📄 গুনাহ পৃথিবীতে ফ্যাসাদ বাড়ায়
আল্লাহ তাআলার নাফরমানি ও গুনাহের উল্লেখযোগ্য একটি প্রতিক্রিয়া হলো, এর ফলে মানব সমাজ, পরিবেশ ও প্রকৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
'মানুষের কৃতকর্মের কারণেই জলে ও স্থলে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটেছে। আল্লাহ তাআলা তাদের কৃতকর্মের আংশিক শাস্তি তাদেরকে আস্বাদন করাতে চান, যেন তারা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে।খি
মুজাহিদ বলেন, উক্ত আয়াতটি তিলাওয়াত করে বলেন, 'শাসনক্ষমতা যখন কোনো জালিম বাদশাহর হাতে আসে আর সে অন্যায়-অবিচার ও জুলুম-নির্যাতন করতে থাকে তখন আল্লাহ তাআলা বৃষ্টি বন্ধ করে দেন। ক্ষেত-খামার, ফসল, ফলাদি তখন ধ্বংস হয়ে যায়, দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং বংশপ্রজন্ম হুমকির মুখে পড়ে। কেননা আল্লাহ তাআলা বিশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না।' মুজাহিদ বলেন, 'আলোচ্য আয়াতে সমুদ্রে বিপর্যয় আসার অর্থ হলো, নদী ও সমুদ্রের তীর ঘেঁসে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সমাজ-সভ্যতার বিপর্যয়।' প্রখ্যাত মুফাসসির ইকরিমাহ সূত্রেও সমুদ্রের ব্যাখায় সমুদ্র ও নদীতটে গোড়াপত্তন হওয়া জাতি-সভ্যতার কথাই বর্ণিত হয়েছে।
প্রাকৃতিক আরেকটি বিপর্যয় হলো, সমাজে ব্যাপকহারে গুনাহ ও নাফরমানি ছড়িয়ে পড়ার কারণে পৃথিবীতে ভূমিকম্প ও ভূমিধ্বস বেড়ে যায়। প্রকৃতি বিরূপ ও অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া আরেকটি বিপর্যয় হলো, মাটি থেকে উৎপন্ন শক্তি ও খাদ্যশস্যের প্রাচুর্যতা হ্রাস পায়। মাটির বরকত কমে যায়। প্রাকৃতিক খাদ্যভাণ্ডারের আকৃতিও ছোট হয়ে আসে। বর্ণিত আছে, অতীতকালে আনার ফলের আকৃতি এত বড় হতো যে, লোকেরা আনার ফল খাওয়ার পর আনারের খোসাকে রোদ থেকে বাঁচার জন্য ছাতা হিসেবে ব্যবহার করত।
টিকাঃ
[২] সূরা রুম, আয়াত-ক্রম: ৪১
📄 আল্লাহর নাফরমানি আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়
গুনাহের আরেকটি ক্ষতি হলো, গুনাহ মানুষের আত্মসম্মানবোধকে নষ্ট করে দেয়। আত্মসম্মান ও আত্মপরিচয় হলো মানবাত্মার প্রাণ। জীবন্ত রক্তকণিকা যেভাবে মানবদেহের প্রাণের সঞ্চারণ করে তেমনি আত্মসম্মান ও আত্মপরিচয় হৃদয়ের স্পন্দন হয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করে রাখে। এই বোধ ও পরিচয় মানুষের অন্তরকে যাবতীয় অকল্যাণ, নিকৃষ্ট ও নিম্নরুচির কার্যাবলী থেকে বাধা দিয়ে রাখে। অশ্লীল, ঘৃণিত ও কদর্য স্বভাব থেকে মানুষের চরিত্রকে এমনভাবে পবিত্র রাখে—যেভাবে আগুন স্বর্ণ-রৌপ্য ও লোহা থেকে মরিচাকে আলাদা করে দেয়। সর্বাধিক ইচ্ছাশক্তির প্রাচুর্য ও মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ থাকতে পারে এমন ব্যক্তি, যার আত্মসম্মানবোধ অন্যদের তুলনায় বলিষ্ঠ ও দৃঢ় থাকে।
মানুষ যখন গুনাহে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন তার অন্তর থেকে নিজের প্রতি, নিজের পরিবার ও আশপাশের মানুষের প্রতি সম্মানবোধ, মর্যাদা ও ব্যক্তিত্ব ক্রমশ নিঃশেষ হয়ে যায়। আর এভাবে ব্যক্তিত্বহীন মানুষে পরিণত হওয়ার কারণে তার অন্তরও দুর্বল হয়ে পড়ে। সে তখন নিজের ব্যাপারে বা অন্যকারো ব্যাপারে কোনো কিছুই আর ঘৃণা করতে পারে না। এই পর্যায়ে আসার পর চারিত্রিক অবনতি আর অবক্ষয়ের কারণে সে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। এমনকি এধরনের মানুষদের রুচি, মন মানসিকতায় ঘৃণাবোধের পরিবর্তে অন্যায়, অবিচার, অশ্লীল কাজের প্রতি একধরনের ভালোলাগা কাজ করে। তারা তখন অন্যকে এসব খারাপ আর গর্হিত কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে, সহযোগিতা করে। এজন্যই দাইয়ুসকে [১] আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে নিকৃষ্ট সৃষ্টিজীব বলা হয়েছে। তার জন্য জান্নাত হারাম।
টিকাঃ
[১] অপকর্ম ও ব্যভিচারের ব্যবস্থাপক
📄 আত্মসম্মানবোধ ও ব্যক্তিত্ব
সমগ্র বিশ্ব জগতের মধ্যে আমাদের প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই ছিলেন সবচেয়ে বেশি আত্মসম্মানবোধ-সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। হাদীস শরীফে নবীজি ইরশাদ করেছেন- [২]
أَتَعْجَبُونَ مِنْ غَيْرَةِ سَعْدٍ؟ وَاللَّهِ لَأَنَا أَغْيَرُ مِنْهُ، وَاللَّهُ أَغْيَرُ مِنِّي
'তোমরা সাদের আত্মপরিচয়বোধ দেখে অবাক হচ্ছ! অথচ তার থেকেও বেশি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি হলাম আমি নিজে। আর আমার থেকে বেশি আত্মপরিচয়বোধের অধিকারী হলেন অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। [৩]
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার সূর্যগ্রহণের নামাযের পর একটি ভাষণ প্রদান করেন। উক্ত ভাষণের একটি বাণী ছিল-
يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ وَاللَّهِ مَا مِنْ أَحَدٍ أَغْيَرُ مِنْ اللَّهِ أَنْ يَزْنِيَ عَبْدُهُ أَوْ تَزْنِيَ أَمَتُهُ
'হে মুহাম্মদের উম্মত! আল্লাহর শপথ করে বলছি, আল্লাহর কোনো বান্দা বা বান্দি যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তখন আল্লাহর আত্মসম্মানবোধ সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।'১৯
সহীহ বুখারীর আরেকটি হাদীসে উল্লেখ রয়েছে, নবীজি ইরশাদ করেন-
لَا أَحَدَ أَغْيَرُ مِنَ اللَّهِ، مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ، وَلَا أَحَدَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْعُذْرُ مِنَ اللَّهِ، مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ أَرْسَلَ الرُّسُلَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ، وَلَا أَحَدَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْمَدْحُ مِنَ اللهِ، مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ أَثْنَى عَلَى نَفْسِهِ
'আল্লাহ তাআলার মতো আত্মসম্মানবোধ-সম্পন্ন কেউ নেই। এই সম্মানের কারণেই তিনি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল অশ্লীলতা ও অন্যায়কে হারাম করেছেন। আল্লাহ তাআলার মতো করে কেউ ওযরগ্রহণ করতে ভালোবাসেন না। এইজন্যই তিনি তাঁর রাসূলদেরকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাআলার চেয়ে বেশি কেউ প্রশংসা ও বন্দনাস্তুতি পছন্দ করেন না। আল্লাহ তাআলা নিজেই নিজের প্রশংসা করেছেন। খি
এই হাদীসে নবীজি দুটি বিষয়কে একত্রিত করেছেন। এক হলো আল্লাহ তাআলার আত্মসম্মানবোধ। যার মৌলিক চাহিদা হলো সকল ধরনের নিকৃষ্ট, গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজের প্রতি স্বভাবজাত ঘৃণা ও অরুচিবোধ। আরেকটি বিষয় হলো, বান্দার ওযর বা অজুহাত মেনে নিয়ে তার প্রতি ক্ষমাশীল আচরণ, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার রহমত ও ইহসানের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা সর্বোচ্চ গায়রাত তথা আত্মসম্মানবোধ-সম্পন্ন হওয়ার পরও তিনি ভালোবাসেন বান্দার ক্ষমাপ্রার্থনা। তিনি পছন্দ করেন বান্দাকে ক্ষমা আর মার্জনা করতে। যেসকল গর্হিত ও নিষিদ্ধ কাজে আল্লাহ তাআলার অসন্তোষ ও আভিজাত্যপূর্ণ আত্মসম্মানবোধ কেঁপে উঠে, সেসকল কাজ করেও যদি বান্দা আল্লাহ তাআলার দরবারে ক্ষমার জন্য হাত পেতে দেয় আল্লাহ তাআলা তার হাত ফিরিয়ে দেন না। এইজন্যই আল্লাহ তাআলা মানবজাতির জন্য তাঁর রাসূল ও কিতাবসমূহ প্রেরণ করেছেন; যা মানুষকে সতর্ক করতে এবং আল্লাহ তাআলার নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করতে উদ্বুদ্ধ করবে।
এই মহৎ দুটি গুণ আল্লাহ তাআলার এক ঐশ্বরিক ক্ষমতার ঘোষণা দেয়। আল্লাহ তাআলার মহানুভবতা ও দয়ার তুলনাহীন এক গুণ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে। কেননা, জগতে যেই ব্যক্তি সাধারণত যত বেশি আত্মসম্মানবোধ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হয়ে থাকে, সে তার ব্যক্তিস্বার্থকে বিনষ্টকারী সকল আচরণ ও অপরাধকে অমার্জনীয় মনে করে সেই আচরণের শাস্তি দিয়ে থাকে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিশোধ নিয়ে থাকে। কখনো হয়তো ক্ষমাযোগ্য বা তুচ্ছ কোনো ভুল হয়ে থাকে, কিন্তু তার প্রচণ্ডরকমের ব্যক্তিত্ব ও আত্মসম্মানবোধ একে ভুলের অযোগ্য মনে করেই প্রতিশোধমূলক আচরণ করে থাকে।
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-
إِنَّ مِنَ الْغَيْرَةِ مَا يُحِبُّهَا اللَّهُ وَمِنْهَا مَا يَبْغَضُهَا اللَّهُ، فَالَّتِي يَبْغَضُهَا اللَّهُ الْغَيْرَةُ مِنْ غَيْرِ رِيبَةٍ
'গায়রাত বা আত্মসম্মানবোধের কিছু আচরণ এমন রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলার নিকট পছন্দনীয়; আর কিছু আচরণ এমন আছে, যা তাঁর নিকট অপছন্দনীয় হয়ে থাকে। নিছক সন্দেহের বশে বা ছোট কোনো বিষয়ে আত্মসম্মানকে প্রভাবিত করা আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করেন।[১]
সুতরাং উত্তম ও পছন্দনীয় আত্মসম্মানবোধ হলো, যেই আত্মমর্যাদার সাথে ক্ষমাগুণের মিশ্রিত স্বভাব রয়েছে; যেই আত্মসম্মানবোধ ক্ষমার উপযুক্ত স্থানে ক্ষমার আচরণ করবে আর ক্ষমার অনুপযুক্ত স্থানে অসন্তোষ প্রকাশ করবে, এমন আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদাবোধই হলো বাস্তবে প্রশংসার উপযুক্ত।
টিকাঃ
[২] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৬৮৪৬
[৩] সাদ ইবনু উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু'র একটি ঘটনার কথা এখানে বলা উদ্দেশ্য। যিনা বা ব্যভিচারের শাস্তির বিধান ও চারজন সাক্ষীর আবশ্যকীয়তা যখন আল্লাহ তাআলা শরীয়ত হিসেবে প্রণয়ন করলেন, তখন লোকেরা সাদ ইবনু উবাদাহকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আচ্ছা আপনি যদি আপনার স্ত্রীকে কারো সাথে অপকর্ম করতে দেখেন তাহলে এই বিধানমতে আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে কী করবেন?' সাদ উত্তর দিলেন, 'এমতাবস্থায় আমি আমার স্ত্রী এবং সাথে-থাকা অপর লোক উভয়কেই হত্যা করব। অর্থাৎ এমন মুহূর্তে আমার জন্য চারজন সাক্ষী এনে সাক্ষ্য রাখা এবং পরবর্তীতে এর বিচার করার মতো ধৈর্য হবে না। হয়তো আমার সাক্ষী আনার আগেই তারা আলাদা হয়ে যাবে।' তাঁর এমন উত্তর শুনে লোকেরা অবাক হয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পুরো ঘটনা বর্ণনা করলেন। তখন নবীজি উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন।
[১] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৫২২১
[২] মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ২১১৪
[১] আবু দাউদ, হাদীস-ক্রম: ২৬৫৯; মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ২৩৭৫২
📄 আল্লাহর অবাধ্যতা মানুষকে লজ্জাহীন করে দেয়
আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতা ও নাফরমানি মানুষকে লজ্জাহীন বানিয়ে দেয়। গুনাহ ও পাপকাজে লিপ্ত ব্যক্তি বেহায়া মানুষে পরিণত হয়। লজ্জা হলো মানবাত্মার একটি আবশ্যকীয় গুণ ও বৈশিষ্ট্য। লজ্জা ও শালীনতাবোধ যাবতীয় কল্যাণ ও ভালো কাজের উৎস। সুতরাং লজ্জা ও শালীনতার অবক্ষয় মানে যাবতীয় কল্যাণ ও ভালোকাজ থেকে বঞ্চিত হয়ে যাওয়া।
নবীজি বলেন, 'লজ্জা বা শালীনতার সবটুকুই হলো কল্যাণ ও উত্তম।' [১]
গুনাহ মানুষের এই লজ্জাবোধকে দুর্বল করে দেয়। এমনকি মানুষ যখন অবারিতভাবে গুনাহের কাজে ডুবে থাকে, তখন তার অন্তরে বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধ ও লোকচক্ষুর ভয় থাকে না। 'লোকে কী বলবে' বা 'মানুষ আমার এই নিকৃষ্ট অবস্থা জেনে ফেলবে'—এ ধরনের কোনো আশঙ্কা বা অনুভূতি তার অন্তরে আর কোনো প্রভাব রাখে না। আর কোনো মানুষ যখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখন তার সংশোধনের ব্যাপারে নিরাশ হতে হয়।
বর্ণিত আছে, ইবলিস যখন এমন ব্যক্তিকে দেখে তখন সে অভিনন্দন জানিয়ে বলে, 'কল্যাণ থেকে বঞ্চিত ব্যক্তি! তোমার জন্য আমি উৎসর্গিত, আমার প্রাণ তোমার জন্য নিবেদিত।'
লজ্জাকে আরবীতে 'الحياء' হায়া বলা হয়। শব্দটির সাথে আরবী 'হায়াত' অর্থাৎ 'জীবন' শব্দের মূলধাতু একই হওয়ায় বলা হয়, 'হায়া বা লজ্জাই হলো দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন। যার হায়া নেই তার হায়াত নেই। অর্থাৎ লজ্জাহীন ব্যক্তি জাগতিক সংসারে মৃত ব্যক্তির মতো। তার মাধ্যমে মানবজীবনে কোনো কল্যাণের আশা নেই। আর আখিরাত বা পরকালের জীবনেও সে হবে দুর্ভাগা। লজ্জাহীনতা ও গুনাহের মাঝে নিগূঢ় এক সম্পর্ক রয়েছে। একটি অপরটিকে মানুষের জন্য সহজ করে দেয়। আর লজ্জাবোধ ও শালীনতা মানুষকে গুনাহের সময় আল্লাহ তাআলার কথা, আল্লাহ তাআলার শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলার সামনে কিয়ামত-দিবসে দাঁড়ানোর কথা মনে করিয়ে দেয়। তখন মানুষ লজ্জাবোধ থেকেই আল্লাহ তাআলার নাফরমানি ও অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকে।
সহীহ বুখারীর আরেকটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-
إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسَ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ الْأُولَى: إِذَا لَمْ تَسْتَحِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ
'অতীতকালের নুবওয়াতের বাণীর মধ্য থেকে এই সময়ের মানুষদের জন্য একটি বার্তা হলো, যদি তোমার লজ্জাবোধ না থাকে তাহলে তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার।'[১]
লজ্জা ও শালীনতার গুরুত্ব বোঝানোর জন্য হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ মানবজাতিকে লজ্জা ও শালীনতার ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। নিকৃষ্ট ও মন্দ কাজ কেবলমাত্র লজ্জার অনুপস্থিতিতেই করা সম্ভব।
টিকাঃ
[১] মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ৩৭
[১] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৩৪৮৩; আবু দাউদ, হাদীস-ক্রম: ৪৭৯৭