📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহগার ব্যক্তি আল্লাহর কাছে লাঞ্ছিত ও ধিকৃত

📄 গুনাহগার ব্যক্তি আল্লাহর কাছে লাঞ্ছিত ও ধিকৃত


গুনাহের একটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হলো, অবাধ্যতা ও নাফরমানির কারণে বান্দা আল্লাহ তাআলার দৃষ্টিতে লাঞ্ছিত ও ধিকৃত হয়ে যায়। মূল্যহীন ও হেয়-প্রতিপন্ন বান্দায় পরিণত হয়। হাসান বসরী বলেন, 'তারা আল্লাহর দৃষ্টিতে লাঞ্ছিত ও ধিকৃত, তাই তারা আল্লাহর নাফরমানি করতে থাকে। আর যারা আল্লাহর নিকট সম্মানিত ও প্রিয় তাদেরকে আল্লাহ তাআলা গুনাহ ও পাপকাজ থেকে রক্ষা করেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার নিকট লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয় তাকে অন্য কেউ সম্মানিত করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَمَنْ يُهِنِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ مُكْرِمٍ
'আর আল্লাহ তাআলা যাকে অপমানিত করেন, তাকে কেউই সম্মান করে না।
যদিও কোনো কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে দেখা যায়, মানুষ জাগতিক প্রয়োজনের স্বার্থে বা ভয়ের কারণে তাকে সম্মান করে কিন্তু অন্তরে অন্তরে তার প্রতি ঠিকই ঘৃণা পোষণ করে এবং সে মানুষের অন্তর্দৃষ্টিতে হয় লাঞ্ছিত ও অপদস্থ।

📘 রূহের খোরাক > 📄 অনুতাপ ও অনুশোচনার্বোধ নিঃশেষ হয়ে যাওয়া

📄 অনুতাপ ও অনুশোচনার্বোধ নিঃশেষ হয়ে যাওয়া


মানুষ যখন লাগাতার গুনাহ করতে থাকে তখন গুনাহের ব্যাপারে তার অন্তরের অনুতাপ ও অনুশোচনাবোধ নিঃশেষ হয়ে যায়। পাপ কাজকে ঘৃণা করার অনুভূতি মরে যায়। তখন সে গুনাহকে আর গুনাহ মনে করে না। আর মানুষ যখন গুনাহকে গুনাহ মনে করে না তখন সে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। মানুষ যখন কোনো গুনাহকে তুচ্ছ মনে করতে শুরু করে, আল্লাহ তাআলার দরবারে সেই গুনাহের ভয়াবহ পরিণতি তৈরি হতে থাকে।
সহীহ বুখারীতে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ এ সূত্রে বর্ণিত-একজন মুমিন বান্দা তার গুনাহকে পাহাড়ের মতো বিশালকায় ও ভারি মনে করে; আর আশঙ্কাবোধ করে এই পাহাড় তার উপর ধ্বসে পড়বে। পক্ষান্তরে একজন পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার কৃত গুনাহকে এতটাই তুচ্ছ মনে করে, এ যেন তার নাকে এসে বসা কোনো মশা-মাছি, হাতের সামান্য নাড়াতেই যা উড়ে যাবে।[১]

টিকাঃ
[১] সূরা হজ, হাদীস-ক্রম: ১৮
[১] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৬৩০৮

📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহের অন্তত প্রতিক্রিয়া

📄 গুনাহের অন্তত প্রতিক্রিয়া


গুনাহের অশুভ প্রতিক্রিয়া সমাজের অন্যান্য নিষ্পাপ মানুষ ও পশু-পাখির মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। গুনাহগার ব্যক্তি ছাড়াও অন্যান্য নিষ্পাপ মানুষ ও পশু-পাখি গুনাহের পরিণতি ভোগ করতে থাকে।
আবু হুরায়রা বলেন, 'জালিমের জুলুমের বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ায় অবলা চড়ুই পাখি তার ছোট্ট বাসার মধ্যে মারা যায়।'
মুজাহিদ বলেন, 'যখন দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টি দেখা দেয়, তখন পশু-পাখি মানবজাতিকে অভিসম্পাত করতে থাকে। তারা বলতে থাকে—এই দুর্ভিক্ষ, দুর্যোগ মানবজাতির গুনাহের ফসল।'
ইকরিমাহ বলেন, 'অনাবৃষ্টির সময় মাটির কীট-পতঙ্গ, পোকামাকড় পর্যন্ত বলতে থাকে—মানব সন্তানের গুনাহের দুর্ভোগ আমরা ভোগ করছি। আমরা বৃষ্টিখরায় ভুগছি।'
সুতরাং গুনাহের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকা চাই। কেননা গুনাহগার ব্যক্তিকে আল্লাহর নিষ্পাপ সৃষ্টিজীবও অভিশাপ দিতে থাকে।

📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহ মানুষকে লাঞ্ছিত করে

📄 গুনাহ মানুষকে লাঞ্ছিত করে


মানবজাতির সম্মান আর মর্যাদা আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের মাঝে নিহিত রয়েছে। আর জীবনের লাঞ্ছনা ও অসম্মান রয়েছে আল্লাহর অবাধ্যতার মধ্যে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعِزَّةَ فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعًا
| 'যে ব্যক্তি সম্মান চায় সে জেনে রাখুক, সম্মানের আধার হলেন একমাত্র আল্লাহ তাআলা।[১]
অর্থাৎ, মানুষ যেন নিজ সম্মান আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের মাধ্যমে তালাশ করে। কেননা, আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের মাধ্যমেই মানুষের সম্মান অর্জিত হয়।
পূর্ববর্তী বুযুর্গদের কেউ কেউ আল্লাহ তাআলার নিকট এই বলে দুআ করতেন— 'আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার আনুগত্যের মাধ্যমে সম্মানিত করুন। আপনার নাফরমানি দ্বারা আমাকে অপমানিত করবেন না।'
হাসান বসরী বলেন, 'মানুষ যদি শক্তিশালী ও মুগ্ধকর ঘোড়া বা খচ্চরের পিঠে কাঙ্ক্ষিত গতিতে চড়ে বেড়ায় এবং এই আয়েশি বাহনের জন্য সে গর্বও করতে থাকে, তবু সে যেই গুনাহকে নিজের জীবনে জড়িয়ে রেখেছে তার লাঞ্ছনা থেকে আল্লাহ কখনোই তাকে মুক্তি দেবেন না।
আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেন, 'আমি মনে করি, গুনাহ মানুষের অন্তরকে অনুভূতিশূন্য করে দেয়। পাপকাজে ডুবে থাকতে থাকতে জীবন লাঞ্ছনায় ছেয়ে যায়। আর পাপকাজকে ত্যাগ করলে মানুষ যেন তার প্রাণশক্তি ফিরে পায়। বান্দার জন্য গুনাহকে সমূলে ত্যাগ করাই উত্তম। আর রাজা-বাদশাহ, উলামায়ে সূখি এবং ভণ্ড দরবেশরাই দ্বীনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে।'

টিকাঃ
[১] সূরা ফাতির, আয়াত-ক্রম: ১০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00