📄 অসৎকর্ম বর্জন আর সৎকর্ম সম্পাদনই আত্মার পরিশুদ্ধি
'আল্লাহ তাআলা বলেন- قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّنَهَا | “সে-ই তো সফল হয়ে গেছে, যে (নিজের) আত্মা পরিশুদ্ধ করেছে।”[১]
قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ | “যে পরিশুদ্ধি অর্জন করেছে, সে–ই লাভ করেছে সাফল্য।”[২]
'কাতাদা, সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা-সহ অনেকে প্রথম আয়াতের তাফসিরে বলেন, সে সফল হয়েছে, যে নিজের নফস (আত্মা) পরিশুদ্ধ করেছে আল্লাহর আনুগত্য ও সৎকর্মের মাধ্যমে।
'আর ইমাম ফাররা ও যাজ্জাজ দ্বিতীয় আয়াতের তাফসিরে বলেন, সেই নফস সাফল্য লাভ করেছে, আল্লাহ যাকে পরিশুদ্ধি নসিব করেছেন; অপরদিকে ব্যর্থ হয়েছে সেই নফস, যাকে আল্লাহ ভ্রান্তির দিকে নিয়ে গেছেন। এই দ্বিতীয় তাফসিরটি ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণনা করেছে ওয়ালবি; কিন্তু তাঁর সনদটি 'বিচ্ছিন্ন'। উপরন্তু, এটা আয়াতের উদ্দেশ্যও নয়; বরং শব্দ ও অর্থগত দিক বিবেচনায় নিশ্চিতভাবে বলা যায়, প্রথমোক্ত তাফসিরই আয়াতের উদ্দেশ্য。
'এখন শব্দগত বিবেচনা দেখুন- مَنْ زَكَّاهَا'র মধ্যে 'مَنْ' হলো ইসমুল মাওসুল, বাক্যের পরবর্তী অংশে এর প্রতি নির্দেশক কোনো 'যমীর' থাকতে হবে (সেই যমীর আছে ۸;'র মধ্যেই। তার মানে হলো, সাফল্য পেয়েছে সে, যে পরিশুদ্ধ করেছে। এখন আল্লাহকে পরিশুদ্ধকারী বলে তাফসির করলে এর ফল দাঁড়াবে-তিনি পরিশুদ্ধ করেছেন বলে সফল! অথচ কাউকে পরিশুদ্ধ না করলেও তিনি ব্যর্থ নন)। এরপর আসুন দ্বিতীয় কথায়। র্টং-এর মূল অর্থ হলো, ভালো ও কল্যাণ বৃদ্ধি পাওয়া। এজন্য ফসল ও সম্পদ বৃদ্ধি পেলে বলা হয় 'زکا الزرع و زكا المال'। আর, মন্দ ও অকল্যাণ বর্জন ব্যতীত তো ভালো ও কল্যাণের বৃদ্ধিপ্রাপ্তি ঘটতে পারে না। আমরা সর্বদাই দেখি, আগাছা সাফ না হলে ফসল ভালো হয় না, বৃদ্ধি পায় না। সুতরাং বুঝতে হবে, নফসের পরিশুদ্ধি আর কল্যাণবৃদ্ধিও হবে তখন, যখন তা সম্পূর্ণরূপে সাফ হবে পরিশুদ্ধি-বিরোধী সবকিছু থেকে; এবং সবরকম মন্দ বিষয় বর্জন করলেই কেবল কোনো ব্যক্তি পরিশুদ্ধ বলে বিবেচিত হতে পারে। কারণ, এই মন্দ ব্যাপারই নফসকে অপরিচ্ছন্ন ও বিভ্রান্ত করে。
'কুরআনের আয়াত (وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا )ব্যর্থ হয়েছে সে, যে নফসকে “তাদসিয়া” করেছে)। এর ব্যাখ্যায় ইমাম যাজ্জাজ বলেন- “অর্থাৎ আত্মাকে যে লাঞ্ছিত, অপমানিত ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে।” ইমাম ফাররা বলেন- “তাদসিয়া করেছে-এর মানে হলো, আচ্ছাদিত ও অবনমিত করেছে; কারণ, কৃপণ লোক নিজের সত্তা, সম্পদ ও সম্মান আচ্ছাদিত করে ফেলে।” ইবনু কুতাইবা বলেন-“এখানে আচ্ছাদিত করে ফেলেছে-মানে, পাপ ও গোনাহর দ্বারা ঢেকে ফেলেছে।” মোটকথা, পাপাচারী নিজের আত্মাকে "তাদসিয়া” করে; অবদমিত ও শেকড়-ছিন্ন করে; পক্ষান্তরে, সৎকর্ম যে করে, সে নিজের হৃদয়কে করে তোলে সুবিখ্যাত ও সমুন্নত。
'আরবে অভিজাত ব্যক্তিদেরকে উঁচু টিলার সঙ্গে তুলনা করা হয়, যেহেতু তারা নিজেদেরকে সমুন্নত ও সুবিখ্যাত করেছে; বিপরীতে, ইতরশ্রেণির লোকদের তুলনা হয় উপত্যকা ও প্রান্তসীমার সঙ্গে।
'সৎকর্ম ও তাকওয়া মানুষের হৃদয় প্রশস্ত করে, বক্ষ উন্মোচিত করে; ফলে, ব্যক্তি নিজের মধ্যে আগের চেয়ে অন্যরকম প্রফুল্লতা ও প্রশস্ততা অনুভব করে। কারণ, বান্দা তাকওয়া, সৎকর্ম ও ইহসানের মাধ্যমে প্রশস্ততা অর্জন করতে চাইলে আল্লাহ তাআলা তাকে প্রফুল্লতা দান করেন এবং তার বক্ষ উন্মোচিত করেন। পক্ষান্তরে, পাপাচার ও কার্পণ্য বান্দার হৃদয়কে লাঞ্ছিত অপমানিত ও বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সারাক্ষণ এক সংকীর্ণ হৃদয়ের বোধই হতে থাকে তার ভেতর। একটি সহিহ হাদিসে এই ব্যাপারটিই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝিয়ে দিয়েছেন চমৎকারভাবে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন
ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عليه وسلَّمَ: مَثَلَ البَخِيلِ والمُتَصَدِّقِ ، كَمَثَلِ رَجُلَيْنِ عليهما جُبَّتَانِ مِن حَدِيدٍ ، قَدِ اضْطَرَّتْ أَيْدِيهِما إلى ثديهما وتراقيهما ، فَجَعَلَ المُتَصَدِّقُ كُلَّما تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ الْبَسَطَتْ عنه ، حتى تَغْشَى أَنامِلَهُ وتَعْفُوَ أَثَرَهُ ، وَجَعَلَ البَخِيلُ كُلَّمَا هَمَّ بِصَدَقَةٍ قَلَصَتْ وأَخَذَتْ كُلُّ حَلْقَةٍ بِمَكانِها قَالَ أَبو هُرَيْرَةَ: فَأَنَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وسلَّمَ يقولُ بإصْبَعِهِ هَكَذا في جَيْبِهِ ، فَلَوْ رَأَيْتَهُ يُوَسِعُها ولا تَتَوَسَّعُ
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তিকে এমন দুব্যক্তির সাথে তুলনা করেন, যাদের পরনে লোহার দুটি বর্ম আছে। তাদের দু'হাতই বুক ও ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছে আছে। দানশীল ব্যক্তি যখন দান করে তখন তার বর্মটি এমনভাবে প্রশস্ত হয় যে, তার পায়ের আঙুলের মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলে এবং (প্রলম্বিত বর্মটি) পদচিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ লোক যখন দান করতে ইচ্ছে করে, তখন তার বর্মটি শক্ত হয়ে যায়, এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিশে থাকে এবং প্রতিটি অংশ আপন স্থানে থেকে যায়।” আবু হুরায়রা বলেন, "আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর আঙুল এভাবে বুকের দিক দিয়ে খোলা অংশের মধ্যে রেখে বলছেন, তুমি যদি তা দেখতে! তিনি তা প্রশস্ত করতে চাইলেন কিন্তু প্রশস্ত হলো না।"[১]
'নিজের সম্মান ও মর্যাদা প্রকাশ বা গোপন করাটাও মূলত হৃদয়ের ওই প্রশস্ততা ও সংকীর্ণতার ফল। কুরআনে আল্লাহ যেমন বলেছেন-
يَتَوَرَىٰ مِنَ الْقَوْمِ مِن سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ ج
"তাকে শোনানো (কন্যসন্তান জন্মের) সুসংবাদের দুঃখে, লোকজন থেকে সে মুখ লুকিয়ে রাখে!”[২]
'যেই আত্মা সংকীর্ণ ও পাপে পূর্ণ, সেই আত্মার মানুষটা নিজের কাছেই নিজেকে কলুষিত ও অপমানিত করে ফেলেছে। ফলে, মৃত্যুর সময় এমন আত্মা দেহ ত্যাগ করতে গেলে ভেজা চামড়া থেকে শিক বের করার মতো কঠিন অবস্থা তৈরি হয়। কিন্তু পরিশুদ্ধ করার ফলে যেই আত্মা সৎ, স্বচ্ছ ও মুত্তাকি হয়ে উন্নত, মহিমান্বিত ও সুপ্রশস্ত হয়েছে এবং আভিজাত্যের চূড়ায় সমাসীন হয়েছে, সেই আত্মা মৃত্যুর সময় দেহ ত্যাগ করে মশক থেকে পানি ঝরার মতো কিংবা আটার খামির থেকে চুল বের হওয়ার মতো-খুব সহজ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে。
'ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- “সৎকর্মের ফলে হৃদয়ে একটা আলো জ্বলে ওঠে, মুখমণ্ডলে উজ্জ্বল দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে, দেহে অনুভূত হয় অন্যরকম শক্তি, সাথে রিজিকে প্রশস্তি আসে, আর সৎকর্মের মানুষটির প্রতি সৃষ্টিকুলের অন্তরজগতে তৈরি হয় এক অপূর্ব ভালোবাসা। অপরদিকে, পাপ ও অসৎ কর্মের ফলে মনের মধ্যে আঁধার ছেয়ে যায়, মুখমণ্ডল যেন কুৎসিত রূপ ধারণ করে, শরীরে সর্বদাই অনুভূত হয় ক্লান্তি-অবসাদ, রিজিক সংকুচিত হয়ে আসে, আর, জগদ্বাসীর মনে সেই মানুষটার প্রতি জাগে ঘৃণা-ক্ষোভ।”
'দেখুন, আল্লাহ তাআলা কৃপণ ও দানশীলের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেছেন- (আর, উৎকৃষ্ট শহরের ফসল তো তার রবের ইচ্ছায়ই-অধিক পরিমাণে-উৎপন্ন হয়; আর, নিকৃষ্ট শহরে খুব সামান্য ফসলই উৎপন্ন হয়)। [১]
'আবার বলেছেন-
من يرد الله أن يهديه يشرح صدره
“আল্লাহ যাকে হিদায়াত করতে চান, তার বক্ষ সম্প্রসারিত করে দেন'।[২]
'অন্যত্র বলেছেন-
الله ولي المؤمنين
| “আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক।”[৩]
'ব্যভিচারের অপবাদ যে দেয় বা যে চায় মুমিনদের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ুক, আর অজানা বিষয়ে যে কথা বলে-এমন লোকদের ব্যাপারে সমালোচনা করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন-
ولو لا فضل الله عليكم ورحمته ما زكى منكم من أحد أبدا
"তোমাদের প্রতি আল্লাহর রহম ও করুণা না হলে (অর্থাৎ, তোমরা ব্যভিচার বর্জন না করতে পারলে) তোমাদের কেউ কখনোই পরিশুদ্ধি লাভ করত না।”[১]
'এখানে বুঝিয়েছেন, ব্যভিচার বর্জন করা ব্যতীত পরিশুদ্ধি লাভ করা যায় না। এজন্যই অন্যত্র বলেছেন-
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ | “আপনি মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন দৃষ্টি অবনত রাখে।”[২]
'কারণ, গুনাহ বর্জন করাটা অন্তরেরই একটি কাজ; অন্তর তো জানে, পাপকর্মে লিপ্ত হওয়াটা অপছন্দনীয় ও নিন্দনীয়। তাই, বান্দা কুরআনকে সত্যায়ন করলে এবং রাসূলের সুন্নাহর প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাসী হলে নফসের পাপাচার ও অনৈতিক ইচ্ছার ক্ষেত্রে মুজাহাদা করবে, এবং সেই পাপ ও অনৈতিক কর্ম থেকে বিরত থাকবে। আর, এই সত্যায়ন, বিশ্বাস, অপছন্দনীয়তা ও মুজাহাদার কিছু আমল আছে, যেগুলো সঠিকভাবে সম্পাদন করে পরিশুদ্ধ অন্তর। ফলে, তা আরও পরিশুদ্ধি লাভ করে। বিপরীতে, পাপ ও গুনাহের কাজ করলে অন্তর কলুষিত ও ময়লাযুক্ত হয়ে যায় এবং পরিণামে আগাছা ভরা ফসলি জমির মতো বিনষ্ট ও অধঃপতিত হয়。
'আরেকটি জরুরি প্রসঙ্গ-
১৬; তথা পরিশুদ্ধির আবশ্যিক একটি ফল হলো পবিত্রতা; কারণ, চার্চ; অর্থও পবিত্রতা। কুরআন বলছে-
خذ من أموالهم صدقة تطهرهم وتزكيهم "তাদের সম্পদ থেকে সাদাকাহ গ্রহণ করুন, যা তাদেরকে (অকল্যাণ থেকে) পবিত্র ও (কল্যাণের মাধ্যমে) পরিশুদ্ধ করবে।”[৩]
'নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে কেরাত শুরুর আগে, রুকু থেকে ওঠার পর এবং গোসলের সময় দুআ করতেন-
اللهم طهرني بالماء والبرد والثلج | "আল্লাহ, আমাকে পানি, শিলা ও বরফ দ্বারা পবিত্র করুন।”[১]
'এই জিনিসগুলোর কথা একত্রে বিবৃত হওয়ায়, বোঝা যাচ্ছে, এগুলো ঠাণ্ডা হবে। এ ছাড়াও, বরফ তো শরীরে শক্তি ও আলাদা দৃঢ়তা সৃষ্টি করে। দেখুন, আনন্দদায়ক বস্তুকে বরফ ও চোখের শীতলতা বলে ব্যক্ত করা হয়। এজন্যই তো আনন্দের অশ্রু শীতল; আর, বেদনার অশ্রু উষ্ণ। কারণ, হৃদয়ে যা ব্যথা দেয়, তা পেরেশানি ও অস্থিরতা তৈরি করে; পক্ষান্তরে, হৃদয়ে যা আনন্দ দেয়, তা সুখ ও প্রশান্তি সৃষ্টি করে; আর, এতেই ব্যক্তির ভেতর জগত শান্ত-শীতল হয়ে যায়। তাই তো নবীজি দুআ করেছেন, গুনাহসমূহ যেন সবচেয়ে বেশি শীতলতা দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়, যেই শীতলতায় আছে সুখ ও প্রশান্তি। ফলে, সেই সুখ ও প্রশান্তিতে দূর হয়ে যাবে হৃদয়ে দুঃখ জাগানিয়া যত গোনাহ ও পাপকর্ম。
'নবীজি বরফ, শিলা ও ঠাণ্ডা পানির কথা বলেছেন মূলত হৃদয়ের শীতলতাকে বাহ্যিক শীতলতার সঙ্গে উপমা দিয়ে; নইলে গোনাহ তো আর এসব দিয়ে ধোয়া যায় না। কিন্তু এরকম ব্যবহার আমাদের নিত্যদিনের কথাবার্তায় প্রচুর। যেমন-আমরা বলি- "আপনার ক্ষমার শীতলতা ও মাগফিরাতের মিষ্টতা আমরা অনুভব করেছি।” একবার আবু কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু পাওনাদারকে তার প্রাপ্য পরিশোধ করে দেওয়ার পর নবীজি বললেন- الآن بردت جلدته "এখন তুমি তার দেহ (মন) শীতল করেছ।” [২] আবার, বলা হয়-"সুনিশ্চিত বিশ্বাসের শীতলতা, আর সংশয়ের উষ্ণতা।” যখন হৃদয় কোনো একটা সঠিক বিষয় অনুধাবন করে তাতে আনন্দ লাভ করে, এবং একপর্যায়ে সেই আনন্দ বরফ-শীতলতার মতো হয়ে যায়, তখন বলা হয়- “এই বিষয়টি তার বুক শীতল করে দেবে।”
'নফসের রোগ-ব্যাধি তো তিন প্রকার-সংশয়-সন্দেহ, প্রবৃত্তির কামনা আর রাগ-ক্ষোভ। এই তিনটির প্রত্যেকটিতেই একধরনের উত্তাপ-উত্তেজনা আছে。
এজন্যই নফসকে পবিত্র করার ক্ষেত্রে নবীজি বরফ-শিলা ও ঠাণ্ডা পানির কথা বলেছেন। কেউ তার উদ্দিষ্ট বস্তু পেয়ে গেলে বলা হয় তার অন্তর ঠাণ্ডা হয়ে গেছে; কারণ, খোঁজাখুঁজি ও অনুসন্ধানের অস্থিরতা জনিত একটা উত্তাপ আছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
وَءَاخَرُونَ اعْتَرَفُوا بِذُنُوبِهِمْ | "আর কতক আছে, যারা নিজেদের গুনাহের কথা স্বীকার করে..." [১]
'এরপর আল্লাহ তাআলা বলছেন-
خُذْ مِنْ أَمْوَلِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ | "আপনি গ্রহণ করুন তাদের সম্পদ থেকে এমন সাদাকাহ, যা তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে।”[২]
'এ থেকে বোঝা যায়, সৎকর্ম ও তার মাধ্যমে নফস তার কৃত গুনাহ থেকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হয়। উপর্যুক্ত বক্তব্যের পাশাপাশি আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَرِهِمْ | "আপনি মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন চক্ষু অবনত রাখে...।”[৩]
'এখানেও একটি সৎকর্মের কথা বলে অন্তরের পরিশুদ্ধির ক্ষেত্রে তাওবা ও সৎকর্মের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর আল্লাহ তাআলার বক্তব্য এসেছে-
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا | "তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তওবা করো।” [৪]
'পুরো আলোচনার শেষে এসে সবাইকে তাওবা করার কথা বলা হয়েছে; কারণ, সবারই তো কিছু না কিছু গুনাহ হয়ে যায়; কেউই এ থেকে বাঁচতে পারে না。
সহিহ হাদিসে এসেছে- "আল্লাহ তাআলা আদম সন্তানের তাকদিরে তার অংশের গুনাহ লিখে দিয়েছেন।" [১]
'এমনিভাবে সহিহ বর্ণনায় এসেছে-এক ব্যক্তি এক মহিলার সঙ্গে একান্তে মিলিত হয়ে সঙ্গম ব্যতীত আর সব করেছে, এরপর সে অনুতপ্ত হয়েছে, তখন কুরআনের আয়াত নাজিল হয়েছে-
إِنَّ الْحَسَنَتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّاتِ | “নিশ্চয়ই সৎকর্মসমূহ মুছে দেয় অসৎকর্মসমূহকে।”[২]
টিকাঃ
[১] সূরা শামস; আয়াত-ক্রম : ০৯
[২] সূরা আ'লা; আয়াত-ক্রম: ১৪
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৫৭৯৭
[২] সূরা নাহল; আয়াত-ক্রম: ৫৯
[১] সূরা আ'রাফ; আয়াত-ক্রম: ৫৮
[২] সূরা আন'আম; আয়াত-ক্রম: ১২৫
[৩] সূরা বাকারা; আয়াত-ক্রম: ২৫৭
[১] সূরা নুর; আয়াত-ক্রম: ২১
[২] সূরা নূর, আয়াত-ক্রম: ৩০
[৩] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ১০৩
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৭৪৪; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৯৫৬ শব্দের কিছুটা তারতম্য আছে。
[২] মুসনাদু আহমাদ ৩/৩৩০ এর সনদে ইবনু আকীল নামে একজন আছে; যার ব্যাপারে ইমামদের মতবিরোধ আছে; এ ছাড়া বিস্তারিত দেখুন: তাখরিজু মুসনাদি আহমাদ, শুয়াইব আরনাউত, হাদিস-ক্রম: ১৪৫৭৯।
[১] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ১০২
[২] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ১০৩
[৩] সূরা নূর, আয়াত-ক্রম: ৩০
[৪] সূরা নূর, আয়াত-ক্রম: ৩১
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৬২৪৩; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ২৬৫৭; আবু দাউদ, হাদিস-ক্রম: ২১৫২; জামিউল উসুল ২/৩৭১
[২] সূরা হুদ, আয়াত-ক্রম: ১১৪
'আল্লাহ তাআলা বলেন- قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّنَهَا | “সে-ই তো সফল হয়ে গেছে, যে (নিজের) আত্মা পরিশুদ্ধ করেছে।”[১]
قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ | “যে পরিশুদ্ধি অর্জন করেছে, সে–ই লাভ করেছে সাফল্য।”[২]
'কাতাদা, সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা-সহ অনেকে প্রথম আয়াতের তাফসিরে বলেন, সে সফল হয়েছে, যে নিজের নফস (আত্মা) পরিশুদ্ধ করেছে আল্লাহর আনুগত্য ও সৎকর্মের মাধ্যমে।
'আর ইমাম ফাররা ও যাজ্জাজ দ্বিতীয় আয়াতের তাফসিরে বলেন, সেই নফস সাফল্য লাভ করেছে, আল্লাহ যাকে পরিশুদ্ধি নসিব করেছেন; অপরদিকে ব্যর্থ হয়েছে সেই নফস, যাকে আল্লাহ ভ্রান্তির দিকে নিয়ে গেছেন। এই দ্বিতীয় তাফসিরটি ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণনা করেছে ওয়ালবি; কিন্তু তাঁর সনদটি 'বিচ্ছিন্ন'। উপরন্তু, এটা আয়াতের উদ্দেশ্যও নয়; বরং শব্দ ও অর্থগত দিক বিবেচনায় নিশ্চিতভাবে বলা যায়, প্রথমোক্ত তাফসিরই আয়াতের উদ্দেশ্য。
'এখন শব্দগত বিবেচনা দেখুন- مَنْ زَكَّاهَا'র মধ্যে 'مَنْ' হলো ইসমুল মাওসুল, বাক্যের পরবর্তী অংশে এর প্রতি নির্দেশক কোনো 'যমীর' থাকতে হবে (সেই যমীর আছে ۸;'র মধ্যেই। তার মানে হলো, সাফল্য পেয়েছে সে, যে পরিশুদ্ধ করেছে। এখন আল্লাহকে পরিশুদ্ধকারী বলে তাফসির করলে এর ফল দাঁড়াবে-তিনি পরিশুদ্ধ করেছেন বলে সফল! অথচ কাউকে পরিশুদ্ধ না করলেও তিনি ব্যর্থ নন)। এরপর আসুন দ্বিতীয় কথায়। র্টং-এর মূল অর্থ হলো, ভালো ও কল্যাণ বৃদ্ধি পাওয়া। এজন্য ফসল ও সম্পদ বৃদ্ধি পেলে বলা হয় 'زکا الزرع و زكا المال'। আর, মন্দ ও অকল্যাণ বর্জন ব্যতীত তো ভালো ও কল্যাণের বৃদ্ধিপ্রাপ্তি ঘটতে পারে না। আমরা সর্বদাই দেখি, আগাছা সাফ না হলে ফসল ভালো হয় না, বৃদ্ধি পায় না। সুতরাং বুঝতে হবে, নফসের পরিশুদ্ধি আর কল্যাণবৃদ্ধিও হবে তখন, যখন তা সম্পূর্ণরূপে সাফ হবে পরিশুদ্ধি-বিরোধী সবকিছু থেকে; এবং সবরকম মন্দ বিষয় বর্জন করলেই কেবল কোনো ব্যক্তি পরিশুদ্ধ বলে বিবেচিত হতে পারে। কারণ, এই মন্দ ব্যাপারই নফসকে অপরিচ্ছন্ন ও বিভ্রান্ত করে。
'কুরআনের আয়াত (وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا )ব্যর্থ হয়েছে সে, যে নফসকে “তাদসিয়া” করেছে)। এর ব্যাখ্যায় ইমাম যাজ্জাজ বলেন- “অর্থাৎ আত্মাকে যে লাঞ্ছিত, অপমানিত ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে।” ইমাম ফাররা বলেন- “তাদসিয়া করেছে-এর মানে হলো, আচ্ছাদিত ও অবনমিত করেছে; কারণ, কৃপণ লোক নিজের সত্তা, সম্পদ ও সম্মান আচ্ছাদিত করে ফেলে।” ইবনু কুতাইবা বলেন-“এখানে আচ্ছাদিত করে ফেলেছে-মানে, পাপ ও গোনাহর দ্বারা ঢেকে ফেলেছে।” মোটকথা, পাপাচারী নিজের আত্মাকে "তাদসিয়া” করে; অবদমিত ও শেকড়-ছিন্ন করে; পক্ষান্তরে, সৎকর্ম যে করে, সে নিজের হৃদয়কে করে তোলে সুবিখ্যাত ও সমুন্নত。
'আরবে অভিজাত ব্যক্তিদেরকে উঁচু টিলার সঙ্গে তুলনা করা হয়, যেহেতু তারা নিজেদেরকে সমুন্নত ও সুবিখ্যাত করেছে; বিপরীতে, ইতরশ্রেণির লোকদের তুলনা হয় উপত্যকা ও প্রান্তসীমার সঙ্গে。
'সৎকর্ম ও তাকওয়া মানুষের হৃদয় প্রশস্ত করে, বক্ষ উন্মোচিত করে; ফলে, ব্যক্তি নিজের মধ্যে আগের চেয়ে অন্যরকম প্রফুল্লতা ও প্রশস্ততা অনুভব করে। কারণ, বান্দা তাকওয়া, সৎকর্ম ও ইহসানের মাধ্যমে প্রশস্ততা অর্জন করতে চাইলে আল্লাহ তাআলা তাকে প্রফুল্লতা দান করেন এবং তার বক্ষ উন্মোচিত করেন। পক্ষান্তরে, পাপাচার ও কার্পণ্য বান্দার হৃদয়কে লাঞ্ছিত অপমানিত ও বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সারাক্ষণ এক সংকীর্ণ হৃদয়ের বোধই হতে থাকে তার ভেতর। একটি সহিহ হাদিসে এই ব্যাপারটিই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝিয়ে দিয়েছেন চমৎকারভাবে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন
ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عليه وسلَّمَ: مَثَلَ البَخِيلِ والمُتَصَدِّقِ ، كَمَثَلِ رَجُلَيْنِ عليهما جُبَّتَانِ مِن حَدِيدٍ ، قَدِ اضْطَرَّتْ أَيْدِيهِما إلى ثديهما وتراقيهما ، فَجَعَلَ المُتَصَدِّقُ كُلَّما تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ الْبَسَطَتْ عنه ، حتى تَغْشَى أَنامِلَهُ وتَعْفُوَ أَثَرَهُ ، وَجَعَلَ البَخِيلُ كُلَّمَا هَمَّ بِصَدَقَةٍ قَلَصَتْ وأَخَذَتْ كُلُّ حَلْقَةٍ بِمَكانِها قَالَ أَبو هُرَيْرَةَ: فَأَنَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وسلَّمَ يقولُ بإصْبَعِهِ هَكَذا في جَيْبِهِ ، فَلَوْ رَأَيْتَهُ يُوَسِعُها ولا تَتَوَسَّعُ
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তিকে এমন দুব্যক্তির সাথে তুলনা করেন, যাদের পরনে লোহার দুটি বর্ম আছে। তাদের দু'হাতই বুক ও ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছে আছে। দানশীল ব্যক্তি যখন দান করে তখন তার বর্মটি এমনভাবে প্রশস্ত হয় যে, তার পায়ের আঙুলের মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলে এবং (প্রলম্বিত বর্মটি) পদচিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ লোক যখন দান করতে ইচ্ছে করে, তখন তার বর্মটি শক্ত হয়ে যায়, এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিশে থাকে এবং প্রতিটি অংশ আপন স্থানে থেকে যায়।” আবু হুরায়রা বলেন, "আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর আঙুল এভাবে বুকের দিক দিয়ে খোলা অংশের মধ্যে রেখে বলছেন, তুমি যদি তা দেখতে! তিনি তা প্রশস্ত করতে চাইলেন কিন্তু প্রশস্ত হলো না।"[১]
'নিজের সম্মান ও মর্যাদা প্রকাশ বা গোপন করাটাও মূলত হৃদয়ের ওই প্রশস্ততা ও সংকীর্ণতার ফল। কুরআনে আল্লাহ যেমন বলেছেন-
يَتَوَرَىٰ مِنَ الْقَوْمِ مِن سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ ج
"তাকে শোনানো (কন্যসন্তান জন্মের) সুসংবাদের দুঃখে, লোকজন থেকে সে মুখ লুকিয়ে রাখে!”[২]
'যেই আত্মা সংকীর্ণ ও পাপে পূর্ণ, সেই আত্মার মানুষটা নিজের কাছেই নিজেকে কলুষিত ও অপমানিত করে ফেলেছে। ফলে, মৃত্যুর সময় এমন আত্মা দেহ ত্যাগ করতে গেলে ভেজা চামড়া থেকে শিক বের করার মতো কঠিন অবস্থা তৈরি হয়। কিন্তু পরিশুদ্ধ করার ফলে যেই আত্মা সৎ, স্বচ্ছ ও মুত্তাকি হয়ে উন্নত, মহিমান্বিত ও সুপ্রশস্ত হয়েছে এবং আভিজাত্যের চূড়ায় সমাসীন হয়েছে, সেই আত্মা মৃত্যুর সময় দেহ ত্যাগ করে মশক থেকে পানি ঝরার মতো কিংবা আটার খামির থেকে চুল বের হওয়ার মতো-খুব সহজ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে。
'ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- “সৎকর্মের ফলে হৃদয়ে একটা আলো জ্বলে ওঠে, মুখমণ্ডলে উজ্জ্বল দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে, দেহে অনুভূত হয় অন্যরকম শক্তি, সাথে রিজিকে প্রশস্তি আসে, আর সৎকর্মের মানুষটির প্রতি সৃষ্টিকুলের অন্তরজগতে তৈরি হয় এক অপূর্ব ভালোবাসা। অপরদিকে, পাপ ও অসৎ কর্মের ফলে মনের মধ্যে আঁধার ছেয়ে যায়, মুখমণ্ডল যেন কুৎসিত রূপ ধারণ করে, শরীরে সর্বদাই অনুভূত হয় ক্লান্তি-অবসাদ, রিজিক সংকুচিত হয়ে আসে, আর, জগদ্বাসীর মনে সেই মানুষটার প্রতি জাগে ঘৃণা-ক্ষোভ।”
'দেখুন, আল্লাহ তাআলা কৃপণ ও দানশীলের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেছেন- (আর, উৎকৃষ্ট শহরের ফসল তো তার রবের ইচ্ছায়ই-অধিক পরিমাণে-উৎপন্ন হয়; আর, নিকৃষ্ট শহরে খুব সামান্য ফসলই উৎপন্ন হয়)। [১]
'আবার বলেছেন-
من يرد الله أن يهديه يشرح صدره
“আল্লাহ যাকে হিদায়াত করতে চান, তার বক্ষ সম্প্রসারিত করে দেন'।[২]
'অন্যত্র বলেছেন-
الله ولي المؤمنين
| “আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক।”[৩]
'ব্যভিচারের অপবাদ যে দেয় বা যে চায় মুমিনদের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ুক, আর অজানা বিষয়ে যে কথা বলে-এমন লোকদের ব্যাপারে সমালোচনা করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন-
ولو لا فضل الله عليكم ورحمته ما زكى منكم من أحد أبدا
"তোমাদের প্রতি আল্লাহর রহম ও করুণা না হলে (অর্থাৎ, তোমরা ব্যভিচার বর্জন না করতে পারলে) তোমাদের কেউ কখনোই পরিশুদ্ধি লাভ করত না।”[১]
'এখানে বুঝিয়েছেন, ব্যভিচার বর্জন করা ব্যতীত পরিশুদ্ধি লাভ করা যায় না। এজন্যই অন্যত্র বলেছেন-
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ | “আপনি মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন দৃষ্টি অবনত রাখে।”[২]
'কারণ, গুনাহ বর্জন করাটা অন্তরেরই একটি কাজ; অন্তর তো জানে, পাপকর্মে লিপ্ত হওয়াটা অপছন্দনীয় ও নিন্দনীয়। তাই, বান্দা কুরআনকে সত্যায়ন করলে এবং রাসূলের সুন্নাহর প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাসী হলে নফসের পাপাচার ও অনৈতিক ইচ্ছার ক্ষেত্রে মুজাহাদা করবে, এবং সেই পাপ ও অনৈতিক কর্ম থেকে বিরত থাকবে। আর, এই সত্যায়ন, বিশ্বাস, অপছন্দনীয়তা ও মুজাহাদার কিছু আমল আছে, যেগুলো সঠিকভাবে সম্পাদন করে পরিশুদ্ধ অন্তর। ফলে, তা আরও পরিশুদ্ধি লাভ করে। বিপরীতে, পাপ ও গুনাহের কাজ করলে অন্তর কলুষিত ও ময়লাযুক্ত হয়ে যায় এবং পরিণামে আগাছা ভরা ফসলি জমির মতো বিনষ্ট ও অধঃপতিত হয়。
'আরেকটি জরুরি প্রসঙ্গ-
১৬; তথা পরিশুদ্ধির আবশ্যিক একটি ফল হলো পবিত্রতা; কারণ, চার্চ; অর্থও পবিত্রতা। কুরআন বলছে-
خذ من أموالهم صدقة تطهرهم وتزكيهم "তাদের সম্পদ থেকে সাদাকাহ গ্রহণ করুন, যা তাদেরকে (অকল্যাণ থেকে) পবিত্র ও (কল্যাণের মাধ্যমে) পরিশুদ্ধ করবে।”[৩]
'নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে কেরাত শুরুর আগে, রুকু থেকে ওঠার পর এবং গোসলের সময় দুআ করতেন-
اللهم طهرني بالماء والبرد والثلج | "আল্লাহ, আমাকে পানি, শিলা ও বরফ দ্বারা পবিত্র করুন।”[১]
'এই জিনিসগুলোর কথা একত্রে বিবৃত হওয়ায়, বোঝা যাচ্ছে, এগুলো ঠাণ্ডা হবে। এ ছাড়াও, বরফ তো শরীরে শক্তি ও আলাদা দৃঢ়তা সৃষ্টি করে। দেখুন, আনন্দদায়ক বস্তুকে বরফ ও চোখের শীতলতা বলে ব্যক্ত করা হয়। এজন্যই তো আনন্দের অশ্রু শীতল; আর, বেদনার অশ্রু উষ্ণ। কারণ, হৃদয়ে যা ব্যথা দেয়, তা পেরেশানি ও অস্থিরতা তৈরি করে; পক্ষান্তরে, হৃদয়ে যা আনন্দ দেয়, তা সুখ ও প্রশান্তি সৃষ্টি করে; আর, এতেই ব্যক্তির ভেতর জগত শান্ত-শীতল হয়ে যায়। তাই তো নবীজি দুআ করেছেন, গুনাহসমূহ যেন সবচেয়ে বেশি শীতলতা দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়, যেই শীতলতায় আছে সুখ ও প্রশান্তি। ফলে, সেই সুখ ও প্রশান্তিতে দূর হয়ে যাবে হৃদয়ে দুঃখ জাগানিয়া যত গোনাহ ও পাপকর্ম。
'নবীজি বরফ, শিলা ও ঠাণ্ডা পানির কথা বলেছেন মূলত হৃদয়ের শীতলতাকে বাহ্যিক শীতলতার সঙ্গে উপমা দিয়ে; নইলে গোনাহ তো আর এসব দিয়ে ধোয়া যায় না। কিন্তু এরকম ব্যবহার আমাদের নিত্যদিনের কথাবার্তায় প্রচুর। যেমন-আমরা বলি- "আপনার ক্ষমার শীতলতা ও মাগফিরাতের মিষ্টতা আমরা অনুভব করেছি।” একবার আবু কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু পাওনাদারকে তার প্রাপ্য পরিশোধ করে দেওয়ার পর নবীজি বললেন- الآن بردت جلدته "এখন তুমি তার দেহ (মন) শীতল করেছ।” [২] আবার, বলা হয়-"সুনিশ্চিত বিশ্বাসের শীতলতা, আর সংশয়ের উষ্ণতা।” যখন হৃদয় কোনো একটা সঠিক বিষয় অনুধাবন করে তাতে আনন্দ লাভ করে, এবং একপর্যায়ে সেই আনন্দ বরফ-শীতলতার মতো হয়ে যায়, তখন বলা হয়- “এই বিষয়টি তার বুক শীতল করে দেবে।”
'নফসের রোগ-ব্যাধি তো তিন প্রকার-সংশয়-সন্দেহ, প্রবৃত্তির কামনা আর রাগ-ক্ষোভ। এই তিনটির প্রত্যেকটিতেই একধরনের উত্তাপ-উত্তেজনা আছে。
এজন্যই নফসকে পবিত্র করার ক্ষেত্রে নবীজি বরফ-শিলা ও ঠাণ্ডা পানির কথা বলেছেন। কেউ তার উদ্দিষ্ট বস্তু পেয়ে গেলে বলা হয় তার অন্তর ঠাণ্ডা হয়ে গেছে; কারণ, খোঁজাখুঁজি ও অনুসন্ধানের অস্থিরতা জনিত একটা উত্তাপ আছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
وَءَاخَرُونَ اعْتَرَفُوا بِذُنُوبِهِمْ | "আর কতক আছে, যারা নিজেদের গুনাহের কথা স্বীকার করে..." [১]
'এরপর আল্লাহ তাআলা বলছেন-
خُذْ مِنْ أَمْوَلِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ | "আপনি গ্রহণ করুন তাদের সম্পদ থেকে এমন সাদাকাহ, যা তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে।”[২]
'এ থেকে বোঝা যায়, সৎকর্ম ও তার মাধ্যমে নফস তার কৃত গুনাহ থেকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হয়। উপর্যুক্ত বক্তব্যের পাশাপাশি আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَرِهِمْ | "আপনি মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন চক্ষু অবনত রাখে...।”[৩]
'এখানেও একটি সৎকর্মের কথা বলে অন্তরের পরিশুদ্ধির ক্ষেত্রে তাওবা ও সৎকর্মের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর আল্লাহ তাআলার বক্তব্য এসেছে-
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا | "তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তওবা করো।” [৪]
'পুরো আলোচনার শেষে এসে সবাইকে তাওবা করার কথা বলা হয়েছে; কারণ, সবারই তো কিছু না কিছু গুনাহ হয়ে যায়; কেউই এ থেকে বাঁচতে পারে না。
সহিহ হাদিসে এসেছে- "আল্লাহ তাআলা আদম সন্তানের তাকদিরে তার অংশের গুনাহ লিখে দিয়েছেন।" [১]
'এমনিভাবে সহিহ বর্ণনায় এসেছে-এক ব্যক্তি এক মহিলার সঙ্গে একান্তে মিলিত হয়ে সঙ্গম ব্যতীত আর সব করেছে, এরপর সে অনুতপ্ত হয়েছে, তখন কুরআনের আয়াত নাজিল হয়েছে-
إِنَّ الْحَسَنَتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّاتِ | “নিশ্চয়ই সৎকর্মসমূহ মুছে দেয় অসৎকর্মসমূহকে।”[২]
টিকাঃ
[১] সূরা শামস; আয়াত-ক্রম : ০৯
[২] সূরা আ'লা; আয়াত-ক্রম: ১৪
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৫৭৯৭
[২] সূরা নাহল; আয়াত-ক্রম: ৫৯
[১] সূরা আ'রাফ; আয়াত-ক্রম: ৫৮
[২] সূরা আন'আম; আয়াত-ক্রম: ১২৫
[৩] সূরা বাকারা; আয়াত-ক্রম: ২৫৭
[১] সূরা নুর; আয়াত-ক্রম: ২১
[২] সূরা নূর, আয়াত-ক্রম: ৩০
[৩] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ১০৩
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৭৪৪; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৯৫৬ শব্দের কিছুটা তারতম্য আছে。
[২] মুসনাদু আহমাদ ৩/৩৩০ এর সনদে ইবনু আকীল নামে একজন আছে; যার ব্যাপারে ইমামদের মতবিরোধ আছে; এ ছাড়া বিস্তারিত দেখুন: তাখরিজু মুসনাদি আহমাদ, শুয়াইব আরনাউত, হাদিস-ক্রম: ১৪৫৭৯。
[১] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ১০২
[২] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ১০৩
[৩] সূরা নূর, আয়াত-ক্রম: ৩০
[৪] সূরা নূর, আয়াত-ক্রম: ৩১
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৬২৪৩; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ২৬৫৭; আবু দাউদ, হাদিস-ক্রম: ২১৫২; জামিউল উসুল ২/৩৭১
[২] সূরা হুদ, আয়াত-ক্রম: ১১৪
📄 আত্মাকে প্রবৃত্তির খপ্পর থেকে বাঁচানোই হলো প্রকৃত ইবাদত ও মুজাহাদা
'এক্ষেত্রে একজন মুসলিমের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো-আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা এবং নফসকে প্রবৃত্তির খপ্পর থেকে বাঁচিয়ে রাখা।'
আমি বললাম, 'শাইখের অনুমতি হলে আমি একটি প্রশ্ন করতে চাই। কোনো ব্যক্তির মধ্যে নফস, প্রবৃত্তি ও কামনা থাকার কারণেই সে অপরাধী বলে গণ্য ও শাস্তির সম্মুখীন হবে, নাকি এগুলোর সঙ্গে তার অপরাধমূলক কর্মও থাকতে হবে?'
শাইখ বললেন, 'আমার প্রিয় বন্ধু ও সুধীবৃন্দ, আসলে শুধু কামনা ও প্রবৃত্তি থাকার কারণে কাউকে দোষারোপ বা শাস্তির সম্মুখীন করা হবে না; বরং কামনা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করলেই ব্যক্তি শাস্তির সম্মুখীন হবে। তাই কোনো অনৈতিক কাজের প্রতি নফসের হাতছানি দেখলে, সেটা থেকে বিরত থাকাটাই একটি সৎকর্ম ও আল্লাহর ইবাদত বলে গণ্য হবে。
'নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কথা প্রমাণিত আছে যে, তিনি বলেছেন-
| "প্রকৃত মুজাহিদ সে-ই, যে আল্লাহর সত্তার (তথা, তাঁর হুকুমের) বেলায় নিজের নফসের সঙ্গে লড়াই করে।”[১]
'সুতরাং একজন মুমিনকে তার নফসের সঙ্গে জিহাদের আদেশ দেওয়া হচ্ছে, যেমনিভাবে তাকে আদেশ করা হয় পাপকর্মের আহ্বায়ক ও হুকুমদাতাদের মোকাবেলায় জিহাদ করতে。
‘মুমিনের তো আসলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো তার নফসের সঙ্গে জিহাদ করা; কারণ, সাধারণ অবস্থায় নফসের সঙ্গে জিহাদ করা হলো ফরজে আইন, অপরদিকে কাফিরদের সঙ্গে জিহাদ করা হলো ফরজে কিফায়া। তাই, নফসের তাড়নার সামনে সবর করা সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ। কারণ, নফসের সঙ্গে জিহাদ করাটাই ময়দানি জিহাদের মূল বিষয়; নফসের তাড়নার সামনে যে সবর করতে পারবে, সে ময়দানের জিহাদে গিয়েও সবর করতে পারবে। হাদিসে যেমন এসেছে-
"প্রকৃত হিজরতকারী তো সে, যে গুনাহের কাজ থেকে হিজরত করেছে।"[২]
অর্থাৎ, গুনাহের কাজ পরিত্যাগ করেছে。
'আবার, নফসের সঙ্গে জিহাদে জয় লাভ করা ব্যতীত সে-জিহাদটা প্রশংসাযোগ্য বলে বিবেচিত হয় না; কারণ, কুরআনে এসেছে-
وَمَنْ يُقْتَلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتِلْ أَوْ يَغْلِبُ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
"(মুজাহিদ) শহীদ হলে, অথবা, বিজয় লাভ করলে, অতি শিগগির বিরাট প্রতিদান পাবে।”[৩]
'এর মানে হলো, ময়দানের জিহাদে বিজয় না পেলেও ব্যক্তি প্রতিদান পাবে; কিন্তু নফসের সাথে জিহাদটা তেমন নয়; কারণ, হাদিসে এসেছে-
"কুস্তিতে কাউকে হারিয়ে দেওয়াটা প্রকৃত বীরত্ব নয়; ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারাই হলো আসল বীরত্ব।”[৪]
'এর কারণ হলো, আল্লাহ তাআলা মানুষকে আদেশ করেছেন প্রবৃত্তির কামনা থেকে অন্তর হেফাজতে রাখতে এবং মহামহিম রবের সামনে জবাবদিহিতাকে ভয় করতে। এতে ব্যক্তির মধ্যে এমন অবস্থা সৃষ্টি হবে, যা তাকে ময়দানের জিহাদে শক্তি যোগাবে। নফসের বিরুদ্ধে জিহাদে পরাজিত হলে ব্যক্তি অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে; পক্ষান্তরে ময়দানের জিহাদে তো কখনো কখনো কাফির শত্রুই শক্তিশালী হয়। ফলে সেখানে বাহ্যিকভাবে পরাজয় বরণ করাটাও কোনো অপরাধের কিছু নয়।'
টিকাঃ
[১] তাবরানি, হাদিস-ক্রম: ১১২৯; আলবানি সহিহ বলেছেন: সহিহুল জামে' ৬৫৫৫
[২] ইবনু মাজাহ ৩৯৩৪ ফুযালা ইবনু উবাইদের সূত্রে। বুসিরী 'যাওয়ায়েদ'-এ বলেছেন: এর সনদ সহিহ; বর্ণনাকারী সবাই সিকাহ। আলবানীও বলেছেন সহিহ: সহীহুল জামি' ৬৫৩৪
[৩] সূরা নিসা; আয়াত-ক্রম: ৭৪
[৪] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৬১১৪; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৬৩০৭
'এক্ষেত্রে একজন মুসলিমের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো-আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা এবং নফসকে প্রবৃত্তির খপ্পর থেকে বাঁচিয়ে রাখা।'
আমি বললাম, 'শাইখের অনুমতি হলে আমি একটি প্রশ্ন করতে চাই। কোনো ব্যক্তির মধ্যে নফস, প্রবৃত্তি ও কামনা থাকার কারণেই সে অপরাধী বলে গণ্য ও শাস্তির সম্মুখীন হবে, নাকি এগুলোর সঙ্গে তার অপরাধমূলক কর্মও থাকতে হবে?'
শাইখ বললেন, 'আমার প্রিয় বন্ধু ও সুধীবৃন্দ, আসলে শুধু কামনা ও প্রবৃত্তি থাকার কারণে কাউকে দোষারোপ বা শাস্তির সম্মুখীন করা হবে না; বরং কামনা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করলেই ব্যক্তি শাস্তির সম্মুখীন হবে। তাই কোনো অনৈতিক কাজের প্রতি নফসের হাতছানি দেখলে, সেটা থেকে বিরত থাকাটাই একটি সৎকর্ম ও আল্লাহর ইবাদত বলে গণ্য হবে。
'নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কথা প্রমাণিত আছে যে, তিনি বলেছেন-
| "প্রকৃত মুজাহিদ সে-ই, যে আল্লাহর সত্তার (তথা, তাঁর হুকুমের) বেলায় নিজের নফসের সঙ্গে লড়াই করে।”[১]
'সুতরাং একজন মুমিনকে তার নফসের সঙ্গে জিহাদের আদেশ দেওয়া হচ্ছে, যেমনিভাবে তাকে আদেশ করা হয় পাপকর্মের আহ্বায়ক ও হুকুমদাতাদের মোকাবেলায় জিহাদ করতে。
‘মুমিনের তো আসলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো তার নফসের সঙ্গে জিহাদ করা; কারণ, সাধারণ অবস্থায় নফসের সঙ্গে জিহাদ করা হলো ফরজে আইন, অপরদিকে কাফিরদের সঙ্গে জিহাদ করা হলো ফরজে কিফায়া। তাই, নফসের তাড়নার সামনে সবর করা সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ। কারণ, নফসের সঙ্গে জিহাদ করাটাই ময়দানি জিহাদের মূল বিষয়; নফসের তাড়নার সামনে যে সবর করতে পারবে, সে ময়দানের জিহাদে গিয়েও সবর করতে পারবে। হাদিসে যেমন এসেছে-
"প্রকৃত হিজরতকারী তো সে, যে গুনাহের কাজ থেকে হিজরত করেছে।"[২]
অর্থাৎ, গুনাহের কাজ পরিত্যাগ করেছে。
'আবার, নফসের সঙ্গে জিহাদে জয় লাভ করা ব্যতীত সে-জিহাদটা প্রশংসাযোগ্য বলে বিবেচিত হয় না; কারণ, কুরআনে এসেছে-
وَمَنْ يُقْتَلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتِلْ أَوْ يَغْلِبُ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
"(মুজাহিদ) শহীদ হলে, অথবা, বিজয় লাভ করলে, অতি শিগগির বিরাট প্রতিদান পাবে।”[৩]
'এর মানে হলো, ময়দানের জিহাদে বিজয় না পেলেও ব্যক্তি প্রতিদান পাবে; কিন্তু নফসের সাথে জিহাদটা তেমন নয়; কারণ, হাদিসে এসেছে-
"কুস্তিতে কাউকে হারিয়ে দেওয়াটা প্রকৃত বীরত্ব নয়; ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারাই হলো আসল বীরত্ব।”[৪]
'এর কারণ হলো, আল্লাহ তাআলা মানুষকে আদেশ করেছেন প্রবৃত্তির কামনা থেকে অন্তর হেফাজতে রাখতে এবং মহামহিম রবের সামনে জবাবদিহিতাকে ভয় করতে। এতে ব্যক্তির মধ্যে এমন অবস্থা সৃষ্টি হবে, যা তাকে ময়দানের জিহাদে শক্তি যোগাবে। নফসের বিরুদ্ধে জিহাদে পরাজিত হলে ব্যক্তি অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে; পক্ষান্তরে ময়দানের জিহাদে তো কখনো কখনো কাফির শত্রুই শক্তিশালী হয়। ফলে সেখানে বাহ্যিকভাবে পরাজয় বরণ করাটাও কোনো অপরাধের কিছু নয়।'
টিকাঃ
[১] তাবরানি, হাদিস-ক্রম: ১১২৯; আলবানি সহিহ বলেছেন: সহিহুল জামে' ৬৫৫৫
[২] ইবনু মাজাহ ৩৯৩৪ ফুযালা ইবনু উবাইদের সূত্রে। বুসিরী 'যাওয়ায়েদ'-এ বলেছেন: এর সনদ সহিহ; বর্ণনাকারী সবাই সিকাহ। আলবানীও বলেছেন সহিহ: সহীহুল জামি' ৬৫৩৪
[৩] সূরা নিসা; আয়াত-ক্রম: ৭৪
[৪] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৬১১৪; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৬৩০৭
📄 ইবাদতে নিষ্ঠা ও ইখলাস সব সন্দেহ-সংশয় ও প্রবৃত্তিপূজার অবসান ঘটায়
আমি বললাম, 'শাইখ, আমাদের প্রত্যেকেই তো প্রবৃত্তি ও মনের কামনা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই, কিন্তু চেষ্টা-মেহনত সত্ত্বেও গুনাহ হয়ে যায়; এক্ষেত্রে আমাদের কী করণীয় বলে মনে করেন?'
শাইখ বললেন, 'বন্ধুগণ, আসলে নফস যখন তার প্রতি আল্লাহর আদিষ্ট বিষয়ের (তথা, অসৎকর্ম বর্জন ও সৎকর্ম সম্পাদন) অনুগত হয় না, তখন ওই গুনাহগুলো সংঘটিত হয়। কিন্তু নফস তার প্রতি আদিষ্ট বিষয়ের অনুগত হলে কখনোই গুনাহ হতে পারে না। কারণ, গুনাহে লিপ্ত হওয়া আর নফসের প্রতি আদিষ্ট বিষয়ের (তথা, অসৎকর্ম বর্জন করে সৎকর্ম সম্পাদন) আনুগত্য করা-এ দুটো পরস্পরবিরোধী。
'আল্লাহ তাআলা বলেন-
كذلك لنصرف عنه السوء والفحشاء إنه من عبادنا المخلصين
“এভাবেই আমি তার থেকে পাপাচার দূরে রেখেছি; সে তো আমার নির্বাচিত বান্দাদের একজন।”[১]
'অন্যত্র বলেছেন-
إن عبادي ليس لك عليهم سلطان
"নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো ক্ষমতা নেই।”[১]
বোঝা গেল, আল্লাহর নির্বাচিত বান্দাদেরকে শয়তান গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট করতে পারে না। গোমরাহি হলো সুপথ প্রাপ্তির উল্টোটা। অর্থাৎ, প্রবৃত্তির অনুসরণ। সুতরাং কারও মন কোনো গুনাহের প্রতি আকৃষ্ট হলে তার কর্তব্য হলো— ইখলাস নিয়ে আল্লাহ যেভাবে আদেশ করেছেন, সেভাবে আল্লাহর কোনো ইবাদত করা; সেই ইবাদতও ভয় আর ভালোবাসা নিয়ে একমাত্র আল্লাহর জন্যই করা। এর ফলে আল্লাহ তাআলা তার থেকে সব পাপ ও অসৎকর্ম দূরে রাখবেন。
‘গুনাহ সংঘটিত হওয়ার পর বান্দা তাওবা করলে, সেটা অসম্পূর্ণ হলেও তার গুনাহ মোচন করে দেয়। তাওবা আসলে বিষের প্রতিষেধকের মতো; বিষক্রিয়া শুরু হয়ে গেলেও বিষের প্রভাবকে যা রোধ করে দিতে পারে। বা, তাওবা হলো খাবার-পানীয় গ্রহণ করার মতো; ক্ষুধার্তের একমাত্র সমাধান। তাওবাকে আপনি হালাল উপভোগ্য বস্তুর সঙ্গে তুলনা করতে পারেন, যা মনকে হারাম বস্তুর চাহিদা থেকে বিরত রাখে, এবং যা পেলে মন থেকে সব হারামের খাহেশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়。
‘কোনো বিষয়ের নিশ্চিত জ্ঞান যেমন সে বিষয়ে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি হতে দেয় না বা থাকলেও তা দূর করে দেয়, তাওবাও ঠিক তেমনই; কিবা চিকিৎসা যেমন সুস্থতা ঠিক রাখে এবং অসুস্থতা রোধ করে, তাওবা তেমন। এমনিভাবে তাওবা অন্তরে থাকা ঈমান ও এর সহায়ক আনুষাঙ্গিক বিষয়াদির হেফাজত করে। যখন ঐ সংশয়-সন্দেহ বা প্রবৃত্তির কামনা জাতীয় কোন অসুখ অন্তরকে আচ্ছন্ন করে তখন তাওবা হয় সেই অসুখ এর প্রতিকার。
‘আবার সুস্থতার উপায়-উপকরণে ঘাটতি হলেই মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে তেমনই ঈমানে কমতি ও ত্রুটি হলেই অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত হয়ে পড়ে আর ঈমান ও কুফর তো হলো পরস্পরে বিরোধী বিষয় যার একটি অপরটিকে কখনো রোধ করে, কখনো করে মূলোৎপাটিত।'
টিকাঃ
[১] সূরা ইউসুফ, আয়াত-ক্রম: ২৪
[১] সূরা হিজর, আয়াত-ক্রম: ৪২
আমি বললাম, 'শাইখ, আমাদের প্রত্যেকেই তো প্রবৃত্তি ও মনের কামনা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই, কিন্তু চেষ্টা-মেহনত সত্ত্বেও গুনাহ হয়ে যায়; এক্ষেত্রে আমাদের কী করণীয় বলে মনে করেন?'
শাইখ বললেন, 'বন্ধুগণ, আসলে নফস যখন তার প্রতি আল্লাহর আদিষ্ট বিষয়ের (তথা, অসৎকর্ম বর্জন ও সৎকর্ম সম্পাদন) অনুগত হয় না, তখন ওই গুনাহগুলো সংঘটিত হয়। কিন্তু নফস তার প্রতি আদিষ্ট বিষয়ের অনুগত হলে কখনোই গুনাহ হতে পারে না। কারণ, গুনাহে লিপ্ত হওয়া আর নফসের প্রতি আদিষ্ট বিষয়ের (তথা, অসৎকর্ম বর্জন করে সৎকর্ম সম্পাদন) আনুগত্য করা-এ দুটো পরস্পরবিরোধী。
'আল্লাহ তাআলা বলেন-
كذلك لنصرف عنه السوء والفحشاء إنه من عبادنا المخلصين
“এভাবেই আমি তার থেকে পাপাচার দূরে রেখেছি; সে তো আমার নির্বাচিত বান্দাদের একজন।”[১]
'অন্যত্র বলেছেন-
إن عبادي ليس لك عليهم سلطان
"নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো ক্ষমতা নেই।”[১]
বোঝা গেল, আল্লাহর নির্বাচিত বান্দাদেরকে শয়তান গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট করতে পারে না। গোমরাহি হলো সুপথ প্রাপ্তির উল্টোটা। অর্থাৎ, প্রবৃত্তির অনুসরণ। সুতরাং কারও মন কোনো গুনাহের প্রতি আকৃষ্ট হলে তার কর্তব্য হলো— ইখলাস নিয়ে আল্লাহ যেভাবে আদেশ করেছেন, সেভাবে আল্লাহর কোনো ইবাদত করা; সেই ইবাদতও ভয় আর ভালোবাসা নিয়ে একমাত্র আল্লাহর জন্যই করা। এর ফলে আল্লাহ তাআলা তার থেকে সব পাপ ও অসৎকর্ম দূরে রাখবেন。
‘গুনাহ সংঘটিত হওয়ার পর বান্দা তাওবা করলে, সেটা অসম্পূর্ণ হলেও তার গুনাহ মোচন করে দেয়। তাওবা আসলে বিষের প্রতিষেধকের মতো; বিষক্রিয়া শুরু হয়ে গেলেও বিষের প্রভাবকে যা রোধ করে দিতে পারে। বা, তাওবা হলো খাবার-পানীয় গ্রহণ করার মতো; ক্ষুধার্তের একমাত্র সমাধান। তাওবাকে আপনি হালাল উপভোগ্য বস্তুর সঙ্গে তুলনা করতে পারেন, যা মনকে হারাম বস্তুর চাহিদা থেকে বিরত রাখে, এবং যা পেলে মন থেকে সব হারামের খাহেশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়。
‘কোনো বিষয়ের নিশ্চিত জ্ঞান যেমন সে বিষয়ে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি হতে দেয় না বা থাকলেও তা দূর করে দেয়, তাওবাও ঠিক তেমনই; কিবা চিকিৎসা যেমন সুস্থতা ঠিক রাখে এবং অসুস্থতা রোধ করে, তাওবা তেমন। এমনিভাবে তাওবা অন্তরে থাকা ঈমান ও এর সহায়ক আনুষাঙ্গিক বিষয়াদির হেফাজত করে। যখন ঐ সংশয়-সন্দেহ বা প্রবৃত্তির কামনা জাতীয় কোন অসুখ অন্তরকে আচ্ছন্ন করে তখন তাওবা হয় সেই অসুখ এর প্রতিকার。
‘আবার সুস্থতার উপায়-উপকরণে ঘাটতি হলেই মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে তেমনই ঈমানে কমতি ও ত্রুটি হলেই অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত হয়ে পড়ে আর ঈমান ও কুফর তো হলো পরস্পরে বিরোধী বিষয় যার একটি অপরটিকে কখনো রোধ করে, কখনো করে মূলোৎপাটিত।'
টিকাঃ
[১] সূরা ইউসুফ, আয়াত-ক্রম: ২৪
[১] সূরা হিজর, আয়াত-ক্রম: ৪২
📄 আল্লাহর ভালোবাসাই লাভ হয় ঈমানের মিষ্টতা
শাইখ কিছুটা সময় চুপ করে রইলেন। সম্ভবত তিনি এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হতে চাইছিলেন যে, সকলে তাঁর কথা বুঝতে পেরেছে কিনা; এজন্য তিনি প্রশ্ন করার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কেউ যখন কোনো প্রশ্ন করল না, তখন তিনি একটু নড়েচড়ে বসলেন এবং দীর্ঘশ্বাস নিলেন যেন বুকের মধ্যে জমে থাকা কোনো কথা তিনি ব্যক্ত করতে চাইছেন। একটু পর বলতে শুরু করলেন, 'আল্লাহ আপনাদেরকে ঈমান ও নেক আমলের ভরপুর তৌফিক দান করুন, আপনাদের অন্তরগুলোকে সুদৃঢ় ও বিশ্বাসের সৌরভে সিক্ত করুন। একটি কথা মনে রাখবেন, হৃদয়ের সঙ্গে যখন ঈমানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, অন্তঃপুরে ছড়িয়ে পড়ে ঈমানের আনন্দ-ভরা আলো, তখন এক অন্যরকম স্বাদ-আনন্দ ও উৎফুল্লতা তৈরি হয় সেখানে— যে এই স্বাদ উপভোগ করেনি তাকে কখনোই বোঝানো যাবে না। তবে ঈমানের এই স্বাদ উপভোগের ক্ষেত্রেও সব মানুষের অনুভূতি সমান নয়। আবার অন্তরে যেই আনন্দ ও উৎফুল্লতা অনুভূত হয় বাহ্যিকভাবেও তার একটা আলোকমাখা ছায়া পড়ে; যার ফলে অন্তরের সুখ কেবলই বাড়ে আর বাড়ে。
'আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ "বলুন, আল্লাহর দয়া ও করুণাতেই হয়েছে; সুতরাং তারা যেন তা নিয়ে আনন্দিত হয়; এটা তাদের জমাকৃত বস্তুর চেয়ে অনেক উত্তম।" [১]
'অন্যত্র বলেছেন-
وَالَّذِينَ ءَاتَيْنَهُمُ الْكِتَبَ يَفْرَحُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمِنَ الْأَحْزَابِ مَن يُنكِرُ بَعْضَهُ "যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা আপনার কাছে আমার অবতীর্ণ বিষয় নিয়ে আনন্দিত হয়, কিন্তু গোষ্ঠীগুলোর কিছু লোক আছে, যারা তা অপছন্দ করে।” [২]
'আরেক জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَإِذَا مَا أُنزِلَتْ سُورَةً فَمِنْهُم مِّن يَقُولُ أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمُنَا فَأَمَّا الَّذِينَ ءَامَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَنًا وَهُمْ يَسْتَبْشِرُونَ
“যখনই কোনো সূরা নাজিল হয়, তখনই তাদের কেউ কেউ বলে, এই সূরা তোমাদের কার কার ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছে? বস্তুত যারা ঈমানদার, সূরা তাদের ঈমান বাড়িয়ে দেয় এবং তারা তা থেকে সুসংবাদ গ্রহণ করে।”[১]
'এখানে আল্লাহ তাআলা বললেন, মুমিনরা তার অবতীর্ণ কুরআন থেকে সুসংবাদ গ্রহণ করে, আর সুসংবাদ গ্রহণ করাটাই খুশি ও আনন্দ; এটা তাদের এজন্য হয়, যেহেতু তারা কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার ফলে মনের মধ্যে এক অপূর্ব স্বাদ ও আনন্দ অনুভব করেছে。
'স্বাদ ও আনন্দ তো সর্বদা ভালোবাসার অনুগামী। অর্থাৎ, কারও যদি কোনো বস্তুর প্রতি ভালোবাসা থাকে, তাহলে সেই বস্তু তার অর্জনের পর তার ভেতরে স্বাদ ও আনন্দ অনুভূত হয়। যওক বা স্বাদ হলো, প্রিয় বস্তুটা অর্জিত হওয়া, এবং বাহ্যিক আনন্দ লাভ করা। যেমন—খাবারের ক্ষেত্রে মানুষ কোনো একটা খাবার পছন্দ করে সেটার প্রতি আগ্রহী হয়; একপর্যায়ে সেটা পেয়ে গেলে নিজের মধ্যে এক-ধরনের মিষ্টতা অনুভব করে এবং আনন্দিত হয়। বিয়ে ও এজাতীয় বহু বিষয় এটার উদাহরণ হতে পারে。
'মহান রবের প্রতি মুমিন বান্দাদের যে ভালোবাসা, তার চেয়ে মহান, উন্নত ও পরিপূর্ণ কোনো ভালোবাসা সৃষ্টিকুলের কারও নেই। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত জগতে এমন কেউ নেই, যে সত্তাগতভাবে সর্ববিবেচনায় ভালোবাসার উপযুক্ত হতে পারে; বরং তিনি ব্যতীত কাউকে ভালোবাসা যায় শুধু তার ভালোবাসার অনুগামী হয়েই; এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার কারণেই ভালবাসতে হয়; আল্লাহর আনুগত্য ও ফরমাবরদারির জন্যই নবীজির অনুগত ও ফরমাবরদার হতে হয়। যেমন কুরআনে এসেছে—
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ "(নবীজি, আপনি) বলুন, তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসলে আমার অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।"[১]
'হাদিসে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- "আল্লাহ তোমাদেরকে রিজিকস্বরূপ তাঁর যে নিয়ামত খাইয়েছেন, তার জন্য আল্লাহকে ভালোবাসো; আমাকে ভালোবাসো আল্লাহর ভালোবাসার কারণে; আর আমার কারণে ভালোবাসো আমার পরিবারকে।” [২]
'আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
قُلْ إِن كَانَ ءَابَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَنُكُمْ وَأَزْوَجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَلٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجْرَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسْكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ - وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ - فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَسِقِينَ "তোমাদের মা-বাবা, সন্তান-সন্ততি, ভাই-বেরাদার, স্ত্রী-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, জমাকৃত সম্পদ, সেই ব্যবসা-যা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করো এবং তোমাদের পছন্দের ঘর-বাড়ি যদি তোমাদের কাছে বেশি প্রিয় হয় আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদের চেয়ে, তবে তোমরা আল্লাহর শাস্তি চলে আসার অপেক্ষা করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।" [৩]
'নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ-না সে আমাকে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্তুতি ও সমস্ত মানবজাতি থেকে বেশি ভালবাসবে।” [৪]
'সুনানে তিরমিযিতে এসেছে—
“আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে ভালবাসে, তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে যে ঘৃণা করে, আল্লাহর জন্যই যে দান করে এবং দান করা থেকে বিরত থাকে, সে-ই নিজের ঈমান পূর্ণ করেছে।”[১]
'কুরআনে এসেছে—
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللَّهِ أَندَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبّ اللَّهِ ۖ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ
“কতক মানুষ আল্লাহকে ছেড়ে তাঁর কিছু শরিক বানিয়ে নিয়েছে, যাদেরকে তারা আল্লাহকে ভালোবাসার মতো করে ভালোবাসে; কিন্তু যারা মুমিন, তারা তো আল্লাহর প্রতি সবচেয়ে প্রবল ভালোবাসা পোষণ করে।”[২]
'বোঝা গেল, মুমিনগণ আল্লাহকে যতটা ভালোবাসে, দুনিয়ার কোনো প্রেমাষ্পদের প্রতি তার প্রেমিকের অতটা ভালোবাসা হতে পারে না। এখানে এটা বোঝানো উদ্দেশ্য যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি মুমিনরা যে ভালোবাসা পোষণ করে, তার ফলস্বরূপে তারা সেটার অন্যরকম একটা স্বাদ-আনন্দ অনুভব করে। এ কারণেই নবীজি ওই স্বাদ অনুভব করাটাকে শর্তযুক্ত করে বলেছেন—
“তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে, সে ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করবে। এক. অন্য সবার চেয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি বেশি ভালবাসা পোষণ করবে;
দুই. কাউকে শুধু আল্লাহর জন্যই ভালবাসবে。
তিন. পুনরায় কুফরে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিপতিত হওয়ার চেয়েও বেশি অপছন্দ করবে।”[৩]
'এ সবই হলো তাওহিদ, ইখলাস, তাওয়াক্কুল ও একমাত্র আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়ার সুফল।'
এতক্ষণে শাইখ যেন শান্ত হলেন; মনের কথাগুলো সুহৃদদের নিকটে ব্যক্ত করতে ও পৌঁছাতে পারায় শান্তি অনুভব করলেন, এবং আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ করলেন, নবীজির প্রতি প্রেরণ করলেন দরূদ ও সালাম। এরপর আবার সকলের একত্র হওয়ার দুআ করে মজলিস সমাপ্ত করলেন。
টিকাঃ
[১] সূরা ইউনুস, আয়াত-ক্রম: ৫৮
[২] সূরা রাদ, আয়াত-ক্রম: ৩৬
[১] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম : ১২৪
[১] সূরা আলি ইমরান, আয়াত-ক্রম: ৩১
[২] তিরমিযি, হাদিস-ক্রম: ৩৭৮৯
[৩] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ২৪
[৪] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ১৪
[১] তিরমিযি, হাদিস-ক্রম: ২৫২১
[২] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ১৬৫
[৩] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ১৬
শাইখ কিছুটা সময় চুপ করে রইলেন। সম্ভবত তিনি এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হতে চাইছিলেন যে, সকলে তাঁর কথা বুঝতে পেরেছে কিনা; এজন্য তিনি প্রশ্ন করার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কেউ যখন কোনো প্রশ্ন করল না, তখন তিনি একটু নড়েচড়ে বসলেন এবং দীর্ঘশ্বাস নিলেন যেন বুকের মধ্যে জমে থাকা কোনো কথা তিনি ব্যক্ত করতে চাইছেন। একটু পর বলতে শুরু করলেন, 'আল্লাহ আপনাদেরকে ঈমান ও নেক আমলের ভরপুর তৌফিক দান করুন, আপনাদের অন্তরগুলোকে সুদৃঢ় ও বিশ্বাসের সৌরভে সিক্ত করুন। একটি কথা মনে রাখবেন, হৃদয়ের সঙ্গে যখন ঈমানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, অন্তঃপুরে ছড়িয়ে পড়ে ঈমানের আনন্দ-ভরা আলো, তখন এক অন্যরকম স্বাদ-আনন্দ ও উৎফুল্লতা তৈরি হয় সেখানে— যে এই স্বাদ উপভোগ করেনি তাকে কখনোই বোঝানো যাবে না। তবে ঈমানের এই স্বাদ উপভোগের ক্ষেত্রেও সব মানুষের অনুভূতি সমান নয়। আবার অন্তরে যেই আনন্দ ও উৎফুল্লতা অনুভূত হয় বাহ্যিকভাবেও তার একটা আলোকমাখা ছায়া পড়ে; যার ফলে অন্তরের সুখ কেবলই বাড়ে আর বাড়ে。
'আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ "বলুন, আল্লাহর দয়া ও করুণাতেই হয়েছে; সুতরাং তারা যেন তা নিয়ে আনন্দিত হয়; এটা তাদের জমাকৃত বস্তুর চেয়ে অনেক উত্তম।" [১]
'অন্যত্র বলেছেন-
وَالَّذِينَ ءَاتَيْنَهُمُ الْكِتَبَ يَفْرَحُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمِنَ الْأَحْزَابِ مَن يُنكِرُ بَعْضَهُ "যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা আপনার কাছে আমার অবতীর্ণ বিষয় নিয়ে আনন্দিত হয়, কিন্তু গোষ্ঠীগুলোর কিছু লোক আছে, যারা তা অপছন্দ করে।” [২]
'আরেক জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَإِذَا مَا أُنزِلَتْ سُورَةً فَمِنْهُم مِّن يَقُولُ أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمُنَا فَأَمَّا الَّذِينَ ءَامَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَنًا وَهُمْ يَسْتَبْشِرُونَ
“যখনই কোনো সূরা নাজিল হয়, তখনই তাদের কেউ কেউ বলে, এই সূরা তোমাদের কার কার ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছে? বস্তুত যারা ঈমানদার, সূরা তাদের ঈমান বাড়িয়ে দেয় এবং তারা তা থেকে সুসংবাদ গ্রহণ করে।”[১]
'এখানে আল্লাহ তাআলা বললেন, মুমিনরা তার অবতীর্ণ কুরআন থেকে সুসংবাদ গ্রহণ করে, আর সুসংবাদ গ্রহণ করাটাই খুশি ও আনন্দ; এটা তাদের এজন্য হয়, যেহেতু তারা কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার ফলে মনের মধ্যে এক অপূর্ব স্বাদ ও আনন্দ অনুভব করেছে。
'স্বাদ ও আনন্দ তো সর্বদা ভালোবাসার অনুগামী। অর্থাৎ, কারও যদি কোনো বস্তুর প্রতি ভালোবাসা থাকে, তাহলে সেই বস্তু তার অর্জনের পর তার ভেতরে স্বাদ ও আনন্দ অনুভূত হয়। যওক বা স্বাদ হলো, প্রিয় বস্তুটা অর্জিত হওয়া, এবং বাহ্যিক আনন্দ লাভ করা। যেমন—খাবারের ক্ষেত্রে মানুষ কোনো একটা খাবার পছন্দ করে সেটার প্রতি আগ্রহী হয়; একপর্যায়ে সেটা পেয়ে গেলে নিজের মধ্যে এক-ধরনের মিষ্টতা অনুভব করে এবং আনন্দিত হয়। বিয়ে ও এজাতীয় বহু বিষয় এটার উদাহরণ হতে পারে。
'মহান রবের প্রতি মুমিন বান্দাদের যে ভালোবাসা, তার চেয়ে মহান, উন্নত ও পরিপূর্ণ কোনো ভালোবাসা সৃষ্টিকুলের কারও নেই। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত জগতে এমন কেউ নেই, যে সত্তাগতভাবে সর্ববিবেচনায় ভালোবাসার উপযুক্ত হতে পারে; বরং তিনি ব্যতীত কাউকে ভালোবাসা যায় শুধু তার ভালোবাসার অনুগামী হয়েই; এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার কারণেই ভালবাসতে হয়; আল্লাহর আনুগত্য ও ফরমাবরদারির জন্যই নবীজির অনুগত ও ফরমাবরদার হতে হয়। যেমন কুরআনে এসেছে—
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ "(নবীজি, আপনি) বলুন, তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসলে আমার অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।"[১]
'হাদিসে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- "আল্লাহ তোমাদেরকে রিজিকস্বরূপ তাঁর যে নিয়ামত খাইয়েছেন, তার জন্য আল্লাহকে ভালোবাসো; আমাকে ভালোবাসো আল্লাহর ভালোবাসার কারণে; আর আমার কারণে ভালোবাসো আমার পরিবারকে।” [২]
'আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
قُلْ إِن كَانَ ءَابَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَنُكُمْ وَأَزْوَجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَلٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجْرَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسْكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ - وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ - فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَسِقِينَ "তোমাদের মা-বাবা, সন্তান-সন্ততি, ভাই-বেরাদার, স্ত্রী-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, জমাকৃত সম্পদ, সেই ব্যবসা-যা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করো এবং তোমাদের পছন্দের ঘর-বাড়ি যদি তোমাদের কাছে বেশি প্রিয় হয় আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদের চেয়ে, তবে তোমরা আল্লাহর শাস্তি চলে আসার অপেক্ষা করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।" [৩]
'নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ-না সে আমাকে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্তুতি ও সমস্ত মানবজাতি থেকে বেশি ভালবাসবে।” [৪]
'সুনানে তিরমিযিতে এসেছে—
“আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে ভালবাসে, তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে যে ঘৃণা করে, আল্লাহর জন্যই যে দান করে এবং দান করা থেকে বিরত থাকে, সে-ই নিজের ঈমান পূর্ণ করেছে।”[১]
'কুরআনে এসেছে—
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللَّهِ أَندَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبّ اللَّهِ ۖ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ
“কতক মানুষ আল্লাহকে ছেড়ে তাঁর কিছু শরিক বানিয়ে নিয়েছে, যাদেরকে তারা আল্লাহকে ভালোবাসার মতো করে ভালোবাসে; কিন্তু যারা মুমিন, তারা তো আল্লাহর প্রতি সবচেয়ে প্রবল ভালোবাসা পোষণ করে।”[২]
'বোঝা গেল, মুমিনগণ আল্লাহকে যতটা ভালোবাসে, দুনিয়ার কোনো প্রেমাষ্পদের প্রতি তার প্রেমিকের অতটা ভালোবাসা হতে পারে না। এখানে এটা বোঝানো উদ্দেশ্য যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি মুমিনরা যে ভালোবাসা পোষণ করে, তার ফলস্বরূপে তারা সেটার অন্যরকম একটা স্বাদ-আনন্দ অনুভব করে। এ কারণেই নবীজি ওই স্বাদ অনুভব করাটাকে শর্তযুক্ত করে বলেছেন—
“তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে, সে ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করবে। এক. অন্য সবার চেয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি বেশি ভালবাসা পোষণ করবে;
দুই. কাউকে শুধু আল্লাহর জন্যই ভালবাসবে。
তিন. পুনরায় কুফরে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিপতিত হওয়ার চেয়েও বেশি অপছন্দ করবে।”[৩]
'এ সবই হলো তাওহিদ, ইখলাস, তাওয়াক্কুল ও একমাত্র আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়ার সুফল।'
এতক্ষণে শাইখ যেন শান্ত হলেন; মনের কথাগুলো সুহৃদদের নিকটে ব্যক্ত করতে ও পৌঁছাতে পারায় শান্তি অনুভব করলেন, এবং আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ করলেন, নবীজির প্রতি প্রেরণ করলেন দরূদ ও সালাম। এরপর আবার সকলের একত্র হওয়ার দুআ করে মজলিস সমাপ্ত করলেন。
টিকাঃ
[১] সূরা ইউনুস, আয়াত-ক্রম: ৫৮
[২] সূরা রাদ, আয়াত-ক্রম: ৩৬
[১] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম : ১২৪
[১] সূরা আলি ইমরান, আয়াত-ক্রম: ৩১
[২] তিরমিযি, হাদিস-ক্রম: ৩৭৮৯
[৩] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ২৪
[৪] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ১৪
[১] তিরমিযি, হাদিস-ক্রম: ২৫২১
[২] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ১৬৫
[৩] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ১৬