📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহ বান্দাকে আল্লাহ তাআলার কাছেও অভিশপ্ত বানায়

📄 গুনাহ বান্দাকে আল্লাহ তাআলার কাছেও অভিশপ্ত বানায়


কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন রকমের গুনাহগারকে অভিসম্পাত করেছেন। যেমন-
* আল্লাহ তাআলা অভিসম্পাত করেছেন সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের উপর, আত্মীয়তার বন্ধন বিনষ্টকারীদের উপর, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলকে কষ্ট দেয় তার উপর।
* অভিসম্পাত করেছেন ঐ ব্যক্তির উপর যে হিদায়াত ও হকের বাণী মানুষের কাছে গোপন করে।
* যে ব্যক্তি বিধর্মীদের জীবনাচারকে মুসলমানদের জীবনাচার থেকে অধিক সঠিক ও হিদায়াতমুখী বলে প্রমাণ করে, আল্লাহ তাআলা অভিসম্পাত করেছেন তার উপরও।
* সতীসাধ্বী সরলমনা মুমিন নারীদের ব্যাপারে যারা কুৎসা রটায়, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে লানত করেছেন।
এ ছাড়াও যারা জুলুম করে, অন্যকে কষ্ট দেয়, আল্লাহকে অস্বীকার করে, মিথ্যা কথা বলে এমন ব্যক্তিদেরকে আল্লাহ তাআলা অভিসম্পাত করেছেন।

📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহ মুমিনকে রাসূলের দুআ থেকে বঞ্চিত করে

📄 গুনাহ মুমিনকে রাসূলের দুআ থেকে বঞ্চিত করে


গুনাহ আর নাফরমানির একটি ভয়ংকর পরিণতি হলো গুনাহগার ব্যক্তি নবীজি ও ফিরিশতাদের দুআ থেকে বঞ্চিত হয়। নবীজি ও ফিরিশতাগণ মুমিন ব্যক্তির জন্য যে দুআ করেছেন, গুনাহগার ব্যক্তি সেই দুআর অন্তর্ভুক্ত থাকে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ - رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدْتَهُمْ وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ - وَقِهِمُ السَّيِّئَاتِ وَمَنْ تَقِ السَّيِّئَاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
'যারা আরশ বহন করে এবং যারা আরশের চারপাশে থাকে তারা তাদের রবের পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকে এবং তাঁর প্রতি রাখে অগাধ বিশ্বাস। এবং যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে তাদের জন্য তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে দুআ করতে থাকে—হে আমাদের রব! আপনার রহমত ও জ্ঞান জগতের সবকিছুকে পরিব্যপ্ত করে আছে। যারা আপনার নিকট তাওবা করে এবং আপনার পথে চলে, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আপনি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে নিরাপত্তা দিন। হে আমাদের প্রভু! আপনি তাদেরকে চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করান, যেই জান্নাতের প্রতিশ্রুতি আপনি দিয়েছেন তাদের নেক ও সৎ পূর্বপুরুষ, তাদের নেক স্ত্রী-পরিজন ও বংশধরদের জন্য। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী ও চির প্রজ্ঞাময়। একইসাথে যাবতীয় মন্দ ও অকল্যাণ থেকে আপনি তাদেরকে নিরাপত্তা দিন। আর সেদিন আপনি যাকে অমঙ্গল থেকে নিরাপত্তা দেবেন তাকেই তো আপনি করুণা করবেন। আর এটাই হবে মহাসাফল্য।।১।
উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন, ফিরিশতাগণ ওই মুমিনদের জন্য ক্ষমার দুআ করেন, যারা আল্লাহ তাআলার কিতাব ও নবীজির সুন্নাহর অনুসারী হয়। সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারী হওয়া ছাড়া ফিরিশতাদের এই দুআর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো আশা করা যায় না।

📘 রূহের খোরাক > 📄 পাপাচারী ব্যক্তির শাস্তি ও নবীজির একটি স্বপ্ন

📄 পাপাচারী ব্যক্তির শাস্তি ও নবীজির একটি স্বপ্ন


ইমাম বুখারী তাঁর প্রসিদ্ধ হাদীসের কিতাবে সামুরাহ ইবনু জুন্দুব সূত্রে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। সামুরাহ বলেন, 'আল্লাহর রাসূল তাঁর সাহাবীদেরকে ফজরের নামাযের পর প্রায় সময়ই জিজ্ঞেস করতেন, “তোমাদের মধ্য কি কেউ স্বপ্ন দেখেছে?" তখন সাহাবীদের কেউ রাতের বেলা স্বপ্ন দেখলে নবীজির নিকট বর্ণনা করলে নবীজি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করে দিতেন। একদিন ভোরে তিনি আমাদেরকে বললেন, “গতকাল রাতে দুইজন ব্যক্তি এসে আমাকে ডেকে বলল, 'আপনি আমাদের সাথে চলুন।' আমি তাদের সাথে চলতে শুরু করলাম। আমরা চলতে চলতে এক ব্যক্তির নিকট আসলাম, যে কাত হয়ে শুয়ে আছে। তার পাশেই আরেক ব্যক্তি হাতে বড় একটি পাথর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে তার মাথায় পাথর নিক্ষেপ করে মাথা ফাটিয়ে দিচ্ছে। আঘাতের তীব্রতায় পাথরও ফেটে চৌচির হয়ে এদিক সেদিক ছড়িয়ে পড়ছে। লোকটি পাথরের টুকরোগুলি কুড়িয়ে এনে একত্রিত করতে করতেই শুয়ে থাকা লোকটির ফাটা-মাথা আবার আগের মতো জোড়া লেগে যাচ্ছে। এরপর আবার তাকে পাথর নিক্ষেপ করে মাথা ফাটিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমি এই বিভৎস দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে আমার সঙ্গীদ্বয়কে বললাম, 'সুবহানাল্লাহ! এসব কী হচ্ছে এখানে!' তারা আমার কথার উত্তর না দিয়ে আমাকে বলল, 'আপনি সোজা যেতে থাকুন।' আমরা যেতে থাকলাম। এরপর আমরা চিৎ হয়ে শোয়া এক লোকের কাছে আসলাম। এখানেও দেখলাম, তার নিকট এক লোক লোহার আঁকড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর সে তার চেহারার একদিকে এসে এটা দ্বারা মুখমণ্ডলের একদিক মাথার পেছনের দিক পর্যন্ত এবং অনুরূপভাবে নাসারন্ধ্র, চোখ ও মাথার পেছন দিক পর্যন্ত চিরে ফেলছে। এরপর ঐ লোকটি শায়িত লোকটির অপরদিকে যায় এবং প্রথম দিকের সঙ্গে যেমন আচরণ করেছে তেমনি আচরণ অপরদিকের সঙ্গেও করে। ঐ দিক হতে অবসর হতে না হতেই প্রথম দিকটি আগের মতো সুস্থ হয়ে যায়। তারপর আবার প্রথমবারের মতো আচরণ করে। আমি বললাম, 'সুবহানাল্লাহ! এরা কারা? তারা এবারও আমার কথার উত্তর না দিয়ে বলল, 'চলুন, সামনে চলুন।' আমরা চললাম এবং চুলার মতো একটি গর্তের কাছে পৌঁছলাম। গর্তে উঁকি মেরে দেখলাম, বেশ কিছু উলঙ্গ নারী ও পুরুষ রয়েছে। আর নিচ থেকে বের হওয়া আগুনের লেলিহান শিখা তাদেরকে স্পর্শ করছে।
যখনই লেলিহান শিখা তাদেরকে স্পর্শ করে, তখনই তারা উচ্চস্বরে চিৎকার করে ওঠে। আমি সঙ্গীদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, 'এরা কারা?' তারা এবারও বলল, 'চলুন, সামনে চলুন।' আমরা চললাম এবং একটা নদীর তীরে গিয়ে পৌঁছলাম। নদীর পানি ছিল রক্তের মতো লাল। দেখলাম, সেখানে এক ব্যক্তি সাঁতার কাটছে। আর নদীর তীরে অন্য এক লোক আছে এবং সে তার কাছে অনেকগুলো পাথর একত্রিত করে রেখেছে। আর ঐ সাঁতারকাটা লোকটি বেশ কিছুক্ষণ সাঁতার কাটার পর পাথর একত্রিত করে রাখা-লোকের কাছে এসে পৌঁছে। এবং নিজের মুখ খুলে দেয়। ঐ লোক তার মুখে একটি পাথর ঢুকিয়ে দেয়। এরপর সে চলে যায়, সাঁতার কাটতে থাকে; আবার তার কাছে ফিরে আসে, যখনই সে তার কাছে ফিরে আসে, তখনই সে তার মুখ খুলে দেয়, আর ঐ ব্যক্তি তার মুখে একটা পাথর ঢুকিয়ে দেয়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, 'এরা কারা?' তারা বলল, 'চলুন, সামনে চলুন।' আমরা চললাম এবং এমন একজন কুশ্রী লোকের কাছে এসে পৌঁছলাম, যাকে দেখলেই বিশ্রী লাগে। দেখলাম, তার নিকট রয়েছে আগুন। তা সে প্রজ্বলিত করছে এবং এর চতুর্দিকে দৌড়াচ্ছে। আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, 'ঐ লোকটি কে?' তারা বলল, 'চলুন, সামনে চলুন। আমরা চললাম এবং একটা সজীব-শ্যামল বাগানে হাজির হলাম, যেখানে বসন্তের হরেক রকম ফুলের কলি রয়েছে। আর বাগানের মাঝে আসমান থেকে অধিক উঁচু দীর্ঘকায় একজন পুরুষ রয়েছেন, যাঁর মাথা যেন আমি দেখতেই পাচ্ছি না। তাঁর চারপাশে এত বিপুল সংখ্যক বালক-বালিকা দেখলাম যে, এত অধিক আর কখনো আমি দেখিনি। আমি তাদেরকে বললাম, 'উনি কে? এরা কারা?' তারা এবারও বলল, 'চলুন, সামনে চলুন।' আমরা চললাম এবং একটা বিরাট বাগানে গিয়ে পৌঁছলাম। এমন বড় এবং সুন্দর বাগান আমি আর কখনো দেখিনি। সঙ্গীরা আমাকে বলল, 'এর ওপরে চড়ুন।' আমরা ওপরে চড়লাম।
শেষ পর্যন্ত সোনা-রুপার ইটের তৈরি একটি শহরে গিয়ে হাজির হলাম। আমরা শহরের দরজায় পৌঁছলাম এবং দরজা খুলতে বললাম। আমাদের জন্য দরজা খুলে দেয়া হলো, আমরা তাতে প্রবেশ করলাম। তখন সেখানে আমাদের সঙ্গে এমন কিছু লোক সাক্ষাৎ করল, যাদের শরীরের অর্ধেক খুবই সুন্দর, বাকি অর্ধেক খুব কুশ্রী। সাথীদ্বয় ওদেরকে বলল, 'যাও ঐ নদীতে গিয়ে নেমে পড়ো।'
সেটা ছিল প্রশস্ত প্রবাহিত নদী, যার পানি ছিল দুধের মতো সাদা। ওরা তাতে নেমে পড়ল। অতঃপর এরা আমাদের কাছে ফিরে এল, দেখা গেল তাদের এ শ্রীহীনতা দূর হয়ে গেছে এবং তারা খুবই সুন্দর আকৃতির হয়ে গেছে। সঙ্গে থাকা লোক দুজন আমাকে বলল, 'এটা জান্নাতে আদন এবং এটা আপনার বাসস্থান।'
আমি বেশ উপরের দিকে তাকালাম, দেখলাম, ধবধবে সাদা মেঘের মতো একটি প্রাসাদ আছে। তারা আমাকে বলল, 'এটা আপনার বাসগৃহ।' আমি তাদেরকে বললাম, 'আল্লাহ তোমাদের মাঝে বরকত দিন! আমাকে ছেড়ে দাও। আমি এতে প্রবেশ করি।' তারা বলল, 'আপনি অবশ্যই এতে প্রবেশ করবেন। তবে এখন নয়।' বললাম, 'পেছনে যে বিস্ময়কর বিষয়গুলো দেখে এলাম, সেগুলোর তাৎপর্য কী?' তারা বলল, 'আচ্ছা! আমরা আপনাকে বলে দিচ্ছি। ঐ যে প্রথম ব্যক্তিকে যার কাছে আপনি পৌঁছেছিলেন, যার মাথা পাথর দিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হচ্ছিল, সে হলো ঐ ব্যক্তি, যে কুরআন গ্রহণ করে তা ছেড়ে দিয়েছে। আর ফরয সালাত ছেড়ে ঘুমিয়ে থেকেছে। আর যার কাছে গিয়ে দেখেছেন যে, তার মুখের এক ভাগ মাথার পেছন দিক পর্যন্ত, এমনিভাবে নাসারদ্র ও চোখ মাথার পেছন দিক পর্যন্ত চিরে ফেলা হচ্ছিল, সে হলো ঐ ব্যক্তি, যে সকালে নিজ ঘর থেকে বের হয়ে এমন মিথ্যা বলে যা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর উলঙ্গ নারী-পুরুষেরা হলো ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীর দল। আর যার কাছে পৌঁছে দেখেছিলেন যে, সে নদীতে সাঁতার কাটছে ও তার মুখে পাথর ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে সে হলো সুদখোর।
কুশ্রী ব্যক্তি, যে আগুন জ্বালাচ্ছিল আর এর চারপাশে দৌড়াচ্ছিল, সে হলো জাহান্নামের দারোগা, মালিক ফিরিশতা। আর যে দীর্ঘকায় ব্যক্তিকে দেখলেন, তিনি ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। তাঁর আশপাশের বালক-বালিকারা হলো ঐসব শিশু, যারা ফিতরাতের (স্বভাবধর্মের) ওপর মৃত্যুবরণ করেছে।”
'এ পর্যায়ে কয়েকজন সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, “আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের শিশু-সন্তানরাও কি সেখানে আছে?” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ, মুশরিকদের শিশু-সন্তানরাও আছে।” (প্রশ্নের জবাব দিয়ে নবীজি পুনরায় সঙ্গী দুই ফিরিশতার কথায় ফিরে গেলেন। ফিরিশতারা বললেন,) 'আর ঐসব লোক, যাদের অর্ধাংশ অতি সুন্দর ও অর্ধাংশ অতি কুশ্রী, তারা হলো ঐ সম্প্রদায়, যারা সৎ-অসৎ উভয় কাজ মিশ্রিতভাবে করেছে। আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন.'”'।[১]

টিকাঃ
[১] সূরা গাফির, আয়াত-ক্রম: ৭-৯
[১] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৭০৪৭

📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহ পৃথিবীতে ফ্যাসাদ বাড়ায়

📄 গুনাহ পৃথিবীতে ফ্যাসাদ বাড়ায়


আল্লাহ তাআলার নাফরমানি ও গুনাহের উল্লেখযোগ্য একটি প্রতিক্রিয়া হলো, এর ফলে মানব সমাজ, পরিবেশ ও প্রকৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
'মানুষের কৃতকর্মের কারণেই জলে ও স্থলে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটেছে। আল্লাহ তাআলা তাদের কৃতকর্মের আংশিক শাস্তি তাদেরকে আস্বাদন করাতে চান, যেন তারা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে।খি
মুজাহিদ বলেন, উক্ত আয়াতটি তিলাওয়াত করে বলেন, 'শাসনক্ষমতা যখন কোনো জালিম বাদশাহর হাতে আসে আর সে অন্যায়-অবিচার ও জুলুম-নির্যাতন করতে থাকে তখন আল্লাহ তাআলা বৃষ্টি বন্ধ করে দেন। ক্ষেত-খামার, ফসল, ফলাদি তখন ধ্বংস হয়ে যায়, দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং বংশপ্রজন্ম হুমকির মুখে পড়ে। কেননা আল্লাহ তাআলা বিশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না।' মুজাহিদ বলেন, 'আলোচ্য আয়াতে সমুদ্রে বিপর্যয় আসার অর্থ হলো, নদী ও সমুদ্রের তীর ঘেঁসে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সমাজ-সভ্যতার বিপর্যয়।' প্রখ্যাত মুফাসসির ইকরিমাহ সূত্রেও সমুদ্রের ব্যাখায় সমুদ্র ও নদীতটে গোড়াপত্তন হওয়া জাতি-সভ্যতার কথাই বর্ণিত হয়েছে।
প্রাকৃতিক আরেকটি বিপর্যয় হলো, সমাজে ব্যাপকহারে গুনাহ ও নাফরমানি ছড়িয়ে পড়ার কারণে পৃথিবীতে ভূমিকম্প ও ভূমিধ্বস বেড়ে যায়। প্রকৃতি বিরূপ ও অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া আরেকটি বিপর্যয় হলো, মাটি থেকে উৎপন্ন শক্তি ও খাদ্যশস্যের প্রাচুর্যতা হ্রাস পায়। মাটির বরকত কমে যায়। প্রাকৃতিক খাদ্যভাণ্ডারের আকৃতিও ছোট হয়ে আসে। বর্ণিত আছে, অতীতকালে আনার ফলের আকৃতি এত বড় হতো যে, লোকেরা আনার ফল খাওয়ার পর আনারের খোসাকে রোদ থেকে বাঁচার জন্য ছাতা হিসেবে ব্যবহার করত।

টিকাঃ
[২] সূরা রুম, আয়াত-ক্রম: ৪১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00