📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহের সামাজিক প্রভাব

📄 গুনাহের সামাজিক প্রভাব


আবু হুরায়রা বলেন, নবীজি ইরশাদ করেছেন, 'যখন গুনাহের কাজ গোপনে হবে তখন কেবল গুনাহগার ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর গুনাহ যখন সমাজে প্রকাশ পেয়ে ছড়িয়ে যাবে তখন সর্বসাধারণ এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।' [৩]
আম্মাজান আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, 'একবার রাসূলুল্লাহ উত্তেজিত অবস্থায় আমার ঘরে আসলেন। তাঁর চেহারা দেখে বুঝতে পারলাম, কিছু একটা ঘটেছে। আল্লাহর রাসূল কোনো কথা না বলে ওযু করে বের হয়ে গেলেন। মসজিদে প্রবেশ করে মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা পাঠ করতে শুরু করলেন। আমি তাঁর কথা শোনার জন্য ঘরের দেয়ালে কান পেতে দিলাম। তিনি আল্লাহর প্রশংসা শেষ করে বললেন-"লোকসকল! শুনে রাখো, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে বলছেন, 'তোমরা ভালো ও কল্যাণের আদেশ করবে। মন্দ ও খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করবে। অন্যথায় এমন এক সময় আসবে, যখন তোমরা দুআ করবে আর আমি তোমাদের সেই দুআ কবুল করব না। তোমরা আমার কাছে সাহায্য চাইবে, আমি সাহায্য করব না। তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি মঞ্জুর করব না।'[২] יי[
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস সূত্রে সাঈদ ইবনু জুবাইর বর্ণনা করেন, নবীজি ইরশাদ করেছেন, 'যখন কোনো সম্প্রদায় ওজনে কম দেয়া শুরু করবে তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে অনাবৃষ্টির দুর্যোগ দেন। আর কোনো জনপদে যখন অশ্লীলতা-ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়ে তখন তাদের মাঝে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়ে যায়। আর যখন কোনো জাতির মাঝে সুদের প্রচলন শুরু হয় আল্লাহ তাআলা তাদের মাঝে মানসিক রোগ বাড়িয়ে দেন। যখন সমাজে খুন, হত্যা, গুমের মতো গর্হিত কাজ শুরু হয়ে যায় আল্লাহ তাআলা তাদের উপর তাদের শত্রুদের চাপিয়ে দেন। যেই জনপদে লূত সম্প্রদায়ের মতো সমকামিতা ছড়িয়ে পড়ে তাদের অঞ্চলে ভূমিধ্বসের প্রবণতা শুরু হয়ে যায়। আর যখন কোনো সমাজ সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকে ছেড়ে দেবে তখন তাদের ভালো কাজগুলোকে সমাজ থেকে সরিয়ে নেয়া হবে এবং তাদের দুআ আর কবুল করা হবে না।'
আবদুল্লাহ ইবনু উমর সূত্রে ইবনু আবিদ দুনিয়া নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদীস বর্ণনা করেন। সেই হাদীসে আল্লাহর নবী এই উম্মতের শেষ যামানার একটি ভয়ানক চিত্র তুলে ধরেছেন। নবীজি বলেন- 'শপথ করে বলছি সেই রবের, যাঁর হাতে আমার প্রাণ। কিয়ামতের পূর্বে অবশ্যই আল্লাহ তাআলা একদল শাসক প্রেরণ করবেন। যারা হবে মিথ্যুক। এই শাসকদের সাথে থাকবে একদল পাপিষ্ঠ মন্ত্রিপরিষদ। তাদের আমলারা হবে দুর্নীতিবাজ। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীলগণ হবে জালিম, অত্যাচারী। তাদের আলিম ও কারী সাহেবরা হবে নিকৃষ্ট স্বভাবের; যাদের বেশভূষা থাকবে দুনিয়াবিমুখ দরবেশের, কিন্তু অন্তর হবে ময়লা-আবর্জনা থেকেও কলুষিত। বিভিন্ন ধরনের মনোবাসনা থাকবে তাদের জীবনে। আল্লাহ তাআলা তাদের মাধ্যমে নতুন ও আশ্চর্য রকমের অন্ধকারাচ্ছন্ন বিভিন্ন ফিতনা ছড়িয়ে দেবেন সমাজে। লোকেরা এই ঘন অমানিশা বেষ্টিত ফিতনায় নিমজ্জিত হয়ে একজন আরেকজনের উপর হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবে।
'কসম করে বলছি সেই সত্তার, যাঁর হাতে মুহাম্মদের জীবন! বিভিন্ন ধাপে ধাপে ইসলামকে ধ্বংস করে দেয়া হবে। একপর্যায়ে আল্লাহ নাম নেয়ার মতো কেউ থাকবে না। হে লোকসকল! তোমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে সৎ কাজের আদেশ করো এবং অসৎ কাজ থেকে বাধা দাও। অন্যথায় মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ তোমাদের জন্য জঘন্যতম লোকদেরকে শাসক বানিয়ে দেবেন; যারা নিকৃষ্টভাবে তোমাদের উপর জুলুম-নির্যাতন করবে। এমতাবস্থায় তোমাদের ভালো ও নেককাররা আল্লাহর কাছে মুক্তির আশায় দুআ করবে কিন্তু তাদের দুআ কবুল হবে না।
'হে লোকসকল! তোমরা অবধারিতভাবে ভালো কাজের আদেশ করো, মন্দ কাজে বাধা দাও, নয়তো আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর এমন শাসক চাপিয়ে দেবেন, যে জুলুম-নির্যাতন করবার সময় না তোমাদের ছোটদের প্রতি দয়া দেখাবে আর না বড়দেরকে কোনো প্রকার সম্মান করবে।' [১]
জারীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত এক হাদীসে নবীজি (সঃ) ইরশাদ করেন, 'কোনো জনপদে কেউ যখন কোনো গুনাহের কাজ করে আর অন্যান্য লোকেরা তার থেকে প্রভাবশালী ও সংখ্যায় অধিক হওয়া সত্ত্বেও তাকে বাধা না দেয়, তখন আল্লাহ তাআলার শাস্তি তাদের সকলের জন্যই প্রযোজ্য হয়।' [২]
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, 'নবীজি (সঃ) কুরাইশ সম্প্রদায়কে সম্বোধন করে ইরশাদ করেন, “হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা যতদিন আল্লাহর নাফরমানি থেকে বিরত থাকবে ততদিন এই শাসন-ক্ষমতা তোমাদের কাছেই থাকবে। আর যখন আল্লাহর নাফরমানি শুরু করবে, আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য এমন লোক নিযুক্ত করবেন, যে তোমাদেরকে বাঁশ চাঁছার মতো করে অত্যাচার করবে।” এই বলে নবীজি তাঁর হাতে-থাকা বাঁশের বাকল টেনে দেখালেন।

টিকাঃ
[৩] হাদীসটি ভিত্তিহীন। ইমাম হাইছামি বলেছেন, এই হাদীসের রাবী মারওয়ান ইবনু সালিম গিফারি মাতরুক বা পরিত্যায্য রাবী। -ফাইযুল কাদির-১/৩৩৬
[১] মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ২৫২৫৫
[১] এই হাদীসের সূত্র পরম্পরায় কাউসার ইবনু হাকীম নাম্নী একজন রাবী আছেন, যিনি অনির্ভরযোগ্য। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেছেন, তাঁর বর্ণনাকৃত সমস্ত হাদীস মিথ্যা ও বানোয়াট। -লিসানুল মীযান ৬/৪২৫-৪২৬
[২] আবু দাউদ, হাদীস-ক্রম: ৪৩৩৯

📘 রূহের খোরাক > 📄 সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে বাধা-প্রদান

📄 সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে বাধা-প্রদান


বাকল ফেলে দেওয়ায় বাশটির সাদা অংশ বের হয়ে গেল।।’[১]
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে বাধা-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক
অন্যকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে বাধা প্রদানের সাথে সাথে নিজের জীবনেও আল্লাহর আদেশ মানা ও নিষেধ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট থাকা একান্ত জরুরি। যে ব্যক্তি অন্যকে সৎ কাজের আদেশ করে অথচ নিজে সেই আদেশকে ব্যক্তি-জীবনে প্রতিপালন করে না কিংবা অসৎ কাজ থেকে অন্যকে বাধা দিলেও নিজে বিরত থাকে না, সে ব্যক্তির ভয়াবহ পরিণতির কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। উসামা ইবনু যায়েদ রা. বলেন, আমি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন একজন ব্যক্তিকে এনে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। আগুনের তাপে তার নাড়িভুঁড়ি গলে যাবে। চাকতি নিয়ে গাধার চক্রাকারে ঘোরার মতো সে আগুনের উত্তাল শিখার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকবে। তখন জাহান্নামীরা তার চারপাশে ভিড় করে বলবে, "হায়! আপনার এ অবস্থা কেন! আপনিই তো পৃথিবীতে আমাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করতেন আর অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতেন!" তখন সে বলবে, "আমি তোমাদেরকে ঠিকই আদেশ করতাম, কিন্তু নিজে সৎ পথে চলতাম না। তোমাদেরকে আমি মন্দ কাজ করতে নিষেধ করলেও আমি নিজেই সেই কাজে জড়িয়ে যেতাম।”’[২]

টিকাঃ
[১] মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ৪৩৮০
[২] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৩২৬৭; মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ২৯৮৯

📘 রূহের খোরাক > 📄 কোনো গুনাহকেই হালকা বা তুচ্ছ মনে করতে নেই

📄 কোনো গুনাহকেই হালকা বা তুচ্ছ মনে করতে নেই


আনাস ইবনু মালিক রা. বলেন, 'তোমরা তো এখন এমন অনেক অনুত্তম কাজ করো, যা তোমাদের চোখে খুবই নগণ্য। অথচ আমরা এসব কাজকেই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় আমাদের জন্য ধংসাত্মক মনে করতাম।' [৩]
আবদুল্লাহ ইবনু উমর সূত্রে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে, আল্লাহর নবী ইরশাদ করেছেন, 'একটি বিড়ালকে আটকে রেখে অনাহারে মেরে ফেলার কারণে এক মহিলাকে জাহান্নামের শাস্তি দেয়া হয়েছে।'[১]
ইমাম আওযায়ী বলেন, আমি বিলাল ইবনু সাদকে নসীহত করতে শুনেছি, তিনি বলেন, 'তোমরা কোনো অপরাধের ক্ষুদ্রতার প্রতি লক্ষ কোরো না। তোমরা অপরাধকে আল্লাহর নাফরমানি হিসেবে গণনা করো।'
ফুযাইল ইবনু ইয়ায বলেন, 'কোনো গুনাহ তোমার কাছে যত ছোট মনে হবে আল্লাহ তাআলার নিকট সেই গুনাহ পরিমাণে তত বড় অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হবে।'
আবু হুরায়রা সূত্রে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ইরশাদ করেন-
إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَذْنَبَ ذَنْبًا كَانَتْ نُكْتَةً سَوْدَاءَ فِي قَلْبِهِ ، فَإِنْ تَابَ وَنَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ صُقِلَ مِنْهَا قَلْبُهُ ، وَإِنْ زَادَ زَادَتْ حَتَّى يُغْلَقَ بِهَا قَلْبُهُ فَذَلِكَ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي كِتَابِهِ : كَلَا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
'কোনো মুমিন বান্দা যখন গুনাহ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। এরপর যদি সে গুনাহ ছেড়ে দিয়ে তাওবা ও ইস্তিগফার করে, তাহলে তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে যায়। আর যদি সে গুনাহ করতেই থাকে, তাহলে কালো দাগটিও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এভাবে একসময় পুরো অন্তর গুনাহের প্রভাবে কালো হয়ে যায়। অন্তরের এই অবস্থাকেই আল্লাহ তাআলা (এই আয়াতে) হৃদয়ের মরিচা বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন-"কখনোই নয়। তাদের কৃতকর্মের ফলেই তাদের অন্তরে মরিচা পড়েছে."[২]
হুযাইফাহ বলেন, 'বান্দা গুনাহ করলে অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। বিরামহীন গুনাহের কারণে এক পর্যায়ে তার অন্তর কালো ছাগলের রঙ ধারণ করে।'
আম্মাজান আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু আনহা মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু'র নিকট চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে উল্লেখ ছিল-'কোনো ব্যক্তি যখন আল্লাহ তাআলার নাফরমানি করে তখন প্রশংসাকারীও ঐ ব্যক্তির নিন্দা করতে থাকে।'
আবু দারদা বলেন, 'শাসকগণ যেন মুমিন বান্দাদের অন্তরের অভিশাপ থেকে সতর্ক থাকে। হয়তো সে বুঝতেও পারবে না যে, মুমিন ব্যক্তিদের অন্তর তাকে অভিসম্পাত করছে।' এরপর আবু দারদা বলেন, 'যখন কোনো ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহ তাআলার নাফরমানি করে তখন ঐ ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ তাআলার ক্রোধ মুমিন বান্দাদের অন্তরে এমনভাবে জায়গা করে নেয় যে, কেউ বুঝতেও পারে না।

টিকাঃ
[৩] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৬৪৯২
[১] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ২৩৬৫; মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ৫৯৮৯
[২] তিরমিযী, হাদীস-ক্রম: ৩৩৪

📘 রূহের খোরাক > 📄 গুনাহের তাৎক্ষণিক ও দূরবর্তী প্রভাব

📄 গুনাহের তাৎক্ষণিক ও দূরবর্তী প্রভাব


গুনাহের ব্যাপারে অনেক মানুষ একটি ভুল চিন্তা লালন করে থাকে। তারা গুনাহের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখতে পায় না। কখনো কখনো গুনাহের প্রতিক্রিয়া দূর ভবিষ্যতের কোনো সময়ে প্রকাশ পায়। গুনাহগার ব্যক্তির তখন পুরনো গুনাহের কথা মনে থাকে না। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখলেই তারা মনে করে ভবিষ্যতে এর কোনো প্রভাব নেই।
তাদের চিন্তা ও মানসিকতা নিতান্তই অবান্তর। অনেক মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায় এমন নির্ভীক দুঃসাহসী চিন্তায়। মূর্খ ব্যক্তি তো বটেই, ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন অনেক আলিমও এ ক্ষেত্রে ধোঁকায় পড়ে যান। অথচ মানবদেহে বিষ কিংবা দৈহিক আঘাতের প্রতিক্রিয়ার চেয়েও অধিক প্রভাব বিস্তারকারী হলো মানুষের পাপকর্ম। তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব চোখে না পড়লেও ভবিষ্যতের কোনো না কোনো সময়ে অবধারিতভাবে বান্দা গুনাহের কুফল ভোগ করবে।
কিতাবুয যুহদে উল্লেখ আছে, মুহাম্মদ ইবনু সীরীন যখন বেশকিছু আর্থিক ঋণের কারণে চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন, তখন বলেছিলেন, 'আমি খুব ভালোভাবেই জানি, আমার এই দুশ্চিন্তা আজ থেকে ৪০ বছরের পুরনো গুনাহের ফসল।'
আবু দারদা বলেন, 'তোমরা এমনভাবে ইবাদাত করো, যেন আল্লাহকে দেখছ। আর নিজেদেরকে মৃত ব্যক্তিদের মাঝে ভাবতে থাক। জেনে রেখো, উপকারী অল্প জিনিস ক্ষতিকর প্রাচুর্যতা থেকে উত্তম। তোমরা মনে রেখো, পুণ্যময় কাজ কখনো পুরনো বা মলিন হয় না, আবার গুনাহ বা অপরাধ কখনো ভুলে যাওয়া হয় না।'
কথিত আছে, একজন বুযুর্গ একদিন সুন্দর চেহারার এক বালককে দেখে মুগ্ধ হওয়ায় অন্তরে এক ধরনের ঘোর জন্ম নেয়। রাতের বেলা স্বপ্নে সেই ছেলে এসে তাকে বলল, 'তোমার অন্তরের এই গুনাহের ফল তুমি ৪০ বছর পর ভোগ করবে।'
এ তো হলো গুনাহের দূরবর্তী প্রভাব। এ ছাড়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াও মানুষ ভোগ করে থাকে। সুলাইমান আত-তাইমী বলেন, 'এমনও হয় যে, মানুষ গোপনে গুনাহ করে, পরে সকাল হলেই সেই গুনাহের লাঞ্ছনা সে বয়ে বেড়ায়।' ইয়াহইয়া ইবনু মুয়ায আর-রাযী বলেন, 'আমি বড় আশ্চর্যবোধ করি ঐ বুদ্ধিমান ব্যক্তির আচরণে, যে আল্লাহর কাছে দুআ করে বলে, “আল্লাহ! আপনি আমাকে শত্রুদের মনোতুষ্টির কারণ বানাবেন না।”' এরপর দুআকারী ব্যক্তি নিজেই তার শত্রুদের আনন্দের কাজ করতে থাকে।' তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'দুআকারী কীভাবে নিজের শত্রুদের আনন্দের কারণ হয়?' ইয়াহইয়া ইবনু মুয়ায বললেন, 'সে তো আল্লাহর নাফরমানি করে। আর এর পরিণতিতে সে কিয়ামতের দিন তার সকল শত্রুর সামনে অপদস্থ হয়ে তাদের মনোতুষ্টির কারণ হবে।' আল্লামা জুন্নুন বলেন, 'যে ব্যক্তি গোপনে আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয় মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা প্রকাশ্যে তার গোপন অবস্থাকে উন্মোচন করে দেন।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00