📄 শাস্তির জন্য আজ আমি প্রার্থনা করেছি
শান্তির জন্য প্রার্থনারত অবস্থায় আমি নিজেকে পেলাম আজ নিজ অন্তরের ভেতরে-বাহিরে আনাগোনা হলো হাজারো বার। আমি জানি, "তুমি শুনেছো আমায়। জানি আমি, ছিলাম না আমি একাকি কক্ষে হেথায়। ভীত হওয়ার ভয়ে কম্পিত হতে হতে মর্মভেদী একাকিত্বের মাঝে। হাত তুলে হাঁটু গেড়ে কাঁদছিলাম তোমারই পানে বদনখানি মোর নত হয়ে জমিনের-ই পরে। পারতাম যদি হতে আরও নত, কসম, হতাম তা-ই আমি। কারণ, সব থেকে সত্যিকারের অসহায়ত্ব একেই বলে এ সেই অসহায়ত্ব যে আর কিছুই চেনে না, জানে না, না একটা বৃক্ষপল্লব, না কান্না, না কোনো হাসি অস্তিত্ববান নয় তাঁকে ছাড়া কিছুই। আমি আজ কিছু শিখছিলাম।
আবারও।
এই তো দুনিয়া। আরে এই তো দুনিয়া, নয় কোনো আরামের স্থান, কেবলই মিছে চকমকি। এই দুনিয়া এমনই এক ভূঁই, যেখানে শীতার্ত ও ক্ষুধার্ত হতে হয় এমনই এক আবাস, যেখানে উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তা রয়। যেথায় শৈত্য বয়ে যায়।
এতদূর শীতল, যেন ভেতরটা কাপিয়ে দেয়।
এ এমন এক স্থান, যেখানে ভালোবাসার মানুষদের ছেড়ে যেতে হয়।
অত্যধিক সংযুক্তির স্থান নয় এটা, যদি হয়ে পড়ো কভু, থাকবে না তাতে স্থিতি, ছেড়ে যাবে তা যবে, কষ্টখানিই রয়ে যাবে।
এখানে আনন্দ-বিষন্নতা যাত্রা-পালার শিল্পী মাত্র তাদের পরবর্তী সংলাপের জন্যে ...
প্রতিযোগিতায় লিপ্ত তারা মঞ্চে নিজেদের আসনের জন্য।
এখানে মধ্যাকর্ষণ তোমায় আছড়ে ফেলে, দুর্বলতা করে রক্তাক্ত।
এখানে দুঃখের আস্তানা। কেননা, তা-ই আবশ্যক।
বহমান অশ্রু তোমায় মনে করায় বিষাদহীন ঠিকানার কথা।
কান্না-বিষাদের নেই ঠাই।
আর সেটাই কি কাঙ্ক্ষিত আবাস নয়? জান্নাতই কি সে স্থান নয়? ভার পরিচয় রব্বে করিম আল্লাহ বারবার দিয়েছেন দুটি দিক থেকে: وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
থাকবে না তাদের কোনো ভয় ... আর না তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হবে।
তবে আমি এখনো এখানেই আছি, তাই নয় কি?
দেহে আমার ক্ষতচিহ্ন তা-ই মনে করিয়ে দেয়।
বাহুতে তার রেখে যাওয়া পোড়া-ক্ষত, যা আমি ভালোবাসি। কারণ, তা-ও আমায় মনে করায় -আমার দুর্বলতা।
কতই না মানবীয়।
আমি অগ্নিবিদ্ধ হই। রক্তাক্ত হই। বিধ্বস্ত হই। আমি ক্ষম-বিক্ষত হই।
হ্যাঁ। আমি এখানেই অবস্থানরত। এই সেই স্থান, যেখানে আমি পতিত হই। ভেঙে পড়ি কান্নায়।
এখানেও সেই একইভাবে "তুমি" পূর্ণ করেছো সেই কক্ষখানে, বিনয়ে আমাকে উন্নত করেছো। দান করেছো আমার অক্ষমতার জ্ঞান আর “তোমার” অপরিহার্যতার মর্মভেদী অনুভূতি।
আর তারপর তার দেখভালের দায়িত্বও তুমি নিয়েছো।
নিশ্চিতই তুমি তা করেছো।
হ্যাঁ, নিশ্চিতভাবেই (তুমি তার দেখভাল করেছো)।
নবি ইউনুসের মতো, আর নবি মুসা ও তার মায়ের মতো। তুমিই তার ব্যবস্থা করেছো।
তুমিই তো শান্তিময়তার প্রশান্তি।
তুমিই তো শক্তিমানের শক্তি।
তুমি তো মিথ্যার এই প্রলয়ে সত্যের একমাত্র আলোকবর্তিকা
আর তাই, শান্তির আশায় আমি আমায় পেলাম আজ প্রার্থনারত অবস্থায়।
📄 মৃত্যুর আগেই মৃত্যুবরণ করো
বলো আমায়, আমি হারিয়ে যাই
বলো আমায়, তোমার উপস্থিতিতে আমি হারিয়ে ফেলতে পারি নিজেকে প্রকৃত আত্ম-সমর্পণের অভিভূতকারী মুহূর্তে
বলো আমায়, আমি চিরকাল দেউলিয়া ই থেকে যেতে পারি তোমারই মাঝে তোমারই জন্য তোমারই সাথে।
বলো আমায়, আমি এ অবস্থায় চিরকাল থেকে যেতে পারি দূরে, যখন আমি এখানেই
নবি (ﷺ) কি বলেননি: “মৃত্যুর আগেই মৃত্যুবরণ করো?” প্রথমে আমি ভাবলাম, এটা বুঝি এক স্মরণিকা মনে করিয়ে দিচ্ছে তোমার সাথে সাক্ষাতেরই কথা।
কিন্তু তারপর আমি ভাবলাম, মৃত্যুও আগে মৃত্যুর জন্য কতই না আমার কামনা:
এমন এক আত্মার অধিকারী হওয়া, যা আর দুনিয়ায় পড়ে নেই – যদিও দেহখানি দুনিয়াতেই রয়।
এমন এক হৃদয়, যা দুনিয়ার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত, যদিও পাগুলিকে হাঁটতে হয় দুনিয়ার রাস্তা দিয়ে।
এমন নফসের অধিকারী হতে, যা স্বীয় প্রভুর সান্নিধ্যে সন্তুষ্ট ও সম্পূর্ণ প্রশান্ত, যদিও ভঙ্গুর খোলসখানি তখনো অটুট।
এমন আত্মা, যা ইতোমধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছে গেছে - সেখানে পৌঁছার আগেই।
নির্লিপ্ত এক আত্মা।
অকৃত্রিম, গভীরতম, নিখাঁদ এক নফসে মুতমায়িন্না (কুরআন ৮৯:২৭)
আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক সেই শ্রেষ্ঠ জ্ঞানীর প্রতি, যিনি বলেছেন, “যে এই জীবনের জান্নাতে প্রবেশ করেনি, সে আখিরাতেও জান্নাতে প্রবেশ করবে না।"
📄 রক্ষা করো আমায়
তোমার করুণা ছাড়া আমার ভরসা করার কিছুই নেই - একদম কিছুই নেই। আমি দাঁড়িয়ে আছি তোমার দরজার সামনে ভাঙা-চোরা জঞ্জাল নিয়ে° ... তা সত্ত্বেও তুমি উন্মুক্ত, অবারিত। রক্ষা করো আমায় এই ঝড়ের কবল থেকে। তোমার বান্দাদের মাঝে, আমিই যে সবচেয়ে অসহায়। আমি পথ হারিয়েছি, পথ ভুলে (দুনিয়া নামক) এই বনের মাঝে এদিক ওদিক ঘুরছি। কিন্তু সব গাছই আমার কাছে একই মনে হয়, সব রাস্তাই আমাকে কেবল রাস্তার শুরুতেই ফিরিয়ে আনছে। এই বনে যে পথ হারিয়েছে একবার, সে আর পথের দিশা পায় না, কেবল তারাই - যাদের তুমি রক্ষা করো, তারা ছাড়া। রক্ষা করো আমায়, কারণ, এ কথা নিশ্চিতভাবে সত্য যে, নিজেকে বাঁচাতে আমি অক্ষম।
টিকাঃ
° ভাঙা-চোরা জঞ্জাল বলতে লেখিকা এখানে নিজের দুর্বল আমল-ইবাদত, দু’আ ইত্যাদিকে বুঝিয়েছেন -(সম্পাদক)।
📄 আমার হৃদয় উন্মুক্ত এক গ্রন্থ
আমার হৃদয় উন্মুক্ত এক গ্রন্থ, আমার কাহিনী, যাকে অবারিত করেছে। জানিয়ে দাও, তোমার শিক্ষা হয়েছে। প্রতিবারই তুমি শিখতে থাকবে অপূর্ণতার মাঝে যে তুমি পূর্ণতা পেতে চাও।
খড়কুটার ঘরে তুমি আশ্রয় তালাশ করো। আর যখন ঝড় এলো তুমি অরক্ষিত ও নিঃসঙ্গ উন্মচিত। বছরের পর বছর তুমি গ্রাস করেছো ... কিন্তু তা শূন্যতার বেশি কিছু ছিল না। আর তুমি অবাক হলে, তা তোমার রিক্ত করে গেলো কেন।
তারা তোমাকে গল্পের পর গল্প বলেছে আর তুমি তাদের বিশ্বাস করেছো ... তারপর অপেক্ষায় ছিলে রূপকথার পরীর তোমার মাঝে পরিবর্তন নিয়ে আসার জন্য।
আর এখনো তুমি সর্বস্ব দিতে প্রস্তুত কাহিনীটাকে সত্য করার জন্য। ছাড়ো এসব এ থেকেও উত্তম কাহিনী যে আছে তা যে কোনো অলীক গল্প নয় বরং তা অকৃত্রিম, বাস্তব।
এ গল্পে নায়ক কখনো মরে না রক্তাক্ত হয় না, কান্নায় ভেঙে পড়ে না সত্য কাহিনীখানি খুঁজে নাও। আত্মস্থ করো। হৃদয়ের মনিকোঠায় লিখে রাখো। আর তারপর তা পড়তে দাও গোটা দুনিয়াকে। [কেননা], তোমার হৃদয় যে উন্মুক্ত এক গ্রন্থ।