📄 প্রেমকে কেন্দ্র করে মানুষের প্রকারভেদ
এক্ষেত্রে মানুষ তিন ভাগে বিভক্ত।
১. কেউ কেউ আছে, নিছক সৌন্দর্যকে ভালোবাসে। পৃথিবীর পথে ঘাটে উপত্যকায় ঘুরে বেড়ায় তাদের হৃদয়। প্রত্যেক সৌন্দর্যই তাদের লক্ষ্যবস্তু। এটা কচু-পাতার উপর টলটল পানির মতো সাময়িক প্রেম।
২. কেউ কেউ আছে, নির্দিষ্ট নারীকে ভালোবাসে। কিন্তু মিলনের আশা করে না।
৩. কেউ আছে, মিলনের আশা ছাড়া কাউকে ভালোবাসে না। প্রেমের চূড়ান্ত পরিণতিতে সে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকে। সারাজীবন সে তার প্রেমাষ্পদের সাথে সুখে-দুঃখে কাটিয়ে দিতে চায়। এই প্রেমাসক্তি সবচেয়ে শক্তিশালী। বান্দার এই প্রেম যদি হারাম থেকে মুক্ত হয়, হালাল পথে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, তবে এর সুফল সে দুনিয়া ও আখিরাতে ভোগ করে। এই প্রেমের সৌভাগ্য তাকে দুনিয়াতেই স্বর্গীয় সুখানুভূতি দান করে।
বারীরাহ দাসী ছিলেন। দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি এক গোলামের বিবাহ- বন্ধনে থাকতে অস্বীকৃতি জানালে গোলামটি বারীরাহর বিচ্ছেদ সইতে না পেরে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বারীরাহকে তার ব্যাপারে সুপারিশ করতে দরখাস্ত করলেন। নবীজি স্ত্রীর প্রেমাসক্তির এই আধিক্য দেখে আশ্চর্য প্রকাশ করেন এবং বারীরাহর নিকট তাঁর জন্য সুপারিশ করেন।[১] স্ত্রীর প্রতি স্বামীর এই প্রেম ও ভালোবাসা-নিবেদন পূর্ণ মনুষ্যত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।
পরিশেষে মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে তাওফীক কামনা করি-আমরা যেন সে সকল মুমিনের মতো হতে পারি, যাঁরা নিজেদের ভালোবাসাকে অর্পণ করতে অন্য সব কিছুর উপর প্রাধান্য দিয়েছেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে। আর মহান রবের পক্ষ থেকে অর্জন করেছেন চিরায়ত সম্মান ও সন্তুষ্টি। আমীন।
টিকাঃ
[১] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৫২৮৩