📘 রূহের খোরাক > 📄 বিশ্বস্ত সৃষ্টির পেছনে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য

📄 বিশ্বস্ত সৃষ্টির পেছনে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য


আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। সমগ্র পৃথিবীকে তিনিই সৃষ্টি করেছেন। এসবের পেছনে তাঁর কী উদ্দেশ্য? আল্লাহ তাআলা চান, বান্দা যেন তাঁকে চিনতে পারে। তাঁর ইবাদাত করে। তাঁর একত্ববাদের ওপর অটল থাকে। এবং জগতের সর্বত্র তাঁর দ্বীনের পয়গাম পৌঁছে দেয়। তিনি ইরশাদ করেন—
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
| 'আমি জীন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদাতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।'[১]
অন্য আয়াতে ইরশাদ করেছেন—
وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا إِلَّا بِالْحَقِّ
'আমি আসমান, জমিন এবং এতদুভয়ের মাঝখানে কোনো কিছুই নিরর্থক সৃষ্টি করিনি।'[২]
আরেকটি আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে—
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا
'আল্লাহ তাআলা সাত আসমান ও সাত জমিন সৃষ্টি করেছেন। এতদুভয়ের মাঝে তাঁর আদেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা অবগত হও যে, তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এবং তাঁর জ্ঞান সকল কিছুকে বেষ্টন করে আছে।'[৩]
পবিত্র কুরআনে আরো ইরশাদ হচ্ছে-
جَعَلَ اللَّهُ الْكَعْبَةَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ قِيَامًا لِلنَّاسِ وَالشَّهْرَ الْحَرَامَ وَالْهَدْيَ وَالْقَلَائِدَ ذَلِكَ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
'আল্লাহ তাআলা পবিত্র কাবাগৃহ, পবিত্র মাস, কুরবানীর পশু এবং পশুর গলার রশিকে মানুষের জন্য নিরাপত্তার উপকরণ বানিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝতে পার, আল্লাহ আসমান ও জমিনের সর্ববিষয়ে অবগত এবং তিনি সকল বিষয় সম্পর্কে জানেন। '১
উল্লিখিত আয়াত সমূহের আলোকে পর্যবেক্ষণ করলে এ বিশাল সৃষ্টিজগতের পেছনে আল্লাহ তাআলার একটা উদ্দেশ্যই পরিলক্ষিত হয়। সেটি হলো, বান্দা যেন তাঁর রবকে, তাঁর সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজে পায়। তাঁর সকল গুণাবলি ও মর্যাদাবাচক নামসমূহের পরিচয়সহ তাঁকে চিনতে পারে। কেবল তাঁরই ইবাদাত করে। তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক না করে। সত্য ও ন্যায়ের ওপর অবিচল থাকে। কেননা, সত্য ও ন্যায়ের ওপরেই তিনি এ বিশ্বজগতকে টিকিয়ে রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ
'আমি রাসূলদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে প্রেরণ করেছি। এবং তাদের সঙ্গে অবতীর্ণ করেছি কিতাব এবং (ন্যায়ের) মানদণ্ড; যেন মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। '২

টিকাঃ
[১] সূরা যারিয়াত, আয়াত-ক্রম: ৫৬
[২] সূরা হিজর, আয়াত-ক্রম: ৮৫
[৩] সূরা তালাক, আয়াত-ক্রম: ১২
[১] সূরা মায়িদাহ, আয়াত-ক্রম: ৯৭
[২] সূরা হাদীদ, আয়াত-ক্রম: ২৫

📘 রূহের খোরাক > 📄 শিরক : সবচেয়ে বড় গুনাহ

📄 শিরক : সবচেয়ে বড় গুনাহ


আল্লাহ তাআলার সরাসরি অবাধ্যতা হলো শিরক করা। শিরক গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার জন্য অন্য কোনো গুনাহের সংশ্লিষ্টতার দরকার নেই। শিরক নিজেই গুনাহের শেকড়। এ জন্যই শিরককে আকবারুল কাবায়ির বা সর্বোচ্চ কবীরা গুনাহ বলে অভিহিত করা হয়েছে। আল্লাহ মুশরিকদের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। এবং একত্ববাদে বিশ্বাসীদের জন্য মুশরিকদের ধন-সম্পদ ও স্ত্রী হালাল করে দিয়েছেন। মুশরিকরা আল্লাহর ইবাদাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য এই শাস্তির বিধান করা হয়েছে। যদি কোনো মুশরিক তাঁর শিরকের ওপর বহাল থাকে, তাহলে মুমিনরা তাকে নিজেদের ক্রীতদাস বানিয়ে নিতে পারবে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিয়েছেন, মুশরিকদের কোনো আমল তিনি কবুল করবেন না। তাদের পক্ষ হয়ে কৃত কোনো সুপারিশ তিনি গ্রহণ করবেন না। মুশরিকের পরকালীন কল্যাণ কামনা করে কৃত কোনো দুআও তিনি কবুল করবেন না। মুশরিক হলো সৃষ্টিজীবের মধ্যে সবচেয়ে মূর্খ জীব। সে নিজের প্রতিপালককে চিনতে ব্যর্থ হয়েছে। অপর এক সৃষ্টিকেই আল্লাহর অনুরূপ ভেবে উপাসনা করেছে। এ অজ্ঞতার কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না।

টিকাঃ
[১] সূরা লুকমান, আয়াত-ক্রম: ১৩

📘 রূহের খোরাক > 📄 একটি সংশয়

📄 একটি সংশয়


শিরক সাধারণত দুই কারণে করা হয়।

ক. আল্লাহ তাআলাকে অসম্মান করার জন্য।

খ. আল্লাহ তাআলার প্রতি আরও বেশি সম্মান প্রদর্শনের জন্য।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। যদি আল্লাহ তাআলাকে অধিক সম্মান প্রদর্শনের জন্য, তাঁর নিকট পৌঁছার জন্য শিরক করা হয়, তাহলে সেই শিরক তো বান্দার জন্য উপকারী হওয়ার কথা, সেক্ষেত্রে শিরককে বান্দার জন্য ক্ষতিকর কেন মনে করা হবে?

এই প্রশ্ন উত্থাপনকারী লোকদের যুক্তি হলো, পৃথিবীর অতি সামান্য রাজা-বাদশাহদের দরবারে কোনো মাধ্যম ছাড়া পৌঁছা যায় না, আল্লাহ তো পুরো বিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি। মহাপরাক্রমশালী বাদশাহ তিনি। তাঁর নিকট আমরা, আমাদের দুআ ইত্যাদি কোনো মাধ্যম ছাড়া কী করে পৌঁছাব? নিশ্চয় আমাদের কোনো মাধ্যমসূত্র থাকতে হবে। এজন্য আমরা অপরের যে ইবাদাত করি, মূলত তা আল্লাহ তাআলাকে পাওয়ার জন্যই। এটা কেবলই একটা মাধ্যমমাত্র।

এই শ্রেণির মানুষের অভিযোগ হলো, যদি উপরোল্লিখিত এই সামান্য কাজকে শিরক বলা হয়, তাহলে এ সামান্য কারণেই কি একজন মুমিনের জন্য মুশরিককে হত্যা করা বৈধ হয়ে যাবে? তার সম্পদ ভোগ করা হালাল হয়ে যাবে? মৃত্যুর পর তাকে অনন্তকাল দোযখের আগুনে পুড়তে হবে?

📘 রূহের খোরাক > 📄 সংশয়ের নিষ্পত্তি

📄 সংশয়ের নিষ্পত্তি


এমন সংশয় নিরসনের জন্য প্রথমে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জেনে নিতে হবে। নৈকট্যলাভের জন্য কোনো মাধ্যম গ্রহণ করা আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন কিনা? আমরা কি জানি শরীয়তে শিরক কীসের ভিত্তিতে হারাম হয়েছে? শরীয়তের কোনো বিষয় সঠিকভাবে না জেনে বলে বেড়ানো কি ঠিক? এ বিষয়ে শরীয়তের কোনো সংজ্ঞা কি আছে?
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ
'আল্লাহ তাআলা তাঁর সঙ্গে কৃত শিরকের গুনাহকে ক্ষমা করবেন না। শিরক ব্যতীত অন্য সব গুনাহ তিনি চাইলে ক্ষমা করে দেবেন।[১]
শিরকের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে অতিসত্বর কোনো সিদ্ধান্তে না এসে প্রথমেই এ প্রশ্নগুলি গভীরভাবে ভাবা উচিত। আমাদের জানতে হবে, 'মুশরিক' এবং 'মুওয়াহহিদ', আল্লাহর পরিচয় থেকে দূরে থাকা ব্যক্তি এবং আল্লাহর পরিচয় লাভকারী ব্যক্তির মধ্যে তফাত কী। জান্নাতবাসী মানুষের সঙ্গে জাহান্নামবাসীর পার্থক্য কোথায়। এ বিষয়গুলি সহজাত বিষয় নয়। তাই ভাবনার আগেও আল্লাহ তাআলার দরবারে হিদায়াতের জন্য দুআ করে নেয়া উচিত। তিনি যেন সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। অন্যথায় শত দ্বিধায় আচ্ছাদিত এ বন্ধুর পথ অতিক্রম করা সত্যিই কঠিন। আল্লাহ ছাড়া হিদায়াতের মালিক কেউ নেই। তাই হিদায়াতের জন্য তাঁরই অভিমুখী হওয়া কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর হিদায়াতের পথে অবিচল রাখুন। আমীন।

টিকাঃ
[১] সূরা নিসা, আয়াত-ক্রম: ৪৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00