📘 রূহের খোরাক > 📄 নারী সমকামিতা

📄 নারী সমকামিতা


নারীদের মধ্যে সমকামিতার যে অসুস্থ প্রবণতা, তাও এক প্রকারের যিনা বা ব্যভিচার। নবীজি সূত্রে বর্ণিত আছে-
إِذَا أَتَتِ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ فَهُمَا زَانِيَتَانِ
‘কোনো নারী আরেক নারীর সাথে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হলে, তারা উভয়েই ব্যভিচারিণী হিসেবে গণ্য হবে।'[১]
তবে যেহেতু তাদের এই কুরুচিপূর্ণ কাজ পুরোপুরি ব্যভিচারের অবস্থা নয়, তাই এই ঘৃণিত কাজে ব্যভিচারের শাস্তির মতো হদ বা শাস্তি আরোপিত হবে না। শাস্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে নারী-সমকামিতাকে ব্যভিচারের সাথে তুলনা করা ঠিক নয়।

টিকাঃ
[১] বাইহাকি, হাদীস-ক্রম: ১৭৪৯০

📘 রূহের খোরাক > 📄 সমকামিতার চিকিৎসা

📄 সমকামিতার চিকিৎসা


সমকামিতকে বলা যায় একটি মানসিক রোগ। রুচির বিকৃতি। মানুষের মনের এক অদ্ভূত ভালোবাসা ও প্রেমের ফসল এই সমকামিতা। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য জরুরি চিকিৎসা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা প্রতিটি রোগেরই চিকিৎসা-ব্যবস্থা রেখেছেন। নবীজি ইরশাদ করেন-
مَا أَنْزَلَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ مِنْ دَاءٍ إِلَّا جَعَلَ لَهُ دَوَاءٌ، عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ وَجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ
'আল্লাহ তাআলা প্রতিটি রোগের জন্যই ওষুধ দিয়েছেন। জ্ঞানীরা সেই ওষুধের ব্যাপারে জানে আর মূর্খরা অজ্ঞই থেকে যায়।'[২]
মানুষের মনে গেঁথে যাওয়া এই রোগের চিকিৎসা দুইভাবে হতে পারে।
১. এই রোগের জীবাণুই অন্তরে তৈরি হতে না দেয়া।
২. অন্তরে এর জীবাণু তৈরি হয়ে গেলে, দ্রুততম সময়ে তা দূর করে ফেলা।
আল্লাহ তাআলা যার জন্য সহজ করে দেন, তার জন্য এই দুই পদ্ধতির চিকিৎসা গ্রহণ একদমই সহজ। আর আল্লাহ যার জন্য কঠিন করে দেন, তার জন্য কঠিন। এই রোগের জীবাণুও অন্তরে না হবার অর্থ হলো, এ ধরনের বিকৃত রুচির কোনো চিন্তা যেন মাথায় উকি না দেয়।

টিকাঃ
[২] মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ২৩১৫৬

📘 রূহের খোরাক > 📄 রোগের সূচনা থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায়

📄 রোগের সূচনা থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায়


সমকামিতার রোগ মনের মধ্যে দানা বাঁধার আগেই তা শেষ করে দেয়া উত্তম। এই রোগের জীবাণু যেন অন্তরে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য আগে থেকেই সতর্ক থাকা দরকার। এই সতর্কতা দুইভাবে হতে পারে।
* দৃষ্টিশক্তির নিরাপদ ব্যবহারের মাধ্যমে।
* চিন্তা-চেতনা ও মনের ভাবনার জগতকে উত্তম ও ভালো কোনো কাজে সর্বদা ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে।

📘 রূহের খোরাক > 📄 দৃষ্টিশক্তির নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহারের উপকারিতা

📄 দৃষ্টিশক্তির নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহারের উপকারিতা


মানবচক্ষু শয়তানের একটি বিষাক্ত তির। মানুষের দৃষ্টিশক্তির মাঝে শয়তান ভর করে বান্দার অন্তরে জায়গা করে নেয়। দৃষ্টিশক্তির এক মুহূর্তের অপব্যবহার মানবজীবনের স্থায়ী কোনো আক্ষেপ ডেকে আনতে সক্ষম। আর দৃষ্টিশক্তির সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহারের অন্যতম প্রক্রিয়া হলো দৃষ্টি অবনত রাখা। আর দৃষ্টিশক্তির সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহার বা অবনত দৃষ্টি মানবজীবনে উল্লেখযোগ্য অনেক উপকারিতা বয়ে আনে।
* দৃষ্টি অবনত রাখার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার আদেশ মান্য করা হয়। আর আল্লাহ তাআলার আদেশ মান্য করার চেয়ে অধিক সৌভাগ্যময় কোনো কাজ দুনিয়া-আখিরাতে নেই। দৃষ্টি অবনত না রাখলে আল্লাহ তাআলার আদেশ অমান্য করা হয়। আর উভয় জাহানের সবচেয়ে ক্ষতিকর কাজ হলো, তাঁর আদেশ অমান্য করা।
* দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে শয়তান মানুষের অন্তরে বিষাক্ত তির নিক্ষেপ করে। দৃষ্টি অবনত রাখার মাধ্যমে মানুষ তার অন্তরকে এই বিষাক্ত তিরের আঘাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
* দৃষ্টি অবনত রাখার মাধ্যমে বান্দার অন্তর আল্লাহমুখী হয়। আল্লাহ তাআলার সাথে তার এক ধরনের আন্তরিকতা তৈরি হয়। অন্তরে সবসময় মহান রবের স্মরণ ধরে রাখা সম্ভবপর হয়। আর দৃষ্টি অবনত না রেখে দৃষ্টির অপব্যবহার বা বহুল ব্যবহার মানুষের অন্তরকে বিক্ষিপ্ত করে দেয়। জাগতিক বিভিন্ন চিন্তা ও খেয়ালের দিকে বান্দার অন্তর ঝুঁকে যায়। আল্লাহ তাআলার সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। যত্রতত্র দৃষ্টি দেয়া মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কেননা, এর মাধ্যমে মহান রবের সাথে বান্দার এক ধরনের দূরত্ব সৃষ্টি হয়।
অবনত দৃষ্টি মানবাত্মাকে সজীব ও চিন্তামুক্ত রাখে। মানুষের অন্তর প্রফুল্ল থাকে। আর দৃষ্টির যথেচ্ছ ব্যবহার মানুষের মনকে বিষিয়ে তোলে। জাগতিক বিভিন্ন চিন্তায় চিন্তিত করে তোলে।
দৃষ্টি অবনত রাখার দ্বারা বান্দার অন্তরে এক বিশেষ নূর জন্ম নেয়। আর চোখের হেফাজত না করলে বান্দার অন্তরে জাগতিক গুনাহের প্রভাবে অন্ধকার জন্ম নেয়। কুরআনে মুমিন বান্দাদের জন্য দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশের পরপরই নূর বা ঐশী আলোর বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ
'হে নবী! আপনি মুমিনদেরকে বলে দিন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানকে (অসৎ ব্যবহার থেকে) পূর্ণ হেফাজত করে।'[১]
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন-
اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ مَثَلُ نُورِهِ كَمِشْكَاةٍ فِيهَا مِصْبَاحُ
'আল্লাহ তাআলা হলেন আসমান ও জমিনের নূর। তাঁর নূরের দৃষ্টান্ত হলো একটি দ্বীপাধারের মাঝে অবস্থিত আলোকিত এক প্রদীপের মতো।'[২]
অর্থাৎ, যে মুমিন বান্দা আল্লাহ তাআলার আদেশের পূর্ণ আনুগত্য করে এবং নিষেধ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে, তার অন্তরে আল্লাহর নূরের দৃষ্টান্ত এরকম। বান্দার অন্তর যখন আলোকিত হয়ে যায়, তখন চতুর্দিক থেকে যাবতীয় কল্যাণ তার দিকে ছুটে আসে। একইভাবে বান্দার অন্তর যখন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়, তখন যাবতীয় অকল্যাণ আর বিপদ-আপদ চারপাশ থেকে তাকে ঘিরে ধরে। আলোহীন অন্ধকারাচ্ছন্ন হৃদয় থেকে তখন বিদআত আর ভ্রান্তি জন্ম নেয় তার জীবনে। সে তার নফসের গোলামে পরিণত হয়। হিদায়াতের পথ থেকে দূরে সরে আসে। সৌভাগ্যের সকল উপকরণ সে তার জীবন থেকে মুছে দেয়। দুর্ভাগ্যময় করুণ পরিণতির উপায়-উপকরণকে নিজ অন্তরে জমা করে ফেলে। তার জীবনে এই দুর্গতি নেমে আসার কারণ হলো, তার অন্তরের ঐশী নূর নিভে গেছে। অন্তর আলোহীন অন্ধকার গুহায় পরিণত হয়েছে। সে হয়ে গেছে উদ্ভ্রান্ত এক অন্ধ ব্যক্তির মতো, যে অসহায় অবস্থায় রাতের ঘন আঁধারে দাঁড়িয়ে আছে একাকী।
• দৃষ্টি অবনت রাখার দ্বারা একজন বান্দা সত্যিকারের অন্তর্দৃষ্টি-সম্পন্ন ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়। সে নিজ থেকেই সত্য-মিথ্যার পার্থক্য ধরতে পারে। কোনটা হক কোনটা বাতিল, বুঝতে পারে।
শাহ ইবনু শুজা আল কিরমানী বলেন, 'যে ব্যক্তি তার জীবনাচারকে সুন্নত দিয়ে সাজিয়ে তোলে, মনের আভ্যন্তরীণ চিন্তাধারাকে আল্লাহ তাআলার স্মরণে আলোকিত করে রাখে, চোখকে হারাম দৃষ্টিপাত থেকে হেফাজত করে, নিজেকে সংশয়পূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখে, হালাল খাবারে নিজেকে অভ্যস্ত করে তোলে, তার অন্তর্দৃষ্টি ভুল করে না। বর্ণিত আছে, শাহ ইবনু শুজা'র অন্তর্দৃষ্টি কখনো ভুল কোনো মন্তব্য করেনি।
মূলত আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তার আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেন। আর কেউ যদি আল্লাহ তাআলার জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করে, আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তাকে আরো উত্তম কিছু দান করেন। বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার জন্য নিজের চোখকে হারাম দৃষ্টিপাত থেকে ফিরিয়ে রাখবে, আল্লাহ তাআলা বিনিময়স্বরূপ তার অন্তরে ঐশী নূর ঢেলে দেবেন। ঈমান ও ইলমের দরজা তার সামনে খুলে দেবেন। সঠিক অন্তর্দৃষ্টি তথা মারিফাতের জ্ঞান তার অন্তরে তৈরি হবে। এসব প্রশংসনীয় গুণাবলির বিপরীত দিকটি পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে সমকামীদের সম্পর্কে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكَرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ
'আপনার জীবনের কসম, তারা আপন নেশার ঘোরে প্রমত্ত ছিল।[১]
আল্লাহ তাআলা তাদেরকে নেশাগ্রস্ত বলে উল্লেখ করেছেন। আর নেশার ঘোর মানুষের মস্তিষ্ক বিগড়ে দেয়। একইসাথে আল্লাহ তাদেরকে অন্ধ বলে আখায়িত করেছেন। অন্ধত্বের কারণে মানুষের অন্তর্দৃষ্টি নষ্ট হয়ে যায়।
দৃষ্টির অবনতি মানুষকে সাহসী, দৃঢ়পদ এবং শক্তিশালী করে তোলে। আল্লাহ তাআলা তার জীবনে চলার পথে ভরপুর সাহায্য করেন। তার কথাবার্তায় শক্তিশালী দলীল প্রমাণাদি উপস্থিত করে দেন। আল্লাহ তাআলার কুদরত সর্বদা তার সহায় হয়। আর যে ব্যক্তি নফসের অনুগত হয়, মনোবাসনার চাহিদা পূরণ করে পথ চলতে থাকে, সে অপমান, লাঞ্ছনা ও তাচ্ছিল্যের শিকার হয়। হাসান বসরী বলেন, 'মানুষ যদি শক্তিশালী ও মুগ্ধকর ঘোড়া বা খচ্চরের পিঠে কাঙ্ক্ষিত গতিতে চড়ে বেড়ায় এবং এই আয়েশি বাহনের জন্য সে গর্বও করতে থাকে, তবু সে যেই গুনাহকে নিজের জীবনে জড়িয়ে রেখেছে, তার লাঞ্ছনা থেকে আল্লাহ কখনোই তাকে মুক্তি দেবেন না।
আল্লাহ তাআলা মানবজীবনের সম্মানকে রেখেছেন তাঁর আনুগত্যের সাথে। আর অপমান ও লাঞ্ছনাকে তার অবাধ্যতার সঙ্গী করে দিয়েছেন। ইরশাদ করেন-
وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ
'সকল সম্মান কেবলই আল্লাহ তাআলার জন্য, এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনগণের জন্য।[২]
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ
'আর তোমরা নিরাশ হয়ো না, দুঃখ কোরো না। যদি তোমরা মুমিন হও, তাহলে তোমরাই বিজয়ী হবে। [১]
চোখের হেফাজত মানবাত্মাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষিত করে। শয়তানের কুমন্ত্রণা দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে মানবদেহে ভর করে অন্তরে জায়গা করে নেয়। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সে মানুষকে গুনাহের কাজে উদ্বুদ্ধ করে। দৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের অন্তরে উপস্থিত হয়ে সে কোনো হারাম চিত্র হৃদয়পটে এঁকে মানুষকে সেই হারামের দিকে ধাবিত করে। হৃদয়ের অংকিত দৃশ্যকে কল্পনার জগতে পৌঁছে দেয়। মানুষ তখন শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মিথ্যা আশা-আকাঙ্ক্ষায় বিভোর হয়ে যায়। আপন রবকে ভুলে হারাম আশার পেছনে ছুটতে থাকে। ছুটতে ছুটতে নিজের ভেতরের কামভাব সে জাগিয়ে তোলে। হারাম মনোবাসনার অনলে ঝাঁপ দিয়ে দগ্ধ করে নিজের আত্মাকে। নাফরমানি আর অবাধ্যতার জাগতিক জাহান্নামে সে তখন জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যায়।
চোখের হেফাজত মানুষের অন্তরকে কল্যাণ ও মঙ্গলের চিন্তা করার সুযোগ দেয়। নেকি অর্জনের জন্য ব্যস্ত করে রাখে। আর দৃষ্টিশক্তির অবাধ বিচরণ নেকি অর্জনের কথা বান্দার অন্তর থেকে মুছে দেয়। কল্যাণের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে। পার্থিব লোভ-লালসা বাড়িয়ে দেয়। মানুষকে তার নফসের গোলামিতে বাধ্য করে। আপন রবের স্মরণ থেকে করে তোলে উদাসীন।

টিকাঃ
[১] সূরা নূর, আয়াত-ক্রম: ৩০
[২] সূরা নূর, আয়াত-ক্রম: ৩৫
[১] সূরা হিজর, আয়াত-ক্রম: ২৭
[২] সূরা মুনাফিকুন, আয়াত-ক্রম: ৮
[১] সূরা আলে ইমরান, আয়াত-ক্রম: ১৩৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00