📘 রিক্লেইম ইয়োর হার্ট > 📄 আমার অবস্থান

📄 আমার অবস্থান


আমার অস্থিমজ্জা বিলীন হয়ে যেতে চায় পেশীগুলি যেন হাল ছেড়ে দিতে চায় এ দেহখানি যেন আর চলতে চাইছে না। অবিরাম এই পথ চলা, এই সংগ্রাম এই অবিরাম দ্বন্দ্ব নিশ্বাসের জন্য জীবনের জন্য।
রং তুলি দিয়ে মন আমার জন্য (জীবনের) এক বর্ণিল ছবি এঁকেছিল, কিন্তু এখন এর সবই যেন বিবর্ণ সাদা-কালো। (জগতে) বৃক্ষরাজি সব আনত, পরিশ্রান্ত, সংকুচিত। আমার অন্তরও তেমনই তা সত্ত্বেও চিন্তাগুলো আমার উচ্চারণ অব্যাহত রাখে
অবিরাম পথ চলে সংগ্রাম করতে থাকে সংঘাতে লিপ্ত হয় নিঃশ্বাসের জন্য জীবনের জন্য।
এত পরিষ্কার ও স্বচ্ছ চিত্র তুমি কিভাবে মুছে দেবে? এত বাস্তব?
আমায় বলো, কিভাবে নিজেকে আমি এ থেকে মুছে ফেলবো? আর কিভাবে আমার এই শ্রান্ত-ক্লান্ত পদযুগলকে বিশ্রাম দেবো?
আমি দেখতে থাকি কেবলই হোঁচট খাচ্ছি, হাঁটছি না।
এলোমেলো উচ্চারণ কথামালা নয়।
আমার বুকের মাঝে এক অব্যক্ত যন্ত্রণা নীরবতা, দুঃখ, অস্থিরতা হতে যার জন্ম
আমি ছাড়া আর কে আছে, যার আছে এর অধিকার? আমি ছাড়া আর কে জানে নাম তার?
অনুতপ্ত আমি আমার উদাসীনতায় প্রত্যুষের অবসন্নতায়
অরণ্য মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছি খুঁজে ফিরছি আমার অবস্থান।
পৌঁছালো কি আমার কাছে প্রেরণার কোনো বাণী? এ কার কণ্ঠস্বর শুনি আমি?
আমার কণ্ঠস্বর, সেতো কর্কশ আর কান ফাটানো।
আর কে তবে জানবে আমার নাম? শুধু তাঁরই মহান কৃপায়
আত্মা কথা বলে দেহ ও মন যখন
আমার অনুভূতিহীন,
কোনোরকম মন্থর পথ চলছে।
দয়া করে এসো, আমার চিন্তাগুলোকে শান্ত করতে হলেও এসো।
অরণ্যে ঘুরপাক খাচ্ছি আমি ডানায় ভর করে
খুঁজে বেড়াচ্ছি এখানো আমার অবস্থান।
আমি আর চলছি না সংগ্রাম করছি না দ্বন্দ্ব-সংঘাতেও নেই আমি নিঃশ্বাসের ওপর জয়ী হয়েছি আমি আমার জীবনকে জয় করেছি। ৮৫

টিকাঃ
* নিঃশ্বাসের ওপর জয়ী হয়েছি – বলে লেখিকা এখানে জীবনের অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত বিষয়গুলির ঊর্ধ্বে ওঠার কথা ব্যক্ত করেছেন। এখানে নিঃশ্বাস প্রতীকী। যেসব বস্তুগত বিষয়কে নিঃশ্বাসের মতো অপরিহার্য মনে করা হয়, সেগুলোকে বুঝানো হয়েছে – (সম্পাদক)।
* এ কবিতাগুলি লেখিকা জীবনের উদ্দেশ্য এবং তা না জানার বেদনা ব্যক্ত করার উদ্দেশ্যে লেখেন – (সম্পাদক)।

📘 রিক্লেইম ইয়োর হার্ট > 📄 অবিরাম পথ চলা

📄 অবিরাম পথ চলা


প্রতিদিনই আমি নিকটবর্তী হচ্ছি আমাদের সাক্ষাতের ক্ষণটির মনে হচ্ছে যেন এ পথে আমি হাজার বছর ধরে তোমার পানে চলছি ... আর তবুও আজও পৌঁছানো হয়নি সেখানে। এত কাছে তবুও কত দূরে এখনো।
তবু আমি চলতে থাকি ঝরে পড়ুক যতো অশ্রু, বয়ে যাক যতো ঝড়ো হাওয়া, ক্ষত-বিক্ষত জানুসন্ধি আর ভেঙে পড়া অস্থি-মজ্জা সত্ত্বেও সেইসব যন্ত্রণা আর আঘাত সত্ত্বেও, যা এ অন্তরকে এনেছে আজিকার অবস্থায়, আমি চলতে থাকি ... তোমারই পানে। একটিই মাত্র দিক আছে, কেবল একটিই দিক: শুধু তোমারই পানে। তোমা হতে আগমন আর তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন কিছুই নেই আমার। একেবারে কিছুই নেই। আমার ক্ষুদ্রতার পরিসীমা। আমি চলতেই থাকি
কেননা, প্রতিটি সূর্যাস্তের পর আসে নয়া সূর্যোদয়; প্রতিটি ঝড়ের পর থাকে আশ্রয়, প্রতিটি পতনে থাকে ওঠে দাঁড়ানোর প্রেরণা, প্রতিটি অশ্রুবিন্দুর পর আসে দৃষ্টির স্বচ্ছতা,
আর আঘাতে জর্জরিত আপনার প্রতিটি ক্ষতই সময়ে সেরে ওঠে সৃষ্টি হয় উন্নতর-শক্তিশালী ত্বক আগের চেয়ে।
আমি চলতে থাকি কারণ, কসম তোমার, হে আল্লাহ, তোমার দয়া ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। তোমার প্রতিশ্রুতি ছাড়া আমার আর কিছুই নেই তোমার শব্দমালা তোমার প্রতিশ্রুতি:
“হে মানুষ! তোমাকে তোমার রবের নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত কঠোর সাধনা করতে হবে, কঠিন পরিশ্রম, অতঃপর তুমি তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করবে।”৮৬ (কুরআন, ৮৪:৬)

টিকাঃ
৮৬ “অতঃপর তুমি তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করবে” -এই বাকাংশ্যের দুটি অর্থ হতে পারে। একটি হলো: “তাঁর সাক্ষাৎ” দ্বারা মহান আল্লাহর সাক্ষাৎ বুঝানো হয়েছে। অপরটি হলো এর দ্বারা মানুষ তার আমলের সাক্ষাৎ লাভ করবে বলে বুঝানো হয়েছে। উভয়টিই প্রযোজ্য - (সম্পাদক)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00