📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহের আরেকটি প্রকার

📄 গুনাহের আরেকটি প্রকার


এই দুই প্রকারের গুনাহের ধরণ ও প্রকৃতি চার স্বভাবের গুনাহের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে থাকে-
১. দাম্ভিক স্বভাবের গুনাহ
২. শয়তানি স্বভাবের গুনাহ
৩. হিংস্র স্বভাবের গুনাহ
৪. পাশবিক স্বভাবের গুনাহ
দাম্ভিক স্বভাব ও দম্ভ সংক্রান্ত গুনাহ হলো, আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তার ক্ষমতাকে বান্দা তার নিজের উপযোগী ভাবা। নিজেকেও এসব ক্ষমতার যোগ্য মনে করা। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাআলার ক্ষমতামূহের ন্যূনতম কোনো যোগ্যতাও বান্দাকে দেয়া হয়নি। যেমন আল্লাহ তাআলার মহত্ব, ক্ষমতা, আধিপত্য, প্রভুত্ব। এগুলো আল্লাহ তাআলার বিশেষ গুণ। এর কোনো কিছুই বান্দাকে দেয়া হয়নি। তবু বান্দা নিজেকে আল্লাহর ক্ষমতার অংশীদার ভেবে অন্যের ওপর জুলুম করে। আল্লাহর বান্দাদেরকে নিজের দাসে পরিণত করার চেষ্টা করে। সে মহান আল্লাহর গুণাবলিকে নিজের মধ্যে ধারণ করার অলীক কল্পনায় বিভোর হয়ে দাম্ভিক স্বভাবের গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়। এটা প্রকারান্তরে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা।

📘 রূহের খোরাক > 📄 শিরক দুই প্রকার

📄 শিরক দুই প্রকার


১. আল্লাহ তাআলার নাম ও ক্ষমতাসমূহের মধ্যে কাউকে শরীক করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা এবং এর ইবাদাত করা।
২. ব্যবহার ও আচরণগত কোনো বিষয়ে কাউকে আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা।
দ্বিতীয় প্রকার শিরকের কারণে কখনো কখনো জাহান্নাম ওয়াজিব হয় না ঠিকই, কিন্তু শিরকযুক্ত ওই আমল বাতিল বলে বিবেচিত হয়।
প্রথম প্রকার শিরক সমস্ত গুনাহের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ও ভয়াবহতম গুনাহ। আল্লাহপাকের সৃষ্টিক্ষমতা ও মহাবিশ্ব পরিচালনার কাজে কোনো সৃষ্টির অন্তর্ভুক্তি প্রথম প্রকারের শিরক। এ গুনাহে জড়িত ব্যক্তি আল্লাহপাকের ক্ষমতা ও আয়ত্বের ভেতর দাঁড়িয়ে স্বয়ং আল্লাহর সঙ্গেই লড়াই করে। তার এই আচরণ সকল স্পর্ধার সীমা ছাড়িয়ে যায়। এই গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির কোনো নেক আমল কখনো আল্লাহর নিকট কবুল হবে না।

📘 রূহের খোরাক > 📄 শয়তানি স্বভাবের গুনাহ

📄 শয়তানি স্বভাবের গুনাহ


শয়তানি স্বভাবের গুনাহ হলো, বান্দা নিজের মধ্যে হিংসা, দ্বেষ, রাগ, দ্রোহ, শত্রুতা, গীবত ও ধোঁকার স্বভাব লালন করে নিজেকে রক্ত-মাংসের কোনো শয়তানে পরিণত করে ফেলা। কাউকে গুনাহে লিপ্ত হতে উৎসাহিত করা অথবা আদেশ দেওয়া। গুনাহের প্রশংসা করা। আল্লাহর আনুগত্যে বাধা প্রদান করা। পবিত্র দ্বীন-ইসলামের মধ্যে বিদআতের অনুপ্রবেশ ঘটানো। বিদআত ও গোমরাহির দিকে মানুষকে আহ্বান করা। এ সকল গুনাহের ক্ষতিকর প্রভাব শিরকের কাছাকাছি। তবে আকীদা ও বিশ্বাসের জায়গায় শিরকের গুনাহ হলো ভয়াবহ ও জঘন্যতম।

📘 রূহের খোরাক > 📄 হিংস্র স্বভাবের গুনাহ

📄 হিংস্র স্বভাবের গুনাহ


পাশবিক ও হিংস্র স্বভাবের গুনাহ হলো, অন্যের ওপর জোর-জুলুম করা। অতিমাত্রায় রাগ করা। অনর্থক ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া এবং রক্তপাত ঘটানো। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দুস্থ ও অক্ষম লোকদের ক্ষতিসাধন করা। এ হলো হিংস্র স্বভাবের গুনাহের মৌলিক কিছু দিক। তবে জোর-জুলুম ও অত্যাচারের মতো কোনো একটি গুনাহে লিপ্ত হলে তা থেকে বান্দা অনায়াসেই শত শত গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়। এভাবে একটি গুনাহ হাজারও গুনাহ টেনে আনে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00