📘 রূহের খোরাক > 📄 নেক ও সৎকর্মের প্রতি অন্তর্ভুক্ত

📄 নেক ও সৎকর্মের প্রতি অন্তর্ভুক্ত


মতিভ্রম এই লোকদের কেউ আবার পীর, মাশায়েখ, দরবেশ কিংবা প্রসিদ্ধ কোনো বিজ্ঞ আলিমের প্রতি অন্ধভক্তির কারণে এক অলৌকিক শক্তিবলে গুনাহ-মাফের নিশ্চয়তা নিয়ে দিনাতিপাত করে। প্রয়াত পীর মাশায়েখ বা বুযুর্গদের কবরে এরা নিয়মিত আসা-যাওয়া করতে থাকে। দুআর মধ্যে তাঁদের কথা স্মরণ করে, তাঁদের নামের উসীলা গ্রহণ ও সুপারিশের আশাকে পুঁজি করে তারা তাদের পাপ-পঙ্কিল জীবনেও ভাবনাহীন থাকে।
কেউ আবার তাঁদের পূর্বপুরুষ, নিজ পিতা বা পিতামহের তাকওয়া, খোদাভীতি দুনিয়াবিমুখতার কথা স্মরণ করে নিজের জীবন সম্পর্কে ধোঁকার মধ্যে থাকে। তারা মনে করে তাদের পূর্বপুরুষদের কারণে আল্লাহ তাআলার নিকট তাদেরও বিশেষ মর্যাদা আছে। তাই তারা নিজেদের মুক্তির জন্য, গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করার প্রয়োজন মনে করে না। যেমনটা জাগতিক রাজা-বাদশাহদের দরবারে দেখা যায়। ক্ষমতাবান রাজা-বাদশাহদের নিকটস্থ ব্যক্তিদের সন্তানরা যদি কোনো অপরাধ করে থাকে তখন তারা তাদের বাপ-দাদা বা পরিচিত লোকদের কারণে, তাদের পদমর্যাদায়, সুপারিশে রাজদরবারে নিরপরাধীর মতোই আসা-যাওয়া করতে পারে। তাদের অপরাধকে ক্ষমার চোখে দেখা যায়।

📘 রূহের খোরাক > 📄 আল্লাহ তাআলার ব্যাপারেও তারা ধোঁকার মধ্যে থাকে

📄 আল্লাহ তাআলার ব্যাপারেও তারা ধোঁকার মধ্যে থাকে


এই নির্বোধ লোকদের কেউ আবার আল্লাহ তাআলার ব্যাপারেও ধোঁকার মধ্যে থাকে। তারা এক অবান্তর চিন্তায় পথভ্রষ্ট হয়। তারা মনে করে, আল্লাহ তাআলা তো বান্দাদেরকে শাস্তি দেওয়ার মুখাপেক্ষী নন। বান্দাদেরকে শাস্তি প্রদান করলে তাঁর রাজত্বের কোনো লাভ নেই। আবার বান্দার প্রতি রহম করলেও তাঁর রাজত্বের কোনো কমতি নেই।
এই শ্রেণির মানুষের ধারণা-আমি তো তাঁর রহমতের ভিখারি! আর তিনি হলেন সকল ধনীদের ধনী! এখন যদি কোনো পিপাসার্ত অসহায় ব্যক্তি প্রবাহিত ঝর্ণার কোনো মালিকের নিকট এসে পানি চায় তাহলে তো সে ব্যক্তির পানি না দেওয়ার কোনো কারণ নেই। আমার আল্লাহ তো তাদের থেকেও মহান, দানশীল ও দয়ালু! বান্দার প্রতি তাঁর মাগফিরাত ও ক্ষমার ঘোষণায় তাঁর ক্ষতি নেই, আবার শাস্তি প্রয়োগেও তাঁর কোনো লাভ নেই।

📘 রূহের খোরাক > 📄 কুরআন-সুন্নাহর মর্মার্থ অনুধাবনে ভ্রান্তির শিকার হওয়া

📄 কুরআন-সুন্নাহর মর্মার্থ অনুধাবনে ভ্রান্তির শিকার হওয়া


বিভ্রান্ত এই দলের কেউ কেউ আবার কুরআনুল কারীম ও সুন্নাহর বিভিন্ন ঐশী বাণীর মর্মার্থ অনুধাবনে ভুলের শিকার হয়। কিছু আয়াত ও হাদীসকে তারা সামনে রেখে জীবনের ভুলভ্রান্তি থেকে নির্ভার হয়ে যায়। যেমন মহান আল্লাহর শাশ্বত বাণী-
وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَى
'আর শীঘ্রই আপনার প্রভু আপনাকে এমন ভরপুর দান করবেন যে, আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।১]
এই আয়াত থেকে তারা বলতে চায়, আল্লাহ তাআলা তো তাঁর নবীকে সন্তুষ্ট করবেন। আর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো উম্মত জাহান্নামে প্রবেশ করলে নবীজিও তার জন্য ব্যথিত হবেন, কষ্ট পাবেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা নবীজিকে সন্তুষ্ট করবেন এর অর্থ হলো তাঁর উম্মাতের কেউই জাহান্নামে যাবে না।
কুরআনের আয়াত থেকে এ ধরনের স্খলিত চিন্তা নিকৃষ্ট পর্যায়ের অজ্ঞতা ও মূর্খতা। এবং আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মিথ্যাচারের নামান্তর। কেননা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিতেই সন্তুষ্ট হবেন। আর জালিম, ফাসিক, আমানাতের খিয়ানতকারী ও কবীরা গুনাহে জীবন পার করে দেওয়া পাপাচারীদেরকে শাস্তি প্রদানেই আল্লাহর সন্তষ্টি রয়েছে। আল্লাহর নবীর ব্যাপারে তো কল্পনাও করা যায় না, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি যেই সিদ্ধান্তে নিহিত, তাতে অসন্তুষ্ট হবেন।
এদের কেউ কেউ আবার কুরআনুল কারীমের অন্য আয়াতের দিকে তাকিয়ে ভাবনাহীন জীবনযাপন করতে থাকে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا
| 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন।'|
এই আয়াতকে সান্ত্বনার বাণী মনে করা এক ধরনের অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। স্থূলভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায়, উল্লিখিত আয়াতের মধ্যে শিরকের মতো জঘন্য গুনাহ মাফেরও ঘোষণা চলে আসে। অথচ আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলে দিয়েছেন-তিনি শিরকের গুনাহ কোনোভাবেই মাফ করবেন না। শিরকের অপরাধকে অন্য আয়াতে অমার্জনীয় বলে ঘোষণা দিয়েছেন। একইসাথে তাদের উল্লিখিত এই আয়াতটি তাওবাকারীদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। গুনাহগার ব্যক্তি যখন তাওবা করবেন আল্লাহ তাআলা তাঁর জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন। যদি উল্লিখিত আয়াতে তাওবাকারী এবং তাওবার সৌভাগ্য নসীব হয়নি-এমন সকল ব্যক্তিরই গুনাহ মাফের ঘোষণার জন্য বলা হয়ে থাকে তাহলে তো কুরআনে বর্ণিত আযাব ও শাস্তির ওয়াদামূলক অসংখ্য আয়াত বাস্তবতা বিবর্জিত হয়ে যায়।
এভাবে তারা বিভিন্ন আয়াতের ভুল ব্যাখ্যার উপর নির্ভর করে গুনাহ করাকে কোনো অপরাধ বা গর্হিত কাজ মনে করে না। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।
একইভাবে হাদীসে বর্ণিত বিভিন্ন আমলসমূহের প্রতিদানস্বরূপ গুনাহ মাফের যেই ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে সেক্ষেত্রেও তারা বিচ্যুতির শিকার হয়েছে। তারা ধোঁকায় পড়ে যায়—যখন দেখে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আশুরার সাওম, আরাফার দিনের সাওম সারা বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়, তারা মনে করে সারা বছর গুনাহ করলে কোনো সমস্যা নেই। আশুরা কিংবা আরাফার দিনের সাওম যাবতীয় পাপ মোচন করে দেবে।
নফসের ধোঁকায় পর্যদুস্ত এই নির্বোধ ব্যক্তিরা জানে না, রামাদানের সাওম, পাঁচ ওয়াক্ত নামায-এসব নফলের চাইতেও অধিক শক্তিশালী আমল। আর হাদীসে বর্ণিত সারা বছরের গুনাহ মাফের যেই ঘোষণা এসেছে তা কার্যকর হবে সগীরা গুনাহের ক্ষেত্রে, যখন বান্দা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে। কবীরা গুনাহ মাফের জন্য এসব আমলের ফযিলত কার্যকরী নয়। কবীরা গুনাহ মাফের জন্য অন্তর থেকে দৃঢ় সংকল্পের তাওবা জরুরি। গুনাহে লিপ্ত থেকে, কবীরা গুনাহের মাঝে ডুবে থেকে বছরের এক-দুইদিনের রোযার দ্বারা বা বিশেষ কোনো আমলের কারণে সারা বছরের গুনাহ মাফের আশা করাটা বিলাসী কল্পনার নামান্তর। বান্দা যখন গুনাহে লিপ্ত না থেকে, কবীরা গুনাহ ছেড়ে দেবে, গুনাহমুক্ত জীবন যাপন করবে তখন আল্লাহ তাআলা বান্দার এসব নফল আমলের দ্বারা তার ছোট ছোট গুনাহকে মাফ করে দেবেন।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ
'তোমদেরকে যেসব বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা তার বৃহৎ ও মূল অংশ (কবীরা গুনাহ) থেকে বেঁচে থাক তাহলে আল্লাহ তোমাদের ছোট ছোট ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেবেন।' [১]
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, কোনো একটি আমলকে গুনাহ মাফের কারণ বা উপকরণ নির্ধারণ করা হলে, পাশাপাশি গুনাহ মাফের অন্যান্য কারণও (শিরক ও কবীরা গুনাহ থেকে মুক্ত থাকা) বিদ্যমান থাকা দরকার। আর গুনাহ মাফের একাধিক কারণ একসাথে মিলিত হলে বান্দার পাপমোচন আরও কার্যকরী ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

টিকাঃ
[১] সূরা দোহা, আয়াত-ক্রম: ৫
[১] সূরা যুমার, আয়াত-ক্রম: ৫৩
[১] সূরা নিসা, আয়াত-ক্রম: ৩১

📘 রূহের খোরাক > 📄 আল্লাহর প্রতি সুধারণায় ভ্রান্তির শিকার হওয়া

📄 আল্লাহর প্রতি সুধারণায় ভ্রান্তির শিকার হওয়া


পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার বাণী হাদীসে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ তাআলা বলেন-
أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي
| 'আমি আমার বান্দার ধারণার কাছাকাছিই তার সাথে আচরণ করে থাকি।।৯
সে এখন আমার ব্যাপারে যেমন ধারণা রাখবে আমিও তাঁর সাথে তেমন আচরণই করব।
গুনাহের ব্যাপারে নির্বিকার থাকা এই লোকদের কেউ কেউ এই হাদীসের আশায় ভাবনাহীন দিনপাত করতে থাকে। তারা চিন্তা করে-আমি যতই গুনাহ করি না কেন, আল্লাহ তাআলার দয়া, মহত্ব ও ক্ষমাগুণের ধারণা যদি আমি অন্তরে পোষণ করি, আল্লাহর কাহহার, পরাক্রমশীলতা ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিতে পারার যোগ্যতার ধারণাকে যদি আমি আমার অন্তরে জায়গা না দিই, আমার যতই গুনাহ থাকুক না কেনো তাহলে আল্লাহ তাআলা দয়া ও ক্ষমার আচরণই করবেন আমার সাথে। কেননা আমি তাঁর প্রতি যেমন ধারণা রাখব তিনি আমার সাথে তেমন আচরণই করবেন। অথচ, বাস্তবতা হলো, আল্লাহ তাআলার প্রতি সুধারণা তখনই রাখা সম্ভব হবে যখন বান্দা নেককার, সৎ ও মুত্তাকী হবে। বান্দা যখন ভালো ও উত্তম কাজ করতে থাকবে তখনই সে আল্লাহ তাআলার প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করতে সক্ষম হবে; সে চিন্তা করবে তার নেক কাজ ও উত্তম চরিত্রের বিনিময় আল্লাহ তাআলা উত্তমভাবেই দেবেন। সে আল্লাহর প্রতি তখন ধারণা রাখবে-আল্লাহ তাআলা নেক কাজের যেই উত্তম প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেই প্রতিশ্রুতি তিনি পূরণ করবেন, তার জীবনের ভুল-ভ্রান্তি আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেবেন।
আর যে গুনাহে লিপ্ত থাকবে তার কখনোই আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা সম্ভব হবে না। যে কাবীরা গুনাহ, জুলুম, অত্যাচারসহ নানা রকমের গর্হিত কাজে নিজেকে জড়িয়ে রাখবে সে কীভাবেই-বা আল্লাহ তাআলার প্রতি উত্তম ধারণা রাখতে পারে!
গুনাহের কারণে অন্তরে হাহাকার ও একাকিত্ববোধ জন্ম নেয়। হারাম ভক্ষণ আর জুলুম-নির্যাতনে কলুষিত আত্মা আল্লাহর ব্যাপারে ভালো কোনো ধারণাই রাখতে পারে না। বাস্তব চিত্রও একই কথার সাক্ষ্য দিয়ে থাকে। যেই গোলাম তার মনিব থেকে পালিয়ে বেড়ায়, মনিবের আনুগত্য করতে অস্বীকৃতি জানায় সে কীভাবে মনিবের ব্যাপারে সুধারণা রাখবে! পাপ-পঙ্কিলতায় ডুবে থাকা বিষাদাতুর অন্তরে কি নেক ও সুধারণার অনুভূতি জাগ্রত হয় কখনো! অপরাধ আর মন্দ কাজ করতে করতে বান্দা যখন গভীর নিঃসঙ্গতায় একাকিত্বের অনলে পুড়তে থাকে সে তো অবিরাম মহান রবের অবাধ্যতাই করে যাবে। অথচ আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণকারী বান্দা তো সেই হবে যে আল্লাহর প্রতি অধিক আনুগত্যশীল থাকবে।
হাসান বসরী বলেন, 'মুমিন বান্দাই আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখে। এর ফলে সে তার আমলসমূহ উত্তমভাবে করতে থাকে। আর পাপাচারী ব্যক্তিই আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রাখতে সক্ষম হয় না। ফলে সে তার কাজগুলোও নেক ও কল্যাণের পথে পরিচালনা করে না।'
ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলেও বুঝা যায়, বান্দার অন্তরে যখন এই বিশ্বাস বদ্ধমূল থাকবে যে, সে একদিন আল্লাহর সামনে জীবনের হিসাব নিয়ে দাঁড়াবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সবকিছুর ব্যাপারেই অবগত থাকবেন, কোনো বিষয়ই আল্লাহর নিকট গোপন থাকবে না, তার জীবনের প্রতিটি কাজের ব্যাপারে সে জিজ্ঞাসিত হবে, তখন সে কীভাবেই-বা আল্লাহর প্রতি সুধারণার দোহাই দিয়ে অন্যায়, অবিচার, যুলুম, নির্যাতনের জিন্দেগি যাপন করবে! কেমন করে আল্লাহর ক্রোধ ও অভিশাপের বোঝা মাথায় নিয়ে নিশ্চিন্তে শরীয়তের হুকুম অমান্য করে বেড়াবে!
হযরত আবু উমামাহ সাহল ইবনু হুনাইফ বলেন, 'একবার আমি ও উরওয়াহ ইবনুষ যুবাইর উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু আনহা'র কাছে গেলাম। আয়েশা সিদ্দীকা তখন আমাদেরকে বললেন, “যদি তোমরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অসুস্থ অবস্থায় দেখত পেতে! একবার নবীজির নিকট ছয়টি কি সাতটি স্বর্ণমুদ্রা ছিল। তিনি আমাকে স্বর্ণমুদ্রাগুলো আল্লাহর রাস্তায় সাদাকাহ করে দিতে বললেন। এদিকে আমিও নবীজির অসুস্থতার কষ্টের কারণে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। স্বর্ণমুদ্রার কথা ভুলে নবীজির সেবা করতে লাগলাম। আল্লাহর মেহেরবানিতে নবীজি যখন সুস্থ হয়ে উঠলেন আমাকে স্বর্ণমুদ্রার ব্যাপারে জানতে চাইলেন, 'দিনারগুলো কী করেছ? দান করে দিয়েছ সব?' আমি জবাব দিলাম, 'আল্লাহর শপথ, আমার তো স্বর্ণমুদ্রাগুলোর কথা মনেই ছিল না। আপনার অসুস্থতায় আমি বিচলিত ও ব্যস্ত ছিলাম। সেগুলো দান করার সুযোগ আর আমার হয়ে ওঠেনি।' নবীজি তখন স্বর্ণমুদ্রাগুলো আনতে বললেন। তারপর সেগুলো হাতে রেখে বললেন, 'আল্লাহর নবীর ধারণা কেমন হবে যদি এইসব স্বর্ণমুদ্রা সমেত সে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হয়!'” [১]
লক্ষ করুন, সামান্য কয়েকটি স্বর্ণমুদ্রার জন্যই যদি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্তরে এমন দুশ্চিন্তা জন্ম নেয় তাহলে তাহলে গুনাহের বোঝা মাথায় নিয়ে, অন্যায় অবিচার আর অপরাধবোধে বিপর্যস্ত আমলনামা নিয়ে যারা আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে তাদের অবস্থা কেমন হবে!
তারা যদি এ কথা চিন্তা করে থাকে, আমরা আল্লাহর সামনে উপস্থিত হয়ে আল্লাহকে বলব-'হে আল্লাহ! আমরা তো আপনার দরবারে এক সুধারণা নিয়ে উপস্থিত হয়েছি! আপনি কোনো জালিম, অত্যাচারী ও পাপাচারীকে কোনো অবস্থাতেই শাস্তি দেবেন না! এই ধারণাই আমাদেরকে পৃথিবীতে অবাধ পাপাচার লিপ্ত করে রেখেছে। নির্ভার করে রেখেছে সারা জীবন!' তাদের এই অবান্তর ও আলেয়ার মরীচিকাতুল্য চিন্তা-ধারণার কি কোনো মূল্যায়ন থাকতে পারে সভ্য সমাজে!

টিকাঃ
[১] মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ৮১৭৮
[১] ইবনু হিব্বান, হাদীস-ক্রম: ২১৪২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00