📘 রউফুর রহীম 📄 অভিযানের সময়, নামকরণ ও কারণ

📄 অভিযানের সময়, নামকরণ ও কারণ


৯ম হিজরির রজব মাসে আল্লাহর রাসূল ﷺ এই অভিযানে বের হন। তাবুকের একটি ঝরনার কোল ঘেঁষে এই যুদ্ধ হয়েছিল বলে এর নাম 'গাযওয়ায়ে তাবুক'। এর আরেক নাম 'জায়শুল উসরাহ' বা সংকটের বাহিনী। কারণ তখন ছিল তীব্র গরম, পানির সংকট এবং দীর্ঘ পথ।

অভিযানের কারণ: নবিজি ﷺ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে রোম সম্রাট হিরাকল আরব্য খ্রিষ্টানদের নিয়ে এক বিশাল বাহিনী গঠন করে মাদীনা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে নবিজি তাদের আগেই প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেন।

সাহাবিদের দান: এই যুদ্ধের প্রস্তুতির সময় উসমান ﷺ ৩০০০ উট এবং বিপুল অর্থ দান করেন। আবু বাকর ﷺ তার ঘরের সমস্ত সম্পদ এবং 'উমার ﷺ তার সম্পদের অর্ধেক দান করেন। দরিদ্র সাহাবিরাও তাদের সামান্য শ্রমের বিনিময় দিয়ে সাহায্য করেন।

মুনাফিকদের অপতৎপরতা: মুনাফিকরা এই কঠিন সফরে না যাওয়ার জন্য নানা অজুহাত পেশ করে এবং মুমিনদের নিরুৎসাহিত করতে থাকে। তারা বলছিল, 'এই গরমে বের হয়ো না।' আল্লাহ তাদের মুখোশ উন্মোচন করে সূরা তাওবা নাযিল করেন।

টিকাঃ
[৭৬৩] তাফসীরুত তাবারি, ১৪/৫৪0-৫৪2
[৭৬৪] সহীহ মুসলিম, ৪/১৭৮৪, হাদীস নং ৭০৬
[৭৬৫] বুখারি, ৫/১৫০, হাদীস নং ৪৪১৫
[৭৬৬] আস-সিরাউ মাআস সালীবিয়্যিন, আবু ফারিস, পৃ. ৮৩
[৭৬৭] ফাতহুল বারি, ৯/১৭৪
[৭৬৮] মুজমাউয যাওয়াইদ, ৬/১৯৪
[৭৬৯] শারহুল মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ, ৩/৬২
[৭৭০] আস-সিরাউ মাআস সালীবিয়্যিন, পৃ. ৮৪
[৭৭১] আল-মুজতামাউল ইসলামি, 'উমারি, পৃ. ২২৯
[৭৭২] আত-তাবাকাতুল কুবরা, ইবনু সাদ, ২/১৬৫
[৭৭৩] আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৫/৩

📘 রউফুর রহীম 📄 পথের ঘটনাপ্রবাহ, তাবুকে অবতরণ

📄 পথের ঘটনাপ্রবাহ, তাবুকে অবতরণ


আবু যর গিফারি ﷺ-এর ঘটনা: সফরের এক পর্যায়ে আবু যরের উট দুর্বল হয়ে পড়লে তিনি পাথেয় পিঠে নিয়ে একাই পথ চলতে থাকেন। নবিজি দূর থেকে দেখে বললেন, 'আল্লাহ আবু যরের ওপর রহম করুন, সে একাই চলে, একাই মারা যাবে এবং একাই পুনরুত্থিত হবে।'

আবু খায়সামার কাহিনী: তিনি মাদীনার শীতল বাগানে দুই স্ত্রীকে রেখে বের হতে পারেননি। পরে অনুশোচনা হলে একাই নবিজির সাথে মিলিত হতে তাবুকের পথে রওনা হন এবং নবিজির কাছে পৌঁছান।

তাবুকে অবতরণ: ৩০ হাজার মুসলিম সেনার এই বিশাল বাহিনী দেখে রোমানরা ভয়ে পালিয়ে যায়। নবিজি সেখানে ২০ দিন অবস্থান করেন। পার্শ্ববর্তী ছোট ছোট খ্রিষ্টান রাজ্যগুলো (যেমন আইলা, দাওমাতুল জান্দাল) নবিজির বশ্যতা স্বীকার করে জিযিয়া দিতে রাজি হয়।

সামুদ জাতির ধ্বংসাবশেষ: হিজর নামক স্থানে সামুদ জাতির ধ্বংসাবশেষ অতিক্রমের সময় নবিজি ক্রন্দনরত অবস্থায় এবং দ্রুত সেই স্থান ত্যাগ করতে বলেন। জালিমদের ওপর আল্লাহর আযাবের জায়গা থেকে শিক্ষা নিতে বলেন।

তাবুকের মু'জিযাসমূহ:
১. পানির তীব্র সংকটে নবিজির ওযুর পানি থেকে ঝরনা প্রবাহিত হওয়া।
২. নবিজির দুআয় বৃষ্টির বর্ষণ।
৩. হারানো উটনীর অবস্থান ওহি মারফত বলে দেওয়া।

টিকাঃ
[৮১৮] আল-ইকতিফাউ, আল-কাল্লাই ২/২৭৬
[৮১৯] আস-সীরাতুন নাবাউয়্যাহ, ইবনু হিশাম, ৪/১৭৮
[৮২০] প্রাগুক্ত
[৮২১] আস-সিরাউ মাআস সালীবিয়্যিন, পৃ. ১২৯
[৮২২] আস-সিরাউ মাআস সালীবিয়্যিন, পৃ. ১২৯
[৮২৩] আত-তারীখুল ইসলামি, ৮/১১৪
[৮২৪] আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৫/৮
[৮২৫] আত-তারীখুল ইসলামি, ৮/১১১, ১১২
[৮২৬] আস-সিরাউ মাআস সালীবিয়্যিন, পৃ. ১৩৩
[৮২৭] প্রাগুক্ত, পৃ. ১৩৩, ১৩৪
[৮২৮] প্রাগুক্ত, পৃ. ১৩৪
[৮২৯] আল-ইসাবাহ, ১/৪১২-৪১৫
[৮৩০] আস-সীরাতুন নাবাউয়্যাহ, ইবনু হিশাম, ৪/১৮০
[৮৩১] প্রাগুক্ত
[৮৩২] আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৫/১৭
[৮৩৩] আল-মুজতামাউল মাদানি, 'উমারি, পৃ. ২৪১
[৮৩৪] আল-মাগাযি, ৩/১০৩২
[৮৩৫] আল-ওসাইকুস সিয়াসিয়্যাহ, পৃ. ১১৯-১২২
[৮৩৬] আস-সিরাউ মাআস সালীবিয়্যিন, পৃ. ২১৭
[৮৩৭] মুহাম্মাদ আস-সাদিক উরজুন, ৪/৪৭৯
[৮৩৮] আস-সিরাউ মাআস সালীবিয়্যিন, পৃ. ২২১

📘 রউফুর রহীম 📄 তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তন, মাসজিদে যিরার ও মুনাফিকদের ব্যাপারে কুরআনের বর্ণনা

📄 তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তন, মাসজিদে যিরার ও মুনাফিকদের ব্যাপারে কুরআনের বর্ণনা


নবিজি ﷺ তাবুক থেকে ফেরার পথে ওহি মারফত জানতে পারেন যে মুনাফিকরা 'মাসজিদে যিরার' নির্মাণ করেছে কুফুরি ও অনৈক্য সৃষ্টির জন্য। নবিজি মাদীনা প্রবেশের আগে একদল সাহাবি পাঠিয়ে তা পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেন।

অনুপস্থিতদের ওজর শ্রবণ: নবিজি মাদীনায় ফিরে আসার পর মুনাফিকরা মিথ্যা শপথ করে ওজর পেশ করতে থাকে। নবিজি বাহ্যিকভাবে তাদের মাফ করলেও তাদের বিষয়টি আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করেন। কিন্তু তিনজন সত্যবাদী সাহাবি (কাআব ইবনু মালিক, হিলাল ইবনু উমাইয়া ও মুরারাহ ইবনুর রাবী) তাদের ভুল স্বীকার করেন এবং তাদের ব্যাপারে ৫০ দিন বয়কটের নির্দেশ আসে।

মাসজিদে যিরার ধ্বংসের শিক্ষা:
১. ইসলামের নামে যদি কোনো ক্ষতিকর প্রতিষ্ঠান গড়া হয়, তবে তা ধ্বংস করা জায়েয।
২. মুনাফিকদের কোনো কাজকে বৈধতা দেওয়া যাবে না।

টিকাঃ
[৮৬৭] সাহীহুস সীরাতিন নাবাউয়্যাহ, পৃ. ৬০৩
[৮৬৮] যাদুল মাসীর, ৪/৪৮৫
[৮৬৯] তাফসীরে কুরতুবি, ৮/২২৬
[৮৭০] প্রাগুক্ত, ১০/২১১
[৮৭১] প্রাগুক্ত, ৮/২২৬
[৮৭২] হাদীসুল কুরআনিল কারীম, ২/৬৭২
[৮৭৩] প্রাগুক্ত, ২/৬৭৩
[৮৭৪] তাফসীরুশ শাওকানি, ২/৩৩৯
[৮৭৫] তাফসীরুল আলুসি, ১১/১৭
[৮৭৬] হাদীসুল কুরআনিল কারীম, ২/৬৭৭
[৮৭৭] যাদুল মাআদ, ৩/৫৭৮
[৮৭৮] তাফসীর ইবন কাসীর, ২/৩৮৮
[৮৭৯] তাফসীরুশ শাওকানি, ২/৪০৩
[৮৮০] আস-সীরাতুন নাবাউয়্যাহ, ইবনু হিশাম ৪/১৮৪
[৮৮১] হাদীসুল কুরআনিল কারীম, ২/৬৬১
[৮৮২] সুনানু ইবনি মাজাহ, ১/১২৭
[৮৮৩] আস-সিরাউ মাআস সালীবিয়্যিন, পৃ. ১৭৯
[৮৮৪] প্রাগুক্ত, পৃ. ১৮১
[৮৮৫] প্রাগুক্ত, পৃ. ১৮১
[৮৮৬] আত-তারীখুল ইসলামি, ৮/১৩০
[৮৮৭] তাফসীরুয যামাখশুরি, ২/৩১০
[৮৮৮] আল-মুসতাফadu মিন কিসাসিল কুরআন, ২/৫০৪
[৮৮৯] তাফসীরুল কুরতবি, ৮/২৫৪
[৮৯০] ফি যিলালিল কুরআন, ৩/১৭১০, ১৭১১
[৮৯১] আল-মুসতাফadu মিন কিসাসিল কুরআন, ২/৫০৬
[৮৯২] প্রাগুক্ত, ২/৫০৭
[৮৯৩] আল-মুসতাফadu মিন কিসাসিল কুরআন, ২/৫০৭
[৮৯৪] আস-সীরাতুন নাবাউয়্যাহ, আবু শুহবাহ, ২/৫০৮
[৮৯৫] আস-সিরাউ মাআস সালীবিয়্যিন, পৃ. ১৮২

📘 রউফুর রহীম 📄 অভিযানে অনুপস্থিত তিন সাহাবির গল্প

📄 অভিযানে অনুপস্থিত তিন সাহাবির গল্প


কাআব ইবনু মালিক, হিলাল ইবনু উমাইয়া এবং মুরারাহ ইবনুর রাবী—এই তিন সাহাবি কোনো মুনাফিকির কারণে নয় বরং অলসতাবশত তাবুক যুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি। নবিজি ﷺ ফিরে এলে তারা সত্য কথা প্রকাশ করেন। নবিজি তাদের সাথে কথা বলা বন্ধের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ ৫০ দিন পর তাদের তাওবা কবুলের আয়াত নাযিল হয়। তাদের এই গল্পটি ঈমানি পরীক্ষা ও সত্যবাদিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

টিকাঃ
[৮৯৬] প্রাগুক্ত, পৃ. ১৮৭
[৮৯৭] বুখারি, ৪৪১৮; সাহীহুস সীরাতিন নাবাউয়্যাহ, পৃ. ৬১৪
[৮৯৮] আত-তারীখুল ইসলামি, ৮/১৩৭

ফন্ট সাইজ
15px
17px