📄 প্রতিটি মানুষ হৃদয়ের বিশেষ ক্রিয়াকলাপের জন্য আদিষ্ট
'সমস্ত সঠিকতার মালিক মহান আল্লাহর তাওফিকে বলতে চাই—আত্মিক ও ভেতরজগতের আমলসমূহের (যেমন, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, একনিষ্ঠতা, ভরসা ও সন্তুষ্টি-ইত্যাদি) মধ্য থেকে প্রত্যেকটিরই সম্পাদন-ব্যাপারে সাধারণ-বিশেষ—নির্বিশেষে সব মানুষকে আদেশ করা হয়েছে। যে যত ওপরের স্তরেই উঠে যাক না কেন, এই আমলগুলো ছেড়ে দেওয়াটা কোনো অবস্থাতেই প্রশংসাযোগ্য নয়। আর এই আমলগুলোর বিপরীতে দুঃখ-দুশ্চিন্তা এমন এক ব্যাপার, যা করতে না আল্লাহ বলেছেন, আর না বলেছেন তাঁর রাসূল। বরং বিভিন্ন স্থানে এই ব্যাপারে তাঁদের নিষেধাজ্ঞা এসেছে; এমনকি, সেই দুঃখ- দুশ্চিন্তার সঙ্গে দ্বীনি বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
"আর, তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ কোরো না; মুমিন হয়ে থাকলে তোমরাই হবে বিজয়ী।" [১]
وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِي ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ
"তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না; এবং তাদের চক্রান্তের কারণে মন ছোট করবেন না।”[২]
إِذْ يَقُولُ لِصَّحِبِهِ ، لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا
"যখন তিনি তাঁর সঙ্গীকে বলেছিলেন, পেরেশান হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।” [৩]
وَلَا يَحْزُنكَ قَوْلُهُمْ
"তাদের কথা যেন আপনাকে পেরেশান না-করে।"[১]
لِكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا ءَاتَنكُمْ
"এটা এজন্যে বলা হয়, যাতে তোমরা যা হারাও, তজ্জন্যে দুঃখিত না হও; এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তজ্জন্যে উল্লসিত না হও।”[২]
'অনেক আয়াতে এমন কথা আছে। এর কারণ হলো, পেরেশান হওয়ার দ্বারা কোনো লাভ বা ক্ষতি নেই; বিশেষ কোনো ফায়দাও নেই; আর, যেই কাজ ফায়দাহীন-অনর্থক, আল্লাহ তাআলা সেটার আদেশ করেন না। তবে হ্যাঁ, কেউ এই ধরনের পেরেশানি করলেও এর সঙ্গে কোনো হারামকে জড়িয়ে না ফেললে গুনাহগার হবে না। যেমন-বিপদাপদে পেরেশান হওয়া; এতে কোনো সমস্যা নেই。
'হাদিসে এসেছে-
"আল্লাহ তাআলা চোখের অশ্রু আর অন্তরের পেরেশানির কারণে পাকড়াও করবেন না; কিন্তু এটির ('এটি' বলে নবীজি জিহ্বার দিকে ইশারা করেছেন) কারণে পাকড়াও করবেন; আবার, রহমও করবেন।”[৩]
'অন্যত্র নবীজি বলেছেন-
“চোখের অশ্রু ঝরবে, হৃদয় পেরেশান ও বেদনার্ত হবে, তবু রবের অসন্তোষের কিছু আমরা বলব না।”[৪]
'কুরআনে যেমন এসেছে-
وَتَوَلَّى عَنْهُمْ وَقَالَ يَأْسَفَى عَلَى يُوسُفَ وَأَبْيَضَّتْ عَيْنَاهُ مِنَ الْحُزْنِ فَهُوَ كَظِيمٌ
'তাদের দিক থেকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন, হায় ইউসুফ! তাঁর চোখদুটি শোকের কারণে বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল; আর তিনি ছিলেন দুঃখ-ক্লিষ্ট।”[১]
'অনেক সময় পেরেশানির সঙ্গে এমন কিছু থাকে, যার কারণে পেরেশান ব্যক্তিটি নন্দিত ও পুরস্কৃত হয়; তবে তখনও পুরস্কার ও প্রশংসা হয় পেরেশানির সঙ্গে-থাকা-বিশেষ দিকটির কারণে, পেরেশানির কারণে নয়। যেমন—কেউ নিজের দ্বীন বাঁচাতে গিয়ে পেরেশানিতে পড়ল; বা সর্বত্র মুসলিম উম্মাহর দুর্দশা নিয়ে চিন্তিত হলো। এমন ব্যক্তি পুরস্কৃত ও প্রশংসিত হবে তার মনে থাকা কল্যাণের প্রতি ভালোবাসা ও অকল্যাণের প্রতি ঘৃণার কারণে。
'কিন্তু এই পেরেশানিতে পড়ে যদি সবর ও জিহাদের মতো করণীয় কাজ সে ভুলে যায়, বা নিষিদ্ধ কোনো ফায়দা হাসিল ও ক্ষতির নিরোধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তো সব শেষ। কিন্তু করণীয় ও বর্জনীয় না ভুলে দ্বীন ও উম্মাহ নিয়ে পেরেশান হলে এর মাধ্যমে তার অবস্থান-অনুপাতে গুনাহ মোচন হবে। পক্ষান্তরে, এইরকম “ভালো পেরেশানি”র কারণেও মন দুর্বল হয়ে পড়লে এবং পেরেশানির কারণে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ-নিষেধ ভুলে গেলে, এই বিবেচনায় দোষী ও নিন্দিত হবে সে; যদিও অন্য বিবেচনায় (অর্থাৎ, দ্বীন ও উম্মাহ নিয়ে চিন্তার বিবেচনায়) সে প্রশংসাযোগ্য。
'আর, আল্লাহর প্রতি ভরসা, ভালোবাসা ও একনিষ্ঠতা—এগুলো শুধু ভালোই-ভালো; এগুলো এমন নেককাজ—নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সাধারণ নেককার—যেকোনো স্তরের মানুষের ক্ষেত্রেই যা প্রশংসনীয়。
'যারা বলে—“এগুলো সাধারণ বান্দাদের বেলায়, বিশেষদের জন্য-নয়” তাদের কথার উদ্দেশ্য যদি হয়—বিশেষ বান্দাগণ এইসব গুণ ও আত্মিক আমল ধারণ করেন না, তাহলে তারা সুস্পষ্ট ভুল কথা বলছে; কারণ, এগুলো তো এমন অপরিহার্য বিষয়, যা থেকে শুধু কাফির ও মুনাফিকই মুক্ত থাকতে পারে; কোনো মুমিন এগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।'
টিকাঃ
[১] সূরা আলি ইমরান, আয়াত-ক্রম: ১৩৯
[২] সূরা নাহল, আয়াত-ক্রম: ১২৭
[৩] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ৪০
[১] সূরা ইউনুস, আয়াত-ক্রম: ৬৫
[২] সূরা হাদীদ, আয়াত-ক্রম: ২৩
[৩] জামিউল উসুল ১১/১০১
[৪] জামিউল উসুল ১১/১০৩
[১] সূরা ইউসুফ, আয়াত-ক্রম: ৮৪
📄 সংশোধনযোগ্য কিছু ভুল
শাইখ এখানে কোনো কোনো সুফি হযরতের বক্তব্যের ব্যাপারে আপত্তি করায় এ নিয়ে আমাদের আরও কথা শোনার আগ্রহ জন্ম নিল। তাই আমি বললাম, 'মুহতারাম, আপনি নিশ্চয় জানেন, সুফিগণ এসবের ব্যাপারে মানুষকে 'সাধারণ' ও 'বিশেষ' স্তরে ভাগ করেন এবং প্রত্যেক স্তরের মানুষের জন্য আলাদা আলাদা অবস্থান সাব্যস্ত করেন। তারা বলেন, "তাওয়াক্কুল হলো খাদ্যের তালাশের ক্ষেত্রে নফসের সঙ্গে সংগ্রাম করা। আর বিশেষ স্তরের বান্দাদের তো নিজের নফসের সঙ্গে সংগ্রাম বা লড়াই করা লাগে না; বরং যে তাওয়াক্কুল করে, তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে সে প্রয়োজনীয় কোনো বস্তু চেয়ে নেয়; আর যে মারেফাতকে ধারণ করে, সে তো সবকিছু থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে প্রতিটি বস্তুর বাস্তবতা অবলোকন করতে পারে; তাই, সে কোনো কিছুই চায় না।”
'সবসময়ে, বিশেষত সূফিদের ভুল স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে শাইখের মুখমণ্ডলে যে অন্যরকম এক আভা দেখা যায়, আজও তা ভেসে উঠেছে; জবাবের জন্য তাঁকে পূর্ণ প্রস্তুত মনে হচ্ছে; তিনি বলতে শুরু করলেন, 'আল্লাহর তাওফিকে বলতে চাই, প্রথমত, শরয়িভাবে তাওয়াক্কুলটা স্রেফ দুনিয়াবি বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; কারণ, তাওয়াক্কুলকারী তো নিজের দ্বীন ও অন্তরের সংশোধন এবং জবান ও ইরাদার হেফাজতের জন্য আল্লাহর ওপরেই ভরসা করে; এগুলোই তাওয়াক্কুলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; এ-জন্যই তো প্রত্যেক নামাজে বান্দা তার রবকে ডেকে বলে--
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ | “আমরা তোমারই ইবাদত করি; তোমারই সাহায্য চাই।”[১]
'কুরআন বলছে-
فَاعْبُدُهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ | “সুতরাং তাঁরই (আল্লাহরই) ইবাদত করো এবং তাঁর ওপরেই ভরসা করো।”[১]
'খাঁটি মুমিনের বক্তব্যরূপে বিবৃত হয়েছে— عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ | "আমি তাঁর ওপরেই ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।”[২]
'কুরআনের বেশ কয়েক জায়গায়ই ইবাদত ও তাওয়াক্কুলকে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ, এ দুটোর মধ্যে পুরো দ্বীন চলে আসে। এজন্যই জনৈক সালাফ বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা সব আসমানি কিতাবকে কুরআনের মধ্যে একত্র করে দিয়েছেন; পুরো কুরআনের ইলমকে মুফাসসালের (হুজুরাত থেকে নাস পর্যন্ত সূরাসমূহ) মধ্যে একত্র করে দিয়েছেন; মুফাসসালের ইলম একত্র করে দিয়েছেন সূরা ফাতিহার মধ্যে; আর সূরা ফাতিহার ইলম জমা করে দিয়েছেন إياك نعبد وإياك نستعين -এর মধ্যে।”
'এই শব্দজোড়া এমন, যেগুলো রব ও বান্দার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক জুড়ে দিয়েছে। সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিসে এমন কথাই এসেছে যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
"মহান আল্লাহ বলেন, 'আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুভাগ করে নিয়েছি; এক ভাগ আমার; আরেক ভাগ আমার বান্দার; আমার বান্দা আমার কাছে যা চায়, তাকে তা-ই দেওয়া হয়。"
'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন— "তোমরা সূরা ফাতিহা পাঠ করো; বান্দা যখন বলে, الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ, তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে; বান্দা যখন বলে, الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে। বান্দা যখন বলে, مَلِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমাকে সম্মান প্রদর্শন করেছে। অতঃপর বান্দা যখন বলে, إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ, তখন আল্লাহ বলেন, এটা আমার ও বান্দার মধ্যকার বিষয়; আমার বান্দা যা প্রার্থনা করেছে, তা-ই তাকে দেওয়া হবে। অতঃপর বান্দা যখন বলে, اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ, তখন আল্লাহ বলেন, এর সবই আমার বান্দার জন্য; আমার বান্দা আমার কাছে যা চেয়েছে, তাকে তা-ই দেওয়া হবে。" [১]
'দুই ভাগের মধ্য থেকে মহান রবের ভাগটি হলো প্রশংসা ও দান করার, আর বান্দার ভাগটি হলো দুআ ও প্রার্থনার। এই দুটি ভাগ এমন, যা বান্দা ও রবের সমস্ত হকের সমন্বয় করে দেয়। তাই, إِيَّاكَ نَعْبُدُ হলো রবের জন্য আর إِيَّاكَ نَسْتَعِينُ হলো বান্দার জন্য。
'বুখারি ও মুসলিমে মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন-
"একবার আমি নবীজির পেছনে একটি গাধায় সওয়ার ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলেছেন, 'মুআয, তুমি কি জানো, বান্দার ওপর আল্লাহর কী হক?' আমি বললাম, 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।' নবীজি বললেন, 'আল্লাহর হক হলো, তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কিছুকে শরিক না করা।' এরপর বললেন, 'তুমি কি জানো, তা করলে আল্লাহর নিকট বান্দার হক কী?' আমি বললাম, 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।' তিনি বললেন, 'তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করলে তাদেরকে শাস্তি না দেওয়া।” [২]
'ইবাদত হলো সেই উদ্দেশ্য, যার জন্য আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে সৃষ্টি করেছেন; অর্থাৎ, তারা যেন তাঁর আদেশ মান্য করা, তাঁকে ভালোবাসা ও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করে। কুরআনে এ-কথাই এসেছে-
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ | “আমি জিন ও মানুষকে কেবল এ-জন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার ইবাদত করবে।"[১]
'এই উদ্দেশ্যেই নবী-রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) প্রেরিত হয়েছেন, এবং কিতাবসমূহ নাযিল হয়েছে। আর ইবাদত হলো এমন বিষয়, যার মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের হীনতা এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভালোবাসা প্রোথিত রয়েছে। সুতরাং হীনতা বিহীন ভালোবাসা, কিংবা ভালোবাসা বিহীন হীনতা কোনোটাই ইবাদত বলে গণ্য নয়; বরং হীনতা ও ভালোবাসা চূড়ান্ত পর্যায়ে যার মধ্যে থাকবে, সেটিই ইবাদত; আর, এজন্যই তো এক আল্লাহ ব্যতীত আর কারও জন্য ইবাদতের অনুমতি নেই。
'আবার, যদিও বান্দা ইবাদত করলে এতে তারই লাভ, আল্লাহ এ থেকে অমুখাপেক্ষী, তবু “ইবাদত আল্লাহর জন্য” কথাটি বলা হয় এই অর্থে যে, আল্লাহ ইবাদতকে ভালোবাসেন এবং এর দ্বারা খুশি হন। এজন্যই তো যে ব্যক্তি জনশূন্য মৃত্যু-উপত্যকায় নিজের খাদ্য-পানীয়সহ বাহনজন্তু হারিয়ে ফেলেছে এবং একপর্যায়ে জীবনের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে, এরপর হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে জন্তুটিকে নিজের পাশে দেখে খুশিতে আত্মহারা হয়ে গিয়েছে, তারচেয়েও বহুগুণ বেশি খুশি হন আল্লাহ তাআলা সেই সময়-যখন তাঁকে ভুলে-যাওয়া-বান্দা তাওবা করে পুনরায় তাঁর কাছে ফিরে আসে。
'আর, তাওয়াক্কুল ও সাহায্য চাওয়া হলো বান্দার জন্য; কারণ, এই পথ ও পন্থা অবলম্বন করেই বান্দা তার ইবাদতের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে। إستعانة বা সাহায্য চাওয়ার উদাহরণ হলো-দুআ ও প্রার্থনা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
“হে আদম-সন্তান, চারটি বিষয় এমন আছে, যেগুলোর মধ্য থেকে একটি আমার; একটি তোমার; একটি আমার ও তোমার মধ্যকার; আর বাকি একটি আমার সৃষ্টি ও তোমার মধ্যকার। আমারটি হলো-তুমি কাউকে আমার সঙ্গে শরিক করা ব্যতীত আমার ইবাদত করবে; তোমারটি হলো- আমলের বিনিময়ে আমি তোমার সবচেয়ে বড় প্রয়োজনটি পূর্ণ করে দেবো; আমার ও তোমার মধ্যকার বিষয়টি হলো- তোমার দুআ আর আমার সাড়া দেওয়া; আর আমার সৃষ্টি ও তোমার মধ্যকার বিষয়টি হলো-মানুষের কাছ থেকে যেমন আচরণ পেতে চাও, ঠিক তেমন আচরণই তুমি করবে তাদের সঙ্গে。" [১]
'এই যে কোনোটা আল্লাহর কোনোটা বান্দার বলা হচ্ছে, এসব মূলত প্রাথমিকভাবে ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির সম্পর্ক-বিবেচনায় বলা হচ্ছে। কারণ, বান্দা তো শুরুতে তা-ই ভালোবাসে, যা তার কাছে অনুকূল মনে হয়; পক্ষান্তরে, আল্লাহ পছন্দ করেন সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত লক্ষ্যের বাস্তবায়ন; আর, ভালোবাসা হলো এক্ষেত্রে মাধ্যম ও অনুগামী বিষয়মাত্র। নতুবা, প্রতিটি হুকুমের লাভ ও উপকার তো বান্দাই পায়; তবে আল্লাহ তাআলা সেগুলোকে পছন্দ করেন ও ভালোবাসেন。
'এজন্যই আমরা বলব, যারা তাওয়াক্কুলকে সাধারণ স্তরের বান্দাদের জন্য নির্দিষ্ট করে ফেলে তারা মনে করেছে, তাওয়াক্কুল দ্বারা দুনিয়াবি বিষয়াদিই কামনা করা হয়; এমন ধারণা সুস্পষ্ট গলদ; বরং দ্বীনি বিষয়াদির মধ্যে তাওয়াক্কুলের অবস্থান অনেক উঁচুতে; এমনকি, দ্বীনি বিষয়াদিতে তাওয়াক্কুল হলো এমন, যা ব্যতীত ওয়াজিব ও মুস্তাহাব (আবশ্যক ও ঐচ্ছিক) আমলগুলো পূর্ণতা পায় না; তাকওয়ার ব্যাপারে যে ব্যক্তি অনাগ্রহী, সে মূলত আল্লাহর হুকুম পছন্দ ও সন্তুষ্টির ব্যাপারেই অনাগ্রহী। অথচ অনাগ্রহী হওয়া এমন বিষয়ে বৈধ, যা আখেরাতে ফায়দাহীন; আর, তা হলো বৈধ ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করা; যার দ্বারা আল্লাহর ইবাদতের বেলায় কোনো উপকার হয় না। এমনিভাবে, বৈধ তাকওয়া হলো, আখেরাতে ক্ষতির আশঙ্কা রাখে—এমন বিষয় বর্জন করা; তথা, হারাম ও সন্দেহপূর্ণ সবকিছু পরিহার করা, যেগুলোকে পরিহার করলে আবার ওয়াজিব বিষয়গুলোকেও পরিহার করতে হয় না, যেই ওয়াজিবগুলো সম্পাদন করাটা পরিহার্যগুলোকে পরিহার করার চেয়েও বেশি আবশ্যক ও গুরুত্বপূর্ণ。
'আখিরাতে যা উপকারে আসবে বা আখিরাতের উপকারী বিষয়ে যা সহায়ক হবে, তাতে অনাগ্রহী হওয়াটা তো দ্বীনি কাজ হতে পারে না; বরং এমন ব্যক্তি কুরআনের ওই আয়াতের আওতায় চলে আসবে, যেখানে বলা হয়েছে— يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تُحَرِّمُواْ طَيِّبَتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ
“মুমিনগণ, তোমাদের জন্য আল্লাহর হালালকৃত উত্তম বস্তুগুলোকে তোমরা হারাম বানিয়ে ফেলো না; এবং সীমালঙ্ঘনও কোরো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের অপছন্দ করেন।" [১]
'অনুমোদিত বৈরাগ্যের বিপরীত হলো বৈধ বিষয়ে অতিরঞ্জনে জড়িয়ে পড়া। এরপর বৈধ বিষয়ে অতিরঞ্জন করতে গিয়ে কোনো ওয়াজিব ছেড়ে দিলে বা কোনো হারামে লিপ্ত হয়ে গেলে গুনাহগার হবে। নতুবা, নৈকট্যপ্রাপ্তদের স্তর থেকে নেমে গিয়ে মধ্যমপন্থীদের স্তরে এসে যাবে। সাথে এ-ও জানা থাকা দরকার যে, তাওয়াক্কুল আসলে আল্লাহর পছন্দনীয়, এবং তাঁর তরফ থেকে সর্বসময়ে করণীয় বলে হুকুমকৃত; আর, যা আল্লাহর পছন্দ ও সন্তুষ্টির বিষয় হয়, এবং তাঁর তরফ থেকে যা সর্বদা করতে আদেশ জারি করা হয়, তা কখনো নৈকট্যপ্রাপ্তদেরকে বাদ দিয়ে তাদের নীচের স্তরওয়ালাদের জন্য নির্দিষ্ট হতে পারে না。
'তো, যারা বলে, যে ব্যক্তি তাওয়াক্কুল করে, সে শুধু এর মাধ্যমে দুনিয়াবি বিষয়াদিই প্রার্থনা করে-এমন লোকদের কথার মোট তিনটি জবাব আমরা দিয়ে দিলাম।'
টিকাঃ
[১] সূরা ফাতিহা, আয়াত-ক্রম: ৪
[১] সূরা হুদ, আয়াত-ক্রম: ১২৩
[২] সূরা শুরা, আয়াত-ক্রম: ১০
[১] মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৭৬৪; আবু দাউদ, হাদিস-ক্রম: ৮২১
[২] বুখারি, হাদিস-ক্রম : ৫৯৫৩
[১] সূরা যারিয়াত, আয়াত-ক্রম: ৫৬
[১] তাবারানি, দুআ অধ্যায়, হাদিস-ক্রম: ১৬, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু'র বর্ণনা। হাদিসটির সনদে সালিহ নামে একজন যঈফ রাবি আছেন。
[১] সূরা মায়িদা, আয়াত-ক্রম: ৮৭
📄 ভাগ্য নির্ধারিত থাকাটা আমলের পরিপন্থী নয়
শাইখ একটু থামলেও তাঁর মধ্যে আপত্তি নিরসনের আগ্রহ দেখে আমরা একে গনিমত মনে করলাম; ভাবলাম, শাইখ তাহলে এবার কতক সূফি কর্তৃক প্রচারিত তাকদির-বিষয়ক একটি ভুল মতের জবাব দেবেন। কতক সূফি বলেন, 'সবকিছু নির্ধারিত হয়ে গেছে'; এটা বলে তারা বোঝাতে চান, যে, সবকিছু তাকদির- অনুযায়ীই হয়; মাধ্যম ও উপায়-উপকরণ গ্রহণের কোনো প্রয়োজন নেই। তো, খানিক বাদেই শাইখ বলতে শুরু করলেন, 'অনেকে যে বলে, "সবকিছু স্থিরকৃত হয়ে গেছে (তাই, কোনো উপায়-উপকরণ গ্রহণের প্রয়োজন নেই)"; এটা ওই লোকদের কথার মতো, যারা বলে, "দুআর কোনো প্রয়োজন নেই; কারণ, প্রার্থিত বস্তুটি তাকদিরে থাকলে এটাকে দুআ করে চাওয়ার প্রয়োজন নেই; আর, তাকদিরে না-থাকলে, চেয়েও কোনো লাভ নেই।” এমন কথা আসলে বিবেক ও শরিয়ত-উভয় বিবেচনায়ই অত্যন্ত ফালতু ও গর্হিত। এমনিভাবে, কেউ কেউ বলে, “তাওয়াক্কুল ও দুআর মাধ্যমে না-কোনো ফায়দা হয়, আর না-কোনো ক্ষতি থেকে বাঁচা যায়; বরং এগুলো স্রেফ ইবাদত। আর তাওয়াক্কুল আসলে নিজের সবকিছুকে চূড়ান্ত সমর্পণের নাম।”
'এসব কথা যদিও একদল মাশায়েখই বলেছেন, তবু এগুলো ভুল ও গলদ। এমনিভাবে, কিছু লোক বলে, “দুআ শুধু একটি ইবাদতমাত্র।” এই ধরনের কথা যারা বলে, তাদের সবার মূল সমস্যা একটি জায়গায়; তা হলো, এরা সবাই মনে করেছে, সবকিছু তাকদিরে থাকা ও নির্ধারিত হওয়ার অর্থ সেগুলো মানুষের কর্মসংশ্লিষ্ট কোনো উপায়-উপকরণের ওপর নির্ভরশীল হতে পারবে না। অথচ এরা এ কথা জানে না যে, আল্লাহ তাআলা সবকিছুর তাকদির ও ফয়সালা লিখে দেন এমন উপায়-উপকরণের ওপর নির্ভর করে, যেগুলোর কতক, মানুষের কর্মসংশ্লিষ্ট, আর কতক, সংশ্লিষ্ট নয়। এ-জন্যই মাশায়েখদের ওই বক্তব্য প্রকারান্তরে সমস্ত আমলকে বাতিল বানিয়ে দেওয়ার শামিল。
'নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ-নিয়ে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল; তিনি জবাবও দিয়েছিলেন। বুখারি ও মুসলিম শরিফে ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত আছে-
✓✓ "নবীজিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, 'জান্নাতি ও জাহান্নামিরা কি আগ থেকেই নির্ধারিত হয়ে আছে?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' বলা হলো, 'তাহলে আমল কীসের জন্য?' তিনি বললেন, 'প্রত্যেকের জন্য তার পরিণতির পথ সহজ করে দেওয়া হয়।”[১]
'বুখারি ও মুসলিমে আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন-
"আমরা রাসূলের সঙ্গে এক জানাযায় ছিলাম; তাঁর হাতে একটি লাঠি ছিল; একপর্যায়ে তিনি সেটি দ্বারা মাটিতে দাগ দিতে লাগলেন; কিছুক্ষণ বাদে মাথা তুলে বললেন, 'প্রতিটি নবজাতকের ব্যাপারেও জান্নাত বা জাহান্নামের ফয়সালা লিখে দেওয়া হয়েছে; সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের তাকদির নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে।” আলি বলেন, “তখন উপস্থিতদের এক লোক বলল—‘হে আল্লাহর নবী! তাকদিরের ওপর ঠিক থাকার জন্য আমাদের কি আমল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়? কারণ যে ব্যক্তি সৌভাগ্যবান সে তো সৌভাগ্যের দিকে যাবেই; আবার দুর্ভাগা যে সে-ও তো দুর্ভাগ্যের পিছুই ছুটবে।’ নবীজি বললেন—‘আমল করতে থাকো; প্রত্যেকের জন্য তার পরিণতির পথ সহজ করে দেওয়া হবে; সৌভাগ্যবানের জন্য সৌভাগ্যের পথ সহজ করে দেওয়া হবে; আর, দুর্ভাগার জন্য দুর্ভাগ্যের ঠিকানা সহজ করে দেওয়া হবে।’ এরপর নবীজি তেলাওয়াত করলেন; যার মর্ম হলো—‘যে দান করেছে, তাকওয়া অবলম্বন করেছে, এবং সৌন্দর্যমাখা কালামকে সত্যায়ন করেছে, আমি তার জন্য সহজ করে দিই সুখের পথ; আর যে কৃপণতা করেছে, অমুখাপেক্ষিতার বড়াই দেখিয়েছে এবং সৌন্দর্যমাখা কালামকে মিথ্যা আখ্যা দিয়েছে, আমি তার জন্য দুঃখের পথ সহজ করে দিই।”[১]
‘কুতুবে সিত্তাহ (বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি, আবু দাউদ, নাসায়ি ও ইবনু মাজাহ)-সহ বিভিন্ন সুনান ও মুসনাদে এই হাদিসটি আনা হয়েছে。
‘ইমাম তিরমিযি রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন— “রাসূলুল্লাহকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘যে সকল ওষুধ দ্বারা আমরা চিকিৎসা করি, যে ঝাড়ফুঁক করি, এবং যে সকল প্রতিরোধমূলক বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করি, সে সম্পর্কে আপনার মতামত কী? সেগুলো কি আল্লাহ-নির্ধারিত তাকদির কিছুমাত্র রদ করতে পারে?’ তিনি বললেন, ‘সেগুলোও তাকদিরের অন্তর্ভুক্ত।’
‘একই রকম কথা বিভিন্ন হাদিসে এসেছে। নবীজি বলেছেন, সৌভাগ্যবান ও দুর্ভাগা হবে কারা—এটা আগ থেকেই আল্লাহ তাআলার ইলম ও তাকদিরে নির্দিষ্ট হয়ে থাকলেও তাদের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যটা নেক ও বদ আমলের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে পারে। কারণ, আল্লাহ তো প্রতিটি বস্তুর পরিণতি সম্পর্কে জ্ঞাত; ফলে, তিনি জানেন যে, অমুক লোকটি নেক আমলের মাধ্যমে সৌভাগ্যবান হবে আর অমুক লোকটা বদআমলের কারণে দুর্ভাগা হবে। তাই, তিনি সৌভাগ্যবানের জন্য নেকআমলের পথ সহজ করে দেন; আর দুর্ভাগার জন্য দুর্ভাগ্যের গহ্বর উন্মুক্ত হয়ে পড়ে তার বদআমলের কারণে। মোটকথা, প্রত্যেকের জন্যই তার পরিণতির পথ সহজ করে দেওয়া হয়。 এটা আসলে সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহর সাধারণ ইচ্ছার প্রতিফল; যার কথা বলা হয়েছে কুরআনের এই আয়াতে-
وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ ۱۱۸ إِلَّا مَن رَّحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ
“তোমার পালনকর্তা যাদের ওপর রহম করেছেন, তারা ব্যতীত সবাই চিরদিন মতভেদ করতেই থাকবে; আর এজন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।”[১]
টিকাঃ
[১] মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ২৬৪৯; আবু দাউদ, হাদিস-ক্রম: ৪৭০৯
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৪৯৪৯; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৬৬২৬; আবু দাউদ, হাদিস-ক্রম: ৪৭০৯; তিরমিযি, হাদিস-ক্রম: ২১৩৬; ইবনু মাজাহ ৭৮; জামিউল উসুল ১০/১০৮
[২] তিরমিযি এটিকে সহিহ বলেছেন, হাদিস-ক্রম: ২০৬৫; সুনানু ইবনি মাজাহ, হাদিস-ক্রম: ৩৪৩৭; জামিউল উসুল ৭/৫৫৪
[১] সূরা হুদ, আয়াত-ক্রম: ১১৮-১১৯
📄 সৃষ্টি সংক্রান্ত ও দ্বীন-সংশ্লিষ্ট বিষয়
আমি বললাম, 'শাইখ, আপনার কথা থেকে বুঝলাম, আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা দুরকমের; সৃষ্টি সংক্রান্ত ও দ্বীন-সংশ্লিষ্ট। অনুগ্রহপূর্বক এ-বিষয়ে আমাদেরকে যদি আরও বিস্তারিত আলোচনা শোনাতেন!'
শাইখ বললেন, 'আল্লাহ আপনাদেরকে তাওফিক দান করুন। জেনে রাখবেন, কুরআনে উল্লিখিত আদেশ, ইচ্ছা, অনুমতি, কিতাব, হুকুম, ফয়সালা, নিষেধ ও কালিমা ইত্যাদির মধ্যে দ্বীন-সংশ্লিষ্ট যত বিষয় আছে প্রত্যেকটির আলোচনাতেই এগুলোর সঙ্গে আল্লাহ তাআলা তাঁর ভালোবাসা, সন্তুষ্টি ও শরয়ি-হুকুমের সম্পর্ক বয়ান করেছেন, এবং সৃষ্টি সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে তাঁর সৃষ্টি-সংশ্লিষ্ট ইচ্ছার মিল দেখিয়েছেন। যেমন-দ্বীন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَنِ وَإِيتَايِ ذِي الْقُرْبَى
"নিশ্চয়ই আল্লাহ আদেশ করেন ইনসাফ, ইহসান ও আত্মীয়দেরকে দান করার।"[১]
'অন্যত্র বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمْنَتِ إِلَى أَهْلِهَا
"আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেন, তোমরা যেন আমানত পৌঁছে দাও এর হকদারের কাছে।”[২]
আর সৃষ্টি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বলেছেন-
إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيَّا أَن يَقُولَ لَهُ كُن فَيَكُونُ
"তাঁর অবস্থা হলো, কোনো কিছুর ইচ্ছা করলে সেটিকে বলেন, 'হও!' তখন তা হয়ে যায়।”[৩]
وَإِذَا أَرَدْنَا أَن نُّهْلِكَ قَرْيَةً أَمَرْنَا مُتْرَفِيهَا فَفَسَقُوا فِيهَا فَحَقَّ عَلَيْهَا الْقَوْلُ
"আর যখন আমি কোন জনপদ ধ্বংস করার ইচ্ছা করি, তখন তার সম্পদশালীদেরকে (সৎকাজের) আদেশ করি। অতঃপর তারা তাতে সীমালঙ্ঘন করে। তখন তাদের উপর নির্দেশটি সাব্যস্ত হয়ে যায় এবং আমি তা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করি।”[৪]
'আবার দেখুন দ্বীন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন—
يُرِيدُ اللهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ | "আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান; কঠোরতা চান না।”[১]
يُرِيدُ اللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ وَيَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ "আল্লাহ চান তোমাদের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা করতে, তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ববর্তীদের আদর্শ প্রদর্শন করতে এবং তোমাদের তাওবা কবুল করতে। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।” [২]
مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَكِن يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ "আল্লাহ তোমাদের জন্য কোনো কষ্ট-সমস্যা রাখতে চান না, বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান।”[৩]
'সৃষ্টি সংক্রান্ত ইচ্ছা নিয়ে আরও বলেছেন—
وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلُوا وَلَكِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ “আল্লাহ চাইলে, তারা পরস্পরে লড়াই করত না; কিন্তু তিনি তো যা ইচ্ছা, তা-ই করেন।” [৪]
'আরও ইরশাদ করেছেন—
فَمَن يُرِدِ اللَّهُ أَن يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَمْ ۖ وَمَن يُرِدْ أَن يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاءِ “আল্লাহ যাকে হিদায়াত করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য খুলে দেন; আর, যাকে ভ্রষ্ট করতে চান, তার বক্ষকে সংকীর্ণ ও সংকটগ্রস্ত করে দেন; যেন সে প্রবল বেগে আকাশে আরোহণ করছে।"[১]
وَلَا يَنفَعُكُمْ نُصْحِي إِنْ أَرَدتُ أن أنصح لَكُمْ إِن كَانَ اللَّهُ يُرِيدُ أَن يُغْوِيَكُمْ "আমি তোমাদের নসিহত করতে চাইলেও, তা তোমাদের জন্য ফলপ্রসূ হবে না; যদি আল্লাহ তোমাদেরকে গোমরাহ করতে চান।”[২]
'দ্বীন-সংশ্লিষ্টতার আলোচনায় বলেছেন-
مَا قَطَعْتُم مِّن لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَآئِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ "তোমরা যে কিছু কিছু খর্জুর-বৃক্ষ কেটে দিয়েছ এবং কতক না-কেটে ছেড়ে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই আদেশ ও অনুমতিতে।” [৩]
'সৃষ্টি-সংক্রান্ত ক্ষেত্রে বলেছেন-
وَمَا هُم بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ "তারা আল্লাহর আদেশ/হুকুম ব্যতীত জাদু দ্বারা কারও ক্ষতি করতে পারত না।” [৪]
'দ্বীন-সংশ্লিষ্ট ফয়সালার ক্ষেত্রে বলেছেন-
وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ "তোমার রব ফয়সালা (তথা, আদেশ) করেছেন, যে, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে।” [৫]
'সৃষ্টি সংক্রান্ত ফয়সালার বর্ণনায় বলেছেন-
فَقَضَهُنَّ سَبْعَ سَمَوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ
"ফলে, সেগুলোকে সাতটি আসমানরূপে ফয়সালা করেছেন (তথা, বানিয়েছেন) দুই দিনে।" [১]
'দ্বীন-সংশ্লিষ্ট হুকুম বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন—
أحِلَّتْ لَكُم بَهِيمَةُ الْأَنْعَمِ إِلَّا مَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنتُمْ حُرُمٌ إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ
"তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, যা তোমাদের কাছে বিবৃত হবে তা ব্যতীত। কিন্তু ইহরাম বাঁধা অবস্থায় শিকারকে হালাল মনে কোরো না; নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা যা ইচ্ছা করেন, নির্দেশ দেন।” [২]
ذلِكُمْ حُكْمُ اللَّهِ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ
“এটা আল্লাহর বিধান; তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করেন।”[৩]
'ইয়াকুব আলাইহিস সালামের এক পুত্রের জবানেও এই বিষয়টি এসেছে—
فَلَنْ أَبْرَحَ الْأَرْضَ حَتَّى يَأْذَنَ لِي أَبِي أَوْ يَحْكُمَ اللَّهُ لِي ۖ وَهُوَ خَيْرُ الْحَكِمِينَ
"আমার বাবা অনুমতি না-দিলে, বা আল্লাহ আমার জন্য (কোনো) ফয়সালা না-করলে, আমি যাব না; তিনি তো শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।” [৪]
قُل رَبِّ احْكُمْ بِالْحَقِّ وَ رَبُّنَا الرَّحْمَنُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ
"নবী বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আপনি ন্যায়ানুগ ফয়সালা করে দিন। আমাদের পালনকর্তা তো দয়াময়, তোমরা যা বলছ, সে বিষয়ে আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।” [৫]
'দ্বীন-সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞায় তিনি বলেন—
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنزِيرِ
"তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত ও শুকরের গোশত।"[১]
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَتُكُمْ
"তোমাদের জন্য তোমাদের মা, মেয়ে ও বোনদেরকে (বিয়ে করা) হারাম করা হয়েছে।”[২]
'সৃষ্টি সংক্রান্ত নিষেধের উদাহরণ এসেছে—
فَإِنَّهَا مُحَرَّمَةٌ عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ سَنَةً يَتِيهُونَ فِي الْأَرْضِ
“এই দেশ তাদের জন্য চল্লিশ বছর পর্যন্ত হারাম করা হলো; তারা ভূপৃষ্ঠে উদ্ভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াবে।”[৩]
'দ্বীন-সংশ্লিষ্ট কালিমার ক্ষেত্রে এসেছে—
وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَهِمَ رَبُّهُ بِكَلِمَتٍ فَأَتَمَّهُنَّ
“ইবরাহিমের রব যখন তাকে কিছু কালিমা দ্বারা পরীক্ষা করেছেন; তখন তিনি সেগুলো পূর্ণ করেছেন।”[৪]
'সৃষ্টি-সংক্রান্ত কালিমার উদাহরণ—
وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ الْحُسْنَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ بِمَا صَبَرُوا
"এবং বনি ইসরাইলের ওপর তোমার রবের উত্তম বাণী পরিপূর্ণ হলো। কারণ তারা ধৈর্য ধারণ করেছে।”[৫]
'বিভিন্ন সহিহ হাদিসের সংকলন সুনান ও মুসনাদে একটি প্রসিদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যে, নবীজি বলতেন-
"আমি আল্লাহর সেসব কালিমার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যেগুলোকে অতিক্রম করতে পারে না কোনো নেককার বা বদকার।"[১]
জানা কথা-যে ক্ষেত্রে আল্লাহর ইচ্ছা ও তাকবিন থেকে কেউই বের হতে পারে না, সেটা জগত-সংক্রান্তই; কারণ, দ্বীন-সংশ্লিষ্ট কালিমার বিরোধিতা তো কাফেররা গুনাহের মাধ্যমে করতেই থাকে। তাই, হাদিসের ওই কালিমাগুলো জগত-সংক্রান্তই。
'মোটকথা, নবীজি এখানে বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষকে যেসব পরিণতির জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য, সেগুলোর জন্য তাদেরকে প্রস্তুত করে দেওয়া হয় এমন-সব-আমলের মাধ্যমে, যেগুলো তাদেরকে ওই পরিণতির ঘাটে পৌঁছে দেবে। অন্যান্য মাখলুকের অবস্থাও একই。
'বিয়ের মাধ্যমে দুজন নারী-পুরুষের একত্রবাসের ফলে কিংবা নর ও মাদি প্রাণীর বিশেষ 'পানি' মিশ্রণের পরিণামে আল্লাহ তাআলা নারী ও মাদির গর্ভে সন্তান সৃষ্টি করেন। এখন, কোনো লোক যদি বলে, "আমি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করলাম, স্ত্রীর সঙ্গে মিলন করব না, আমার তাকদিরে সন্তান থাকলে এমনিতেই আসবে, নইলে সন্তান আমার দরকার নাই, তারপরও আমি স্ত্রী-মিলন করব না।' তাহলে, এই লোকের চেয়ে অথর্ব আর কেউ নেই। পক্ষান্তরে, যদি মিলনের পর বীর্যপাত "বাইরে" করে, তাহলেও আল্লাহর ইচ্ছায় সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ, অনেক সময় ব্যক্তির অনিচ্ছাতেও বীর্য নারীর "ভেতরে” রয়ে যায়। আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে সহিহ হাদিসে এসেছে, তিনি রলেন,
✓ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমরা বনি মুস্তালিক যুদ্ধে ছিলাম; কিছু আরব যুদ্ধবন্দী আমাদের হস্তগত হয়; তখন আমাদের স্ত্রীদের কথা মনে পড়ে; (কেননা) দূর-নিঃসঙ্গ জীবন আমাদের জন্য পীড়াদায়ক হয়ে পড়েছিল। (সে সময়) আমরা আযল (যৌনাঙ্গের বাইরে বীর্যপাত) করতে চাইলাম, (বাঁদির সঙ্গে সহবাস করে); এ সম্পর্কে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, 'এরূপ না করলে তোমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। কেননা, কিয়ামত পর্যন্ত যাদের জন্ম নির্ধারিত রয়েছে তাদের আগমন ঘটবেই।”[১]
'সহিহ মুসলিমে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন-
أن رجلا أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال إن لي جارية هي خادمنا وسانيتنا وأنا أطوف عليها وأنا أكره أن تحمل . فقال “ اعزل عنها إن شئت فإنه سيأتيها ما قدر لها " . فلبث الرجل ثم أتاه فقال إن الجارية قد حبلت . فقال " قد أخبرتك أنه سيأتيها ما قدر لها
"এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, 'আমার একটি দাসী আছে, যে আমাদের খিদমত ও পানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত। আমি তার নিকট 'আসা-যাওয়া' করে থাকি, কিন্তু আমি চাই না সে গর্ভবতী হোক।' তখন তিনি বললেন, 'তুমি ইচ্ছে করলে তার সাথে 'আযল (যৌনাঙ্গের বাইরে বীর্যপাত) করতে পারো। তবে তার তাকদিরে সন্তান থাকলে তা তার মাধ্যমে আসবেই।' লোকটি কিছু দিন পর আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, 'দাসীটি গর্ভবতী হয়েছে।' তিনি বললেন, 'আমি তোমাকে এ মর্মে জানিয়েছিলাম যে, তার তাকদিরে যা আছে, তা আসবেই।”[২]
'তবে হ্যাঁ, আল্লাহ তাআলা চাইলে মা-বাবা ছাড়াই সন্তান সৃষ্টি করতে পারেন; যেমন—আদম আলাইহিস সালামকে করেছেন; চাইলে কাউকে শুধু পুরুষ থেকে সৃষ্টি করতে পারেন; যেমন, হওয়া আলাইহাস সালামকে আদমের ছোট পাঁজর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে; চাইলে শুধু নারী থেকেও কাউকে সৃষ্টি করতে পারেন; ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম যেমন। তবে সেসবের বেলায়ও খেয়াল রাখতে হবে, যে, তাঁদের সৃষ্টিতেও আল্লাহ তাআলা কোনো-না-কোনো উপায়- উপকরণকে মাধ্যমরূপে রেখেছেন; যদিও উপকরণগুলো সাধারণ ও স্বাভাবিক ছিল না।'
এ-পর্যন্ত বলে শাইখ মজলিসের ইতি টানেন; যদিও আরও অনেক কথাই বলতে পারতেন, তবু, যেহেতু বিভিন্ন স্থানে এই বিষয়ে তিনি আলোচনা করেছেন এবং এ-বিষয়ক আলাপ-আলোচনা এমনিতেও বেশ দীর্ঘ, তাই এখানে আর কথা লম্বা না-করে যা বলেছেন তা-ই যথেষ্ট হবে—এই বিবেচনায় এতটুকুতেই ক্ষান্তি দিয়েছেন; অতঃপর হামদ-সানা ও দরূদ-সালাম পাঠের মাধ্যমে মজলিসের সমাপ্তি টেনেছেন。
টিকাঃ
[১] সূরা নাহল, আয়াত-ক্রম: ৯০
[২] সূরা নিসা, আয়াত-ক্রম: ৫৮
[৩] সূরা ইয়াসীন, আয়াত-ক্রম: ৮২
[৪] সূরা ইসরা, আয়াত-ক্রম: ১৬
[১] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ১৮৫
[২] সূরা নিসা, আয়াত-ক্রম: ২৬
[৩] সূরা মায়িদা, আয়াত-ক্রম : ০৬
[৪] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ২৫৩
[১] সূরা আনআম, আয়াত-ক্রম: ১২৫
[২] সূরা হুদ, আয়াত-ক্রম: ৩৪
[৩] সূরা হাশর, আয়াত-ক্রম: ০৫
[৪] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ১০২
[৫] সূরা ইসরা, আয়াত-ক্রম: ২৩
[১] সূরা ফুসসিলাত, আয়াত-ক্রম: ১২
[২] সূরা মায়িদা, আয়াত-ক্রম: ০১
[৩] সূরা মুমতাহিনাহ, আয়াত-ক্রম: ১০
[৪] সূরা ইউসুফ, আয়াত-ক্রম: ৮০
[৫] সূরা আম্বিয়া, আয়াত-ক্রম: ১১২
[১] সূরা মায়িদা, আয়াত-ক্রম : ০৩
[২] সূরা নিসা, আয়াত-ক্রম: ২৩
[৩] সূরা মায়িদা, আয়াত-ক্রম: ২৬
[৪] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ১২৪
[৫] সূরা আরাফ, আয়াত-ক্রম: ১৩৭
[১] মুআত্তা মালেকে ইয়াহয়া ইবনু সায়িদের সূত্রে মুরসাল সনদে হাদিসে আনা হয়েছে ২/৯৫০-৯৫১
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ২৫৪২; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৩৪৩
[২] মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৩৪৪৮, জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু'র বর্ণনা থেকে。