📄 আশা-প্রত্যাশা কেবল আল্লাহর নিকটেই করা
'আল্লাহর তাওফিকে আমি বলতে চাই— বান্দার জন্য জরুরি হলো, নিজের যত স্বপ্ন-আশা, সব কেবল আল্লাহর প্রতি ভরসা করেই সাজাবে; এবং আল্লাহর তরফ থেকে—নাউযুবিল্লাহ—কোনো জুলুমের আশঙ্কা করবে না। কারণ, আল্লাহ তো মানুষের প্রতি এক বিন্দুও জুলুম করেন না; তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করে। তো, বান্দা কোনো কিছুর আশঙ্কা করলে নিজ পাপের শাস্তি ভোগের আশঙ্কাই করবে। এ কথাটিই বোঝানো হয়েছে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু'র কথায়, যে— "বান্দা আশা করবে শুধু আল্লাহর কাছে; আর ভয় করবে শুধু নিজ পাপের।"
'একটি মারফু হাদিসে এসেছে—
دَخَلَ عَلَى شَاتٍ وَهُوَ فِي الْمَوْتِ ، فَقَالَ : كَيْفَ تَجِدُكَ ؟ قَالَ : أَرْجُو اللَّهَ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَأَخَافُ ذُنُوْبِي ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا يَجْتَمِعَانِ فِي قَلْبِ عَبْدٍ فِي مِثْلِ هَذَا الْمَوْطِنِ ، إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ مَا يَرْجُوْ ، وَآمَنَهُ مِمَّا يَخَافُ
“নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুমূর্ষু যুবকের কাছে গেলেন; তাকে বললেন, 'কেমন বোধ করছ?' সে বলল, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি তো আল্লাহর নিকট (রহমত) আশা করছি; কিন্তু আবার নিজের পাপের কারণে ভয়ও হচ্ছে।' নবীজি বললেন, 'এমন সময়ে যার অন্তরে এই দুটি (আশা ও ভয়) বিষয় একত্র হয়, আল্লাহ তাআলা তাকে তার কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি দান করেন; এবং তার ভয়ের ব্যাপার থেকে তাকে হেফাজত করেন।" [১]
'শুধু আল্লাহ তাআলাকেই সব আশা ও আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুরূপে গ্রহণ করতে হবে; কোনো মাখলুক বা কোনো বান্দার শক্তি ও কাজকে নয়; কারণ, গাইরুল্লাহকে আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্ররূপে গ্রহণ করাটা শিরক।'
'যদিও বান্দাকে নিজের আশা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিভিন্ন উপায় উপকরণ গ্রহণ করতে হয়; কিন্তু কেবল সেগুলো দিয়েই তো কাজ হয়ে যায় না; বরং কোনো- না-কোনো সহায়কের প্রয়োজন হয়; এবং সবরকম প্রতিবন্ধকতাও দূর করতে হয়। আর, সহায়কের যোগান ও প্রতিবন্ধকতার প্রতিরোধ তো হয় শুধু মহামহিম আল্লাহর ইচ্ছাতেই।'
'এজন্যই বলা হয়-উপায় উপকরণের প্রতি পুরোপুরি ঝুঁকে পড়াটা হলো তাওহিদের ক্ষেত্রে শিরক; সেগুলোকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ না করাটা হলো বোকামি; আবার সেগুলো থেকে একেবারেই বিমুখ হওয়াটা শরিয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়।'
'এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেন- فَإِذَا فَرَغْتَ فَأَنصَبْ . وَإِلَى رَبِّكَ فَأَرْغَب "অবসর হলে বিশ্রাম করুন; এবং মনোনিবেশ করুন আপনার রবের প্রতি।"[১]
'দেখুন, এখানে শুধু রবের প্রতিই মনোনিবেশ করতে আদেশ করা হয়েছে। 'আবার, অন্যত্র ইরশাদ করেছেন- وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ | “তোমরা মুমিন হয়ে থাকলে আল্লাহর ওপরেই ভরসা করো।”[২]
'সুতরাং অন্তরের ভরসা তার ওপরেই হবে, যার কাছে সে আশা করে। এখন, আল্লাহর দিকে না তাকিয়ে যে ব্যক্তি নিজের জ্ঞান, কর্ম ও শক্তির কাছে; নিজের সম্পদ ও ক্ষমতার কাছে; কিংবা, নিজের শাইখ ও বন্ধু-স্বজনের কাছে কোনো আশা করবে, (যারা মূলত তার আশা পূরণের মাধ্যম মাত্র), সে তো একরকম এই মাধ্যমগুলোর ওপরেই ভরসা করে বসবে; আর, যে ব্যক্তি কোনো মাখলুকের কাছে কিছু আশা করে বা মাখলুকের ওপর ভরসা করে, তার সব ধারণা-কল্পনা ব্যর্থ হবে; কারণ সে আসলে মুশরিক-একমাত্র ভরসাস্থল রবের সঙ্গে অংশীস্থাপনকারী।'
'ইরশাদ হচ্ছে—
وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الريح فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ
“আর, আল্লাহর সঙ্গে যে শিরক করল, সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল; এরপর মৃতভোজী পাখি তাকে নিয়ে গেল ছোঁ মেরে; কিংবা তাকে উড়িয়ে নিয়ে দূরে কোথাও ফেলে দিল ঝড়ো বাতাস।””[১]
টিকাঃ
[১] তিরমিযি, হাদিস-ক্রম: ৯৮
[১] সূরা শারহ (আলাম নাশরাহ); আয়াত-ক্রম: ৭-৮
[২] সূরা মায়িদা; আয়াত-ক্রম: ২৩
[১] সূরা হাজ; আয়াত-ক্রম: ৩১
'আল্লাহর তাওফিকে আমি বলতে চাই— বান্দার জন্য জরুরি হলো, নিজের যত স্বপ্ন-আশা, সব কেবল আল্লাহর প্রতি ভরসা করেই সাজাবে; এবং আল্লাহর তরফ থেকে—নাউযুবিল্লাহ—কোনো জুলুমের আশঙ্কা করবে না। কারণ, আল্লাহ তো মানুষের প্রতি এক বিন্দুও জুলুম করেন না; তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করে। তো, বান্দা কোনো কিছুর আশঙ্কা করলে নিজ পাপের শাস্তি ভোগের আশঙ্কাই করবে। এ কথাটিই বোঝানো হয়েছে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু'র কথায়, যে— "বান্দা আশা করবে শুধু আল্লাহর কাছে; আর ভয় করবে শুধু নিজ পাপের।"
'একটি মারফু হাদিসে এসেছে—
دَخَلَ عَلَى شَاتٍ وَهُوَ فِي الْمَوْتِ ، فَقَالَ : كَيْفَ تَجِدُكَ ؟ قَالَ : أَرْجُو اللَّهَ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَأَخَافُ ذُنُوْبِي ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا يَجْتَمِعَانِ فِي قَلْبِ عَبْدٍ فِي مِثْلِ هَذَا الْمَوْطِنِ ، إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ مَا يَرْجُوْ ، وَآمَنَهُ مِمَّا يَخَافُ
“নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুমূর্ষু যুবকের কাছে গেলেন; তাকে বললেন, 'কেমন বোধ করছ?' সে বলল, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি তো আল্লাহর নিকট (রহমত) আশা করছি; কিন্তু আবার নিজের পাপের কারণে ভয়ও হচ্ছে।' নবীজি বললেন, 'এমন সময়ে যার অন্তরে এই দুটি (আশা ও ভয়) বিষয় একত্র হয়, আল্লাহ তাআলা তাকে তার কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি দান করেন; এবং তার ভয়ের ব্যাপার থেকে তাকে হেফাজত করেন।" [১]
'শুধু আল্লাহ তাআলাকেই সব আশা ও আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুরূপে গ্রহণ করতে হবে; কোনো মাখলুক বা কোনো বান্দার শক্তি ও কাজকে নয়; কারণ, গাইরুল্লাহকে আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্ররূপে গ্রহণ করাটা শিরক।'
'যদিও বান্দাকে নিজের আশা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিভিন্ন উপায় উপকরণ গ্রহণ করতে হয়; কিন্তু কেবল সেগুলো দিয়েই তো কাজ হয়ে যায় না; বরং কোনো- না-কোনো সহায়কের প্রয়োজন হয়; এবং সবরকম প্রতিবন্ধকতাও দূর করতে হয়। আর, সহায়কের যোগান ও প্রতিবন্ধকতার প্রতিরোধ তো হয় শুধু মহামহিম আল্লাহর ইচ্ছাতেই।'
'এজন্যই বলা হয়-উপায় উপকরণের প্রতি পুরোপুরি ঝুঁকে পড়াটা হলো তাওহিদের ক্ষেত্রে শিরক; সেগুলোকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ না করাটা হলো বোকামি; আবার সেগুলো থেকে একেবারেই বিমুখ হওয়াটা শরিয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়।'
'এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেন- فَإِذَا فَرَغْتَ فَأَنصَبْ . وَإِلَى رَبِّكَ فَأَرْغَب "অবসর হলে বিশ্রাম করুন; এবং মনোনিবেশ করুন আপনার রবের প্রতি।"[১]
'দেখুন, এখানে শুধু রবের প্রতিই মনোনিবেশ করতে আদেশ করা হয়েছে। 'আবার, অন্যত্র ইরশাদ করেছেন- وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ | “তোমরা মুমিন হয়ে থাকলে আল্লাহর ওপরেই ভরসা করো।”[২]
'সুতরাং অন্তরের ভরসা তার ওপরেই হবে, যার কাছে সে আশা করে। এখন, আল্লাহর দিকে না তাকিয়ে যে ব্যক্তি নিজের জ্ঞান, কর্ম ও শক্তির কাছে; নিজের সম্পদ ও ক্ষমতার কাছে; কিংবা, নিজের শাইখ ও বন্ধু-স্বজনের কাছে কোনো আশা করবে, (যারা মূলত তার আশা পূরণের মাধ্যম মাত্র), সে তো একরকম এই মাধ্যমগুলোর ওপরেই ভরসা করে বসবে; আর, যে ব্যক্তি কোনো মাখলুকের কাছে কিছু আশা করে বা মাখলুকের ওপর ভরসা করে, তার সব ধারণা-কল্পনা ব্যর্থ হবে; কারণ সে আসলে মুশরিক-একমাত্র ভরসাস্থল রবের সঙ্গে অংশীস্থাপনকারী।'
'ইরশাদ হচ্ছে—
وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الريح فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ
“আর, আল্লাহর সঙ্গে যে শিরক করল, সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল; এরপর মৃতভোজী পাখি তাকে নিয়ে গেল ছোঁ মেরে; কিংবা তাকে উড়িয়ে নিয়ে দূরে কোথাও ফেলে দিল ঝড়ো বাতাস।””[১]
টিকাঃ
[১] তিরমিযি, হাদিস-ক্রম: ৯৮
[১] সূরা শারহ (আলাম নাশরাহ); আয়াত-ক্রম: ৭-৮
[২] সূরা মায়িদা; আয়াত-ক্রম: ২৩
[১] সূরা হাজ; আয়াত-ক্রম: ৩১
📄 শিরককারীর জন্য তার শিরকটা ভয়ের কারণ
আমি বললাম, 'মুহতারাম! এতক্ষণ আপনার যে আলোচনা শুনলাম, এতে করে, শিরক যে একটা ব্যর্থতা, ভীতি ও অবিচার; এবং শিরককারী লোকটা যে নিজেই নিজের ওপর অবিচারী; সে তার সব স্বপ্ন-আশায় ব্যর্থ; আর, মুসলিম হয়ে থাকলে, সে তার শত্রুর ভয়ে ভীত—এ কথা কি আমরা বলতে পারি না?'
শাইখ বললেন, 'বন্ধুগণ! এ কথা আমরা অবশ্যই বলতে পারি; এবং তা সঠিকও। কারণ, শিরককারী লোকটার আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র হলো মাখলুক; ফলে, এদের একটা প্রভাব তার ভেতরে সৃষ্টি হয়; এবং সে এদেরকে ভয় করে।'
'আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
سَنُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ بِمَا أَشْرَكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سلطنا
"আল্লাহ যে জিনিসের পক্ষে কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি, সে জিনিসকে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করার কারণে, আমি (আল্লাহ) কাফিরদের অন্তরে শিগগির ভীতি প্রক্ষেপণ করব।””[২]
'পক্ষান্তরে যে বান্দা শিরকমুক্ত সে পায় নিরাপত্তা। এমনটিই এসেছে কুরআনে—
الَّذِينَ ءَامَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَنَهُم بِظُلْمٍ أُوْلَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُونَ
"যারা ঈমান গ্রহণের পর একে জুলুমের কালিতে কলুষিত করেনি; তাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা; আর তারাই সুপথপ্রাপ্ত।”[১]
'এ আয়াতে বিবৃত "জুলুম” শব্দটাকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন "শিরক” বলে। সাহাবী ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে সহিহ হাদিসে এসেছে-
لَمَّا نَزَلَتْ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّنَا لَا يَظْلِمُ نَفْسَهُ قَالَ لَيْسَ كَمَا تَقُوْلُوْنَ لَمْ يَلْبِسُوا إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ بِشَرْكٍ أَوَلَمْ تَسْمَعُوْا إِلَى قَوْلِ لُقْمَانَ لِابْنِهِ يُيُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, "যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হলো- 'যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি-(সুরা আনআম, আয়াত-ক্রম: ৮২)' তখন (আমাদের জন্য তা কঠিন হয়ে দাঁড়াবার কারণে) আমরা বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে নিজের ওপর জুলুম করেনি!' নবীজি বললেন, 'তোমরা যা ভাবছ, তা নয়; আরে, এটা (সাধারণ কোনো জুলুম নয়; বরং এটা) হলো শিরক; তোমরা কি লুকমান (আলাইহিস সালাম)-এর সেই কথাটি শোনোনি? তিনি স্বীয় পুত্রকে লক্ষ্য করে বলেছেন, 'বেটা! আল্লাহর সঙ্গে শিরক কোরো না; নিশ্চয়ই শিরক হলো মহাজুলুম!”[২]
'আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللَّهِ أَندَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ ۖ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ ۖ وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ أَنَّ الْقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا وَأَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعَذَابِ. إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِينَ اتَّبِعُوا مِنَ الَّذِينَ اتَّبَعُواْ وَرَأَوُا الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الْأَسْبَابُ. وَقَالَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَتَتَبَرأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّءُوا مِنَّا ۗ كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَلَهُمْ حَسَرَتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُم بِخْرِجِينَ مِنَ النَّارِ
“আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে, এবং সেগুলোকে তেমন ভালোবাসে, যেমন ভালোবাসতে হয় আল্লাহকে। আর যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহর জন্য ভালবাসায় দৃঢ়তর। হায়, এ জালিমগণ (দুনিয়ায়) যখন কোন শাস্তি প্রত্যক্ষ করে তখনই যদি এটা বুঝত যে, সমস্ত শক্তি আল্লাহরই এবং আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর। স্মরণ করো সে সময় যখন যাদেরকে অনুসরণ করা হয়েছে, তারা অনুসারীদের থেকে আলাদা হয়ে যাবে এবং আযাব দেখতে পাবে। আর তাদের সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। আর যারা অনুসরণ করেছে তারা বলবে, 'যদি আমাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ হতো, তাহলে আমরা তাদের থেকে আলাদা হয়ে যেতাম, যেভাবে তারা আলাদা হয়ে গিয়েছে।' এভাবে আল্লাহ তাদেরকে তাদের আমলসমূহ দেখাবেন, তাদের জন্য আক্ষেপস্বরূপ। তারা কিন্তু জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবে না।”[১]
'অন্যত্র বলেন-
قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِهِ - فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا. أُوْلَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَىٰ رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا
“বলুন, আল্লাহ ব্যতীত যাদের তোমরা ইলাহ মনে করো, ডাকো না তাদের! (আরে), তারা তো তোমাদের কষ্ট দূর করা বা এটা পরিবর্তন করার ক্ষমতাও রাখে না। (আসলে) এরা যাদেরকে (ইলাহ মনে করে) ডাকে, তারাও তো রবের নিকটে মধ্যস্থতাকারী তালাশ করে, যে, নিজেদের মধ্যে কে বেশি রবের নৈকট্যপ্রাপ্ত; তারা তো রবের রহম প্রত্যাশা করে, আর ভয় করে তাঁর আযাব; নিশ্চয়ই আপনার রবের আযাব ভয়াবহ।”[২]
'মোটকথা, আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন উপকরণ ও মাধ্যমের কথা উল্লেখ করে, সেগুলোর ওপর ভরসা করতে নিষেধ করেন; এবং সবকিছু শুধু তাঁর নিকটেই আশা করতে বলেন।'
'আল্লাহ যখন ফেরেশতা অবতীর্ণ করেছিলেন, তখন বলেছিলেন—
وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرَىٰ لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُم بِهِ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ
“আল্লাহ তাকে তোমাদের জন্য কেবলই সুসংবাদ বানিয়েছেন; যেন তার মাধ্যমে তোমাদের অন্তর স্থির-প্রশান্ত হয়; আর সাহায্য তো হয় শুধু পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাবান আল্লাহর তরফ থেকেই।”[১]
'অন্যত্র বলেন—
إِن يَنصُرُكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّنْ بَعْدِهِ وَ عَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
"আল্লাহ সাহায্য করলে, কেউ তোমাদেরকে পরাজিত করতে পারবে না; কিন্তু তিনি লাঞ্ছিত করলে, তাঁর মুকাবেলায় কে এমন আছে যে তোমাদের সাহায্য করবে! তাই মুমিনরা যেন আল্লাহর ওপরই ভরসা করে।”[২]
টিকাঃ
[২] সূরা আলি ইমরান; আয়াত-ক্রম: ১৫১
[১] সূরা আনআম; আয়াত-ক্রম: ৮২
[২] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৩৩৩০
[১] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ১৬৫-১৬৭
[২] সূরা ইসরা, আয়াত-ক্রম: ৫৬-৫৭
[১] সূরা আলি ইমরান, আয়াত-ক্রম: ১২৬
[২] সূরা আলি ইমরান, আয়াত-ক্রম: ১৬০
আমি বললাম, 'মুহতারাম! এতক্ষণ আপনার যে আলোচনা শুনলাম, এতে করে, শিরক যে একটা ব্যর্থতা, ভীতি ও অবিচার; এবং শিরককারী লোকটা যে নিজেই নিজের ওপর অবিচারী; সে তার সব স্বপ্ন-আশায় ব্যর্থ; আর, মুসলিম হয়ে থাকলে, সে তার শত্রুর ভয়ে ভীত—এ কথা কি আমরা বলতে পারি না?'
শাইখ বললেন, 'বন্ধুগণ! এ কথা আমরা অবশ্যই বলতে পারি; এবং তা সঠিকও। কারণ, শিরককারী লোকটার আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র হলো মাখলুক; ফলে, এদের একটা প্রভাব তার ভেতরে সৃষ্টি হয়; এবং সে এদেরকে ভয় করে।'
'আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
سَنُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ بِمَا أَشْرَكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سلطنا
"আল্লাহ যে জিনিসের পক্ষে কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি, সে জিনিসকে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করার কারণে, আমি (আল্লাহ) কাফিরদের অন্তরে শিগগির ভীতি প্রক্ষেপণ করব।””[২]
'পক্ষান্তরে যে বান্দা শিরকমুক্ত সে পায় নিরাপত্তা। এমনটিই এসেছে কুরআনে—
الَّذِينَ ءَامَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَنَهُم بِظُلْمٍ أُوْلَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُونَ
"যারা ঈমান গ্রহণের পর একে জুলুমের কালিতে কলুষিত করেনি; তাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা; আর তারাই সুপথপ্রাপ্ত।”[১]
'এ আয়াতে বিবৃত "জুলুম” শব্দটাকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন "শিরক” বলে। সাহাবী ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে সহিহ হাদিসে এসেছে-
لَمَّا نَزَلَتْ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّنَا لَا يَظْلِمُ نَفْسَهُ قَالَ لَيْسَ كَمَا تَقُوْلُوْنَ لَمْ يَلْبِسُوا إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ بِشَرْكٍ أَوَلَمْ تَسْمَعُوْا إِلَى قَوْلِ لُقْمَانَ لِابْنِهِ يُيُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, "যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হলো- 'যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি-(সুরা আনআম, আয়াত-ক্রম: ৮২)' তখন (আমাদের জন্য তা কঠিন হয়ে দাঁড়াবার কারণে) আমরা বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে নিজের ওপর জুলুম করেনি!' নবীজি বললেন, 'তোমরা যা ভাবছ, তা নয়; আরে, এটা (সাধারণ কোনো জুলুম নয়; বরং এটা) হলো শিরক; তোমরা কি লুকমান (আলাইহিস সালাম)-এর সেই কথাটি শোনোনি? তিনি স্বীয় পুত্রকে লক্ষ্য করে বলেছেন, 'বেটা! আল্লাহর সঙ্গে শিরক কোরো না; নিশ্চয়ই শিরক হলো মহাজুলুম!”[২]
'আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللَّهِ أَندَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ ۖ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ ۖ وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ أَنَّ الْقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا وَأَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعَذَابِ. إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِينَ اتَّبِعُوا مِنَ الَّذِينَ اتَّبَعُواْ وَرَأَوُا الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الْأَسْبَابُ. وَقَالَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَتَتَبَرأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّءُوا مِنَّا ۗ كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَلَهُمْ حَسَرَتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُم بِخْرِجِينَ مِنَ النَّارِ
“আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে, এবং সেগুলোকে তেমন ভালোবাসে, যেমন ভালোবাসতে হয় আল্লাহকে। আর যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহর জন্য ভালবাসায় দৃঢ়তর। হায়, এ জালিমগণ (দুনিয়ায়) যখন কোন শাস্তি প্রত্যক্ষ করে তখনই যদি এটা বুঝত যে, সমস্ত শক্তি আল্লাহরই এবং আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর। স্মরণ করো সে সময় যখন যাদেরকে অনুসরণ করা হয়েছে, তারা অনুসারীদের থেকে আলাদা হয়ে যাবে এবং আযাব দেখতে পাবে। আর তাদের সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। আর যারা অনুসরণ করেছে তারা বলবে, 'যদি আমাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ হতো, তাহলে আমরা তাদের থেকে আলাদা হয়ে যেতাম, যেভাবে তারা আলাদা হয়ে গিয়েছে।' এভাবে আল্লাহ তাদেরকে তাদের আমলসমূহ দেখাবেন, তাদের জন্য আক্ষেপস্বরূপ। তারা কিন্তু জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবে না।”[১]
'অন্যত্র বলেন-
قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِهِ - فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا. أُوْلَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَىٰ رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا
“বলুন, আল্লাহ ব্যতীত যাদের তোমরা ইলাহ মনে করো, ডাকো না তাদের! (আরে), তারা তো তোমাদের কষ্ট দূর করা বা এটা পরিবর্তন করার ক্ষমতাও রাখে না। (আসলে) এরা যাদেরকে (ইলাহ মনে করে) ডাকে, তারাও তো রবের নিকটে মধ্যস্থতাকারী তালাশ করে, যে, নিজেদের মধ্যে কে বেশি রবের নৈকট্যপ্রাপ্ত; তারা তো রবের রহম প্রত্যাশা করে, আর ভয় করে তাঁর আযাব; নিশ্চয়ই আপনার রবের আযাব ভয়াবহ।”[২]
'মোটকথা, আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন উপকরণ ও মাধ্যমের কথা উল্লেখ করে, সেগুলোর ওপর ভরসা করতে নিষেধ করেন; এবং সবকিছু শুধু তাঁর নিকটেই আশা করতে বলেন।'
'আল্লাহ যখন ফেরেশতা অবতীর্ণ করেছিলেন, তখন বলেছিলেন—
وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرَىٰ لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُم بِهِ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ
“আল্লাহ তাকে তোমাদের জন্য কেবলই সুসংবাদ বানিয়েছেন; যেন তার মাধ্যমে তোমাদের অন্তর স্থির-প্রশান্ত হয়; আর সাহায্য তো হয় শুধু পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাবান আল্লাহর তরফ থেকেই।”[১]
'অন্যত্র বলেন—
إِن يَنصُرُكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّنْ بَعْدِهِ وَ عَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
"আল্লাহ সাহায্য করলে, কেউ তোমাদেরকে পরাজিত করতে পারবে না; কিন্তু তিনি লাঞ্ছিত করলে, তাঁর মুকাবেলায় কে এমন আছে যে তোমাদের সাহায্য করবে! তাই মুমিনরা যেন আল্লাহর ওপরই ভরসা করে।”[২]
টিকাঃ
[২] সূরা আলি ইমরান; আয়াত-ক্রম: ১৫১
[১] সূরা আনআম; আয়াত-ক্রম: ৮২
[২] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৩৩৩০
[১] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ১৬৫-১৬৭
[২] সূরা ইসরা, আয়াত-ক্রম: ৫৬-৫৭
[১] সূরা আলি ইমরান, আয়াত-ক্রম: ১২৬
[২] সূরা আলি ইমরান, আয়াত-ক্রম: ১৬০
📄 আশার উপায়-মাধ্যম
পাঠক! যেহেতু অন্তরের সব স্বপ্ন-আশার মূলে থাকবেন আল্লাহ তাআলা; তাই আমরা নিজেদের মধ্যে এই রকমের স্বপ্ন-আশা কী করে জাগিয়ে তুলব, এর উপায়-মাধ্যমই বা কী—সে সম্পর্কেও শাইখকেই জিজ্ঞেস করা ভালো মনে করছি।
এ ব্যাপারে শাইখকে যখন জিজ্ঞেস করলাম, তিনি জবাব দিলেন, 'অন্তরে আল্লাহ-কেন্দ্রিক স্বপ্ন-আশা জাগিয়ে তোলার মাধ্যম হলো দুআ। দুআ আবার দুই প্রকার; ইবাদত হিসেবে দুআ, কোনো কিছু চাওয়ার হিসেবে দুআ। এই উভয় প্রকার দুআর কোনোটিই কিন্তু গাইরুল্লাহর কাছে করা যাবে না। তাই, আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে ইলাহ সাব্যস্তকারীর পরিণাম হলো ভর্ৎসনা ও লাঞ্ছনা।'
'আশা ও স্বপ্নপোষা-মানুষ যেহেতু আখেরে কোনো কিছুর প্রার্থী ও অন্বেষীই; এজন্য যেকোনো কিছুর আশা ও প্রার্থনা কেবল আল্লাহর কাছেই করতে হবে; অন্য কারও কাছে নয়।'
'এজন্যই সহিহ হাদিসে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
مَا أَتَاكَ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ سَائِلٍ وَلَا مُشْرِفِ فَخُذْهُ ، وَمَا لَا فَلَا تُتْبِعُه نَفْسَكَ
“(আল্লাহ ছাড়া অন্য) কারও কাছে প্রার্থনা ও আকাঙ্ক্ষা ব্যতীতই তোমার কাছে কোনো সম্পদ এলে, সেটা গ্রহণ করতে পারো; অন্যথায় সেটার পেছনে পড়ো না।”[১]
'আকাঙ্ক্ষাকারী তো নিজের মনে মনে আকাঙ্ক্ষা করে; আর প্রার্থনাকারী প্রার্থনা করে নিজের জবান দিয়ে।'
'বুখারি ও মুসলিম শরিফে আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন-
أَصَابَتْنَا فَاقَةٌ فَجِئْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَسْأَلَهُ فَوَجَدْتُهُ يَخْطُبُ النَّاسَ وَهُوَ يَقُوْلُ أَيُّهَا النَّاسُ ، وَاللَّهِ مَهْمَا يَكُنْ عِنْدَنَا مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ نَدَّخِرَهُ عَنْكُمْ ، وَإِنَّهُ مَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ ، وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّةٌ اللهُ ، وَمَنْ يَتَصَبَّرُ يُصَبِّرْهُ اللهُ ، وَمَا أُعْطِيَ أَحَدُ عَطَاءً خَيْراً وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ “
"আহার না পাওয়ার কষ্টে একবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম কিছু চাইতে। দেখি, তিনি মানুষদেরকে বলছেন, 'হে লোকেরা! আল্লাহর শপথ! আমাদের নিকট কিছু থাকলে সেটা তোমাদেরকে না দিয়ে জমা করে রাখি না; তবে (জেনে রেখো), যে ব্যক্তি অমুখাপেক্ষী থাকতে চায়, তাকে আল্লাহ অমুখাপেক্ষীই রাখেন; যে (কারও কাছে চাওয়া থেকে) পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন; যে সবর অবলম্বন করতে চায়, আল্লাহ তাকে সবরের তাওফিক দেন; আর কখনো সবরের চেয়ে উত্তম ও প্রশস্ত কোনো নিয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।" [১]
'এখানে অমুখাপেক্ষিতা মানে, কারও কাছে মনে মনে কোনো কিছুর আশা বা কামনা না করা। আর পবিত্র থাকার মানে, জবানে কারও কাছে কিছু চাওয়া থেকে বিরত থাকা।'
'ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বলকে তাওয়াক্কুল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি জবাবে বলেছিলেন- “তাওয়াক্কুল হলো, মাখলুকের কাছ থেকে আশা ছিন্ন করা; অর্থাৎ, কেউ তোমাকে কোনো কিছু দেবে-এমন আশা পরিত্যাগ করা।'
'লোকেরা বলল, “এটার দলিল কী?” তিনি বললেন, "জিবরিল আ. যখন ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, আপনার কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে কিনা? তখন ইবরাহিম আ. বলেছিলেন, আপনার কাছে কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই।""
'এ-জাতীয় উদাহরণ থেকে এটাই বোঝা যায় যে, বান্দা নিজের ভালো কামনা করলে, কিংবা মন্দ থেকে বাঁচতে চাইলে আল্লাহর দিকেই মনোনিবেশ করতে হবে; অন্য কারও দিকে নয়। এজন্যই বিপদগ্রস্ত নবী ইউনুস আলাইহিস সালাম তাঁর দুআয় বলেছেন-“(হে আল্লাহ) আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।””
'বুখারি ও মুসলিম শরিফে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বিবৃত হয়েছে, তিনি বলেন, বিপদের সময় নবীজি পড়তেন-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ العظيم ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
"মহামহিম ও ধৈর্যশীল আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই; মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই; আসমানসমূহ ও জমিনের রব, মর্যাদাপূর্ণ আরশের রব আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই।"[১]
'নবীজি এই শব্দ-বাক্যগুলো উচ্চারণ করতেন। কারণ, এগুলোতে তাওহিদের মূলরূপ ফুটে ওঠে; বান্দার পক্ষ থেকে নিজের প্রতিপালককে ইলাহরূপে মেনে নেওয়া হয়; এবং ওই একক ও অদ্বিতীয় সত্তার নিকটেই যে বান্দার সব আশা-আকাঙ্ক্ষা সে কথা স্পষ্ট হয়। ফলে, এগুলো সংবাদ-মূলক বাক্য হলেও এতে প্রশংসিত ওই সুমহান সত্তার নিকটে বান্দার প্রার্থনাও উহ্য থাকে।'
টিকাঃ
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ১৪৭৩; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ১০৪৫; শব্দগত সামান্য তারতম্য আছে。
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ১৪৬৯; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ১০৫৩; শব্দগত সামান্য তারতম্য আছে।
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৬৩৪৬; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ২৭৩০
পাঠক! যেহেতু অন্তরের সব স্বপ্ন-আশার মূলে থাকবেন আল্লাহ তাআলা; তাই আমরা নিজেদের মধ্যে এই রকমের স্বপ্ন-আশা কী করে জাগিয়ে তুলব, এর উপায়-মাধ্যমই বা কী—সে সম্পর্কেও শাইখকেই জিজ্ঞেস করা ভালো মনে করছি।
এ ব্যাপারে শাইখকে যখন জিজ্ঞেস করলাম, তিনি জবাব দিলেন, 'অন্তরে আল্লাহ-কেন্দ্রিক স্বপ্ন-আশা জাগিয়ে তোলার মাধ্যম হলো দুআ। দুআ আবার দুই প্রকার; ইবাদত হিসেবে দুআ, কোনো কিছু চাওয়ার হিসেবে দুআ। এই উভয় প্রকার দুআর কোনোটিই কিন্তু গাইরুল্লাহর কাছে করা যাবে না। তাই, আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে ইলাহ সাব্যস্তকারীর পরিণাম হলো ভর্ৎসনা ও লাঞ্ছনা।'
'আশা ও স্বপ্নপোষা-মানুষ যেহেতু আখেরে কোনো কিছুর প্রার্থী ও অন্বেষীই; এজন্য যেকোনো কিছুর আশা ও প্রার্থনা কেবল আল্লাহর কাছেই করতে হবে; অন্য কারও কাছে নয়।'
'এজন্যই সহিহ হাদিসে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
مَا أَتَاكَ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ سَائِلٍ وَلَا مُشْرِفِ فَخُذْهُ ، وَمَا لَا فَلَا تُتْبِعُه نَفْسَكَ
“(আল্লাহ ছাড়া অন্য) কারও কাছে প্রার্থনা ও আকাঙ্ক্ষা ব্যতীতই তোমার কাছে কোনো সম্পদ এলে, সেটা গ্রহণ করতে পারো; অন্যথায় সেটার পেছনে পড়ো না।”[১]
'আকাঙ্ক্ষাকারী তো নিজের মনে মনে আকাঙ্ক্ষা করে; আর প্রার্থনাকারী প্রার্থনা করে নিজের জবান দিয়ে।'
'বুখারি ও মুসলিম শরিফে আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন-
أَصَابَتْنَا فَاقَةٌ فَجِئْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَسْأَلَهُ فَوَجَدْتُهُ يَخْطُبُ النَّاسَ وَهُوَ يَقُوْلُ أَيُّهَا النَّاسُ ، وَاللَّهِ مَهْمَا يَكُنْ عِنْدَنَا مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ نَدَّخِرَهُ عَنْكُمْ ، وَإِنَّهُ مَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ ، وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّةٌ اللهُ ، وَمَنْ يَتَصَبَّرُ يُصَبِّرْهُ اللهُ ، وَمَا أُعْطِيَ أَحَدُ عَطَاءً خَيْراً وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ “
"আহার না পাওয়ার কষ্টে একবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম কিছু চাইতে। দেখি, তিনি মানুষদেরকে বলছেন, 'হে লোকেরা! আল্লাহর শপথ! আমাদের নিকট কিছু থাকলে সেটা তোমাদেরকে না দিয়ে জমা করে রাখি না; তবে (জেনে রেখো), যে ব্যক্তি অমুখাপেক্ষী থাকতে চায়, তাকে আল্লাহ অমুখাপেক্ষীই রাখেন; যে (কারও কাছে চাওয়া থেকে) পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন; যে সবর অবলম্বন করতে চায়, আল্লাহ তাকে সবরের তাওফিক দেন; আর কখনো সবরের চেয়ে উত্তম ও প্রশস্ত কোনো নিয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।" [১]
'এখানে অমুখাপেক্ষিতা মানে, কারও কাছে মনে মনে কোনো কিছুর আশা বা কামনা না করা। আর পবিত্র থাকার মানে, জবানে কারও কাছে কিছু চাওয়া থেকে বিরত থাকা।'
'ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বলকে তাওয়াক্কুল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি জবাবে বলেছিলেন- “তাওয়াক্কুল হলো, মাখলুকের কাছ থেকে আশা ছিন্ন করা; অর্থাৎ, কেউ তোমাকে কোনো কিছু দেবে-এমন আশা পরিত্যাগ করা।'
'লোকেরা বলল, “এটার দলিল কী?” তিনি বললেন, "জিবরিল আ. যখন ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, আপনার কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে কিনা? তখন ইবরাহিম আ. বলেছিলেন, আপনার কাছে কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই।""
'এ-জাতীয় উদাহরণ থেকে এটাই বোঝা যায় যে, বান্দা নিজের ভালো কামনা করলে, কিংবা মন্দ থেকে বাঁচতে চাইলে আল্লাহর দিকেই মনোনিবেশ করতে হবে; অন্য কারও দিকে নয়। এজন্যই বিপদগ্রস্ত নবী ইউনুস আলাইহিস সালাম তাঁর দুআয় বলেছেন-“(হে আল্লাহ) আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।””
'বুখারি ও মুসলিম শরিফে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বিবৃত হয়েছে, তিনি বলেন, বিপদের সময় নবীজি পড়তেন-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ العظيم ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
"মহামহিম ও ধৈর্যশীল আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই; মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই; আসমানসমূহ ও জমিনের রব, মর্যাদাপূর্ণ আরশের রব আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই।"[১]
'নবীজি এই শব্দ-বাক্যগুলো উচ্চারণ করতেন। কারণ, এগুলোতে তাওহিদের মূলরূপ ফুটে ওঠে; বান্দার পক্ষ থেকে নিজের প্রতিপালককে ইলাহরূপে মেনে নেওয়া হয়; এবং ওই একক ও অদ্বিতীয় সত্তার নিকটেই যে বান্দার সব আশা-আকাঙ্ক্ষা সে কথা স্পষ্ট হয়। ফলে, এগুলো সংবাদ-মূলক বাক্য হলেও এতে প্রশংসিত ওই সুমহান সত্তার নিকটে বান্দার প্রার্থনাও উহ্য থাকে।'
টিকাঃ
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ১৪৭৩; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ১০৪৫; শব্দগত সামান্য তারতম্য আছে。
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ১৪৬৯; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ১০৫৩; শব্দগত সামান্য তারতম্য আছে।
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৬৩৪৬; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ২৭৩০
📄 কালিমায়ে তাওহিদের মর্ম অনুধাবন : মানুষের শ্রেণিভেদ
আমি বললাম, 'শাইখের অনুমতি নিয়ে একটি কথা জিজ্ঞেস করতে চাই— মহাপবিত্র কালিমা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"র মর্ম ও তাৎপর্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে সব মানুষ কি সম স্তরের? বিষয়টি একটু খোলাসা করে বয়ান করবেন—আশা করছি।'
শাইখ বললেন, 'যদিও সব মানুষই মুখে মুখে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলে; কিন্তু খালেস মনে বান্দা যখন এই কালিমা উচ্চারণ করে; তখন এর মর্মটাও হয় অন্যদের চেয়ে আলাদা; অন্যরকম। আসলে তাওহিদের বাস্তবায়ন বা অর্জন অনুপাতেই ইবাদতে পূর্ণতা আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
أَرَعَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَونَهُ أَفَأَنتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا، أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَمِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا
“যে নিজের প্রবৃত্তিকে ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে, আপনি কি তাকে দেখেছেন? নাকি তার জিম্মাদার হবেন? আপনি কি মনে করেন, যে, তাদের অধিকাংশজন শোনে বা বোঝে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুরই মতো; বরং সেগুলোর চেয়েও ভ্রষ্ট।”[২]
'যে ব্যক্তি মনের চাহিদার পূজা করে, সে-ই মূলত নিজের প্রবৃত্তিকে ইলাহরূপে গ্রহণ করে। এই অবস্থাটাই হলো মুশরিকদের; কোনো কিছু ভালো লাগলেই তারা সেটার পূজা করতে শুরু করে। ফলে, তারা আল্লাহর বহু সমকক্ষ সাব্যস্ত করে ফেলে এবং আল্লাহকে ভালোবাসার মতো করে সেগুলোকে ভালোবাসে।'
'এ কারণেই ইবরাহিম খলিলুল্লাহ আলাইহিস সালাম বলেছেন,
لَا أُحِبُّ الْأَفِلِينَ | “আমি অস্ত যাওয়া কাউকে পছন্দ করি না।”[১]
'কারণ, তাঁর সম্প্রদায় স্রষ্টাকে অস্বীকার করত না; কিন্তু সূর্য, চন্দ্র, তারকা, নক্ষত্র-এসবের যাকে ভালো লাগত, তাকেই উপকারী মনে করে তার পূজা করতে থাকত। তাই তিনি এটা স্পষ্ট করে দিলেন যে, অস্ত যাওয়া বস্তুটি ও তার পূজকের মাঝে তো বহু আড়াল সৃষ্টি হয়ে যায়, ফলে সেই বস্তুটা তার পূজককে দেখতে পায়; পূজকের কথা শোনে না; তার অবস্থা জানে না; তাকে কোনো মাধ্যমে বা মাধ্যম ছাড়া ক্ষতি, উপকার-কিছুই করতে পারে না; সুতরাং এমন অথর্বের পূজা বা ইবাদতের কী অর্থ!'
টিকাঃ
[২] সূরা ফুরকান, আয়াত-ক্রম: ৪৩-৪৪
[১] সূরা আনআম, আয়াত-ক্রম: ৭৬
আমি বললাম, 'শাইখের অনুমতি নিয়ে একটি কথা জিজ্ঞেস করতে চাই— মহাপবিত্র কালিমা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"র মর্ম ও তাৎপর্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে সব মানুষ কি সম স্তরের? বিষয়টি একটু খোলাসা করে বয়ান করবেন—আশা করছি।'
শাইখ বললেন, 'যদিও সব মানুষই মুখে মুখে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলে; কিন্তু খালেস মনে বান্দা যখন এই কালিমা উচ্চারণ করে; তখন এর মর্মটাও হয় অন্যদের চেয়ে আলাদা; অন্যরকম। আসলে তাওহিদের বাস্তবায়ন বা অর্জন অনুপাতেই ইবাদতে পূর্ণতা আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
أَرَعَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَونَهُ أَفَأَنتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا، أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَمِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا
“যে নিজের প্রবৃত্তিকে ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে, আপনি কি তাকে দেখেছেন? নাকি তার জিম্মাদার হবেন? আপনি কি মনে করেন, যে, তাদের অধিকাংশজন শোনে বা বোঝে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুরই মতো; বরং সেগুলোর চেয়েও ভ্রষ্ট।”[২]
'যে ব্যক্তি মনের চাহিদার পূজা করে, সে-ই মূলত নিজের প্রবৃত্তিকে ইলাহরূপে গ্রহণ করে। এই অবস্থাটাই হলো মুশরিকদের; কোনো কিছু ভালো লাগলেই তারা সেটার পূজা করতে শুরু করে। ফলে, তারা আল্লাহর বহু সমকক্ষ সাব্যস্ত করে ফেলে এবং আল্লাহকে ভালোবাসার মতো করে সেগুলোকে ভালোবাসে।'
'এ কারণেই ইবরাহিম খলিলুল্লাহ আলাইহিস সালাম বলেছেন,
لَا أُحِبُّ الْأَفِلِينَ | “আমি অস্ত যাওয়া কাউকে পছন্দ করি না।”[১]
'কারণ, তাঁর সম্প্রদায় স্রষ্টাকে অস্বীকার করত না; কিন্তু সূর্য, চন্দ্র, তারকা, নক্ষত্র-এসবের যাকে ভালো লাগত, তাকেই উপকারী মনে করে তার পূজা করতে থাকত। তাই তিনি এটা স্পষ্ট করে দিলেন যে, অস্ত যাওয়া বস্তুটি ও তার পূজকের মাঝে তো বহু আড়াল সৃষ্টি হয়ে যায়, ফলে সেই বস্তুটা তার পূজককে দেখতে পায়; পূজকের কথা শোনে না; তার অবস্থা জানে না; তাকে কোনো মাধ্যমে বা মাধ্যম ছাড়া ক্ষতি, উপকার-কিছুই করতে পারে না; সুতরাং এমন অথর্বের পূজা বা ইবাদতের কী অর্থ!'
টিকাঃ
[২] সূরা ফুরকান, আয়াত-ক্রম: ৪৩-৪৪
[১] সূরা আনআম, আয়াত-ক্রম: ৭৬