📄 কবিতা
বহু পথ পাড়ি দিয়ে আজ আমি এখানে পৌঁছেছি। কখনো আমি পাড়ি দিয়েছি মরুভূমির পর মরুভূমি, আর ওই কষ্টকর যাত্রাতে আমার প্রয়োজন ছিল কেবল এক ফোঁটা পানি, যা তুমি আমায় দিতে পারোনি। কখনো পড়েছি প্রবল ঝড়ে, যেখানে পথ চলার জন্য আমার প্রয়োজন ছিল সামান্য আলো। বারবার চাওয়া সত্ত্বেও তুমি আমায় তা দিতে পারোনি। তোমার আছে কেবল প্রতারণাময় জাকজমক, দম্ভ আর অস্থায়ী সামগ্রী। আর তাই আমি নিজেকে পেয়েছি পানিহীন মরুভূমিতে, আলোহীন অন্ধকারে বারবার। কিন্তু আমি আর নই তোমার দাস। কারণ, আমাকে এসব থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য একজন এসেছিলেন। একজন, যিনি এসেছিলেন আমাকে দাসের দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে। আর আমাকে সকল দাসের প্রভু যিনি, তাঁর দাসত্বে নিয়ে আসতে।
📄 তোমার উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি
এই স্বাধীনতার অনুভূতি ব্যাখ্যা করে বুঝানো বেশ কঠিন। এটা খুবই গভীর এবং খুবই বাস্তব এক অনুভূতি। দ্বিধা-সংশয়, (মার্কেটিং-এর) শূন্য বাক্সগুলি আর অবাস্তব সব প্রতিমূর্তিগুলির দিকে আমি তোমায় দেখেছি- হে দুনিয়া। তুমি আমার চোখে পর্দার পর পর্দা চাপিয়ে গেছো। চেয়েছো আমায় জয় করতে, ধোঁকা দিতে, তোমার অগণিত মিথ্যার জাল আবদ্ধ করে তোমার দাসে পরিণত করতে।
বরং সত্য কথা হলো: তোমার দরজায় যখন এক ফোঁটা পানির জন্য কড়া নাড়ছিলাম, তখন তো তুমি আমাকে তা দিতে পারোনি। আমাকে পূর্ণ করার জন্য তোমার সামনে হাঁটু গেড়ে কেবল ব্যর্থ মিনতিই করে গেছি আমি।
আমি এখন স্পষ্টভাবে দেখতে পারছি, তা কেবল অবিরাম নৈরাশ্যের আঘাতই খোদাই করতে সক্ষম। আর আমি বসে রই, তোমার সমর্থক পরিবেষ্টিত হয়ে, তোমার এই মিথ্যুকদের পাঠানোই হয়েছে আমাকে শেকলে বাঁধতে। কিন্তু আমি আর তোমার বন্দি থাকবো না। আমি আর ওই ছোট্ট বালিকা হবো না, শুয়ে শুয়ে সারারাত যে কেবল তোমার কথা ভাবে। আমি আর ওই মনভাঙা সেই ছোট্ট শিশু নই যে, তোমার জন্য কেঁদে নিজের চোখের জল নষ্ট করবো। আমার ব্যর্থ প্রেম আমাকে আর ভেঙে চুরমার করতে পারবে না। তুমি আমাকে ভাঙতে পারবে না। তোমার জাকজমক আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতির সামনে আমি মাথা নত করবো না। তোমার মেকি তখতের সামনে দাঁড়ানো অনুগত প্রজাটি আমি আর নই। আমার অশ্রুর ওপর আর তোমার নেই কোনো অধিকার। আমার হৃদয় আর তোমার বেদি নয়।
এখানে আর তুমি থাকতে পারো না।
টিকাঃ
"লেখিকা দুনিয়াকে উদ্দেশ্য করে এ পত্র লিখেছেন- (সম্পাদক)।
📄 শোকচ্ছন্ন আমি
মাথা উঁচু করে দেখলাম আমি আরও একটি বার
শুধুই দু'চোখ মেলে দেখতে
সূর্যটা ডুবে গেছে
গাছগুলো সব ঘুমিয়ে পড়েছে
আর সবাই নিজ নিজ বাড়ি ফিরছে
শুধুই শোকাচ্ছন্ন আমি
পরিষ্কার সেই আকাশ আজ কুয়াশায় আচ্ছন্ন।
আমার পথ, আমি আজ আর দেখতে পাই না।
কেন এই বৃথা চেষ্টা ... সবই যখন ধূসর?
শোকাচ্ছন্ন আমি।
আজ আমি শোকাচ্ছন্ন
হারিয়ে গেছে যা, তার জন্য।
বিস্মৃত জাতি আমার
আজও হাঁটু গেড়ে বসে আছে
এই বসন্তে, এক তুষার দেবতার সামনে
শোকাচ্ছন্ন আমি।
তারা দু'আ করতে ভুলে গেছে
কার কাছে দু'আ করবে, তাও বিস্মৃত হয়েছে।
সারবস্তু হারিয়ে গেছে
জাগতিক আচার সর্বস্বতার ভিড়ে,
অর্থহীন প্রতীকের আড়ালে।
তাদের অন্তরগুলো ... আজ ভীষণ ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত ও জীর্ণ তারা
শোকাচ্ছন্ন আমি।
আমরা সেই জাতি যারা পরাস্ত হতে পারে... কিন্তু বশীভূত হবার নয়।
আর কোনো না কোনোভাবে আমি আমার রক্তের মাঝে আলোড়ন অনুভব করছি আবার।
আমি ঘুড়ে দাঁড়াবো।
চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।
এবং আমার দুঃখকে উপেক্ষা করে আমি দেখবোই ...
এমন এক জাতি আছে, যাকে দাসত্বের নিগড়ে আবদ্ধ করা সম্ভব নয়।
আছে আনুগত্য ... যা তুমি কিনতে সক্ষম নও।
জমিন হয়তো দখল করা যায় ... কিন্তু অন্তরকে কাবু করা সম্ভব নয়।
আমার সকল অশ্রু উপেক্ষা করে আমি উপলব্ধি করবোই ...
আজ আমার লোকেরা কাঁদছে।
কিন্তু আগামীকাল ... মৃত্যুর মৃত্যু হবে।
আর তাদের অশ্রু জন্ম দেবে এমন জমিনের যেখানে ...
"তাদের থাকবে না কোনো ভয় আর না তারা হবে বিচলিত।” (কুরআন, ২:২৬২)
📄 ভাবনাবলি মোর
আশ্চর্য এক করুন রাগিনীতে ভরে আছে আজ চারদিক। এমন এক বিষন্নতা, যা আপনাকে রিক্ত করে না, করে তোলে নিঃসঙ্গ। এমনকি দেয় না অসম্পূর্ণতার অনুভূতি। বরং তা সমস্ত উদ্বেগ-উদ্বিগ্নতা হরণ করে। উৎসারিত হয় গভীরতম উপলব্ধি, এমনকি স্বীকৃতির স্তর হতে।
আমি আজ এ ছবিখানির দিকে তাকালাম, আর যতবারই তাকালাম অশ্রু ভরে ওঠলো আমার চোখ দু’টিতে। সমুদ্র তীরের সূর্যাস্তের এক ছবি। অত্যাশ্চর্য তার রূপ। ওপরে লেখা আয়াতখানি, "রব্বানা মা খালাকতা হাযা বাতিলান সুবহানাক (হে আমাদের রব, কিছুই আপনি অযথা বানাননি, সুবহানাক)।"
আর ব্যস, এতটুকুই। দুঃখ, দুর্ঘটনা, হাসি, শান্তি, যন্ত্রণা, প্রেম, ক্ষতি এবং উৎসর্গ থেকে শুরু করে কোনো কিছুই নিরর্থক নয়। কোনো কিছুই নয় উদ্দেশ্যহীন। না কোনো ভুল বা অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি অথবা উদ্দেশ্যবিহীন কিছু ঘটনা।
আমি সে ছবির দিকে তাকিয়ে ছিলাম এবং হঠাৎ-ই কেমন যেন স্মৃতিকাতরতায় ডুবে গেলাম। হারিয়ে গেলাম এমন সময়ে, যার কোনো স্মৃতিই আমার নেই।
"আর (স্মরণ করো) যখন তোমাদের প্রতিপালক আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানদেরকে বের করে আনলেন এবং তাদের নিজেদের সম্বন্ধে স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন এবং বলেন, 'আমি কি তোমাদের রব নই?' তারা বলে, 'হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা সাক্ষী থাকলাম।' এটা এইজন্য যে, তোমরা যেন কিয়ামতের দিন না বলো, 'আমরা তো এ বিষয়ে অবহিত ছিলাম না।'"
وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِن بَنِي آدَمَ مِن ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَن تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ (কুরআন, ৭:১৭২)
কারো অনুপস্থিতির বেদনা আমাকে আচ্ছন্ন করছিল। তাঁর অনুপস্থিতি, তাঁর সান্নিধ্যে না থাকার বেদনা। এমন এক সময়ের অভাব বোধ, যা এক সময় ছিল অথবা ভবিষ্যতে হবে। সে মুহূর্তটি এতই নিশ্চিত যে, যেন এটা ইতোমধ্যেই সংঘটিত হয়েছে। এ কারণেই যতবার আল্লাহ কুরআনে আখিরাতের কথা উল্লেখ করেছেন, ততবারই তিনি অতীতকাল ব্যবহার করেছেন।
যখন আপনি কোনো শিল্পকর্মের প্রেমে পড়েন, তখন ওই শিল্পীর সাথে সাক্ষাত করতে ব্যাকুল হয়ে পড়েন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সূর্যাস্ত, সাগরের বুকে উঁকি মারা এক টুকরো পূর্ণিমার চাঁদ, বিমান থেকে দেখা মেঘমালা, রোলি (Raleigh)-তে শরতের বনের দৃশ্য এবং প্রথম পড়া তুষারের [চমৎকার দৃশ্য সম্বলিত] গ্যালারির [মনোযোগী] এক ছাত্র আমি।
আর এই শিল্পীর দেখার পাবার জন্য আমি চরমভাবে ব্যাকুল হয়ে আছি।
“ওই দিন কিছু চেহারা হবে আলোকজ্জ্বল, তাকিয়ে থাকবে তাদের রবের পানে।” (কুরআন, ৭৫:২২-২৩)