📘 রূহের খোরাক > 📄 ভালোবাসা ও অন্তরঙ্গতা

📄 ভালোবাসা ও অন্তরঙ্গতা


অনেকেই ভুল ভেবে মনে করেন যে, ভালোবাসা অন্তরঙ্গতার চেয়ে পরিপূর্ণ, আর ইবরাহীম আলাইহিস সালাম অন্তরঙ্গ তথা খলীল, অন্য দিকে মুহাম্মদ ছিলেন ভালোবাসার পাত্র বা বন্ধু। এটি ভুল ধারণা। কারণ, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যেমন খলীল ছিলেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও আল্লাহ তাআলার খলীল ছিলেন। নবীজি বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, 'আল্লাহ ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মতো আমাকেও খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।' এ ছাড়া নবীজি অন্য কাউকে খলীল হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। অথচ তিনি আয়েশা, আবু বকর ও উমর-সহ অনেককেই ভালোবাসতেন। এ ছাড়া আল্লাহ ধৈর্যশীল, তাওবাকারীদের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং, হুব্ব তথা ভালোবাসা ব্যাপক বিষয় কিন্তু খলীল তথা অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বের বিষয়টি দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

📘 রূহের খোরাক > 📄 সর্বোচ্চ প্রিয় বস্তুকে প্রাধান্য দেওয়া

📄 সর্বোচ্চ প্রিয় বস্তুকে প্রাধান্য দেওয়া


মানুষ প্রিয় ও কাঙ্ক্ষিত বিষয়কে কখনো উপেক্ষা করে না; বরং অধিক পছন্দের বিষয়কে গ্রহণ করতে তুলনামূলক কম পছন্দের বিষয়কে প্রত্যাখান করে। আর বিবেকের বৈশিষ্ট্য হলো, অধিক প্রিয় বস্তুকে প্রাধান্য দেয়া। এটি মানুষের প্রেম ও বিদ্বেষ-শক্তির পূর্ণতা-নির্দেশক।
সর্বোচ্চ প্রিয় বস্তুকে প্রাধান্য দিতে দুটি গুণের প্রয়োজন পড়ে-
. অনুভব-শক্তি।
. অন্তরের সাহসিকতা।
মানুষ সর্বোচ্চ প্রিয় বস্তুকে প্রাধান্য দিতে ব্যর্থ হয় উল্লিখিত দুই জিনিসের দুর্বলতার কারণে। যখন ব্যক্তির অনুভব ও আত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে, তখন সে সর্বোচ্চ প্রেমাষ্পদকে অগ্রাধিকার দিতে পারবে। কারো কারো মধ্যে বিবেক ও ঈমানের চেয়ে প্রবৃত্তির শক্তি প্রবলভাবে বিদ্যমান থাকে, তখন সে দুর্বলদের নিপীড়ন করে। আবার কারো মধ্যে বিবেকের তাড়না ও ঈমানের শক্তি বেশি থাকে, তখন সে কল্যাণের পথে চলে, সৎকর্মকে প্রাধান্য দেয় সর্বত্র।
অনিষ্টতার ভিত্তিমূলে প্রোথিত থাকে আত্মা ও অনুভূতির দুর্বলতা। বস্তুত, আত্মা ও অনুভূতির পূর্ণতাই হচ্ছে কল্যাণের চাবিকাঠি।
ইচ্ছা ও ভালোবাসা সকল কাজের মূল। আর সকল উপেক্ষিত বিষয়ের সূচনা হয় বিদ্বেষ ও অপছন্দ থেকে। এই শক্তি দুটিই মানুষের সৌভাগ্য ও দুর্ভোগের মৌলিক কারণ।
তবে কোনো কাজ পরিহার করাটা কখনও চাহিদা না থাকার ফলে হয়। আবার বিদ্বেষ ও অপছন্দের জন্যেও হয় মাঝে মাঝে।

📘 রূহের খোরাক > 📄 পরম উপকারী বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া

📄 পরম উপকারী বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া


গ্রহণ ও বর্জন—দুটি ঐচ্ছিক বিষয়। তবে কল্যাণের স্বাদ মানুষকে বাধ্য করে এর কোনো একটিকে বেছে নিতে। কারণ, কাঙ্ক্ষিত বিষয়কে শুধু জ্ঞানী ব্যক্তি নয়, বনের পশুও প্রাধান্য দিয়ে থাকে। অনেকেই বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়ে সাময়িক আনন্দে স্থায়ী কষ্টের কথা ভুলে যায়। মনে করে, আমি তো সুখেই আছি। যাদের দৃষ্টি পরকাল পর্যন্ত প্রলম্বিত না হয়ে ইহজগতে সীমাবদ্ধ থাকে, তাদের অবস্থা এমনই। এজন্য প্রকৃত জ্ঞানী সেই, যে পরকালীন স্থায়ী শান্তিকে গুরুত্ব দেয়।
জনৈক আলিম বলেন, 'আমি জ্ঞানীদের প্রচেষ্টাকে গভীরতার সাথে লক্ষ করেছি, তাদের সকল শ্রম ও চেষ্টা একই উদ্দেশ্যে প্রবাহিত হয়। তারা পানাহার, ব্যবসা- বাণিজ্য, বিয়ে, সংসার ও গান-বাজনা থেকে দূরে থাকার মধ্য দিয়ে অন্তর থেকে দুশ্চিন্তা দূরীভূত করেন। এক্ষেত্রে লক্ষ্য উত্তম হলেও, পদ্ধতিগত ভুলের জন্য বিপরীত প্রতিক্রিয়ার প্রকাশই বেশি ঘটে। এজন্য একমাত্র পথ হলো, আল্লাহমুখিতা ও তার সন্তুষ্টি সকল কিছুর উপর প্রাধান্য দেয়া। এ পথে চলে যদি কেউ দুনিয়াতে বঞ্চিত হয়, তবে পরকালে তার জন্য এমন সফলতা অপেক্ষমান, যার বিলুপ্তি নেই। আর এটাই বান্দার চূড়ান্ত সফলতার অভিন্ন প্রবেশিকা।

📘 রূহের খোরাক > 📄 প্রেমাষ্পদের প্রকারভেদ

📄 প্রেমাষ্পদের প্রকারভেদ


মুহাব্বাত সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে-
. সত্তাগত মুহাব্বাত।
. সত্তাগত মুহাব্বাতের কারণে জন্ম নেয়া ভালোবাসা।
এখানে উল্লেখ্য যে, একজন সফল মানুষের সহজাত ভালোবাসা হবে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য, এ ছাড়া যা কিছু আছে সবই অপ্রকৃত, এবং আল্লাহপ্রেমের অনিবার্য অংশ। যেমন ফিরিশতা, নবী-রাসূল ও ওলীদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।
কোনো ব্যক্তি যখন আল্লাহর অপছন্দের বিষয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করে, আর পছন্দের বিষয়ে পোষণ করে বিদ্বেষ, তখন আল্লাহর সাথে তার বিরোধের ক্ষেত্র স্পষ্ট হয়। তদ্রূপ, মানুষ যখন নিজের ভালোবাসা ও বিদ্বেষকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে নিবেদন করে তখন আল্লাহর সাথে তার বন্ধুত্ব প্রকাশ পায়। আল্লাহর সাথে বন্ধুত্বের কারণেই বান্দা বেশি বেশি নামায, রোযা ও আধ্যাত্মিক সাধনা করতে পারে, এতে সে কষ্ট অনুভব করে না।
নানাবিধ কারণে প্রকাশিত ভালোবাসা দুই রকমের হয়ে থাকে
এক. যা অর্জিত হলে মানুষ আনন্দিত হয়।
দুই. যে ভালোবাসায় প্রকৃত ভালোবাসা অর্জনের জন্য সাময়িক কষ্ট সহ্য করতে হয়। যেমন রোগমুক্তির জন্য তিক্ত ওষুধের প্রতি রোগীর ভালোবাসা।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَ هُوَ كُرْهُ لَّكُمْ وَ عَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ
'তোমাদের উপর লড়াইয়ের বিধান দেয়া হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। হতে পারে কোনো বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোনো বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।'[১]
এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, জিহাদ তাদের কাছে অপছন্দের হলেও তাতে চূড়ান্ত কল্যাণ ও উপকারিতা রয়েছে। আর জ্ঞানী মানুষ কখনো সাময়িক কষ্টকে অসহ্য মনে করে ইহ-জাগতিক আনন্দে মত্ত হয় না। বরং তারা ক্ষণস্থায়ী দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চিরন্তন কল্যাণ লাভের প্রতিজ্ঞা করে।

টিকাঃ
[১] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ২১৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00