📘 রূহের খোরাক > 📄 শিরক দুই প্রকার

📄 শিরক দুই প্রকার


১. আল্লাহ তাআলার নাম ও ক্ষমতাসমূহের মধ্যে কাউকে শরীক করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা এবং এর ইবাদাত করা।
২. ব্যবহার ও আচরণগত কোনো বিষয়ে কাউকে আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা।
দ্বিতীয় প্রকার শিরকের কারণে কখনো কখনো জাহান্নাম ওয়াজিব হয় না ঠিকই, কিন্তু শিরকযুক্ত ওই আমল বাতিল বলে বিবেচিত হয়।
প্রথম প্রকার শিরক সমস্ত গুনাহের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ও ভয়াবহতম গুনাহ। আল্লাহপাকের সৃষ্টিক্ষমতা ও মহাবিশ্ব পরিচালনার কাজে কোনো সৃষ্টির অন্তর্ভুক্তি প্রথম প্রকারের শিরক। এ গুনাহে জড়িত ব্যক্তি আল্লাহপাকের ক্ষমতা ও আয়ত্বের ভেতর দাঁড়িয়ে স্বয়ং আল্লাহর সঙ্গেই লড়াই করে। তার এই আচরণ সকল স্পর্ধার সীমা ছাড়িয়ে যায়। এই গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির কোনো নেক আমল কখনো আল্লাহর নিকট কবুল হবে না।

📘 রূহের খোরাক > 📄 শয়তানি স্বভাবের গুনাহ

📄 শয়তানি স্বভাবের গুনাহ


শয়তানি স্বভাবের গুনাহ হলো, বান্দা নিজের মধ্যে হিংসা, দ্বেষ, রাগ, দ্রোহ, শত্রুতা, গীবত ও ধোঁকার স্বভাব লালন করে নিজেকে রক্ত-মাংসের কোনো শয়তানে পরিণত করে ফেলা। কাউকে গুনাহে লিপ্ত হতে উৎসাহিত করা অথবা আদেশ দেওয়া। গুনাহের প্রশংসা করা। আল্লাহর আনুগত্যে বাধা প্রদান করা। পবিত্র দ্বীন-ইসলামের মধ্যে বিদআতের অনুপ্রবেশ ঘটানো। বিদআত ও গোমরাহির দিকে মানুষকে আহ্বান করা। এ সকল গুনাহের ক্ষতিকর প্রভাব শিরকের কাছাকাছি। তবে আকীদা ও বিশ্বাসের জায়গায় শিরকের গুনাহ হলো ভয়াবহ ও জঘন্যতম।

📘 রূহের খোরাক > 📄 হিংস্র স্বভাবের গুনাহ

📄 হিংস্র স্বভাবের গুনাহ


পাশবিক ও হিংস্র স্বভাবের গুনাহ হলো, অন্যের ওপর জোর-জুলুম করা। অতিমাত্রায় রাগ করা। অনর্থক ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া এবং রক্তপাত ঘটানো। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দুস্থ ও অক্ষম লোকদের ক্ষতিসাধন করা। এ হলো হিংস্র স্বভাবের গুনাহের মৌলিক কিছু দিক। তবে জোর-জুলুম ও অত্যাচারের মতো কোনো একটি গুনাহে লিপ্ত হলে তা থেকে বান্দা অনায়াসেই শত শত গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়। এভাবে একটি গুনাহ হাজারও গুনাহ টেনে আনে।

📘 রূহের খোরাক > 📄 পাশবিক স্বভাবের গুনাহ

📄 পাশবিক স্বভাবের গুনাহ


গুনাহগার ব্যক্তির মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসা, নির্লজ্জতা, বেহায়াপনা, কাম-প্রবৃত্তি-ইত্যাদি নিকৃষ্ট চরিত্র বিদ্যমান থাকে। ফলে সে অবলীলায় যিনা, ব্যভিচার, চুরি, ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ, কৃপণতা, কাপুরুষতা, ধোঁকাবাজির মতো সামাজিক অপরাধে লিপ্ত হয়ে যায়। এ সকল গুনাহে মানুষ সাধারণত ব্যাপকহারে লিপ্ত হয়। কেননা, প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে হিংস্র স্বভাবের গুনাহ, যেমন জুলুম-অত্যাচারে লিপ্ত হওয়ার মতো ক্ষমতা থাকে না। তবে এ সকল গুনাহকেও শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, আপাতদৃষ্টিতে এ ধরনের ছোট ছোট গুনাহ মানুষকে অন্যান্য গুরুতর অপরাধে লিপ্ত করতে উৎসাহিত করে। যারা ছোট ছোট গুনাহ থেকে বিরত থাকার মতো আত্মিক শক্তি অর্জন করতে পারে না, শয়তান তাদের উপর শক্তভাবে সওয়ার হয় এবং তাদেরকে আল্লাহর একত্ববাদের সাধনা থেকে শিরকের দিকে টেনে নিয়ে যায়। নিজের অজান্তেই তারা বিতাড়িত ইবলিস শয়তানের বাধ্যগত অনুচরে পরিণত হয়।
উপরোক্ত বর্ণনা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, মানুষের আদি প্রবৃত্তির ছোট ছোট বাসনাগুলোই শিরকের মতো বড় গুনাহের প্রবেশদ্বার। কেউ একবার এর ভেতরে প্রবেশ করে ফেললে গুনাহের অন্ধকারে নিজ অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে। এবং বড় বড় গুনাহের দিকে ক্রমশ ধাবিত হতে থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00