📘 রূহের খোরাক > 📄 দুআর মাধ্যমে উমর ইবনুল খাত্তাবের সাহায্য-প্রার্থনা

📄 দুআর মাধ্যমে উমর ইবনুল খাত্তাবের সাহায্য-প্রার্থনা


উমর ইবনুল খাত্তাব শত্রু বাহিনীর মুকাবিলায় আল্লাহর নিকট দুআর মাধ্যমে সাহায্য চাইতেন। তাঁর সেনাবাহিনীর বহর ছিল বেশ বড়। তবুও তিনি তাঁর সঙ্গীদেরকে বলতেন, 'তোমরা সংখ্যাধিক্যের কারণে সাহায্যপ্রাপ্ত বা বিজয় লাভ করো না। তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হও আসমান থেকে। (সুতরাং আসমানের অধিকর্তার নিকট দুআ করতে থাকো)।'
তিনি বলতেন, 'আমি দুআ কবুলের জন্য চিন্তা করি না। আমার চিন্তা থাকে দুআকে ঘিরেই, আমি খেয়াল করি, আমার দুআ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না। তোমরা যদি দুআ নিয়ে চিন্তিত হতে পার তাহলে দুআ এমনিতেই কবুল হয়ে যাবে। দুআ কবুল হওয়া নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই।'
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু'র এই কথার মর্ম ধারণ করে কবি বলেছেন—
لَوْ لَمْ تُرِدْ نَيْلَ مَا أَرْجُو وَأَطْلُبُهُ ... مِنْ جُودِ كَفَّيْكَ مَا عَلَّمْتَنِي الطَّلَبَا
'আপনি যদি আপনার বদান্য হাতে আমার আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ নাই করেন, তাহলে তো আপনি আমাকে দুআর জন্য আদেশ করতেন না।
'যাকে দুআর জন্য অদৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত করা হয়, মনে করতে হবে তার দুআ কবুল করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ
| 'তোমরা আমার নিকট দুআ করো। আমি তোমাদের দুআ কবুল করব।'
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ
'আর যখন আমার বান্দারা আপনার নিকট আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তখন আমি তাদের সন্নিকটেই থাকি। আমার নিকট যখন কোনো দুআকারী দুআ করে তখন আমি তার দুআ কবুল করে নিই।'
ইমাম ইবনু মাজাহ তাঁর বিখ্যাত হাদীসগ্রন্থ আস-সুনানে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে একটি হাদীস উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে না আল্লাহ তাআলা তার উপর রাগান্বিত হন।' [১]
এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, দুআ ও আনুগত্যের মধ্যেই আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি নিহিত। বান্দার প্রতি আল্লাহ যখন সন্তুষ্ট হয়ে যান, সেই সন্তুষ্টির দ্বারাই যাবতীয় কল্যাণ নির্ধারিত হয়ে যায়। একইভাবে আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টির মধ্যে নিহিত আছে সব ধরনের বিপদ-আপদ।
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব আয-যুহদে হাদীসে কুদসী [২] থেকে বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ তাআলা বলেন-
أَنَا اللهُ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا، إِذَا رَضِيتُ بَارَكْتُ، وَلَيْسَ لِبَرَكَتِي مُنْتَهى وَإِذَا غَضِبْتُ لَعَنْتُ، وَلَعْنَتِي تَبْلُغُ السَّابِعَ مِنَ الْوَلَدِ
'আমিই আল্লাহ! আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আমি যখন সন্তুষ্ট হয়ে যাই তখন বরকত দান করি। আমার বরকতের কোনো সীমা নেই। আর যখন রাগান্বিত হই তখন লানত বর্ষণ করি। আমার লানত বংশের সপ্তম প্রজন্ম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।। ১০
মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, হাদীস শরীফের বিভিন্ন বাণী ও উপদেশাবলি, যুগে যুগে মানবজাতির বিভিন্ন উত্থান-পতনের ঘটনা পর্যালোচনা করলে এবং ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলে দেখা যায়, বিশ্ব জগতের মহান প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার নৈকট্য, তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ, সৃষ্টিজগতের প্রতি অনুগ্রহ- ইত্যাদি সকল উত্তম কার্যাবলীই যাবতীয় কল্যাণ ও মঙ্গল বয়ে আনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। আর এসকল সৎ ও উত্তম কাজের বিপরীতে মানুষ যখন অসৎ পথ অবলম্বন করেছে তখন তাদের এই বিপথগামিতাই জগতের সামগ্রিক অকল্যাণ ও সমষ্টিগত ধ্বংসের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার্যত যুগে যুগে আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও নিয়ামতরাজির অবিরাম বর্ষণ এবং আল্লাহর ক্রোধ ও আযাব প্রতিরোধন—তাঁর আনুগত্য, নৈকট্য ও পরোপকারের অনুপাতে প্রতিফলিত হয়ে থাকে।

টিকাঃ
[১] সূরা মুমিন, হাদীস-ক্রম: ৬০
[২] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ১৮৬
[১] সুনানু ইবনি মাজাহ-৩৮২৭
[২] হাদীসে কুদসী বলা হয়, যে সকল হাদীসের মূল কথা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিজস্ব বক্তব্য দ্বারা সরাসরি ব্যক্ত হয়েছে-সে সকল হাদীসকে। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার যেই বাণী কুরআনের মধ্যে আয়াত হিসেবে অবতীর্ণ হয়নি বরং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওহীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে, পরবর্তীতে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মাতকে তা কুরআনের আয়াত হিসেবে নয় বরং হাদীস হিসেবে জানিয়ে দিয়েছেন। -অনুবাদক
[৩] বর্ণিত হাদীসটি সম্পর্কে তিনটি কথা। প্রথমত, হাদীসের কোনো কিতাবে হাদীসটি পাওয়া যায় না। দ্বিতীয়ত, ইসলামের বিধান হলো, কারও পাপের দায় অন্যের উপর বর্তায় না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'কোনো পাপী অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না'-সূরা যুমার, আয়াত-ক্রম: ৭। উল্লিখিত হাদীসটি উপরোক্ত আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক। তৃতীয়ত, এই হাদীসের রাবী ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ, ওয়াহাব ইসরাঈলী বর্ণনার জন্য প্রসিদ্ধ। তাই সার্বিক বিচারে উপরোক্ত হাদীসটি অর্থগতভাবে শরীয়ার সাথে সাংঘর্ষিক না হলেও শেষাংশের অর্থ মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ। -সম্পাদক

📘 রূহের খোরাক > 📄 যেমন কর্ম তেমন ফল

📄 যেমন কর্ম তেমন ফল


আল্লাহ তাআলা ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ ও অকল্যাণের ভিত্তি রেখেছেন বান্দাদের আমলের মধ্যে। কুরআনুল কারীমের অসংখ্য স্থানে আল্লাহ তাআলা বিভিন্নভাবে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
যেমন-বনী ইসরাঈল যখন অনবরত আল্লাহ তাআলার হুকুম অমান্য করতে লাগল আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বানর ও শুকরের জাতিতে পরিণত করে দিলেন। এ সম্পর্কে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-
فَلَمَّا عَتَوْا عَنْ مَا نُهُوا عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ
'যখন তারা আমার নিষেধাজ্ঞাকে পূর্ণ ধৃষ্টতা সমেত অমান্য করতে লাগল আমি তাদের প্রতি আমার (কুদরতী আদেশ অবতীর্ণ করে বললাম), তোমরা নিকৃষ্ট বানরে পরিণত হয়ে যাও।'
অন্য একটি আয়াতের দিকে লক্ষ করলেও আমরা দেখতে পাই-আল্লাহ তাআলা পার্থিব জগতের কৃতকর্মের ফল দুনিয়াতেই প্রয়োগ করছেন বিধান নাযিল করার দ্বারা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا
পুরুষ কিংবা নারী—যেই চুরি করে থাকুক না কেন, তোমরা তার উভয় হাত কেটে দাও তার কৃতকর্মের শাস্তি হিসেবে। [১]
অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা গুনাহ মাফের জন্য খোদাভীতিকে শর্ত করে ইরশাদ করেন—
إِنْ تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ
‘হে ঈমানদারগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তাহলে তিনি তোমাদের জন্য হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণায়ক বিধান দান করবেন। তোমাদের পাপ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন।’[২]
অন্যত্র ইরশাদ করেন—
وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا مَا يُوعَظُونَ بِهِ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ
‘তাদেরকে যেই উপদেশ দেয়া হয়েছে তারা যদি সে-মতে আমল করত তাহলে তা তাদের জন্য বড়ই কল্যাণকর হতো।’[৩]
মোটকথা, কুরআনুল কারীমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে—মানুষের কল্যাণ, অকল্যাণ এবং জাগতিক নানান প্রেক্ষাপট মানুষের কর্মফল ও উপায়-উপকরণ গ্রহণের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। এভাবেও বলা যায়, ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় বিধি-বিধান ও ভালো-মন্দ অবস্থাসমূহ মানুষের নানান কাজ ও উপকরণ গ্রহণের উপর নির্ভর করে।
যে ব্যক্তি আমাদের এই আলোচ্য অধ্যায়টি গভীরভাবে চিন্তা করে ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম হবে সে জীবনের অমূল্য রত্ন লাভ করবে। মূর্খের মতো কিংবা অপারগ বা বেকার হয়ে হাত-পা গুটিয়ে ভাগ্যের উপর ভরসা করে সে বসে থাকবে না। এসব ক্ষেত্রে তার তাওয়াক্কুল অবলম্বন হবে এক ধরনের অপারগতা।
বুদ্ধিমান তো সেই হবে, যে ভাগ্যকে ভাগ্য দিয়ে বদলে ফেলতে পারে। তাকদীরকে প্রতিহত করবে আরেক তাকদীরের মাধ্যমে। দুর্ভাগ্যের সামনে নিজের অসহায় আত্মসমর্পণের আগেই সে আরেক সৌভাগ্যকে ঢাল বানিয়ে ফেলবে। এই চরম সত্য লড়াই করেই তো মানুষ টিকে থাকে যুগ যুগ ধরে। ক্ষুধা, পিপাসা, ঠান্ডা, নানা রকমের ভয়, ঝঞ্ঝা, হুমকি-ধমকি-সব কিছুই মানুষের ভাগ্যলিপিতে নির্ধারিত থাকলেও মানবজাতি দুর্বার শক্তিতে এই ভাগ্যকে প্রতিরোধ করে আরেক ভাগ্যকে বরণ করে নেয়।
একইভাবে আল্লাহ তাআলা যাঁকে তৌফিক দেন এবং কল্যাণের পথ দেখান সে ব্যক্তি নিজের পরকালীন শাস্তি ও আযাবের ভাগ্যকে তাওবা, অনুশোচনা, ঈমান ও নেক আমলের ভাগ্য দ্বারা পরিবর্তন করে নেন।
তাকদীরই হলো দুনিয়া ও আখিরাতের সকল বিপদ-আপদ ও কষ্ট-ক্লেশ প্রতিরোধকারী। উভয় জগতের প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তাঁর হিকমাতও একক।

টিকাঃ
[১] সূরা আরাফ, আয়াত-ক্রম: ১৬৬
[১] সূরা মায়িদাহ, আয়াত-ক্রম: ৩৮
[২] সূরা আনফাল, আয়াত-ক্রম: ২৯
[৩] সূরা নিসা, আয়াত-ক্রম: ৬৬

📘 রূহের খোরাক > 📄 মানুষের কর্মফল-ভোগের ব্যাপারে ইতিহাসের সাক্ষ্য

📄 মানুষের কর্মফল-ভোগের ব্যাপারে ইতিহাসের সাক্ষ্য


জীবনের ভালো-মন্দের বোধ ও পার্থিব জগতের কল্যাণ-অকল্যাণের জ্ঞান মানুষের অর্জিত হয় প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা এবং যুগযুগ ধরে চলে আসা বিভিন্ন জাতি ও গোত্রের উত্থান-পতনের ইতিহাস থেকে।
মানবজীবনের জন্য কোনটি ভালো, কোনটি মন্দ-এই প্রশ্নের সবচেয়ে সমৃদ্ধ উত্তর হলো, শাশ্বতগ্রন্থ আল-কুরআন। কুরআনুল কারীমে গভীর দৃষ্টি দিয়ে আমরা স্পষ্টভাবে জানতে পারি মানবজাতির ভালো ও মন্দের দিকগুলো। আমাদের জীবনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ও অসঙ্গতিপূর্ণ কর্মধারাকে কুরআন বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে দিয়েছে। এরপরেই জীবনের গাইডলাইন হিসেবে স্থান পাবে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রেখে যাওয়া অমূল্য রত্নভাণ্ডার সুন্নাহ বা হাদীস। সুন্নাহ যেন কুরআনেরই একটি শাখা। কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে স্পষ্টভাবে ভালো ও মন্দ এবং তার উপায়-উপকরণকে দেখিয়ে দেয়। কেউ যদি শুধুমাত্র এই দুটি গাইডলাইন অনুসরণ করার প্রতি মনযোগী হয়ে ওঠে তাহলে সে নির্ভারভাবে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।
কুরআন ও সুন্নাহকে সামনে রেখে যখন আমরা পূর্ববর্তী জাতির ইতিহাস ঘাঁটব, দেখতে পাব আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী জাতিদের উত্থান-উন্নতি এবং অবাধ্য, নাফরমান সম্প্রদায়ের করুণ পরিণতি; যারা আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধচারণ করে উদ্ধত আচরণ করেছে। আল্লাহ তাআলা মানবজীবনের ভালো ও মন্দের যেই উপকরণ, পার্থিব উত্থান ও পতনের জন্য যেই কারণসমূহ কুরআনে বর্ণনা করেছেন তাঁর প্রতিটি কথাই ধ্রুব সত্য ও বাস্তব। ইতিহাসের পর্যালোচনা প্রমাণ করে দেয় আল্লাহর নবীর বর্ণিত গাইডলাইন আস-সুন্নাহ, মানবজাতির প্রতি আল্লাহ তাআলার ওয়াদা, হুঁশিয়ারি অবধারিতভাবে সত্য ও প্রমাণিত। ইতিহাস আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের বর্ণিত কল্যাণ-অকল্যাণ এবং এর ভালো-মন্দ উপায়-উপকরণের সত্যতার উপর অকাট্য সাক্ষ্য দিয়ে থাকে।

টিকাঃ
[১] আল্লাহর বিধানাবলির অন্তর্নিহিত কারণ বা গূঢ় রহস্যকে হেকমত বলা হয়।

📘 রূহের খোরাক > 📄 নফসের ধোঁকা

📄 নফসের ধোঁকা


মানুষ যখন জানতে পারে, বিভিন্ন উপায়-উপকরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় তখন সে সতর্ক থাকার চেষ্টা করতে গিয়েও অনেক সময় ধোঁকায় পড়ে যায়। এক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
মানুষ জানে, আল্লাহর নাফরমানি ও দ্বীন-ধর্মের প্রতি উদাসীনতা ইহ ও পরকালের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, তবুও সে নিজের প্রবৃত্তির কাছ থেকে অবান্তর এক সান্ত্বনার বাণীতে ধোঁকায় পড়ে যায়।
আল্লাহ তাআলার মহানুভবতা ও ক্ষমার গুণাবলির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তার নফস তাকে নিশ্চিন্ত ও উদাসীন করে রাখে। আবার কখনো মানুষ তাওবা-ইস্তিগফারের সুযোগের কথা স্মরণ করে উদাসীন হয়ে যায়। কখনো ভবিষ্যতের কল্যাণমূলক কোনো কাজের নিয়ত করে বা ভাগ্যের দোহাই দিয়ে বর্তমান সময়ের পাপ-বোধকে হালকা করে দেখতে থাকে। আবার কখনো সে জাগতিক মোহগ্রস্ত হয়ে দুনিয়ার বিত্তশালী আল্লাহভোলা লোকদের কথা চিন্তা করে নিজেকেও আল্লাহর পথ থেকে দূরে রাখতে থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00