা) একজন কাযী ও বিশিষ্ট ফকীহ ছিলেন। তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ইনতেকালে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিলেন। একবার উক্ত মহিলাটি তাঁকে স্বপ্নে দেখলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, আপনি মেহেরবানী করে বলুন, আপনার অবস্থা এখন কেমন? তিনি বললেন, "আল্লাহ তা'আলা আমাকে বেহেশত দান করেছেন।” আমি আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কোন কোন প্রিয়জনের সাক্ষাৎ পেয়েছেন? তিনি বললেন, "আমি হযরত হাসান বসরী (র), হযরত ইবনে সীরীন (র) এবং হযরত মাইমূন ইবনে সিয়াহ্ (র) প্রমুখের সাক্ষাৎ পেয়েছি।

হযরত উম্মে আবদুল্লাহ (রা) বসরা নগরীর শ্রেষ্ঠ রমণীদের অন্যতম ছিলেন। তিনি একদিন স্বপ্নে দেখলেন, তিনি যেন একটি সুন্দর গৃহে প্রবেশ করেছেন এবং একটি অতি মনোরম বাগানের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর তিনি সেখানে একজন লোককে দেখতে পেলেন, যিনি স্বর্ণের সিংহাসনে আরামে হেলান দিয়ে উপবিষ্ট আছেন। তাঁর চারদিকে পেয়ালা হাতে খাদেমরা দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর এই রাজসিক অবস্থা দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। এই অবস্থায় হঠাৎ ঘোষণা করা হলো, হযরত মারওয়ান মাহমিলী আসছেন। ঘোষণা শোনামাত্র স্বর্ণ সিংহাসনে উপবিষ্ট ব্যক্তি সোজা হয়ে বসলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আমার ঘুম ভেঙে গেলো এবং আমি দেখতে পেলাম, আমার ঘরের পাশ দিয়ে হযরত মারওয়ানের লাশ বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বহু সহীহ হাদীসের মাধ্যমেও রূহের পরস্পর দেখা-সাক্ষাৎ ও পরিচয় এবং পরিচিতির অনেক প্রমাণ রয়েছে।

হযরত আবূ লাবীবাহ (রা) থেকে বর্ণিত: হযরত বাশার ইবনে মারুর (রা)-এর মৃত্যু হলে তাঁর মা উম্মে বাশার ভীষণভাবে মর্মাহত হলেন। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র খিদমতে আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, বাশার ইবনে মারুরের বংশের অনেক লোক মৃত্যুবরণ করেছেন, মৃতেরা কি একে অপরকে দেখতে পান ও সাক্ষাৎ লাভ করেন? যদি তা হয়ে থাকে, তাহলে আমি তাদেরকে আমার সালাম জানাবো। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ, উম্মে বাশার, আল্লাহর শপথ, মৃতেরা একে অপরকে চিনতে পারে। এ ঘটনার পর সালমা গোত্রের কেউ মারা গেলে উম্মে বাশার তাঁর কবরের কাছে গিয়ে সালাম পেশ করে বলতেন, হে কবরবাসী, তুমি আমার ছেলে বাশারের নিকট আমার সালাম পৌঁছে দিও।

হযরত উবায়েদ ইবনে উমায়ের (রা) কর্তৃক বর্ণিত: একজন মৃত ব্যক্তির রূহ দুনিয়ার সংবাদের অপেক্ষায় থাকে, তাঁদের কাছে কোন সদ্য মৃত ব্যক্তির রূহ আসলে তাকে তাঁরা জিজ্ঞেস করেন, অমুক অমুকের অবস্থা কেমন? মৃত ব্যক্তির রূহ তখন বলে, সব ঠিক আছে। আর যদি সে ব্যক্তি মারা গিয়ে থাকেন তাহলে বলে, তিনি কি তোমাদের নিকট আসেননি? এঁরা বলেন, "না"। তখন রূহ "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পড়েন আর বলেন, তাঁকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আমাদের পথে আনা হয়নি।

এই প্রসঙ্গে হযরত সালিহ মারযী (রা) বলেন: আমি জানতে পেরেছি যে, মৃত্যুর সময় রূহেরা পরস্পর সাক্ষাৎ করে। আর আগন্তুক রূহদের জিজ্ঞেস করা হয় তোমাদের স্থান ছিলো কোথায়? তোমরা উত্তম দেহে ছিলে না মন্দ দেহে। এই অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে সালিহ (র)-এর শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।

হযরত উবায়েদ ইবনে উমায়ের (র) কর্তৃক বর্ণিত: পূর্বে যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের রূহ সদ্য মৃত ব্যক্তিদের রূহকে অভ্যর্থনা জানান এবং এদের নিকট তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের খবরাখবর জিজ্ঞেস করেন, যেমনিভাবে দূরের মুসাফির আপনজনদের খবর নতুন আগন্তুকের নিকট জিজ্ঞেস করে থাকেন- অমুক অমুক কেমন আছেন? যদি আগন্তুক রূহ বলেন, তিনি তো মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তির রূহ এঁদের কাছে না আসলে তারা বলে থাকেন, ওকে কি তাহলে হাবিয়া দোযখে পৌঁছিয়ে দেয়া হয়েছে?

হযরত সায়ীদ ইবনে মুসাইয়িব (র) কর্তৃক বর্ণিত: যখন কোন ব্যক্তির মৃত্যু হয়, তখন তার মৃত আত্মীয় স্বজনেরা তাকে অভ্যর্থনা জানায়, যেমন একজন অনুপস্থিত ব্যক্তি হঠাৎ উপস্থিত হলে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। উল্লেখ্য যে, হযরত উবায়েদ ইবনে উমায়ের (র) বলেছেন, আমি যদি আমার মৃত পরিবার পরিজনদের রূহের সাক্ষাৎ স্বপ্নযোগে না পেতাম, তাহলে এটা আমার জন্য চরম শোকের কারণ হতো এবং এটা আমার মৃত্যুরও কারণ হতো।

হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রা) বর্ণনা করেছেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মুমিন বান্দার রূহ কবয হওয়ার পর তাঁর রূহকে আল্লাহর নিকটস্থ রহমতের ফেরেশতাগণ এবং অন্যান্য পবিত্র রূহেরা এমনিভাবে সম্বর্ধনা জানান যেমনিভাবে দুনিয়াতে কোন শুভ সংবাদদাতাকে সম্বর্ধনা জানানো হয়। আর তারা বলেন, আগন্তুক রূহকে এখন একটু বিশ্রাম করতে দিন। কেননা এই রূহ খুব অশান্তির মধ্যে ছিলো। পরে সেই রূহকে বিভিন্ন লোকের নাম উল্লেখ করে জিজ্ঞেস করা হয়, তাঁরা কেমন আছেন? অমুক মেয়ের কি বিবাহ হয়েছে? তারপর এর আগে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের কথাও তাঁরা জিজ্ঞেস করেন। এই রূহ তখন উত্তর দেয়, আমার আগে তাঁর মৃত্যু হয়ে গিয়েছে। তখন এঁরা "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন” পড়েন ও বলেন তাহলে কি তার রূহকেও হাবিয়া দোযখে নিয়ে যাওয়া হয়েছে? দোযখ যেমনি একটি নিকৃষ্ট স্থান তেমনি সেখানে যাকে পাঠানো হয়, সেও নিকৃষ্ট।

হযরত ইয়াহইয়া ইবনে বিস্তাম (র)-এর বর্ণিত একটি হাদীসে উল্লেখ আছে। তিনি বলেন, হযরত মুসামি ইবনে আসিম (র) আমাকে বলেছেন, আমি হযরত আসিম জাহদারী (র)-কে তাঁর ইনতেকালের দু'বছর পর স্বপ্নে দেখে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি এখন কোথায় আছেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, আমি জান্নাতের একটি উদ্যানে আছি। আমি এবং আমার একদল বন্ধু প্রতি শুক্রবার রাতে ও সকালে হযরত বকর ইবনে মুযনী (র)-এর কাছে মিলিত হই এবং তোমাদের খবরাখবর নেই। আমি বললাম, আপনারা সশরীরে মিলিত হন, না আপনাদের রূহ মিলিত হয়? তিনি বললেন, আমাদের দেহ তো ধ্বংস হয়ে গেছে, এখন আমাদের রূহই একে অন্যের সাথে মিলিত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00