📘 রূহের চিকিৎসা > 📄 লালসা ও কামনার স্তরবিন্যাস

📄 লালসা ও কামনার স্তরবিন্যাস


আমি বললাম, 'শাইখের আলোচনায় اَلْهَوَى তথা 'প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা'- এর অর্থ আমাদের কাছে ঝকঝকে কাচের মতো পরিষ্কার। কিন্তু আরও একটি বিষয়ে সামান্য আলোচনার প্রয়োজন ছিল। তা হলো-اَلْهَوَى-এর কি স্তর- বিন্যাস আছে?'
ইমাম ইবনু তাইমিয়া বললেন, 'হ্যাঁ, প্রবৃত্তির কামনা-বাসনারও বিভিন্ন স্তর আছে। প্রবৃত্তির অনুসারীরাও নানা ভাগে বিভক্ত। যেমন: তাদের কতক হলো মুশরিক, কতক আবার আল্লাহকে ভুলে না-জেনে না-বুঝে কোনো দলিল- প্রমাণ ছাড়াই নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো বিভিন্ন উপাস্যের উপাসনা করে থাকে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন- أَفَرَعَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوْنَهُ
"আপনি কি তার প্রতি লক্ষ করেছেন, যে তার খেয়াল-খুশি মতো উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে?”[২]
'অর্থাৎ, তারা এমন কিছুর উপাসনা করে, যা কেবল তাদের পছন্দমতো নির্ধারিত। এখানে যে বিষয়টি লক্ষণীয়, তা হলো-কুরআন সরাসরি তাদের প্রবৃত্তিকে উপাস্য বলেনি। তাছাড়া প্রবৃত্তির সকল চাহিদার উপাসনাও তারা করে না। কেননা, প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার অনেকগুলো ভাগ আছে। বরং বক্ষ্যমাণ আয়াতে এটাই বোঝানো উদ্দেশ্য যে, তারা যে উপাস্য নির্ধারণ করেছে, এটি নিতান্তই তাদের ধারণাপ্রসূত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের উপাসনা নিতান্তই প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার অনুসরণ বৈ কী! কেননা, আল্লাহ যার ইবাদত করা পছন্দ করেন, তারা তো তা করেনি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট পদ্ধতিতেও করেনি।
'এদের সঙ্গে বিদআতিদের যথেষ্ট মিল রয়েছে। এক বিবেচনায় তাদের ইবাদতও গাইরুল্লাহর ইবাদত বলা যায়। কেননা তারা নিজেরা নিজেরাই আমলের বিভিন্ন পদ্ধতি তৈরি করে নেয় এবং মনে করে তারা খুব ইবাদত করছে। অথচ এসব প্রবৃত্তির অনুসরণ বৈ কিছু নয়। তাদের প্রত্যেকের অবস্থা এমন, তারা কেবল নিজের খেয়াল-খুশি, ইচ্ছা-ইরাদা অনুসারেই এসব করে থাকে। এ-ক্ষেত্রে না-আছে তাদের কোনো দলিল, না কোনো প্রমাণ। অথচ দলিল-প্রমাণ সামনে রাখলে তারা শুধু তা-ই করত, যা আল্লাহ পছন্দ করেন, বিদআতের সংস্পর্শেও কখনো যেত না।'
আজকের মজলিস এখানেই শেষ হলো। পরবর্তী মজমায় শাইখের সান্নিধ্য লাভের আশা রাখছি। ইনশাআল্লাহ।

টিকাঃ
[১] সূরা কাসাস, আয়াত-ক্রম: ৫০
[২] সূরা জাছিয়া, আয়াত-ক্রম: ২৩
[১] আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই গাইরুল্লাহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00