📘 রুহ সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত মাসয়ালাসমুহ > 📄 অষ্টাদশতম মাসআলা: রূহ কি শরীর সৃষ্টির আগে সৃষ্টি করা হয়েছে নাকি শরীর আগে সৃষ্টি করা হয়েছে?

📄 অষ্টাদশতম মাসআলা: রূহ কি শরীর সৃষ্টির আগে সৃষ্টি করা হয়েছে নাকি শরীর আগে সৃষ্টি করা হয়েছে?


উত্তর: এ প্রশ্নের উত্তরে আলিমগণ কয়েকটি মত পেশ করেছেন। সেগুলো হলো:
১- একদল বলেছেন, রূহ শরীর সৃষ্টির আগে সৃষ্টি করা হয়েছে।
২- আরেকদল বলেছেন, শরীর রূহ সৃষ্টির আগে সৃষ্টি করা হয়েছে।
সঠিক মত হলো, দ্বিতীয় মতটিই অধিকতর সঠিক। অর্থাৎ শরীর আগে সৃষ্টি করা হয়েছে, অতঃপর রূহ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ কথার দলীল হলো আল্লাহ তা'আলা আদম আলাইহিস সালামকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তার মধ্যে রূহ ফুঁৎকার করেছেন। ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেছেন, কুরআন, হাদীস ও সাহাবীদের আসার বা বাণী প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা'আলা শরীর সৃষ্টি করার পরে এর মধ্যে রূহ ফুঁৎকার করেছেন।¹⁹

টিকাঃ
¹⁹ রূহ, ইবনুল কাইয়্যিম রহ. পৃষ্ঠা ৪১০।

উত্তর: এ প্রশ্নের উত্তরে আলিমগণ কয়েকটি মত পেশ করেছেন। সেগুলো হলো:
১- একদল বলেছেন, রূহ শরীর সৃষ্টির আগে সৃষ্টি করা হয়েছে।
২- আরেকদল বলেছেন, শরীর রূহ সৃষ্টির আগে সৃষ্টি করা হয়েছে।
সঠিক মত হলো, দ্বিতীয় মতটিই অধিকতর সঠিক। অর্থাৎ শরীর আগে সৃষ্টি করা হয়েছে, অতঃপর রূহ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ কথার দলীল হলো আল্লাহ তা'আলা আদম আলাইহিস সালামকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তার মধ্যে রূহ ফুঁৎকার করেছেন। ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেছেন, কুরআন, হাদীস ও সাহাবীদের আসার বা বাণী প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা'আলা শরীর সৃষ্টি করার পরে এর মধ্যে রূহ ফুঁৎকার করেছেন।¹⁹

টিকাঃ
¹⁹ রূহ, ইবনুল কাইয়্যিম রহ. পৃষ্ঠা ৪১০।

📘 রুহ সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত মাসয়ালাসমুহ > 📄 উনবিংশতম মাসআলা: নসফের (আত্মার) হাকীকত কী?

📄 উনবিংশতম মাসআলা: নসফের (আত্মার) হাকীকত কী?


উত্তর: এ মাসআলার ব্যাপারে আলিমগণ নানা দিক থেকে কথা বলেছেন, তাদের এক একজনের কথা আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুল-ত্রুটিও বেশি হয়েছে। আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদেরকে হিদায়াত দান করেছেন তারা হকের যে বিষয়ে মতানৈক্য করেছিল তাঁর অনুমতিক্রমে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে সরল সঠিক পথের হিদায়াত দান করেন।
সঠিক মত হলো, রূহ এমন একটি আকৃতি (কাঠামো) যা বাহ্যিক শরীরের সত্তা (প্রকৃতি) থেকে আলাদা। রূহ নূরানী আকৃতি, ঊর্ধ্বমুখী, অতিসূক্ষ্ম, জীবিত ও চলনশীল। এটি শরীরের প্রধান কাজ করে, গোলাপের মধ্যে যেমন পানি গোপন থাকে তেমনিভাবে শরীরে রূহ গোপন থাকে; যাইতুনের মধ্যে যেমন তেল বিদ্যমান থাকে তেমনিভাবে শরীরের মধ্যে রূহ বিদ্যমান; কয়লার মধ্যে যেভাবে আগুন সূক্ষভাবে থাকে তেমনিভাবে রূহ শরীরের মধ্যে অতি সূক্ষ্মভাবে বিদ্যমান থাকে। যতক্ষণ শরীর প্রচুর পরিমাণে কাজ করার সামর্থ্য রাখে ততক্ষণ উক্ত সূক্ষ্ম শরীর (রূহ) এ শরীরের সাথে আঁকড়ে থাকে এবং রূহের এ প্রভাব তার অনুভূতি, ইচ্ছাকৃত চলাফেরায় পরিলক্ষিত হয়। আর এ শরীর যখন কঠোর মিশ্রন করার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং শরীরের মধ্যে কাজ করার যোগ্যতা বিলুপ্ত হয়, তখন রূহ শরীর থেকে বেরিয়ে যায় এবং রূহ জগতের সাথে মিলে আলাদা হয়ে যায়।

📘 রুহ সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত মাসয়ালাসমুহ > 📄 বিংশতম মাসআলা: নফস ও রূহ কি একই জিনিস নাকি দুটি দু'জিনিস?

📄 বিংশতম মাসআলা: নফস ও রূহ কি একই জিনিস নাকি দুটি দু'জিনিস?


উত্তর: আল-কুরআনে নফস তথা আত্মাকে মানুষের পুরো সত্তাকে বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
﴿فَسَلِّمُوا عَلَى أَنفُسِكُمْ ﴾ [النور : ٦١]
“(তবে তোমরা যখন কোন ঘরে প্রবেশ করবে) তখন তোমরা নিজদের ওপর সালাম করবে।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬১]
আল্লাহ তা'আলা নফস সম্পর্কে আরও বলেছেন,
﴿وَلَا تَقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ ﴾ [النساء : ٢٩]
“আর তোমরা নিজেরা নিজদেরকে হত্যা করো না।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯]
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
﴿يَوْمَ تَأْتِي كُلُّ نَفْسٍ تُجَادِلُ عَن نَّفْسِهَا ﴾ [النحل: ١١١]
“(স্মরণ কর সে দিনের কথা) যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের পক্ষে যুক্তি-তর্ক নিয়ে উপস্থিত হবে।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ১১১]
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
﴿كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ ﴾ [المدثر: ۳۸]
“প্রতিটি প্রাণ নিজ অর্জনের কারণে দায়বদ্ধ।” [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৩৮]
আবার কুরআনে নফসকে শুধু রূহের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন,
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
﴿يَأَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ﴾ [الفجر: ٢٧]
“হে প্রশান্ত আত্মা!” [সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৭]
﴿أَخْرِجُوا أَنفُسَكُمُ﴾ [الانعام: ٩٣]
“(এমতাবস্থায় ফিরিশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে আছে, তারা বলে), তোমাদের জান বের কর।” [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৯৩]
অন্য দিকে রূহ কখনও শরীরের জন্য ব্যবহৃত হয় নি; একাকিও নয়, আবার নফসের সাথেও নয়। অতএব, নফস ও রূহের মধ্যে পার্থক্য হলো সিফাত তথা গুণের মধ্যে; যাতের মধ্যে পার্থক্য নেই।

📘 রুহ সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত মাসয়ালাসমুহ > 📄 একবিংশতম মাসআলা: নফস কি একটি নাকি তিনটি?

📄 একবিংশতম মাসআলা: নফস কি একটি নাকি তিনটি?


কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
﴿يَأَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ﴾ [الفجر: ٢٧]
“হে প্রশান্ত আত্মা!” [সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৭]
﴿وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ التَّوَّامَةِ ﴾ [القيامة : ٢]
“আমি আরো কসম করছি আত্ম-ভৎর্সনাকারী আত্মার!” [সূরা আল-কিয়ামা, আয়াত: ২]
﴿إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ ﴾ [يوسف: ٥٢]
“নিশ্চয় নাফস মন্দ কজের নির্দেশ দিয়ে থাকে।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫২] তাহলে নফস কি মুতমাইন্না, লাওয়ামাহ ও আম্মারাহ তিন রকমের?
উত্তর: নফস মূলত একটি, তবে এর অনেক সিফাত তথা গুণ রয়েছে। ফলে নফসের গুণের হিসেবে এক একটি নাম দেওয়া হয়েছে। একে মুতমাইন্না (مطمئنة) বলা হয়েছে, যেহেতু সে তার রবের ইবাদত ও ভালোবাসায় মুতমাইন্ন তথা প্রশান্ত। আবার একে লাওয়ামাহ (لوامة) বলা হয়েছে, কেননা সে ব্যক্তির বাড়াবাড়িতে তাকে ভর্ৎসনা করে। আবার একে আম্মারাহ (أمارة) বলা হয়েছে, যেহেতু সে অন্যায় কাজের আদেশ দেয়। বস্তুত অন্যায় কাজের নির্দেশ দেওয়াই হলো নফসের প্রকৃতি, তবে আল্লাহ যাকে তাওফিক দান করেন, যাকে হিদায়াতের ওপর স্থির রাখেন এবং সাহায্য করেন তার কথা আলাদা।
আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের নফসগুলোকে নফসে মুতমাইন্না (مطمئنة) করে দেন এবং আমাদেরকে তাঁর ইবাদত ও ভালোবাসায় অন্তর্ভুক্ত করেন। আমীন।।
সালাত ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সমস্ত সাহাবীগণের ওপর বর্ষিত হোক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00