📘 রূহের খোরাক > 📄 প্রেম ও প্রেমাষ্পদের পূর্ণতায় প্রেমে আসে পূর্ণ স্বাদ

📄 প্রেম ও প্রেমাষ্পদের পূর্ণতায় প্রেমে আসে পূর্ণ স্বাদ


এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝে নেয়া অত্যন্ত জরুরি। মানুষের হৃদয় আনন্দের পূর্ণতায় পৌঁছায় দুটি বিষয়ের মাধ্যমে।
১. প্রেমাষ্পদ-সত্তার সৌন্দর্যের পূর্ণতা অনুভব করলে।
২. এরপর সবকিছু উজাড় করে প্রেমাষ্পদকে ভালোবাসতে পারলে।
সুতরাং মানুষের জন্য উচিত ভালোবাসার সর্বোচ্চ পরিতৃপ্তি লাভের চেষ্টা করা। আল্লাহ তাআলার প্রতি তার প্রেম ও ভালোবাসার সর্বোত্তম প্রকাশ ঘটানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা। আর এ ভালোবাসা এমন নয় যে, এটা হারালে শুধু পার্থিব পুলক থেকে বঞ্চিত থাকবে; বরং আখিরাতের সম্মান-মর্যাদাও তাকে খোয়াতে হবে। সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেম থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে একসময় এর জন্য অনেক বেশি আফসোস ও হতাশা নেমে আসবে বান্দার জীবনে, যার কোনো সীমা-পরিসীমা থাকবে না। যার কোনো ক্ষতিপূরণ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا - وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى
'বরং তোমরা পার্থিব জীবনকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাক। অথচ আখিরাতই উত্তম ও চিরন্তন।[১]
মহান আল্লাহর প্রতি প্রেম, ভালোবাসা আর আনুগত্যের প্রকৃত সুখ লাভ করেই ফিরআউনের যাদুকররা ঈমান এনে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ফিরআউনের হুমকি ও শাস্তির হুঁশিয়ারিকে বৃদ্ধাঙুল প্রদর্শন করে বলে উঠেছে-
فَاقْضِ مَا أَنْتَ قَاضٍ إِنَّمَا تَقْضِي هَذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا - إِنَّا آمَنَّا بِرَبِّنَا لِيَغْفِرَ لَنَا خَطَايَانَا وَمَا أَكْرَهْتَنَا عَلَيْهِ مِنَ السِّحْرِ وَاللَّهُ خَيْرٌ وَأَبْقَى
'সুতরাং তোমার যা ফায়সালা করার, করে ফেলো। তুমি তো কেবল এই পার্থিব জগতেই ফায়সালা করতে পারবে। আমরা তো ঈমান এনেছি আমাদের মহান প্রতিপালকের প্রতি। তিনি আমাদের গুনাহসমূহ মার্জনা করে দেবেন এবং ক্ষমা করে দেবেন যেই যাদুর চর্চা করতে তুমি আমাদেরকে বাধ্য করেছ সেই গর্হিত অপরাধকে। আর আল্লাহ তাআলাই হলেন সর্বোত্তম ও চিরস্থায়ী।[১]
আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, যেন আখিরাতের অনন্ত নিয়ামত আস্বাদন করাতে পারেন। যেন দান করতে পারেন জান্নাতের অভাবনীয় আনন্দ। এ মর্মেই পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে-
يَا قَوْمِ اتَّبِعُونِ أَهْدِكُمْ سَبِيلَ الرَّشَادِ - يَا قَوْمِ إِنَّمَا هَذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَإِنَّ الْآخِرَةُ هِيَ دَارُ الْقَرَارِ
'হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে অনুসরণ করো, আমি তোমাদের হিদায়াতের পথ দেখাব। হে আমার সম্প্রদায়! এই পার্থিব জীবন তো শুধু ভোগের উপকরণ। আর আখিরাতই অনন্ত বসবাসের স্থল।'[২]

টিকাঃ
[১] সূরা আলা, আয়াত-ক্রম: ১৬, ১৭
[১] সূরা তহা, আয়াত-ক্রম: ৭২, ৭৩
[২] সূরা গাফির, আয়াত-ক্রম: ৩৮, ৩৯

📘 রূহের খোরাক > 📄 পরকালে আল্লাহকে দেখা প্রসঙ্গে

📄 পরকালে আল্লাহকে দেখা প্রসঙ্গে


প্রেমিক যদি আসল প্রেমকে এভাবে বুঝতে পারে যে, প্রকৃত প্রেম আল্লাহ তাআলাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়, তাহলে তার মনে প্রবল আকাঙ্ক্ষা জাগবে আল্লাহ তাআলার পবিত্র চেহারা দর্শনের, তার কণ্ঠস্বর শোনার, তার কাছে যাবার। এটাই স্বাভাবিক। সহীহ মুসলিমে আছে-
فَوَاللَّهِ مَا أَعْطَاهُمْ شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَيْهِ
'আল্লাহর কসম! কিয়ামতের দিন তাদের জন্য সবচেয়ে বড় ও কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার হবে, আল্লাহকে দিব্যচোখে দর্শন করা।'[১]
অন্য বর্ণনায় এসেছে-
إِنَّهُ إِذَا تَجَلَّى لَهُمْ وَرَأَوْهُ؛ نَسُوا مَا هُمْ فِيهِ مِنَ النَّعِيمِ
'যখন আল্লাহ তাআলার পবিত্র চেহারা তাদের সামনে উদ্ভাসিত হবে আর তারা সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত অবলোকন করবে, তখন তারা খুশিতে আত্মহারা হয়ে আখিরাতের যাবতীয় নিয়ামতের কথা বেমালুম ভুলে যাবে।'
আম্মার ইবনু ইয়াসির নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুআর একটি অংশ বর্ণনা করেন। সেই দুআতে নবীজি প্রার্থনা করেছেন-
وَأَسْأَلُكَ اللَّهُمَّ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ الْكَرِيمِ، وَالشوْقَ إِلَى لِقَائِكَ
'আল্লাহ! আমি আপনার সম্মানিত চেহারা দর্শনের স্বাদ আস্বাদন করতে চাই, আপনার সাক্ষাৎস্পৃহার মোহ প্রার্থনা করি।'[৩]
দুনিয়ার সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, আল্লাহর পরিচয় লাভ ও তাঁকে ভালোবাসা। আর আখিরাতে সবচেয়ে সুখের বিষয় হবে, আল্লাহকে দিব্যচোখে প্রত্যক্ষ করা। এক আল্লাহ-প্রেমিক একবার বলেছিলেন, যদি রাজা-বাদশাহ ও সুলতানেরা জানত, আমরা কী সুখের মধ্যে আছি, তাহলে তরবারি দিয়ে লড়াই করে আমাদের সুখ ছিনিয়ে নিতে চাইত।'
আল্লাহ তাআলার দর্শন লাভের মুহূর্ত হবে মুমিন বান্দাদের জন্য সর্বোচ্চ আনন্দঘন মুহূর্ত। মহান রবের যে কুরআন তারা জীবনভর তিলাওয়াত করেছে, কিয়ামত-দিবসের পবিত্রতম আনন্দঘন মিলনমেলায় মহান রবের কন্ঠে সে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত হবে। মানুষ রবের তিলাওয়াত শুনে মোহগ্রস্ত হয়ে যাবে। কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণের ঘোরের মাঝে তারা অবর্ণনীয় সুখ আর আনন্দ অনুভব করবে। তারা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে ভাববে—এই কুরআন কি আমরা জীবনে কোনোদিন শুনেছি! হাদীসে বর্ণিত হয়েছে—
كَأَنَّ النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَمْ يَسْمَعُوا الْقُرْآنَ، إِذَا سَمِعُوهُ مِنَ الرَّحْمَنِ فَكَأَنَّهُمْ لَمْ يَسْمَعُوا قَبْلَ ذَلِكَ
'কিয়ামত-দিবসে মানুষের অবস্থা এমন হবে যে, তারা যেন কখনোই কুরআনের তিলাওয়াত শোনেনি। যখন তারা মহান রহমানের পবিত্র কন্ঠে কুরআনের তিলাওয়াত শুনবে, তখন তাদের মনে হবে, এই মোহনীয় সুর, এই তিলওয়াত তারা কোনোদিন শোনেইনি।' [১]
প্রেম হলো রূহের খোরাক, হৃদয়ের প্রাণ, আত্মার অমৃতজল। এই প্রেম হারালে কত না দুঃখ! সেই দুঃখের তীব্রতা বুঝতে পারবে না যে হারিয়েছে দেখার চোখ, শ্রবণের কান অথবা মুখের বাক। এর চেয়েও বড় কষ্ট আল্লাহর প্রেম হারানো। দুনিয়ার এই সর্বোচ্চ পুলক ও আনন্দ আখিরাতের সর্বোচ্চ আনন্দ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
দুনিয়ার সুখ তিন প্রকার।
১. ওই সুখ, যা মানুষকে আখিরাতের সুখ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। এই সুখ কোনো বৃথা আনন্দ নয়। এর প্রতিদান মানুষকে পরকালে দেওয়া হয়। এটা হলো আল্লাহর সাথে একজন মুমিন বান্দার প্রেম।
২. যে সুখ মানুষকে আখিরাতের সুখ থেকে বঞ্চিত করে। তারা সুখ পায় আল্লাহ ছাড়া কোনো মূর্তি বা অন্যকিছুতে। তাদের জন্য আখিরাতে আছে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি।
৩. স্বাভাবিক বৈধ সুখ। এর জন্য পরকালে তার জন্য কোনো শাস্তিও নেই, পুরস্কারও নেই। এই সুখের জীবন খুবই স্বল্প।

টিকাঃ
[১] মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ১৮১
[২] সুনানু ইবনি মাজাহ, হাদীস-ক্রম: ১৮৪; শুআইব আরনাউতের মতে, হাদীসটির সনদ দুর্বল।-আল আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ৫/১৬৮
[৩] নাসায়ী, হাদীস-ক্রম: ১৩০৫
[১] হাদীসটির সনদ যঈফ।

📘 রূহের খোরাক > 📄 প্রশংসিত প্রেম

📄 প্রশংসিত প্রেম


আল্লাহ ও রাসূলের প্রেমের কথা তো পূর্বেই গত হয়েছে। এই প্রেমের ঘোর ব্যতীত একজন মানুষ পরিপূর্ণ মুমিনই হতে পারে না। এরপরে আছে পবিত্র কুআনের প্রেম। কুরআন তিলাওয়াত করা, শ্রবণ করা, এর উপর আমল করা পবিত্র কুরআনের প্রতি প্রেমের প্রকাশক্ষেত্র। এই প্রেম মুখের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়। বক্ষ প্রশস্ত করে। হৃদয় জাগ্রত করে।
এ ছাড়াও এ প্রকারের প্রেমের মধ্যে আছে দুই বন্ধুর মাঝে ভালোবাসা। এই ভালোবাসা মনকে হালকা করে, কৃপণকে দানশীল বানায়, ভীরুকে সাহসী করে, নির্বোধকে করে তোলে মেধাবী।
এই সুখের কথাই নবীজি বলেছেন হাদীসে-
كُلٌّ لَهُو يَلْهُو بِهِ الرَّجُلُ فَهُوَ بَاطِلُ إِلَّا رَمْيَهُ بِقَوْسِهِ، وَتَأْدِيبَهُ فَرَسَهُ، وَمُلَاعَبَتَهُ امْرَأَتَهُ، فَإِنَّهُنَّ مِنَ الْحَقِّ
'মানুষের সকল আনন্দই মিছে, তবে তির নিক্ষেপ, ঘোড়া-প্রতিযোগিতা ও স্ত্রীর সাথে খুনসুটি ছাড়া। এগুলো কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।[১]

টিকাঃ
[১] তিরমিযী, হাদীস-ক্রম: ১৬৩৭

📘 রূহের খোরাক > 📄 দাম্পত্য-জীবনের প্রেম

📄 দাম্পত্য-জীবনের প্রেম


দাম্পত্য-জীবনে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক প্রেমে তিরস্কারের তো কিছু নেইই, বরং এই প্রেম না থাকলে দাম্পত্য-জীবন অপূর্ণ থেকে যায়। এটি বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ। এ মর্মে তিনি পবিত্র কুরআনে বলেছেন-
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
'তাঁর (আল্লাহর) একটি নিদর্শন হলো, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের স্ত্রী-পরিজন। যেন তোমরা তার কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করতে পার। এবং তিনি তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয় তাতে নিদর্শন রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য, যারা চিন্তা করে। [১]
জাবির সূত্রে বর্ণিত, নবীজি একবার এক নারীকে দেখলেন। তৎক্ষণাৎ যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে গিয়ে আপন প্রয়োজন পূরণ করলেন এবং বললেন-
إِنَّ الْمَرْأَةَ تُقْبِلُ فِي صُورَةٍ شَيْطَانٍ، وَتُدْبِرُ فِي صُورَةٍ شَيْطَانٍ، فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمُ امْرَأَةً فَأَعْجَبَتْهُ فَلْيَأْتِ أَهْلَهُ، فَإِنَّ ذَلِكَ يَرُدُّ مَا فِي نَفْسِهِ
'কখনো শয়তানের অবয়বে নারী সামনে আসে। শয়তানের অবয়বে ফিরে যায়। কোনো নারীকে দেখে যদি ভালো লেগে যায়, তাহলে স্ত্রীর কাছে যাও। এটা মনের ধোঁকা দূর করে দেবে।' [২]
উল্লিখিত হাদীস থেকে মানব জাতির জন্য অনেক কিছু শেখার আছে।
প্রথমত, নবীজি এ হাদীসে মানুষকে হারামভাবে-কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের বিকল্পে সমপর্যায়ের হালাল জিনিস গ্রহণের মাধ্যমে সান্ত্বনা লাভ করার পথ দেখিয়েছেন। এক খাবারের স্থলে অন্য খাবার, বা এক পোষাকের বিকল্পে অন্য পোষাক গ্রহণ করে বান্দা যেমন তার সাধ্যের মাঝে চাহিদাকে পূরণ করে, তেমনি অন্য নারীর প্রতি মুগ্ধতার চাহিদা নিজ স্ত্রীর দ্বারাও পূরণ করা যায়।
দ্বিতীয়ত, কোনো হারাম নারীর কারণে যদি পুরুষের মাঝে কামভাব জাগ্রত হয়, তাহলে সেই কামভাব পূরণের চিকিৎসার জন্য ওষুধ বাতলে দেয়া হয়েছে উক্ত হাদীসে। নিজ স্ত্রীর একান্ত সান্নিধ্য ও সহবাসের দ্বারা মানুষ তার কামভাব পূরণ করে নিজেকে গুনাহ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে। এজন্যই পরস্পরের প্রতি আসক্ত প্রেমিক-প্রেমিকাকে শরীয়ত বিয়ের প্রতি আগ্রহী করেছে-
لَمْ يُرَ لِلْمُتَحَاتِينَ مِثْلُ النِّكَاحِ
'পরস্পরের প্রতি আসক্ত দুই প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য বিয়ের চেয়ে উত্তম কোনো পথ নেই।' [১]
কেউ যদি কাউকে ভালোবেসে ফেলে, তাহলে তার শরীয়তসম্মত সর্বোত্তম ওষুধ হলো তাকে বিয়ে করে ফেলা। দাউদ আলাইহিস সালাম এই ওষুধই গ্রহণ করেছিলেন। [২]
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
حُبِّبَ إِلَيَّ مِنْ دُنْيَاكُمُ النِّسَاءُ وَالطِيبُ، وَجُعِلَتْ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ
'দুনিয়ার দুইটি জিনিস আমি ভালোবাসি। নারী ও সুগন্ধি। আর নামাযে আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে।[৩]
ইমাম আহমাদ তাঁর বিখ্যাত কিতাব আয-যুহদে উপরোক্ত হাদীসের আরেকটু অংশ উল্লেখ করেছেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
أَصْبِرُ عَنِ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ وَلَا أَصْبِرُ عَنْهُنَّ
'আমি খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে পারি, কিন্তু স্ত্রীদের ব্যাপারে না।'[১]
উম্মাহাতুল মুমিনীন নবীপত্নীদের প্রতি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রীতি ও ভালোবাসা দেখে মদীনার ইহুদীরা হিংসার অনলে জ্বলতে থাকত। আল্লাহ তাআলা তাদের ব্যাপারে আয়াত নাযিল করেন-
أَمْ يَحْسُدُونَ النَّاسَ عَلَى مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ فَقَدْ آتَيْنَا آل إِبْرَاهِيمَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَآتَيْنَاهُمْ مُلْكًا عَظِيمًا
'নাকি আল্লাহ তাআলা লোকদেরকে যে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, সে ব্যাপারে তারা তাদেরকে হিংসা করে? আর অবশ্যই আমি ইবরাহীমের বংশধরে দান করেছি আমার কিতাব ও প্রজ্ঞাজ্ঞান। এবং দান করেছি এক বিশাল রাজত্ব।'[২]
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'দুনিয়াতে কে আপনার সবচেয়ে প্রিয়?' নবীজি বললেন, 'আয়েশা।'[৩]
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আনহা'র ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তর দিলেন, 'খাদীজার ভালোবাসা আমার অন্তরে ঢেলে দেয়া হয়েছে।'[৪]
আব্বাস বলেন, 'অধিক স্ত্রীর অধিকারী ব্যক্তি হলো এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।'

টিকাঃ
[১] সূরা রুম, আয়াত-ক্রম: ২১
[২] তিরমিযী, হাদীস-ক্রম: ১১৫৮
[১] ইবনু মাজাহ, হাদীস-ক্রম: ১৫০৯
[২] দাউদ আলাইহিস সালাম বিয়ে-বহির্ভূতভাবে কোনো নারীর সাথে প্রেম করেছিলেন, এমন কথা একটি ভিত্তিহীন বর্ণনা থেকে এসেছে। কোনো কোনো মুফাসসির নিজ নিজ তাফসীরগ্রন্থে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র ছাড়াই এ সংক্রান্ত একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। ঘটনাটিতে দেখা যায়, আল্লাহর রাসূল দাউদ এক নারীর প্রতি মোহগ্রস্ত হয়ে তার বর্তমান স্বামীকে হত্যা করে তাকে বিবাহ করেন। নাউযুবিল্লাহ! এ সমস্ত ঘটনার নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র যেমন নেই, তেমনি একজন মুমিনের জন্য তা বিশ্বাস করাও মারাত্মক ধৃষ্টতা। হাফিয ইবনু কাসীর বলেন, এ সংক্রান্ত যত ঘটনা মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন তার অধিকাংশই ইসরাঈলী বর্ণনা থেকে গৃহীত। নবীজি সূত্রে সরাসরি এ বিষয়ে কোনো হাদীস বর্ণিত হয়নি। -তাফসীরু ইবনি কাসীর-৪/৭৬। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন আল্লামা রাযী রচিত আত-তাফসীরুল কাবীর, সূরা সোয়াদ, আয়াত-ক্রম: ২১-২৫-এর আলোচনায়। -সম্পাদক
[৩] নাসায়ী, হাদীস-ক্রম: ৩৯৩৯
[১] হাদীসের কোনো কিতাবে এই অংশটি পাওয়া যায় না। ইবনুল কাইয়্যিম কিতাবুয যুহদের উদ্ধৃতি দিলেও কিতাবুয যুহদের বেশ কিছু পাণ্ডুলিপিতে এই অংশটি নেই। ইমাম সুয়ূতী বলেন, কিতাবুয যুহদের মূল পাণ্ডুলিপি বেশ কয়েকবার ঘেঁটেও হাদীসটি আমি পাইনি। শুধু কিতাবুয যুহদের সংযোজিত অংশে হাদীসটি পাওয়া যায়। -ফায়যুল কাদীর-৩/৩৭০
[২] সূরা নিসা, আয়াত-ক্রম: ৫৪
[৩] তিরমিযী, হাদীস-ক্রম: ৩৮৯০
[৪] মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ২৪৩৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00