📘 রূহের খোরাক > 📄 পশুসঙ্গমিতার শাস্তি

📄 পশুসঙ্গমিতার শাস্তি


আমাদের এই পৃথিবীতে মানুষরূপী এমনও নিকৃষ্ট দোপায়ী জানোয়ার আছে, যারা পশুর সাথে তাদের কামভাব পূরণ করতে আগ্রহী হয়। তাদের বিবেক-বুদ্ধি এতটাই রোগাক্রান্ত যে, পশু প্রাণীকে দেখলেও তাদের যৌনক্ষুধা জেগে ওঠে। এধরনের নরাধমদের ক্ষেত্রে শরয়ী বিধি-বিধানে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ তিন ধরনের শাস্তির কথা বলেছেন।
১. প্রথমেই কোনো শাস্তি আরোপ না করে তার মস্তিষ্কের সুস্থতা ও রুচির ভারসাম্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য ধর্মীয় ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ যা ভালো মনে করেন, সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
২. দ্বিতীয় মত হলো, তাদেরকে শাস্তির আওতাধীন করা হবে। এক্ষেত্রে তাদেরকে যিনা বা ব্যভিচারের হদ বা শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।
৩. তৃতীয় মত হলো, সমকামিতার যেই শাস্তি রয়েছে, তাকেও শাস্তিই ভোগ করতে হবে। অর্থাৎ তাকেও সরাসরি হত্যা করতে হবে। সুনানু আবি দাউদে বর্ণিত আছে, নবীজি সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বর্ণনা করেন, 'যে ব্যক্তি কোনো পশুর সাথে সঙ্গম করল, তাকে তোমরা হত্যা করো। তার সাথে সেই পশুটিকেও মেরে ফেলো।[২]

টিকাঃ
[২] আবু দাউদ, হাদীস-ক্রম: ৪৪৬৪

📘 রূহের খোরাক > 📄 নারী সমকামিতা

📄 নারী সমকামিতা


নারীদের মধ্যে সমকামিতার যে অসুস্থ প্রবণতা, তাও এক প্রকারের যিনা বা ব্যভিচার। নবীজি সূত্রে বর্ণিত আছে-
إِذَا أَتَتِ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ فَهُمَا زَانِيَتَانِ
‘কোনো নারী আরেক নারীর সাথে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হলে, তারা উভয়েই ব্যভিচারিণী হিসেবে গণ্য হবে।'[১]
তবে যেহেতু তাদের এই কুরুচিপূর্ণ কাজ পুরোপুরি ব্যভিচারের অবস্থা নয়, তাই এই ঘৃণিত কাজে ব্যভিচারের শাস্তির মতো হদ বা শাস্তি আরোপিত হবে না। শাস্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে নারী-সমকামিতাকে ব্যভিচারের সাথে তুলনা করা ঠিক নয়।

টিকাঃ
[১] বাইহাকি, হাদীস-ক্রম: ১৭৪৯০

📘 রূহের খোরাক > 📄 সমকামিতার চিকিৎসা

📄 সমকামিতার চিকিৎসা


সমকামিতকে বলা যায় একটি মানসিক রোগ। রুচির বিকৃতি। মানুষের মনের এক অদ্ভূত ভালোবাসা ও প্রেমের ফসল এই সমকামিতা। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য জরুরি চিকিৎসা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা প্রতিটি রোগেরই চিকিৎসা-ব্যবস্থা রেখেছেন। নবীজি ইরশাদ করেন-
مَا أَنْزَلَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ مِنْ دَاءٍ إِلَّا جَعَلَ لَهُ دَوَاءٌ، عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ وَجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ
'আল্লাহ তাআলা প্রতিটি রোগের জন্যই ওষুধ দিয়েছেন। জ্ঞানীরা সেই ওষুধের ব্যাপারে জানে আর মূর্খরা অজ্ঞই থেকে যায়।'[২]
মানুষের মনে গেঁথে যাওয়া এই রোগের চিকিৎসা দুইভাবে হতে পারে।
১. এই রোগের জীবাণুই অন্তরে তৈরি হতে না দেয়া।
২. অন্তরে এর জীবাণু তৈরি হয়ে গেলে, দ্রুততম সময়ে তা দূর করে ফেলা।
আল্লাহ তাআলা যার জন্য সহজ করে দেন, তার জন্য এই দুই পদ্ধতির চিকিৎসা গ্রহণ একদমই সহজ। আর আল্লাহ যার জন্য কঠিন করে দেন, তার জন্য কঠিন। এই রোগের জীবাণুও অন্তরে না হবার অর্থ হলো, এ ধরনের বিকৃত রুচির কোনো চিন্তা যেন মাথায় উকি না দেয়।

টিকাঃ
[২] মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ২৩১৫৬

📘 রূহের খোরাক > 📄 রোগের সূচনা থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায়

📄 রোগের সূচনা থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায়


সমকামিতার রোগ মনের মধ্যে দানা বাঁধার আগেই তা শেষ করে দেয়া উত্তম। এই রোগের জীবাণু যেন অন্তরে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য আগে থেকেই সতর্ক থাকা দরকার। এই সতর্কতা দুইভাবে হতে পারে।
* দৃষ্টিশক্তির নিরাপদ ব্যবহারের মাধ্যমে।
* চিন্তা-চেতনা ও মনের ভাবনার জগতকে উত্তম ও ভালো কোনো কাজে সর্বদা ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00