📘 রূহের খোরাক > 📄 সগীরা ও কবীরা গুনাহ

📄 সগীরা ও কবীরা গুনাহ


গুনাহের বহুল প্রচলিত দুটি প্রকার হলো-
১. কবীরা গুনাহ
২. সগীরা গুনাহ
কুরআন ও সুন্নাহ-উভয়টাতেই এই প্রকারভেদের প্রমাণ পাওয়া যায়। সাহাবায়ে কেরাম, তাবিয়ীন ও পরবর্তী যুগের ইমামগণ সকলেই এ বিষয়ে একমত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُدْخَلًا كَرِيمًا
'যদি তোমরা নিষিদ্ধ বড় বড় গুনাহ থেকে বিরত থাকো, তাহলে তোমাদের ছোট ছোট গুনাহ আমি মাফ করে দেব।।১
অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন-
الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ
'তারাই ওই সকল ব্যক্তি, যারা কবীরা গুনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে, তবে ছোট ছোট গুনাহ ব্যতীত।।২
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
আল সালাওয়াতুল খামসু, ওয়াল জুমুআতু ইলাল জুমুআতি, ওয়া রামাদান ইলা রামাদান। মুকাফ্ফিরাতুন লিমা বাইনাহুন্না ইজাজ তুনিবাতিল কাবায়ের。
‘কবীরা গুনাহ থেকে যদি বেঁচে থাকা যায়, তাহলে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত, এবং এক রামাদান থেকে পরবর্তী রামাদান পর্যন্ত সময়—মধ্যবর্তী সময়ের সকল গুনাহের জন্য কাফফারা হয়ে যায়।’

টিকাঃ
[১] সূরা নিসা, আয়াত-ক্রম: ৩১
[২] সূরা নাজম, আয়াত-ক্রম: ৩২

📘 রূহের খোরাক > 📄 যেসব আমলে গুনাহ মোচন হয়, তা তিন ধরনের

📄 যেসব আমলে গুনাহ মোচন হয়, তা তিন ধরনের


১. গুনাহের তুলনায় গুনাহ-মোচনকারী আমলটি নেহায়েত দুর্বল হওয়া। আমলের মধ্যে ইখলাস ও একনিষ্ঠতার অভাব থাকলে এবং আমলটি যথাযথভাবে আদায় না করলে এমনটা হয়। বান্দার এ আমল যেন বড় কোনো রোগের প্রতিকারে হাতুড়ে চিকিৎসকের ওষুধ। এমন আমল দ্বারা উপরোল্লিখিত গুনাহসমূহের কাফফারা সম্ভব নয়। গুনাহ যতটা শক্তিশালী, তার কাফফারার আমলটিও ততটা শক্তিশালী হতে হবে।
২. আমল শক্তিশালী হওয়া, তবে কবীরা গুনাহ মোচনের মতো যথেষ্ট শক্তিশালী না হওয়া। এমন আমল দ্বারা শুধুমাত্র সগীরা গুনাহ মোচন হতে পারে।
৩. সর্বোচ্চ শক্তিশালী আমল। যা দ্বারা সমুদয় সগীরা গুনাহ এবং কতিপয় কবীরা গুনাহ মোচন করা সম্ভব হয়।
উপরোক্ত তিনটি স্তর বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, আমল দ্বারা কেবল সগীরা গুনাহের কাফফারা সম্ভব। অবশ্যি কিছু কিছু কবীরা গুনাহের কাফফারাও এর দ্বারা আদায় হয়, কিন্তু অধিকাংশ কবীরা গুনাহ বাকি থেকে যায়। আমরা এখন এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
কবীরা গুনাহের ব্যাপারে সহীহ বুখারীর বর্ণনা, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন—
اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ، قِيلَ: وَمَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: الْإِشْرَاكُ بِاللهِ، وَالسِّحْرُ ، وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ، وَأَكُلُ مَالِ الْيَتِيمِ، وَأَكُلُ الرِّبَا، وَالتَّوَلَّى يَوْمَ الزَّحْفِ، وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ
'তোমরা সাতটি বড় গুনাহ থেকে বিরত থাকো।' জিজ্ঞেস করা হলো, 'আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী কী?' নবীজি উত্তরে বললেন-১. আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা। ২. জাদু করা। ৩. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা। ৪. ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা। ৫. সুদ গ্রহণ করা। ৬. যুদ্ধ থেকে পলায়ন করা।৭. সতীসাধ্বী নারীকে ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়া। ১
সহীহ বুখারী ও মুসলিমের অন্য এক হাদীসে আছে, জনৈক সাহাবী নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি?' নবীজি উত্তরে বললেন, 'কাউকে আল্লাহ তাআলার সমকক্ষ স্থির করা, অথচ আল্লাহ তাআলাই তোমাদের সৃষ্টিকর্তা।' সাহাবী আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'তারপর কোন গুনাহটি সবচেয়ে বড়?' নবীজি বললেন, 'আয়-রোজগারে ভাগ বসাবে, এই ভয়ে নিজের সন্তানকে হত্যা করা।' সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন, 'তারপর কোন গুনাহ?' নবীজি ইরশাদ করলেন, 'প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।' '২
উল্লিখিত হাদীসের সত্যায়নে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-
وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ
|'এবং যে সকল লোক আল্লাহ তাআলার সঙ্গে অন্য কাউকে উপাস্য মনে করে ডাকে না, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে না, এবং ব্যভিচার করে না...’।

টিকাঃ
[১] শরীয়তের পরিভাষায় ‘কাফফারা’র অর্থ হলো—নেক আমল দিয়ে অথবা কৃত অপরাধের বদলা দিয়ে গুনাহ মোচন করা।
[১] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ২৭৬৬
[২] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৬৮৬১; মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ৮৬
[১] সূরা ফুরকান, আয়াত-ক্রম: ৬৮

📘 রূহের খোরাক > 📄 কবীরা গুনাহের সংখ্যা

📄 কবীরা গুনাহের সংখ্যা


কবীরা গুনাহের সঠিক সংখ্যা নিয়ে সাহাবায়ে কেরাম, তাবিয়ীন এবং ইমামগণের মধ্যে বহু মতানৈক্য রয়েছে। তবে অনেকে এ ব্যাপারে একমত যে, কবীরা গুনাহ সীমাবদ্ধ। কিন্তু তা কত সংখ্যায় সীমাবদ্ধ এ নিয়েও প্রচুর মতবিরোধ পাওয়া যায়। কয়েকটি মত উল্লেখ করা হলো-
* আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, 'কবীরা গুনাহ চারটি।'
* আবদুল্লাহ ইবনু উমর বলেন, 'কবীরা গুনাহ সাতটি।'
* আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস বলেন, 'কবীরা গুনাহ নয়টি।'
* কারো মতে ১১টি。
* কারো মতে ১৭টি。
আবু তালিব মাক্কীর মতে সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনা থেকে যেসকল গুনাহকে কবীরা গুনাহরূপে চিহ্নিত করা যায়, তা কয়েক ভাগে বিভক্ত।
আত্মার সাথে সংশ্লিষ্ট কবীরা গুনাহ
আত্মার সাথে সংশ্লিষ্ট কবীরা গুনাহ চারটি।
ক. আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা।
খ. একই গুনাহ বারবার করতে থাকা।
গ. আল্লাহ তাআলার রহমত থেকে নিরাশ হওয়া।
ঘ. আল্লাহ তাআলার ক্রোধ থেকে বেখেয়াল থাকা।
জিহ্বার সাথে সংশ্লিষ্ট কবীরা গুনাহ
জিহ্বার সাথে সংশ্লিষ্ট কবীরা গুনাহও চারটি।
ক. মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া।
খ. সতীসাধ্বী কোনো নারীর ওপর অপবাদ আরোপ করা।
গ. মিথ্যা কসম খাওয়া।
ঘ. জাদু করা।
পাকস্থলীর সাথে সংশ্লিষ্ট কবীরা গুনাহ
পাকস্থলীর সাথে সংশ্লিষ্ট কবীরা গুনাহ তিনটি।
ক. মদপান করা।
খ. ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা।
গ. সুদ খাওয়া।
লজ্জাস্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট কবীরা গুনাহ
লজ্জাস্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট কবীরা গুনাহ দুইটি।
ক. যিনা বা ব্যভিচার।
খ. সমকামিতা।
হাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কবীরা গুনাহ
হাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কবীরা গুনাহ দুইটি।
১. রক্তপাত।
২. চুরি।
পায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কবীরা গুনাহ
পায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কবীরা গুনাহ একটি।
জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করা।
সমস্ত শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট কবীরা গুনাহ
সমস্ত শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট কবীরা গুনাহও একটি।
পিতামাতাকে কষ্ট দেয়া।
যেসকল আলিম কবীরা গুনাহকে সীমিত মনে করেন না, তাঁদের একদলের বক্তব্য হলো, কুরআন শরীফে যেসব গুনাহকে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেগুলো হলো কবীরা গুনাহ। আর যেব গুনাহকে রাসূল কর্তৃক নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা সগীরা গুনাহ।
অন্য একদল আলিম বলেন, কবীরা গুনাহ হলো, যেসকল গুনাহের পরিণতিতে আল্লাহ তাআলার ক্রোধ, গজব ও শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। আর যেসকল গুনাহের ক্ষেত্রে এমনতর ভয়াবহ কোনো শাস্তি কিংবা আল্লাহ তাআলার ক্রোধের কথা বলা হয়নি, সেগুলো সগীরা গুনাহ।
কিছু উলামায়ে কেরাম বলে থাকেন, কবীরা গুনাহ হলো, যেসকল গুনাহের পরিণতিতে আল্লাহ তাআলার ক্রোধ, গজব ও শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। আর যেসকল গুনাহের ক্ষেত্রে এমনতর ভয়াবহ কোনো শাস্তি কিংবা আল্লাহ তাআলার ক্রোধের কথা বলা হয়নি, সেগুলো সগীরা গুনাহ।
কারো মতে, কবীরা গুনাহ হলো, যেসকল গুনাহের জন্য পৃথিবীতেই শরীয়ত-নির্ধারিত শাস্তির বিধান রয়েছে এবং আখিরাতেও ভয়ংকর শাস্তির কথা বর্ণিত আছে। আর যেসকল গুনাহের জন্য দুনিয়া-আখিরাতে কোনো শাস্তির ঘোষণা নেই, তবে তা গুনাহ হিসেবে সাব্যস্ত, এমন গুনাহ হলো সগীরা গুনাহ।
অনেকে বলেন, যেসকল গুনাহের ওপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অভিসম্পাত করেছেন, তা কবীরা গুনাহ।
কিছু ধর্মীয় আলিমদের মতে, গুনাহের পরিমাণ যত কম বা বেশিই হোক না কেন, গুনাহমাত্রই আল্লাহ তাআলার প্রতি দুঃসাহসিকতা প্রদর্শন। তারা সগীরা এবং কবীরা গুনাহকে আলাদা করে দেখার পক্ষপাতী নন। আল্লাহ তাআলার প্রতি দুঃসাহসিকতা প্রদর্শন করা এবং তার আদেশ অমান্য করাই কবীরা গুনাহ। এই মত অনুযায়ী প্রতিটি গুনাহকেই আল্লাহ তাআলার নাফরমানি এবং তার বিধিনিষেধের প্রতি অবহেলা সাব্যস্ত করা হয়। ফলে গুনাহ যতই ক্ষুদ্রতর হোক, আল্লাহ তাআলার আদেশ-নিষেধের প্রতি অবজ্ঞার জায়গা থেকে তা অন্য সকল গুনাহের বরাবর।
এক্ষেত্রে তাঁদের যুক্তি হলো, বান্দার কোনো গুনাহই আল্লাহ তাআলার বিন্দুমাত্র ক্ষতিসাধন করতে পারে না। আল্লাহর পবিত্র সত্তার ওপর বান্দার গুনাহ বিন্দু পরিমাণ আঁচড় কাটতে পারে না। সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে নাফরমানির ক্ষেত্রে ছোট-বড়র কোনো ভেদাভেদ নাই।
তাঁদের মতে, গুনাহের কারণে পৃথবীতে যেসকল বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়, তা আল্লাহর আদেশ অমান্যের সূত্র ধরেই আসে। অতএব গুনাহ যে স্তর বা পরিমাণের হবে, তার পরিণামে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলাও তেমনই হবে। কোনো ব্যক্তি যদি হারাম পথে অর্থ উপার্জন করে, অথবা মদ্যপান করে, কিন্তু এসব গর্হিত কাজ যে শরীয়তে হারাম, তা সে জানে না, তাহলে তার দুই প্রকারের গুনাহ হবে। প্রথমত, শরীয়তের আবশ্যকীয় জ্ঞান থেকে অজ্ঞ থাকার গুনাহ। দ্বিতীয়ত, হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার গুনাহ। আর যদি কোনো ব্যক্তি উপরোক্ত গুনাহগুলি হারাম জেনেও করে বসে, তাহলে সে এক প্রকারের গুনাহ করল। শুধুমাত্র যেই গুনাহে লিপ্ত হয়েছে সেটাই ধরা হবে। অজ্ঞতার জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে না। বোঝা গেল, গুনাহের বিভিন্ন স্তর আল্লাহ তাআলার প্রতি দুঃসাহসিকতার পরিমাণ অনুসারেই হয়।
কবীরা ও সগীরা গুনাহের পার্থক্য নিয়ে উলামায়ে কেরামদের মধ্যে যতই মতানৈক্য থাকুক, সকলেই মনে করেন, গুনাহ কবীরা হোক বা সগীরা, প্রত্যেকটাই আল্লাহ তাআলার হুকুম না মানার কারণেই সংঘটিত হয়ে থাকে। তাই বান্দার উচিত সগীরা ও কবীরা গুনাহের দ্বন্দে প্রতারিত না হয়ে আল্লাহ তাআলার ইযযতের প্রতি খেয়াল রাখা এবং গুনাহ থেকে বিরত থাকা।
ধরা যাক, কোনো মহাপ্রতাপশালী বাদশাহ তাঁর দুজন কর্মচারীকে দুটি কাজে পাঠালেন। একজনকে পাঠালেন বহু দূর-দেশে। অন্যজনকে প্রাসাদের আশপাশে কোথাও। দূরত্ব যেমনই হোক, কাজে ভুল হলে দুজনই বাদশার বিরাগভাজনে পরিণত হবে। অপরাধ অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত হবে।
অথবা ধরা যাক, এক ব্যক্তির কাছে ২০০ দিরহাম আছে; সে যাকাত আদায় করে না। অপর এক ব্যক্তির কাছে দুই হাজার দিরহাম আছে; সেও যাকাত আদায় করে না। তাদের দুজনের টাকার পরিমাণ সমান নয়। এবং তাদের ওপর ওয়াজিব হওয়া যাকাতের পরিমাণও এক নয়। কিন্তু যাকাত আদায় না করার অপরাধে তারা দুজনই সমান। সুতরাং মক্কায় বসে হজে অংশগ্রহণ করতে না পারা মক্কা থেকে দূরবাসী কোনো ব্যক্তির অংশগ্রহণ করতে না পারার চেয়ে বেশি গুনাহ, অথবা মসজিদের প্রতিবেশী জুমার নামাযে শামিল হতে না পারা, দূরাগত কোনো ব্যক্তির শামিল হতে না পারার চেয়ে গুরুতর অপরাধ-এ কথা সঠিক নয়। প্রত্যেকেরই সমান অপরাধ।

📘 রূহের খোরাক > 📄 বিশ্বস্ত সৃষ্টির পেছনে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য

📄 বিশ্বস্ত সৃষ্টির পেছনে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য


আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। সমগ্র পৃথিবীকে তিনিই সৃষ্টি করেছেন। এসবের পেছনে তাঁর কী উদ্দেশ্য? আল্লাহ তাআলা চান, বান্দা যেন তাঁকে চিনতে পারে। তাঁর ইবাদাত করে। তাঁর একত্ববাদের ওপর অটল থাকে। এবং জগতের সর্বত্র তাঁর দ্বীনের পয়গাম পৌঁছে দেয়। তিনি ইরশাদ করেন—
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
| 'আমি জীন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদাতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।'[১]
অন্য আয়াতে ইরশাদ করেছেন—
وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا إِلَّا بِالْحَقِّ
'আমি আসমান, জমিন এবং এতদুভয়ের মাঝখানে কোনো কিছুই নিরর্থক সৃষ্টি করিনি।'[২]
আরেকটি আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে—
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا
'আল্লাহ তাআলা সাত আসমান ও সাত জমিন সৃষ্টি করেছেন। এতদুভয়ের মাঝে তাঁর আদেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা অবগত হও যে, তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এবং তাঁর জ্ঞান সকল কিছুকে বেষ্টন করে আছে।'[৩]
পবিত্র কুরআনে আরো ইরশাদ হচ্ছে-
جَعَلَ اللَّهُ الْكَعْبَةَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ قِيَامًا لِلنَّاسِ وَالشَّهْرَ الْحَرَامَ وَالْهَدْيَ وَالْقَلَائِدَ ذَلِكَ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
'আল্লাহ তাআলা পবিত্র কাবাগৃহ, পবিত্র মাস, কুরবানীর পশু এবং পশুর গলার রশিকে মানুষের জন্য নিরাপত্তার উপকরণ বানিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝতে পার, আল্লাহ আসমান ও জমিনের সর্ববিষয়ে অবগত এবং তিনি সকল বিষয় সম্পর্কে জানেন। '১
উল্লিখিত আয়াত সমূহের আলোকে পর্যবেক্ষণ করলে এ বিশাল সৃষ্টিজগতের পেছনে আল্লাহ তাআলার একটা উদ্দেশ্যই পরিলক্ষিত হয়। সেটি হলো, বান্দা যেন তাঁর রবকে, তাঁর সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজে পায়। তাঁর সকল গুণাবলি ও মর্যাদাবাচক নামসমূহের পরিচয়সহ তাঁকে চিনতে পারে। কেবল তাঁরই ইবাদাত করে। তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক না করে। সত্য ও ন্যায়ের ওপর অবিচল থাকে। কেননা, সত্য ও ন্যায়ের ওপরেই তিনি এ বিশ্বজগতকে টিকিয়ে রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ
'আমি রাসূলদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে প্রেরণ করেছি। এবং তাদের সঙ্গে অবতীর্ণ করেছি কিতাব এবং (ন্যায়ের) মানদণ্ড; যেন মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। '২

টিকাঃ
[১] সূরা যারিয়াত, আয়াত-ক্রম: ৫৬
[২] সূরা হিজর, আয়াত-ক্রম: ৮৫
[৩] সূরা তালাক, আয়াত-ক্রম: ১২
[১] সূরা মায়িদাহ, আয়াত-ক্রম: ৯৭
[২] সূরা হাদীদ, আয়াত-ক্রম: ২৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00