📄 অনুবাদকের কথা
আল্লাহ তাআলার তাওফীকে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ লিখিত আল-জাওয়াবুল কাফীর বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ! বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি নিঃসন্দেহে বাংলা ভাষার অন্যতম একটি অনূদিত গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে। ইসলামী দাওয়াহর বহুমুখী প্রচারের অন্যতম শর্ত হিসেবে দাওয়াহর আঞ্চলিক ভাষায় ইসলামকে উপস্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে আমাদের দেশে উম্মাহর পূর্ববর্তী বিজ্ঞ আলিমদের যুগশ্রেষ্ঠ রচনাবলি বহু আগ থেকেই অনূদিত হয়ে আসছে। অনুবাদের পাশাপাশি, আলহামদুলিল্লাহ, মৌলিক কাজও হয়েছে এবং হচ্ছে। বাংলা ভাষায় ইসলামকে উপস্থাপনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার এই সিলসিলায় আল-জাওয়াবুল কাফীর অনূদিত গ্রন্থ রূহের খোরাক বেশ গুরুত্ববহ।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ মুসলিম উম্মাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। যাঁর রচনা সকল যুগেই, পৃথিবীর যেকোনো অঞ্চলের মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং দৈনন্দিন জীবনে শরীয়াহ প্রতিপালনে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। আল-জাওয়াবুল কাফী তাঁর রচিত বহুল সমাদৃত গ্রন্থমালার অন্যতম। উপমহাদেশের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ইমাম মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রাহিমাহুল্লাহ লিখিত জাযাউল আমাল কিতাবে আল-জাওয়াবুল কাফীর মৌলিক আলোচনা রয়েছে। এ অঞ্চলের আলিমগণও ব্যাপকভাবে আল-জাওয়াবুল কাফীর সূত্রে জনসাধারণের মাঝে বয়ান ও আলোচনা করে থাকেন। ফলে বাংলাভাষাভাষী মুসলিমদের কাছে মূল কিতাব আল জাওয়াবুল কাফীর তুলনায় থানভী রাহিমাহুল্লাহ'র জাযাউল আমাল কিংবা তার অনুবাদই বেশি পরিচিত হয়ে গেছে। কিন্তু মূল কিতাবে আলোচনাগুলো আরবী ভাষায় আরো বিশদ, সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় উপস্থাপিত এবং প্রয়োজনীয় আরো বেশ কিছু তথ্যে সমৃদ্ধ হওয়ায় বাঙালি মুসলিমদের জন্য সবিশেষ মূল গ্রন্থটির অনুবাদ উপস্থাপন করার কোনো বিকল্প নেই। তথাপি আল-জাওয়াবুল কাফী তাযকিয়াতুন নফস বা আত্মশুদ্ধি বিষয়ে তুলনারহিত এক গ্রন্থ।
এ ধরনের গ্রন্থের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-যে কোনো আলোচনা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভাষায় সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা, যা মানুষকে গুনাহ ত্যাগের ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করবে, একইসঙ্গে সওয়াব অর্জনের প্রতিও মনোযোগী করে তুলবে। তাসাউফ সংক্রান্ত বইয়ে তাত্ত্বিক বা জটিল ভাষার উপস্থাপন মোটেই উপকারী কোনো ধারা নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় বিষয়বস্তুর মূল আবেদন নষ্ট হয়ে যায়। আল জাওয়াবুল কাফী গ্রন্থে এই প্রধান বৈশিষ্ট্য পরিপূর্ণরূপে উপস্থিত। প্রায় হাজার বছর অতিক্রান্ত হলেও এ গ্রন্থের সর্বোচ্চ আবেদন ও প্রয়োজনীয়তা এতটুকুও কমেনি-আজও একজন মুমিনের গুনাহের খরতাপে রুক্ষ-তৃষিত রূহের জন্য আল-জাওয়াবুল কাফীর একেকটি আলোচনা এক পশলা শীতল বৃষ্টির মতো।
আরেকটি কথা হচ্ছে, অনুবাদ-শাস্ত্রকে আজকের যুগে যতটা পেশাদারি মনে করা হয়, বাস্তবিক অর্থে অনুবাদ ততটা হালকা নয়। এ প্রসঙ্গে যা বলা জরুরি; ধর্মীয় যেকোনো গ্রন্থের একজন সফল অনুবাদকের জন্য কয়েকটি শর্ত আছে; প্রথমত, উভয় ভাষার পূর্ণ দক্ষতা। দ্বিতীয়ত, যে বিষয়ের রচনা সেই শাস্ত্র বা বিষয়ে কমপক্ষে মৌলিক ধারণা। তৃতীয়ত, শরীয়াহর মাকাসিদ ও আকাইদের পূর্ণাঙ্গ মৌলিক ধারণা। এই তৃতীয় শর্তটি যদি অনুবাদকের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান না থাকে, তাহলে এক্ষেত্রে অবশ্যই অনুবাদের পর একজন স্থানীয় শরয়ী আলিমের শরণাপন্ন হয়ে অনুবাদকৃত গ্রন্থটি সম্পাদনা করিয়ে নেয়া উচিত। অন্যথায়, বইটি জনসাধারণের জন্য প্রকাশিত হলে সমাজে বিভ্রান্তি ও সংশয়ের পরিস্থিতি তৈরি হবে।
কখনো দেখা যায়, এক মাযহাবের আলিমের গ্রন্থকে প্রয়োজন বিবেচনায় ভিন্ন মাযহাবের লোকদের জন্য অনুবাদ করা হয়; স্বাভাবিকভাবেই সেখানে এমনকিছু মাসআলার প্রসঙ্গ চলে আসে, যেটা স্পষ্টত মাযহাবি মতদ্বৈততাপূর্ণ। জনসাধারণ এমন স্পষ্টত বৈপরীত্য দেখে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়। অত্যন্ত সহজ বিষয়ও জটিল হয়ে ওঠে তাদের কাছে। এই বিভ্রান্তির ফলাফল হয়-একজন সাধারণ পাঠক হয়তো নিজ অঞ্চলের আলিমদেরকে অযোগ্য মনে করে বসে, অথবা মূল গ্রন্থকারকে অযোগ্য মনে করে। এমন বিষয়গুলোর অনুবাদ হলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই স্পষ্ট ভাষায় স্থান, কাল ও পাত্রের ব্যবধান, মাযহাবগত পার্থক্য উল্লেখ করে দেয়া উচিত।
এ ক্ষেত্রে আরো গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, অনূদিত গ্রন্থের বিষয়বস্তুর সাথে অপ্রাসঙ্গিক- যা স্থানীয় ভাষাভাষীদের জন্য অপ্রয়োজনীয়, অথবা মূল গ্রন্থে আলোচনা প্রসঙ্গে এমন কোনো বিষয় উল্লেখ হয়েছে, যা স্থানীয় পাঠকদেরকে অহেতুক বিতর্কে লিপ্ত করবে—এমন বিষয়সমূহ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করা; যদি বিষয়টি এড়িয়ে গেলে, মূল বইয়ের বিষয়বস্তুতে কোনো প্রভাব না পড়ে। একান্ত এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না হলে সেই অংশের ব্যাখ্যায় আলাদা কোনো টীকা যুক্ত করে দেওয়া।
উপরোক্ত প্রতিটি বিষয়ের প্রতি আমরা লক্ষ রেখে কাজটি সম্পন্ন করতে চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি বইয়ে উল্লিখিত হাদীস সমূহকে পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই করে টীকায় তার উৎস ও মান উল্লেখ করতে চেষ্টা করেছি। যা আল-জাওয়াবুল কাফী থেকে অনূদিত বর্তমান বইয়ের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
অনুবাদের ক্ষেত্রে ভাষাগতভাবে আমরা আরবীর মূল আবেদন ও সাবলীলতা অক্ষুণ্ণ রাখার বিশেষ চেষ্টা করেছি। বইয়ের মূল আবেদন ধরে রেখে দু-একটি বিষয় অধিকাংশ আলিমদের নিকট ইলমী দৃষ্টিকোণ থেকে আপত্তিযোগ্য হওয়ায় তা অনুবাদে যুক্ত করিনি। প্রয়োজন বিবেচনায় কোথাও কোথাও বইয়ের পুরনো বিন্যাসেও কিছুটা পরিবর্তন এনেছি। এক্ষেত্রে মূল প্রভাবক হয়েছে, ধর্মীয় লেখকদের প্রাচীন ও বর্তমান এই দুই ধারার ভিন্নতা। তবে এতে মূল বই থেকে মৌলিক কিছুই বাদ যায়নি। গ্রন্থটি সুখপাঠ্য ও সাবলীল করার জন্য আমরা আমাদের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি। এরপরও কোনো ভুলচুক থেকে গেলে সম্মানিত পাঠকবর্গ ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমাদেরকে অবহিত করবেন বলে আমরা আশাবাদী।
অবশেষে হৃদয়ের গহীন থেকে প্রার্থনা—রূহের খোরাক বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে যাঁরাই কোনো-না-কোনোভাবে জড়িত, আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের মঙ্গল করুন। একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিমের জীবনে শরীয়াহ প্রতিপালনের মূল চালিকাশক্তি তাঁর রূহ। আশা করি, আমাদের এই গ্রন্থটি সেই রূহের খোরাকই জোগাবে এবং গুনাহে মথিত হৃদয়কে উজ্জীবিত করে পাঠককে পঙ্কিলতার ধুলিমলিন জীবন থেকে নক্ষত্রলোকের দিকে পথ দেখাবে, ইনশাআল্লাহ!
জুবায়ের মহিউদ্দীন
২৪-০২-২০২১ বুধবার, রাত ২.৫৩
ফরিদাবাদ, ঢাকা
📄 একটি প্রশ্নের উত্তরে...
একজন মানুষ অন্তরের কোনো ব্যাধিতে এমনভাবে আক্রান্ত হয়েছে যে, সে টের পাচ্ছে-এ অবস্থা আর কিছুদিন চলতে থাকলে তার দুনিয়া-আখিরাত ধ্বংস হয়ে যাবে। সে নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছে ঐ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে, কিন্তু দুরাশা বৈ কোনো সম্ভাবনার দিকে যেতে পারছে না। এমতাবস্থায় তার করণীয় কী?
এই প্রশ্নের জবাবে আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম বক্ষ্যমাণ কিতাবটি রচনা করেন।
📄 প্রত্যেক রোগেরই প্রতিষেধক রয়েছে
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে সহীহ বুখারী'র বর্ণনা, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَا أَنْزَلَ اللَّهُ دَاءً إِلَّا أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءٌ
'আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে এমন কোনো রোগ দেননি, যা থেকে পরিত্রাণের উপায় রাখেননি।'<১>
জাবির ইবনু আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে সহীহ মুসলিমের বর্ণনা, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ فَإِذَا أَصَابَ دَوَاءُ الدَّاءِ بَرَأَ بِإِذْنِ اللَّهِ
'প্রত্যেক রোগেরই ওষুধ রয়েছে। যখন সঠিক পদ্ধতিতে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, তখন আল্লাহ তাআলার হুকুমেই আরোগ্য লাভ হয়।'<২>
উসামা ইবনু শারিক রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে মুসনাদু আহমাদের বর্ণনা, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَا أَنْزَلَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ مِنْ دَاءٍ إِلَّا جَعَلَ لَهُ دَوَاءٌ، عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ وَجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ
'আল্লাহ তাআলা প্রতিটি রোগের জন্যই আরোগ্যের ব্যবস্থা রেখেছেন। জ্ঞানীরা সে-ব্যাপারে জানে, আর মূর্খরা অজ্ঞই থেকে যায়।'<৩>
এ বিষয়ে অন্য আরেক হাদীসে নবীজি বলেন-
إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَضَعُ دَاءً إِلَّا وَضَعَ لَهُ شِفَاءٌ، أَوْ دَوَاءٌ، إِلَّا دَاءً وَاحِدًا، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هُوَ؟ قَالَ: الْهَرَمُ
'আল্লাহ তাআলা একটি রোগ ছাড়া বাকি সব রোগেরই ওষুধ রেখেছেন।' সাহাবায়ে কেরাম সেই রোগটির কথা জানতে চাইলে নবীজি বললেন, 'বার্ধক্য। আল্লাহ তাআলা বার্ধক্যের কোনো প্রতিষেধক দেননি।'
উল্লিখিত হাদীসসমূহে সকল ধরনের মানবিক (শারীরিক, মানসিক ও চারিত্রিক) রোগ-ব্যাধি উদ্দেশ্য।
টিকাঃ
[১] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৫৬৭৮
[২] মুসলিম, হাদীস-ক্রম: ২২০৪; মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ১৪৫৯৭
[৩] মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ১৮৪৫৬
[১] মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ১৮৮৩১; আবু দাউদ, হাদীস-ক্রম: ৩৮৫৫
📄 অজ্ঞতার প্রতিকার
নবী কারীম অজ্ঞতাকে রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে জ্ঞানী বা আলিম ব্যক্তিবর্গের শরণাপন্ন হতে হবে, তাঁদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে অজ্ঞতাকে দূর করতে হবে।
সুনানু আবি দাউদে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু'র ভাষ্যে একটি ঘটনা বিবৃত হয়েছে। তিনি বলেন, 'শীতকালে আমরা একটি সফরে ছিলাম। পাথরের আঘাতে আমাদের এক সফরসঙ্গীর মাথা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ঘটনাক্রমে ওই রাতে তাঁর স্বপ্নদোষ হয়ে যায়। কিন্তু পবিত্রতা হাসিল করতে গোসল করাকে তিনি আঘাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলেন। সফরসঙ্গীদের নিকট পরামর্শ চাইলেন-এই অবস্থায় গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করা যাবে কি না। সঙ্গীরা তাৎক্ষণিক জানা-শোনা থেকে বললেন, "যেহেতু পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে, আর তুমিও পানি ব্যবহারে সক্ষম, তাই আমরা তোমার জন্য তায়াম্মুম করার কোনো অবকাশ দেখছি না।" এ কথা শুনে তিনি গোসল করে নিলেন। ফলে ক্ষতস্থান দিয়ে মাথার ভেতরে পানি ঢুকে যায় এবং তিনি মারা যান। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর নবীজির কাছে পৌঁছুলে নবীজি ইরশাদ করেন-
قَتَلُوهُ قَتَلَهُمُ اللَّهُ أَلَا سَأَلُوا إِذَا لَمْ يَعْلَمُوا فَإِنَّمَا شِفَاءُ الْعِيَ السُّؤَالُ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيهِ أَنْ يَتَيَمَّمَ وَيَعْصِرَ - أَوْ يَعْصِبَ - عَلَى جُرْحِهِ خِرْقَةٌ ثُمَّ يَمْسَحُ عَلَيْهَا، وَيَغْسِلُ سَائِرَ جَسَدِهِ
"তার সঙ্গীরা তাকে হত্যা করেছে। আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন। তারা যেহেতু জানত না, তাহলে কেন তারা জিজ্ঞেস করল না! অজ্ঞতা নামক ব্যাধির চিকিৎসা হলো প্রশ্ন করা। এই ব্যক্তির জন্য তো তায়াম্মুমই যথেষ্ট ছিল। অথবা মাথায় একটি ব্যান্ডেজ বেঁধে গোসল করলেও পারত, এমতাবস্থায় ব্যান্ডেজের ওপর মাসেহ করে নিলেই হতো।"১
উল্লিখিত হাদীসে নবী কারীম খুব স্পষ্টভাবেই একটি বিষয় তুলে ধরেছেন যে, অজ্ঞতা হলো এক ধরনের মানবব্যাধি। প্রশ্ন করাই এই ব্যাধির চিকিৎসা। আল্লাহ তাআলাও পবিত্র কালামুল্লাহকে বিশ্বাসীদের জন্য 'শিফা' বলে উল্লেখ করেছেন।
টিকাঃ
[১] আবু দাউদ, হাদীস-ক্রম: ৩৩৬