📄 আল্লাহর প্রতি সুধারণায় ভ্রান্তির শিকার হওয়া
পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার বাণী হাদীসে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ তাআলা বলেন-
أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي
| 'আমি আমার বান্দার ধারণার কাছাকাছিই তার সাথে আচরণ করে থাকি।।৯
সে এখন আমার ব্যাপারে যেমন ধারণা রাখবে আমিও তাঁর সাথে তেমন আচরণই করব।
গুনাহের ব্যাপারে নির্বিকার থাকা এই লোকদের কেউ কেউ এই হাদীসের আশায় ভাবনাহীন দিনপাত করতে থাকে। তারা চিন্তা করে-আমি যতই গুনাহ করি না কেন, আল্লাহ তাআলার দয়া, মহত্ব ও ক্ষমাগুণের ধারণা যদি আমি অন্তরে পোষণ করি, আল্লাহর কাহহার, পরাক্রমশীলতা ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিতে পারার যোগ্যতার ধারণাকে যদি আমি আমার অন্তরে জায়গা না দিই, আমার যতই গুনাহ থাকুক না কেনো তাহলে আল্লাহ তাআলা দয়া ও ক্ষমার আচরণই করবেন আমার সাথে। কেননা আমি তাঁর প্রতি যেমন ধারণা রাখব তিনি আমার সাথে তেমন আচরণই করবেন। অথচ, বাস্তবতা হলো, আল্লাহ তাআলার প্রতি সুধারণা তখনই রাখা সম্ভব হবে যখন বান্দা নেককার, সৎ ও মুত্তাকী হবে। বান্দা যখন ভালো ও উত্তম কাজ করতে থাকবে তখনই সে আল্লাহ তাআলার প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করতে সক্ষম হবে; সে চিন্তা করবে তার নেক কাজ ও উত্তম চরিত্রের বিনিময় আল্লাহ তাআলা উত্তমভাবেই দেবেন। সে আল্লাহর প্রতি তখন ধারণা রাখবে-আল্লাহ তাআলা নেক কাজের যেই উত্তম প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেই প্রতিশ্রুতি তিনি পূরণ করবেন, তার জীবনের ভুল-ভ্রান্তি আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেবেন।
আর যে গুনাহে লিপ্ত থাকবে তার কখনোই আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা সম্ভব হবে না। যে কাবীরা গুনাহ, জুলুম, অত্যাচারসহ নানা রকমের গর্হিত কাজে নিজেকে জড়িয়ে রাখবে সে কীভাবেই-বা আল্লাহ তাআলার প্রতি উত্তম ধারণা রাখতে পারে!
গুনাহের কারণে অন্তরে হাহাকার ও একাকিত্ববোধ জন্ম নেয়। হারাম ভক্ষণ আর জুলুম-নির্যাতনে কলুষিত আত্মা আল্লাহর ব্যাপারে ভালো কোনো ধারণাই রাখতে পারে না। বাস্তব চিত্রও একই কথার সাক্ষ্য দিয়ে থাকে। যেই গোলাম তার মনিব থেকে পালিয়ে বেড়ায়, মনিবের আনুগত্য করতে অস্বীকৃতি জানায় সে কীভাবে মনিবের ব্যাপারে সুধারণা রাখবে! পাপ-পঙ্কিলতায় ডুবে থাকা বিষাদাতুর অন্তরে কি নেক ও সুধারণার অনুভূতি জাগ্রত হয় কখনো! অপরাধ আর মন্দ কাজ করতে করতে বান্দা যখন গভীর নিঃসঙ্গতায় একাকিত্বের অনলে পুড়তে থাকে সে তো অবিরাম মহান রবের অবাধ্যতাই করে যাবে। অথচ আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণকারী বান্দা তো সেই হবে যে আল্লাহর প্রতি অধিক আনুগত্যশীল থাকবে।
হাসান বসরী বলেন, 'মুমিন বান্দাই আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখে। এর ফলে সে তার আমলসমূহ উত্তমভাবে করতে থাকে। আর পাপাচারী ব্যক্তিই আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রাখতে সক্ষম হয় না। ফলে সে তার কাজগুলোও নেক ও কল্যাণের পথে পরিচালনা করে না।'
ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলেও বুঝা যায়, বান্দার অন্তরে যখন এই বিশ্বাস বদ্ধমূল থাকবে যে, সে একদিন আল্লাহর সামনে জীবনের হিসাব নিয়ে দাঁড়াবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সবকিছুর ব্যাপারেই অবগত থাকবেন, কোনো বিষয়ই আল্লাহর নিকট গোপন থাকবে না, তার জীবনের প্রতিটি কাজের ব্যাপারে সে জিজ্ঞাসিত হবে, তখন সে কীভাবেই-বা আল্লাহর প্রতি সুধারণার দোহাই দিয়ে অন্যায়, অবিচার, যুলুম, নির্যাতনের জিন্দেগি যাপন করবে! কেমন করে আল্লাহর ক্রোধ ও অভিশাপের বোঝা মাথায় নিয়ে নিশ্চিন্তে শরীয়তের হুকুম অমান্য করে বেড়াবে!
হযরত আবু উমামাহ সাহল ইবনু হুনাইফ বলেন, 'একবার আমি ও উরওয়াহ ইবনুষ যুবাইর উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু আনহা'র কাছে গেলাম। আয়েশা সিদ্দীকা তখন আমাদেরকে বললেন, “যদি তোমরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অসুস্থ অবস্থায় দেখত পেতে! একবার নবীজির নিকট ছয়টি কি সাতটি স্বর্ণমুদ্রা ছিল। তিনি আমাকে স্বর্ণমুদ্রাগুলো আল্লাহর রাস্তায় সাদাকাহ করে দিতে বললেন। এদিকে আমিও নবীজির অসুস্থতার কষ্টের কারণে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। স্বর্ণমুদ্রার কথা ভুলে নবীজির সেবা করতে লাগলাম। আল্লাহর মেহেরবানিতে নবীজি যখন সুস্থ হয়ে উঠলেন আমাকে স্বর্ণমুদ্রার ব্যাপারে জানতে চাইলেন, 'দিনারগুলো কী করেছ? দান করে দিয়েছ সব?' আমি জবাব দিলাম, 'আল্লাহর শপথ, আমার তো স্বর্ণমুদ্রাগুলোর কথা মনেই ছিল না। আপনার অসুস্থতায় আমি বিচলিত ও ব্যস্ত ছিলাম। সেগুলো দান করার সুযোগ আর আমার হয়ে ওঠেনি।' নবীজি তখন স্বর্ণমুদ্রাগুলো আনতে বললেন। তারপর সেগুলো হাতে রেখে বললেন, 'আল্লাহর নবীর ধারণা কেমন হবে যদি এইসব স্বর্ণমুদ্রা সমেত সে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হয়!'” [১]
লক্ষ করুন, সামান্য কয়েকটি স্বর্ণমুদ্রার জন্যই যদি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্তরে এমন দুশ্চিন্তা জন্ম নেয় তাহলে তাহলে গুনাহের বোঝা মাথায় নিয়ে, অন্যায় অবিচার আর অপরাধবোধে বিপর্যস্ত আমলনামা নিয়ে যারা আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে তাদের অবস্থা কেমন হবে!
তারা যদি এ কথা চিন্তা করে থাকে, আমরা আল্লাহর সামনে উপস্থিত হয়ে আল্লাহকে বলব-'হে আল্লাহ! আমরা তো আপনার দরবারে এক সুধারণা নিয়ে উপস্থিত হয়েছি! আপনি কোনো জালিম, অত্যাচারী ও পাপাচারীকে কোনো অবস্থাতেই শাস্তি দেবেন না! এই ধারণাই আমাদেরকে পৃথিবীতে অবাধ পাপাচার লিপ্ত করে রেখেছে। নির্ভার করে রেখেছে সারা জীবন!' তাদের এই অবান্তর ও আলেয়ার মরীচিকাতুল্য চিন্তা-ধারণার কি কোনো মূল্যায়ন থাকতে পারে সভ্য সমাজে!
টিকাঃ
[১] মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ৮১৭৮
[১] ইবনু হিব্বান, হাদীস-ক্রম: ২১৪২
📄 সুধারণা ও এক ধরনের নেক আমল
একটু খেয়াল করলেই আমরা বুঝতে পারি আল্লাহর প্রতি সুধারণাও এক প্রকারের নেক আমল। আল্লাহর প্রতি বান্দার উত্তম ধারণাই বান্দাকে নেক ও সৎ কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পারে। বান্দা যখন তার রবের প্রতি সুধারণা পোষণ করবে, সে চিন্তা করবে আল্লাহ তাআলা আমার প্রতিটি সৎ ও নেক কাজ কবুল করবেন, বিনিময়ে উত্তম প্রতিদান দেবেন। এই নির্মল চিন্তা তাকে যত বেশি আচ্ছাদিত করবে সে ততই ভালো ও কল্যাণের পথে ছুটতে থাকবে। অন্তরে আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ রেখে কখনোই নফসের গোলামী বা প্রবৃত্তির মনোবাসনা পূরণ করা সম্ভব নয়।
শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, নবীজি (ﷺ) ইরশাদ করেন-
الْكَيْسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ ، وَالْعَاجِزُ مَنِ اتَّبَعَ نَفْسَهُ وَهَوَاهَا وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
'প্রকৃত বুদ্ধিমান ঐ ব্যক্তি, যে নিজের প্রবৃত্তিকে চিনতে পেরেছে এবং মৃত্যু পরবর্তী-জীবনের জন্য কাজ করে যায়। অক্ষম, অকর্মণ্য ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির ধোঁকায় পড়ে নফসের কথামতো চলে আর আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে আকাশ-কুসুম কল্পনা করে (যে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন)।' [১]
মোটকথা, আল্লাহর প্রতি বান্দার সুধারণা নেক ও সৎ কাজের মাধ্যমেই অর্জন করা যায়। আর নিজের ধ্বংস ও বরবাদির উপকরণ; গুনাহের জিন্দেগিতে থেকে আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা সম্ভব নয়।
টিকাঃ
[১] তিরমিযী, হাদীস-ক্রম: ২৪৫৯
📄 সত্যিকারের সুধারণা বনাম নফসের ধোঁকা
কেউ হয়তো চিন্তা করতে পারে, খারাপ কাজে লিপ্ত ব্যক্তির অন্তরেও তো আল্লাহর প্রতি নেক ধারণা থাকতে পারে। কেউ নিজে হয়তো গুনাহের কাজ করে কিন্তু সে আল্লাহ তাআলার বিস্তৃত রহমত, মাগফিরাত ও মহানুভবতার গুণাবলির দিকে তাকিয়ে আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখে। আল্লাহ তাআলা তো হাদীসে কুদসীতে ইরশাদ করেছেন, 'আমার অনুকম্পা ও দয়া আমার ক্রোধের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে রেখেছে।'[১]
বান্দার কৃতকর্মের কারণে শাস্তি দিলে তো আল্লাহর কোনো লাভ নেই, ক্ষমা করে দিলেও কোনো ক্ষতি নেই—এই ধরনের অবান্তর চিন্তায় হয়তো অনেকেই প্রভাবিত থাকতে পারে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন।
বস্তুত তাদের চিন্তাটি সঠিক নয়। কেননা এ ধরনের বিকৃত সুধারণা মানুষ কেবল চিন্তার ভ্রষ্টতা ও নফসের ধোঁকায় পড়লেই করতে পারে। একথা তো অবশ্যই সত্য যে, আল্লাহ তাআলা নিশ্চয়ই পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। এমনকি বান্দার চিন্তারও বাইরে বিস্তৃত আল্লাহ তাআলার এ সকল গুণাবলি।
তবে আল্লাহর এসব মার্জনামূলক গুণাবলির নির্দিষ্ট ক্ষেত্র আছে। পাশাপাশি আল্লাহ তাআলা হলেন সর্বোত্তম ন্যায়পরায়ণ ও প্রজ্ঞাবান। একইসাথে তিনি সর্বোচ্চ কঠোর, রূঢ় ও আক্রোশাত্মক গুণধরও। আল্লাহ তাআলার এই রূঢ় গুণাবলির প্রত্যেকটিরই ক্ষেত্র ভিন্ন ভিন্ন।
মুত্তাকী, নেককার ও ভালোমানুষদের সাথে আল্লাহ তাআলার দয়া ও মার্জনার আচরণ এবং বদকার, ফাসিক ও গুনাহগারদের সাথে রূঢ় ও রুক্ষ আচরণই তাঁর ন্যায়পরায়ণতার স্বাক্ষর।
সুতরাং যারা সুধারণার ধোঁকায় পড়ে আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতা করে করে জীবনযাপন করছে তাদের এই জীর্ণ চিন্তার দাবি হলো, আল্লাহ তাআলার দরবারে মুমিন, আনুগত্যশীল, তাওবাকারী এবং কাফির, ফাসেক, অননুতপ্ত—সকলেই ক্ষমাপ্রাপ্ত।
অথচ আল্লাহ তাআলার সকল গুণাবলির ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রের কারণে প্রত্যেক বান্দাই তাদের কর্মের ফল ভোগ করবে এবং মহান সত্তার এমন রূপ ও আচরণই তারা প্রত্যক্ষ করবে যা তাদের কর্মজীবনের জন্য উপযোগী। বস্তুত অন্যায় ও অপরাধপ্রবণতাকে বৈধতা দেয়ার জন্যই মানুষ নফসের ধোঁকায় পড়ে আল্লাহ তাআলার প্রতি সুধারণা রাখার বুলি আওড়াতে থাকে। আর জ্ঞানী ও বিচক্ষণ বান্দারা আল্লাহ তাআলার প্রতি সুধারণা ও ক্ষমা-মার্জনার সুবিশাল আশার প্রদীপকে জীবনের যথাস্থানে স্থাপন করে আরো অধিক পরিমাণে নেক কাজ করতে থাকে। পক্ষান্তরে জাহিল-অজ্ঞ লোকেরা সেই সুধারণাকে নফসের ধোঁকায় পড়ে যথাস্থানে স্থাপন করতে না পেরে মিথ্যা সান্ত্বনায় জীবন পার করে দেয়।
টিকাঃ
[১] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৭১১৪
📄 ক্ষমাপ্রাপ্তির ভরসায় আল্লাহ’র আদেশ-নিষেধকে অমান্য করা
কিছু মূর্খ লোক আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমাপ্রাপ্তির আশায় নির্ভার থাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। ভাবনাহীন জীবনে তারা আল্লাহ তাআলার আদেশ ও নিষেধ, হালাল ও হারামের সীমা অতিক্রম করতে থাকে ক্ষমা ও মার্জনার আশায়। নাফরমানি করতে গিয়ে তারা ভুলে যায় আল্লাহ তাআলা দয়ালু ক্ষমাশীল হওয়ার পাশাপাশি মহাপরাক্রমশালী ও যন্ত্রণাদায়ক আযাবদাতা। অপরাধীদেরকে পাকড়াও করতে তিনি কুণ্ঠিত হন না। আর তাঁর প্রেরিত শান্তি ও আযাবকে কেউ প্রতিহতও করতে পারে না।
মারূফ কারখী বলেন, 'তুমি যে-রবের আনুগত্য করতে পার না, তাঁর রহমতের আশা করা তোমার জন্য নিতান্তই লাঞ্চনা ও গ্লানিকর।'
কোনো এক আলিম মন্তব্য করেন- 'যেই মহান সত্তা দুনিয়াতে সামান্য কিছু দিরহাম চুরির শাস্তিস্বরূপ একটি অঙ্গ কেটে নেন, তুমি তার অবাধ্য হয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে যেয়ো না। আবার এরকমও ভেবো না তোমার নাফরমানির জন্য দুনিয়ার অঙ্গহানির মতোই তিনি সহনীয় কোনো শাস্তি দেবেন। বরং প্রত্যেক অপরাধীর জন্যই কল্পনাতীত শাস্তি রয়েছে।'
একবার হাসান বসরী -কে বলা হলো, 'আপনি তো অনেক পুণ্যবান ব্যক্তিত্ব, আপনাকে দীর্ঘ সময় ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখা যায়!' তিনি এর উত্তরে বলেন, 'আমার আশঙ্কা হয়, আমার এই আমলনামা কি না আবার ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়!'
তিনি প্রায়শই বলতেন, 'কিছু মানুষ আছে, যারা আল্লাহর মাগফিরাতের আশায় উদাসীন অবস্থায় জীবন পার করে দেয়। এভাবে এক সময় তারা দুনিয়া থেকে তাওবা ছাড়াই বিদায় নেয়। তাদের কেউ কেউ তখন বলে, “আরে! আমি তো আমার রবের প্রতি সুধারণা রাখি। তিনি নিশ্চয়ই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।” অথচ সে তখনও মিথ্যা বলছে। সে যদি সত্যিই আল্লাহ তাআলার প্রতি ভালো ধারণা রাখত তাহলে পুণ্যের কাজও করত।'