📄 দুআ অকল্যাণ বিদূরিত করে
অপছন্দনীয় বিষয়কে পাশ কাটিয়ে কাঙ্ক্ষিত বস্তু অর্জনে দুআ হলো অন্যতম একটি কার্যকরী অবলম্বন। দুআকে পুঁজি করে মানুষ সহজেই অর্জন করে নিতে পারে তার উদ্দেশ্য। তবে উদ্দেশ্য অর্জনে দুআর কার্যকারিতা একেকসময় একেকরকম হতে পারে।
হয়তো দুর্বলভাবে কোনো রকমে দায়সারাভাবে দুআ করা হয় কিংবা দুআর মাধ্যমে যেই জিনিসের প্রার্থনা করা হচ্ছে তা আল্লাহর নিকট অপছন্দনীয়।
আবার কখনো প্রার্থনাকারীর অন্তরের দুর্বলতা, দুআর সময়ে অন্তরে পূর্ণ আল্লাহমুখিতা না থাকা কিংবা অন্তরের পূর্ণ মনোযোগকে আল্লাহর দরবারে আবদ্ধ রাখতে না পারাও দুআ কবুল না হওয়ার অন্যতম কারণ। এক্ষেত্রে দুআ হয়ে যায় ঢিলেঢালা একটি ধনুকের মতো। এই ধনুক থেকে ছোড়া তির ধীর গতির হয়।
আবার কখনো দুআ কবুলের জন্য এমন কোনো প্রতিবন্ধক অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, যা অনুভব করা যায় না কিন্তু দুআ কবুল হওয়ার শর্ত এতে নষ্ট হয়ে যায়। যেমন-হারাম খাদ্যগ্রহণ, অন্তর কোনো গুনাহে লিপ্ত আছে; কিংবা গাফলত, অপরাধপ্রবণতা যদি অন্তরে প্রভাব বিস্তার করে থাকে তাহলেও আল্লাহর দরবারে দুআ কবুল হতে বাধাগ্রস্ত হয়।
📄 উদাসীন ব্যক্তির দুআ
আবু হুরায়রা সূত্রে বর্ণিত, নবীজি ইরশাদ করেন-
ادْعُوا اللَّهَ وَأَنْتُمْ مُوقِنُونَ بِالْإِجَابَةِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ دُعَاءً مِنْ قَلْبٍ غَافِلٍ لَا
'তোমরা আল্লাহ তাআলার নিকট এমনভাবে দুআ করো যেন তোমাদের অন্তরে দুআ কবুলের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায়। মনে রেখো, আল্লাহ তাআলা কোনো গাফেল-বেখেয়াল অন্তরের দুআ কবুল করেন না।
হাদীসে বর্ণিত পদ্ধতির দুআ হলো মানব-ব্যাধিকে দূর করার উপকারী পথ্য। কিন্তু আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে অন্তরের উদাসীনতা এই দুআর কার্যকারিতাকে দুর্বল করে ফেলে।
টিকাঃ
[১] তিরমিযী, হাদীসক্রম: ৩৪৭৯
📄 হারাম : দুআ কবুলের অন্তরায়
* হারাম খাদ্যগ্রহণও দুআর আধ্যাত্মিক শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। আবু হুরায়রা সূত্রে বর্ণিত হাদীসে নবীজি ইরশাদ করেন, 'লোকসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পবিত্র। তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করে থাকেন। আল্লাহ তাআলা নবীদেরকে যা আদেশ করেছেন মুমিনদেরকেও তা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন-
يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ
"হে আমার রাসূলগণ! আপনারা পবিত্র খাবার গ্রহণ করুন এবং সৎকাজ করতে থাকুন। নিশ্চয়ই আমি আপনাদের যাবতীয় কাজের ব্যাপারে সম্যক
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ
"হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে-রিযিক দিয়েছি তা থেকে তোমরা হালাল খাদ্য গ্রহণ করো।"
এরপর নবীজি বলেন, 'কোনো কোনো লোক সফর করতে করতে উষ্কখুষ্ক চুলে ধূলিমলিন অবস্থায় আকাশ পানে দুই হাত উঠিয়ে দুআ করতে থাকে-“হে আমার রব! আমার প্রতিপালক!" অথচ তার পোষাক হারাম, খাবার-দাবার হারাম! হারাম খাদ্যেই তার শরীরের গঠিত হয়েছে! এই ব্যক্তির দুআ কীভাবে কবুল হবে!'
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) রচিত কিতাবুয যুহদে তাঁর সন্তানের ভাষ্যে একটি ঘটনা বিবৃত আছে। বনী ইসরাঈল সম্প্রদায়ের উপর একবার বড় ধরনের দুর্যোগ নেমে আসে। ফলে দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে তারা শহরের বাইরে এসে সম্মিলিতভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করতে লাগল। আল্লাহ তাআলা তাদের নবীদের নিকট ওহী প্রেরণ করলেন- 'হে নবী! আপনি তাদেরকে আমার এই পয়গাম জানিয়ে দিন, হে লোক সকল! তোমরা নাপাক শরীরে শহরের বাইরের ময়দানে এসে আজ আমার সামনে একত্রিত হয়েছ! যেই হাত তোমরা অন্যায়ভাবে রক্তে রঞ্জিত করেছ সেই হাত আজ তোমরা আমার দরবারে পেতে দিয়েছ। এই হাত দিয়েই তো তোমরা তোমাদের ঘরকে হারাম উপার্জনে ভরপুর করেছ! আর আজ যখন আমার জাগতিক আযাব তোমাদের উপর আসন্ন হয়ে উঠেছে তখন তোমরা আমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছ! আজ তোমরা আমার দরবার থেকে শুধু বিতাড়িতই হবে।'
আবু যর গিফারী (রাঃ) বলেন, 'সততার সাথে (অল্প) দুআও মুক্তি লাভের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়, যেভাবে সামান্য পরিমাণের লবণ যথেষ্ট হয় পুরো খাবারের সুস্বাদের জন্য।' [১]
টিকাঃ
[১] সূরা মুমিনুন, আয়াত-ক্রম: ৫১
[২] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ১৭২
[৩] মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ১০১৫
[৪] শুআবুল ঈমান, বাইহাকী-৩/৩৪৯
[১] কিতাবুয যুহদ, ইমান আহমাদ, পৃষ্ঠা-ক্রম: ১৪৬
📄 দুআ সবচেয়ে কার্যকরী ওষুধ
দুআ বিপদ-আপদের দুশমন। বালা-মুসীবত প্রতিরোধে দুআ সবচেয়ে উপকারী হাতিয়ার। দুআ সকল মুশকিল আসান করে দেয়। প্রতিকূল অবস্থা প্রতিহত করে। দুআ হলো মুমিনের অস্ত্র। আলী ইবনু আবী তালিব সূত্রে বর্ণিত নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস-
الدُّعَاءُ سِلَاحُ الْمُؤْمِنِ، وَعِمَادُ الدِّينِ، وَنُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ
'দুআ মুমিনের হাতিয়ার। দ্বীনের স্তম্ভ। আসমান ও যমীনের এক বিশেষ আলো।' [২]
টিকাঃ
[২] মুসতাদরাকু হাকিম-১/৪৯২