📄 ইখলাস : নববি দাওয়াতের সারাংশ
'দেখুন, আল্লাহ ও রাসূলের ভালোবাসাই ঈমানের সবচেয়ে বড়, গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়। বরং সেটিই দ্বীন ও ঈমানের প্রতিটি কাজের মূল; যেমনিভাবে তাসদিক (রাসূলকে সত্যায়ন) হলো দ্বীন ও ঈমানের সব কথার মূল। কারণ, সৃষ্টির প্রতিটি স্পন্দনের উৎস ওই ভালোবাসা; হয়তো তা নন্দিত, নইলে নিন্দিত। মহব্বত ও ভালোবাসার নীতির আলোচনায় এটা আমরা বলেছিও。
'দ্বীন-ঈমানের সমস্ত কর্মের একমাত্র উৎস হবে নন্দিত ভালোবাসা। যেহেতু মৌলিকভাবে নন্দিত ভালোবাসা হলো মহান আল্লাহর ভালোবাসা, তাই যে কাজের উৎস এমন ভালোবাসা, যা আল্লাহর কাছে নিন্দিত, সেই কাজ নেককাজ হতে পারে না। সুতরাং দ্বীনি ও ঈমানি সমস্ত কর্মের উৎস হবে নন্দিত ভালোবাসা।'
'আল্লাহ তো সেই আমলই শুধু কবুল করেন, যা তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা হয়। 'সহিহ হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত—
قَالَ اللهُ عَزَّ وجلَّ : أَنَا خَيْرُ الشُّرَكَاءِ ، مَن عَمِلَ لِي عَمَلًا فَأَشْرَكَ فِيْهِ غَيْرِي ، فَأَنَا مِنْهُ بَرِيءٌ ، وَهُوَ لِلَّذِي أَشْرَكَ
"আল্লাহ তাআলা বলেন, যাদেরকে (আমার সঙ্গে) শরিক করা হয়, শিরক থেকে আমি তাদের সবার চেয়ে বেশি অমুখাপেক্ষী। তাই, কেউ কোনো কাজ করে তাতে আমার সঙ্গে কাউকে শরিক করলে আমি সেই কাজ থেকে মুক্ত; সেটা কেবল ওই শরিকেরই জন্য।" [১]
'সহিহ হাদিসে তিন ব্যক্তির কথা এসেছে, যাদের মাধ্যমে জাহান্নাম উত্তপ্ত হবে— লোকদেখানো কারী, মুজাহিদ ও দানশীল। [২] তো, আল্লাহ কেবল ইখলাস গ্রহণ করেন; আগের ও পরের সব রাসূলকে এই ইখলাস দিয়েই পাঠিয়েছেন; এটি দিয়েই নাজিল করেছেন সমস্ত কিতাব-এ হলো উম্মাহর সব ইমামের মত। সুতরাং, ইখলাসই নববি দাওয়াতের সারাংশ; শরিয়ার প্রাণ যেই কুরআন, ইখলাস তার কেন্দ্রবিন্দু।'
টিকাঃ
[১] মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ২৯৮৫
[২] তিরমিযি, হাদিসক্রম: ২৩৮২; হাদিসটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত। শাইখ শুয়াইব আরনাউত এই হাদিসটি সহিহ বলেছেন, (তাখরিজু সহিহি ইবনি হিব্বান, ৪০৮)। পূর্ণ হাদিসটি এই—
إِنَّ اللهَ تعالى إذا كان يوم القيامة ينزل إلى العباد ليقضي بينهم، وكل أمة جاثية، فأول من يدعو به رجل جمع القرآن، ورجل قُتل في سبيل الله، ورجل كثير المال، فيقول الله للقارئ: ألم أعلمك ما أنزلت على رسولي؟ قال: بلى يا رب. قال: فماذا عملت فيما علمت؟ قال: كنتُ أقوم به أناء الليل وآناء النهار، فيقول الله له: كذبت، وتقول الملائكة كذبت، ويقول الله له بل أردت أن يقال: فلان قارى، فقد قيل ذلك. ويُؤتى بصاحب المال، فيقول الله: ألم أوسع عليك حتى لم أدعك تحتاج إلى أحد؟ قال: بلى يا رب قال: فماذا عملت فيما آتيتك؟ قال: كنتُ أصل الرحم وأتصدق، فيقول الله له: كذبت. وتقول الملائكة له كذبت، ويقول الله بل أردت أن يقال: فلان جواد وقد قيل ذلك. ويُؤتى بالذي قتل في سبيل الله فيقول الله له فيماذا قتلت؟ فيقول: أمرت بالجهاد في سبيلك فقاتلت حتى قتلت فيقول الله له كذبت، وتقول له الملائكة: كذبت,
ويقول الله: بل أردت أن يقال فلان جرى، فقد قيل ذلك. ثم ضرب رسول الله * على ركبتي فقال: يا أبا هريرة: أولئك الثلاثة أول خلقِ اللَّهِ تُسعرُ بِهِمُ النارُ يومَ القيامة
'আল্লাহ তাআলা বান্দাদের মধ্যে ফায়সালা করার জন্য কেয়ামত-দিবসে তাদের সামনে হাজির হবেন; সকল উম্মতই তখন নতজানু অবস্থায় থাকবে। তারপর হিসাব-নিকাশের জন্য সর্বপ্রথম যে ব্যক্তিদের ডাকা হবে তারা হলো কুরআনের হাফিজ, আল্লাহ তাআলার পথের শহিদ এবং প্রচুর ধনৈশ্বর্যের মালিক। সেই কারি (কুরআন পাঠক)-কে আল্লাহ তাআলা প্রশ্ন করবেন, "আমি আমার রাসুলের নিকট যা প্রেরণ করেছি তা কি তোমাকে শিখাইনি?” সে বলবে, "হে রব! হ্যাঁ, শিখিয়েছেন।” তিনি বলবেন, "তুমি যা শিখেছ সে অনুযায়ী কোন কোন আমল করেছ?” সে বলবে, "আমি রাত-দিন তা তেলাওয়াত করেছি।” আল্লাহ তাআলা বলবেন, "তুমি মিথ্যা বলেছ।” ফেরেশতারাও বলবেন, "তুমি মিথ্যা বলেছ।” আল্লাহ তাআলা তাকে আরও বলবেন, "বরং তুমি ইচ্ছাপোষণ করেছিলে যে, তোমাকে বড় কারি (হাফিজ) ডাকা হোক। আর তা তো ডাকা হয়েছে।” তারপর সম্পদওয়ালা ব্যক্তিকে হাজির করা হবে। আল্লাহ তাকে বলবেন, "আমি কি তোমাকে এমন সম্পদশালী বানাইনি, যাতে তুমি কারও মুখাপেক্ষী ছিলে না?” সে বলবে, “হে রব! হ্যাঁ, তা বানিয়েছেন।" তিনি বলবেন, "আমার-দেয়া সম্পদ হতে তুমি কোন কোন (সৎ) আমল করেছ?” সে বলবে, "আমি এর দ্বারা আত্মীয়তার সম্পর্ক বহাল রেখেছি এবং দান-খয়রাত করেছি।” আল্লাহ বলবেন, "তুমি মিথ্যা বলছ।” ফেরেশতারাও বলবেন, "তুমি মিথ্যাবাদী।” আল্লাহ তাআলা আরও বলবেন, "তুমি ইচ্ছাপোষণ করেছিলে যে, মানুষের নিকট তোমার দানশীল-দানবীর নামের প্রসার হোক। আর এরূপ তো হয়েছেই।” তারপর যে লোক আল্লাহ তাআলার রাস্তায় শাহাদাত বরণ করেছে তাকে হাজির করা হবে। আল্লাহ তাআলা তাকে প্রশ্ন করবেন, "তুমি কীভাবে নিহত হয়েছ?" সে বলবে, "আমি তো আপনার পথে জিহাদ করতে আর্দিষ্ট ছিলাম। কাজেই আমি জিহাদ করতে করতে শাহাদাত বরণ করেছি।" আল্লাহ তাআলা বলবেন, "তুমি মিথ্যা বলছ।” ফেরেশতারাও বলবেন, "তুমি মিথ্যাবাদী।" আল্লাহ তাআলা আরও বলবেন, "তুমি ইচ্ছাপোষণ করেছিলে লোকমুখে একথা প্রচার হোক যে, অমুক ব্যক্তি খুব সাহসী বীর। আর তা তো বলাই হয়েছে।"" আবু হুরায়রা বলেন, 'তারপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার হাঁটুতে হাত মেরে বললেন, "হে আবু হুরায়রা! কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির মধ্য হতে এ তিনজন দ্বারাই প্রথমে জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে।""
📄 আল্লাহর পূর্ণ ভালোবাসাই দ্বীনের মূল ভিত
'যেহেতু সব দ্বীনি আমলের মূলে ওই ইখলাস; তাই, আমলের যা উদ্দেশ্য, স্বাভাবিকভাবে তা-ই সবচেয়ে প্রিয় হতে হবে। আর, সেটি হলো পরিপূর্ণ ভালোবাসা। কিন্তু কুরআন-হাদিসের অধিকাংশ জায়গায় বান্দার ইবাদতকেই চূড়ান্ত কাম্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহর বাণী-
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ | "আমি জিন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।”[১]
يَأَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ “হে মানুষেরা, তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সেই রবের ইবাদত করো।” [২]
'আসলে, ইবাদতের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ও সর্বোচ্চ ভালোবাসা বিদ্যমান; আবার ইবাদতেই আছে পরিপূর্ণ ও চূড়ান্ত নীচতা। কারণ, যেই প্রেমাস্পদকে সম্মান করা হয় না, যার সামনে প্রেমিক নত ও নিচু হয় না, সে কখনো মাবুদ হতে পারে না। আবার, যেই সম্মানিতকে ভালোবাসা হয় না, সে-ও মাবুদ হতে পারে না。
'এ কারণে আল্লাহ বলেন-
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللَّهِ أَندَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ ۖ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ "কতক মানুষ আল্লাহকে ছেড়ে অন্যদেরকে শরিক বানিয়ে গ্রহণ করে; (এরপর) আল্লাহকে ভালোবাসার মতোই তাদেরকে ভালোবাসে; অথচ মুমিনরা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে আল্লাহকে।” [৩]
'দেখুন, এখানে আল্লাহ তাআলা বললেন, মুশরিকরা যে আল্লাহকে ছেড়ে বিভিন্ন শরিক গ্রহণ করেছে, যদিও তারা শরিকদেরকে আল্লাহকে ভালোবাসার মতোই ভালোবাসে, কিন্তু আল্লাহ ও মূর্তির প্রতি তাদের যেটুকু ভালোবাসা, আল্লাহর প্রতি এরচে' বহু গুণ বেশি ভালোবাসা পোষে মুমিনরা। এর কারণ হলো, মুমিনরা আল্লাহর সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত; আর ভালোবাসা জানাশোনারই অনুগামী।'
'যেহেতু মুমিনের সমস্ত ভালোবাসা আল্লাহর জন্যই উৎসর্গিত আর মুশরিকের ভালোবাসায় আছে ভাগ-বণ্টন-কিছু আল্লাহর জন্য, কিছু অন্য শরিকদের-তাই, মুমিনের ভালোবাসাই শ্রেষ্ঠ। কারণ, তা পরিপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন-
ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا رَّجُلًا فِيهِ شُرَكَاءُ مُتَشْكِسُونَ وَرَجُلًا سَلَمًا لِرَجُلٍ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا
“আল্লাহ একটি উদাহরণ পেশ করেন, একটা লোকের মালিকানায় অনেক শরিক; আরেকটা লোকের মালিক মাত্র একজন-এদের উভয়ের অবস্থা কি সমান?” [১]
'তবে ভালোবাসা কথাটায় ব্যাপকতা আছে; কারণ, মুমিন তো আল্লাহকে ভালোবাসার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নবী-রাসূল ও অন্য মুমিন বান্দাদেরকেও ভালোবাসে। যদিও সেটা আল্লাহকে ভালোবাসারই ফল, এবং অন্য কারও ভালোবাসাই আল্লাহর ভালোবাসার সমান হতে পারে না। এজন্যই আল্লাহর ভালোবাসার কথা কেবল তাঁর সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঙ্গেই এসেছে; যেমন-ইবাদত, ইনাবত (মানে, তাঁর দিকে ফিরে আসা) ও তাবাতুল (মানে, তাঁর জন্য সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া)। ফলে, এই প্রত্যেকটি শব্দের (ইবাদত-ইনাবত-তাবাতুল) খোলসেই লুকিয়ে আছে তাঁর ভালোবাসা।'
'এরপর কথা হলো, আল্লাহর ভালোবাসাই যেহেতু দ্বীনের ভিত, তাই সেই ভালোবাসার পূর্ণতা মানে দ্বীনের পূর্ণতা, এবং সেই ভালোবাসার অপূর্ণতা মানে দ্বীনের অপূর্ণতা। কারণ, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
رَأْسُ الْأَمْرِ الْإِسْلَامُ ، وَعُمُودُهُ الصَّلَاةُ ، وَذَرْوَةُ سَنَامِهِ الْجِهَادُ
"সব কাজের মূল হলো ইসলাম; নামাজ হলো তার স্তম্ভ; আর আল্লাহর রাহে জিহাদ হলো তার সর্বোচ্চ শিখর।” [২]
'এখানে জিহাদকে সব কাজের সর্বোচ্চ শিখর, সর্বোন্নত ও শ্রেষ্ঠতম বলা হলো।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ ءَامَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَجْهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَوُانَ عِندَ اللَّهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّلِمِينَ الَّذِينَ ءَامَنُوا وَهَاجَرُوا وَجْهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَلِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِندَ اللَّهِ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُم بِرَحْمَةٍ مِّنْهُ وَرِضْوَنِ وَجَنَّتٍ لَّهُمْ فِيهَا نَعِيمٌ مُّقِيمٌ . خَلِدِينَ فِيهَا أَبَدًا إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ
"তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো ও মসজিদুল হারাম আবাদ করাকে ওই ব্যক্তির (সওয়াবের) মতো মনে করো, যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে; এবং আল্লাহর রাহে জিহাদ করেছে? এরা (জিহাদকারী আর অন্যরা) তো আল্লাহর নিকট সমমর্যাদার নয়। আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না। যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর রাহে জিহাদ করেছে তারা আল্লাহর নিকট উচ্চ মর্যাদার অধিকারী; তারাই সফল (ও সার্থক)। তাদের রব তাদেরকে সুসংবাদ দিচ্ছেন নিজের তরফ থেকে রহম সন্তুষ্টি ও এমন জান্নাতের, যেখানে তাদের জন্য রয়েছে সুখময় আবাস। সেখানে তারা যাপন করবে চিরকাল; নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।"[১]
'মোটকথা, জিহাদ ও মুজাহিদদের মর্যাদা সম্পর্কে বহু বক্তব্য এসেছে। বান্দার জন্য শ্রেষ্ঠ নফল হিসেবেও এই জিহাদের কথা প্রমাণিত। জিহাদ তো আসলে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভালোবাসার প্রমাণ। (যেহেতু জিহাদ হলো সবচেয়ে পূর্ণ, সর্বোন্নত ও শ্রেষ্ঠ ইবাদত; আর ওই ইবাদতের মধ্যেই আছে আল্লাহর ভালোবাসা।) তাই, ইবাদতের পূর্ণতা ও শ্রেষ্ঠত্ব মূলত ভালোবাসারই পূর্ণতা ও শ্রেষ্ঠত্ব।'
টিকাঃ
[১] সূরা যারিয়াত, আয়াত-ক্রম: ৫৬
[২] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ২১
[৩] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ১৬৫
[১] সূরা যুমার, আয়াত-ক্রম: ২৯
[২] মুসনাদু আহমাদ ৫/২৩১; মুআয ইবনু জাবালের সূত্রে তিরমিযি এটি বর্ণনা করে হাসান সহিহ বলেছেন, হাদিস-ক্রম: ২৬১৬
[১] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ১৯-২২
📄 ভালোবাসলে প্রেমাস্পদকে সন্তুষ্ট করতে হয়
কথার এ-পর্যায়ে শাইখ একটু জিরিয়ে নিতে থামলেন; এবং শ্রোতাদেরকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিলেন。
'আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ إِن كَانَ ءَابَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَنُكُمْ وَأَزْوَجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَلٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجْرَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسْكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ ، فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَ اللَّهُ ۖ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَسِقِينَ
“বলুন! তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা—যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় করো; এবং তোমাদের বাসস্থান—যাকে তোমরা পছন্দ করো; এসব যদি তোমাদের নিকট আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদের চেয়ে প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত; আর, আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।”[১]
'অন্যত্র বলেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُواْ مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ - فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَفِرِينَ يُجْهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَآئِمْ
“হে মুমিনগণ! তোমাদের কেউ তার দ্বীন বর্জন করলে, (জেনে রাখুক) অতি শিগগির আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও ভালোবাসবে তাঁকে; তারা মুমিনদের প্রতি সদয়-নম্র হবে; কঠোর হবে কাফিরদের প্রতি; তারা আল্লাহর রাহে জিহাদ করবে; কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করবে না।”[২]
আমি বললাম, 'মুহতারাম! আমরা তাহলে আয়াতে কারিমা থেকে বুঝলাম, (আল্লাহকে) ভালোবাসলে অবশ্যই জিহাদ করতে হবে, অথবা বলতে পারি-ঈমান থাকলে অবশ্যই আল্লাহর ভালোবাসা থাকবে; আর আল্লাহকে ভালোবাসলে, জীবন বিলিয়ে হলেও তাঁকে সন্তুষ্ট করতে হবে।'
শাইখ বললেন, 'আপনি ঠিক বলেছেন; বরং এটিই আসল কথা যে, আল্লাহকে ভালোবাসলে জিহাদ করতে হবে। দেখুন, প্রেমাস্পদের পছন্দকেই তো প্রেমিক পছন্দ করবে এবং প্রেমাস্পদের অপছন্দকেই সে অপছন্দ করবে। সে তো প্রেমাস্পদের বন্ধুতা-শত্রুতা, সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি ও আদেশ-নিষেধের অনুসরণ করবে। আল্লাহর সঙ্গে এমন সম্পর্ক যে করবে, আল্লাহ তাআলাও তাকে সঙ্গ দেবেন তার পছন্দ-অপছন্দ ও সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টিতে; কারণ, সে-ও তো মেনে চলেছিল আল্লাহর পছন্দ-অপছন্দ আর সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি。
'একবার একটি জামাতে সুহাইব ও বিলাল (আযাদকৃত দুই দাস-সাহাবি) ছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের সম্পর্কে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন-
لَعَلَّكَ أَغْضَبْتَهُمْ ، لَئِنْ كُنْت أَغْضَبْتَهُمْ ، لَقَدْ أَغْضَبْتَ رَبَّكَ. فَأَتَاهُمْ أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ: يَا إِخْوَتَاهُ أَغْضَبْتُكُمْ ؟ قالوا: لا يَغْفِرُ اللَّهُ لَكَ يَا أَخِي
"তুমি সম্ভবত তাদেরকে অসন্তুষ্ট করেছ; জেনে রাখো, তাদরকে অসন্তুষ্ট করে থাকলে তুমি তোমার রবকেও অসন্তুষ্ট করে ফেলেছ।” তখন আবু বকর তাদের কাছে গিয়ে বললেন-"আমি কি তোমাদেরকে অসন্তুষ্ট করেছি?” তারা বললেন- "না; আল্লাহর ক্ষমা আপনার সঙ্গী হোক।”[১]
'আসল ঘটনাটি ছিল এমন, আবু সুফিয়ান ইবনু হারব (কাফির অবস্থায়) তাঁদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাঁরা (বিলাল ও তাঁর সঙ্গীরা) বললেন, “আরে, এ তো তলোয়ারটাও ঠিকমতো ধরতে পারে না!” এ কথা শুনে আবু বকর বললেন, “তোমরা একজন কুরাইশি নেতাকে এমন (ব্যাঙ্গাত্মক) কথা বলছ!” তিনি গিয়ে ব্যাপারটা নবীজিকে জানালেন। তখনই নবীজি তাঁকে উপরোক্ত কথাটি বলেছিলেন। আসলে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি মহব্বত এবং তাঁদের শত্রুদের প্রতি সর্বোতভাবে শত্রুতারই বহিঃপ্রকাশ ছিল সাহাবাদের ওই কথা。
'এজন্যই সহিহ হাদিসে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান রবের কথা বর্ণনা করেন-
مَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ وَبَصَرَهُ الَّذِي يَبْصُرُ بِهِ وَيَدَهُ الَّتِي يَبْطِسُ بِهَا وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي بِهَا وَإِنْ سأَلَنِي لَأُعْطِيَنَّهُ وَلَئِنْ اسْتَعَاذَنِي لَأُعِيْذَنَّهُ وَمَا تَرَدَّدْتُ عَنْ شَيْءٍ أَنَا فَاعِلُهُ تَرَدُّدِي عَنْ نَفْسِ الْمُؤْمِنِ يَكْرَهُ الْمَوْتَ وَأَنَا أَكْرَهُ مَسَاءَتَهُ
"বান্দা নফল (ঐচ্ছিক) ইবাদতের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হতে হতে একপর্যায়ে আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি; তখন আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে; আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে; আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে; এবং আমিই তার 'পা' হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলে। (ফলে তার শোনা, দেখা, ধরা ও চলা-সব আমার মাধ্যমেই হয়।) সে আমার কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করলে, অবশ্যই তা দিই; আশ্রয় কামনা করলে, অবশ্যই আশ্রয় দিই; আমি মুমিন বান্দার প্রাণ হরণের মতো নিজের আর কোনো কাজে দ্বিধা বোধ করি না; (কারণ) সে মৃত্যু অপছন্দ করে; আর, আমি অপছন্দ করি (তার) বেঁচে থাকা; (আমি তার কষ্ট চাই না;) কিন্তু এটা তো তাকে পেতেই হবে।”[১]
'এখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর (শান মোতাবেক) 'দ্বিধা'র কথা বলেছেন। দ্বিধা বলা হয় দু'রকম ইচ্ছার বৈপরিত্বকে। আর এই দ্বিধা তৈরি হবার কারণ হলো- যেহেতু বান্দা যা অপছন্দ করে তিনিও তা অপছন্দ করেন, বান্দার অপছন্দনীয়টা তাঁরও অপছন্দনীয়, বান্দা যেহেতু মৃত্যুকে অপছন্দ করে তাই তিনিও (বান্দার দিকে তাকিয়ে) তা অপছন্দ করেন। (কিন্তু মৃত্যু যেহেতু অবধারিত) তাই বলেছেন-"আমি তাকে কষ্ট দেওয়া অপছন্দ করি।”
'মোটকথা, মহব্বতই যেহেতু সব দ্বীনি আমলের মূল, তাই, (আল্লাহর থেকে) ভয়, আশা, বা এ-জাতীয় যা আছে—সবগুলোর অনিবার্য পরিণতিও সেটি; সেই মহব্বতের ঘাটেই বাঁধা থাকে সব কিছুর রশি। কারণ, আল্লাহর কাছে যে আশা করে; সে তো নিজের পছন্দের ও মহব্বতের কিছুই আশা করে; ঘৃণা বা অপছন্দের কিছু তো চায় না। আবার যে ভয় পায় সে তো ভীতিকর বস্তু থেকে পালিয়ে ভালোবাসার জিনিসটিই পেতে চায়。 তাই, আল্লাহ বলেন—
أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَىٰ رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ ۚ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا
“যাদেরকে তারা আহ্বান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য লাভের জন্য মধ্যস্থ তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে নৈকট্যশীল। তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার শাস্তি ভয়াবহ।”[১]
'অন্যত্র বলেন—
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَٰئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللَّهِ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
“আর এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে, যারা হিজরত করেছে এবং যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে; তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী।”[২]
'যেকোনো কল্যাণ বোঝাতেই 'আল্লাহর রহম' ব্যবহৃত হয়; আবার, যেকোনো অকল্যাণের জন্যই ব্যবহৃত হয় 'আল্লাহর আযাব'। তবে শুধুই রহমের আবাস হলো জান্নাত; শুধুই আজাবের স্থান হলো জাহান্নাম; আর দুনিয়া হলো ছাড় দিয়ে পাকড়াও করার জায়গা。
'তাই, জান্নাতে প্রবেশের আশা করার অর্থ হলো, সবরকম নেয়ামত ও কল্যাণের আশা; যার মধ্যে শ্রেষ্ঠটি হলো আল্লাহ তাআলাকে দেখার সৌভাগ্য। সহিহ মুসলিমে হযরত আবদুর রহমান ইবনু আবি লাইলা থেকে সুহাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ نَادَى مُنَادٍ إِنَّ لَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ مَوْعِدًا ، قَالُوْا أَلَمْ يُبَيِّضُ وُجُوهَنَا وَيُنَجِّنَا مِنَ النَّارِ وَيُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ قَالُوْا بَلَى . قَالَ فَيَكْشِفُ الْحِجَابَ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا أَعْطَاهُمْ شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَيْهِ
"জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশের পর একজন আহ্বানকারী (ফেরেশতা) ডেকে বলবেন, 'তোমাদের জন্য আল্লাহ্ তাআলার নিকট আরও প্রতিশ্রুতি রয়েছে।' তারা (জান্নাতিরা) বলবে, 'তিনি কি আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করে এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাননি?' ফেরেশতারা বলবেন, 'হ্যাঁ।' তারপর পর্দা খুলে যাবে (এবং আল্লাহ তাআলার সাক্ষাত সংঘটিত হবে)।" নবীজি বলেন, "আল্লাহর কসম! তিনি মানুষকে তাঁর সাক্ষাতের চেয়ে বেশি পছন্দনীয় ও আকাঙ্ক্ষিত কোনো জিনিসই প্রদান করেননি।" [১]
'অথচ আল্লাহর সেই সাক্ষাত হবে তাদের কাছে বাড়তিপ্রাপ্তি।'
'এখানে একটা অস্পষ্টতার নিরসন হয়; অনেককেই এ কথা বলতে শোনা যায়- "আমি জান্নাতের আশা কিংবা জাহান্নামের ভয়ে তোমার ইবাদত করিনি, আল্লাহ; আমি তো ইবাদত করেছি কেবল তোমার সাক্ষাতের আশায়।” এ ধরনের লোকেরা মনে করে, জান্নাতে খাবার-দাবার, পোশাক-পরিচ্ছদ, বিয়েশাদি তথা মাখলুকের মাধ্যমে বিনোদন ছাড়া আর কিছু নেই। তাদের এই ধারণার প্রবক্তা মূলত আল্লাহর সাক্ষাত অস্বীকারকারী জাহমিয়্যা সম্প্রদায়; এবং সেইসব লোক, যারা আল্লাহর সাক্ষাত স্বীকার করলেও সেটিকে কোনো নিয়ামত ও সুখ লাভের মাধ্যম বলতে নারাজ। কিছু 'ভাব ধরা ফকিহ'ও এমন কথা বলে। এরা সবাই বলতে চায়, জান্নাত ও (সুখময়) আখিরাত বলতে কেবল মাখলুকের মাধ্যমে বিনোদনই বোঝায়। এমন ভ্রান্তিতে পড়েই কোনো কোনো শাইখ যখন শুনেছেন যে, কুরআন বলছে-
مِنكُم مِّن يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ الآخِرَةَ
"তোমাদের কারও কাম্য ছিল দুনিয়া আর কারও কাম্য আখেরাত।”[১]
তখন তাঁরা বললেন-“এখানে তারা কোথায়, যারা আল্লাহকে চাইত? আবার, কেউ যখন শুনল, কুরআন বলছে-
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُم وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ
"আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত।"[২]
তখন তারা বলল, "জান ও মাল শুধু জান্নাতের বিনিময়েই? আল্লাহর সাক্ষাত গেল কোথায় তাহলে?"
'তাদের এসব কথার কারণ তাদের এই ধারণা, যে, আল্লাহর সাক্ষাত জান্নাতের অন্তর্ভুক্ত নয়; অথচ সঠিক কথা তো এটিই যে, জান্নাতেই থাকবে সমস্ত নিয়ামত ও সুখের উপকরণ; যার শ্রেষ্ঠটি হলো আল্লাহর সাক্ষাত। কারণ, এটি এমন এক নিয়ামত, যা জান্নাতিরা জান্নাতেই পাবে বলে ব্যক্ত করা হয়েছে শরিয়তের বহু বক্তব্যে; যেমনিভাবে জাহান্নামিরা রবের দর্শন থেকে বঞ্চিত হয়ে দাখিল হবে জাহান্নামে。
'আসলে, জান্নাত কিবা জাহান্নামের জন্য না-শুধু আল্লাহর সাক্ষাতের জন্যই তাঁর ইবাদত করার প্রবক্তা যিনি, তিনি যদি কথাটি বুঝে-শুনেই বলে থাকেন, তাহলে তার কথার অর্থ এই হবে, আল্লাহ তাআলা জান্নাত-জাহান্নাম না বানালেও তাঁর ইবাদত করা আবশ্যক হতো; ফলে নৈকট্য অর্জন করে তাঁর সাক্ষাতও পাওয়া যেত。
'উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
نِعْمَ الْعَبْدُ صُهَيْبٌ لَوْ لَمْ يَخْفِ اللَّهَ لَمْ يَعْصِهُ
"সুহাইব তো আল্লাহর এক উত্তম বান্দা; সে আল্লাহকে ভয় না পেলেও তাঁর নাফরমানি করবে না।”[৩]
অর্থাৎ, তাঁর ভেতরে ভীতি না থাকলেও আল্লাহর অবাধ্য হবে না সে। কারণ, তাঁর ভেতরে মহান আল্লাহর যেই বড়ত্ব ও মর্যাদার অনুভূতি বিরাজ করে সেটিই তাকে আল্লাহর নাফরমানি থেকে ফিরিয়ে রাখবে。
'রবের (সাক্ষাতে তার) তাজাল্লির নিয়ামত পাওয়ার আশা কিংবা তাঁর দর্শন থেকে বঞ্চনার শাস্তি পাওয়ার ভয় মূলত রবের প্রতি বান্দার মহব্বতেরই নিদর্শন। তাঁর প্রতি ভালোবাসা থাকলেই, তাঁর তাজাল্লির ভালোবাসা এবং তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয় থাকবে বান্দার মনে। যদিও বাহ্যত কোনো মাখলুকের কাছে নিয়ামতের আশা বা শাস্তির ভয় থাকে。
'ফলে, বান্দা আল্লাহরই ইবাদত করবে; যার আবশ্যিক পরিণতি হলো আল্লাহর ভালোবাসা; আর এরচেয়ে মধুর ও শ্রেষ্ঠ কোনো ভালোবাসা তো কোথাও নেই। এজন্য জান্নাতিরা সব কিছুর চেয়ে আল্লাহর ভালোবাসাতেই বেশি নিমগ্ন হয়ে থাকবে। জান্নাতিদের সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসে এসেছে-
يُلْهَمُونَ التَّسْبِيحَ والْحَمْدَ ، كما تُلْهَمُونَ النَّفَسَ
"তাদের মধ্যে তাসবীহ ও হামদ পাঠের শক্তি তোমাদের শ্বাসক্রিয়ার মতো স্বয়ংক্রিয় করে দেওয়া হবে।" [১]
'দেখুন, হাদিসে জান্নাতির চূড়ান্ত উপভোগের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে আল্লাহর স্মরণ ও ভালোবাসা দ্বারা। তাই, কোনো মাখলুকের কাছে কোনো শাস্তির ভয় বা কোনো নিয়ামতের আশা থাকলেও সেটা তাকে টেনে নেয় মূল ঠিকানার দিকেই; আল্লাহর ভালোবাসার পথে। তাই মৌলিকভাবে ভালোবাসা-ই হলো এই সব কিছুর উৎস।'
টিকাঃ
[১] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ২৪
[২] সূরা মায়িদা, আয়াত-ক্রম: ৫৪
[১] মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ২৫০৪।
[১] বুখারি-কিতাবুর রিকাক; হাদিস-ক্রম: ৬৫০২
[১] সূরা ইসরা, আয়াত-ক্রম : ৫৭
[২] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ২১৮
[১] মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৪২৬
[১] সূরা আলি ইমরান; আয়াত-ক্রম: ১৫২
[২] সূরা তাওবা; আয়াত-ক্রম: ১১১
[৩] সাখাবি রহিমাহুল্লাহ বলেন: উসূলবিদ, ইলমে মাআনি ও আরবী সাহিত্যবিদদের মধ্যে এটি উমর রা.-এর বক্তব্য হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়ে গেছে; বাহাউদ্দিন সুবকি রাহিমাহুল্লাহ জানিয়েছেন, যে, তিনি এই বর্ণনাটি কোনও কিতাবে পাননি। একই কথা বলেছেন বেশ কয়েকজন ভাষাবিদ। আল-মাকাসিদুল হাসানাহ, ৪৪৯
[১] মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ২৮৫৮
📄 বান্দা ও রবের মধ্যে ভালোবাসার বিনিময় হয়
আমি বললাম, 'শাইখ, আমরা এতক্ষণের আলোচনায় বুঝলাম, ভালোবাসা যেমন মুমিনদের পক্ষ থেকে হয় আল্লাহর প্রতি; তেমনই আল্লাহর তরফ থেকেও হয় মুমিনদের প্রতি। এই বাস্তবতা নিয়ে আমরা আপনার কাছ থেকে আরও কিছু কথা শুনতে চাই; আরও কিছু উদাহরণ জানতে চাই।'
শাইখ বললেন, 'বন্ধুগণ, বিষয়টির বাস্তবতা এমন যে, কুরআন ও সুন্নাহয় এ ব্যাপারে অনেক বক্তব্য এসেছে। আল্লাহর প্রতি মুমিন বান্দার ভালোবাসার ব্যাপারে কুরআন বলছে—
وَالَّذِينَ ءَامَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ | “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর প্রতি তাদের ভালোবাসা সবচেয়ে প্রবল।”[১]
'অন্যত্র আছে—
يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ : | “তিনি তাদেরকে ভালোবাসেন; তারাও ভালোবাসে তাকে।”[২]
'আরেক জায়গায় এসেছে—
قُلْ إِن كَانَ ءَابَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَنُكُمْ وَأَزْوَجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَلٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجْرَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسْكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ، وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ ، فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَ اللَّهُ ۖ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَسِقِينَ ٢٤
"বলুন! তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা—যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় করো; এবং তোমাদের বাসস্থান—যাকে তোমরা পছন্দ করো; এসব যদি তোমাদের নিকট আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদের চেয়ে প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত; আর, আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।”[৩]
'সহিহাহনে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
ثَلَاثُ مَنْ كُنْ فِيْهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الْإِيْمَانِ أَن يَكُوْنَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا ، وَأَن يُحِبُّ الْمَرْءُ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ ، وَأَن يَكْرَهَ أَن يَعُودَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَن يُقْذَفَ فِي النَّارِ
“তিনটি গুণ যার মধ্যে আছে, সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারে: ১. আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তার নিকট অন্য সকল কিছু থেকে অধিক প্রিয় হওয়া ২. কাউকে একমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা ৩. কুফরিতে প্রত্যাবর্তনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবার মতো অপছন্দ করা।" [১]
'আসলে, রাসূলের ভালোবাসা তো আল্লাহর ভালোবাসার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত; আল্লাহকে ভালোবাসতে গেলে রাসূলকে ভালোবাসতেই হবে। ওই যে কুরআনে সূরা তওবার ২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- “অন্য কারও প্রতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চেয়ে বেশি ভালোবাসা হলে...।" বুখারি ও মুসলিমে এসেছে-
عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ
'আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন- "তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ-না আমি তার নিকট তার পিতা, সন্তান ও সব মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয়পাত্র হই।”[২]
'সহিহ বুখারিতে এসেছে-
قَالَ لَهُ عُمَرُ ..... وَاللَّهِ لَأَنْتَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ نَفْسِي
'আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম-এর সূত্রে বর্ণিত: "... উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন, আল্লাহর কসম! আপনি আমার কাছে আমার প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয়।" [১]
'এমনিভাবে নবীজির সাহাবা ও পরিবারের প্রতি ভালোবাসাও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। সহিহ হাদিসে এসেছে-
آيَةُ الْإِيْمَانِ حُبُّ الْأَنْصَارِ ، وَآيَةُ النِّفَاقِ بُغْضُ الْأَنْصَارِ
"ঈমানের আলামত হলো আনসারদেরকে ভালবাসা; আর মুনাফিকির চিহ্ন হলো আনসারদেরকে অপছন্দ করা।”[২]
'অন্যত্র নবীজি বলেন-
لَا يُبْغِضُ الْأَنْصَارَ رَجُلٌ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে, সে আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে পারে না।”[৩]
'অন্যত্র এসেছে-
عَنْ عَلِيٍّ ، قَالَ عَهِدَ إِلَيَّ النَّبِيُّ الْأُمِيُّ ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَنَّهُ لَا يُحِبُّنِيْ إِلَّا مُؤْمِنٌ وَلَا يُبْغِضُنِي إِلَّا مُنَافِقٌ .
'হযরত আলী রা. বলেন- “উম্মি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে অবগত করলেন যে, মুমিন ব্যক্তিরাই আমাকে ভালোবাসবে এবং মুনাফিকরাই আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে।” [৪]
'নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন-
لَا يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ حَتَّى يُحِبُّوْكُمُ اللَّهِ وَلِقَرَابَتِي “মুমিনরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না তারা তোমাদেরকে (বনু হাশিমকে) আল্লাহর জন্য এবং আমার আত্মীয় হিসেবে ভালোবাসবে।” [১]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " أَحِبُّوا اللَّهَ لِمَا يَغْذُوكُمْ مِنْ نِعَمِهِ وَأَحِبُّوْنِي بِحُبِّ اللَّهِ وَأَحِبُّوا أَهْلَ بَيْتِي لِحُبّي * " 'ইবনু আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা আল্লাহ তাআলাকে মহব্বত করো; কেননা তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিয়ামাতরাজি খাওয়াচ্ছেন। আর আল্লাহ তাআলার মহব্বতে তোমরা আমাকেও মহব্বত করো; এবং আমার মহব্বতে আমার আহলে বাইতকেও মহব্বত করো।” [২]
‘এ তো গেল বান্দার পক্ষ থেকে ভালোবাসার কথা। আর আল্লাহর তরফ থেকে বান্দার প্রতি ভালোবাসার ব্যাপারে এসেছে—
وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَهِيمَ خَلِيلًا “আল্লাহ ইবরাহিমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।”[৩]
يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ "আল্লাহ ভালোবাসেন তাদের; তারাও ভালোবাসে তাঁকে।” [৪]
أَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ "তোমরা ইহসান করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ইহসানকারীদের ভালোবাসেন।" [১]
وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ "তোমরা ন্যায় বিচার করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালোবাসেন ন্যায় বিচারকদের।"[২]
فَأَتِمُّوا إِلَيْهِمْ عَهْدَهُمْ إِلَى مُدَّتِهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ "সময়মতো তাদের ওয়াদা পূর্ণ করে দাও; নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালোবাসেন মুত্তাকিদের।”[৩]
فَمَا اسْتَقْمُوا لَكُمْ فَاسْتَقِيمُوا لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ "অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাকো। নিঃসন্দেহের আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।” [৪]
إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيْلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوصٌ "নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালোবাসেন তাদের, যারা তাঁর পথে কিতাল (সশস্ত্র লড়াই) করে সীসাঢালা প্রাচীরের মতো-কাতারবদ্ধ হয়ে।" [৫]
بَلَى مَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ وَاتَّقَى فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِيْنَ "বরং যে অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে; আল্লাহ এমন মুত্তাকিকেই ভালোবাসেন।” [৬]
'বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ বহু ওয়াজিব ও মুস্তাহাব আমল আমরা জানি, আল্লাহ যেগুলো পছন্দ করেন; এই আমলগুলোকে তিনি পছন্দ করার পাশাপাশি এর ওপর আমলকারী মুমিন বান্দাদেরও ভালোবাসেন। কুরআন ও সুন্নাহতে এই ভালোবাসার বাস্তবতা নিয়েই বহু বক্তব্য এসেছে。
'আর উম্মাহর মহান পূর্বসূরি ইমাম মুহাদ্দিস ও তাসাউফের মাশায়েখে কেরام এ ব্যাপারে একমত যে, সত্তাগত কারণেই আল্লাহ তাআলা হাকিকি (মৌলিক) ভালোবাসার পাত্র; বরং তাঁর ভালোবাসাই সর্বোচ্চ ও সর্বোন্নত; তাই তো তিনি ইরশাদ করেছেন-
وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ | “মুমিনদের মধ্যে আল্লাহর ভালোবাসা সবচেয়ে প্রবল।”[১]
'বান্দা যেমন তাঁকে ভালোবাসবে; তিনিও ভালোবাসবেন বান্দার ভালোবাসার অন্যসব জিনিসকে; কিন্তু আল্লাহর তরফে এটা মৌলিক ভালোবাসা না।'
টিকাঃ
[১] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ১৬৫
[২] সূরা মায়িদা, আয়াত-ক্রম: ৫৪
[৩] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ২৪
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ১৬, ২১, ৬০৪১, ৬৯৪১; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৬৯
[২] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ১৫
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৬৬৩২
[২] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ১৭
[৩] মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৭৬, ৭৭
[৪] মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৭৮; তিরমিযি, হাদিস-ক্রম: ৩৭৩৬
[১] ইবনু মাজাহ, হাদিস-ক্রম ১৪০; মুসনাদু আহমাদ, হাদিস-ক্রম: ১৭৭৭; হাদিসটি যঈফ— শাইখ শুয়াইব আরনাউত, তাখরিজুল আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম, হাদিস-ক্রম: ৮/৪৩
[২] তিরমিযি, হাদিস-ক্রম: ৩৭৮৯; হিলয়াতুল আওলিয়া, হাদিস-ক্রম: ৩/২৪৫; সনদগত দুর্বলতা আছে।
[৩] সূরা নিসা; আয়াত-ক্রম: ১২৫
[৪] সূরা মায়িদা; আয়াত-ক্রম: ৫৪
[১] সূরা বাকারা; আয়াত-ক্রম: ১৯৫
[২] সূরা হুজুরাত; আয়াত-ক্রম: ০৯
[৩] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ০৪
[৪] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ০৭
[৫] সূরা সাফ, আয়াত-ক্রম: ০৪
[৬] সূরা আলি ইমরান, আয়াত-ক্রম: ৭৬
[১] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ১৬৫