📘 রুহ সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত মাসয়ালাসমুহ > 📄 বিংশতম মাসআলা: নফস ও রূহ কি একই জিনিস নাকি দুটি দু'জিনিস?

📄 বিংশতম মাসআলা: নফস ও রূহ কি একই জিনিস নাকি দুটি দু'জিনিস?


উত্তর: আল-কুরআনে নফস তথা আত্মাকে মানুষের পুরো সত্তাকে বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
﴿فَسَلِّمُوا عَلَى أَنفُسِكُمْ ﴾ [النور : ٦١]
“(তবে তোমরা যখন কোন ঘরে প্রবেশ করবে) তখন তোমরা নিজদের ওপর সালাম করবে।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬১]
আল্লাহ তা'আলা নফস সম্পর্কে আরও বলেছেন,
﴿وَلَا تَقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ ﴾ [النساء : ٢٩]
“আর তোমরা নিজেরা নিজদেরকে হত্যা করো না।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯]
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
﴿يَوْمَ تَأْتِي كُلُّ نَفْسٍ تُجَادِلُ عَن نَّفْسِهَا ﴾ [النحل: ١١١]
“(স্মরণ কর সে দিনের কথা) যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের পক্ষে যুক্তি-তর্ক নিয়ে উপস্থিত হবে।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ১১১]
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
﴿كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ ﴾ [المدثر: ۳۸]
“প্রতিটি প্রাণ নিজ অর্জনের কারণে দায়বদ্ধ।” [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৩৮]
আবার কুরআনে নফসকে শুধু রূহের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন,
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
﴿يَأَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ﴾ [الفجر: ٢٧]
“হে প্রশান্ত আত্মা!” [সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৭]
﴿أَخْرِجُوا أَنفُسَكُمُ﴾ [الانعام: ٩٣]
“(এমতাবস্থায় ফিরিশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে আছে, তারা বলে), তোমাদের জান বের কর।” [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৯৩]
অন্য দিকে রূহ কখনও শরীরের জন্য ব্যবহৃত হয় নি; একাকিও নয়, আবার নফসের সাথেও নয়। অতএব, নফস ও রূহের মধ্যে পার্থক্য হলো সিফাত তথা গুণের মধ্যে; যাতের মধ্যে পার্থক্য নেই।

📘 রুহ সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত মাসয়ালাসমুহ > 📄 একবিংশতম মাসআলা: নফস কি একটি নাকি তিনটি?

📄 একবিংশতম মাসআলা: নফস কি একটি নাকি তিনটি?


কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
﴿يَأَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ﴾ [الفجر: ٢٧]
“হে প্রশান্ত আত্মা!” [সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৭]
﴿وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ التَّوَّامَةِ ﴾ [القيامة : ٢]
“আমি আরো কসম করছি আত্ম-ভৎর্সনাকারী আত্মার!” [সূরা আল-কিয়ামা, আয়াত: ২]
﴿إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ ﴾ [يوسف: ٥٢]
“নিশ্চয় নাফস মন্দ কজের নির্দেশ দিয়ে থাকে।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫২] তাহলে নফস কি মুতমাইন্না, লাওয়ামাহ ও আম্মারাহ তিন রকমের?
উত্তর: নফস মূলত একটি, তবে এর অনেক সিফাত তথা গুণ রয়েছে। ফলে নফসের গুণের হিসেবে এক একটি নাম দেওয়া হয়েছে। একে মুতমাইন্না (مطمئنة) বলা হয়েছে, যেহেতু সে তার রবের ইবাদত ও ভালোবাসায় মুতমাইন্ন তথা প্রশান্ত। আবার একে লাওয়ামাহ (لوامة) বলা হয়েছে, কেননা সে ব্যক্তির বাড়াবাড়িতে তাকে ভর্ৎসনা করে। আবার একে আম্মারাহ (أمارة) বলা হয়েছে, যেহেতু সে অন্যায় কাজের আদেশ দেয়। বস্তুত অন্যায় কাজের নির্দেশ দেওয়াই হলো নফসের প্রকৃতি, তবে আল্লাহ যাকে তাওফিক দান করেন, যাকে হিদায়াতের ওপর স্থির রাখেন এবং সাহায্য করেন তার কথা আলাদা।
আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের নফসগুলোকে নফসে মুতমাইন্না (مطمئنة) করে দেন এবং আমাদেরকে তাঁর ইবাদত ও ভালোবাসায় অন্তর্ভুক্ত করেন। আমীন।।
সালাত ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সমস্ত সাহাবীগণের ওপর বর্ষিত হোক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00