📘 রূহের খোরাক > 📄 পরম উপকারী বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া

📄 পরম উপকারী বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া


গ্রহণ ও বর্জন—দুটি ঐচ্ছিক বিষয়। তবে কল্যাণের স্বাদ মানুষকে বাধ্য করে এর কোনো একটিকে বেছে নিতে। কারণ, কাঙ্ক্ষিত বিষয়কে শুধু জ্ঞানী ব্যক্তি নয়, বনের পশুও প্রাধান্য দিয়ে থাকে। অনেকেই বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়ে সাময়িক আনন্দে স্থায়ী কষ্টের কথা ভুলে যায়। মনে করে, আমি তো সুখেই আছি। যাদের দৃষ্টি পরকাল পর্যন্ত প্রলম্বিত না হয়ে ইহজগতে সীমাবদ্ধ থাকে, তাদের অবস্থা এমনই। এজন্য প্রকৃত জ্ঞানী সেই, যে পরকালীন স্থায়ী শান্তিকে গুরুত্ব দেয়।
জনৈক আলিম বলেন, 'আমি জ্ঞানীদের প্রচেষ্টাকে গভীরতার সাথে লক্ষ করেছি, তাদের সকল শ্রম ও চেষ্টা একই উদ্দেশ্যে প্রবাহিত হয়। তারা পানাহার, ব্যবসা- বাণিজ্য, বিয়ে, সংসার ও গান-বাজনা থেকে দূরে থাকার মধ্য দিয়ে অন্তর থেকে দুশ্চিন্তা দূরীভূত করেন। এক্ষেত্রে লক্ষ্য উত্তম হলেও, পদ্ধতিগত ভুলের জন্য বিপরীত প্রতিক্রিয়ার প্রকাশই বেশি ঘটে। এজন্য একমাত্র পথ হলো, আল্লাহমুখিতা ও তার সন্তুষ্টি সকল কিছুর উপর প্রাধান্য দেয়া। এ পথে চলে যদি কেউ দুনিয়াতে বঞ্চিত হয়, তবে পরকালে তার জন্য এমন সফলতা অপেক্ষমান, যার বিলুপ্তি নেই। আর এটাই বান্দার চূড়ান্ত সফলতার অভিন্ন প্রবেশিকা।

📘 রূহের খোরাক > 📄 প্রেমাষ্পদের প্রকারভেদ

📄 প্রেমাষ্পদের প্রকারভেদ


মুহাব্বাত সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে-
. সত্তাগত মুহাব্বাত।
. সত্তাগত মুহাব্বাতের কারণে জন্ম নেয়া ভালোবাসা।
এখানে উল্লেখ্য যে, একজন সফল মানুষের সহজাত ভালোবাসা হবে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য, এ ছাড়া যা কিছু আছে সবই অপ্রকৃত, এবং আল্লাহপ্রেমের অনিবার্য অংশ। যেমন ফিরিশতা, নবী-রাসূল ও ওলীদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।
কোনো ব্যক্তি যখন আল্লাহর অপছন্দের বিষয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করে, আর পছন্দের বিষয়ে পোষণ করে বিদ্বেষ, তখন আল্লাহর সাথে তার বিরোধের ক্ষেত্র স্পষ্ট হয়। তদ্রূপ, মানুষ যখন নিজের ভালোবাসা ও বিদ্বেষকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে নিবেদন করে তখন আল্লাহর সাথে তার বন্ধুত্ব প্রকাশ পায়। আল্লাহর সাথে বন্ধুত্বের কারণেই বান্দা বেশি বেশি নামায, রোযা ও আধ্যাত্মিক সাধনা করতে পারে, এতে সে কষ্ট অনুভব করে না।
নানাবিধ কারণে প্রকাশিত ভালোবাসা দুই রকমের হয়ে থাকে
এক. যা অর্জিত হলে মানুষ আনন্দিত হয়।
দুই. যে ভালোবাসায় প্রকৃত ভালোবাসা অর্জনের জন্য সাময়িক কষ্ট সহ্য করতে হয়। যেমন রোগমুক্তির জন্য তিক্ত ওষুধের প্রতি রোগীর ভালোবাসা।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَ هُوَ كُرْهُ لَّكُمْ وَ عَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ
'তোমাদের উপর লড়াইয়ের বিধান দেয়া হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। হতে পারে কোনো বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোনো বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।'[১]
এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, জিহাদ তাদের কাছে অপছন্দের হলেও তাতে চূড়ান্ত কল্যাণ ও উপকারিতা রয়েছে। আর জ্ঞানী মানুষ কখনো সাময়িক কষ্টকে অসহ্য মনে করে ইহ-জাগতিক আনন্দে মত্ত হয় না। বরং তারা ক্ষণস্থায়ী দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চিরন্তন কল্যাণ লাভের প্রতিজ্ঞা করে।

টিকাঃ
[১] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ২১৬

📘 রূহের খোরাক > 📄 সকল কাজের মূলে ভালোবাসা

📄 সকল কাজের মূলে ভালোবাসা


ভালো-মন্দ সকল কাজের মূল হলো ভালোবাসা ও প্রেম, তাই আল্লাহ-রাসূলের প্রতি ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে যাবতীয় দ্বীনী কাজ। আর দ্বীনী কথার ভিত্তিমূলে প্রোথিত থাকবে 'আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি নিশ্ছিদ্র সত্যায়ন। সুতরাং, যেসব ইচ্ছা আল্লাহ ও রাসূলের ভালোবাসার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, তা মূলত ঈমানের পরিপন্থি।
যেমন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাঁর গোত্রকে লক্ষ করে বলেছিলেন—
أَفَرَأَيْتُمْ مَا كُنْتُمْ تَعْبُدُونَ - أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمُ الْأَقْدَمُونَ - فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِي إِلَّا رَبَّ الْعَالَمِينَ
তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষেরা কীসের ইবাদাত করতে, তা ভেবে দেখেছ কি? বিশ্বপ্রতিপালক ব্যতীত এসব কিছুই আমার শত্রু।'[২]
মূর্তির প্রতি এই বিদ্বেষের মধ্য দিয়ে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আল্লাহর খলীল হয়েছিলেন। সুতরাং ভালোবাসা ও অন্তরঙ্গতা শুধু আল্লাহর জন্য হবে।

টিকাঃ
[২] সূরা শুআরা, আয়াত-ক্রম: ৭৫-৭৭

📘 রূহের খোরাক > 📄 তাওহীদীদের কালিমা

📄 তাওহীদীদের কালিমা


لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ – লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তাওহীদের কালিমা।
গোটা পৃথিবী তাওহীদ বা একত্ববাদের স্বীকারোক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত, তাকে লক্ষ্য বানিয়ে তৈরি করা হয়েছে সকল সৃষ্টি। এবং একত্ববাদের বাক্য বা বাণীই মুসলিম মিল্লাতের বীজ। এই কালিমা দুনিয়ার জীবনে মানুষের রক্ত, সম্পত্তি ও বংশের নিরাপত্তা এবং পরকালে বারযাখ-জগত ও জাহান্নামের শান্তি থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। এ কালিমা ছাড়া মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। শান্তির চাবিকাঠি এই কালিমার দ্বারা ভাগ্যবান ও দুর্ভাগা নির্ণিত হয়। এ ছাড়াও অনৈসলামী রাষ্ট্র থেকে ইসলামী রাষ্ট্রের বিভাজন ঘটে কালিমাকে ভিত্তি করে। যার জাগতিক জীবনের শেষ বাক্য হয় এই কালিমা, সে জান্নাতবাসী হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00