📘 রূহের খোরাক > 📄 যিনা বা ব্যভিচারের শাস্তি

📄 যিনা বা ব্যভিচারের শাস্তি


ইমাম মালিক বলেন, 'মানব-হত্যার পর সবচেয়ে জঘন্যতম অপরাধ হলো ব্যভিচার করা। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ সূত্রে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, "আল্লাহর রাসূল! সবচেয়ে বড় অপরাধ কোনটি?” নবীজি উত্তর দিলেন, “আল্লাহ তাআলার সাথে কাউকে তুলনা করা." ইবনু মাসউদ বলেন, "আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোন অপরাধ?" নবীজি উত্তর দিলেন, "ভরণ-পোষণের খরচের ভয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা করা." আবদুল্লাহ বলেন, "আমি বললাম, এরপরের অপরাধ কোনটি?" নবীজি উত্তর দিলেন, "প্রতিবেশী নারীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া." [১]
নবীজি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই হাদীসের সত্যায়নে আল্লাহ তাআলা আয়াত অবতীর্ণ করেন-
وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهَا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ
আর যারা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যকোনো উপাস্যের ইবাদাত করে না এবং আল্লাহ তাআলা যাকে হত্যা করা অবৈধ ঘোষণা করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত তারা তাকে হত্যা করে না এবং যিনা করে না। আর যারা এমন করবে, “তারা আমার আযাবের সম্মুখীন হবে।”[১]
আলোচ্য হাদীসে নবীজি জঘন্যতম তিন প্রকারের অপরাধের সবচেয়ে মারাত্মকটির কথা বলে দিয়েছেন。
* সবচেয়ে মারাত্মক শিরক হলো, কাউকে আল্লাহ তাআলার সমকক্ষ স্থির করা。
* সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যা হলো, সম্পদ খরচ হয়ে যাওয়ার ভয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা করা。
* সবচেয়ে কদর্যপূর্ণ ব্যভিচার হলো, আপন প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করা。
হাদীসের আলোকে বোঝা যায়, বিবাহিত নারীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়া অবিবাহিত নারীর সাথে ব্যভিচার করার চেয়ে জঘন্যতম অপরাধ। বিবাহিত নারীর সাথে পরকীয়ার কারণে নারীর পাশাপাশি স্বামীর অধিকার ও সম্মান খর্ব করা হয়। নারীর গর্ভে পরপুরুষের সন্তান জন্ম নেওয়ার পথ তৈরি হয়। এ ছাড়াও স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য-জীবনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সাজানো-গোছানো সংসারে জাহান্নামের অশান্তি নেমে আসে। এইজন্য সবচেয়ে কদর্যপূর্ণ ব্যভিচার হিসেবে বিবাহিত নারীর সাথে পরকীয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইসাথে বিবাহিত নারী যদি প্রতিবেশীর স্ত্রী হয় তাহলে ব্যভিচারের পাশাপাশি প্রতিবেশীর হক, অধিকার ও সম্মান নষ্ট করা হয়। প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়ার মতো কঠিন হারাম কাজ সংঘটিত হয়। নবীজি থেকে বর্ণিত আছে-
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ
‘যার অত্যাচার থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’[২]
আর প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া হলো জঘন্যতম অত্যাচার। পাশাপাশি প্রতিবেশী যদি তার ভাই কিংবা আত্মীয় হয়, তাহলে আত্মীয়ের হক, অধিকার ও সম্মান খর্ব করার হারাম দিকটিও এখানে চলে আসে। ফলে গুনাহের মাত্রা আরো তীব্রতর হয়। সাধারণত প্রতিবেশীর অনুপস্থিতির সুযোগে বদ-চরিত্রের লোকেরা এমন গুনাহের সুযোগ নিয়ে থাকে। প্রতিবেশী যদি ইবাদাতের জন্য; নামায, হজ, জ্ঞানার্জন, জিহাদ-ইত্যাদি কাজে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে যায় আর প্রতিবেশীর অনুপস্থিতির সুযোগের সে অপব্যবহার করে থাকে, তাহলে তার থেকে দুশ্চরিত্রবান কোনো ব্যক্তি আর হতে পারে না। সে নিকৃষ্টতম গুনাহগার হিসেবে বিবেচিত হবে। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে থাকার কারণে অনুপস্থিত থাকাকালে যদি কেউ তার স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করে, তাহলে কিয়ামতের দিন মুজাহিদ ব্যক্তিকে বলা হবে-
خُذْ مِنْ حَسَنَاتِهِ مَا شِئْتَ
'যে তোমার স্ত্রীর সাথে তোমার অনুপস্থিতিতে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে, তুমি তার নেক আমল যত ইচ্ছা তোমার আমলনামায় নিয়ে নাও।'
কিয়ামতের বিভীষিকাময় দিনে, যেদিন পিতা তার আপন সন্তানকে চিনতে পারবে না, একটি মাত্র নেকী বা সাওয়াব একজন আরেকজনকে দিতে অস্বীকার জানাবে যেদিন, সেই মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা পরকীয়াকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন কঠিনতম সাজা আরোপ করবেন। এই কঠিন শাস্তির দিকেই ইশারা করে নবীজি বলেন-
فَمَا ظَنُّكُمْ؟
| '(এই শাস্তির ব্যাপারে) তোমরা কী মনে করছ?'
অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যখন তাকে বলে দিবেন, যত ইচ্ছা তার নেক আমলের সওয়াব তোমার আমলনামায় নিয়ে নাও, তখন সে তার কোনো নেক আমল কি আর ঐ ব্যক্তির জন্য রেখে দেবে? সব নেক আমলই তো নিজ আমলনামায় নিয়ে নেবে।

টিকাঃ
[১] বুখারী, ৪/১৮৫
[১] সূরা ফুরকান, আয়াত-ক্রম: ৬৮
[২] মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ৪৬
[১] মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ১৮৯৭

📘 রূহের খোরাক > 📄 অন্যায্যভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার শাস্তি

📄 অন্যায্যভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার শাস্তি


অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিলে বা চুরি করলে শরীয়ত অপরাধীর হাত কাটার দণ্ডবিধি আরোপ করেছে। চুরির অপরাধ করতে গিয়ে চোর কুকুর, বেড়াল বা সাপের মতো অন্যের ঘরে অনুমতি ব্যতীত, গোপনে, সিঁধ কেটে, দরজা-জানালা ভেঙে প্রবেশ করে। চোর যেহেতু অন্যের ঘরে চৌর্যবৃত্তি করার জন্য হাত ব্যবহার করে, হাতের দ্বারা অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে, তাই তার হাতের উপর শাস্তি প্রয়োগ করা হয়।
অনুরূপ ডাকাতি করতে গিয়েও অপরাধীরা যেহেতু হাত ও পা ব্যবহার করে থাকে, তাই তাদের হাত ও পায়ের উপর ইসলামী দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা হয়।

📘 রূহের খোরাক > 📄 সরাসরি কুদরতি শাস্তি

📄 সরাসরি কুদরতি শাস্তি


গুনাহগার বান্দা বা অপরাধীকে আল্লাহ তাআলা সরাসরি কুদরতী বা ঐশ্বরিক শাস্তি প্রদান করেন দুইভাবে।
১. গুনাহগার বান্দার অন্তরকে শাস্তি দেন।
২. গুনাহগার বান্দাকে দৈহিক ও আর্থিক শাস্তি দেন।
গুনাহগার বান্দাকে আল্লাহ তাআলা মানসিকভাবে দুঃখ-কষ্ট দিয়ে অথবা অন্তরের প্রফুল্লতা ও স্বাদ-আহ্লাদ নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেন। এভাবে গুনাহগার বান্দার অন্তরে অসহনীয় শাস্তি আরোপ করেন। শারীরিক শাস্তির চেয়েও কঠিন হয়ে থাকে মানসিক শাস্তি। যেভাবে দৈহিক ব্যথা, যন্ত্রণা মানুষের মনকেও বিপর্যস্ত করে তোলে, সেভাবে মানসিক শান্তির প্রভাবও বান্দার শরীরকে অস্থির করে তোলে। অন্তরের উপর আরোপিত সাজা মানুষের দেহকেও জর্জরিত করে তোলে। এরপর মৃত্যুর পরের সময় যখন মানবদেহ থেকে রূহ বা আত্মা বের হয়ে যায়, তখন এই শাস্তি পুরোপুরিভাবে শরীরকে আচ্ছাদিত করে নেয়। এ সময় বান্দাকে কবরের আযাবের সম্মুখীন হতে হয়। বারযাখ জগতের আযাব গুনাহগার বান্দাকে আপন গুনাহের প্রতিদান বুঝিয়ে দিতে থাকে।

📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহগার বান্দার শরীরে কুদরতী শাস্তির প্রভাব

📄 গুনাহগার বান্দার শরীরে কুদরতী শাস্তির প্রভাব


গুনাহগার বান্দার শরীরে আল্লাহ তাআলার কুদরতী শাস্তি দুনিয়া ও আখিরাতের উভয় জগতেই প্রতিফলিত হয়। গুনাহ ও অপরাধের তীব্রতায় শাস্তির পরিমাণও কম-বেশি হয়ে থাকে এবং স্থায়ী ও সাময়িক হয়। দুনিয়া ও আখিরাতের সকল অকল্যাণ মূলত গুনাহ ও তার শাস্তিকে কেন্দ্র করেই। এই অকল্যাণের সূচনা হয় পঙ্কিল অন্তর আর খারাপ কাজের দ্বারা। পাপী মন ও মন্দ কাজ থেকে নবীজি আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে বলেন-
وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا
'আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট অন্তরের পঙ্কিলতা ও মন্দ আমল থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।।১
আল্লাহ তাআলার নিকট নবীজি অন্তরের অনিষ্ট থেকে এবং কর্মের ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।
আর মানুষের কর্মের অনিষ্ট বা মন্দ কাজ মূলত অন্তরের পঙ্কিলতা বা অনিষ্ট থেকেই জন্ম নেয়। সুতরাং মানবাত্মা হলো সকল পাপ কাজের সূতিকাগার। আর মন্দ কাজের প্রতিদানও বান্দার জন্য মন্দ ও অমঙ্গল হয়ে থাকে।
ফিরিশতাগণ মুমিন বান্দাদের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করেছেন-
وَقِهِمُ السَّيِّئَاتِ وَمَنْ تَقِ السَّيِّئَاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُ
'আর আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন যাবতীয় অমঙ্গল থেকে। আর আপনি সেদিন যাকে যাবতীয় অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন, তখন আপনি বাস্তবিক অর্থেই তার প্রতি করুণা করবেন।২
ফিরিশতাগণ মুমিন বান্দাদের জন্য যাবতীয় অমঙ্গল থেকে নিরাপত্তার দুআ করেছেন। এই দুআর মাঝে মন্দ আমল থেকে নিরাপত্তার জন্যেও আবেদন করা হয়েছে। আর বান্দাকে যখন মন্দ আমল থেকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে তখন বান্দা মন্দ পরিণতি থেকেও রক্ষা পাবে।
আল্লাহ তাআলা বান্দাকে গুনাহ থেকে দুইভাবে রক্ষা করেন。
* গুনাহ ও অন্যায় কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন。
* ক্ষমা করে দিয়ে মন্দ আমলের অশুভ পরিণতি ভোগ করা থেকে কিয়ামত-দিবসে রক্ষা করবেন。
গুনাহ ও অপরাধের শাস্তির প্রকারভেদের সারকথা হলো, মন্দ ও অসৎ কাজের পরিণতি বান্দাকে বিভিন্নভাবে ভোগ করতে হয়। কখনো শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার মাধ্যমে। আবার কখনো আল্লাহ তাআলার কুদরতি আযাব ও সাজা ভোগ করার মাধ্যমে। গুনাহের এই পরিণতি বান্দার শরীরে আর অন্তরে আরোপিত হয়। কিছু শাস্তি পাপিষ্ঠ ব্যক্তিকে পার্থিব জগতেই বুঝিয়ে দেয়া হয়। আর কিছু শাস্তি অপেক্ষা করে মৃত্যুর পর কবরে, বারযাখ জগতে। চূড়ান্ত শাস্তি ভোগ করতে তার জন্য পরকালের জগতে তৈরি করা হয়েছে জাহান্নাম। গুনাহের প্রতিদান হিসাবে বান্দাকে পৃথিবী ও পরকাল-সর্বত্রই, অথবা যেকোনো এক জগতে অবশ্যই সাজা ভোগ করতে হবে। কুরআন-হাদীসে এসব শাস্তির কথা বারবার উল্লেখ করে বান্দাকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও যারা পাপকাজে মগ্ন হয়ে যায়, তারা পাপাচার থেকে ফিরে আসতে পারে না। যেন সে নেশাগ্রস্ত, ঘুমন্ত অথবা অজ্ঞ, মূর্খ কোনো ব্যক্তি। দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো জ্ঞান তার নেই। অজ্ঞতা আর অবহেলার ঘুমে বিভোর হয়ে সে ভাবনাহীন কাটাচ্ছে।
কিন্তু মহা ক্ষমতাবান আল্লাহ তাআলার আযাবের যন্ত্রণায় তার ঘুম ভেঙে যাবে একদিন। সেদিন তার চৈতন্য ফিরে এলেও হাহাকার ও আফসোসের বেশি কিছু করার আর ক্ষমতা থাকবে না। আগুনে হাত লাগলে যেমন হাত পুড়ে যায়, আঘাতপ্রাপ্ত হলে পাত্র যেভাবে ভেঙে যায়, পানিতে ভারি জিনিস যেভাবে ডুবে যায় কিংবা মানবদেহে অসুখ বা বিষ যেভাবে প্রভাব বিস্তার করে ঠিক সেভাবেই গুনাহের কারণে বান্দার উপর নেমে আসে পার্থিব ও পরকালীন আযাব। আযাব কখনো তাৎক্ষণিকভাবেই পতিত হয়। কখনো সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যায়। কখনো বান্দার জন্য সহনীয় পর্যায়ে থাকে। গুনাহের প্রতিফলন দেরিতে হলে অনেক সময় মানুষ ধোঁকাগ্রস্ত হয়। গুনাহের কোনো প্রতিক্রিয়া তার সরল চোখে দেখতে না পেলে সে এই গুনাহকে সহজ ও সাধারণ ভাবতে থাকে। অথচ গুনাহের প্রতিক্রিয়া ও পরিণতি অবশ্যম্ভাবী। অসুস্থের কারণ ও উপকরণসমূহ দেখা যাওয়ার পরও কখনো কখনো মানবদেহের রোগ দেরিতে প্রকাশ পায়। গুনাহের প্রতিফলও কখনো কখনো দেরিতে প্রকাশ করা হয়। গুনাহের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পাওয়ার আগেই যদি বান্দা তাওবা, অনুশোচনা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে মহান রবের করুণার ছায়াতলে আশ্রয় নেয় তাহলে সে গুনাহের ক্ষতি থেকে মুক্তি লাভ করে। অন্যথায় সে নীরবে, অজান্তে ধ্বংসের গিরিখাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকে। তার ধ্বংস আর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া তখন শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর কুদরত ও রহমত দ্বারা হিফাযত করুন। আমীন।

টিকাঃ
[১] তিরমিযী, হাদীস-ক্রম: ১১০৫
[২] সূরা মুমিন, আয়াত-ক্রম: ৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00