📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহগার বান্দাকে আইনানুগ শাস্তিপ্রদানের রহস্য

📄 গুনাহগার বান্দাকে আইনানুগ শাস্তিপ্রদানের রহস্য


গুনাহের উল্লিখিত করুণ পরিণতিতেও যদি কোনো গুনাহগার বান্দা সতর্ক না হয়, কোনো পাপিষ্ঠ ব্যক্তি যদি তার পাপাচার থেকে ফিরে না আসে, তবে তাদের জন্য রয়েছে জাগতিক আইন। শরয়ী আইনানুযায়ী গুনাহগার ব্যক্তিকে পার্থিব শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। আর পরকালের জীবনে তো তার জন্য অপেক্ষা করছে অনন্তকালের আযাব। সামান্য তিন দিরহাম মূল্যের সম্পদ চুরির দায়ে অভিযোগ প্রমাণিত ব্যক্তির হাত কাটার আইন রয়েছে কুরআনুল কারীমে। নিষ্পাপ, নিরপরাধ ব্যক্তিদের কাছ থেকে ডাকাতি করে সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়ার অপরাধের শাস্তি, হাত ও পা কর্তন। সতী-সাধ্বী নারীকে অপবাদ আরোপ করলে কিংবা মদ পান করলে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত ও চাবুকের প্রহারকে শাস্তির বিধান হিসেবে প্রণয়ন করা হয়েছে। বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ থাকাবস্থায় পরকীয়া বা ব্যভিচারে লিপ্ত হলে রজম বা পাথর নিক্ষেপে হত্যার বিধান রয়েছে। এ সবই করা হয়েছে মানুষকে গুনাহ থেকে ফিরিয়ে রাখার জন্য। শিরশ্ছেদকে প্রণয়ন করা হয়েছে রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের সাথে ব্যভিচার বা ইচ্ছাকৃতভাবে নামায ছেড়ে দেওয়ার শাস্তি হিসেবে। সমকামিতা, পশুকামিতার শাস্তি রাখা হয়েছে প্রাণদণ্ড। এভাবেই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে গুনাহ থেকে ফিরিয়ে রাখার জন্য প্রতিটি গুনাহ ও অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করেছেন, পূর্ণ ইনসাফের সাথে। ইসলামী দণ্ডবিধির পরিমিতিবোধ যুগে যুগে সকল আইন ও দণ্ডনীতির ঊর্ধ্বে প্রমাণিত হয়েছে। শরয়ী দণ্ডমালার ভারসাম্যের জাগতিক সকল আইন ভুল প্রমাণিত হয়।
অপরাধের তীব্রতায় শাস্তির মাত্রাও আল্লাহ তাআলা বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর মানুষের স্বভাবে ও মানসিকতায় যেসকল অপরাধ-প্রবণতা দেখা যায়, তা প্রতিহত করতে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন প্রকারের শাস্তি আরোপ করেছেন। মানুষের স্বভাব ও মানসিকতার স্বাভাবিক রুচিবোধই যেসকল অপরাধ থেকে স্বেচ্ছায় বিরত থাকে, আল্লাহ তাআলা সেখানে শাস্তির বিধান রাখেননি। বান্দাকে নিরুৎসাহিত করেছেন, অপরাধটিকে হারাম ও নাজায়েয বলে জানিয়ে দিয়েছেন। অপরাধের পিঠে জাগতিক কোনো শাস্তির বিধান প্রয়োগ করেননি। যেমন-পশুর মলমূত্র সেবন, রক্তপান, মৃতপ্রাণী খাওয়া ইত্যাদি।
আর যেসকল অপরাধের জন্য মানুষের মন উৎসাহিত হয়ে ওঠে, সেসকল অপরাধের ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা জাগতিক শাস্তির বিধান রেখেছেন। যৌনচাহিদার ক্ষেত্রে বান্দার মনের আকাঙ্ক্ষা তীব্র থাকায় এই জৈবিক চাহিদা পূরণের অবাধ ও ক্ষতিকর রাস্তা বন্ধ করার জন্য আল্লাহ তাআলা যৌনক্ষমতার অপব্যবহারের শাস্তির মাত্রাও বাড়িয়ে দিয়েছেন। পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করার মতো কঠোর শাস্তির বিধান প্রণয়ন করেছেন। যৌন-অপরাধ দমনের সর্বনিম্ন শাস্তি হিসেবে বেত্রাঘাত ও প্রহারকে প্রণীত করেছেন, যেন সকলে এ ব্যাপারে সচেতন ও সতর্ক থাকে। চৌর্যবৃত্তির অপরাধ ও এর ক্ষতির প্রভাব বিবেচনায় চোরের জন্য হাত কাটার বিধান প্রণয়ন করে দিয়েছেন, যেন মানুষ অন্যের সম্পদ চুরি করা থেকে বিরত থাকে, সমাজের ভারসাম্যতা ও নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন থাকে। ডাকাত ও ছিনতাইয়ের মতো গর্হিত অপরাধের শাস্তি হিসেবে হাত ও পা কেটে দেওয়ার শাস্তি প্রণীত হয়েছে।
বান্দা যেই অঙ্গ দিয়ে গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়, ইসলামী শরীয়াহ সাধারণত সেই অঙ্গের উপরই শাস্তি প্রয়োগের বিধান রেখেছে। যেমন চুরি-ডাকাতির অপরাধ। তবে ব্যভিচারীর শাস্তি তার গোপনাঙ্গে প্রয়োগ না করে বেত্রাঘাতের দ্বারা শরীরে প্রয়োগের কারণ হলো—
১. গোপনাঙ্গ কেটে ফেলার দ্বারা বান্দাকে তার অপরাধের মাত্রার চেয়েও বেশি শাস্তি প্রয়োগ করা হয়।
২. হাত ও পা কেটে দেয়ার মাধ্যমে অন্যদেরকে সতর্ক করা যায়। অন্যরা চুরি ও ছিনতাই থেকে বিরত থাকার শিক্ষা লাভ করে। কিন্তু মানুষের গোপনাঙ্গ শরীরের আবৃত অঙ্গ হওয়ায় শাস্তি প্রয়োগের উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না। তাই প্রকাশ্যে তাকে বেত্রাঘাতের মাধ্যমে ভর্ৎসনা ও লাঞ্ছিত করার বিধান আরোপ করা হয়েছে।
৩. মানুষের এক হাত কেটে দিলেও অনেকাংশে অন্য হাত দিয়ে তার প্রয়োজন পূরণ হয়ে যায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যভিচারের শাস্তিটি ভিন্নভাবে প্রয়োগ করা হয়।
৪. ব্যভিচারের স্বাদ ও রসনেন্দ্রিয় যেহেতু সমগ্র শরীর জুড়েই বিস্তৃত তাই এর শাস্তিও ব্যভিচারীর সারা দেহে প্রয়োগ করা হয়।
মোটকথা, ইসলামী আইন পরিপূর্ণ ভারসাম্য বজায় রেখে মানুষ ও সমাজের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।

📘 রূহের খোরাক > 📄 পাপাচারের সাজা ও দণ্ডবিধির প্রকার

📄 পাপাচারের সাজা ও দণ্ডবিধির প্রকার


পাপাচারী ব্যক্তিকে দুইভাবে শাস্তি দেওয়া হয়—
শরীয়তকর্তৃক নির্ধারিত দণ্ডবিধির মাধ্যমে জাগতিক শাস্তি।
অথবা আল্লাহ তাআলা সরাসরি নিজ কুদরতে তাকে তার অপরাধের শাস্তি প্রদান করেন।
গুনাহগার ব্যক্তিকে যখন শরীয়তকর্তৃক নির্ধারিত শাস্তির মাধ্যমে দণ্ডিত করা হয়, তখন সাধারণত আল্লাহ তাআলার শাস্তি বা আযাবকে তার জন্য রহিত করা হয় অথবা লঘু করে দেয়া হয়। যদি বান্দার অপরাধের শাস্তির মাত্রা অনুযায়ী সে তার প্রাপ্য সাজা ভোগ করে ফেলে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে পুনরায় শাস্তির সম্মুখীন করবেন না। আর শরয়ী দণ্ডবিধি যদি তার জন্য যথেষ্ট না হয়, বান্দার আত্মার ব্যাধি যদি দণ্ডগ্রস্ত হওয়ার পরও তার মাঝে বিদ্যমান থাকে, তাহলে তার উপর আল্লাহ তাআলার আযাব ও শাস্তি নেমে আসে। বান্দার অনেক গুনাহ এমন আছে, যেখানে আল্লাহ তাআলা কোনো জাগতিক দণ্ডকে শরয়ী শাস্তি হিসেবে নির্ধারণ করেননি; সেসকল ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে নিজ কুদরতি আযাব দিয়ে পাকড়াও করেন। এই আযাব প্রদান কখনো শরয়ী শাস্তির তুলনায় কম হয়, আবার কখনো বেশি ও তীব্র হয়ে যায়। শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তির প্রয়োগক্ষেত্র নির্দিষ্ট ও সীমিত। আর আল্লাহ তাআলা সাধারণভাবে গুনাহের কারণে বান্দাকে যেই শাস্তি দিয়ে থাকেন, তার প্রয়োগক্ষেত্র ব্যাপক ও বিস্তৃত হয়ে থাকে। কেননা আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতা যদি গোপনে করা হয় তখন শুধুমাত্র গুনাহগার ব্যক্তি একাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর যখন আল্লাহর নাফরমানি প্রকাশ্যে করা হয় তখন সমাজের সবাই এর দ্বারা প্রভাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষের চোখের সামনে যদি কোনো খারাপ কাজ হয়, আর সবাই যদি সম্মিলিতভাবে সেই কাজে বাধা না দেয়, বরং এতে আরও অংশগ্রহণ করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা খুব দ্রুতই তাদেরকে আযাবগ্রস্ত করেন।
আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ ও অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শরয়ী দণ্ডবিধি প্রণয়ন করেছেন। এই দণ্ডবিধির প্রয়োগক্ষেত্র তিনভাবে হয়ে থাকে。
* হত্যা
* অঙ্গহানি
* বেত্রাঘাত
প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করার মতো অপরাধ হলো কুফর বা আল্লাহ তাআলাকে অস্বীকার করা, ব্যভিচার ও সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া। এ ধরনের অপরাধ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ, বংশধারা ও সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে।

📘 রূহের খোরাক > 📄 শাস্তি বিবেচনায় গুনাহের প্রকার

📄 শাস্তি বিবেচনায় গুনাহের প্রকার


শাস্তির বিবেচনায় বান্দার গুনাহ বা অপরাধ তিন প্রকার-
১. এমন অপরাধ বা গুনাহ, যার শাস্তি হিসাবে বান্দার ওপর হদ বা শারীরিক দণ্ড প্রয়োগ করা হয়। এই অপরাধের জন্য অপরাধীকে প্রহার, অঙ্গহানি বা প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। যেমন, মদপান, ব্যভিচার, পরকীয়া, চুরি, ডাকাতি, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা ইত্যাদি।
২. এমন গুনাহ বা অপরাধ, যার প্রায়শ্চিত্তে বান্দাকে মাশুল গুনতে হয়। কাফফারা আদায়ের মাধ্যমে সে গুনাহ বা অপরাধের মার্জনা প্রার্থনা করতে হয়। যেমন, রামাদানের দিনে স্ত্রীর সাথে ইচ্ছাকৃত সহবাস কিংবা ইচ্ছাকৃত পানাহার করা।
৩. এমন অপরাধ ও গুনাহ, যার জন্য বান্দার উপর কোনো দণ্ডবিধি আরোপিত হয় না, কাফফারাও আদায় করার প্রয়োজন হয় না। এই তালিকায় আছে রক্তপান করা, গালমন্দ করা, অশ্লীল দৃষ্টি দেওয়া।

📘 রূহের খোরাক > 📄 যিনা বা ব্যভিচারের শাস্তি

📄 যিনা বা ব্যভিচারের শাস্তি


ইমাম মালিক বলেন, 'মানব-হত্যার পর সবচেয়ে জঘন্যতম অপরাধ হলো ব্যভিচার করা। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ সূত্রে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, "আল্লাহর রাসূল! সবচেয়ে বড় অপরাধ কোনটি?” নবীজি উত্তর দিলেন, “আল্লাহ তাআলার সাথে কাউকে তুলনা করা." ইবনু মাসউদ বলেন, "আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোন অপরাধ?" নবীজি উত্তর দিলেন, "ভরণ-পোষণের খরচের ভয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা করা." আবদুল্লাহ বলেন, "আমি বললাম, এরপরের অপরাধ কোনটি?" নবীজি উত্তর দিলেন, "প্রতিবেশী নারীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া." [১]
নবীজি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই হাদীসের সত্যায়নে আল্লাহ তাআলা আয়াত অবতীর্ণ করেন-
وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهَا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ
আর যারা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যকোনো উপাস্যের ইবাদাত করে না এবং আল্লাহ তাআলা যাকে হত্যা করা অবৈধ ঘোষণা করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত তারা তাকে হত্যা করে না এবং যিনা করে না। আর যারা এমন করবে, “তারা আমার আযাবের সম্মুখীন হবে।”[১]
আলোচ্য হাদীসে নবীজি জঘন্যতম তিন প্রকারের অপরাধের সবচেয়ে মারাত্মকটির কথা বলে দিয়েছেন。
* সবচেয়ে মারাত্মক শিরক হলো, কাউকে আল্লাহ তাআলার সমকক্ষ স্থির করা。
* সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যা হলো, সম্পদ খরচ হয়ে যাওয়ার ভয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা করা。
* সবচেয়ে কদর্যপূর্ণ ব্যভিচার হলো, আপন প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করা。
হাদীসের আলোকে বোঝা যায়, বিবাহিত নারীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়া অবিবাহিত নারীর সাথে ব্যভিচার করার চেয়ে জঘন্যতম অপরাধ। বিবাহিত নারীর সাথে পরকীয়ার কারণে নারীর পাশাপাশি স্বামীর অধিকার ও সম্মান খর্ব করা হয়। নারীর গর্ভে পরপুরুষের সন্তান জন্ম নেওয়ার পথ তৈরি হয়। এ ছাড়াও স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য-জীবনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সাজানো-গোছানো সংসারে জাহান্নামের অশান্তি নেমে আসে। এইজন্য সবচেয়ে কদর্যপূর্ণ ব্যভিচার হিসেবে বিবাহিত নারীর সাথে পরকীয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইসাথে বিবাহিত নারী যদি প্রতিবেশীর স্ত্রী হয় তাহলে ব্যভিচারের পাশাপাশি প্রতিবেশীর হক, অধিকার ও সম্মান নষ্ট করা হয়। প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়ার মতো কঠিন হারাম কাজ সংঘটিত হয়। নবীজি থেকে বর্ণিত আছে-
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ
‘যার অত্যাচার থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’[২]
আর প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া হলো জঘন্যতম অত্যাচার। পাশাপাশি প্রতিবেশী যদি তার ভাই কিংবা আত্মীয় হয়, তাহলে আত্মীয়ের হক, অধিকার ও সম্মান খর্ব করার হারাম দিকটিও এখানে চলে আসে। ফলে গুনাহের মাত্রা আরো তীব্রতর হয়। সাধারণত প্রতিবেশীর অনুপস্থিতির সুযোগে বদ-চরিত্রের লোকেরা এমন গুনাহের সুযোগ নিয়ে থাকে। প্রতিবেশী যদি ইবাদাতের জন্য; নামায, হজ, জ্ঞানার্জন, জিহাদ-ইত্যাদি কাজে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে যায় আর প্রতিবেশীর অনুপস্থিতির সুযোগের সে অপব্যবহার করে থাকে, তাহলে তার থেকে দুশ্চরিত্রবান কোনো ব্যক্তি আর হতে পারে না। সে নিকৃষ্টতম গুনাহগার হিসেবে বিবেচিত হবে। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে থাকার কারণে অনুপস্থিত থাকাকালে যদি কেউ তার স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করে, তাহলে কিয়ামতের দিন মুজাহিদ ব্যক্তিকে বলা হবে-
خُذْ مِنْ حَسَنَاتِهِ مَا شِئْتَ
'যে তোমার স্ত্রীর সাথে তোমার অনুপস্থিতিতে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে, তুমি তার নেক আমল যত ইচ্ছা তোমার আমলনামায় নিয়ে নাও।'
কিয়ামতের বিভীষিকাময় দিনে, যেদিন পিতা তার আপন সন্তানকে চিনতে পারবে না, একটি মাত্র নেকী বা সাওয়াব একজন আরেকজনকে দিতে অস্বীকার জানাবে যেদিন, সেই মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা পরকীয়াকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন কঠিনতম সাজা আরোপ করবেন। এই কঠিন শাস্তির দিকেই ইশারা করে নবীজি বলেন-
فَمَا ظَنُّكُمْ؟
| '(এই শাস্তির ব্যাপারে) তোমরা কী মনে করছ?'
অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যখন তাকে বলে দিবেন, যত ইচ্ছা তার নেক আমলের সওয়াব তোমার আমলনামায় নিয়ে নাও, তখন সে তার কোনো নেক আমল কি আর ঐ ব্যক্তির জন্য রেখে দেবে? সব নেক আমলই তো নিজ আমলনামায় নিয়ে নেবে।

টিকাঃ
[১] বুখারী, ৪/১৮৫
[১] সূরা ফুরকান, আয়াত-ক্রম: ৬৮
[২] মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ৪৬
[১] মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ১৮৯৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00