📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহ অতীতে আযাবপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ের কর্মের সিলসিলা

📄 গুনাহ অতীতে আযাবপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ের কর্মের সিলসিলা


পৃথিবীতে যত ধরনের নাফরমানি রয়েছে এর সবই পূর্ববর্তী কোনো না কোনো সম্প্রদায়ের করে যাওয়া বদ-আমল। যেমন—
* সমকামিতা লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের কুকর্মের সিলসিলা।
* ওজন ও পরিমাপে কম-বেশি করা শুআইব আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের রেখে যাওয়া অনৈতিকতা。
* সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ছিল ফিরআউনের অনুসারীদের কাজ。
* অহংকার-অহমিকার ব্যাধি ছিল হুদ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের বদঅভ্যাস。
ফলত গুনাহগার ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার প্রকাশ্য শত্রুদের পোশাক পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ইমাম আহমাদ কিতাবুয যুহদে ইমাম মালিক ইবনু দিনার সূত্রে একটি হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। হাদীসটি হলো—আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলের একজন নবীর কাছে এই প্রত্যাদেশ প্রেরণ করলেন যে, 'আপনি জনপদের লোকদেরকে জানিয়ে দিন, তারা যেন আমার শত্রুদের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়, আমার শত্রুদের পোষাক যেন তারা পরিধান না করে, আমার শত্রুদের মতো যেন তাদের জীবনাচার না হয়, তাদের আহার-নিদ্রা যেন আমার শত্রুদের মতো না হয়। অন্যথায় তারাও আমার শত্রু হয়ে যাবে। আমার দুশমনের পরিণতি তাদেরও ভোগ করতে হবে।'
নবীজি ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তির জীবনধারা যে সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।' [২৯]

টিকাঃ
[১] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৬০৬৯
[২] মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, হাদীস-ক্রম: ১৯৪০১

📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহগার ব্যক্তি আল্লাহর কাছে লাঞ্ছিত ও ধিকৃত

📄 গুনাহগার ব্যক্তি আল্লাহর কাছে লাঞ্ছিত ও ধিকৃত


গুনাহের একটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হলো, অবাধ্যতা ও নাফরমানির কারণে বান্দা আল্লাহ তাআলার দৃষ্টিতে লাঞ্ছিত ও ধিকৃত হয়ে যায়। মূল্যহীন ও হেয়-প্রতিপন্ন বান্দায় পরিণত হয়। হাসান বসরী বলেন, 'তারা আল্লাহর দৃষ্টিতে লাঞ্ছিত ও ধিকৃত, তাই তারা আল্লাহর নাফরমানি করতে থাকে। আর যারা আল্লাহর নিকট সম্মানিত ও প্রিয় তাদেরকে আল্লাহ তাআলা গুনাহ ও পাপকাজ থেকে রক্ষা করেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার নিকট লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয় তাকে অন্য কেউ সম্মানিত করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَمَنْ يُهِنِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ مُكْرِمٍ
'আর আল্লাহ তাআলা যাকে অপমানিত করেন, তাকে কেউই সম্মান করে না।
যদিও কোনো কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে দেখা যায়, মানুষ জাগতিক প্রয়োজনের স্বার্থে বা ভয়ের কারণে তাকে সম্মান করে কিন্তু অন্তরে অন্তরে তার প্রতি ঠিকই ঘৃণা পোষণ করে এবং সে মানুষের অন্তর্দৃষ্টিতে হয় লাঞ্ছিত ও অপদস্থ।

📘 রূহের খোরাক > 📄 অনুতাপ ও অনুশোচনার্বোধ নিঃশেষ হয়ে যাওয়া

📄 অনুতাপ ও অনুশোচনার্বোধ নিঃশেষ হয়ে যাওয়া


মানুষ যখন লাগাতার গুনাহ করতে থাকে তখন গুনাহের ব্যাপারে তার অন্তরের অনুতাপ ও অনুশোচনাবোধ নিঃশেষ হয়ে যায়। পাপ কাজকে ঘৃণা করার অনুভূতি মরে যায়। তখন সে গুনাহকে আর গুনাহ মনে করে না। আর মানুষ যখন গুনাহকে গুনাহ মনে করে না তখন সে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। মানুষ যখন কোনো গুনাহকে তুচ্ছ মনে করতে শুরু করে, আল্লাহ তাআলার দরবারে সেই গুনাহের ভয়াবহ পরিণতি তৈরি হতে থাকে।
সহীহ বুখারীতে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ এ সূত্রে বর্ণিত-একজন মুমিন বান্দা তার গুনাহকে পাহাড়ের মতো বিশালকায় ও ভারি মনে করে; আর আশঙ্কাবোধ করে এই পাহাড় তার উপর ধ্বসে পড়বে। পক্ষান্তরে একজন পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার কৃত গুনাহকে এতটাই তুচ্ছ মনে করে, এ যেন তার নাকে এসে বসা কোনো মশা-মাছি, হাতের সামান্য নাড়াতেই যা উড়ে যাবে।[১]

টিকাঃ
[১] সূরা হজ, হাদীস-ক্রম: ১৮
[১] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৬৩০৮

📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহের অন্তত প্রতিক্রিয়া

📄 গুনাহের অন্তত প্রতিক্রিয়া


গুনাহের অশুভ প্রতিক্রিয়া সমাজের অন্যান্য নিষ্পাপ মানুষ ও পশু-পাখির মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। গুনাহগার ব্যক্তি ছাড়াও অন্যান্য নিষ্পাপ মানুষ ও পশু-পাখি গুনাহের পরিণতি ভোগ করতে থাকে।
আবু হুরায়রা বলেন, 'জালিমের জুলুমের বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ায় অবলা চড়ুই পাখি তার ছোট্ট বাসার মধ্যে মারা যায়।'
মুজাহিদ বলেন, 'যখন দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টি দেখা দেয়, তখন পশু-পাখি মানবজাতিকে অভিসম্পাত করতে থাকে। তারা বলতে থাকে—এই দুর্ভিক্ষ, দুর্যোগ মানবজাতির গুনাহের ফসল।'
ইকরিমাহ বলেন, 'অনাবৃষ্টির সময় মাটির কীট-পতঙ্গ, পোকামাকড় পর্যন্ত বলতে থাকে—মানব সন্তানের গুনাহের দুর্ভোগ আমরা ভোগ করছি। আমরা বৃষ্টিখরায় ভুগছি।'
সুতরাং গুনাহের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকা চাই। কেননা গুনাহগার ব্যক্তিকে আল্লাহর নিষ্পাপ সৃষ্টিজীবও অভিশাপ দিতে থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00