📘 রূহের খোরাক > 📄 হিংস্র স্বভাবের গুনাহ

📄 হিংস্র স্বভাবের গুনাহ


পাশবিক ও হিংস্র স্বভাবের গুনাহ হলো, অন্যের ওপর জোর-জুলুম করা। অতিমাত্রায় রাগ করা। অনর্থক ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া এবং রক্তপাত ঘটানো। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দুস্থ ও অক্ষম লোকদের ক্ষতিসাধন করা। এ হলো হিংস্র স্বভাবের গুনাহের মৌলিক কিছু দিক। তবে জোর-জুলুম ও অত্যাচারের মতো কোনো একটি গুনাহে লিপ্ত হলে তা থেকে বান্দা অনায়াসেই শত শত গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়। এভাবে একটি গুনাহ হাজারও গুনাহ টেনে আনে।

📘 রূহের খোরাক > 📄 পাশবিক স্বভাবের গুনাহ

📄 পাশবিক স্বভাবের গুনাহ


গুনাহগার ব্যক্তির মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসা, নির্লজ্জতা, বেহায়াপনা, কাম-প্রবৃত্তি-ইত্যাদি নিকৃষ্ট চরিত্র বিদ্যমান থাকে। ফলে সে অবলীলায় যিনা, ব্যভিচার, চুরি, ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ, কৃপণতা, কাপুরুষতা, ধোঁকাবাজির মতো সামাজিক অপরাধে লিপ্ত হয়ে যায়। এ সকল গুনাহে মানুষ সাধারণত ব্যাপকহারে লিপ্ত হয়। কেননা, প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে হিংস্র স্বভাবের গুনাহ, যেমন জুলুম-অত্যাচারে লিপ্ত হওয়ার মতো ক্ষমতা থাকে না। তবে এ সকল গুনাহকেও শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, আপাতদৃষ্টিতে এ ধরনের ছোট ছোট গুনাহ মানুষকে অন্যান্য গুরুতর অপরাধে লিপ্ত করতে উৎসাহিত করে। যারা ছোট ছোট গুনাহ থেকে বিরত থাকার মতো আত্মিক শক্তি অর্জন করতে পারে না, শয়তান তাদের উপর শক্তভাবে সওয়ার হয় এবং তাদেরকে আল্লাহর একত্ববাদের সাধনা থেকে শিরকের দিকে টেনে নিয়ে যায়। নিজের অজান্তেই তারা বিতাড়িত ইবলিস শয়তানের বাধ্যগত অনুচরে পরিণত হয়।
উপরোক্ত বর্ণনা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, মানুষের আদি প্রবৃত্তির ছোট ছোট বাসনাগুলোই শিরকের মতো বড় গুনাহের প্রবেশদ্বার। কেউ একবার এর ভেতরে প্রবেশ করে ফেললে গুনাহের অন্ধকারে নিজ অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে। এবং বড় বড় গুনাহের দিকে ক্রমশ ধাবিত হতে থাকে।

📘 রূহের খোরাক > 📄 সগীরা ও কবীরা গুনাহ

📄 সগীরা ও কবীরা গুনাহ


গুনাহের বহুল প্রচলিত দুটি প্রকার হলো-
১. কবীরা গুনাহ
২. সগীরা গুনাহ
কুরআন ও সুন্নাহ-উভয়টাতেই এই প্রকারভেদের প্রমাণ পাওয়া যায়। সাহাবায়ে কেরাম, তাবিয়ীন ও পরবর্তী যুগের ইমামগণ সকলেই এ বিষয়ে একমত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُدْخَلًا كَرِيمًا
'যদি তোমরা নিষিদ্ধ বড় বড় গুনাহ থেকে বিরত থাকো, তাহলে তোমাদের ছোট ছোট গুনাহ আমি মাফ করে দেব।।১
অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন-
الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ
'তারাই ওই সকল ব্যক্তি, যারা কবীরা গুনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে, তবে ছোট ছোট গুনাহ ব্যতীত।।২
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
আল সালাওয়াতুল খামসু, ওয়াল জুমুআতু ইলাল জুমুআতি, ওয়া রামাদান ইলা রামাদান। মুকাফ্ফিরাতুন লিমা বাইনাহুন্না ইজাজ তুনিবাতিল কাবায়ের。
‘কবীরা গুনাহ থেকে যদি বেঁচে থাকা যায়, তাহলে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত, এবং এক রামাদান থেকে পরবর্তী রামাদান পর্যন্ত সময়—মধ্যবর্তী সময়ের সকল গুনাহের জন্য কাফফারা হয়ে যায়।’

টিকাঃ
[১] সূরা নিসা, আয়াত-ক্রম: ৩১
[২] সূরা নাজম, আয়াত-ক্রম: ৩২

📘 রূহের খোরাক > 📄 যেসব আমলে গুনাহ মোচন হয়, তা তিন ধরনের

📄 যেসব আমলে গুনাহ মোচন হয়, তা তিন ধরনের


১. গুনাহের তুলনায় গুনাহ-মোচনকারী আমলটি নেহায়েত দুর্বল হওয়া। আমলের মধ্যে ইখলাস ও একনিষ্ঠতার অভাব থাকলে এবং আমলটি যথাযথভাবে আদায় না করলে এমনটা হয়। বান্দার এ আমল যেন বড় কোনো রোগের প্রতিকারে হাতুড়ে চিকিৎসকের ওষুধ। এমন আমল দ্বারা উপরোল্লিখিত গুনাহসমূহের কাফফারা সম্ভব নয়। গুনাহ যতটা শক্তিশালী, তার কাফফারার আমলটিও ততটা শক্তিশালী হতে হবে।
২. আমল শক্তিশালী হওয়া, তবে কবীরা গুনাহ মোচনের মতো যথেষ্ট শক্তিশালী না হওয়া। এমন আমল দ্বারা শুধুমাত্র সগীরা গুনাহ মোচন হতে পারে।
৩. সর্বোচ্চ শক্তিশালী আমল। যা দ্বারা সমুদয় সগীরা গুনাহ এবং কতিপয় কবীরা গুনাহ মোচন করা সম্ভব হয়।
উপরোক্ত তিনটি স্তর বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, আমল দ্বারা কেবল সগীরা গুনাহের কাফফারা সম্ভব। অবশ্যি কিছু কিছু কবীরা গুনাহের কাফফারাও এর দ্বারা আদায় হয়, কিন্তু অধিকাংশ কবীরা গুনাহ বাকি থেকে যায়। আমরা এখন এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
কবীরা গুনাহের ব্যাপারে সহীহ বুখারীর বর্ণনা, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন—
اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ، قِيلَ: وَمَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: الْإِشْرَاكُ بِاللهِ، وَالسِّحْرُ ، وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ، وَأَكُلُ مَالِ الْيَتِيمِ، وَأَكُلُ الرِّبَا، وَالتَّوَلَّى يَوْمَ الزَّحْفِ، وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ
'তোমরা সাতটি বড় গুনাহ থেকে বিরত থাকো।' জিজ্ঞেস করা হলো, 'আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী কী?' নবীজি উত্তরে বললেন-১. আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা। ২. জাদু করা। ৩. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা। ৪. ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা। ৫. সুদ গ্রহণ করা। ৬. যুদ্ধ থেকে পলায়ন করা।৭. সতীসাধ্বী নারীকে ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়া। ১
সহীহ বুখারী ও মুসলিমের অন্য এক হাদীসে আছে, জনৈক সাহাবী নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি?' নবীজি উত্তরে বললেন, 'কাউকে আল্লাহ তাআলার সমকক্ষ স্থির করা, অথচ আল্লাহ তাআলাই তোমাদের সৃষ্টিকর্তা।' সাহাবী আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'তারপর কোন গুনাহটি সবচেয়ে বড়?' নবীজি বললেন, 'আয়-রোজগারে ভাগ বসাবে, এই ভয়ে নিজের সন্তানকে হত্যা করা।' সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন, 'তারপর কোন গুনাহ?' নবীজি ইরশাদ করলেন, 'প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।' '২
উল্লিখিত হাদীসের সত্যায়নে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-
وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ
|'এবং যে সকল লোক আল্লাহ তাআলার সঙ্গে অন্য কাউকে উপাস্য মনে করে ডাকে না, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে না, এবং ব্যভিচার করে না...’।

টিকাঃ
[১] শরীয়তের পরিভাষায় ‘কাফফারা’র অর্থ হলো—নেক আমল দিয়ে অথবা কৃত অপরাধের বদলা দিয়ে গুনাহ মোচন করা।
[১] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ২৭৬৬
[২] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৬৮৬১; মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ৮৬
[১] সূরা ফুরকান, আয়াত-ক্রম: ৬৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00