📘 রূহের চিকিৎসা > 📄 কিছু উপকারী প্রতিষেধক ও কার্যকর ওষুধ

📄 কিছু উপকারী প্রতিষেধক ও কার্যকর ওষুধ


আমি বললাম, 'মুহতারাম! দেহের রোগব্যাধির যে প্রক্রিয়ার কথা আমরা জানলাম, তা কি মনের রোগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য?'
ইমাম ইবনু তাইমিয়া বললেন, 'হ্যাঁ, বিষয়টি শারীরিক অসুস্থতার মতোই। কেননা সুস্থতা রক্ষিত হয় রোগমুক্তির মাধ্যমে। আবার রোগ দূর হয় রোগ-প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে। ঠিক এভাবে অন্তরের সুস্থতা রক্ষিত হয় ঈমানের মাধ্যমে। উপকারী জ্ঞান ও কল্যাণকর শিক্ষা প্রয়োগের মাধ্যমে ঈমান অন্তরে বিশ্বাস ও প্রত্যয় বৃদ্ধি করে। এগুলোই হলো অন্তরের খাদ্য। (এতে সে শক্তি সঞ্চয় করে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।) এ প্রসঙ্গে ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখযোগ্য, তা হলো-
إِنَّ كُلَّ آدِبٍ يُحِبُّ أَنْ تُؤْتَى مَأْدُبَتُهُ ، وَإِنَّ مَأْدُبَةِ اللَّهِ هِيَ الْقُرْآنُ
"প্রত্যেক মেজবান চায় তার তার ভোজসভায় মানুষ আসুক, মেহমানদারি গ্রহণ করুক। আর আল্লাহর মেহমানদারি হলো কুরআন।" [১]
'কুরআন হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য বিশেষ মেহমানদারি। তাই একজন মুসলিমের জন্য আবশ্যক হলো-আল্লাহর কাছে দুআ করা, বিশেষ করে শেষরাতে, আজান ও ইকামতের সময়, সিজদায় এবং প্রত্যেক নামাজের পরে। এর সঙ্গে বেশি বেশি ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা। কেননা যে আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করে, আল্লাহ তাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুখে রাখেন। এর সঙ্গে আবশ্যক হলো-দিনে-রাতে এবং ঘুমের সময় মাসনূন দুআসমূহ পাঠ করা, কোনো বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবতে আক্রান্ত হলে ধৈর্যধারণ করা; কেননা এতে অন্তর দৃঢ় থেকে সুদৃঢ় হবে, ঈমান মজবুত হবে। এর সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ খুব সুন্দর ভাবে আদায় করতে আগ্রহী হওয়া; কারণ নামাজই হলো দ্বীনের ভিত্তি। বেশি বেশি "লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" পাঠ করা; কেননা এর মাধ্যমে যাবতীয় সমস্যা দূর হবে এবং কঠিন ও জটিল কাজ খুব সহজ ও সরলভাবে সমাধা হবে। দুআ থেকে কখনো নিরাশ হতে নেই। কেননা বান্দা তাড়াহুড়ো না করলে একসময় তার দুআ কবুল করা হয়। এদিকে সে বলে ফেলে আমি বারবার দুআ করেছি কিন্তু আল্লাহ তা কবول করেননি। এটাও মনে রাখা উচিত যে, সাহায্য আসে ধৈর্যের পরে, সফলতা আসে কষ্টের পরে, আর সহজতা আসে কাঠিন্যের পরে। ধৈর্যের পরীক্ষা না দিয়ে কেউ ভালো কিছু অর্জন করতে পারে না; যেখানে নবিরাই পারেননি সেখানে অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের। প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁরই, যিনি আমাদেরকে ইসলাম এবং সুন্নাহর অনুসারী করেছেন। প্রশংসা আদায় করছি তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সকল নিয়ামতের ওপর, তাঁর শান অনুযায়ী। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের পথপ্রদর্শক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাথি-সঙ্গী এবং পত্নীগণের ওপর; আরও সালাম বর্ষিত হোক শেষ দিবস পর্যন্ত যারা একনিষ্ঠতার সঙ্গে তাঁর অনুসরণ করে যাবে, তাদের ওপর।'
'আগামী মজলিসে সাক্ষাত হবে ইনশাআল্লাহ! সেই আশা রেখে আপনাদেরকে আল্লাহর হাওলায় ছেড়ে দিচ্ছি, নিশ্চয় আল্লাহ ওয়াদাপূরণকারী।'

টিকাঃ
[১] ফাযায়েলে কুরআন, ইমাম দারেমি (২৩২৪)। হাদিসের রাবীরা বিশ্বস্ত হলেও সনদে সামান্য বিচ্ছিন্নতা আছে। এই বর্ণনার সাথে ইমাম দারেমির বর্ণনার শব্দগত পার্থক্য আছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00