📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহের অন্তত প্রতিক্রিয়া

📄 গুনাহের অন্তত প্রতিক্রিয়া


গুনাহের অশুভ প্রতিক্রিয়া সমাজের অন্যান্য নিষ্পাপ মানুষ ও পশু-পাখির মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। গুনাহগার ব্যক্তি ছাড়াও অন্যান্য নিষ্পাপ মানুষ ও পশু-পাখি গুনাহের পরিণতি ভোগ করতে থাকে।
আবু হুরায়রা বলেন, 'জালিমের জুলুমের বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ায় অবলা চড়ুই পাখি তার ছোট্ট বাসার মধ্যে মারা যায়।'
মুজাহিদ বলেন, 'যখন দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টি দেখা দেয়, তখন পশু-পাখি মানবজাতিকে অভিসম্পাত করতে থাকে। তারা বলতে থাকে—এই দুর্ভিক্ষ, দুর্যোগ মানবজাতির গুনাহের ফসল।'
ইকরিমাহ বলেন, 'অনাবৃষ্টির সময় মাটির কীট-পতঙ্গ, পোকামাকড় পর্যন্ত বলতে থাকে—মানব সন্তানের গুনাহের দুর্ভোগ আমরা ভোগ করছি। আমরা বৃষ্টিখরায় ভুগছি।'
সুতরাং গুনাহের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকা চাই। কেননা গুনাহগার ব্যক্তিকে আল্লাহর নিষ্পাপ সৃষ্টিজীবও অভিশাপ দিতে থাকে।

📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহ মানুষকে লাঞ্ছিত করে

📄 গুনাহ মানুষকে লাঞ্ছিত করে


মানবজাতির সম্মান আর মর্যাদা আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের মাঝে নিহিত রয়েছে। আর জীবনের লাঞ্ছনা ও অসম্মান রয়েছে আল্লাহর অবাধ্যতার মধ্যে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعِزَّةَ فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعًا
| 'যে ব্যক্তি সম্মান চায় সে জেনে রাখুক, সম্মানের আধার হলেন একমাত্র আল্লাহ তাআলা।[১]
অর্থাৎ, মানুষ যেন নিজ সম্মান আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের মাধ্যমে তালাশ করে। কেননা, আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের মাধ্যমেই মানুষের সম্মান অর্জিত হয়।
পূর্ববর্তী বুযুর্গদের কেউ কেউ আল্লাহ তাআলার নিকট এই বলে দুআ করতেন— 'আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার আনুগত্যের মাধ্যমে সম্মানিত করুন। আপনার নাফরমানি দ্বারা আমাকে অপমানিত করবেন না।'
হাসান বসরী বলেন, 'মানুষ যদি শক্তিশালী ও মুগ্ধকর ঘোড়া বা খচ্চরের পিঠে কাঙ্ক্ষিত গতিতে চড়ে বেড়ায় এবং এই আয়েশি বাহনের জন্য সে গর্বও করতে থাকে, তবু সে যেই গুনাহকে নিজের জীবনে জড়িয়ে রেখেছে তার লাঞ্ছনা থেকে আল্লাহ কখনোই তাকে মুক্তি দেবেন না।
আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেন, 'আমি মনে করি, গুনাহ মানুষের অন্তরকে অনুভূতিশূন্য করে দেয়। পাপকাজে ডুবে থাকতে থাকতে জীবন লাঞ্ছনায় ছেয়ে যায়। আর পাপকাজকে ত্যাগ করলে মানুষ যেন তার প্রাণশক্তি ফিরে পায়। বান্দার জন্য গুনাহকে সমূলে ত্যাগ করাই উত্তম। আর রাজা-বাদশাহ, উলামায়ে সূখি এবং ভণ্ড দরবেশরাই দ্বীনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে।'

টিকাঃ
[১] সূরা ফাতির, আয়াত-ক্রম: ১০

📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহের কারণে মানুষের বুদ্ধি লোপ পায়

📄 গুনাহের কারণে মানুষের বুদ্ধি লোপ পায়


গুনাহের কারণে মানুষের বিবেক-বুদ্ধি লোপ পায়। ধ্যানধারণা বিকৃত হয়ে যায়। অথচ বিবেক-বুদ্ধি হলো আলোকময় অনুভূতি। গুনাহ এই আলোকে নিভিয়ে দেয়। আর বিবেক যখন আলোহীন হয়ে যায় তখন তা দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। অতীতের কোনো একজন আলিম মন্তব্য করেছেন, 'যে ব্যক্তিই আল্লাহর নাফরমানি করে সে বিবেকহীন প্রাণিতে পরিণত হয়।' মন্তব্যটি একদমই যথার্থ। কেননা নাফরমান ব্যক্তি যদি প্রকৃত বিবেকবান মানুষ হতো তাহলে তার বিবেকই তাকে আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হওয়া থেকে বাধা দিত। কেননা সে তো আল্লাহ তাআলার অধীনে এমনভাবে রয়েছে যে, আল্লাহ তার সকল ব্যাপারে সর্বদা সম্যক অবগত। আল্লাহর রাজত্বেই তার বসবাস। আল্লাহ তাআলার নিযুক্ত ফিরিশতা সার্বক্ষণিক তার দেখভাল করছেন, তার রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছেন! কুরআনের মর্ম ও শব্দ তাকে গুনাহ থেকে বিরত থাকতে আহ্বান করে চলেছে অনবরত। ঈমানের মহত্ব তাকে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান করছে। অনিশ্চিত মৃত্যু তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। জাহান্নামের লেলিহান অগ্নিশিখা তাকে পাপ কাজের ব্যাপারে চূড়ান্ত ভীতি প্রদর্শন করছে। গুনাহমুক্ত এমন এক পরিবেশে থেকেও যদি সে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয় তাহলে তার বিবেক ও বুদ্ধির দুর্বলতার দিকটিই তখন বুদ্ধিমানদের নিকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয়ে মানুষ জীবনের যতটুকু স্বাদ ও আহ্লাদ ভোগ করতে পারে কার্যত তার থেকেও কয়েকগুণ বেশি পার্থিব ও পরকালীন লাভ ও উপভোগ্য জীবন তার হাতছাড়া হয়ে যায়। সুতরাং বিবেক-বুদ্ধির চরম অবক্ষয়ের শিকার হলেই কেবলমাত্র মানুষ ক্ষণিকের সামান্য অসাড় লোভ-লালসার তাড়নায় জীবনের বৃহত্তম সুখ-শান্তিকে তুচ্ছ মনে করতে পারে। একজন সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষের পক্ষে এ পথে হাঁটা কখনোই সম্ভব নয়।

টিকাঃ
[২] যারা কুরআন ও হাদীসের পর্যাপ্ত ইলম অর্জনের পরও জাগতিক লোডের মোহে কুরআন ও হাদীসের অপব্যাখ্যা করে, মানুষের কাছে দ্বীনের ভুল বার্তা পৌঁছায়, তাদেরকে উলামায়ে স্' বলা হয়।

📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহ মানুষের অন্তরকে নির্বিকার করে তোলে

📄 গুনাহ মানুষের অন্তরকে নির্বিকার করে তোলে


মানুষের জীবনে যখন গুনাহের পরিমাণ বাড়তে থাকে, তখন তার অন্তর অনুভূতিহীন নির্বিকার হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
| 'কখনোই নয়। তাদের কৃতকর্মের ফলে তাদের অন্তরে মরীচিকা পড়েছে।'১৷
কোনো কোনো আলিম এই আয়াতের তাফসীরে বলেছেন, 'লাগাতার গুনাহের ফলে তাদের অন্তরে মরীচিকা পড়েছে।'
হাসান বসরী বলেন, 'অন্তরে মরীচিকা ধরার অর্থ হলো, অবিরাম গুনাহ করার ফলে অন্তর হয়ে যায়।'
কেউ কেউ বলেন, 'যখন আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতা ও নাফরমানির পরিমাণ বৃদ্ধি পায় তখন গুনাহের স্পৃহা মানুষের অন্তরকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
মূল বিষয় হলো, মানুষের অন্তর গুনাহের কারণে মরিচাযুক্ত হয়ে যায়। গুনাহের পরিমাণ যত বাড়তে থাকে দিনদিন মরিচাও তত গাঢ় হতে থাকে। একপর্যায়ে গুনাহ করাই অন্তরের স্বভাবজাত অভ্যাসে পরিণত হয়। পাপ ও পঙ্কিলতায় জর্জরিত অন্তর তখন নেক ও কল্যাণের পথ গ্রহণ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। তখন তার অবস্থা এমন হয়ে যায়, যেন গুনাহের মধ্যেই তাকে শক্ত মোহর মেরে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কল্যাণ ও ভালো কাজ এবং তার অন্তরের মাঝে একটি অদৃশ্য পর্দা অন্তরাল হয়ে যায়। ফলে লাগাতার গুনাহের পরও কখনো যদি তার সামনে হিদায়াত ও পুণ্যের দ্বার উন্মোচিত হয়, সে উল্টোদিকে ঘুরে পিঠ প্রদর্শন করে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

টিকাঃ
[১] সূরা মুতাফফিফীন, আয়াত-ক্রম: ১৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00