📘 রিক্লেইম ইয়োর হার্ট > 📄 রক্ষা করো আমায়

📄 রক্ষা করো আমায়


তোমার করুণা ছাড়া আমার ভরসা করার কিছুই নেই - একদম কিছুই নেই। আমি দাঁড়িয়ে আছি তোমার দরজার সামনে ভাঙা-চোরা জঞ্জাল নিয়ে° ... তা সত্ত্বেও তুমি উন্মুক্ত, অবারিত। রক্ষা করো আমায় এই ঝড়ের কবল থেকে। তোমার বান্দাদের মাঝে, আমিই যে সবচেয়ে অসহায়। আমি পথ হারিয়েছি, পথ ভুলে (দুনিয়া নামক) এই বনের মাঝে এদিক ওদিক ঘুরছি। কিন্তু সব গাছই আমার কাছে একই মনে হয়, সব রাস্তাই আমাকে কেবল রাস্তার শুরুতেই ফিরিয়ে আনছে। এই বনে যে পথ হারিয়েছে একবার, সে আর পথের দিশা পায় না, কেবল তারাই - যাদের তুমি রক্ষা করো, তারা ছাড়া। রক্ষা করো আমায়, কারণ, এ কথা নিশ্চিতভাবে সত্য যে, নিজেকে বাঁচাতে আমি অক্ষম।

টিকাঃ
° ভাঙা-চোরা জঞ্জাল বলতে লেখিকা এখানে নিজের দুর্বল আমল-ইবাদত, দু’আ ইত্যাদিকে বুঝিয়েছেন -(সম্পাদক)।

📘 রিক্লেইম ইয়োর হার্ট > 📄 আমার হৃদয় উন্মুক্ত এক গ্রন্থ

📄 আমার হৃদয় উন্মুক্ত এক গ্রন্থ


আমার হৃদয় উন্মুক্ত এক গ্রন্থ, আমার কাহিনী, যাকে অবারিত করেছে। জানিয়ে দাও, তোমার শিক্ষা হয়েছে। প্রতিবারই তুমি শিখতে থাকবে অপূর্ণতার মাঝে যে তুমি পূর্ণতা পেতে চাও।
খড়কুটার ঘরে তুমি আশ্রয় তালাশ করো। আর যখন ঝড় এলো তুমি অরক্ষিত ও নিঃসঙ্গ উন্মচিত। বছরের পর বছর তুমি গ্রাস করেছো ... কিন্তু তা শূন্যতার বেশি কিছু ছিল না। আর তুমি অবাক হলে, তা তোমার রিক্ত করে গেলো কেন।
তারা তোমাকে গল্পের পর গল্প বলেছে আর তুমি তাদের বিশ্বাস করেছো ... তারপর অপেক্ষায় ছিলে রূপকথার পরীর তোমার মাঝে পরিবর্তন নিয়ে আসার জন্য।
আর এখনো তুমি সর্বস্ব দিতে প্রস্তুত কাহিনীটাকে সত্য করার জন্য। ছাড়ো এসব এ থেকেও উত্তম কাহিনী যে আছে তা যে কোনো অলীক গল্প নয় বরং তা অকৃত্রিম, বাস্তব।
এ গল্পে নায়ক কখনো মরে না রক্তাক্ত হয় না, কান্নায় ভেঙে পড়ে না সত্য কাহিনীখানি খুঁজে নাও। আত্মস্থ করো। হৃদয়ের মনিকোঠায় লিখে রাখো। আর তারপর তা পড়তে দাও গোটা দুনিয়াকে। [কেননা], তোমার হৃদয় যে উন্মুক্ত এক গ্রন্থ।

📘 রিক্লেইম ইয়োর হার্ট > 📄 হুরিকায়াত

📄 হুরিকায়াত


ছোরার আঘাতে দুঃখ করো না।
তোমাকে মুক্ত করাই এর উদ্দেশ্য ছিল।
ওইসব শৃঙ্খল থেকে, যা বেঁধে রেখেছে তোমায় দুনিয়ার সাথে মানুষের ছায়ায় আটকে রাখা জিঞ্জির হতে।
মরীচিকা পানি তোমার তৃষ্ণা মেটাবে না যদিও তা তৃষ্ণার্তের কাছে পরম মনোহর।
আমার ভয় হয়। পরবর্তী জীবনকে কখনোই না জানতে পারার ভয়।
স্বতন্ত্র সে জীবন, পুরোপুরি ভিন্ন।
আমি যদি এ (নশ্বর) জীবন পরিত্যাগ করি: তবে কি তুমি আমায় (সন্ধান দেবে) মহোত্তর জীবনের?
(যে জীবন) বেদনা, কামনা ও হারানোর ঊর্ধ্বে।
আমি যা কিছু জানি, তার ঊর্ধ্বে।
আমাকে নিয়ে চলো আরও উঁচুতে, মুক্ত করো আমায় পৃথিবীর বাঁধন হতে, এ তো ভ্যাকসিনের মতো, সবল করবে বলে কিছু সময়ের জন্য এটা তোমায় অসুস্থ করে।
ছোরার আঘাতের যন্ত্রণা ক্ষণিকের।
আর মুক্তি সে তো চিরকালের।

📘 রিক্লেইম ইয়োর হার্ট > 📄 আমার অবস্থান

📄 আমার অবস্থান


আমার অস্থিমজ্জা বিলীন হয়ে যেতে চায় পেশীগুলি যেন হাল ছেড়ে দিতে চায় এ দেহখানি যেন আর চলতে চাইছে না। অবিরাম এই পথ চলা, এই সংগ্রাম এই অবিরাম দ্বন্দ্ব নিশ্বাসের জন্য জীবনের জন্য।
রং তুলি দিয়ে মন আমার জন্য (জীবনের) এক বর্ণিল ছবি এঁকেছিল, কিন্তু এখন এর সবই যেন বিবর্ণ সাদা-কালো। (জগতে) বৃক্ষরাজি সব আনত, পরিশ্রান্ত, সংকুচিত। আমার অন্তরও তেমনই তা সত্ত্বেও চিন্তাগুলো আমার উচ্চারণ অব্যাহত রাখে
অবিরাম পথ চলে সংগ্রাম করতে থাকে সংঘাতে লিপ্ত হয় নিঃশ্বাসের জন্য জীবনের জন্য।
এত পরিষ্কার ও স্বচ্ছ চিত্র তুমি কিভাবে মুছে দেবে? এত বাস্তব?
আমায় বলো, কিভাবে নিজেকে আমি এ থেকে মুছে ফেলবো? আর কিভাবে আমার এই শ্রান্ত-ক্লান্ত পদযুগলকে বিশ্রাম দেবো?
আমি দেখতে থাকি কেবলই হোঁচট খাচ্ছি, হাঁটছি না।
এলোমেলো উচ্চারণ কথামালা নয়।
আমার বুকের মাঝে এক অব্যক্ত যন্ত্রণা নীরবতা, দুঃখ, অস্থিরতা হতে যার জন্ম
আমি ছাড়া আর কে আছে, যার আছে এর অধিকার? আমি ছাড়া আর কে জানে নাম তার?
অনুতপ্ত আমি আমার উদাসীনতায় প্রত্যুষের অবসন্নতায়
অরণ্য মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছি খুঁজে ফিরছি আমার অবস্থান।
পৌঁছালো কি আমার কাছে প্রেরণার কোনো বাণী? এ কার কণ্ঠস্বর শুনি আমি?
আমার কণ্ঠস্বর, সেতো কর্কশ আর কান ফাটানো।
আর কে তবে জানবে আমার নাম? শুধু তাঁরই মহান কৃপায়
আত্মা কথা বলে দেহ ও মন যখন
আমার অনুভূতিহীন,
কোনোরকম মন্থর পথ চলছে।
দয়া করে এসো, আমার চিন্তাগুলোকে শান্ত করতে হলেও এসো।
অরণ্যে ঘুরপাক খাচ্ছি আমি ডানায় ভর করে
খুঁজে বেড়াচ্ছি এখানো আমার অবস্থান।
আমি আর চলছি না সংগ্রাম করছি না দ্বন্দ্ব-সংঘাতেও নেই আমি নিঃশ্বাসের ওপর জয়ী হয়েছি আমি আমার জীবনকে জয় করেছি। ৮৫

টিকাঃ
* নিঃশ্বাসের ওপর জয়ী হয়েছি – বলে লেখিকা এখানে জীবনের অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত বিষয়গুলির ঊর্ধ্বে ওঠার কথা ব্যক্ত করেছেন। এখানে নিঃশ্বাস প্রতীকী। যেসব বস্তুগত বিষয়কে নিঃশ্বাসের মতো অপরিহার্য মনে করা হয়, সেগুলোকে বুঝানো হয়েছে – (সম্পাদক)।
* এ কবিতাগুলি লেখিকা জীবনের উদ্দেশ্য এবং তা না জানার বেদনা ব্যক্ত করার উদ্দেশ্যে লেখেন – (সম্পাদক)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00