📘 রূহের খোরাক > 📄 শিরক : সবচেয়ে বড় গুনাহ

📄 শিরক : সবচেয়ে বড় গুনাহ


আল্লাহ তাআলার সরাসরি অবাধ্যতা হলো শিরক করা। শিরক গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার জন্য অন্য কোনো গুনাহের সংশ্লিষ্টতার দরকার নেই। শিরক নিজেই গুনাহের শেকড়। এ জন্যই শিরককে আকবারুল কাবায়ির বা সর্বোচ্চ কবীরা গুনাহ বলে অভিহিত করা হয়েছে। আল্লাহ মুশরিকদের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। এবং একত্ববাদে বিশ্বাসীদের জন্য মুশরিকদের ধন-সম্পদ ও স্ত্রী হালাল করে দিয়েছেন। মুশরিকরা আল্লাহর ইবাদাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য এই শাস্তির বিধান করা হয়েছে। যদি কোনো মুশরিক তাঁর শিরকের ওপর বহাল থাকে, তাহলে মুমিনরা তাকে নিজেদের ক্রীতদাস বানিয়ে নিতে পারবে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিয়েছেন, মুশরিকদের কোনো আমল তিনি কবুল করবেন না। তাদের পক্ষ হয়ে কৃত কোনো সুপারিশ তিনি গ্রহণ করবেন না। মুশরিকের পরকালীন কল্যাণ কামনা করে কৃত কোনো দুআও তিনি কবুল করবেন না। মুশরিক হলো সৃষ্টিজীবের মধ্যে সবচেয়ে মূর্খ জীব। সে নিজের প্রতিপালককে চিনতে ব্যর্থ হয়েছে। অপর এক সৃষ্টিকেই আল্লাহর অনুরূপ ভেবে উপাসনা করেছে। এ অজ্ঞতার কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না।

টিকাঃ
[১] সূরা লুকমান, আয়াত-ক্রম: ১৩

📘 রূহের খোরাক > 📄 একটি সংশয়

📄 একটি সংশয়


শিরক সাধারণত দুই কারণে করা হয়।

ক. আল্লাহ তাআলাকে অসম্মান করার জন্য।

খ. আল্লাহ তাআলার প্রতি আরও বেশি সম্মান প্রদর্শনের জন্য।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। যদি আল্লাহ তাআলাকে অধিক সম্মান প্রদর্শনের জন্য, তাঁর নিকট পৌঁছার জন্য শিরক করা হয়, তাহলে সেই শিরক তো বান্দার জন্য উপকারী হওয়ার কথা, সেক্ষেত্রে শিরককে বান্দার জন্য ক্ষতিকর কেন মনে করা হবে?

এই প্রশ্ন উত্থাপনকারী লোকদের যুক্তি হলো, পৃথিবীর অতি সামান্য রাজা-বাদশাহদের দরবারে কোনো মাধ্যম ছাড়া পৌঁছা যায় না, আল্লাহ তো পুরো বিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি। মহাপরাক্রমশালী বাদশাহ তিনি। তাঁর নিকট আমরা, আমাদের দুআ ইত্যাদি কোনো মাধ্যম ছাড়া কী করে পৌঁছাব? নিশ্চয় আমাদের কোনো মাধ্যমসূত্র থাকতে হবে। এজন্য আমরা অপরের যে ইবাদাত করি, মূলত তা আল্লাহ তাআলাকে পাওয়ার জন্যই। এটা কেবলই একটা মাধ্যমমাত্র।

এই শ্রেণির মানুষের অভিযোগ হলো, যদি উপরোল্লিখিত এই সামান্য কাজকে শিরক বলা হয়, তাহলে এ সামান্য কারণেই কি একজন মুমিনের জন্য মুশরিককে হত্যা করা বৈধ হয়ে যাবে? তার সম্পদ ভোগ করা হালাল হয়ে যাবে? মৃত্যুর পর তাকে অনন্তকাল দোযখের আগুনে পুড়তে হবে?

📘 রূহের খোরাক > 📄 সংশয়ের নিষ্পত্তি

📄 সংশয়ের নিষ্পত্তি


এমন সংশয় নিরসনের জন্য প্রথমে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জেনে নিতে হবে। নৈকট্যলাভের জন্য কোনো মাধ্যম গ্রহণ করা আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন কিনা? আমরা কি জানি শরীয়তে শিরক কীসের ভিত্তিতে হারাম হয়েছে? শরীয়তের কোনো বিষয় সঠিকভাবে না জেনে বলে বেড়ানো কি ঠিক? এ বিষয়ে শরীয়তের কোনো সংজ্ঞা কি আছে?
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ
'আল্লাহ তাআলা তাঁর সঙ্গে কৃত শিরকের গুনাহকে ক্ষমা করবেন না। শিরক ব্যতীত অন্য সব গুনাহ তিনি চাইলে ক্ষমা করে দেবেন।[১]
শিরকের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে অতিসত্বর কোনো সিদ্ধান্তে না এসে প্রথমেই এ প্রশ্নগুলি গভীরভাবে ভাবা উচিত। আমাদের জানতে হবে, 'মুশরিক' এবং 'মুওয়াহহিদ', আল্লাহর পরিচয় থেকে দূরে থাকা ব্যক্তি এবং আল্লাহর পরিচয় লাভকারী ব্যক্তির মধ্যে তফাত কী। জান্নাতবাসী মানুষের সঙ্গে জাহান্নামবাসীর পার্থক্য কোথায়। এ বিষয়গুলি সহজাত বিষয় নয়। তাই ভাবনার আগেও আল্লাহ তাআলার দরবারে হিদায়াতের জন্য দুআ করে নেয়া উচিত। তিনি যেন সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। অন্যথায় শত দ্বিধায় আচ্ছাদিত এ বন্ধুর পথ অতিক্রম করা সত্যিই কঠিন। আল্লাহ ছাড়া হিদায়াতের মালিক কেউ নেই। তাই হিদায়াতের জন্য তাঁরই অভিমুখী হওয়া কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর হিদায়াতের পথে অবিচল রাখুন। আমীন।

টিকাঃ
[১] সূরা নিসা, আয়াত-ক্রম: ৪৮

📘 রূহের খোরাক > 📄 শিরক দুই প্রকার

📄 শিরক দুই প্রকার


১. আল্লাহর সত্তার সঙ্গে শিরক।
২. আল্লাহ তাআলার ইবাদাত ও আদেশ পালনের ক্ষেত্রে শিরক।
প্রথম প্রকারের শিরককে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-

ক. এমন শিরক যাকে আরবীতে শিরকৃত তা'তীল বলা হয়। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলাকে তাঁর গুণাবলি ও ক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অক্ষম মনে করা। এটি সবচেয়ে ভয়ংকর শিরক। পবিত্র কুরআনে ফিরআউনের কথা বর্ণিত আছে, সে অবজ্ঞাভরে বলেছিল-

وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ
'বিশ্বজগতের প্রতিপালক আবার কী!' [১]

وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحًا لَعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ - أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا
'তারপর ফিরআউন হামানকে বলেছিল, আমার জন্য একটি উঁচু প্রাসাদ নির্মাণ করো, যেন আমি তাতে আরোহণ করে মুসার প্রভুকে উঁকি মেরে দেখে আসতে পারি। আমি মুসাকে মিথ্যাবাদী বলেই মনে করি।[২]

খ. এই প্রকার শিরকের দ্বিতীয় ভাগ হলো আল্লাহকে অক্ষম না ভেবেই তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। তা'তীল তথা আল্লাহ তাআলাকে অক্ষম মনে করার তিন অর্থ-

১. সৃষ্টিকর্তাকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা।
২. সৃষ্টিকর্তার সর্বময় ক্ষমতার ব্যাপারে আস্থাশীল না হওয়া।
৩. আল্লাহ তাআলার পৃথক অস্তিত্বকে অগ্রাহ্য করা। তাঁকে সৃষ্টিজীবের সমতুল্য মনে করা। অর্থাৎ যা সৃষ্টি, তাই স্রষ্টা; সৃষ্টি ও স্রষ্টার পৃথক পৃথক অস্তিত্ব অস্বীকার করা।

পৃথিবীতে আরও আরও শিরক রয়ে গেছে। এক দল মানুষ মনে করে পৃথিবী একটি চিরস্থায়ী আবাসভূমি। এর কোনো অনস্তিত্ব ছিল না। চিরকাল ধরেই পৃথিবী বিদ্যমান। কোনোদিন তার অস্তিত্ব বিনাশ হবে না। পৃথিবী থেকে যাবে। কোনোদিন ধ্বংস হবে না।

জাহমিয়া এবং কারামিতা নামের দুটি দল আছে, তাদের শিরকের প্রকার ভয়ংকর। তারা মনে করে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। তবে পৃথিবীর সৃষ্টি এবং সর্বময় কৃতিত্ব আল্লাহর নয়। তারা আল্লাহর অস্তিত্বকে স্বীকার করে কিন্তু তাঁর গুণাবলিকে স্বীকার করে না। তাদের নিকট স্রষ্টা মানুষের চেয়েও হেয় প্রকৃতির এক সত্তা (নাউযুবিল্লাহ)।

টিকাঃ
[১] সূরা শুআরা, আয়াত-ক্রম: ২৩
[২] সূরা গাফির, আয়াত-ক্রম: ৩৬, ৩৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00