📘 রূহের খোরাক > 📄 পৃথিবী আবর্তিত হয় ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে

📄 পৃথিবী আবর্তিত হয় ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে


আসমান ও জমিনে যত ধরনের চাঞ্চল্য রয়েছে, সবকিছুর মূলে আছে ভালোবাসা। এই ভালোবাসাই চরম ও চূড়ান্ত কারণ।
কারণ, মানুষের চঞ্চলতা সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে-
. ঐচ্ছিক।
. স্বাভাবিক।
. বাধ্যগত।
স্বাভাবিক চঞ্চলতার মৌলিক ক্ষেত্র হচ্ছে-স্থিরতা। পুনর্বাসিত হওয়ার লক্ষ্যে দেহ যখন তার প্রাকৃতিক অবস্থান থেকে সরে আসে, তা স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি একজন পরিচালকের হাতে সংঘটিত হয়। আরো একটি চঞ্চলতা রয়েছে, যা চঞ্চল ব্যক্তির অনুগামী হয়। সুতরাং, এই দুই প্রকারের মধ্যেই অদৃশ্যের পরিবর্তনকারী প্রধান ভূমিকা পালন করে। আর ঐচ্ছিক চঞ্চলতা এই দুটির মৌল। ঐচ্ছিক চঞ্চলতা আবার ইচ্ছা ও ভালোবাসার অধীন। মোটকথা, ভালোবাসা সবকিছুর কেন্দ্র। চঞ্চলতার এ তিনটি প্রকারেই সীমাবদ্ধ গোটা জগত।
পৃথিবীর সবকিছুই এসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আল্লাহ তাআলা ফিরিশতাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন-
وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ لَهُ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَيْنَ ذَلِكَ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا
'পৃথিবীতে আমরা আল্লাহর নির্দেশেই অবতীর্ণ হই, আমাদের সামনে-পেছনে এবং এ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে-সবই আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি বিস্মৃত হন না।[১]
এ ছাড়াও অন্যান্য আয়াতে ফিরিশতাদের কর্মতৎপরতার বিশেষ দিকগুলো আলোচিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলার এই বিশালতম সৃষ্টির ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর পদার্থও জগতের সকল চঞ্চলতার মধ্য দিয়ে অবিনশ্বর জগতের দিকে ছুটে চলছে অবিরত।
ইরশাদ হচ্ছে-
تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا
'সাত আসমান, জমিন এবং এসবের মাঝে যা কিছু রয়েছে-সবই আল্লাহ তাআলার গুণগান গাইতে থাকে, তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। জগতের প্রতিটি সৃষ্টিই তার গুণকীর্তন করতে থাকে। অবশ্য তোমরা তাদের গুণগান অনুধাবন করতে পার না। নিশ্চয় তিনি অতি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।[১]
সুতরাং, পৃথিবীর এ চঞ্চলতা যেন আল্লাহ তাআলার ইবাদাত। যদি আল্লাহ তাআলার জন্য আনুগত্য, প্রেম, প্রীতি, ইবাদাত-স্পৃহা না থাকত, তবে এই বিশ্বজগত নিশ্চল ও নিথর হয়ে পড়ত।

টিকাঃ
[১] সূরা মারইয়াম, আয়াত-ক্রম: ৬৪
[১] সূরা ইসরা, আয়াত-ক্রম: ৪৪

📘 রূহের খোরাক > 📄 ভালোবাসা শুধু আল্লাহর জন্য

📄 ভালোবাসা শুধু আল্লাহর জন্য


উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে, ব্যক্তিভেদে সকলেরই ইচ্ছা, কর্ম ও ভালোবাসা রয়েছে। আর এসকল বিষয়ের চঞ্চলতার মূলে রয়েছে ইচ্ছা ও প্রেম। আর স্বভাবতই এসব চঞ্চলতা মূলত সৃষ্টিকর্তার জন্যে। কারণ, জগত তো তিনিই সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا
'আসমান ও জমিনে যদি আল্লাহ ছাড়া আরও প্রভু থাকত, তবে তা ধ্বংস হয়ে যেত।'[২]
কারণ, পৃথিবীতে যখন প্রভু দুইজন হবেন, প্রত্যেকে আপন ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে চেষ্টা করবেন। অন্যজনকে প্রতিহত করে নিজস্ব মতামত প্রতিষ্ঠা করতে চাইবেন। এ সময়ে একজন নতি স্বীকার করলে তাঁর অপূর্ণতা প্রকাশিত হবে। আর কেউ চায় না নিজ অপূর্ণতা প্রকাশ করতে। স্বাভাবিক বিষয় এমনই-এক রাষ্ট্রে দুইজন শাসক হলে শৃঙ্খলা ব্যহত হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ لَوْ كَانَ مَعَهُ آلِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إِذًا لَابْتَغَوْا إِلَى ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا
'আপনি বলুন, যদি তাঁর সাথে কোনো প্রভু বিদ্যমান থাকত, লোকে যেমন বলে থাকে, তবে তারা অবশ্যই আরশে যাবার পথ অনুসন্ধান করত।'[৩]
অর্থাৎ পৃথিবীর রাজা-বাদশাহ যেমন অপরের ক্ষমতা দখল করতে চায়।
ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ؒ এ আয়াতের ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন-আল্লাহ তাআলার কথার মর্ম হলো-'যদি অন্য প্রভু থাকত, তারাও আমার আনুগত্য ও নৈকট্য অর্জনে মনোনিবেশ করত। সুতরাং, তোমরা তাদের উপাসনা কীভাবে করছ!'

টিকাঃ
[২] সূরা আম্বিয়া, আয়াত-ক্রম: ২২
[৩] সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত-ক্রম: ৪২

📘 রূহের খোরাক > 📄 ভালোবাসার চিহ্ন-সমূহ

📄 ভালোবাসার চিহ্ন-সমূহ


ভালোবাসা ভালো-মন্দ বা উপকারী-অপকারী যেমনই হোক, তার কিছু চিহ্ন, অনুষঙ্গ ও আবশ্যকীয় উপাদান আছে। যেমন-স্বাদ, উপলব্ধি, আগ্রহ-উদ্দীপনা, প্রেমাস্পদের নৈকট্য কিবা বিচ্ছেদ-ইত্যাদি বিষয়।
উপকারী প্রেম: যার মাধ্যমে ব্যক্তি ইহ ও পরজাগতিক জীবনে উপকৃত হয়। এ প্রেম মানুষের সৌভাগ্যের সোপান।
মন্দ প্রেম: যা মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, এবং মানুষের জীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনে। কোনো জ্ঞানী লোক ক্ষতিকর বিষয়কে বেছে নেয় না, যারা নেয় তারা নিজের উপর অন্যায় করে। অন্তর কখনও প্রবৃত্তির কুহকে আচ্ছন্ন থাকে, বেছে নেয় ক্ষতিকর বিষয়কে; যা নিজ সত্তার উপর অন্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু, জ্ঞাতসারে কেউ এ পথে হাঁটতে পারে না। তবে কারো উপর প্রবৃত্তি প্রাধান্য বিস্তার করে, ফলে মন্দ থেকে ভালোকে সে পৃথক করতে ব্যর্থ হয়। তথাপি, এর সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ আছে; যেমন-
১. ভ্রান্ত বিশ্বাস। যা অত্যন্ত নিন্দিত বিষয়। মূলত প্রবৃত্তির অনুগামিতাও ভ্রান্তধারণা থেকে সৃষ্ট। আর অন্যায় প্রেম মূর্খতা ও ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে বিকশিত হতে থাকে।
২. প্রবৃত্তির অধীনতা। মানুষ যখন প্রবৃত্তির অনুগামী হয়, প্রবৃত্তির দ্বারা শাসিত হতে থাকে, তখন সত্য ও মিথ্যার বিভাজন সংশয়পূর্ণ হয়ে যায়। একসময়ে প্রবৃত্তির শক্তি প্রবলভাবে বিজয়ী হয়ে যায়।
সেই সাথে এসবের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অবস্থান স্পষ্ট হয়। সুতরাং, উপকারী প্রেমে আসক্তদের হাসি-কান্নার মুহূর্তগুলোও উপকারী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ফলে তার প্রেমময় জীবনের শক্তি ও উন্মেষ ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
আর নিন্দিত ও ক্ষতিকর প্রেম মানুষকে আল্লাহ থেকে বিমুখ করে রাখে। ব্যক্তি যত বেশি মন্দ-প্রেমে মত্ত থাকে, ততই ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ব্যক্তির কাজের ফলাফল এভাবেই প্রতিফলিত হয়, যেসব কর্ম প্রকাশিত হয় গুনাহ থেকে, তার ফলাফল হয় নিন্দিত। আর যা আনুগত্যের প্রকাশ হিসেবে দৃশ্যমান হয়, তা সবসময়ই কল্যাণকর।

📘 রূহের খোরাক > 📄 ভালোবাসাই সকল ধর্মের ভিত্তি

📄 ভালোবাসাই সকল ধর্মের ভিত্তি


পৃথিবীর সকল ধর্ম—বাতিল হোক বা বিশুদ্ধ—সবই ভালোবাসার উপর প্রতিষ্ঠিত। পৃথিবীর সকল কর্ম যেমন ইচ্ছা ও ভালোবাসার অধীন, তেমনি পৃথিবীর সকল ধর্মও ভালোবাসার অধীন। দ্বীন ও ধর্ম মানবজাতিকে ইবাদাত, আনুগত্য ও উত্তম আদর্শের নির্দেশ করে থাকে। এ কারণে কুরআনে দ্বীনকে খুলক (আদর্শ) দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন—
وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ
'আর (হে নবী!) আপনি অবশ্যই সন্দেহাতীতভাবে উত্তম আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত।' [১]
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস বলেন, 'এর অর্থ হলো, আপনি মহান ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত।'
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে রাসূলের আদর্শ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'তাঁর আদর্শ হচ্ছে কুরআন।' [২]

টিকাঃ
[১] সূরা কলম, আয়াত-ক্রম: ৪
[২] মুসনাদু আহমাদ, হাদিস-ক্রম: ২৫৮১৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00