📄 উম্মাহ
এই আঁধারে ঢাকা স্থানই শেষ অবস্থা নয়। মনে রাখবেন, রাতের আঁধার অনুসরণ করেই ভোরের আলো প্রস্ফুটিত হয়। আর যতক্ষণ আপনার হৃদয়ের স্পন্দন রয়েছে, ততক্ষণ তা মৃত নয়। আপনাকে এখানেই মরতে হবে না। কখনো কখনো সমুদ্র তলদেশ যাত্রাপথের একটা বিরতি মাত্র। আর যখন আপনি একেবারে তলানীতে উপনীত হন, তখন আপনার সামনে সুযোগ আসে বাছাই করার। হয় আপনি ডুবে যাওয়া পর্যন্ত এই তলানীতেই পড়ে থাকবেন, আর না হয় (এখান থেকে) মণি-মুক্তা সংগ্রহ করে আবার উঠে দাঁড়াবেন - এই সাঁতার (নামক সংগ্রামের মাধ্যমে) আরও শক্তিমান হয়ে এবং মণি-মুক্তা (নামক অভিজ্ঞতা) ৬৭ হতে আরও সমৃদ্ধশালী হয়ে।
টিকাঃ
৬৭ - (সম্পাদক)।
📄 তকমাগুলি ভুলে দিন
আপনি কোন ধরনের মুসলিম? প্রশ্নটি বেমানান লাগতে পারে। কিন্তু যারা ইসলামকে নানা নামে বা পরিচয়ে বিভক্ত করে - এর ওপর বিজয়ী হতে চায়, তাদের কাছে এর জবাব দিন-দিন বেশ গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে। এর থেকে গোলমেলে হলো: আমরা নিজেদের জন্য যেসব তকমা বা লেবেল স্থির করছি।
ভাই বোনদের সাথে কখনো আমাদের মতের অমিল হয়নি, এটা আমাদের মধ্যে খুব কম লোকের পক্ষেই বলা সম্ভব। কিন্তু পরিবারের কোনো লোক যদি কোনো ভুল করে, এমনকি বড় ধরনের কোনো ভুল করে অথবা পরিবারের কোনো সদস্য এমন কোনো মত পোষণ করে, যার সাথে আমরা একমত নই, তথাপি আমাদের মধ্য থেকে খুব কম লোকই ওই পরিবারকে ডিভোর্স দিয়ে তথা সম্পর্ক ছেদ করে নিজেদের পারিবারিক পরিচয় পাল্টে নেবে। (দুর্ভাগ্যজনকভাবে) আজ বৃহত্তর মুসলিম পরিবারের (তথা মুসলিম উম্মাহর) জন্য এই কথা আর সত্য নয়।
আজ আমরা আর কেবলই 'মুসলিম' নই। আমাদের কেউ আজ 'প্রগতিশীল', কেউ 'ইসলামিস্ট', কেউ 'রক্ষণশীল', কেউ 'সালাফি', কেউ 'দেশীয়', আবার কেউ 'অভিবাাসী'। প্রতিটি দল একে অপরের প্রতি এতটাই বৈরি ভাবাপন্ন যে, আমরা ভুলেই গিয়েছি যে, আমরা সবাই একই বিশ্বাস ও আদর্শের অনুসারী।
যদিও, আমাদের উম্মাহর মাঝে বাস্তবিকই কিছু কিছু ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, তথাপি কোনো এক জায়গায় কিছু একটা ভালো রকম গড়বড় হয়ে গেছে। ইসলামি সীমার মাঝে মতভেদকে শুধু সহ্যই করা হয় না, বরং এটাকে আল্লাহর রহমত হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু যেইমাত্র আমাদের সাথে ভিন্ন মত পোষণকারীদেরকে আমরা নানা তকমা বা লেবেল দিই এবং তাদেরকে কোনঠাসা করতে থাকি, তখনই কার্যত আমাদের পতন শুরু হয়। যখনই আমরা এসমস্ত লেবেলকে মেনে নিই এবং এগুলোকে পরিচয়ের মূল উৎস হিসেবে নিজেদের মধ্যে স্থান করে দিই, তখন এর ফলাফল হয় মারাত্মক। ফলশ্রুতিতে আমরা নিজেদের ক্যাম্প তৈরি করি, নিজেদের সভা ও সেমিনারগুলোতে অংশগ্রহণ করি এবং শীঘ্রই আমরা কেবল তাদের সাথেই সম্পর্ক রাখি, যারা আমাদের সাথে এক মত পোষণ করে। এতে করে উম্মাহর মাঝে আভ্যন্তরীণ সংলাপ বিদায় নিতে থাকে, নিজেদের মতপার্থক্যগুলো আরও বেশি হতে থাকে এবং আমাদের মতগুলো আরও চরমপন্থী রূপ ধারণ করতে থাকে। আর শীঘ্রই আমরা দুনিয়ার 'অন্যান্য' মুসলিম গোষ্ঠীর কি হলো, সে ব্যাপারে মাথা ঘামানো বন্ধ করে দিই। এভাবে নবি (সাঃ)-এর দেওয়া শিক্ষা অনুযায়ী এক দেহ তুল্য উম্মাহ হতে আমরা একেকটি অঙ্গ কেটে বাদ দিতে থাকি। 'ভিন্ন' মতালম্বী (যারা এখনো প্রকৃতপক্ষে আমাদেরই ভাই), তারা আমাদের কাছে সম্পর্কহীন অপরিচিতের মতো হয়ে যায়। এমনকি আমরা তাদেরকে এতটাই ঘৃণা করতে শুরু করি যে, যে আমরা আর একই নামে পরিচিত হতে চাই না। বরং তাদের বিরুদ্ধে আমাদের (অর্থাৎ মুসলিমদের) শত্রুদের সাথে হাত মেলাতে দ্বিধা করি না।
যে মতপার্থক্য এক সময় ছিল রহমত ও আশীর্বাদস্বরূপ, সহসাই তা রূপ নেয় অভিশাপে। পরিণত হয় ইসলামকে পরাস্ত করার হাতিয়ারে। আমাদের শত্রুরা "আমাদেরকে আক্রমণের জন্য একে অপরকে ডাকতে থাকে, যেমন খাবারে শরিক হওয়ার জন্য একে অপরকে দাওয়াত করে।” (আবু দাউদ)
২০০৪ সালের ১৮ই মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী থিংক ট্যাংক RAND (র্যান্ড) একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। ওই রিপোর্টে তারা ইসলামকে 'সভ্য' বানাতে সাহায্য করার জন্য ইসলামকে মুছে ফেলে সেটাকে পশ্চিমা সেকুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের আদলে পুনর্গঠনের পরামর্শ দেয়। Civil Democratic Islam: Partners, Resources, Strategies শিরোনামের ওই রিপোর্টে শেরিল বেনার্ড লিখেন, “বস্তুত আধুনিকতাবাদ পশ্চিমের জন্য ফায়দা আনে, রক্ষণশীলতা নয়। এই আধুনিকতাবাদের মধ্যে জরুরি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল ধর্মের প্রকৃত বিশ্বাস থেকে সরে আসা, সেগুলোর মাঝে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এবং সেগুলো থেকে বাছাইকৃত অংশ উপেক্ষা করা।"
ইসলামের আদর্শ "থেকে সরে আসা, সেগুলোর মাঝে পরিবর্তন আনা এবং বাছাইকৃত অংশ উপেক্ষা করার” জন্য বেনার্ড একটি সহজ কৌশলের সন্ধান দেন এবং তা হচ্ছেঃ (ইসলামের অনুসারীদের ওপর বিভিন্ন) লেবেল লাগানো, বিভক্তি ছড়ানো এবং (এর মাধ্যমে তাদের) নিয়ন্ত্রণ করা। প্রতিটি মুসলিম দলের ওপর একটি লেবেল বা তকমা লাগানোর পর, তাদেরকে একে অপরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেওয়ার জন্য এই মহিলা পরামর্শ দেন। "রক্ষণশীল ও মৌলবাদীদের মাঝে মতভেদকে উসকে দেওয়া” এবং "রক্ষণশীল ও মৌলবাদীদের মাঝে সমঝোতাকে নিরুৎসাহিত করার" জন্য বেনার্ড পরামর্শ দেন।
এইভাবে সফলতার সাথে বিভক্তি তৈরি এবং 'আধুনিকতাবাদী'। প্রগতিশীল' মুসলিমদেরকে সমর্থন করার মাধ্যমে বেনার্ড আশা করেন এক প্রকার 'সুশীল গণতান্ত্রিক' ইসলাম আবিষ্কার করার, যা কিনা কম পশ্চাৎপদ এবং কম ঝামেলা প্রবণ। আরও নির্দিষ্টভাবে তিনি এমন এক ইসলাম তৈরির আশা করেন, যে ইসলাম পাশ্চাত্যের নব্য রক্ষণশীলদের কর্তৃত্ববাদী এজেন্ডার সামনে মাথা নুইয়ে দেবে।
অতএব যদি ইসলামকে বিকৃত করার প্রথম পদক্ষেপ হয়: (মুসলিমদের) মধ্যে বিদ্যমান লেবেল বা তকমাসমূহ থেকে ফায়দা নেওয়া, তবে আসুন সবাই বলে দিই, 'Thanks, but no thanks.' আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, "তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জু ঐক্যবদ্ধভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” (কুরআন, ৩:১০৩) আমাদেরকে এবং আমাদের ধর্মকে (তথাকথিত) 'সভ্য' বানানোর যে মিশনে তুমি নেমেছো, সেটাকে আমরা সাধুবাদ জানাই, তবে তা আমাদের প্রত্যাখ্যান করতে হচ্ছে। বিকৃত ও মান্ধাতার আমলের জিনিসই পুনর্গঠনের মুখাপেক্ষী এবং ভেঙে যাওয়া জিনিসকেই আপনি মেরামত করতে পারেন। আর যখন এটা শুনতে ভালই লাগে যে, তোমরা আমাদেরকে "আধুনিক" বা "মধ্যপন্থী” বলে অভিহিত করতে চাচ্ছো, তবে এসব আতিশয্য আমাদের না হলেও চলবেও। সংজ্ঞাগত দিক দিয়েই ইসলাম মধ্যপন্থী, তাই যতই মজবুতভাবে আমরা ইসলামের মৌলনীতিসমূহ মেনে চলবো, আমরা ততই মধ্যপন্থী হতে সক্ষম হবো। আর প্রকৃতিগতভাবে ইসলাম কালোত্তীর্ণ ও বিশ্বজনীন। তাই প্রকৃতঅর্থে ইসলামিক হতে পারলে আমরা সব সময়ই আধুনিক হতে সক্ষম হবো।
আমরা "প্রগতিশীল”-ও নই, "রক্ষণশীল"-ও নই। "নব্য-সালাফি"-ও না, "ইসলামিস্ট"-ও না। না আমরা "প্রাচীনপন্থী”, না “ওহাবি”। অভিবাসীও নই, দেশীয়ও নই। ধন্যবাদ, তোমাদের দেওয়া এসব তকমার কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই।
আমরা কেবলই মুসলিম। (এটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়)।
টিকাঃ
* নব্য রক্ষণশীল: "Neoconservative" সংক্ষেপে "Neocon"। ১৯৬০ এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া একটি রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও আন্দোলন। এরা বিশ্বব্যাপী তাদের ধ্যানধারণা ভিত্তিক গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক বিষয়ে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামরিক শক্তি প্রয়োগের নীতিতে বিশ্বাস করে- (সম্পাদক)।
(সম্পাদক)।
*- (সম্পাদক)।
📄 মুসলিম হও – তবে অবশ্যই মডারেট হতে হবে
২০০৪ সালে সিনেটর জন কেরি তার প্রথম প্রেসিডেনসিয়াল বিতর্কের রাতটি দিনের শ্রেষ্ঠ সুবিধাটির (Favour of the day) মাধ্যমে শুরু করেন। তাকে করা প্রথম প্রশ্নের জবাবে ব্যাখ্যা করে কেরি বলেন, “গোঁড়া ইসলামপন্থী মুসলিমদের” (Radical Islamic Muslims) (মুসলিমদের থেকে) আলাদা করা এখন আমেরিকার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে:
“সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার জন্য আমার কাছে অধিকতর উত্তম এক পরিকল্পনা রয়েছে ... (আর তা হলো) ৭২ গোঁড়া ইসলামপন্থী” মুসলিমদের বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে কাজটা শুরু করতে হবে, যাতে করে তারা আমেরিকাকে (বাকি মুসলিম বিশ্ব হতে) বিচ্ছিন্ন করার সুযোগ না পায়।”
প্রথমে মনে হবে এটা একটা অর্থহীন ও মুর্খতাসুলভ বক্তব্য। মুসলিম শব্দের অর্থ হচ্ছে, যিনি ইসলাম মেনে চলেন, তাই সংজ্ঞা অনুযায়ীই তিনি "ইসলামিক"। "ইসলামিক মুসলিমগণ” বলা অনেকটা "মার্কিন আমেরিকানগণ" বলার মতোই। তাহলে কেরি কি শুধুই শব্দের পুনরাবৃত্তি করেছিলেন? নাকি তার এ বক্তব্য এমনকি তার উপলব্ধির চেয়েও বেশি কিছু বলছিল? সকল মুসলিমই কি "ইসলামিক”? সত্য কথা হলো, না, তা নয়। অন্ততঃপক্ষে (তথাকথিত) ভালো মুসলিমরা তো নয়ই।
অধিক থেকে অধিকতর হারে মৌলিক অনুমান হলো: ইসলামই মূল সমস্যা। বিশ্বাসগতভাবে ইসলামের সহজাত প্রকৃতিই যদি হয় চরমপন্থাসুলভ, তবে কোনো জিনিস যত কম "ইসলামিক” হয়, তা ততই ভালো হবে। আর তাই সবচেয়ে লোভনীয় উপাধি "মডারেট মুসলিম” হলেন, পরিমিতভাবে মুসলিম (পুরোপুরি না), আর সে কারণে তিনি একেবারে পুরোপুরি খারাপ নন। এটা যেন একজন কালো মানুষকে "মধ্যপন্থী কালো" বলা, যার অর্থ হলো: তিনি খুব একটা উগ্র নন (অর্থাৎ ধরেই নেওয়া হয় যে, নিগ্রো বা কালোরা অত্যন্ত হিংস্র ও উগ্র। মধ্যপন্থীরা কেবল ততটা না) বিপরীতপক্ষে একজন মুসলিম, যিনি বেশ ইসলামিক, উল্লেখিত সংজ্ঞা অনুসারে তিনি নিশ্চয়ই কট্টরপন্থী, উগ্রবাদী। তাই এরকম উগ্রপন্থী মৌলবাদীকে অবশ্যই মোকাবিলা করতে হবে এবং তা করতে হবে তাকে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে।
বাস্তবিকপক্ষে, মোনা মেফিল্ড এসব নিয়ম ভালোভাবেই উপলব্ধি করেছিলেন। যখন তিনি স্পেনে বোমা হামলার ঘটনায় অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত স্বামীর পক্ষ সমর্থন করেন।
"আমাদের ঘরে একটি বাইবেলও আছে, ও মৌলবাদী নয়। সে ইসলামকে ভিন্ন ও অনন্য কিছু ভেবেছিল", মেফিল্ড সংশ্লিষ্ট প্রেসকে তার স্বামীর ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার কথা [এভাবে] অবগত করেন।
তার স্বামীকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য মেফিল্ড তার স্বামী যে ইসলামের প্রতি অতটা অনুগত না, তা দেখাতে চাইলেন। এমনকি তিনি তার স্বামীর ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন, যেন ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়াটা তার স্বামীর জন্য অপরাধ হয়েছিল।
মসজিদ পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদও মেফিল্ডের পক্ষ সমর্থন করে গিয়ে একই ধরনের পন্থা বেছে নেন। রির্পোটারদেরকে আহমেদ বলেন, "তাকে একজন মডারেট মনে করা হতো। সে শুক্রবারের জুমুআ আদায়ের জন্য (মসজিদে) এসে উপস্থিত হতো; জুতা খুলে, ওজু করে খুতবা শোনার জন্য কার্পেটের ওপর এসে বসতো। ধর্মভীরু মুসলিমদের মতো দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করার মতো ধার্মিক সে ছিল না।"
এখানে ইঙ্গিতটা হলো, ব্রেন্ডন মেফিল্ডের অপরাধী বা নির্দোষ হওয়াটা যেন মসজিদে গিয়ে সে কত রাকাত সলাত আদায় করেছে, তার সাথে সম্পর্কিত। এমনকি আহমেদ এটা করতে চাইলেন যে, "বস্তুতপক্ষে সে কম ধার্মিকদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল।"
একজন "গ্রহণযোগ্য” মুসলিমের কেমন হওয়া প্রয়োজন, তার নমুনা হিসেবে এ ধরনের "কম ধার্মিক" আইকনদের ছড়াছড়ি পাওয়া যায় গোটা মিডিয়াজুড়ে। মিডিয়া উদ্যোক্তা এবং The Trouble with Islam (ইসলাম নিয়ে সমস্যা) গ্রন্থের লেখক ইরশাদ মানজিও এমনি প্রসিদ্ধ আইকনদের একজন। মানজির লেখা বহুল প্রকাশিত এবং প্রথম সারির প্রায় সকল মিডিয়া আউটলেটে তার সরব উপস্থিতি রয়েছে। 'সাহসিকতা'-র জন্য তিনি অপরাহর Chutzpah পদকও লাভ করেন।
যদিও মানজি নিজেকে একজন "অস্বীকারকারী মুসলিম” (Muslim refusenik)" হিসেবে দাবি করেন, কিন্তু মিডিয়া তাকে 'প্র্যাকটিসিং মুসলিম' তথা ইসলাম পালনকারী আদর্শ মুসলিমের মডেল হিসেবে উপস্থাপন করে। United States Institute of Peace এর বোর্ড সদস্য ডেনিয়েল পাইপস” তাকে “নির্ভীক, মডারেট ও আধুনিক মুসলিম" হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, পাইপসের চিন্তাভাবনার সাথে শান্তির যেমন বিন্দু মাত্র সম্পর্ক নেই, তেমনি মানজির চিন্তাভাবনার সাথে ইসলামের দূরতম সম্পর্কও নেই। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রবন্ধে ইসলামি বিশ্বাসের অন্যতম ভিত্তিস্তম্ভ সলাত সম্পর্কে মানজির বোধোদয় তুলে ধরে:
"এর পরিবর্তে সে নিজের মতো করে প্রার্থনা শুরু করে, নিজের পা, হাত এবং মুখ ধৌত করার পর সে মখমলের এক কম্বলে বসে পড়তো এবং মক্কার দিকে মুখ করতো। শেষ পর্যন্ত সে এটাও বন্ধ করে দেয়, কারণ অর্থহীন আনুগত্য এবং অভ্যাসগত আনুগত্যের জালে সে নিজেকে জড়াতে চায়নি।”
দুনিয়া জুড়ে বিস্তৃত ১.৫ বিলিয়ন মানুষের এই অনুশীলন তথা সলাত নিয়ে এমন মন্তব্য মানজি করতে পারে। এ ধরনের সকল অনুশীলনকে সে বর্জনও করতে পারে, কিন্তু প্রার্থনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নিছক এমন একজন নারী হিসেবে মানজিকে চিত্রিত করা হচ্ছে না। ইসলামের একজন অনুসারী হিসেবে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের অন্তর্গত বিষয় বর্জন করার তার (এই) ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে দেখানো হচ্ছে তার মুক্তির সংগ্রাম হিসেবে। (ধর্মীয়) নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম হিসেবে।
সে "অত্যন্ত সাহসী" ও "নির্ভীক" - অতিমাত্রায় ইসলামিক নয়, এমন মুসলিমদের জন্য সে আদর্শস্থানীয়: অনুসরণযোগ্য।
এ ধরনের ব্যক্তিদেরকে আদর্শ বানানোর মানে দাঁড়াচ্ছে, কাউকে 'অতিমাত্রায় কালো' অথবা 'অতিমাত্রায় ইহুদি' হতে বারণ করা। কেননা, এগুলো মৌলিকভাবেই মন্দ ও উগ্রপন্থী। আর যারা 'মডারেট কালো' বা 'মডারেট ইহুদি' তারাই প্রকৃত অর্থে মুক্তি সংগ্রামী। উদাহরণস্বরূপ, মানজি ওয়াশিংটন পোস্টকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “সহিংসতা তো চলতেই থাকবে, তাহলে স্বাধীনতার স্বার্থে সহিংসতার ঝুঁকি কেন নয়?”
হ্যাঁ, স্বাধীনতা সত্যই আবশ্যক। মানজি ভালোই বলেছে। কেরি বলেছে আরও কৌশলের সাথে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার Imperial Valley College-এর বিজনেস ম্যানেজমেন্টের এক প্রফেসর তো সবচেয়ে সত্য কথাই সহজভাবে বলে দিয়েছেন: “ইসলামিক সন্ত্রাসবাদকে শেষ করার একটিই পথ খোলা আছে, আর তা হচ্ছে ইসলাম ধর্মকে চিরতরে খতম করে দেওয়া।”
আপনি যেভাবেই বলুন না কেন, একটি বিষয় নিশ্চিত, আর তা হলো: বর্তমান সময়ে ইসলাম সম্পর্কে যখন বলা হচ্ছে, তখন যত কম হবে ততই বেশি (গ্রহণযোগ্য) হবে। (অর্থাৎ যত কম ইসলামিক হওয়া যাবে, ততই পাশ্চাত্যের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যাবে)।
টিকাঃ
* মডারেট শব্দের অর্থ সাধারণভাবে মধ্যপন্থী করা হয়। তবে বাস্তবে মুসলিমদের ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যপন্থীরা যখন এই শব্দটি ব্যবহার করে, তখন এর অর্থ হলো: নরমপন্থী বা সহনীয় মুসলিম, নিয়ন্ত্রিত মুসলিম। যিনি পাশ্চাত্য অনুমোদনের ভিত্তিতেই ইসলামের বিধানসমূহ মানেন অথবা যারা ইসলামের বিধানসমূহ মানেন না, কেবল নামেমাত্র মুসলিম পরিচয়ে সন্তুষ্ট (সম্পাদক)।
* - (সম্পাদক)।
** মোনা মেফিল্ড: ব্র্যান্ডন মেফিল্ডের স্ত্রী। ব্র্যান্ডন মেফিল্ড একজন আমেরিকান মুসলিম। ২০০৮ সালে সংঘটিত মাদ্রিদ বোম্বিং-এর ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় যে, তার বিরুদ্ধে প্রমাণপঞ্জী যথাযথ নয় এবং এফবিআই (FBI) স্বীকার করে যে, তাদের তদন্তে গুরুতর ত্রুটি ছিল। অতঃপর ব্র্যান্ডনকে কারাগার থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয় (সম্পাদক)।
* ইরশাদ মানজি কানাডায় বসবাসরত একজন লেখিকা। ইসলামের সংস্কার প্রয়োজন এ ধরনের কথা, কুরআনের মনগড়া ব্যাখ্যা প্রভৃতির মাধ্যমে তিনি পাশ্চাত্যের ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়াতে প্রসিদ্ধি লাভ করেন -(সম্পাদক)।
* Refusenik: এমন একজন যে কোনোকিছু পালন করতে অস্বীকার করে, বিশেষত: প্রতিবাদস্বরূপ -(সম্পাদক)।
* ১৯৪৯ সালে জন্ম নেয়া এক মার্কিন ইতিহাসবিদ। তিনি একজন যুদ্ধবাজ ও ইসলাম বিদ্বেষী ব্যক্তি -(সম্পাদক)।
* অতিমাত্রায় কালো দ্বারা নিগ্রোদেরকে বুঝানো হচ্ছে। পাশ্চাত্যের শেতাঙ্গদের সাধারণ ধারণা কালোরা উগ্রপন্থী, সন্ত্রাসী-(সম্পাদক)।
* লেখিকা এখানে ইসলাম নিয়ে পাশ্চাত্যের কৌশল তুলে ধরেছেন। সরাসরি ইসলামের বিরোধিতা তারা করে না, এতে করে মুসলিমরা সচেতন হয়ে যেতে পারে। তাই তারা সূক্ষ্মভাবে মডারেট ইসলামের নামে নতুন এক ধারণা তৈরি করেছে। যেখানে একজন মুসলমান তো থাকবে, তবে সে/ তারা ইসলাম অনুসরণ করবে না। তাহলেই তারা পাশ্চাত্যের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে-(সম্পাদক)।
📄 অবর্ণনীয় ট্র্যাজেডি এবং আমাদের উম্মাহর অবস্থা
আমার ধারণা মানুষের মনের গহীনে এমন এক জায়গা আছে, যখন কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকে না, তখন আমরা সেথায় লুকাই। আর সম্ভবত, মানুষের হৃদয়ে এমন একটা অংশ আছে, যেখানে অচিন্তনীয় ট্রাজেডিগুলি আমরা আজীবন প্রত্যক্ষ করতে পারি। তবে আজ সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের লোকদের জন্য ট্রাজেডি আর মনের বা হৃদয়ের কোনো ভাবনা বা প্রতিচ্ছবিমাত্র নয়, বরং এটা তাদের একমাত্র বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
অসহায়ের মতো আমি যখন এসব দেশে চলমান হত্যাযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করি, আমিও ভেবে পাই না যে, কোথায় যাবো। মনের মাঝে আমি এমন এক জায়গা খুঁজতে থাকি, যেখানে এই সব অর্থহীন কাজের কোনো অর্থ খুঁজে পাওয়া যাবে এবং কল্পনা করা যাবে যে, আসলে এসব কিছুই ঘটছে না। আমি হারিয়ে যাই। দুঃখ, রাগ ও নৈরাশ্যের মাঝে, আবার বাস্তবতায় ফিরে আসি। কিন্তু শেষ অবধি আমি ফিরে আসি এক কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি:
কেন?
কেন এমনটি হচ্ছে আমাদের সাথে? গোটা দুনিয়া জুড়ে কেন আমরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছি? কেন আমরা এতটা অসহায় যে, এগুলো থামানোর এতটুকু শক্তি আমাদের নেই? আমরা যে দেশের নাগরিক, রাজনৈতিকভাবে সে দেশেই আমরা কেন এতটা অক্ষম - অধিকারহীন? 'নিজেকে রক্ষা করার অধিকার ইসরাইলের আছে' হোয়াইট হাউজের প্রতিনিধিদের মুখ থেকে মন্ত্রের মতো অবিরাম এই বুলি শোনার জন্য কেনইবা আমরা নিজেদের সবটুকু শক্তি উজাড় করে তাদের বরাবর চিৎকার করি, চিঠি লিখি এবং আহ্বান করি? কেন আমরা এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছি? কেন? আমাদেরকে এই "কেন" প্রশ্নটিই করতে হবে?
আমাদের ধীর-স্থির ও গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে যে, উম্মাহ (জাতি) হিসেবে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি এবং আমাদের বর্তমান অবস্থাই বা কি। একটা সময় ছিল দুনিয়া জুড়ে মুসলিমদেরকে যখন সমীহ করা হতো, যখন বন্ধুরা আমাদের ভালোবাসতো আর শত্রুরা ভয়ে কাঁপতো। আর আজ আমরাই পরিণত হয়েছি দুনিয়ার সবচেয়ে সমালোচিত, নিন্দিত এবং ঘৃণিত জাতিতে। সাম্প্রতিক সময়ে Gallup poll পরিচালিত সমীক্ষাতে ইসলাম সম্পর্কে প্রায় অর্ধেকের মতো আমেরিকানের মতে ইসলাম "তেমন একটা সন্তোষজনক নয়" অথবা "আদৌ সন্তোষজনক নয়” এবং শতকরা ৪৩ জন আমেরিকান অকপটে স্বীকার করেছেন যে, অন্তত "অল্প” পরিমাণ হলেও মুসলিমদের ক্ষেত্রে তারা বিরূপ ধারণা পোষণ করেন। খ্রিস্টান, ইহুদি কিংবা বৌদ্ধদের (প্রতি বিরূপ ধারণার) তুলনায় এ হার দ্বিগুণেরও বেশি।
এদিকে আমাদেরকে যে কেবল ঘৃণা করা হচ্ছে তা-ই নয়, বরং বহু স্থানে আমাদের ওপর চলছে অত্যাচারের স্টিম রোলার, চালানো হয় হত্যাযজ্ঞ এবং কেড়ে নেওয়া হচ্ছে আমাদের যাবতীয় সহায় সম্পত্তি। যেখানে আমাদের শারীরিকভাবে টার্গেট করা হচ্ছে না, সেখানে অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হয় আমাদের অধিকার, মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত, এমনকি কারারুদ্ধ করা হচ্ছে। বস্তুত মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা এতটাই বিস্তৃতি লাভ করেছে যে, মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষমূলক মিথ্যাচার ও বাগাড়ম্বর -এখন এক ধরনের গ্রহণযোগ্য গোড়ামীতে পরিণত হয়েছে। মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্যের কদর এতটাই বেড়েছে যে, রাজনৈতিকভাবে সুবিধা আদায়ের স্বার্থে কেউ কেউ এটাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
উম্মাহ হিসেবে নিজেদের আমরা এই যে অবস্থায় আবিষ্কার করছি, এর বিস্তারিত বিবরণ ১৪০০ বছর আগেই দেওয়া হয়েছিল।
নবি মুহাম্মদ (ﷺ) তার সাহাবিগণকে (রাদিআল্লাহু আনহুম) উদ্দেশ্য করে বলেন:
"তোমাদের ওপর হামলা করার জন্য শীঘ্রই লোকজন একে অপরকে ডাকবে, যেন খাবারের টেবিলে শরিক হওয়ার জন্য একে অপরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।”
একজন জিজ্ঞাসা করলেন, "ওই সময় আমরা কি সংখ্যায় কম হবো, যে কারণে তারা এমনটি করবে?"
তিনি (ﷺ) উত্তরে বললেন, "না, বরং ওই সময় সংখ্যায় তোমরা বিপুল হবে, বরং তোমরা হবে ফেনার মতো, যেটাকে (সমুদ্রের) ঝড় আছড়ে ফেলে এবং আল্লাহ তোমাদের দুশমনদের হৃদয় থেকে তোমাদের ভয় তুলে নেবেন এবং তোমাদের অন্তরে ‘আল-ওয়াহন’ ঢেলে দেবেন।"
একজন জিজ্ঞাসা করলেন, “হে আল্লাহর রসুল, আল-ওয়াহন কি?” তিনি উত্তরে বলেন: এই দুনিয়ার মহব্বত এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।” [আবু দাউদ এবং আহমদ কর্তৃক বর্ণিত সহিহ হাদিস]
যেমনিভাবে নবি (ﷺ) ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ঠিক তেমনিভাবেই লোকজন খাবারে শরিক হওয়ার জন্য একে অপরকে আমন্ত্রণ জানানোর মতো করেই লোকেরা আমাদেরকে আক্রমণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এই হাদিসে নবি (ﷺ) আমাদের অবস্থা জলের ফেনার ন্যায় হবে বলেও আগাম বার্তা দিয়ে রেখেছেন। আপনি যদি সমুদ্রের প্রবাহমান তরঙ্গরাজির দিকে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন তার ওপর ফেনার পাতলা আবরণ, যা সম্পূর্ণ ওজনহীন এবং তাতে সামান্যই সারবস্তু থাকে। বাতাসের হালকা প্রবাহই এটা ধ্বংস করে দিতে পারে। নিজের চলার পথ নির্ধারণ করার মতো ক্ষমতাও এটার নেই, বরং স্রোত এটাকে যে দিকে নিয়ে যায়, সে দিকেই এটা চলে।
এটাই আমাদের বর্তমান অবস্থা, যেমন নবি (ﷺ) বর্ণনা করেছেন। আমাদেরকে আবারও ফিরে যেতে হবে সেই একই প্রশ্ন ‘কেন’-এর দিকে। নবি (ﷺ) এই প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর দিয়ে দিয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, অন্তরগুলো ওয়াহন দ্বারা ছেয়ে যাবে। ওয়াহন শব্দের অর্থ জিজ্ঞাসা করলে, নবি (ﷺ) অল্প কথায় এটার যে জবাব দেন, তা সুগভীর এক সত্যকে ধারণ করে আছে। তিনি বলেন, “এই দুনিয়ার মহব্বত এবং মৃত্যুকে ঘৃণা করা।” নবি (ﷺ) এখানে এমন লোকদের বিবরণ দিচ্ছেন, যারা পার্থিব জীবনে নিয়ে এতটাই মত্ত যে, দুনিয়া তাদেরকে বানিয়েছে নিদারুন স্বার্থপর, বস্তুবাদী, অপরিণামদর্শী এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে সম্পূর্ণ গাফেল। তিনি (ﷺ) এমন লোকদের বর্ণনা দিয়েছেন, যারা এতটাই দুনিয়াদার হয়ে পড়েছে যে, তারা নৈতিকতা হারিয়ে ফেলছে।
কোনো জাতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটে নৈতিকতার ক্ষেত্রে তার অবস্থার কারণে - হয় ভালো থেকে খারাপের দিকে, না হয় খারাপ থেকে ভালোর দিকে ঘটে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা (মহিমান্বিত তিনি) আমাদেরকে বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।” (কুরআন, ১৩:১১) অতএব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বদৌলতে একটি জাতি সুপার পাওয়ার থেকে সমুদ্রের জলরাশির তুচ্ছ ফেনাতে পরিণত হয়। আবার অন্তর ও চরিত্রকে পরিবর্তনের মাধ্যমেই যে জাতি ছিল এক সময় ছিল সমুদ্রের ফেনার মতো, তারাও পুনরায় শক্তিশালী জাতিতে পরিণত হতে পারে।
সেজন্য, মুসলিম হিসেবে আমাদের হতাশ হবার কারণ নেই। কারণ আল্লাহর দ্বীনের নাস্ত্র (তথা সাহায্য ও বিজয়) প্রতিশ্রুতি আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি আর আমি এটার অংশ হবো কিনা। আল্লাহ (স) কুরআনে আমাদেরকে এটাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যখন তিনি বলেন, "তোমরা দুর্বল হয়ো না, দুঃখিত হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি (সত্যিকারের) মুমিন হও।” (কুরআন, ৩:১৩৯)
একনিষ্ঠ ঈমান এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ভিত্তিতেই আল্লাহ (স) আমাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাবেন। তাই সিরিয়া, ফিলিস্তিন এবং আজকের দুনিয়ার সর্বত্র যারা রক্তাক্ত হচ্ছেন, অন্তত তাদের জন্য হলেও উম্মাহ হিসেবে আমাদেরকে জেগে ওঠা এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।