📘 রূহের খোরাক > 📄 হাদীসে বর্ণিত দুআ

📄 হাদীসে বর্ণিত দুআ


- আল্লাহর রাসূল একবার তাঁর এক সাহাবীকে এই বলে দুআ করতে শুনলেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
'আল্লাহ! আমি (মনেপ্রাণে) সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনিই আল্লাহ, আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আপনি একক, পরমুখাপেক্ষীতাহীন, আপনি কাউকে জন্ম দেননি, আপনাকেও কেউ জন্ম দেয়নি। আপনার কোনো সমকক্ষ নেই। আমি আপনার এসব পরম-ক্ষমতাসম্পন্ন গুণের কথা স্মরণ করে আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, আল্লাহ!'
এমন আবেগময় ভাষ্যের দুআ শুনে নবীজি বললেন, 'এই ব্যক্তি ইসমে আযমের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিকট দুআ করছে। আল্লাহ তাআলার নিকট কোনো কিছুর জন্য এভাবে প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা দান করেন। বস্তুত এভাবে আল্লাহকে ডাকা হলে আল্লাহ তাআলা সেই ডাকে সাড়া দেন।' [১]
আনাস � বলেন, 'আমি একদিন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামের পাশে বসে ছিলাম। আমাদের পাশেই একজন লোক নামায পড়ে এই বলে মুনাজাত করতে লাগল—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ
“আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনারই জন্য। আপনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। আপনি মান্নান; পরম করুণাময়! আপনি আসমান ও যমীনের সৃষ্টিকারী। হে মহাপরাক্রমশালী! সম্মানের আধার! হে অবিনশ্বর চিরঞ্জীব সত্তা! আমি তো আপনার কাছেই ফরিয়াদ করছি!”
'এই দুআ শুনে নবীজি ﷺ বললেন, “এই ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার নিকট ইসমে আযম অর্থাৎ তার মহান নাম ধরে ধরে দুআ করছে। আল্লাহর নিকট কোনো কিছুর জন্য এভাবে প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাআলা তা দান করেন। এভাবে আল্লাহকে ডাকা হলে আল্লাহ তাআলা সেই ডাকে সাড়া দেন।” [১]
আসমা বিনতু যায়েদ সূত্রে বর্ণিত, নবীজি ﷺ বলেন, 'ইসমে আযম রয়েছে দুটি আয়াতের মধ্যে—
১. সূরা বাকারার ১৬৩ নম্বর আয়াতে—
وَإِلَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ
"আর তোমাদের ইলাহ তো কেবল একজনই। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তিনি রহমান, রহীম!”।
২. সূরা আলে ইমরানের শুরুতে—
الم - اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ
"আলিফ-লাম-মীম। আল্লাহ তাআলাই একমাত্র ইলাহ। তিনি চিরঞ্জীব, অবিনশ্বর." [১]
আবু হুরায়রা, আনাস, রবীআহ ইবনু আমির প্রমুখ সাহাবী (রিদওয়ানুল্লাহি আনহুম আজমাঈন) থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেছেন—
'তোমরা দুআর মধ্যে يَاذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ বলে রোনাজারি করতে থাকো।' [২]
অর্থাৎ দুআর সময় মহান আল্লাহর এই দুটি নামকে বেশি বেশি বলতে থাকো। আল্লাহকে এই দুটি নামে সম্বোধন করে তোমরা প্রার্থনা করতে থাকো।
অন্য এক হাদীসে আবু হুরায়রা বলেন, 'যখনই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কোনো বিষয় বিচলিত করত, তিনি আসমানের দিকে (ওহীপ্রাপ্তির আশায়) মাথা উঁচু করে তাকাতেন। আর যখন দুআর মধ্যে কাকুতি-মিনতি বাড়িয়ে দিতেন, তখন বলতে থাকতেন- يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ'-হে চিরঞ্জীব, অবিনশ্বর সত্তা!'
আনাস বলেন, নবীজি কোনো ব্যাপারে চিন্তিত হলে এই বলে দুআ করতেন- يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ -হে চিরঞ্জীব অবিনশ্বর সত্তা! আপনার রহমতের আশা নিয়ে সাহায্য চাচ্ছি। [৩]
নবীজি সূত্রে আবু উমামাহ বর্ণনা করেন, আল্লাহ তাআলার ইসমে আযম কুরআনুল কারীমের তিনটি সূরার মধ্যে নিহিত আছে—
সূরা বাকারা।
সূরা আলে ইমরান।
সূরা তহা। [৪]
আল্লামা কাসিম বলেন, 'আমি এই তিনটি সূরায় তালাশ করে দেখি, ইসমে আযম হলো আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুমের আয়াতটি।'
নবীজি সূত্রে সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস বর্ণনা করেন, যুন-নূন (নবী ইউনুস) আলাইহিস সালাম যখন মাছের পেটে আটকে ছিলেন, তখন মুক্তি লাভের আশায় আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করে বলেছিলেন—
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
'আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই! অন্তর থেকে আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আল্লাহ! আমি তো (নিজের প্রতি) অন্যায় করে ফেলেছি।' নবীজি বলেন, 'বান্দা যখন কোনো বিপদে পড়ে আল্লাহর নিকট এই দুআটি পড়ে সাহায্য চায়, আল্লাহ তাকে অবশ্যই সাহায্য করবেন।'[১]
সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস সূত্রে বর্ণিত, নবীজি ইরশাদ করেন—
أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِشَيْءٍ إِذَا نَزَلَ بِرَجُلٍ مِنْكُمْ أَمْرُ مُهِمْ، فَدَعَا بِهِ يُفَرِّجُ اللَّهُ عَنْهُ؟ دُعَاءُ ذِي النُّونِ
'আমি তোমাদেরকে একটি বিশেষ দুআ জানিয়ে রাখি। যখন তোমাদের কেউ চিন্তাদায়ক কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে সেই দুআটি পাঠ করবে আল্লাহ তাআলা তাকে চিন্তামুক্ত করে দেবেন। দুআটি হলো দুআয়ে ইউনুস।'[২]
অপর এক হাদীসে নবীজি ইরশাদ করেন, 'আমি কি তোমাদেরকে ইসমে আযমের সন্ধান দেব? তা হলো দুআয়ে ইউনুস।' জনৈক সাহাবী নিবেদন করলেন, 'আল্লাহর রাসূল! এই দুআটি কি শুধুমাত্র ইউনুস আলাইহিস সালামের জন্যই?' আল্লাহর রাসূল বললেন, 'তুমি কি কুরআনুল কারীমের এই আয়াতটি শোনোনি—
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَلِكَ نُنْجِي الْمُؤْمِنِينَ
"আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছি, তাকে মুক্তি দিয়েছি। আর এভাবেই আমি মুমিনদেরকে বিপদমুক্ত করে থাকি।""
এরপর নবীজি বলেন, 'কোনো মুসলমান অসুস্থাবস্থায় যখন এই দুআটি ৪০ বার পড়বে তখন সে যদি ঐ রোগাক্রান্ত অবস্থায় মারা যায় তাহলে তাকে শহীদী মৃত্যুর প্রতিদান দেয়া হবে। আর যদি সে আরোগ্য লাভ করে তাহলে সে (এই দুআর বরকতে) গুনাহমুক্ত অবস্থায় সুস্থ হবে।'[১]
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বিবৃত ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু'র হাদীসে এসেছে, নবীজি যখন দুশ্চিন্তায় থাকতেন তখন আল্লাহর নিকট দুআ করে বলতেন-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ، وَرَبُّ الْأَرْضِ، وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
'পরম সহনশীল আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ তাআলাই একমাত্র ইবাদাতের যোগ্য। আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তিনি আসমানের রব, যমীনের রব। তিনি সুমহান আরশের রব।'২
আলী ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আল্লাহর নবী আমাকে বিপদের সময় পড়ার জন্য একটি দুআ শিখিয়ে দিয়েছেন। দুআটি হলো-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
'মহা সম্মানিত পরম সহনশীল আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ তাআলার পবিত্রতার স্বতঃস্ফূর্ত ঘোষণা দিচ্ছি। আল্লাহ তাআলা বড়ই বরকতময়। তিনি সুমহান আরশের অধিপতি। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহ তাআলার জন্যই।'
মুসনাদু আহমাদে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত হাদীসে নবীজি ইরশাদ করেন, 'যখনই কেউ বিপদগ্রস্থ হয়ে কিংবা দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হয়ে (নিম্নোক্ত) দুআটি পড়বে আল্লাহ তাআলা তাকে বিপদমুক্ত করে তার দুঃখ কষ্টকে আনন্দদায়ক পরিস্থিতিতে বদলে দেবেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ ابْنُ عَبْدِكَ ابْنُ أَمَتِكَ، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، مَاضٍ فِي حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِي قَضَاؤُكَ، أَسْأَلُكَ اللَّهُمَّ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ، أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ الْعَظِيمَ رَبِيعَ قَلْبِي، وَنُورَ صَدْرِي، وَجِلَاءَ حُزْنِي، وَذَهَابَ هَمِّي
'আল্লাহ! আমি তো আপনারই গোলাম! আপনারই কোনো গোলাম আর বাঁদির সন্তান। আপনার হাতের মুঠোয় আমার ভাগ্যরেখার পথচলা। আমার ব্যাপারে আপনার সিদ্ধান্তই কার্যকর। আপনার ফায়সালাই আমার জন্য সঠিক ও ন্যায়বিচার। আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি আপনার সকল নামকে উসীলা বানিয়ে। যেই নামসমূহ আপনি নিজেই নির্বাচন করেছেন নিজের জন্য। যেই নামের ব্যাপারে আপনি অবহিত করেছেন আপনার সৃষ্টজগতের কাউকে কাউকে। যেই নামের কথা আপনি অবতীর্ণ করেছেন আপনার পবিত্র কিতাবে। আপনার নিকট সংরক্ষিত অদৃশ্য জগতে যেই নামের মাধ্যমে আপনি নিজেকে একচ্ছত্র অধিপতি বানিয়েছেন। (এই সকল নামের গুণাবলির কার্যকারিতাকে পুঁজি করে আমি প্রার্থনা করছি, হে আল্লাহ!) আপনি পবিত্র কুরআনুল কারীমকে আমার হৃদয়ের বসন্ত বানিয়ে দিন। এই কুরআনকে আমার অন্তরের আলো বানিয়ে দিন। আমার দুঃখ কষ্টের মরীচিকা দূরকারী বানিয়ে দিন হে আল্লাহ! আপনার এই শাশ্বত গ্রন্থকে আমার সকল দুশ্চিন্তার উপশমকারী বানিয়ে দিন।' সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, 'আল্লাহর রাসূল! দুআটি কি আমরা শিখে নিতে পারি?' নবীজি বললেন, 'যারা এই দুআটি শুনেছে, সকলেরই উচিত দুআটি শিখে রাখা।'১
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, 'নবীগণ বিপদগ্রস্ত হলে "সুবহানাল্লাহ” বলে (অর্থাৎ মহান আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা ঘোষণা করে) সাহায্য প্রার্থনা করতেন।'
প্রখ্যাত আলিম ইবনু আবিদ দুনইয়া রচিত আদ-দুআ কিতাবে একটি ঘটনা বিবৃত আছে। ঘটনাটি হলো, আবু মুআল্লাক উপাধিতে পরিচিত নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন আনসার সাহাবী নিজের ও অন্যের পুঁজি দিয়ে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি একজন পরহেযগার ও ইবাদাতগুজার ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জায়গায় সফর করতেন। এমনই এক সফরে তিনি ডাকাতের কবলে পড়েন। খোলা তরবারি হাতে ডাকাত তাকে বলল, 'যা কিছু আছে দিয়ে দাও। তারপর তোমাকে মেরে ফেলব।'
আবু মুআল্লাক বললেন, 'তোমার তো আমার সম্পদের প্রয়োজন। আমি দিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু আমাকে হত্যা করে কী লাভ তোমার?'
অস্ত্রধারী লোকটি বলল, 'তোমার সম্পদ যা আছে তা তো আমি নেবই, একইসাথে তোমাকেও আমি মেরে ফেলতে চাই। এটা আমার নিছকই এক মনোবাসনা।'
আবু মুআল্লাক বললেন, 'তাহলে আমাকে অন্তত চার রাকাত নামায পড়ার সুযোগ দাও।' অস্ত্রধারী তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, 'তোমার যা খুশি পড়ে নাও।' নবীজি'র এই সাহাবী ওযু করে চার রাকাত নামাযের শেষ সিজদায় আল্লাহর নিকট আকুলভাবে ফরিয়াদ জানিয়ে এই দুআ করতে লাগলেন-
يَا وَدُودُ يَا وَدُودُ، يَا ذَا الْعَرْشِ الْمَجِيدِ، يَا فَعَالًا لِمَا تُرِيدُ، أَسْأَلُكَ بِعِزِّكَ الَّذِي لَا يُرَامُ، وَبِمُلْكِكَ الَّذِي لَا يُضَامُ، وَبِنُورِكَ الَّذِي مَلَا أَرْكَانَ عَرْشِكَ أَنْ تَكْفِينِي شَرَّ هَذَا اللَّصِ، يَا مُغِيثُ أَغِثْنِي
'মুহাব্বাতকারী আল্লাহ! গৌরবময় আরশের অধিকর্তা, হে আল্লাহ! আপন ইচ্ছায় কার্য সম্পাদনকারী, হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি আপনার চির অমলিন সম্মানের উসীলায়। সাহায্য প্রার্থনা করছি আপনার একচ্ছত্র রাজত্বের কথা স্মরণ করে। আরশের চার স্তম্ভের ভরপুর নূরের উসীলা নিয়ে আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, আল্লাহ! আপনি এই ডাকাতের মুকাবিলায় আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। হে সাহায্যকারী সত্তা! আপনি আমাকে সাহায্য করুন।'
দুআটি আবু মুআল্লাক তিনবার পড়তে না পড়তেই সেখানে সশস্ত্র এক অশ্বারোহীর আচানক আগমন ঘটে। ডাকাত লোকটি তাঁকে দেখতে পেয়ে মুকাবিলা করার প্রস্তুতি নিতে নিতে অশ্বারোহী হামলা করে বসেন তার ওপর এবং প্রথম হামলায়ই তাকে হত্যা করে ফেলেন। অতঃপর সিজদারত সাহাবীর দিকে ফিরে অশ্বারোহী বললেন, 'আপনি এবার উঠুন!'
সাহাবী বললেন, 'আমার বাবা-মা উৎসর্গিত হোন! আল্লাহ তাআলা আপনার মাধ্যমে আজ আমাকে উদ্ধার করেছেন। আপনার পরিচয় জানতে চাই!'
'আমি চতুর্থ আসমানের ফিরিশতা! আপনি যখন প্রথমবার দুআ করলেন আমি আসমানের দরজায় "গড়গড়” আওয়াজ শুনতে পাই। আপনার দ্বিতীয়বারের দুআর কারণে ফিরিশতাদের মাঝে শোরগোলের আওয়াজ শোনা যায়। তৃতীয়বার যখন আপনি দুআ করলেন তখন ঘোষণা করা হলো, একজন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি দুআ করছে। তখন আমি আল্লাহ তাআলার নিকট আপনার হামলাকারীকে হত্যা করার জন্য অনুমতি চাই।'
হাসান বসরী বলেন, যে ব্যক্তি ওযু করে চার রাকাত নামায পড়ে (উপরে উল্লিখিত) এই দুআটি পড়বে তার ডাকে অবশ্যই সাড়া দেয়া হবে। চাই সে কোনো বিপদে আক্রান্ত হোক অথবা বিপদমুক্ত থাকুক।

টিকাঃ
[১] মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ২২৯৬৫; আবু দাউদ, হাদীস-ক্রম: ১৪৯৩; তিরমিযী, হাদীস-ক্রম: ৩৪৭৫; ইবনু মাজাহ, হাদীস-ক্রম: ৩৮৫৭
[১] আবু দাউদ, হাদীস-ক্রম: ১৪৯৫
[২] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ১৬৩
[১] আবু দাউদ, হাদীস-ক্রম: ১৪৯৬; তিরমিযী, হাদীস-ক্রম: ৩৭৮২
[২] তিরমিযী, হাদীস-ক্রম: ৩৮৩৫
[৩] তিরমিযী, হাদীস-ক্রম: ৩৫২৪
[৪] ইবনু মাজাহ, হাদীস-ক্রম: ৩৮৫৬
[১] তিরমিযী, হাদীস-ক্রম: ৩৫০৫; মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ১৪৬২
[২] অর্থাৎ, ইউনুস আলাইহিস সালাম মাছের পেটে থাকাকালীন যে দুআটি পড়েছিলেন।
[৩] আল-জামিউস সাগীর, হাদীস-ক্রম: ২৮৪৬
[১] মুস্তাদরাকু হাকিম-১৮৬৫
[২] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৬৩৪৬; মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ২৭৩০
[১] মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ৩৭১২

📘 রূহের খোরাক > 📄 দুআ কবুলের ক্ষেত্রসমূহ

📄 দুআ কবুলের ক্ষেত্রসমূহ


ব্যক্তিবিশেষ মাঝেমধ্যে আমরা দেখতে পাই, কেউ কেউ দুআ করলে সাথে সাথে কবুল হয়ে যায়। এক্ষেত্রে হয়তো দুআকারী ব্যক্তির প্রয়োজনের তীব্রতা অনুসারে, আল্লাহমুখিতার এক বিশেষ অবস্থা দুআ কবুলে প্রভাব বিস্তার করে। অথবা দুআর মধ্যে সে এমন চমৎকার পন্থায় আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করে বসে, আল্লাহ তাআলা তার এই চমৎকার দুআর বদৌলতে দুআকে কবুল করে নেন।
কিংবা দুআ কবুলের বিশেষ সময়ে তার দুআটি আল্লাহর দরবারে উপস্থাপিত হয়।
এ ছাড়াও অন্যান্য অনেক কারণে তার দুআর ফলাফল দ্রুত প্রকাশ পায়। তখন অনেকেই ধারণা করে, দুআর মধ্যে উচ্চারিত কোনো কালিমা বা শব্দের কারণে হয়তো অমুকের দুআ কবুল করা হয়েছে। ফলে সেও দুআ কবুলের পারিপার্শ্বিক আবশ্যক বিষয়াবলির প্রতি লক্ষ না রেখে শুধুমাত্র ঐ শব্দ বা কালিমাসমূহ দিয়ে দুআ করতে থাকে আর অপেক্ষা করতে থাকে যে, আমার দুআও এখন কবুল হয়ে যাবে।
এর একটি উদাহরণ হলো—একজন অসুস্থ ব্যক্তি সঠিক পদ্ধতিতে যথাসময়ে সঠিক ওষুধ ব্যবহার করায় সুস্থ হয়ে উঠল। তখন অপরজন চিন্তা করল, শুধুমাত্র এই ওষুধটির ব্যবহারই হয়তো রোগমুক্তির জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। সময়ানুবর্তিতা কিংবা প্রয়োগপদ্ধতির কথা না ভেবে কেবল ওষুধকেই রোগমুক্তির একমাত্র কারণ ভাবাটা তার সুস্পষ্ট ভুল। একইভাবে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দুআকেই দুআ কবুলের ক্ষেত্রে একমাত্র উপায় ভাবাটাও এধরনের ভুল। অনেক মানুষই এসব ভুলের শিকার হন।
আমাদের সমাজে দেখা যায়, বিপদগ্রস্ত কেউ হয়তো বিপদে পেরেশান হয়ে কোনো কবরের সামনে আল্লাহ তাআলার নিকট মনের গভীর থেকে একাগ্রচিত্তে কাকুতি-মিনতি করে দুআ করতে থাকে। আর বিপদগ্রস্ত লোকটির মনের এই ব্যথা-বেদনার কারণে আল্লাহ তাআলা তার দুআকে কবুল করে নেন। তখন অনেকের মাঝেই এই ভুল বিশ্বাস জন্ম নেয় যে, হয়তো এই কবরবাসীর কারণেই এই লোকটির দুআ কবুল হয়েছে। এইভেবে বহু আবেগপ্রবণ মানুষ কবরের সামনে এসে দুআ করতে থাকে। অথচ এক্ষেত্রে দুআ কবুলের জন্য অন্তরের বিশেষ অবস্থা, শতভাগ আল্লাহমুখিতা—এসবের প্রতি কোনো মনোযোগ দেয়া ব্যতীতই নিরেট কবরবাসীর কারণে দুআ কবুলের আশায় বসে থাকে তারা। আবেগী অজ্ঞ লোকেরা বুঝতে পারে না, দুআ কবুলের সেই গোপন রহস্য হলো, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির সত্যিকারের আল্লাহমুখী হওয়ার তীব্র প্রচেষ্টা।
বস্তুত কবরের সামনে না বসে আল্লাহর ঘর মসজিদে যদি অন্তরের এই বিশেষ অবস্থায় দুআ করা হয় তাহলে তো সেই দুআ আরো উত্তম ও আল্লাহর নিকট আরো বেশি গ্রহণযোগ্য হয়।

📘 রূহের খোরাক > 📄 দুআ কবুলের শর্ত

📄 দুআ কবুলের শর্ত


আল্লাহর নিকট দুআ করা, আশ্রয় প্রার্থনা করা মুমিন বান্দার জন্য একপ্রকারের অস্ত্র। অস্ত্রের গুণগত মান শুধুমাত্র তার ধার কিংবা প্রযুক্তিগত উন্নতির উপর নির্ভর করে না বরং ব্যবহারকারীর দক্ষতাও এখানে বড় একটি ব্যাপার। সুতরাং একটি অস্ত্র যখন—
* নিখুঁত, ধারালো ও মানসম্পন্ন হবে
* ব্যবহারকারীর হাতও হবে দক্ষ
* এবং অস্ত্র প্রয়োগে কোনো প্রতিবন্ধকও থাকবে না
তখন সেই অস্ত্র শত্রুকে পরিপূর্ণ ঘায়েল করতে সক্ষম হবে। আর যদি উল্লিখিত তিনটি বৈশিষ্ট্যের কোনো একটিও পাওয়া না যায় তাহলে অস্ত্রের প্রভাবও দুর্বলভাবে প্রকাশ পাবে।
মুমিন বান্দার দুআ যদিও বাহ্যত কোনো অস্ত্র নয়, তবুও দুআকারী যদি তার মুখের উচ্চারিত প্রার্থনার সাথে অন্তরের ব্যাথাকে একত্রিত করতে অক্ষম হয় অথবা দুআ কবুলের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা যদি অন্তরায় হয়ে থাকে তাহলে এক্ষেত্রেও দুআর পূর্ণ প্রভাব অপ্রকাশিত থেকে যায়।

📘 রূহের খোরাক > 📄 দুআ ও ভাগ্যলিপি

📄 দুআ ও ভাগ্যলিপি


মনে হতে পারে যে, দুআকৃত বিষয়টি যদি ভাগ্যে পূর্ব-নির্ধারিত হয়ে থাকে তাহলে তো দুআর কোনো প্রয়োজন নেই। বিষয়টি আবশ্যকভাবেই অস্তিত্বে চলে আসবে। আর যদি ভাগ্যে বিষয়টি না-ই থাকে তাহলে তো শত দুআ করেও কোনো লাভ নেই! তাহলে আমরা কেন দুআ করি? দুআর কার্যকারিতা আসলে কোথায়?
অন্তরের এই সাদামাটা প্রশ্নকে গুরুত্ব দিয়ে একদল লোক বাস্তবেও দুআ করা ছেড়ে দেয়। তাদের ধারণা, যা হবার তা তো হবেই। দুআ মুনাজাত করে আর কী হবে! অথচ তাদের এই ভ্রান্ত চিন্তাকে মেনে নিলে পার্থিব জগতের যাবতীয় আসবাব বা উপকরণ সবকিছুই ছেড়ে দিয়ে কল্পনাতীত মানবেতর এক বৈরাগী জীবনকে আলিঙ্গন করে নিতে হয়।
উদাহরণত, মানবদেহের ক্ষুধামুক্তি ও তৃপ্ত পাকস্থলি যদি ভাগ্যেই সুনির্ধারিত হয়ে থাকে তাহলে তো যেভাবেই হোক ভাগ্যের প্রতিফলন ঘটবেই। সুতরাং আলাদাভাবে খাওয়া-দাওয়ার আর কী প্রয়োজন! আর ভাগ্যে যদি ক্ষুধা-যন্ত্রণা, পানির তৃষ্ণা নির্ধারিত হয়ে থাকে তাহলে তো শত খাবার খেয়েও কোনো লাভ নেই!
আবার ভাগ্যে যদি সন্তানাদি থাকে তাহলে তো অবধারিতভাবে জন্ম নেবেই। স্ত্রী সহবাসের কোনো প্রয়োজন নেই। তদ্রূপ ভাগ্যলিপিতে যদি কোনো সন্তানের কথা না থাকে তাহলে হাজারো বিয়ে কোন উপকারে আসবে না।
এভাবে জাগতিক সকল বিষয়কেই ভাগ্যলিপির দোহাই দিয়ে অবান্তর প্রমাণ করা দেয়া যায়।
এই ধরনের চিন্তার লোকদের কি মানুষ বলা যায়! জাগতিক ভারসাম্যহীন অবলা পশুর স্তরে বসবাস এদের। অথবা বলা যায়, বন্য প্রাণীরাও অনেক ক্ষেত্রে এদের তুলনায় সভ্য ও মার্জিত।
দুআ ও ভাগ্যের এই বাহ্যিক দ্বন্দ্ব এড়াতে আবার একদল লোক ভাবে-দুআ নিছকই একটি ইবাদাত; ভাগ্য-পরিবর্তনকারী নয়, ভাগ্যে যা আছে তা হবেই। আর দুআর জন্য বান্দা আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে উত্তম প্রতিদান ও সওয়াব পাবে। তাদের মতে, দুআর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে কোনো প্রভাব পড়ে না। তাদের ধারণা-মৌখিক দুআ, অন্তর থেকে দুআ করা-এসবের কোনো প্রভাবই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে কার্যকর না।
আরেকদল মনে করে, দুআ হলো আলামত। দুআ করার সুযোগ হলে বুঝতে হবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রয়োজন পূরণ করবেন। দুআ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের নিদর্শন। বান্দাকে যখন দুআ করার তৌফিক দেয়া হবে তখন বুঝে নিতে হবে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় দান করবেন। তার প্রয়োজন পূরণ করে দেবেন।
দুআর ব্যাপারে তাদের এই চিন্তাকে ব্যাখ্যা করতে তারা আকাশের মেঘের উদাহরণ দিয়ে থাকে। বর্ষার মৌসুমে আকাশের মেঘ যেমন বৃষ্টির আলামত হিসেবে দেখা দেয় তেমনই দুআ হলো বান্দার প্রয়োজন পূরণ হওয়ার আলামত। তাদের নিকট আল্লাহর আনুগত্যের সাথে সওয়াব এবং আল্লাহর অবাধ্যতা ও কুফরীর সাথে শাস্তির সম্পর্কও একই রকম। অর্থাৎ, আল্লাহর আনুগত্য করতে পারাটা কেবল নেক প্রতিদান ও সওয়াব অর্জনের আলামত। আবার আল্লাহর নাফরমানি ও অবাধ্যতা শুধুমাত্র জাহান্নামের শাস্তির উপযুক্ত হওয়ার জাগতিক নিদর্শন বলে বিবেচিত হবে। কেননা আনুগত্য ও অবাধ্যতার কারণেই মানুষ উত্তম ও ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হয়ে থাকে। জাগতিক বিষয়াদিতেও এদের দর্শন হলো, কোনো জিনিস ভেঙে ফেলার কারণে খণ্ডিত হয়ে পড়া, আগুনে ফেলে দেয়ার কারণে পুড়ে যাওয়া, হত্যার কারণে কারো মারা যাওয়া ইত্যাদি কোনো কাজই এসব পরিণতির কারণ হতে পারে না। উল্লিখিত কাজগুলো এসব পরিণামের সাথে এমন বিশেষ কোনো সম্পর্ক রাখে না, যার ফলে এই কাজগুলোর ফলে কোনো জিনিস ভেঙে যাবে, মারা যাবে বা পুড়ে যাবে। বরং উল্লিখিত কাজগুলো প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক নিয়মানুসারে বিভিন্ন পরিণতির সাথে যুক্ত হয়। কোনো পরিণামের কারণ হিসেবে কোনো কাজকে নির্ধারণ করা যায় না।
তাদের এই অবান্তর চিন্তা ও অসার যুক্তি স্বাভাবিকভাবেই জাগতিক নিয়ম, ভারসাম্যপূর্ণ হিতাহিত জ্ঞান, শরয়ী ভাবধারা বা মানব-স্বভাব-বহির্ভূত। এসব চিন্তা ও যুক্তি জ্ঞানী সমাজে শুধুই হাসির খোরাক হতে পারে।
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, এই দ্বন্দ নিরসনে সঠিক সিদ্ধান্ত হলো, জগতের কিছু বিষয় যেমন বিভিন্ন ধরনের উপায়-উপকরণের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকে, ভাগ্যের কিছু ব্যাপারও ঠিক তেমন। এই উপায়-উপকরণের অন্যতম একটি হলো দুআ। উপায় ও উপকরণহীন নিরেট ভাগ্যের দোলায় এসব দুলতে থাকে না। বরং কোনো একটি কারণ বা উপকরণের পিঠে ভর করে বাস্তব জগতে ভাগ্যলিপি প্রকাশ পায়। সুতরাং বান্দা যখন সেই উপায়-উপকরণকে পুঁজি করে পথ চলে তখন সেই উপায়-উপকরণের সাথে যুক্ত বিষয়টিই তার জন্য নির্ধারিত হয়, তার সামনে প্রকাশ পায়। আর বান্দা যখন এসব উপকরণের ধার ধারে না, তখন এই উপকরণের সাথে যুক্ত নির্ধারিত বিষয়টিও আর অস্তিত্ব আসে না।
যেমনিভাবে পরিতৃপ্তি লাভ করাটা খাদ্য ও পানি গ্রহণের উপায়-উপকরণের সাথে যুক্ত থাকে। যে ব্যক্তি খাদ্য গ্রহণ করল, পানি পান করল, সে তৃপ্তি লাভের উপকরণকেই গ্রহণ করল। অনুরূপভাবে সন্তান লাভের বিষয়টিও সহবাসের সাথে যুক্ত। একইভাবে চাষাবাদের সাথে ফসল উৎপন্ন হওয়া, জবাইয়ের কারণে পশু মারা যাওয়া, সৎকর্মের জন্য জান্নাত আর অসৎ কর্মের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করা ইত্যাদি সবই হলো মানুষের পরিণতি ও পরিণামের একেকটি উপকরণ। সে নিজের জন্য যেই উপকরণকে গ্রহণ করবে তার পরিণাম সে ভোগ করবে। আমার এই চিঠির প্রশ্নকারীও এই দৃষ্টিভঙ্গিতে চিন্তা করতে না পারায় সে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এই ব্যাখ্যাটিই বাস্তবসম্মত ও সঠিক ব্যাখ্যা। আল্লাহ তাআলাই সর্বোত্তম জ্ঞানী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00