📘 রিক্লেইম ইয়োর হার্ট > 📄 সম্পাদকের কথা

📄 সম্পাদকের কথা


সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ তা'আলার। দুরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর শেষ রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর।

পুস্তক পরিচিতি:
Reclaim Your Heart পাশ্চাত্যে একটি বেস্ট সেলার বই। সেখানে এর বহু অনুমোদিত এবং অনুনোমোদিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি অনুদিতও হয়েছে বহু ভাষায়। এটি মূলত: ইসলামি দৃষ্টিকোণ হতে লিখিত মোটিভেশনাল বা Self-help ধাঁচের একটি বই। তবে এতটুকুনের মধ্যে এর পরিচিতি সীমাবদ্ধ রাখাটা বইটির প্রতি অবিচার করা হবে। এর আবেদন আরও ব্যাপক। এটি তার পাঠককে সমকালীন প্রেক্ষাপটে জীবন সম্পর্কে ইসলামের শ্বাশত শিক্ষার সাথে পরিচিত করে। পাঠককে আত্মজিজ্ঞাসায় ও নিজ জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করে।

মূলত: পাশ্চাত্য পরিবেশে একজন মুসলিম মহিলা কি ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন, কি তার কারণ এবং তার সমাধানই বা কি- এ মৌলিক প্রশ্নগুলির উত্তরের খোঁজেই এ বই লেখা। পাশ্চাত্য প্রেক্ষাপটে লেখা হলেও এ বইয়ের আবেদন সার্বজনীন। সব সমাজের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব বয়সের মানুষের জন্যই এ বইয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। সবাই এ বই হতে উপকৃত হবেন বলে আশা করছি।

বস্তুবাদ ও সেক্যুলার চিন্তাধারা বর্তমান সমাজের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে সৃষ্টি করেছে আত্মিক শূন্যতা। যে শূন্যতার কারণে মানুষ ছুটছে ভোগবাদীতার পেছনে। নিজের জীবনকে নিত্য-নতুন খাবার-দাবার, পোষাক- পরিচ্ছদ, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি, ঘুরে-বেড়ানো ইত্যাদি দিয়ে ভরে তুলতে চাইছে। চাইছে গান-বাজনা, কনসার্ট, খেলা-ধুলা, পার্টি-ফুর্তি ইত্যাদির মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে। কিন্তু আত্মার এই শূন্যতা বৈষয়িক কোনো জিনিস দিয়ে পূরণ হওয়ার নয়। কারণ সৃষ্টি লগ্নেই সে তার মূল মালিকের আনুগত্যের সাক্ষী দিয়ে এসেছে। তাই যতক্ষণ না সে তাঁর সান্নিধ্য লাভ করছে, ততক্ষণ সে প্রশান্তি লাভ করে না।

একইরকম আরেকটি চিন্তার বিষয় হলো জীবনধারা পরিবর্তনে তাড়াহুড়ার প্রবণতা। অনেকেই ভোগবাদী জীবনে হতাশ হয়ে দ্বীনদারীর দিকে ফিরে আসেন। কিন্তু সহসাই গোটা জীবনকে পরিবর্তন করে ফেলতে চান। কিন্তু তা বাস্তব সম্মত নয়। ফলে বিপুল উৎসাহে নামাজ, হিজাব ইত্যাদি আমল শুরু করলেও তা ধরে রাখতে পারেন না। শয়তান তাকে নতুন হতাশায় নিমজ্জিত করে। একপর্যায়ে তাদের অনেকেই প্রচলিত স্রোতে গা ভাসিয়ে দেন।

এভাবেই সত্যের পথে, সুন্দর জীবনের পথে, ঈমান ও ইসলামের পথে চলার সময় বাধা-প্রতিবন্ধকতাগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করে এর সঠিক সমাধান এ বইয়ে দেওয়া হয়েছে। জীবন সংগ্রামে বারবার হোচট খাওয়া ও হতাশায়-নিপতিত ভাই-বোনেরা এ বই পাঠে নিজেদের জন্য আশার আলোর সন্ধান পাবেন। ইনশাআল্লাহ!

সেই সাথে উম্মাহর বর্তমান অবস্থা নিয়ে যারা চিন্তা করেন, তাদেরকে ঘটনার অন্তরালে শিক্ষার জন্য আহবান জানাবে ও উদ্ধার করবে এ গ্রন্থখানি। অতএব, সার্বিক বিবেচনায় ইয়াসমিন তার এ গ্রন্থে আত্মার পুনর্জাগরণের যে আওয়াজ তুলেছেন, তাতে যথাযথভাবে সফল হয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।

অনুবাদ পরিচিতি:
বক্ষমান অনুবাদটি গোটা বইটিরই একটি অবিকৃত অনুবাদ প্রয়াস বলা যায়। কোনো অনুবাদ-কর্মই হুবহু নয়। তবে "A translator ought to the endeavour not only to say what his author has said, but to say it as he has said it." John Conington.
অর্থাৎ: অনুবাদককে কেবল লেখকের বক্তব্য যথাযথভাবে অনুবাদ করলেই চলবে না, বরং লেখক যেভাবে বলেছেন সেভাবে অনুবাদ করতে হবে। সমসাময়িক কালে দেশে অনেক ইসলামি বই আরবি-ইংরেজি হতে অনুবাদ হচ্ছে। অনেক সময়ই অনুবাদক যা বুঝেছেন, তাই লেখকের নামে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে লেখকের বক্তব্য ও চিন্তাধারার স্থলে অনুবাদকের চিন্তাধারাই প্রকাশিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই যথাযথ নয়। অন্যের নাম ব্যবহার করে নিজের নাম ও পরিচিতি বৃদ্ধি এবং শুধুই ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই করা এসব কাজ ইনসাফ ও নৈতিকতাসম্মত কিনা এবং তাতে কতটুকু বারাকা লাভ করা যাবে, তা ভেবে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ রইলো।

যাহোক মূল বক্তব্যে ফিরে আসি, এটি গোটা বইটির একটি অনুবাদ প্রয়াস। ইয়াসমিনের লেখায় কিছুটা সুফিবাদী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এসব ক্ষেত্রে অনুবাদের সময় সর্তকতা অবলম্বন করা হয়েছে। কতক স্থানে বিষয়বস্তু, পাশ্চাত্যে ব্যবহৃত পরিভাষা, বক্তব্য বা ঘটনা ইত্যাদি পরিষ্কার করার জন্য পাদটীকার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। কুরআনের আয়াতের অনুবাদের ক্ষেত্রে সাধারণত ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ প্রকাশিত "আল-কুরআনুল করীম"-এর অনুসরণ করা হয়েছে এবং আল-কুরআনের অন্যান্য বাংলা অনুবাদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। যথাসম্ভব উদ্ধৃত হাদিসসমূহের রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে।

লেখিকার নামের উচ্চারণ নিয়ে কিছুটা বিভ্রাট তৈরি হয়- ইয়াসমিন মোগাহেদ না মুজাহিদ। লেখিকা মিসরীয় বংশোদ্ভূত। মিসরীয়রা আরবি 'জিম বা জ-কে 'গ'-এর মতো উচ্চারণ করেন। যেমন, জামাল আব্দুন নাসের-কে গামাল আব্দুন নাসের। তাই সম্ভবত: মোগাহেদ উচ্চারণ করা হয়। অথবা ইংরেজি 'G'-এর উচ্চারণে মোগাহেদ বলা হয়। তবে লেখিকা নিজের নাম ইয়াসমিন মুজাহিদ বলে উল্লেখ করেছেন বলে জানা যায়। তাই আমরা লেখিকার নাম ইয়াসমিন মুজাহিদ হিসেবে উল্লেখ করছি। আল্লাহ তা'আলাই ভাল জানেন।

বইটির প্রথমিক অনুবাদ কর্ম করেন জনাব ইমদাদ খান। এর প্রুফ দেখে দিয়েছেন ডা. হাফসা বিনতে এহসান। তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা উপযুক্ত জাযা দান করুন। বইটি প্রকাশনার জন্য মুসলিম ভিলেজের সত্ত্বাধিকারী জনাব মুহাম্মদ মামুন বেপারী কে আল্লাহ তা'আলা রহম করুক এবং তার কাজে-কর্মে বরকত দান করুন। তার অবিরাম লেগে থাকাতেই আল্লাহ পাকের মেহেরবানিতে কাজটি শেষ অবধি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

বইটির কাজ শেষ করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। কার্যত: গোটা বইটি পুনঃঅনুবাদ করতে হয়। এসময় কাজটা শেষ করার জন্য অবিরাম পাশে থেকে ধৈর্য ও পরামর্শ দিয়েছেন আমার সহধর্মিনী। আমার প্রতি তার যাবতীয় এহসানের উপযুক্ত বিনিময় মহান আল্লাহ তা'আলা তাকে দান করুন। সেই সাথে বিভিন্ন সময় অনুবাদ কর্মে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে আমার মেয়ে হাফসা এবং দুই ছেলে হামযা ও যাঈদ। আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতি রহম করুন এবং উত্তম জাযা দান করুন।

বইটি সর্বাঙ্গীন সুন্দরভাবে প্রকাশের জন্য চেষ্টার অভাব ছিল না। তথাপি তাতে ভুল থেকে যাওয়া স্বাভাবিক। সম্মানিত পাঠক তা ধরিয়ে দিলে ইনশাআল্লাহ সংশোধন করে নেওয়া হবে।

পরিশেষে সকল তাওফিকের মালিক মহান আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করছি এবং এর কবুলিয়াত কামনা করছি -
“হে আমাদের রব! আমাদের এ কাজ গ্রহণ করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”¹
"হে আমাদের রব! সরল পথ প্রদর্শনের পর আপনি আমাদের অন্তরগুলিকে বক্রতায় আচ্ছন্ন করে দিয়েন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদের করুণা দান করুন, নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।”²

গ্রন্থটির অনুবাদে বাংলা একাডেমি প্রণীত বানান রীতিকে অনুসরণ করা হয়েছে। তবে 'কি / কী'-এর ব্যবহারে পূর্বের বানান রীতি তথা 'কি'-কে বহাল রাখা হয়েছে। মহান আল্লাহকে বোঝানোর জন্য যেখানেই 'তার / তাকে' শব্দ এসেছে, সেখানেই আমরা 'তাঁর / তাঁকে' ব্যবহার করেছি এবং অন্য সকল ক্ষেত্রে 'তার / তাকে' ব্যবহার করা হয়েছে। উদ্দেশ্য চন্দ্রবিন্দু (ঁ ) যুক্ত তাঁর/ তাঁকে/ যাঁর-কে কেবল মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করা।
- সম্পাদক।

টিকাঃ
¹ কুরআন, বাকারা, ২:১২৭।
² কুরআন, আলে-ইমরান, ৩:৮।

📘 রিক্লেইম ইয়োর হার্ট > 📄 সাম্প্রতিক পোস্ট এবং প্রশংসামালা

📄 সাম্প্রতিক পোস্ট এবং প্রশংসামালা


Reclaim Your Heart গ্রন্থটি ইসলামের আধ্যাত্মিক বার্তারই প্রতিফলন ঘটিয়েছে: সহজ, সুগভীর ও উন্নততরভাবে। নিজের ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ যাত্রার সূত্র ধরে ইয়াসমিন মুজাহিদ তার পাঠকদের সাথে এক বিশেষ ভঙ্গিতে কথা বলে গেছেন: নিজ আত্মার গভীর অনুভূতি পাঠকের হৃদয়ের সামনে তুলে ধরেছেন এবং আত্মাকে প্রশমিত করতে সফল হয়েছেন। এই গ্রন্থের সাফল্য ছিল প্রত্যাশিত এবং (চারটি নতুন অধ্যায়ের সংযোগে তৈরি) এই নয়া সংস্করণ এক কথায় অনন্য উপহার, যা আশা ও আলোতে পূর্ণ। এই গ্রন্থটি আমাদের প্রত্যেককে সেই মহান সত্তা (তথা সৃষ্টিকর্তার) আরও কাছে এবং প্রত্যেককে নিজ অন্তরের নিকটবর্তী করতে সহায়ক। প্রেম ও শান্তির পথ ধরে Reclaim Your Heart গ্রন্থটি বাস্তব ও রুহানি পুনর্মিলন ঘটায়। আমাদের সবারই তা জরুরি।
-তারিক রমাদান, প্রফেসর

“এই গ্রন্থটি অন্তরকে আশা ও আলোতে আলোকিত করে -সত্যই আশ্চর্যময় এক আশীর্বাদ এটা। অনিশ্চয়তার চাদরে ঘেরা এ জীবনের যাত্রাপথে Reclaim Your Heart গ্রন্থটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ভ্রমণ সঙ্গীর মতো। ইয়াসমিনের চমৎকার অন্তর্দৃষ্টি, প্রজ্ঞা এবং তার বলা গল্পগুলো দুনিয়া জুড়ে বহু পাঠককে করেছে উদ্বুদ্ধ।” -পিটার গোল্ড, পুরস্কার বিজয়ী ডিজাইনার

"সহজভাবে বললে এই গ্রন্থের বার্তা অত্যন্ত অর্থবহ যুক্তিগ্রাহ্য। [আমাদের জীবনে] প্রতিনিয়ত ঘটে চলা সকল অন্তর্বেদনা, দুঃখ, হতাশা এবং পরাজয়কে তাদের উপযুক্ত স্থানে রাখা হয়েছে ... তাই সাহসের সাথে আমি বলতে পারি, [এই গ্রন্থ] পাঠের পর আপনি কষ্ট ও বেদনাকে আগের দৃষ্টিতে দেখবেন না।” -সাহিল, যুক্তরাজ্য

"মুজাহিদের লেখা পড়তে গেলে মনে হবে এটা এক বিজ্ঞ পরামর্শক বা বিশ্বস্ত বন্ধুর উপদেশ, জীবনের ভারে ভারাবনত পাঠককে এটা প্রবোধ ও স্বস্তির সাথে পাতা উল্টানোর সুযোগ করে দেবে। স্পষ্টত, প্রতিটি মুসলিম নারীর গ্রন্থাগারে এই গ্রন্থটি থাকা বাঞ্ছনীয়।”
-Aziza ম্যাগাজিন

"এই গ্রন্থের শব্দমালার মধ্যে এমন এক শক্তি রয়েছে, যা পাঠকের অশ্রুসিক্ত করার ক্ষমতা রাখে, যে অশ্রু সত্যকে জানার ও উপলব্ধি করার এবং নিজের সত্তার মাঝে সে সত্যকে খুঁজে পাওয়ার ফলে বেরিয়ে আসে। এই গ্রন্থ পাঠককে আলোকিত এক যাত্রার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সত্য সত্যই সে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে।"
-Muslim Women Exposed

"... জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে Reclaim Your Heart গ্রন্থটি আমাকে দিয়েছে সম্পূর্ণ নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি। এই গ্রন্থ পাঠ করে কোনো পাঠক এটার প্রজ্ঞা থেকে উপকৃত হবেন না, আমি এমনটি মনে করি না।”
-SISTERS Magazine

অসাধারণ বললেও কম হবে ... অসাধারণ এই গ্রন্থের জন্য ইয়াসমিন আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি বদলে দিয়েছেন আমার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিভ্রান্তিকর যে মায়াজালে আমরা বাস করি তা কিভাবে উপেক্ষা করতে হয়, তা আপনি আমাকে শিখিয়েছেন, আর দিয়েছেন আমাকে আখিরাতের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার শিক্ষা। প্রত্যেকের জীবনে দ্বিতীয় সুযোগ আসে, এ বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি জানি আমি নিখুঁত নই, তথাপি নিজেকে আরও উত্তম মানুষের পরিণত করার জন্য চেষ্টা করছি। আপনার শব্দমালা সত্যই প্রশান্তিদায়ক এবং তা আমাকে জীবনের বিপর্যস্ত রাতগুলোতেও হাসিমাখা মুখে ঘুমানোর প্রেরণা দিয়েছে। আপনার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করছি।
-ডালিয়া ই. এন.

[এই গ্রন্থটি] নিজের নামকে স্বার্থক করেছে। এটা আমাকে দারুনভাবে সহায়তা করেছে। এই গ্রন্থ আমি বারবার পাঠ করতে চাই। জীবনে কষ্টের সময় যারা পার করছেন, সেসব ব্যক্তির জন্য এই গ্রন্থটি খুবই উপকারী হবে। গ্রন্থটি পাঠ করা আবশ্যক।
-আবু এফ.

মুহতারামা মুজাহিদ তার এই গ্রন্থে, অপূর্ব অলংকারপূর্ণ ভাষায় লিখেছেন এবং উপস্থাপন করেছেন কালোত্তীর্ণ ও জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তিনি কলম চালিয়েছেন, যেন একজন বন্ধুর সাথে কথা বলছেন আর নিজের চিন্তাগুলোও সেভাবেই পেশ করেছেন। আমি এই গ্রন্থকে হাত থেকে নামাতেই পারছি না ...। যারা নিজেদের জীবনে 'কিছু একটার হাহাকার' বোধ করেন এবং নিজেদের জীবনকে অসম্পূর্ণ মনে করেন, আমি তাদেরকে এই গ্রন্থটি পাঠের জন্য সুপারিশ করছি। যদিও আমি সামগ্রিকভাবে আত্মোন্নয়নমূলক গ্রন্থের তেমন পক্ষপাতী নই, তবুও আমি বিশ্বাস করি এই গ্রন্থ সমস্যার মূলে হাত দিয়েছে। যদি মনে করেন, আপনি জীবনে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছেন, কিংবা নিশ্চিত জানেন যে, আপনি লক্ষ্যচ্যুত হয়েছেন, তবে এই গ্রন্থে ওই সম্ভাব্য উপাদান রয়েছে, যা আপনাকে আপনার যথার্থ স্থানে নিয়ে আসবে। গ্রন্থটি গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন হলেও এর উপস্থাপনা বেশ সরল।
-ড্র (Drew)

(এই গ্রন্থ) আমার জীবন বদলে দিয়েছে। আমার পড়া অন্যতম সেরা গ্রন্থ এটি। প্রথমত, এটা আমাকে নিজের দিকে তাকাতে সাহায্য করেছে, নিজেকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে এবং আমাকে হাতে ধরে শিখিয়েছে যে, এই দুনিয়াতে স্রষ্টা ছাড়া আর কিছুই স্থায়ী নয় এবং কেবল তাঁরই ওপর সবকিছুর জন্য নির্ভর করা যায়। গ্রন্থটি পড়া কখনো কখনো বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিল। কেননা, নিজের সত্তার গহীনে ডুব দেওয়া সহজ কাজ নয়। তবে সব মিলিয়ে বললে, পুরো গ্রন্থটি বেশ অর্থবহ।
-আমিরা জি.

বোন ইয়াসমিনের বক্তব্য উপস্থাপনের ঢং-টিই এমন, যা আপনার হৃদয়কে ছুঁয়ে যাবে এবং (আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে) এটা আপনার মেধা ও মননকে করবে আন্দোলিত। জীবনে সচেতনভাবে চলতে গেলে আমরা যেসব প্রশ্ন নিয়ে হিমশিম খাই, এই গ্রন্থ সেগুলোর উত্তম জবাব। তার বলার ধরন মাধুর্যে ভরা, ব্যবহার করেন সরল যুক্তি এবং সবকিছুকে তিনি আমাদের উদ্দেশ্যের সাথে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হন। এসব কারণ এবং এমন আরও বহু কারণে এটা এমন এক গ্রন্থ, যা আমি বারবার পাঠ করি এবং আমি আমার কাছের বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়দেরকে এই গ্রন্থ উপহার হিসেবে দিয়েছি।
-Mommy22

আমরা কিভাবে চিন্তা করবো এবং জীবন কাটাবো, এ ব্যাপারে এ গ্রন্থটি একটি মূল্যবান স্মরণিকা। মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের ক্ষেত্রে [এই গ্রন্থের] উপদেশ প্রযোজ্য। ইয়াসমিনের লেখার ধরন সহজবোধ্য। এটা এমন এক গ্রন্থ, যা আপনি খুব দ্রুতই পড়ে ফেলতে পারেন, কিন্তু আপনি যদি একটু বসেন এবং নিজের জীবনে কিভাবে এসব উপদেশের বাস্তবায়ন করবেন, সেটা নিয়ে চিন্তায় মশগুল হন, তবে সেটা আপনার জন্য উপকার নিয়ে আসবে। কিছু দিন পরপরই আমি এই গ্রন্থটি পড়ি।
-Julie408

এই গ্রন্থ আমার জীবন দর্শন বদলে দিয়েছে। এই গ্রন্থের অধ্যায়সমূহ পাঠের সময় বহু 'আহা!' মুহূর্ত এসেছে। এই গ্রন্থে যেসব উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো উপলব্ধি করা, পড়া এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করা বেশ সহজ। Reclaim Your Heart এমন এক গ্রন্থ, যা আপনার গ্রন্থাগারে থাকা আবশ্যক। প্রতিদিন আমরা যেসব কষ্টের মধ্য দিয়ে যাই, এই গ্রন্থ সেগুলোকে লাঘব করতে সাহায্য করে। কুরআনের আয়াত, হাদিস এবং নবি মুহাম্মদ (ﷺ) ও তার সাহাবিগণের ঘটনাবলি থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনের কষ্ট, ব্যর্থতা, প্রেম ও বিরহকে উপলব্ধি করতে এবং সেগুলোকে মেনে নিতে গ্রন্থখানি আমাদের সাহায্য করে।
-অ্যামাজনের এক ক্রেতা

অনুপ্রেরণামূলক পাঠ! সুচারুভাবে লেখা গ্রন্থটি আমাদেরকে জানায় যে, আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কটি হওয়া দরকার মহান আল্লাহতায়ালার সাথে। এই গ্রন্থে পেশ করা চিন্তাধারাসমূহ কুরআন ও নবি (ﷺ)-এর শিক্ষা দ্বারা সমর্থিত। এটা সবার জন্য একটা অসাধারণ গ্রন্থ হলেও বিশেষত: আমার মতো যারা জীবনের প্রত্যাশা ও সম্পর্কের দাবি নিয়ে হিমশিম খান, এই গ্রন্থ তাদের জন্য বেশ উপকারী। আমাদের মনোযোগকে কোথায় নিবদ্ধ করবো, এই গ্রন্থ সে ব্যাপারে যথাযথ দৃষ্টিভঙ্গির সন্ধান দেয়। গ্রন্থটি যখন পড়তে শুরু করেছি, তখন তা রেখে দেওয়াটা আমার জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল, সত্যই অনুপ্রেরণাদায়ক!
-ডানা এম.

চমৎকার একটি লেখা, যার সাথে আমি তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে আবিষ্কার করতে সক্ষম হই। বিবাহ বিচ্ছেদের দু'বছর পরও আমি যা করতে ব্যর্থ হয়েছি, আল-হামদুলিল্লাহ, এই গ্রন্থ এক সপ্তাহের মধ্যে তার অবসান ঘটানোর পথ করে দিয়েছে। ধন্যবাদ, বোন ইয়াসমিন।
-রাইফা বি..

আস-সালামু আলাইকুম ... এ এক বিস্ময়কর গ্রন্থ। কোনো এক আলোচনা সভায় লেখিকাকে আমি বক্তব্য দিতে শুনি এবং সেখান থেকে এই গ্রন্থ কিনে ফেলি। আমি এটাকে এতটাই ভালোবেসে ফেলি যে, আমার কন্যা এবং আমার আরেক বোনের জন্য এই গ্রন্থটি কিনে আনি! আমি বেশ জোরের সাথে এটা পড়ার জন্য সুপারিশ করবো -ইয়াসমিন মুজাহিদ অন্তরের বিষয়গুলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, এতে করে ইনশাআল্লাহ আপনার অন্তর প্রশস্ত হয়ে তা আল্লাহ (স)-এর (চিন্তায়) পূর্ণ হবে, কোনো বস্তু বা মানুষ দিয়ে নয়। এ গ্রন্থে এছাড়া আরও বহু জিনিস রয়েছে, মাশাআল্লাহ। আপনার সুন্দর চিন্তাগুলি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য, আমাদেরকে শেখানোর জন্য এবং আমাদের প্রতি দৃষ্টি রাখার জন্য বোন ইয়াসমিনকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দান করুন (জাযাকাল্লাহা খাইরান)।
-কে. পোলমেন

(যেকোনো বয়সের) সকলের জন্য আমি গ্রন্থটি সুপারিশ করছি। গ্রন্থটি আমি ইতোমধ্যেই পড়ে ফেলেছি, তারপরও প্রতিদিন আমি এর থেকে প্রবন্ধ পড়ে ফেলি, যা মিনিট পাঁচেকের মতো লাগে। এটা আমাকে দৈনন্দিন জীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই বইখানি অসাধারণ এক স্মরণিকা এবং এই দুনিয়াতে আমরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হই, তা মোকাবেলার সহায়িকা। আর তা দান করে আখিরাতের জন্য আসল ভরসা। এটি একটি অবশ্য পাঠ্য গ্রন্থ, [কারণ এটা খুবই] অনুপ্রেরণাদায়ক।
-রেগিনা ও.

এক বছর আগে আমার হবু স্বামী আমার সাথে সম্পর্ক চুকিয়ে দেয় এবং আমি ভীষণভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়ি। আমি হয়ে পড়ি দ্বিধাগ্রস্থ, দুঃখ ভারাক্রান্ত, হতাশাগ্রস্থ -আপনি যেভাবে চান বলতে পারেন। তা সত্ত্বেও আল-হামদুলিল্লাহ, কারণ এ ঘটনাই আপনার লেখার সাথে আমাকে পরিচিত করে তোলে। গত বছরটি ছিল আমার জন্য বেশ আবেগময়, তথাপি আমার অন্তরকে ঠিক মতো মেরামতের জন্য এটা ছিল চমৎকার এক শিক্ষা প্রক্রিয়া। আমি শিখেছি আমাদের অন্তরে একমাত্র আল্লাহতায়ালাকে স্থান দিতে হবে, আর বাকি সব হালাল হলেও, সেগুলো উপহার মাত্র, যার স্থান আমার হাত। আপনার লেখা আমাকে এমনভাবে সহায়তা করেছে, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিন সপ্তাহ আগে আমার পিতা আকস্মিকভাবে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহু ইয়ারহামুহু (আল্লাহর তাঁর প্রতি রহম করুন)। আমার গোটা পরিবার ও পরিচিত জনেরা এতে ভীষণভাবে বিদ্ধস্ত হয়ে পড়েন। তা সত্ত্বেও প্রথম আমার যা মনে আসে, তা হলো: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন -আমরা আল্লাহরই এবং তাঁর কাছেই আমরা ফিরে যাবো; এবং ইনশাআল্লাহ আমার বাবা নিজ আবাসেই ফিরে গেছেন। হতাশা হওয়ার পরিবর্তে আমি সত্যই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ, যেহেতু আল্লাহ তাকে আমার পিতা হিসেবে বাছাই করেছেন এবং যতদিন তাকে কাছে পাওয়ার ছিল, আল্লাহ তার অনুমোদন আমাকে দিয়েছেন। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আল্লাহ আমাদের জন্য উত্তমটাই বাছাই করেন, তাই আমি মনে করি আমার পিতার চলে যাবার জন্য এটাই ছিল উত্তম সময়।

আমি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আপনাকে ধন্যবাদ দিতে চাই, কারন আমি যদি আপনার লেখার সাথে পরিচিত না হতাম এবং তা উপলব্ধি না করতাম, তাহলে আমি এখন যা আছি, তা হতে পারতাম না এবং জীবনের সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষকে হারানোর ক্ষতি আমি সামলে উঠতে পারতাম না। আমার বলতে ইচ্ছে করে যে, আপনার লেখার বিশেষ কোনো একটা অংশ আমায় অনুপ্রাণিত করেছে, কিন্তু বাস্তবে তা নয়, বরং প্রকৃত কথা হলো আপনার সমগ্র লেখাটিই আমায় অনুপ্রাণিত করেছে। আমি আল্লাহর কাছে দু'আ করি, তিনি যেন আপনাকে অশেষ পুরস্কারে ধন্য করেন, সর্বদা আপনাকে রাখেন উজ্জীবিত এবং আপনি যে কাজ করে যাচ্ছেন, আল্লাহ যেন তা চলমান রাখেন। আল্লাহ যেন আপনার ভালোবাসার মানুষদের রহম করেন এবং নিরাপদ রাখেন। আমার বাবার জন্য দয়া করে দু'আ করবেন।
-আলা

আমার জীবনকে সম্পূর্ণরূপে পাল্টে দেওয়ার জন্য আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, আল্লাহ আপনাকে রহম করুন, প্রিয় বোন। আমি আমার জীবনের কঠিনতম অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, পাড়ি দিচ্ছিলাম আঁধার, হতাশা, শূন্যতা এবং সব ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি। এ সবকিছু আমাকে গ্রাস করেছিল। অত:পর সহসা আপনার প্রবন্ধগুলো আমার সামনে এলো। আমি এখন আলোকিত, আল-হামদুলিল্লাহ। ধন্যবাদ আপনাকে, আপনি লিখে যান, যেহেতু 'মহান' আল্লাহতায়ালা আপনাকে এই গুণে ভূষিত করেছেন।

আমি আপনার জন্য যত দু'আ করি, মহান আল্লাহতায়ালা যেন তার সবই কবুল করেন ... বস্তুত আমি কেবল এতটুকুই বলতে পারি, যেহেতু আমার কাছে বলার মতো আর উপযুক্ত শব্দ নেই!
-মারইয়াম আই.

আপনার লেখা শব্দমালা আমাকে এমনভাবে বিদ্ধ করেছে যে, (নিজেকে সংবরণ করার জন্য) আমাকে আমার পড়ার গতি ধীর করে শ্বাস নিতে হয়েছে। নিজেকে অগভীর ও বস্তুবাদী নই মনে করে আমি বেশ গর্ব অনুভব করতাম, যদিও সারাটি সময় নিজেকে সুখী রাখার জন্য আমার ভালোবাসার মানুষদের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। কিন্তু তারা যখন আমাকে হতাশ করতো, কিংবা আমাকে ছেড়ে চলে যেতো, তখন আমার গোটা দুনিয়াটা কেঁপে উঠতো, এমনকি পায়ের তলার মাটি পর্যন্ত। নিরবিচ্ছিন্নভাবে ভালোবাসা পাওয়া মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা এবং সে ভালোবাসা থেকেই আমি শান্তি লাভ করি। তবে সেই ভালোবাসা আসতে হবে আল্লাহর সাথে আমার সম্পর্ক হতে, মানুষের সাথে সম্পর্ক হতে নয়, এটা উপলব্ধি করতে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে। একজন আদর্শবাদী মানুষ, আমি দিতে ভালোবাসি এবং অন্যকে সুখী করতে পারলে আমি আনন্দ পাই, তথাপি এটা উপলব্ধি করতে ও স্মরণে রাখতে আমার কষ্ট হয়েছে যে, এই লোকজন ও এই দুনিয়া থেকে কিছুই প্রত্যাশা করতে নেই। আল-হামদুলিল্লাহ, আপনার বক্তব্যগুলো পাঠ করার অর্থ যেন নিজের দিকে ভালো করে তাকানো, যেটা করার জন্য আসলে আমি প্রস্তুত ছিলাম না ... কিন্তু এটা আমাকে দারুনভাবে সহায়তা করেছে। সত্য প্রকাশে আন্তরিক হওয়ার জন্য আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন।
-মেহার।

আমি বলতে চাই, আমি আপনার গ্রন্থের অধ্যায়গুলোকে ভালোবেসে ফেলেছি। আট বছর বয়স থেকেই আমি বইয়ের পোঁকা। বইয়ের দোকানগুলোর আত্মোন্নয়নমূলক গ্রন্থের বিভাগগুলি আমি কেবল গোগ্রাসে আত্মস্থ করেছি। আমি রুমি, গাজ্জালি, ইকবাল এবং আত্মার সাথে কথা বলে এমন বিস্ময়কর লেখকদেরকে ভালোবাসি। কেন আপনাকে আমি এটা বলছি কারণ বহু মেধাবী লেখকের লেখা পাঠের পর আপনার লেখাতে আমি আমার হৃদয় ও মনকে আবিষ্কার করেছি। নিশ্চিতভাবে আপনি আমার একজন প্রিয় লেখিকাদের একজন। যখনই আমার অনুপ্রেরণার দরকার হয়, তখনই ফিরে যাই আমি আপনার প্রবন্ধগুলোতে এবং সেইসাথে আমি এমন একজনকে পেয়েছি, যাকে আমি অত্যন্ত ভালোবাসি। তাকে আমি আমার আত্মার সাথি মনে করি এবং তার প্রতি আমার ভালোবাসা আমাকে তার প্রতি অনুরক্ত করেছে। আপনার লেখার মাধ্যমে আমি সেই মহান সত্তার প্রেমে পড়তে শুরু করেছি, যাঁর নেই কোনো লয় ও ক্ষয় এবং যাঁর বন্ধনকে আঁকড়ে ধরলে, তা ভেঙে যাবার কোনো আশংকা থাকে না। সত্যিকার প্রেম যে কি জিনিস, সেটা আপনিই আমাকে শিখিয়েছেন। আমি আপনার কাজকে ভালোবাসি। আপনি আমাকে অনুপ্রাণিত হতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছেন। আর হ্যাঁ, আমার ভাইও আপনার কাজ পছন্দ করে; আর আমার বন্ধুবান্ধবও। আমি দু'আ করি, আল্লাহ যেন আপনাকে সবকিছুতে বরকত দান করেন এবং আল্লাহর প্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য আপনাকে যেন সর্বদা আমাদের অনুপ্রেরণাস্থল বানান। আপনার প্রতি রইলো অনেক অনেক ভালোবাসা, আলিঙ্গন ও অনেক অনেক দু'আ।
-মুহসিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা

এইতো বেশিদিন হবে না, হঠাৎ করেই আপনার ওয়েবসাইট ও ভিডিওগুলি দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আগে থেকেই আমি আমার "আত্মার খোরাকের” খোঁজে ছিলাম। আমি ওই শব্দমালার সন্ধানে ব্যস্ত ছিলাম, যা আমার বিক্ষিপ্ত অন্তরকে করবে শান্ত। এরপর পরই আমি আপনার ব্লগ ও ভিডিওগুলোর সাথে পরিচিত হই। মাশাআল্লাহ, আপনার লেখা কিভাবে আমার অন্তর ও আত্মার ওপর প্রভাব ফেলেছে, তা ভাষায় প্রকাশ সম্ভব নয়। আপনার লেখা প্রতিটি শব্দ ছুঁয়ে দিয়েছে আমার অন্তর, ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে আমার নফসানিয়াত তথা আমিত্বকে এবং আমাকে করেছে অশ্রুসিক্ত।

এমন অনুপ্রেরণার কাজের জন্য এবং প্রতিনিয়ত আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকে কি বলে ধন্যবাদ দেবো, তা আমার সাধ্যের বাহিরে। আল্লাহ () আপনাকে জান্নাতের উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করুন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে আপনাকে পুরস্কৃত করুন। ধন্যবাদ, ধন্যবাদ এবং শুধুই ধন্যবাদ আপনাকে। -মুনিরা, সিঙ্গাপুর

তাওয়াক্কুল কামরান আমায় ইয়াসমিন মুজাহিদের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রথমজন বাহ্যিক বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ তৈরি করেন, আর অপরজন সৃষ্টি করেন আত্মিক বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ। -mA

ইয়াসমিন, না আপনি আমাকে চিনেন, আর না আমি আপনাকে চিনি। এরপরেও আমি আপনাকে আমার একান্ত কাছের ভাবি! আপনার লেখা প্রতিটি শব্দ আমার অন্তরকে গভীরভাবে ছুঁয়েছে। -নুর

আমি মনে করি, এতদিন আমি এক ধরনের মুনাফিকির মধ্যে জীবন কাটাচ্ছিলাম, যেখানে মুখে আমি আল্লাহকে ভালোবাসি বললেও আমার কাজ সেটার প্রতিফলন ঘটায় না। আমার জীবনের সত্যিকার পরিবর্তন তখনই আসতে শুরু করে, যখন আপনার লেখা ও বক্তব্যগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় সত্যিকার মর্ম ও তাৎপর্য বুঝতে শুরু করি। আল-হামদুলিল্লাহ, এরপর থেকে আমার জীবনের "সবকিছু” গুছিয়ে আসতে শুরু করে ...। -নাযির

মাশাআল্লাহ, মানুষের অন্তরকে স্পর্শ করা, সেটাকে আন্দোলিত করা এবং সেটাকে কাজের উপযুক্ত করে তোলার ক্ষমতা আল্লাহ আপনাকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন! ইয়াসমিন মুজাহিদের মতো মানুষের জন্য আল্লাহ আপনাকে ধন্যবাদ। -গাজি এ.

আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন এবং আপনাকে সুরক্ষিত রাখুন, চিরকাল ও চিরজীবন। কামনা করি আপনি জান্নাতে যান এবং সেখানে সুখে শান্তিতে জীবন কাটান। আপনার লেখা যতগুলো জীবনকে নাড়া দিয়েছে, সেটাকে কখনো ছোট ভাববেন না। [আমি প্রার্থনা করি]। আজ রাতে আল্লাহ যেন আপনার দিকে সন্তুষ্টির নজরে তাকান। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে গভীর কোনো স্থান যদি থেকে থাকে, তবে আপনার এ কাজ সম্ভবত সেখান থেকেই উৎসারিত। আপনাকে জানাতে চাই যে, মুসলিম সমাজ বিশেষত: এর যুব সমাজের জন্য আপনি এক মূল্যবান ও অনুপ্রেরণামূলক উপহার। আপনি হয়তো তা অবগত আছেন, কিংবা অবগত নন। এই দুনিয়াতে আমরা যেসব সমস্যার মোকাবেলা করি, সেগুলোর মধ্য থেকে বহু সমস্যাকে আপনি চিহ্নিত করেছেন এবং সরাসরি সেগুলোর একেবারে মূলে হাত দিয়েছেন।

বর্তমান এই বিশ্বে যেখানে মনে হচ্ছে সবকিছু অধঃপতনের অতলে যাচ্ছে, সেখানে আপনি একজন "ভালো লেখক" কিংবা "ভালো বক্তার" চেয়েও বেশি কিছু, আসলে আপনি আশার আলোর প্রতিনিধি! আশার কথা যে, দুনিয়াতে এখনো প্রকৃত ও খাঁটি মানুষ রয়েছে। এটা হয়তো আপনি জানেন না যে, লোকজন আপনার ব্যাপারে সাধারণত বলে থাকে যে, আপনার উপস্থিতি স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দের একটা পরিবেশ উপহার দেয়, যার কারণ তারা নির্দিষ্ট করে বলতে পারে না। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি এর কারণ হলো: সৎ ও সত্যতা। যখন কেউ আপনার সামনে এমন সত্য বক্তব্য রাখে, তখন অন্তর প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে পারে না।

আপনি বহু মানুষকে তাদের অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় পাড়ি দিতে সাহায্য করেছেন এবং এই কারণে [আমি প্রার্থনা করি], আল্লাহ আপনাকে পুরস্কৃত করুন। আপনি বহু মানুষকে সৎ কাজে উদ্বুদ্ধ করেছেন, যা তারা আগে করতো না এবং এজন্য আমি কামনা করি, আল্লাহ আপনাকে পুরস্কৃত করুন। ইনশাআল্লাহ, আপনার হাসানাত (তথা সৎ কর্মগুলো) উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে, যেমনিভাবে মিলিনিয়রের অর্থ কেবল বাড়তেই থাকে, তবে বিচার দিবসে তাদের সাথে আপনার পার্থক্য তৈরি হবে। ইনশাআল্লাহ, বিচার দিবসে আপনি তাদের থেকে হাজার-কোটি গুণ ধনী হবেন এবং আমি সেটার সাক্ষ্য দেওয়ার আশা রাখি। আমি আশা করি, নবি মুহাম্মদ (ﷺ) আপনাকে হাসি মাখা বদনে উষ্ণভাবে আমন্ত্রণ জানাবেন, যেহেতু আপনি তার উম্মতের সেইসব মানুষের একজন, যে এই দুনিয়াতে পার্থক্য তৈরির সত্যিকার প্রচেষ্টা চালিয়েছে এবং আপনি সত্য সত্যই সেই পার্থক্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

আমার এ বক্তব্য যদি কিছুটা অতিরঞ্জিত হয়ে থাকে, তার জন্য আমি দুঃখিত। কিন্তু আপনার লেখাতে আমি আমার দুর্বলতম মুহূর্তগুলোতে আল্লাহকে আঁকড়ে ধরার শক্তি পেয়েছি। আমার ইচ্ছা হয়, যদি আমার বেড়ে ওঠার সময় আপনার মতো একজন দৃঢ় ঈমানের মানুষকে বন্ধু হিসেবে পেতাম। আমার এ অনুভূতি সুদূর লন্ডনের সেইসব হাজারো লোকের পক্ষ হতে, যারা আপনার মাধ্যমে হয়েছে অনুপ্রাণিত হয়েছে।

জাযাকা আল্লাহ আল্‌ল্ফ আল্‌ল্ফ খাইর ইনশাআল্লাহ।

আমার মনে হয় এখন আমার থেমে যাওয়াটাই উত্তম, না হলে আমি কেবল বলেই যাবো। সালামুন আলাইকুম।
-মুহাম্মদ এ.

এক বছর পর আমি আপনার এ প্রবন্ধখানি পাঠ করছি আর ভাবছি যে, এই লেখাটিই সত্যিকার অর্থে আমাকে বদলে দিয়েছে। না আমি সত্যিকারভাবে ইসলামে ছিলাম, আর না আমি তা ভালো মতো পালন করছিলাম। আমার জীবন ছিল আঁধারে পূর্ণ। আমি ছিলাম এমন লোকদের সাথে, যারা আমাকে এমন মানুষের পর্যায়ে নামিয়ে আনতো, যা আমি প্রকৃতপক্ষে ছিলাম না। ফলে আমি পরিপূর্ণভাবে দুনিয়াদারিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ি। আমি এমনসব কাজ করেছি, যেগুলোর জন্য আমি মোটেও গর্বিত নই। (নৈতিকভাবে) আমি কেবল ব্যর্থই হয়েছি, কেবলই ব্যর্থ হয়েছি। প্রতি পদে পদে আমি কেবল হোঁচটই খেয়েছি এমন এক পর্যায় পর্যন্ত, যখন আমি আর নিজেকে চিনতে পারতাম না, যতক্ষণ না এক রাতে আমার সাথে ভয়াবহ এক ঘটনা ঘটে। আমি তখনই উপলব্ধি করলাম যে, আল্লাহ সর্বাবস্থায় আমার সাথে আছেন, কিন্তু এই আমিই তাঁকে বারবার উপেক্ষা করেছি। উপেক্ষা করেছি আমার স্রষ্টাকে। ওই রাতে আমি নিজেকে বলি, অনেক হয়েছে, আর না। তখনই আমি ইসলামে আবার ফিরে আসি। আমি ফিরে আসি তাঁর কাছে। ওই রাতের পর আমি জীবনকে বদলে দেওয়ার অভিযাত্রা শুরু করি। ওই যাত্রাতে আল্লাহ ছিলেন আমার পথ প্রদর্শক এবং এই যাত্রার মাধ্যমেই আমি সক্ষম হয়েছি আমার জীবনকে একেবারে ৩৬০ ডিগ্রিতে পাল্টে ফেলতে। আজ হিজাব ছাড়া আমি আমার জীবনকে ভাবতে পারি না। দৈনিক সলাত আদায়ের জন্য মসজিদে যাওয়া ছাড়া কিংবা প্রতিদিনের হালাকাগুলোতে অংশ নেওয়া ছাড়া আমি এখন আমার জীবনকে কল্পনা করতে পারি না।

ইয়াসমিন, এই প্রবন্ধ পোস্ট করার জন্য আমি আপনাকে উপযুক্ত ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করতে পারবো না। এটাকে সত্যই প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করেছে। আপনি যা বলেছেন, আমি সেটা শুনেছি; দুনিয়ার কাছ থেকে চাবির গোছা নিয়ে আমি সেটা স্রষ্টার হাতে তুলে দিয়েছি। আসলেই আপনি অনুপ্রেরণাময় এক নারী এবং আমি আপনাকে আমার আদর্শ বিবেচনা করি। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
-হুমায়রা

আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) আপনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান তথা ফিরদাউস দান করে পুরস্কৃত করুন। আমিন। আপনি যে কত বড় এক আশীর্বাদ, তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আপনার লেখার বদৌলতে আমার জীবনে আপনার প্রবেশ, যা আমার ঈমানকে প্রতিনিয়ত কেবল বলিষ্ঠই করেছে, আল-হামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর) এবং সেটা আমার অসংখ্য বন্ধু ও ভালোবাসার মানুষ, যাদের সাথে প্রায়শই আমি আপনার কাজ শেয়ার করি, তাদেরকে দারুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে! আপনি যদি [মুসলিম] উম্মাহের জন্য হেদায়তের একটা মাধ্যমে পরিণত হওয়ার জন্য [মহান] আল্লাহর কাছে দু'আ করে থাকেন, তবে আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) আপনার দু'আ সত্যই কবুল করেছেন!
-হাজেরা এম.

📘 রিক্লেইম ইয়োর হার্ট > 📄 উৎসর্গ

📄 উৎসর্গ


মায়ের গর্ভে থাকার বহু আগেই যিনি আমাকে লালন করেছেন, এই গ্রন্থের পুরোটাই সেই মহান সত্তার জন্য নিবেদিত। যিনি আমাকে শিখিয়েছেন, উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং জীবনভর যিনি আমাকে সুপথ দেখিয়েছেন, এটা তাঁর জন্যই উৎসর্গিত। এই বিনীত প্রচেষ্টাটুকু আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করছি এবং আমার অক্ষমতা সত্ত্বেও আমি দু'আ করি, হয়তো এটা [মহান আল্লাহর দরবারে] কবুল হবে এবং সেইসাথে আমি আমার পরিবারের জন্য দু'আ করি, যারা আমাকে [জীবনের] এই যাত্রায় সহায়তা করে গেছেন।

📘 রিক্লেইম ইয়োর হার্ট > 📄 প্রারম্ভিকা

📄 প্রারম্ভিকা


Reclaim Your Heart শুধুমাত্র একটা আত্মোন্নয়নমূলক গ্রন্থ নয়। বরং এটা জীবন সমুদ্রের ভেতর ও বাহিরে আত্মার সফরের জন্য এক ম্যানুয়েল। এই সাগরের গভীরে আপনার অন্তর যাতে নিমজ্জিত না হয়ে যায়, তার পথ বাতলে দেবে এই গ্রন্থ। আর যদি সেরকমটিই ঘটে, তখন কি করা দরকার তাও বলে দেবে। এই গ্রন্থ মুক্তির কথা বলে, আশার কথা আর বলে জীবনকে নবায়নের কথা। প্রতিটি অন্তরই সেরে উঠতে সক্ষম এবং প্রতিটি মুহূর্তকে বানানোই হয়েছে আমাদের পরিবর্তিত পরিবর্তনের কাছে নিয়ে যেতে। সবকিছু যখন থমকে দাঁড়ায়, মনে হয় হঠাৎ সব বদলে গেছে, তখন পরিবর্তনের ওই মুহূর্তটি খুঁজে পাওয়াই হলো নিজের অন্তরকে পুনরুদ্ধার করা -Reclaim Your Heart। নিজের জাগরণকে খুঁজে পাওয়ার মতোই এটা। এরপর নিজের অধিকতর সমৃদ্ধ, সত্যনিষ্ঠ এবং মুক্ত রূপের কাছে ফিরে আসা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00