📄 লালসা ও হিংসা : স্বরূপ ও প্রকৃতি
'আবদুর রহমান ইবনু আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু বাইতুল্লাহর তাওয়াফ কিংবা আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকালে, বেশি বেশি দুআ করতেন, বলতেন- اللَّهُمَّ قِنِي شُحَّ نَفْسِيُّ “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে অন্তরের কার্পণ্য ও লালসা থেকে রক্ষা করুন।” এই দুআর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, "যদি আমি অন্তরের লালসা ও কার্পণ্য থেকে বাঁচতে পারি, তবে তো জুলুম, কৃপণতা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো বড় বড় গুনাহ থেকে এমনিই বেঁচে যাব।”
'অন্য রেওয়ায়েতে আছে, জনৈক সাহাবী বলেন, "আমি তো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি।” তখন তাঁকে তিনি (আবদুর রহমান ইবনু আউফ) বললেন, “তুমি এমনটা কেন ভাবছ?” সাহাবী উত্তরে বলেন, “কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- وَمَنْ يُوْقَ شُحَّ نَفْسِهِ (যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত)। আর আমি এতটাই কৃপণ, যার হাত থেকে কানাকড়িও খসে না।” তখন তিনি বলেন, “কুরআনে যে الشحُ-এর কথা বলা হয়েছে, তা তোমার বেলায় তখনই প্রযোজ্য হবে যখন তুমি অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করবে; অন্যথায় নয়। তবে এমন জঘন্য কাজের পেছনে আসল ভূমিকা রাখে কার্পণ্যই। কৃপণতাই মানুষের মনে নিজ-সম্পদের প্রতি প্রীতির পাশাপাশি অন্যের সম্পদের ওপর লালসার জন্ম দেয়। এভাবে একজন মানুষ প্রথমে কৃপণ, অতঃপর লোভীতে পরিণত হয়। কৃপণতা কতই-না নিকৃষ্ট স্বভাব।" [১]
'আল্লাহ তাআলা কুরআনে اَلشُّحُ বা লালসার বিষয়টি উল্লেখ করার পূর্বে الْحَسَدُ তথা হিংসা এবং الإيْثَارُ তথা নিজের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা প্রথমে বান্দার নিজের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া সম্পর্কে বলেন-
وَ لَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِّمَّا أُوتُوا وَ يُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَ لَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ
"মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তা নিয়ে তারা অন্তরে ঈর্ষা পোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়।”[২]
'এরপর কার্পণ্য সম্পর্কে বলেন-
وَمَنْ يُّوْقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
| “যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম।”[৩]
'এ-থেকে আমরা বুঝতে পারি-যে ব্যক্তি মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, সে হিংসা এবং অন্যের ওপর জুলুম করা থেকেও মুক্ত। হিংসার শিকার ব্যক্তির ওপর বিদ্বেষ থেকেই মূলত হিংসার জন্ম। আর কার্পণ্য মানুষের মধ্যে একই সঙ্গে লোভ-লালসা, সম্পদ-লিপ্সা, ঘৃণা-অবজ্ঞা ও জুলুমের মতো জঘন্য স্বভাবের জন্ম দেয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الْمُعَوِّقِيْنَ مِنْكُمْ وَالْقَائِلِينَ لِإِخْوَانِهِمْ هَلُمَّ إِلَيْنَا وَ لَا يَأْتُونَ الْبَأْسَ إِلَّا قَلِيلًا. أَشِحَّةً عَلَيْكُمْ فَإِذَا جَاءَ الْخَوْفُ رَأَيْتَهُمْ يَنْظُرُونَ إِلَيْكَ تَدُورُ أَعْيُنُهُمْ كَالَّذِي يُغْشَى عَلَيْهِ مِنَ الْمَوْتِ فَإِذَا ذَهَبَ الْخَوْفُ سَلَقُوْكُمْ بِأَلْسِنَةٍ حِدَادٍ أَشِحَّةُ عَلَى الْخَيْرِ أُولَئِكَ لَمْ يُؤْمِنُوْا فَأَحْبَطَ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ
"আল্লাহ খুব ভালো করে জানেন—তোমাদের মধ্যে কারা (যুদ্ধে যেতে) বাধা দেয় এবং কারা তাদের ভাইদেরকে বলে, আমাদের কাছে এসো। তারা খুব কমই রণাঙ্গনে যায়। তারা তো বরং তোমাদের প্রতি কুণ্ঠাবোধ করে। আবার যখন বিপদ আসে, তখন আপনি দেখবেন—মৃত্যুর ভয়ে অচেতন ব্যক্তির মতো চোখ উল্টিয়ে তারা আপনার দিকে তাকায়। অনন্তর যখন বিপদ কেটে যায় তখন ধন-সম্পদ লাভের আশায় তারা তোমাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। তারা মুমিন নয়, তাই আল্লাহ তাদের কর্মসমূহ নিষ্ফল করে দিয়েছেন।" [১]
'সবশেষে বলা যায়—মুমিনদের প্রতি কুণ্ঠাবোধ এবং প্রকৃত কল্যাণের প্রতি অবজ্ঞা মানুষের মানসিকতা নষ্ট করে দেয়, মন্দ চিন্তা তৈরি করে। এই মন্দ চিন্তাই তাদেরকে মন্দ কাজের প্রতি প্ররোচিত করে। যেমন: কারও মনে ঘৃণা ও অবজ্ঞা থাকলে তাকে তা অন্যের প্রতি জুলুম ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দিকে নিয়ে যায়। ঠিক একই কাজ করে হিংসা। হিংসাও মানুষকে হিংসার শিকার ব্যক্তির ওপর জুলুম করতে এবং সম্পর্ক ছিন্ন করতে প্ররোচনা দেয়। যেমনটি ঘটেছিল আদম আলাইহিস সালাম-এর পুত্রদ্বয়ের মধ্যে এবং ইউসুফ আলাইহিস সালাম ও তাঁর ভাইদের মধ্যে। আমরা জানি, হিংসার বশবর্তী হয়েই মূলত আদম আলাইহিস সালাম-এর এক পুত্র অপর পুত্রকে হত্যা করেছিল এবং ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর ভাইয়েরা ইউসুফকে কূপে নিক্ষেপ করেছিল।'
কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য আমি বললাম, 'শ্রদ্ধেয় শাইখ! আমরা আপনার বিশ্লেষণ থেকে الْحَسَدُ, الْهَوَى اَلشُّحُ-এর অর্থ বুঝতে পারলাম। কিন্তু এ-সবের মধ্যে কি বিশেষ কোনো পার্থক্য আছে?'
শাইখ বললেন, 'হ্যাঁ, প্রিয় শিক্ষার্থীরা আমার! এখানেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। الْحَسَدُ (হিংসা) ও اَلشُّحُ (লালসা)-এর মধ্যে ঘৃণা ও অবজ্ঞা নিহিত থাকে। এই দুটি স্বভাব যার আছে, তাকে এরা ভালো কাজ থেকে বিরত রাখে এবং মন্দ কাজের প্রতি প্ররোচিত করে। তবে এদের থেকে যে আচরণ প্রকাশ পায়, তা মূলত বিদ্বেষমূলক হয়ে থাকে। এদিকে اَلْهَوَى (প্রবৃত্তির কামনা)-এর বিষয়টি ভিন্ন। কারণ প্রবৃত্তির প্ররোচনায় মানুষ যা করে, তা মূলত তার পছন্দের হয়ে থাকে। অর্থাৎ, প্রথমে কোনো কিছু তার ভালো লাগে কিংবা মনে ধরে, এরপরই সে কেবল তা বাস্তবায়ন করে। অর্থাৎ, প্রথমটি বিদ্বেষ ছড়ায়, পরেরটি বাড়ায় কামনা-বাসনা। তো, প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে মানুষ যখন কিছু করে, তখন কাজ সম্পাদনের পূর্বে তার উদ্দিষ্ট বিষয়টি যদিও অস্তিত্বহীন থাকে, কিন্তু ইচ্ছেটা অস্তিত্বের বাইরে নয়। তাই মানুষ যা করে, তা প্রকৃতপক্ষে তার ইচ্ছার বাস্তবায়ন বা নফসের অনুসরণ।'
'ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু الشُّحُ ও اَلْبُخْلُ শব্দদুটিকে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে গ্রহণ করেছেন। আবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, الشح মানুষকে البخل তথা কার্পণ্যের প্রতি প্ররোচিত করে।
'কেউ কেউ আবার উল্লিখিত বিষয় দুটিকে এক ও অভিন্ন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন করেছেন আল্লামা ইবনু জারির। তিনি বলেন, আরবরা বলে থাকে-الشُّحُ হলো اَلْبُخْلُ তথা কৃপণতা বা সম্পদ ব্যয়ে কুণ্ঠাবোধ করা।'
শাইখ থামলেন, সুযোগে আমি প্রশ্ন করলাম- 'ইবনু জারিরের বক্তব্যের ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?'
তিনি বললেন, 'আমরা এ ক্ষেত্রে বরং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্যই গ্রহণ করব। তাছাড়া ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুও অনুসরণের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য।
'দেখো, একজন কৃপণের কার্পণ্যের পেছনে প্রথমত দুটি কারণ থাকে। এক. সম্পদের প্রতি ভালোবাসা। এই ভালোবাসাটা আবার তৈরি হয় সম্পদ ভোগ করা কিংবা উপকৃত হওয়ার ফলে। দুই. সম্পদ তার তেমন কোনো কাজে আসে না, তবুও সে কার্পণ্য করে শুধু এজন্য যে, সম্পদ খরচ করতে তার ভালো লাগে না, বরং খরচ হচ্ছে দেখলে তার কষ্ট লাগে। এজন্য অঢেল সম্পদ থাকতেও অনেক কৃপণ তা ভোগ করতে পারে না, এমনকি ভোগ করাটা সে বলতে গেলে অপছন্দই করে।
‘কার্পণ্যের এই দ্বিতীয় অবস্থার পেছনে আবার দুটি কারণ থাকে। এক. সম্পদ জমা করতে ও দেখতে ভালো লাগা। দুই. সম্পদ জমা করায় কোনো আনন্দ বা নিরানন্দ নেই, তবু সে কৃপণ। কারণ অন্যের ভালো দেখতে তার ভালো লাগে না। অর্থাৎ, নিজে তো দান করবেই না, কেউ অন্যকে দান করবে, এটাও সে সইতে পারবে না। তার এই অপছন্দের কারণ দাতা কিংবা গ্রহীতার প্রতি অপছন্দ নয়, বরং মৌলিকভাবে যে কোনো কল্যাণকর কাজই তার খারাপ লাগবে। তবে হ্যাঁ, কখনো কখনো এটা দাতা ও গ্রহীতার ওপর বিদ্বেষবশতও হয়ে থাকে। আর এই যে দাতা-গ্রহীতার ওপর বিদ্বেষ—এটাই হলো اَلشُّحُ (ইতোপূর্বে একশব্দে আমরা যার অর্থ করেছি ‘লালসা’ বা ‘কৃপণতা’)। اَلشُّحُ-এর অনুভূতিই মূলত সম্পূর্ণরূপে মানুষকে কৃপণতার দিকে নিয়ে যায়। তবে প্রত্যেক কৃপণ ‘শাহীহ’ তথা লালসাগ্রস্ত না হলেও, প্রত্যেক ‘শাহীহ’ কৃপণ হয়ে থাকে।
‘ইমাম খত্তাবি বলেন, اَلشُّحُ বা লালসা اَلْبُخْلُ তথা কৃপণতার চেয়েও মারাত্মক। কেননা কৃপণতা হলো একটি একক বিষয়। অপরদিকে লালসা একটি ব্যাপক বিষয়। এটা এতটাই মারাত্মক যে, যা মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিশে যায়।
‘ইমাম খত্তাবি সালাফের কারও কারও থেকে বর্ণনা করেন- اَلْبُخْلُ তথা কৃপণতা হলো—সম্পদ ব্যয়ে কুণ্ঠাবোধ করা। আর اَلشُّحُ তথা লালসা হলো—সম্পদ ব্যয়ের পাশাপাশি দানের ক্ষেত্রেও কুণ্ঠাবোধ করা। এমনও বলা হয়েছে যে, اَلسُّحُ বা লালসা হলো—নিজে দান করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি অন্যকে দান করতে দেখলে তাতেও মনঃকষ্টে ভোগা। আর কৃপণতা হলো—স্বাভাবিকভাবে অন্যকে দান করতে দেখে কুণ্ঠাবোধ করা।
‘যারা নিজ প্রবৃত্তির অনুসারী এবং লালসার অনুগামী তাদের কাছে এই মন্দ স্বভাবগুলোই ভালো লাগে। তাই তারা না-জেনে না-বুঝে নিজের পছন্দ অনুযায়ী চলে, ইচ্ছা পূরণ করতে থাকে। কখনোই চিন্তা করে না—তার এসবের প্রতিফল ভালো, নাকি মন্দ। আল্লাহ তাআলা বলেন— فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ | “জেনে রাখুন, তারা শুধু নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে।”।।
টিকাঃ
[১] মুখতাসারু তাফসিরি ইবনি কাছির: ৩/৪৭৫
[২] সূরা হাশর, আয়াত-ক্রম: ৯
[৩] সূরা হাশর, আয়াত-ক্রম:
[১] সূরা আহযাব, আয়াত-ক্রম: ১৮,১৯
[১] সূরা কাসাস, আয়াত-ক্রম: ৫০
📄 লালসা ও কামনার স্তরবিন্যাস
আমি বললাম, 'শাইখের আলোচনায় اَلْهَوَى তথা 'প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা'- এর অর্থ আমাদের কাছে ঝকঝকে কাচের মতো পরিষ্কার। কিন্তু আরও একটি বিষয়ে সামান্য আলোচনার প্রয়োজন ছিল। তা হলো-اَلْهَوَى-এর কি স্তর- বিন্যাস আছে?'
ইমাম ইবনু তাইমিয়া বললেন, 'হ্যাঁ, প্রবৃত্তির কামনা-বাসনারও বিভিন্ন স্তর আছে। প্রবৃত্তির অনুসারীরাও নানা ভাগে বিভক্ত। যেমন: তাদের কতক হলো মুশরিক, কতক আবার আল্লাহকে ভুলে না-জেনে না-বুঝে কোনো দলিল- প্রমাণ ছাড়াই নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো বিভিন্ন উপাস্যের উপাসনা করে থাকে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন- أَفَرَعَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوْنَهُ
"আপনি কি তার প্রতি লক্ষ করেছেন, যে তার খেয়াল-খুশি মতো উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে?”[২]
'অর্থাৎ, তারা এমন কিছুর উপাসনা করে, যা কেবল তাদের পছন্দমতো নির্ধারিত। এখানে যে বিষয়টি লক্ষণীয়, তা হলো-কুরআন সরাসরি তাদের প্রবৃত্তিকে উপাস্য বলেনি। তাছাড়া প্রবৃত্তির সকল চাহিদার উপাসনাও তারা করে না। কেননা, প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার অনেকগুলো ভাগ আছে। বরং বক্ষ্যমাণ আয়াতে এটাই বোঝানো উদ্দেশ্য যে, তারা যে উপাস্য নির্ধারণ করেছে, এটি নিতান্তই তাদের ধারণাপ্রসূত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের উপাসনা নিতান্তই প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার অনুসরণ বৈ কী! কেননা, আল্লাহ যার ইবাদত করা পছন্দ করেন, তারা তো তা করেনি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট পদ্ধতিতেও করেনি।
'এদের সঙ্গে বিদআতিদের যথেষ্ট মিল রয়েছে। এক বিবেচনায় তাদের ইবাদতও গাইরুল্লাহর ইবাদত বলা যায়। কেননা তারা নিজেরা নিজেরাই আমলের বিভিন্ন পদ্ধতি তৈরি করে নেয় এবং মনে করে তারা খুব ইবাদত করছে। অথচ এসব প্রবৃত্তির অনুসরণ বৈ কিছু নয়। তাদের প্রত্যেকের অবস্থা এমন, তারা কেবল নিজের খেয়াল-খুশি, ইচ্ছা-ইরাদা অনুসারেই এসব করে থাকে। এ-ক্ষেত্রে না-আছে তাদের কোনো দলিল, না কোনো প্রমাণ। অথচ দলিল-প্রমাণ সামনে রাখলে তারা শুধু তা-ই করত, যা আল্লাহ পছন্দ করেন, বিদআতের সংস্পর্শেও কখনো যেত না।'
আজকের মজলিস এখানেই শেষ হলো। পরবর্তী মজমায় শাইখের সান্নিধ্য লাভের আশা রাখছি। ইনশাআল্লাহ।
টিকাঃ
[১] সূরা কাসাস, আয়াত-ক্রম: ৫০
[২] সূরা জাছিয়া, আয়াত-ক্রম: ২৩
[১] আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই গাইরুল্লাহ।